পাহাড়ি ঢল
চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আরও দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ২ শিশু নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে ৪ শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, আজ (শুক্রবার) বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যায় দুই শিশু মোহাম্মদ আশিক (৮) ও মো. মিরাজ (৬)।
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুছ জানান, বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্যম ইলশা গ্রামের আশিককে উদ্ধার করে বাঁশখালীর গুনাগরী বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একইদিনে ওই ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের মেহের আলী বাড়ির প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মিরাজ নিখোঁজ হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে পানি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত মিরাজ প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিকে, গত দুই দিনে হাটহাজারী, আনোয়ারা ও সাতকানিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক যুবদলকর্মীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনিকেত দাস (২) ও মো. ইশতিয়াক (৬) নামে দুই শিশুও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলার সাতকানিয়ার সাঙ্গু নদীর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন আবদুল আলম (৩৫) নামে এক যুবদলকর্মী। পরে শুক্রবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাটহাজারী পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু অনিকেত। সে স্থানীয় বাসিন্দা আশিষ কুমার দাসের ছেলে।
একই দিন জেলার আনোয়ারা উপজেলায় বৃষ্টির জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশু ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা। সে বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায় , দুপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে ইশতিয়াক নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অতিবৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা একটি ডোবা-সংলগ্ন জমি থেকে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৩ দিন আগে
পাহাড়ি ঢলে কাঁপছে ফেনীর তিন নদী, নির্ঘুম রাতে লাখো মানুষের চোখ বেড়িবাঁধে
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ভারতের ত্রিপুরা থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর তিন নদী—মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনীয়ায় এখন প্রলয়নাচন। প্রতিবছর এই তিন নদী তীরবর্তী মানুষের বুকে যে আতঙ্কের ক্ষত তৈরি হয়, তা যেন আরও একবার তাজা হয়ে উঠেছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানির তোড়ে রাত পোহালেই তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এখন নির্ঘুম রাত কাটছে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীপাড়ের লাখো মানুষের। তাদের চোখ এখন ত্রাসের কারণ হয়ে ওঠা বেড়িবাঁধের দুর্বল পয়েন্টগুলোতে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে।
৫ দিন আগে
ময়মনসিংহের দুটি ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ঘোড়াঘাট নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের কারণে ঘোড়াঘাট নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। দ্রুত পানি প্রবেশ করায় আরও বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, সীমান্তবর্তী গাজীরভিটা ও ভূবনকুড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে দুই ইউনিয়নের দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৬২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা
সুনামগঞ্জ মধ্যনগরে পাহাড়ি ঢলে বেড়িবাঁধ ও চলাচলের রাস্তা ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ৪ ইউনিয়নের জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা। মধ্যনগর থেকে মহিষখলা যাওয়া-আসার একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বন্ধ রয়েছে ছোট-বড় সব ধরনের যান চলাচল।
জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়িবাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটিও ভেঙে যায়। পরিবহন চলাচল অনুপযোগী হওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে চামরদানী, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি; আরও ৮ ইউনিয়ন প্লাবিত
স্থানীয়রা জানায়, অনেকদিন ধরেই এই রাস্তাটা ঝুঁকিপূর্ণ। সঠিক তদারকি ও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তা দিয়ে যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছে। হঠাৎ ঢলে রাস্তাটি ভেঙে যায়। এতে এলাকাবাসীর চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফরিদ মিয়া বলেন, অনেকদিন ধরেই রাস্তাটা ঝুঁকিপূর্ণ। ঢলের কারণে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলায় দায়িত্বরত ধর্মপাশা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন বলেন, সড়কটি আমরা পরিদর্শন করে এসেছি। খুব দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য কাজ চলমান।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল
৬১৮ দিন আগে
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কমেছে, পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ
শেরপুরে নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কমায় নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি উজানের দিকে উন্নতি হয়েছে।
তবে ওই তিনটি উপজেলায় নিন্মাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামে এখনও পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
প্রায় ছয় দিন ধরে পানিবন্দি এসব পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারিভাবে কয়েকটি এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বন্যায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
এদিকে, গত তিন দিন ধরে উজান থেকে আসা পানিতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও দশানী নদীতে পানি বেড়েছ। এতে কামারেরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর চর ও ৭ নম্বর চর এবং চরপক্ষীমারি ইউনিয়নে কুলুরচর, বেপারীপাড়া, জঙ্গলদী ও ভাগলদী গ্রামের নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এতে অনেক কৃষকের খেত ডুবে গেছে ও নদী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানির তীব্র স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় ৬ নম্বর চরের পশ্চিম পাড়া ও মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এবং দশানী নদীর ৭ নম্বর চর বাজার থেকে ব্রহ্মপুত্রের মোহনা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উভয় নদীতে পানি বৃদ্ধি ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দুই দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে অন্তত ১০০ মিটার সরে এসে ভিটেমাটি গ্রাস করেছে। হুমকিতে রয়েছে ৭ নম্বর চর বাজার ও জামে মসজিদ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কামারেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, ‘নদী ভাঙনের কারণে সাতটি পরিবার তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বেশকিছু ফসলি জমি ডুবে গেছে। বিষয়টি আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে শেরপুরের বেশ কয়েকটি নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা নদীগুলোর ভাঙন এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি অর্ধলক্ষেরও বেশি মানুষ
৭৩৭ দিন আগে
পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। একইসঙ্গে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। পরে রাতে পানি প্রবাহ আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে খুলনার ৩০ গ্রাম প্লাবিত
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় বিপৎসীমার মাত্র ২১ সেন্টিমিটার নিচে।
এছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের আরও কিছু নিম্নাঞ্চল আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, মহিষাশহর কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়ি ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে। এসব এলাকার খেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
সদর উপজেলার গোকুন্ডা এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভারতে পাহাড়ি ঢলের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট খুলে দেওয়ার কারণে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হুহু করে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আমাদের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এছাড়া আরও বেশি পরিমাণ পানি আমাদের বাংলাদেশের দিকে এলে এ এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।
আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার এরশাদ হোসেন বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরে পৌঁছে গেছে। পানি আরেকটু বাড়লে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: ভারী বর্ষণে বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢল, ৩টি গ্রাম প্লাবিত
৭৫৯ দিন আগে
পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে সুনামগঞ্জের একাধিক বেড়িবাঁধ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে সুনামগঞ্জের একাধিক স্থানের বেড়িবাঁধ।
পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ভেঙে ও তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ছোট-বড় সব ধরনের যান চলাচল। গৃহহীন হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
এদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে বয়ে আসা খাসিয়ামারা নদীর স্রোতে লক্ষীপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, ইদ্রিসপুর, চৌকিরঘাট বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন হাওরে পানি প্রবেশ করায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পানি প্রবেশ করায় আমনের বীজতলা, আউশ ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫ গ্রাম প্লাবিত
অন্যদিকে, বোগলাবাজারে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাও-টেংরাটিলা যাতায়াত রাস্তা ভেঙে গেছে। মহব্বতপুর বাজার-লিয়াকতগঞ্জ বাজার সড়কে নোয়াপাড়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা সদরের সঙ্গে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ২৮টি ও সুরমা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামসহ সীমান্তের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া, চৌধুরী পাড়া, মৌলারপাড়, চিলাইপাড়, পুরান বাশতলা গ্রামের অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, খাশিয়ামারা নদীর স্রোতে আমার ইউনিয়নে নোয়াপাড়া, ইদ্রিসপুর ও চৌকির গাঁটে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে বেশ কিছু গ্রাম।
শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানি জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো করা হয়েছে বলে জানান লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান।
সুরমা ইউপির চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, খাশিয়ামারা নদীর স্রোতে সুরমা ইউনিয়নের কিছু সংখ্যক বাড়িঘরে পানি উঠেছে, তাদের জন্য শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বোগলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বোগলাবাজার ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পুকুরের মাছ ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন দোয়ারাবাজারে নিকট সুরমা নদী ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিন দিন ধরে টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে উপজেলার সুরমা, চেলা, চলতি, মরা চেলা, খাসিয়ামারা, মৌলা, কালিউরি, ধূমখালিসহ উপজেলার সব নদী-নালা, হাওর ও খাল-বিলের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে বলেও জানান সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫০০ পরিবার পানিবন্দি
কয়রায় অনেক বেড়িবাঁধ অরক্ষিত, আতঙ্কে খুলনার উপকূলবাসী
৭৫৯ দিন আগে
ভারী বর্ষণে বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি ঢল, ৩টি গ্রাম প্লাবিত
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তত ৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি মারিশ্যা দীঘিনালা সড়কে ১০টি স্থানে পাহাড় ধসে সকাল থেকে সারাদেশের সঙ্গে বাঘাইছড়ির যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সাজেকের মাচালং ও বাঘাইহাট বাজার তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে আটকে পড়েছেন ১২০ জন পর্যটক। পাহাড় ধসে হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও সড়কের আটকা পড়েছে বহু যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় রিমাল: ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ
এদিকে এক টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে কাচালং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হয়ে বাঘাইছড়ির নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে তলিয়ে গেছে বহু রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, স্কুল, মাছের পুকুর ও কৃষি জমি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার পাহাড় ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড় ধস ও নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সড়ক জনপদ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বয়ে সড়কের মাটি সরানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। বৃষ্টির জন্য কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আহম্মেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন।
এসময় ওসি ইশতিয়াক বলেন, সড়কের কয়েকটি স্থানে সব মাটি সরাতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। সড়ক থেকে পুরো মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আনুমানিক দুইদিন লেগে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে খুলনার ৩০ গ্রাম প্লাবিত
৭৭৬ দিন আগে
কাপ্তাই লেকে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের নৌযান চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার (৫ আগস্ট) ভোর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত নৌযানসমূহ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় মোখা: রাঙ্গামাটিতে জরুরি সতর্কতা জারি, কাপ্তাই হ্রদে নৌ চলাচল বন্ধ
এদিকে, গত চার দিন ধরে রাঙ্গামাটিতে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসেরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার এবং সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা জারি করেছেন।
মাইকিং করে রাঙ্গামাটি শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, লোকনাথ মন্দির এবং ভেদভেদি মুসলিম পাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ ছাড়া পাহড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের ৯ ওয়ার্ডে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলেও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কাপ্তাই হ্রদে ২০ এপ্রিল থেকে ৩ মাস মাছ ধরা নিষেধ
কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানায় নৌ চলাচল ব্যাহত: সীমাহীন দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
১০৭৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় কমছে নদ-নদীর পানি
সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘন্টা দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পানি কমা অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, পানি কমায় এবং জেলায় বন্যার আশঙ্কা না থাকায় জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে হাওরে ডুবে ৩ ভাইবোনের মৃত্যু
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, গত কয়েকটা দিন গরু, বাছুর, ধান নিয়ে বিপদেই পড়েছিলাম। মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে পানি নেমে যাবে।
বংশীকুন্ডা বাজরের ব্যবসায়ী এবিএম জুয়েল তালুকদার বলেন, বাজারে বন্যার পানি না উঠলেও ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্ক ছিলো। যদিও বর্ষা মৌসুমে এরকম অবস্থা আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে বন্যা হাত থেকে রক্ষা পেতে আমাদের নদীগুলো খনন করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতকে পানি কমে বিপদ সীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি।
সুনামগঞ্জ পয়েন্টে শূন্য দশমিক বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে সুরমা নদীর প্রবাহিত হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) শীতেষ চন্দ্র সরকার জানান, পানি কমা আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে বন্যা পরিস্থিতি হলে তা মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে বন্যার আশংকা নেই। গেল ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ও মেঘালয় চেরাপুঞ্জিতে খুবই কম বৃষ্টি হয়েছে।
এতে নদীর পানি কমছে। বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে কমছে নদীর পানি, স্বস্তিতে হাওরবাসী
সুনামগঞ্জে বন্যায় ১০ গ্রাম প্লাবিত, বৃষ্টি অব্যাহত
১১০৩ দিন আগে