ঈদের ছুটি
কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকদের আগমনে সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো এখন উৎসবমুখর পরিবেশে সরগরম হয়ে উঠেছে।
ছুটির সময় ভ্রমণপিপাসু মানুষের শীর্ষ পছন্দ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও কক্সবাজারে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। ঈদের সাত দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে লাখো মানুষ এখানে বেড়াতে এসেছেন।
প্রতিদিন সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটন স্পটগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির এলাকাতেও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবদুল মাবুদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ঈদের ছুটি কাটাতে এখানে এসেছি। আরও কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা আছে।
পর্যটকদের আগমনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ও চাঙাভাব ফিরেছে। বিশেষ করে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বার্মিজ মার্কেটের এক শুঁটকি বিক্রেতা জানান, রমজানে ব্যবসা কিছুটা স্থবির থাকলেও গত কয়েক দিনে পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে।
১৩ দিন আগে
ঈদের ছুটি শেষে খুলেছে অফিস-আদালত
ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার খুলেছে সরকারি অফিস ও আদালত। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ছুটি শুরু হয়েছিল।
রমজানে সরকারি অফিস ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। তবে আজ (২৪ মার্চ) থেকে রমজানের আগের সময় অনুযায়ী, অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে অফিস, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার অফিস ছাড়াও উচ্চ ও নিম্ন আদালত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজার খুলেছে।
গত ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয় টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। গত ১৬ মার্চ ছিল ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কর্মদিবস।
১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি এবং ঈদের ৫ দিনের ছুটির মাঝখানে ১৮ মার্চ এক দিন অফিস খোলা ছিল। তবে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এতে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পান সরকারি চাকরিজীবীরা। আর গণমাধ্যমকর্মীরা ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি পেয়েছিলেন পাঁচ দিন।
গ্রামের বাড়িতে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছেড়েছেন অসংখ্য মানুষ। কর্মজীবী মানুষ ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। এতে করে রাজধানীর লঞ্চ, রেল ও বাসস্টেশনে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় বেড়েছে।
তবে মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অফিস খোলা থাকার পর বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ছুটি। এর পর শুক্র ও শনিবার (২৭ ও ২৮ মার্চ) আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী একেবারে ২৯ মার্চ (রোববার) থেকে অফিস শুরু করবেন। তাই আপাতত অফিস খুললেও উপস্থিতি থাকতে পারে অনেকটাই কম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাভাবিকভাবে অফিস চলবে মূলত আগামী সপ্তাহ থেকে।
১৪ দিন আগে
ঈদের তৃতীয় দিনেও বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড়
ঈদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। সবুজ পাহাড় ও নীল আকাশের টানে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নেমেছে পাহাড়ঘেরা এই জেলায়। রমজানজুড়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলো তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর জেলার প্রায় সব স্পট। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর অধিকাংশই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
অসংখ্য পাহাড় ও এখানে বসবাসরত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। ঈদের ছুটিতে জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি ও দেবতাকুমসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড়। পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করে মুগ্ধ হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রোদুয়ান বলেন, ‘বান্দরবান খুবই সুন্দর পর্যটন জেলা। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানকার জনবৈচিত্র্য আলাদা। পাহাড়, নদী, ঝরণা, মেঘ—প্রকৃতির এমন সংমিশ্রণ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।’
মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক শিরীন আক্তার বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটি আমাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরছি। নিজের চোখে না দেখলে এ জেলার সৌন্দর্য বোঝা যায় না।’
পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা।
১৪ দিন আগে
ঈদে খাগড়াছড়ির বিনোদনকেন্দ্রে স্থানীয়দের ভিড়, পর্যটক উপস্থিতি কম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও বহিরাগত পর্যটকদের সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় এবার কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। পাহাড়, মেঘ আর ঝরনায় ঘেরা এই জনপদে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই স্থানীয়দের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা, হর্টিকালচার পার্ক ও রিসাং ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেককে ঘুরতে দেখা গেছে। ঈদের দিন থেকেই এসব স্থানে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়, তবে ভিড়ের বড় অংশই ছিল স্থানীয় বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির হোটেল ও রিসোর্টগুলোর ওপর। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার হোটেল-রিসোর্টে বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এখনও আশাবাদী। তারা মনে করছেন, পর্যটকরা সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভিড় করতে পারেন। ফলে ছুটির শেষ দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
১৫ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে রাজধানী: র্যাব
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় র্যাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করবে, বিশেষ করে রাতে ফাঁকা বাসা এবং জনসমাগম কম এমন এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই অধিনায়ক আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ডিএমপির বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা, মূল্যবান সামগ্রী রাখা যাবে থানায়
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
যেসব নগরবাসীর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই এবং ঈদের ছুটিতে বাসায় মূল্যবান সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে থানায় জমা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
মো. সরওয়ার বলেন, ঈদের সময় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। ওই সময়ে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার নগরবাসীকে ঈদের ছুটিতে বাসা ত্যাগ করার আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করা, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি জানান, ঈদ চলাকালীন পুরো রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বন্ধ থাকবে। ঢাকার প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
২২ দিন আগে
সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন
এবার ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতি (নোয়াব)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, গণমাধ্যমে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটি পালন করা হবে। সে হিসাবে ২০ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
২৭ দিন আগে
ঈদের লম্বা ছুটিতে আম নিয়ে বিপাকে নওগাঁর চাষি-ব্যবসায়ীরা
ঈদ উপলক্ষে ১০ দিনের টানা ছুটিতে ক্রেতার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে আমের বেচাবিক্রি। এতে করে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। টানা ১০ দিন ব্যাংক, কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে আম নিয়ে বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন সেখানকার কারবারিরা।
সাপাহার উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের টানা ১০ দিনের ছুটির মধ্যে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত গরম পড়ছে। এর ফলে আম্রপালি জাতের আম একযোগে পাকতে শুরু করেছে। অথচ এই সময়ে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মানুষজন কম। ঈদের ছুটিতে সবাই রয়েছেন গ্রামে। আবার কুরিয়ার সার্ভিস এবং পরিবহন ব্যবস্থাও এখন বন্ধ। ফলে সঠিক সময়ে ক্রেতার কাছে আম পৌঁছাতে না পারলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আম্রপালি জাতের আম আগামী ১৮ জুন থেকে বাজারে আসার কথা। কিন্তু অতিরিক্ত গরম, বৈরী আবহাওয়া, গাছে আগাম মুকুল আসা-সহ নানা কারণে এ বছর আম্রপালি জাতের আম ৮-১০ দিন আগে পাকতে শুরু করেছে।
সাপাহার উপজেলার সিমু শিপলা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে লাভের আশায় ৪০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আম গাছ লাগিয়েছিলাম। এ বছর গাছে আমও ধরেছে ভালো। কিন্তু সরকারি আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম নামাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’
তিনি জানান, এ বছর সরকারি আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম নামাতে গিয়ে আম ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ঈদের টানা ১০ দিন ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ, কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে আমের তেমন কোনো বেচাকেনা নেই। পচে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ মণ আম ফেলে দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহ শুরু, আসছে আঁটি, গুঁটি ও বোম্বাই
সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, আমের ক্যালেন্ডার প্রকাশের দিন বলা হয়েছিল, যদি কারো আম আগাম পেকে যায়, তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে গাছ থেকে আম পাড়া এবং বিক্রয় করা যাবে। কিন্তু গত কয়েক দিন ঈদের ছুটিতে ইউএনও এবং উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে আবেদন করে আম পাড়ার অনুমতি পাননি। ফলে প্রতিদিনই লক্ষাধিক টাকার আম অবিক্রিত থাকছে এবং তা ফেলে দিতে হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসে গেলে তারা অনুমতির জন্য ইউএনও অফিসে যেতে বলে। আবার ইউএনও অফিসে গেলে তারা কৃষি অফিসে যেতে বলে। প্রতিদিন শত শত আমচাষি অনুমতির জন্য এই দুই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এই সমস্যার কারণে আমচাষিরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। যার কারণে আমাদের লোকসান দিন দিন বেড়েই চলেছে।’
সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি অফিসের বেঁধে দেওয়া আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর আম পাড়া সম্ভব হচ্ছে না। বৈরি আবহাওয়া আর অতিরিক্ত গরমের কারণে ক্যালেন্ডারে ঘোষিত তারিখের ১০-১২ দিন আগেই আম পেকে গেছে।
তিনি বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পাকা আম নিয়ে আমরা পড়েছি ভীষণ বিপদে। প্রতিদিন প্রত্যেক আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। ক্রেতার অভাবে আম বিক্রি না হওয়ায় অবিক্রিত আম ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আম একটি দ্রুত পচনশীল খাদ্যপণ্য। এটি সংরক্ষণ করার কোনো পদ্ধতি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তাই প্রতিদিনের আম প্রতিদিনই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু ১০ দিন ঈদের ছুটি থাকার কারণে ব্যাংক বন্ধ, কুরিয়ার সার্ভিস পরিবহন বন্ধ, সর্বোপরি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ টাকা না থাকায় তারা আম কেনাবেচা নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছেন। আমচাষিদের কথা বিবেচনা করে আম চাষ হয়—এমন স্থানগুলোতে ব্যাংক খোলা এবং কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখলে এ ক্ষতি উৎরে যাওয়া সম্ভব হতো।’
একই রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সাপাহার আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেনও।
তিনি বলেন, ‘এখন বাজারে আম্রপালি জাতের আম মণপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই উচ্চ মূল্যের আম অবিক্রিত থেকে আড়তেই পচে যাওয়ায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছে। চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার আম পচেগলে নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দিশেহারা।’
আরও পড়ুন: নওগাঁয় এবার ৪ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা
ইমাম হোসেন বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মানতে গিয়ে আজ আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আগামীতে ভাগ্যে কী আছে, তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন!’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের আমের ক্যালেন্ডারে আম পাড়ার যে তারিখ নির্ধারণ করা ছিল, চলতি বছর তা থেকে তিন দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকা এবং কুরিয়ার ও পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ক্ষতির কথা বলছেন, তার সম্ভাবনা নেই।’
‘জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি অফিস সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আমের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এটাও বলা হয়েছে যে, যদি কোনো আম অগ্রিম পাকা শুরু করে, তাহলে স্থানীয় ইউএনও অফিস অথবা কৃষি অফিসের অনুমতিসাপেক্ষে আম পাড়া যাবে। সেক্ষেত্রে কেউ আবেদন করলে তাকে আম পাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আকস্মিক অতিরিক্ত গরমে আমের কোনো ক্ষতি হবে না। নওগাঁয় চলতি বছরে আমের বাজার থেকে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, তা পুরোপুরি সফল হবে।’
২৯৮ দিন আগে
ঢাকার বাতাস আজ শিকাগো-বার্সেলোনার চেয়েও ভালো
ঈদ উপলক্ষে লম্বা ছুটিতে বেশ কিছুদিন ধরে একপ্রকার ফাঁকা হয়ে গেছে শহর ঢাকা। সড়কগুলোতে নেই যানবাহনের চাপ; স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতও বন্ধ; রাস্তায় লোকজনও হাতেগোনা। এই অবস্থায় গত কয়েকদিন বৃষ্টি কমে গেলেও রাজধানীর বাতাসের মানে খুব বেশি অবনতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল মাত্র ৬৬। আর দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান আরও অবাক হওয়ার মতো। প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণে শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিলেও ঢাকার অবস্থান আজ ৫৫তম।
কণা দূষণের একিউআই মান যদি ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে সেটি ‘মাঝারি’। ঢাকার বাতাস আজ মাঝারি হলেও ‘ভালো’ থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
এই সময়ে ৬৭ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকার ৫২তম স্থানে ছিল স্পেনের বার্সেলোনা, ৫০তম স্থানে সুইজারল্যান্ডের বেয়ার্ন, ৬৮ স্কোর নিয়ে ৪৯তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি, ৭০ ও ৭১ স্কোর নিয়ে ৪৪ ও ৪৩তম স্থানে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি, ৭৩ স্কোর নিয়ে ৩৮তম স্থানে কানাডার টরেন্টো, ৮০ স্কোর নিয়ে ২৭তম দূষিত শহর শিকাগো, ৯৯ স্কোর নিয়ে ১৫তম স্থানে ইতালির রোম এবং ১২৮ স্কোর নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে মিলান।
তবে ১৬৮ একিউইউ স্কোর নিয়ে এই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল ভারতের দিল্লি। ১৬২, ১৫৬ ও ১৩৭ স্কোর নিয়ে এর পরের তিন দূষিত শহর যথাক্রমে ইরাকের বাগদাদ, পাকিস্তানের লাহোর ও সৌদি আরবের রিয়াদ।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
২৯৯ দিন আগে
করোনার চোখ রাঙানি: পর্যটকপ্রিয় রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি
ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে পার্বত্য পর্যটন-জেলা রাঙ্গামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও বনঘেরা রাঙ্গামাটি প্রায় সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে। তবে চলতি ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে অন্যান্যবারের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা, নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় জনসমাগম মিলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটি ঘিরে বাড়তি ভিড় এবং ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, প্রয়োজনে আইসোলেশন, ঘাটগুলোতে স্বাস্থ্য ডেস্ক স্থাপন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে ভিড় বেশি, সেসব জায়গায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা ইউএনবিকে বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আমরা আগেই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছি। জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঘাটগুলোতে পর্যটকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘কারও উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। মারাত্মক অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।’
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, করোনা মহামারিকালে রাঙ্গামাটিতে ৭৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তখনকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও একটি সম্ভাব্য সংক্রমণ ঢেউয়ের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই ঢল নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি স্তরে সমন্বিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি যেন করোনার নতুন ঢেউয়ে তার স্বাভাবিক ছন্দ না হারায়, সেই লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
এদিকে, কোভিডের নতুন ধরন মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে নজরদারি বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদারে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন ধরনের কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার লক্ষ্যে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো—
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
১. জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং উপস্থিত হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক পরা
৩. হাঁচি-কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লা ঝুড়িতে ফেলা
৫. ঘনঘন সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা
৭. আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা
সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়
১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকা
২. রোগীর মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া
৩. রোগীর সেবাদানকারীদেরও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করা
৪. প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে, আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়নে (১৬২৬৩) যোগাযোগ করা।
২৯৯ দিন আগে