অকৃতকার্য
এসএসসি পরীক্ষা: ৩১২ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি
এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আশঙ্কাহনক তথ্য উঠে এসেছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৩০৩টি প্রতিষ্ঠান বাড়লেও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি।
এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবার শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪৮টি, অর্থাৎ এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯টি।
এই তালিকায় সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দশা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের; এই বোর্ডের ২২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। অথচ গত বছরও এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৬। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ১৪০টি।
এমনকি, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর এই সংখ্যা ছিল শূন্য, আর এবার ২৯টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া বিদেশি কেন্দ্রের মধ্যে একটিতে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলে পরীক্ষা। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ দিন আগে
এসএসসি পরীক্ষা: ফেলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯০ হাজার
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। আর ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯০ হাজার বেশি।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ৭৪ হাজার ৬০১ জন। বিপরীতে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৯ হাজার ৯২৮ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ ফল ঘোষণা করেন।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন এবং উত্তীর্ণ হতে পারেনি ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন। সে বছর উত্তীর্ণ হয়েছিল ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন। অর্থাৎ অনুত্তীর্ণ হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৬৬০ জন। সেই হিসেবে, এক বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ৭৪ হাজার ৬০১ জন। কিন্তু অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্টো বেড়েছে ৮৯ হাজার ৯৪৮ জন।
এবারের পরীক্ষায় মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের অকৃতকার্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেশি লক্ষ করা গেছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ জন ছাত্র। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছে, যার শতকরা হার ৪২ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিপরীতে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭৯১ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ৮৫২ জন, যার হার ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান হলেও মেয়েদের তুলনায় ৮২ হাজার ৯০৪ জন বেশি ছাত্র অকৃতকার্য হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর হার শতকার হিসেবে অনেক বেশি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণের হার সবচেয়ে বেশি; এখানে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৫ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। এই বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৫১ শতাংশ পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩,০৯৫ জন শিক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪১ দশমিক ৫০ শতাংশ।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলে পরীক্ষা। সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ দিন আগে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ‘অকৃতকার্য’ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। দুপুরের পর তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ছেড়ে চলে যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ২০ জুলাই ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে ৭২ শতাংশ কৃতকার্য হয় এবং বাকি ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এতে ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। অকৃতকার্য ফলাফল নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, স্বশরীরে পরীক্ষা দিলেও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর চতুর্থ বর্ষের দশটি কোর্সের মধ্যে নয়টিতে প্রথম শ্রেণি পেলেও তুলনামূলক সহজ বিষয়ে যেমন সাংগঠনিক আচরণ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে গণহারে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। যেটি খুবই হতাশাজনক। কোনভাবেই উক্ত ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারছেন না তারা।
এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মশিউর রহমান জানান, যেহেতু শিক্ষকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে সুতরাং এটার আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তাদের আন্দোলন না করে বাসায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: করোনায় মারা গেলেন চবির সাবেক ডিন গাজী সালাহ উদ্দীন
করোনা: মারা গেলেন সিকৃবির ড. আজমুল হুদা
১৮৪১ দিন আগে
এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য, হবিগঞ্জে কিশোরীর আত্মহত্যা
এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় রবিবার হবিগঞ্জের এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।
২২৭৮ দিন আগে