সড়ক সংস্কার
বিয়ানীবাজারে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে জনজীবন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক ও গ্রামীণ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। এই অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দ, পিচ-পাথর উঠে যাওয়া এবং ছোট-বড় গর্তে ভরা এসব সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে যাতায়াতে সময়ও বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙা সড়কের কারণে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যাতায়াতে সময় আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমানের নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ভার বহনকারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বিয়ানীবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, চারখাই থেকে বারইগ্রাম এবং শেওলা থেকে সূতারকান্দি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ২৯ কিলোমিটার সড়ক সওজের আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও জানান, এবার সংস্কারকাজে টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, যেসব স্থানে পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়, সেখানে কংক্রিট ব্যবহার করা হবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় প্রায় ৩৯ কিলোমিটার সড়ক এখনও কাঁচা। এছাড়া পাকা ও ইটের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন। গত এক বছরে সীমিত আয় ও বরাদ্দ দিয়ে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে উন্নয়ন কাজ চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙা সড়ক। পৌর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তার বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে তাদের অধীনে ৩৪৭টি সড়ক রয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ৬২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩৭২ কিলোমিটার মাটির, ১০৫ কিলোমিটার পাকা এবং ১৮২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, এখানকার ১৬৫টি সড়কের প্রায় ২০২ কিলোমিটার অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হয়। এসব কাজ মূলত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের চাহিদার ভিত্তিতে কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কারকাজ ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আশা করি, ভবিষ্যতে সড়ক নিয়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
১০ দিন আগে
সংস্কারের চার মাসেই নষ্ট রংপুর-সৈয়দপুর সড়ক, উঠছে কার্পেটিং
রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত ও ছোট-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের কাজটি ছিল দায়সারা ও নিম্নমানের। বড় গর্তগুলোতে সামান্য পাথর ও পিচ ব্যবহার করে নামমাত্র কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, তদারকি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে জনগণের করের টাকা অপচয় হয়েছে। তবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে পাগলাপীর বাজার, তারাগঞ্জের শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তারাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক ডিবিএসটিসহ (ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজটি পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি একই বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করে। কিন্তু চার মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও ফাটল, কোথাও উঁচু-নিচু অবস্থার কারণে পানি জমে থাকছে যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সিটির মোড় এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সড়ক ও জনপদের কাজ শুধু সরকারের টাকা মেরে দেওয়া। এই সড়কে বড় বড় গর্ত ছিল। সেগুলো তুলে নামমাত্র পাথর আর পিচ দিয়ে সংস্কার করেছে। এ কারণে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হচ্ছে। বর্ষা এলে আবারও বড় বড় গর্ত হবে। যে সংস্কার করছে, তা ওই জলে ধুয়ে-মুছে যাবে।’
পাগলাপীরের ব্যবসায়ী শাহিন মিয়া বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই আবার খারাপ হয়ে যায়। এসব দায়সারা কাজ করে মানুষকে বোঝানো হয়। এর আগে সংস্কারের সময় সেনাবাহিনী হাতেনাতে ভুল ধরেছিল। তবুও কাজের মান ভালো হয়নি।’
জানা গেছে, এই সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। গত বছরের ২৩ জুলাই সেনাবাহিনীর একটি টহল দল কাজ চলাকালে অনিয়ম শনাক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, ১০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা সড়কের বর্তমান অবস্থার জন্য অতিরিক্ত ওজনের যানবাহনকে দায়ী করছেন। গত সোমবার সিটির মোড়ে সংস্কারকাজ চলাকালে সওজের গাড়িচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এই রোডে ৮০-১০০ টনের গাড়ি চলে। এই ওভারলোডেড গাড়ি চললে সড়ক কোনো দিন ঠিক থাকবে না, গর্ত আর ফাটল ধরবেই। ৮০-১০০ টনের গাড়ি চললে অফিস কি করবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম কতটুকু মানা হচ্ছে, তা তদারকি করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের। বিটুমিনের মান ঠিক রাখা এবং ম্যানুয়াল অনুযায়ী কার্পেটিং করা হয়েছে কি না, সেটিও তাদের দেখতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যে একই সড়ক বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, এতে জনগণের করের টাকা অপচয় হচ্ছে। রংপুর-সৈয়দপুর সড়কের বর্তমান অবস্থা অবহেলার ফল।’
রংপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় বেইজ সমস্যা ছিল, সে অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। যদিও বেইজ তুলে ফেলে নতুন করে কার্পেটিং করা দরকার ছিল, সেটি করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত একটি প্রকল্প নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে। দেশের সব জায়গায় ওভারলোডিংয়ের কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। চাইলেও এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
১৩ দিন আগে
সড়ক সংস্কারের বলি সুনামগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মূল্যবান গাছ
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫টি লটে নানা প্রজাতির ৬ হাজার ৪০৯টি মূল্যবান কাঠ গাছ পানির দরে বিক্রি করে দিয়েছে। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজের সুবিধার্থে রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সড়কের সংস্কারের জন্যও একই প্রক্রিয়ায় গাছ কাটা হচ্ছে।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সর্বনিম্ন দর ধরলেও এই গাছের মূল্য অন্তত ২৫ কোটি টাকা হবে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মূল্যবান এসব গাছ মাত্র ১ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৩৭৫ টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এখন গাছের বড় বড় ফালিগুলো রাতের আঁধারে কার্গো ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সুনামগঞ্জ বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মেহগনি, আকাশমনি, জারুল, কড়াই, রেইনট্রিসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছিল। এ গাছগুলোর বয়স প্রায় ১৫-৩৫ বছর পর্যন্ত। তাই বয়স অনুপাতে প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও মূল্যবান কাঠের উপযোগী। বর্তমান বাজার দরে প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ হাজার থেকে অন্তত ১ লাখ টাকা হবে। তবে গড়ে প্রতিটি গাছের মূল্য কম করে হলেও ৪০ হাজার টাকা হবে বলে জানিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সুনামগঞ্জ-সিলেট-পাগলা-আউশকান্দি সড়ক, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কসহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও স্থানীয় সড়কগুলোর সংস্কার কাজ চলছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও পাগলা-আউশকান্দি সড়কে প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। রাস্তা প্রশস্তকরণের সুবিধার্থে সরকার এসব সড়কের গাছ নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
বন বিভাগ জরিপ করে ১৫টি লটে ৬ হাজার ৪০৯টি গাছের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে ১১টি লটে নিলাম দরপত্র পায় টাঙ্গাইল নতুন বাজার এলাকার মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টু এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বড়গাছ এলাকার বাসিন্দা মোসাইদ আলী পান চারটি লটের গাছ।
মোসাইদ আলীকে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহিম মিন্টুকে ১১টি লটের নিলামে গাছের মূল্য বাবদ ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে চিঠি দেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান। ১৫টি লটে নিলামকৃত এই মূল্যবান কাঠগাছের দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ইকবাল নগর পর্যন্ত ২টি লটে ৬৮০টি গাছ, টুকের বাজার থেকে নিয়ামতপুর পর্যন্ত ৫টি লটে ১ হাজার ৯২৩টি গাছ, শান্তিগঞ্জ থেকে সুলতানপুর-উজানীগাঁও পর্যন্ত ১টি লটে ৩২২টি গাছ, জগন্নাথপুর-মমিনপুর-মজিদপুর পর্যন্ত ১টি লটে ৭২০টি গাছ, একই সড়কের হাবিবনগর থেকে ৭ নম্বর সেতু পর্যন্ত ১টি লটে ২২৮টি গাছ, জগন্নাথপুরের ইছগাঁও রাণীগঞ্জ থেকে ১টি লটে ১ হাজার ২৫২টি গাছ, কুশিয়ারা সেতু থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত ১টি লটে ৪০০টি গাছ, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া রোডে তিনটি লটে আরও ৮৮৪টি গাছ রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গাছগুলো ১৯৯৩ সাল থেকে এবং পাগলা আউশকান্দি সড়কে গাছগুলো ২০০৯ সালে লাগানো হয়। পরিবেশবিদরা জানান, বর্তমানে তিনটি সড়কের প্রতিটি গাছই পরিপক্ব ও কাঠের জন্য মহামূল্যবান।
কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, ১০-১৫ বছর বয়সী একটি মেহগনি গাছের গড় বাজারদর ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সুনামগঞ্জ বনবিভাগ ১৫-৩০ বছর বয়সী গাছগুলো মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে নিলামে বিক্রি করে দিয়েছে। সরকারি মূল্য তালিকার দোহাই দিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে মনগড়া জরিপ করে মাত্র ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা ঘনফুট দরে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিমুল এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ৩৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের প্রতিটি মাত্র ১ হাজার ৩৯১ টাকা দরে কিনে নেয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, এই সড়কের গাছগুলো বড় ও বেড়ও বেশি। সড়কের প্রতিটি গাছের দাম ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে বলে জানিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু বনবিভাগ ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে মাত্র ৮৯ লাখ ১১ হাজার ৬২৫ টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয়। এভাবে পানির দামে গাছগুলোকে নিলামে বিক্রি করে দিয়ে সরকারের রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের মোসাইদ আলীও প্রায় ১৫ বছর বয়সী পরিণত দেড় হাজারেরও অধিক কাঠগাছ মাত্র ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনে নেন। হাজারেরও নিচে পড়েছে প্রতিটি গাছের মূল্য। এভাবে সরকারের কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানই ৮০ ভাগের বেশি গাছ কেটে নিয়ে গেছে।
‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যেই আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। তাছাড়া বন বিভাগ প্রচলিত বাজারদর অনুসরণ না করে, গাছগুলোর বেড় যথাযথভাবে না মেপে জরিপ করে ঠিকাদারদের স্বার্থ দেখে প্রতিবেদন জমা দিয়ে সরকারকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। অথচ এই গাছের টাকা দিয়েই সরকার পুরো সড়কটির উন্নয়নকাজ করে দিতে পারত।
সুনামগঞ্জ হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক, পাগলা-আউশকান্দি, সুনামগঞ্জ-নিয়ামতপুর সড়কে গাছের নিলামের নামে দুর্নীতি হয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকার গাছ মাত্র ১ কোটি টাকায় নিলাম দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বন বিভাগ ও ঠিকাদারের যোগসাজশ রয়েছে। ইউনূস সরকারের সময়ের এই ভয়াবহ দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স’মিল মালিক বলেন, প্রতিটি গাছের গড় মূল্য অন্তত ৪০ হাজার টাকা হবে। লাকড়িও হবে কোটি টাকার। কিন্তু বনবিভাগ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে।
মেসার্স শিমুল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আব্দুর রহিম মিন্টুর প্রতিনিধি শামীম আহমদ বলেন, নিলাম হয়েছে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে দরপত্র পেয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। সরকারি দর অনুযায়ীই আমরা নিলাম পেয়েছি।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. আতিকুর রহমান বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। নিলাম প্রক্রিয়া, মূল্য নির্ধারণ, ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান কোনো কাজেই আমি যুক্ত ছিলাম না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। তবে যা কিছু হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি তা ধরেননি।
১৭ দিন আগে
প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের সামনেই লালমনিরহাটে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীতে চলছে সড়ক নির্মাণ
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের আওতায় সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানহীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুহুলী বাজার থেকে নামুড়ীহাট পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মিটার সড়কের পুনর্নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সড়কের বেস (পাথর ও পিচ ঢালাইয়ের আগে ইটের খোয়া ও সুরকি দিয়ে তৈরি ভিত্তি) নির্মাণে নম্বরবিহীন ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা একাধিকবার বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ঠিকাদার। আর এ কাজে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় নামুড়ীহাট থেকে দুহুলী বাজার পর্যন্ত ৯০০ মিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শান ট্রেডার্স। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ৭৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৯০ টাকা। কাজ শুরু হয়েছে গত ৩১ ডিসেম্বর এবং নির্ধারিত সমাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ এ বছরের ৩১ মার্চ।
৮৬ দিন আগে
সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে
বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সিরাজগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়কের অবস্থা এখন বেহাল। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের এমন অবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ নজর না দেওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়কটি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া পুরাতন সড়ক নামে পরিচিত। তবে ৮০’র দশক থেকে এটি সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ সড়ক নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এই সড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর ও রায়গঞ্জ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর বাজার ও পাঙ্গাসী এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে আছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সিরাজগঞ্জ ও রায়গঞ্জে যোগাযোগের একমাত্র পথ এই আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি দিয়ে কৃষিপণ্য সরবরাহ, শিক্ষার্থী ও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। অথচ খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ১ ঘণ্টার রাস্তায় পেরোতে বর্তমানে প্রায় ২ ঘণ্টা লেগে যায়।
১২৪ দিন আগে
তিন বছরেও সংস্কার হয়নি জগন্নাথপুরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০২২ ও ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ কিলোমিটার সড়ক এখনো সংস্কার হয়নি। শুধু ২০২২ সালের বন্যায়ই উপজেলার ছোটবড় গুরুত্বপূর্ণ ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার প্রায় ১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে সংস্কারকাজ শুরু হলেও ৭০ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো সংস্কারের অনুমোদন হয়নি।
এরই মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি সেতুর টেন্ডার হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা গেছে। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন ও জনসাধারণকে চরম ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
২০২২ সালের বন্যায় কলকলিয়া ইউনিয়নের কলকলিয়া-তেলিকোনা (চণ্ডীঢহর) সাদিপুর পয়েন্টসহ প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আছিমপুর-শিবগঞ্জ সড়ক, জালালপুর সড়ক, রানীগঞ্জ-বাগময়না সড়ক, শ্রীরামশী-নয়াবন্দর সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কসহ উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর অবস্থা নাজুক।
এলজিইডির বেশিরভাগ সড়কেই খানাখন্দ থাকায় সেগুলো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী পড়ছে। এ ছাড়াও ইটের কার্পেটিং করা এবং মাটির রাস্তার অধিকাংশ ভাঙাচোরা। বর্ষার মৌসুমে এসব সড়কপথে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় জনসাধারণকে।
কলকলিয়ার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিগত তিন বছর ধরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর একটিও সংস্কার করা হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা মারাত্মক। ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হয়, বাধ্য হয়েই আমরা চলাচল করি।’
আরও পড়ুন: রংপুরে মহাসড়ক সংস্কারে অনিয়ম ধরল সেনাবাহিনী
মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসী গ্রামের মো. হাসন আলী বলেন, ‘বছরের পর বছর যায়, শুধু শোনা যায় যে ভাঙা সড়কের টেন্ডার হইছে, কিন্তু পরবর্তীতে আর কাজ হয় না। মেঘবৃষ্টির দিন ভাঙা সড়কের গর্তে পানি জমে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’
রানীগঞ্জের বাগময়না গ্রামের মো. আলমগীর মিয়া বলেন, ‘আমাদের একমাত্র সড়কটি বন্যায় বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তবু একবারও সংস্থার করা হয়নি। অনেক কষ্ট করে যানবাহনে আমাদের চলাচল করতে হয়।’
উপজেলার ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবি, আগামী বর্ষার মৌসুম আসার আগেই যেন ভাঙা সড়কগুলোর সংস্কার করা হয়।
জনসাধারণের ভোগান্তির এসব বর্ণনায় সমর্থন দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।
এ বিষয়ে রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের বন্যায় রানীগঞ্জ ইউনিয়নের অনেকগুলো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলের সঙ্গে একমাত্র রানীগঞ্জের যোগাযোগ রাস্তা বাগময়া-হলিকোনা সড়কটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ ছাড়া আছিমপুর হয়ে শিবগঞ্জ রাস্তাটিরও একই অবস্থা। এমন অসংখ্য সড়ক সংস্কারের অভাবে মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে।’
পাইলগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নজম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার সঙ্গে আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নিয়মিত ভোগান্তি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, পাইলগাঁও ইউনিয়নে এলজিইডির বেশ কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত। সেগুলোর সংস্কার প্রয়োজন হলেও এখনো তা করা হয়নি।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ‘২০২২ সালে জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ও কয়েকটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে বছরই এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করে সংস্কারের জন্য সদরদপ্তরে পাঠাই যাতে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু সিলেট বিভাগসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সবকটি জেলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকল্প চালু করতে করতে ২০২৩ সাল চলে আসে। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৯টি সেতু ও কিছু সড়ক সংস্কারের অনুমোদন পায়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই ২০২৪ সালের বন্যা চলে আসে। বন্যার কারণে সড়কগুলোর সংস্কারকাজ আমরা পুরোদমে শুরু করতে পারিনি।’
আরও পড়ুন: সড়ক ও সেতুর পর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও শেখ মইনউদ্দিন
তিনি জানান, ২০২৫ সালে বেশ কিছু সংস্কার কাজ অনুমোদিত হয়ে এসেছে এবং আমরা কাজ শুরু করেছি। পৌরসভাসহ উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে ২ কিলোমিটার, জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ সড়কে ২.৫ কিলোমিটার, জগন্নাথপুর-কেশবপুর হয়ে এড়ালিয়া বাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে, এড়ালিয়া থেকে লামা রসুলপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের টেন্ডার ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে।
এই প্রকৌশলী বলেন, ‘এভাবেই আমাদের বিভিন্ন সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং টিকাকারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবার বর্ষার আগে কাজ শুরু করতে না পারলেও বর্ষার পরপরই কাজ শুরু হবে।’
২৫৭ দিন আগে
২২ বছরেও সংস্কার হয়নি কুমিল্লার জগতপুর-সাদকপুর সড়ক
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সদর থেকে জগতপুর-সাদকপুর হয়ে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা। ২২ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এতে ১০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শনিবার দেড়ঘন্টা বন্ধ থাকবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চালাচল করে। উপজেলা সদরের সাথে জগতপুর, সাদকপুর, শ্যামপুর, মালাপাড়া, আসাদনগর গ্রামের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বর্তমানে খানখন্দে ভরে আছে। পুরো রাস্তা জুড়ে ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলো জলাবদ্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় যানবাহন গর্তে পড়ে অহরহর দুর্ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসী জানান, ২২ বছর আগে সড়কটি প্রথম পাকা করা হয়। ১৬ বছর পরে রাস্তাটি নতুন করে সংস্কারের জন্য ২০১৬ সালে কাজ শুরু করে। বুড়িচং উত্তরপাড়া এলাকা থেকে জগতপুর পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ করা হয়। কিন্তু সাদকপুরের শুরু থেকে শ্যামপুর গোমতী নদীর বাঁধ পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার কাজে চাঁদা চাওয়ায় ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে যান।
৫নং পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন জাহের জানান, রাস্তার কাজে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদা চাওয়ায় ঠিকাদার এই রোডের কাজ নিতে চায় না। রাস্তাটি নতুন করে টেন্ডার করা হয়েছে। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে একমুখী যানজট
বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার বড়ুয়া জানান, এই রাস্তার কাজে চাঁদা চাওয়ায় এর আগের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে গেছে। এখন আবার নতুন করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিল পাস হলে কাজ শুরু হবে।
১৭০৮ দিন আগে
বিশ্বনাথে অসমাপ্ত সংস্কার কাজে ‘জনদুর্ভোগ’
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্ধারিত সময় পার হলেও ১৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ এখনো অর্ধেক বাকি। যে পরিমাণ সংস্কার হয়েছে তার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে অর্ধেক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ নিয়ে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বনাথ জিসি থেকে জগন্নাথপুর সীমানা পর্যন্ত ১৩.০৯ কিলোমিটার সড়ক ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সংস্কার কাজ শুরুর অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ। ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৭১.০৯৭ টাকা বরাদ্দের এ কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাওন এন্টারপ্রাইজ। ১৩.০৯ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন অংশে আরসিসি ঢালাই ধরা হয় প্রায় ১৮ মিটার।
আরও পড়ুন: ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’র অর্থায়নে ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার
করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে অনুমতির ৬ মাস পর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিছু দিন কাজ করার পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আরও ৩-৪ মাস কাজ বন্ধ রাখে ওরা। এ অবস্থায় তার টেন্ডার বাতিল হবার উপক্রম হলে, তার অন্য সহযোগীকে কাজ বুঝিয়ে দেন তিনি। ফের শুরু হয় কাজ। সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেন তারা। ফের করোনার প্রকোপ, কঠোর লকডাউন আর বৃষ্টির কারণে স্থবির হয়ে পড়ে কাজ। এর মধ্যেই চলে যায় কাজের নির্ধারিত সময়। বর্তমানে দেড়-দুই মাস ধরে একরকম বন্ধই আছে কাজ। এ অবস্থায় বাকি অংশ সংস্কার নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, মূল কাজের আরসিসি অংশের মধ্যে বাকি আছে ৭-৮ মিটার প্রায়। ইতোমধ্যে সাব ভেইজ ৯ কিলোমিটার, ডাবু বিএম ৮ কিলোমিটার ও কার্পেটিং ৫ কিলোমিটারের মতো সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আর বাকি প্রায় অর্ধেক কাজই অসমাপ্ত রয়েছে। করোনার কারণে লকডাউন ও ঈদ মিলিয়ে শ্রমিক ছুটিতে রয়েছে। অল্প ক’জন আছে সাইটে। ছোট-খাটো ত্রুটি ধরা পড়লে ঠিক করছে তারা।
স্থানীয়রা বলেন, সময় মতো কাজ শুরু হলে এ ভোগান্তি পোহাতে হতো না আমাদের। অর্ধেক অবশিষ্ট থাকায় বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে অবস্থা হয়েছে আরও নাজুক। ছোট-বড় ডোবা আর কাঁদা-মাটিতে একাকার পথ। কাজ শেষ হওয়া অংশেও রয়েছে ত্রুটি।
আরও পড়ুন: ঢাকার খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার করবে দুই সিটি করপোরেশন
উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ সমাপ্ত হয়েছে। করোনা, বৃষ্টি সব মিলিয়ে কিছুটা পিছিয়েছে নিয়িমিত সংস্কার কর্মকাণ্ড।
লকডাউন শিথিল হলে শ্রমিক বাড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব কাজটি সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
১৭২৪ দিন আগে
‘হ্যালো ছাত্রলীগ’র অর্থায়নে ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর-খলিলপুর রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নিজস্ব অর্থায়নে বেহাল এই রাস্তার তিন কিলোমিটারের সংস্কার করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হ্যালো ছাত্রলীগ'।
রবিবার নিজস্ব অর্থায়নে দুর্ভোগপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কার করে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের ‘হ্যালো ছাত্রলীগ' টিম। রাস্তার ভাঙা অংশ ও গর্তসমূহে ইট ফেলে সমান করে দেয় কর্মীরা। রাস্তাটি সংস্কার হওয়ায় খুশি আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ছাত্রলীগের কমিটিতে ছাত্রদলের নেতা!
হেতিমপুর গ্রামের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শিক্ষার্থী সানি সরকার বলেন, রাস্তায় চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। হ্যালো ছাত্রলীগের কারণে আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু কাউছার অনিক বলেন, এই রাস্তাটি নিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে আছে। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালেও যেতে পারতো না অনেক মানুষ।
সংস্কার কাজে অংশ নেন‘হ্যালো ছাত্রলীগ’ টিমের সদস্য কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন বাপ্পু, সাদ্দাম হোসেন, পৌর ছাত্রলীগ সহ সভাপতি নাজমুল হাসান, সাব্বির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রাতুল রহমান আশিক ও মো. আমির হোসেন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: দোহারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ
উল্লেখ্য, করোনায় লাশ দাফন, টেলিমেডিসিন সেবা, খাদ্য সহায়তা, কৃষকের ধান কাটা, রক্ত দান, অক্সিজেন সেবা, মাস্ক বুথ স্থাপনসহ নানান মানবিক কাজে বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে ‘হ্যালো ছাত্রলীগ' টিম ।
১৭৩৯ দিন আগে
সুনামগঞ্জে সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
ছাতক উপজেলার খুরমা দক্ষিণ ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি, মানিকগঞ্জ ভায়া পালপুর সড়কের সংস্কার কাজে চলছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে গত ২০ জানুয়ারি কাজ স্থগিত করা হয়।
১৮৯৪ দিন আগে