ঈদের ছুটি
ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে রাজধানী: র্যাব
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় র্যাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করবে, বিশেষ করে রাতে ফাঁকা বাসা এবং জনসমাগম কম এমন এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই অধিনায়ক আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঈদের ছুটিতে ডিএমপির বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা, মূল্যবান সামগ্রী রাখা যাবে থানায়
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
যেসব নগরবাসীর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই এবং ঈদের ছুটিতে বাসায় মূল্যবান সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে থানায় জমা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
মো. সরওয়ার বলেন, ঈদের সময় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। ওই সময়ে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার নগরবাসীকে ঈদের ছুটিতে বাসা ত্যাগ করার আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করা, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি জানান, ঈদ চলাকালীন পুরো রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বন্ধ থাকবে। ঢাকার প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
২ দিন আগে
সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন
এবার ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতি (নোয়াব)।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, গণমাধ্যমে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটি পালন করা হবে। সে হিসাবে ২০ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত কোনো সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
৭ দিন আগে
ঈদের লম্বা ছুটিতে আম নিয়ে বিপাকে নওগাঁর চাষি-ব্যবসায়ীরা
ঈদ উপলক্ষে ১০ দিনের টানা ছুটিতে ক্রেতার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে আমের বেচাবিক্রি। এতে করে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। টানা ১০ দিন ব্যাংক, কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে আম নিয়ে বিপাকে পড়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন সেখানকার কারবারিরা।
সাপাহার উপজেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের টানা ১০ দিনের ছুটির মধ্যে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত গরম পড়ছে। এর ফলে আম্রপালি জাতের আম একযোগে পাকতে শুরু করেছে। অথচ এই সময়ে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মানুষজন কম। ঈদের ছুটিতে সবাই রয়েছেন গ্রামে। আবার কুরিয়ার সার্ভিস এবং পরিবহন ব্যবস্থাও এখন বন্ধ। ফলে সঠিক সময়ে ক্রেতার কাছে আম পৌঁছাতে না পারলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আম্রপালি জাতের আম আগামী ১৮ জুন থেকে বাজারে আসার কথা। কিন্তু অতিরিক্ত গরম, বৈরী আবহাওয়া, গাছে আগাম মুকুল আসা-সহ নানা কারণে এ বছর আম্রপালি জাতের আম ৮-১০ দিন আগে পাকতে শুরু করেছে।
সাপাহার উপজেলার সিমু শিপলা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে লাভের আশায় ৪০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আম গাছ লাগিয়েছিলাম। এ বছর গাছে আমও ধরেছে ভালো। কিন্তু সরকারি আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম নামাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’
তিনি জানান, এ বছর সরকারি আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম নামাতে গিয়ে আম ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। ঈদের টানা ১০ দিন ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ, কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে আমের তেমন কোনো বেচাকেনা নেই। পচে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ মণ আম ফেলে দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহ শুরু, আসছে আঁটি, গুঁটি ও বোম্বাই
সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, আমের ক্যালেন্ডার প্রকাশের দিন বলা হয়েছিল, যদি কারো আম আগাম পেকে যায়, তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে গাছ থেকে আম পাড়া এবং বিক্রয় করা যাবে। কিন্তু গত কয়েক দিন ঈদের ছুটিতে ইউএনও এবং উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে আবেদন করে আম পাড়ার অনুমতি পাননি। ফলে প্রতিদিনই লক্ষাধিক টাকার আম অবিক্রিত থাকছে এবং তা ফেলে দিতে হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসে গেলে তারা অনুমতির জন্য ইউএনও অফিসে যেতে বলে। আবার ইউএনও অফিসে গেলে তারা কৃষি অফিসে যেতে বলে। প্রতিদিন শত শত আমচাষি অনুমতির জন্য এই দুই অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এই সমস্যার কারণে আমচাষিরা গাছ থেকে আম পাড়তে পারছেন না। যার কারণে আমাদের লোকসান দিন দিন বেড়েই চলেছে।’
সাপাহার উপজেলার বরেন্দ্র অ্যাগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি অফিসের বেঁধে দেওয়া আমের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর আম পাড়া সম্ভব হচ্ছে না। বৈরি আবহাওয়া আর অতিরিক্ত গরমের কারণে ক্যালেন্ডারে ঘোষিত তারিখের ১০-১২ দিন আগেই আম পেকে গেছে।
তিনি বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ পাকা আম নিয়ে আমরা পড়েছি ভীষণ বিপদে। প্রতিদিন প্রত্যেক আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। ক্রেতার অভাবে আম বিক্রি না হওয়ায় অবিক্রিত আম ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আম একটি দ্রুত পচনশীল খাদ্যপণ্য। এটি সংরক্ষণ করার কোনো পদ্ধতি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তাই প্রতিদিনের আম প্রতিদিনই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু ১০ দিন ঈদের ছুটি থাকার কারণে ব্যাংক বন্ধ, কুরিয়ার সার্ভিস পরিবহন বন্ধ, সর্বোপরি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ টাকা না থাকায় তারা আম কেনাবেচা নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছেন। আমচাষিদের কথা বিবেচনা করে আম চাষ হয়—এমন স্থানগুলোতে ব্যাংক খোলা এবং কুরিয়ার সার্ভিস ও পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখলে এ ক্ষতি উৎরে যাওয়া সম্ভব হতো।’
একই রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন সাপাহার আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেনও।
তিনি বলেন, ‘এখন বাজারে আম্রপালি জাতের আম মণপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই উচ্চ মূল্যের আম অবিক্রিত থেকে আড়তেই পচে যাওয়ায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছে। চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার আম পচেগলে নষ্ট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দিশেহারা।’
আরও পড়ুন: নওগাঁয় এবার ৪ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্যের সম্ভাবনা
ইমাম হোসেন বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মানতে গিয়ে আজ আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আগামীতে ভাগ্যে কী আছে, তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন!’
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের আমের ক্যালেন্ডারে আম পাড়ার যে তারিখ নির্ধারণ করা ছিল, চলতি বছর তা থেকে তিন দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকা এবং কুরিয়ার ও পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসা কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ ক্ষতির কথা বলছেন, তার সম্ভাবনা নেই।’
‘জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি অফিস সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আমের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এটাও বলা হয়েছে যে, যদি কোনো আম অগ্রিম পাকা শুরু করে, তাহলে স্থানীয় ইউএনও অফিস অথবা কৃষি অফিসের অনুমতিসাপেক্ষে আম পাড়া যাবে। সেক্ষেত্রে কেউ আবেদন করলে তাকে আম পাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আকস্মিক অতিরিক্ত গরমে আমের কোনো ক্ষতি হবে না। নওগাঁয় চলতি বছরে আমের বাজার থেকে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, তা পুরোপুরি সফল হবে।’
২৭৭ দিন আগে
ঢাকার বাতাস আজ শিকাগো-বার্সেলোনার চেয়েও ভালো
ঈদ উপলক্ষে লম্বা ছুটিতে বেশ কিছুদিন ধরে একপ্রকার ফাঁকা হয়ে গেছে শহর ঢাকা। সড়কগুলোতে নেই যানবাহনের চাপ; স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালতও বন্ধ; রাস্তায় লোকজনও হাতেগোনা। এই অবস্থায় গত কয়েকদিন বৃষ্টি কমে গেলেও রাজধানীর বাতাসের মানে খুব বেশি অবনতি হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই স্কোর ছিল মাত্র ৬৬। আর দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান আরও অবাক হওয়ার মতো। প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণে শীর্ষ শহরগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিলেও ঢাকার অবস্থান আজ ৫৫তম।
কণা দূষণের একিউআই মান যদি ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকে, তবে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০-এর মধ্যে হলে সেটি ‘মাঝারি’। ঢাকার বাতাস আজ মাঝারি হলেও ‘ভালো’ থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
এই সময়ে ৬৭ একিউআই স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকার ৫২তম স্থানে ছিল স্পেনের বার্সেলোনা, ৫০তম স্থানে সুইজারল্যান্ডের বেয়ার্ন, ৬৮ স্কোর নিয়ে ৪৯তম স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি, ৭০ ও ৭১ স্কোর নিয়ে ৪৪ ও ৪৩তম স্থানে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি, ৭৩ স্কোর নিয়ে ৩৮তম স্থানে কানাডার টরেন্টো, ৮০ স্কোর নিয়ে ২৭তম দূষিত শহর শিকাগো, ৯৯ স্কোর নিয়ে ১৫তম স্থানে ইতালির রোম এবং ১২৮ স্কোর নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে মিলান।
তবে ১৬৮ একিউইউ স্কোর নিয়ে এই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল ভারতের দিল্লি। ১৬২, ১৫৬ ও ১৩৭ স্কোর নিয়ে এর পরের তিন দূষিত শহর যথাক্রমে ইরাকের বাগদাদ, পাকিস্তানের লাহোর ও সৌদি আরবের রিয়াদ।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এই পর্যায়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের দূষণের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় ভুগছে। শীতকালে এখানকার বায়ুমান সাধারণত সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং শ্বাসযন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ।
২৭৮ দিন আগে
করোনার চোখ রাঙানি: পর্যটকপ্রিয় রাঙ্গামাটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি
ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে পার্বত্য পর্যটন-জেলা রাঙ্গামাটির স্বাস্থ্য বিভাগ।
কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও বনঘেরা রাঙ্গামাটি প্রায় সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে। তবে চলতি ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে অন্যান্যবারের চেয়ে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা, নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় জনসমাগম মিলে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের ছুটি ঘিরে বাড়তি ভিড় এবং ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বিবেচনায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, প্রয়োজনে আইসোলেশন, ঘাটগুলোতে স্বাস্থ্য ডেস্ক স্থাপন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস মজুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্থানে ভিড় বেশি, সেসব জায়গায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা ইউএনবিকে বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আমরা আগেই প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছি। জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঘাটগুলোতে পর্যটকদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা কাপড় ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারি
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘কারও উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। মারাত্মক অসুস্থ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের অনুরোধ করছি।’
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, করোনা মহামারিকালে রাঙ্গামাটিতে ৭৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়। তখনকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও একটি সম্ভাব্য সংক্রমণ ঢেউয়ের মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই ঢল নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার প্রতিটি স্তরে সমন্বিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি যেন করোনার নতুন ঢেউয়ে তার স্বাভাবিক ছন্দ না হারায়, সেই লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কতা
এদিকে, কোভিডের নতুন ধরন মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশের সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে নজরদারি বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়গুলো জোরদারে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন ধরনের কোভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার লক্ষ্যে বেশকিছু পরামর্শও দিয়েছে অধিদপ্তর। সেগুলো হলো—
সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
১. জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং উপস্থিত হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা
২. শ্বাসতন্ত্রের রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত মাস্ক পরা
৩. হাঁচি-কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা
৪. ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লা ঝুড়িতে ফেলা
৫. ঘনঘন সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ না করা
৭. আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা
সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়
১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকা
২. রোগীর মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া
৩. রোগীর সেবাদানকারীদেরও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করা
৪. প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে, আইইডিসিআর (০১৪০১-১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়নে (১৬২৬৩) যোগাযোগ করা।
২৭৮ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে মেঘনায় প্রাণ গেল তরুণের
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ঈদের ছুটিতে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবে অপু মিয়া নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে উপজেলার মোহনপুরে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অপু (১৯) ঢাকার আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা বকুল মিয়ার ছেলে। তিনি মিরপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে অপু ছিলেন সবার ছোট।
স্বজনরা জানান, ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে অপু তার বড় ভাই ও মায়ের সঙ্গে খালার বাড়ি মোহনপুরে বেড়াতে আসেন। পরে দুপুরে সে একা নদীতে গোসল করতে গিয়ে মোহনপুর ঘাটে একটি বলগেট (কার্গো নৌকা) থেকে নদীতে লাফ দেন। এ সময় প্রবল স্রোতে তিনি নিখোঁজ হন।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
স্থানীয়রা তল্লাশি চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক ইউএনবিকে বলেন, এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। লাশটি পরিবারের কাছেহন্তান্তর করা হয়েছে।
২৭৯ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল খাগড়াছড়িতে
ঈদুল আজহায় টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন বয়সী পর্যটকে ভরে উঠেছে প্রধান পর্যটন স্পটগুলো।
আলুটিলা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, রহস্যময় গুহা, রিছাং ঝর্ণাসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তবে বাইরের পর্যটকদের তুলনায় স্থানীয় পর্যটকের সংখ্যা বেশি।
এবারের ঈদে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো পর্যটক এসেছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা, পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই সময়ে, খাগড়াছড়ির আলুটিলা এবং আলুটিলার ব্যতিক্রমী সেতু পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। রহস্যময় গুহা এবং রিছাং ঝর্ণা পর্যটকদের মন কেড়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, এবং নয়াভিরাম লেকও পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে পাহার ধসের ঝুঁকি এড়াতে ১২৪টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু
২৮০ দিন আগে
ছুটিতে বন্ধ হাসপাতাল, দুর্ভোগ লাঘবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা
ঈদের ঠিক দুইদিন আগে, যখন উৎসবের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে রাজধানী, তখন অন্ধকার নেমে আসে জামাল আহমেদের জীবনে। রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসেবে কর্মরত জামাল (ছদ্মনাম)। একাধিক আঘাত ও হাড় ভেঙে যাওয়ার পর তাকে তড়িঘড়ি করে কাছাকাছি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা পান এবং বিলম্ব না করে একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য বলা হয় তাকে।
কিন্তু বাংলাদেশে ঈদের সময় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাওয়া যেন সোনার হরিণের পিছনে ছোটার মতো। অবশ্য জামালের কপাল মন্দ নয়। তিনি দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একজন অস্থি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পান। ঠিক সময়ে ক্লিনিকে পৌঁছেও জামাল পড়ে যান অসংখ্য রোগীর ভিড়ে। আহত বা অসুস্থ মানুষদের নীরবে যন্ত্রণায় অপেক্ষা করতে দেখেন তিনি। বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে জামাল সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেন, এই আশায় যে কখন তার ডাক পড়বে।
তবে এ ধরনের দুর্ভোগ বাংলাদেশর প্রেক্ষাপটে কোনো ব্যতিক্রম নয়। সাধারণ দিনেও একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন; আর ঈদের সময় তো কথাই নেই।
ঈদের খুশিতে দেশ যখন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, তখন অনেক হাসপাতালই নিস্তব্ধতায় ডুবে যায়। চিকিৎসাসেবার ব্যস্ত গুঞ্জন চাপা পড়ে নিরব কান্না আর অবহেলিত রোগীর আহাজারিতে।
যে ক্লিনিকে জামাল অপেক্ষা করছিলেন, সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। তারা আনন্দে ঈদের ছুটি কাটাচ্ছেন। কিন্তু রোগীদের জন্য কোনো ঈদ নেই, নেই কোনো আনন্দ, কেবল যন্ত্রণা আর অশ্রুর মধ্যেই সহ্যের এক কঠিন পরীক্ষা।
আরও পড়ুন: এক সপ্তাহ পর চক্ষু হাসপাতালে জরুরি সেবা চালু
চলতি বছর বাংলাদেশে ৫ জুন থেকে টানা ১০ দিনের ছুটি শুরু হয়, যা সারা দেশকে এক উৎসবমুখর শান্তির আবরণে ঢেকে দেয়।
কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মতো জায়গায় এই শান্তি যেন অবহেলার অন্য নাম। হাসপাতালে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া না গেলেও জরুরি সেবার চাহিদা জোয়ারের মতো বেড়েই চলেছে।
গোপনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে ফাঁকা করিডোর আর চিকিৎসকদের শূন্য চেয়ারের দৃশ্য।
প্রতিবারের মতো এবারও এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এগিয়ে এসেছে এবং একটি বিস্তৃত নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে ঈদের ছুটি রোগীদের জন্য অব্যাহত কষ্টে পরিণত না হয়।
ঈদ হোক বা না হোক — চিকিৎসাসেবা চলতেই হবে
ঢামেকের উপপরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসকদের ছুটি ভাগ করে দিয়েছি। জরুরি সেবা ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকবে।’
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দীর্ঘ ছুটি ও ঢাকা মেডিকেলের চিরাচরিত রোগীর চাপ বিবেচনায় রেখে আমরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।’
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমানও একই ধরনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘বহির্বিভাগের সেবা ৬ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে আইসিইউ, লেবার রুম, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবা চালু থাকবে। ঈদের দিন রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। ৫ জুন নিয়মমাফিক সব সেবা চালু থাকবে এবং ৯ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সব বিভাগ চালু থাকবে। ১৩ জুন হাসপাতাল বন্ধ থাকবে, তবে ১৪ জুন থেকে আবার খুলে যাবে, এমনকি অন্য অফিস বন্ধ থাকলেও শনিবারও খোলা থাকবে।’
আরও পড়ুন: চারদিন ধরে বন্ধ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, বিপাকে রোগীরা
এ ছাড়া, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য এবং দুটি মূল নির্দেশনা দিয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য, যাতে সারা দেশে জরুরি চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত না হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান নির্দেশনাসমূহ সংক্ষেপে
• জরুরি বিভাগে ডিউটিতে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে — প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে।
• লেবার রুম, জরুরি অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।
• ঈদের আগে-পরে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত জনবল বজায় থাকে।
• প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জনস্বার্থ ও জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় রেখে ছুটি অনুমোদন করতে হবে।
• জেলা পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে এবং সিভিল সার্জন বা বিভাগীয় পরিচালকদের আগেই জানাতে হবে।
• বিভাগীয় প্রধানদের প্রতিদিনের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে এবং এক্স-রে ও ল্যাবসহ গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগনস্টিক
সেবাসমূহ সচল রাখতে হবে।
• জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, স্যালাইন, রিএজেন্ট ও সার্জিকাল সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত থাকতে হবে।
• অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সর্বদা সচল রাখতে হবে।
• হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাধ্যতামূলক।
• অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
• প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ডিউটিরত স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগে থাকতে হবে এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে।
• যদি প্রধান কর্মকর্তা ছুটিতে থাকেন, তাহলে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে এবং তার যোগাযোগ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
• ঈদের দিন ভর্তি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে তা বিতরণ নিশ্চিত করবেন।
• বহির্বিভাগ (ওপিডি) ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না — কিছুটা নমনীয়তা রাখা হলেও মূল নিয়মটি বজায় থাকবে।
বেসরকারি হাসপাতালের জন্য নির্দেশনা
ক. নিবন্ধিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে হবে।খ. প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনে রেফারকৃত রোগীর জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।গ. কোনো জরুরি অবস্থা বা দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ডিজিএইচএসকে জানাতে হবে।
ডিজিএইচএসের পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান ইউএনবিকে বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় আমরা তাদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ২৪ ঘণ্টার জরুরি ও মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করা।’
অন্ধকারের মাঝে আশার আলোএই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে ঈদের ছুটিতে নিস্তব্ধ করিডোর, অশ্রুসজল অপেক্ষা, অবর্ণনীয় কষ্টের যে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় —— তা পরিবর্তিত হয়ে দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
আহমেদ ও তার মতো হাজারো মানুষের জন্য এক মুহূর্তের বিলম্বই সারাজীবনের কষ্টের কারণ হতে পারে। ছুটি যেন কখনোই সুস্থতার পথে বাধা না হয়। যখন জাতি ঈদ উদযাপন করছে, তখন হাসপাতালগুলোকে মনে রাখতে হবে — ব্যথা কখনো ছুটি নেয় না।
২৮৩ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে টানা ১১ দিন বন্ধ থাকবে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেটের গোয়াইনঘাটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) থেকে আগামী রবিবার ১৫ জুন পর্যন্ত পাথর আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। ১৬ জুন থেকে তামাবিল স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলে দেওয়া হয়েছে সিলেটের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র
তামাবিল স্থলবন্দর চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের নির্বাচন কমিশনার মো. ওমর ফারুক বলেন, তামাবিল স্থলবন্দর পাথর আমদানি গ্রুপের সংগঠনের পক্ষ থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। আগামী ১৬ জুন থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হবে।
তামাবিল ইমিগ্রেশন ইনচার্জ মো. সামিম মিয়া বলেন, ঈদে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এমনকি ঈদের দিনও কার্যক্রম চলবে। উভয় দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা চলাচল করতে পারবে।
২৮৫ দিন আগে