দুর্ঘটনা
ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে দুই ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-পিকআপ সংঘর্ষে দুই বাঙ্গী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে যাত্রীবাহী বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ৪০ ফিট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় পিকআপটিতে থাকা দুই যাত্রীর মধ্যে জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪২) ঘটনাস্থলেই ও ঢাকা নেওয়ার পথে আলমগীর শেখ (৪০) নিহত হন। তারা দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্ৰামে।
এ ছাড়াও বাসটিতে থাকা কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অধিকাংশের হাত, পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ও ভেঙে গিয়েছে।
এ বিষয় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন জানান, ফরিদপুর থেকে মাদারীপুরগামী শাহ ফরিদ নামের একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা টেকেরহাট থেকে বাঙ্গী বোঝাই একটি পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপটি উদ্ধার করি। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
গত মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। মোট প্রাণহানির মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি যেখানে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ৭৯ জন পথচারী (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং ৬৬ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার যানবাহনভিত্তিক চিত্র
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৪৫ জন (৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।
সড়কের ধরন
দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৬টি (২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩১টি (৪০ দশমিক ১০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি (১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (১ দশমিক ৯০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি এবং অন্যান্য যানবাহনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ
দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২ দশমিক ৯২শতাংশ)। এছাড়া রাতে ২১ শতাংশ, বিকেলে ১৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার তুলনামূলক বেশি, আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পেশাভিত্তিক নিহত
নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ১৭ জন, এনজিও কর্মী ১২ জন, ব্যবসায়ী ২৭ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৩ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর্যালোচনা ও কারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিকতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অন্তত আরও ৪ জন।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলার দাউদকান্দি ও নিমসার এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির কানড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী সড়কে অজ্ঞাতনামা গাড়ি সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। তাদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এছাড়া একই এলাকার মো. নবীর হোসেন (৩৮), মো. কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও মো. সাগর মিয়া (৩৫) এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মতলব বেলতলী সোলেমান লেংটার মাজারের মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আহতদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ ভোরে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় ঢাকাগামী পার্সেলবাহী গাড়িকে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় উভয় গাড়ির চালক নিহত হন। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার শিকার যানবাহন ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
রাজধানীতে মোটরসাইকেল ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
রাজধানীর ডেমরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. সুরুজ আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ডেমরার বাঁশপট্টি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সুরুজ আলীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সাগরদী এলাকার কৃষ্ণপট্টি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত হজ আলী। ডেমরার কোনাপাড়ায় নিজ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
নিহতের ছেলে মো. আলমাছ বলেন, ‘আমার বাবা রাত সাড়ে ৭টার দিকে ডেমরার বাঁশেরপুল এলাকার প্রধান সড়ক পায়ে হেঁটে পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল বাবাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে তৎক্ষণাৎ ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান আমার বাবা আর বেঁচে নেই।’
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ডেমরা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
২০ দিন আগে
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় কাতার প্রবাসী নিহত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেলবাহী লরির নিচে পড়ে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মহাসড়কের বাহুবলের শেওড়াতলী আখঞ্জী ফিলিং স্টেশনের কাছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোতালেব। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বুড়িনাও গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত মোতালেব দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে পুটিজরী গ্রামে শশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানদের সিএনজি অটোরিকশায় বাড়িতে পাঠিয়ে নিজে মোটরসাইকেলে রওনা হন। যাত্রাপথে একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় একটি ইটের সঙ্গে মোটরসাইকলের ধাক্কা লাগলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীতমুখী তেলবাহী লরির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
গত ৪ মাস আগে মোতালেব কাতার থেকে দেশে আসেন। আগামী ৮ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় তার মাথা ও মুখ থেঁতলে গেছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
২১ দিন আগে
তেজগাঁওয়ে গাড়ির ধাক্কায় কলেজ শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় মোহাম্মদ ইমন (১৮) নামে মোটরসাইকেল-আরোহী এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত ইমন স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনায় নিহতের বন্ধু ওমর ফারুক (২০) আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইমনের বাড়ি রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায়। সেখানকার মৃত হযরত আলীর ছেলে ছিলেন তিনি।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী শরীফ হাসান জানান, গতরাতে তেজগাঁও সাউদান গ্রুপ সড়কের সামনে মোটরবাইক চালিয়ে দুই যুবক যাচ্ছিলেন। এমন সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে আমরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাইকের আরেক আরোহী ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, এ ঘটনায় ইমনের বন্ধু জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
২২ দিন আগে
লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ডুবি, পটুয়াখালীতে নিহত ২
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রেজাউল করীম (২৮) ও নাছির ফকির (৪২)। রেজাউল রাঙাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে এবং নাছির একই উপজেলার চরবিষ্টন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। তারা দুজনই পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন তরমুজ চাষি রাঙাবালী থেকে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রলার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ভোর প্রায় ৪টার দিকে বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়।
ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা রেজাউল ও নাছির বের হতে না পেরে মারা যান। তবে ট্রলারের অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চচালক ট্রলারটি দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২৫ দিন আগে
যশোরে গাছের সঙ্গে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, প্রাণ ঝরল একই পরিবারের ৩ জনের
চুয়াডাঙ্গায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো শেষে ঘরে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন যশোরের মনিরামপুরের একই পরিবারের তিনজন।
সোমবার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের যশোর সদর উপজেলা গাইদঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেটকার রাস্তার পাশের বটগাছে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মনিরামপুর বাজারের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪২), তার বাবা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সাবেক পরিচালক আব্দুল মজিদ সরদার (৭৪) এবং জনির চার বছর বয়সী শিশু কন্যা শেহেরিশ।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনির মা মনোয়ারা বেগম (৬০), স্ত্রী সাবরিনা জাহান (৩০) এবং ছেলে সামিন আলমাস (১০)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বারোবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, প্রাইভেটকারটি চুয়াডাঙ্গা থেকে যশোরের দিকে আসছিল। গাড়িটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা একটি বড় বটগাছে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই জনি ও তার বাবা আব্দুল মজিদ নিহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত চারজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছোট শিশু শেহেরিশেরও মৃত্যু হয় বলে পুলিশের এ ওসি জানান।
জনির সহকর্মী রিয়াদ হোসেন জানান, সোমবার সপরিবারে চুয়াডাঙ্গায় নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন জনি। সেখান থেকে ফেরার পথেই এই করুণ পরিণতি হয়। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ মনিরামপুরের বাড়িতে রয়েছে। তাদের দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
২৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৮ যাত্রী আহত, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
লালমনিরহাট জেলা শহরে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে শহরের বিজিবি ক্যান্টিন মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী তিশা এন্টারপ্রাইজের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ আটজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত রমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
২৮ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ঝিনাইদহের পাঁচজনের পরিবারে শোকের মাতম
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩), ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন।
নিহতরা ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে নোয়াখালীতে আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাঁচজনের মৃত্যুতে গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু ছিলেন মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ওই গাড়িতেই তার ভাইয়ের পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন। গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই মেয়ে ছিল। দুর্ঘটনায় তারা সবাই প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, তাদের মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন। মরদেহগুলো বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।
দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
২৮ দিন আগে