চীন
জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করলেই অংশীদারত্ব অর্থবহ হয়: ড. তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অংশীদারত্ব তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয়, যখন তা জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করে; প্রতিটি সহযোগিতার কেন্দ্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণকে স্থান দেয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন রিলেশনস: এনহ্যান্সড ট্রাস্ট অ্যান্ড নিউ ডিরেকশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর বাংলাদেশ কীভাবে নতুন কূটনৈতিক গতি ও পারস্পরিক আস্থাকে কূটনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব অর্জনে রূপ দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশকে নিজের স্বনির্ভর উন্নয়নযাত্রা নিজেকেই এগিয়ে নিতে হবে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
তিনি মাল্টিমোডাল পরিবহন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত কুনমিং-চট্টগ্রাম সংযোগে চীনা অংশীদারত্বকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সমাজভিত্তিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এইচ ই আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক চুক্তি, প্রটোকল, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং কৃষি, পানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে রূপান্তর করা।
বাংলাদেশে চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মি. লি শাওপেং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোর চেয়েও মানুষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ভৌত সংযোগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক আস্থা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং অভিন্ন উন্নয়নকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব অবকাঠামোগত সংযোগের বাইরেও অত্যন্ত বেশি।
৩ দিন আগে
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় রেড ক্রিসেন্টকে ১ লাখ ডলার অনুদান দিল চীন
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) ১ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অনুদান হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম বিডিআরসিএসের পক্ষে অনুদান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি চীনের জনগণ গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।
তিনি বলেন, চীনা রেড ক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা আজ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে ১ লাখ ডলার জরুরি নগদ সহায়তা হস্তান্তর করছি। এই অনুদান বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীনা সরকার ও জনগণের আন্তরিক উদ্বেগ ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখনই দুর্যোগ বা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই চীন দ্রুততম সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবছর দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে চীন। গত বছর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে উদ্ধারসামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল, যা চলমান বন্যা মোকাবিলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম চীন সরকার, চীনের জনগণ এবং চীনা রেড ক্রস সোসাইটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চীনের এই সহায়তার মাধ্যমে আমরা জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়, হাইজিন কিট এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকটময় সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা চীন সরকার ও জনগণের প্রতি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অনুদানের প্রতিটি ডলার সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে বিডিআরসিএস চলমান বন্যা ও ভূমিধস মোকাবিলায় ২১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত জরুরি কার্যক্রম তুলে ধরে। এতে জানানো হয়, সংস্থাটি ইতোমধ্যে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরুরি তহবিল ছাড় করেছে। এছাড়া ২ হাজার ৫০০টির বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ, ২২ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ২ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান, ৩৭ হাজার লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, ১২টি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্টের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
সাইবার স্পেসে বৈষম্যহীন ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটিমন্ত্রীর
চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে ৩ দফা দূরদর্শী প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২২ জুলাই) চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘পুলিং ইন্টেলিজেন্স অন দ্য সিল্ক রোড, এমবার্কিং অন অ্যা ডিজিটাল ফিউচার: জয়েন্টলি বিল্ডিং অ্যা কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার ইন সাইবারস্পেস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
ফকির মাহবুব আনাম তার বক্তব্যে প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের এই মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই জনমিতিক লভ্যাংশ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট) কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ডি-নথির মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে। ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করায় প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ভৌত অবকাঠামোর বিষয় নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেধারও বিষয়। বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং সুবিশাল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গঠনে ব্যাপক বিনিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস প্রদান এবং প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের (নিখুঁত কৃষি) জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল সিল্ক রোড একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাই-স্পিড সাবমেরিন কেবল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সংযুক্ত হচ্ছে।
সম্মেলনে যৌথ অগ্রগতির লক্ষ্যে মন্ত্রী তিনটি মূল স্তম্ভ বা প্রস্তাবনা পেশ করেন— ১. ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অ্যান্ড নলেজ ট্রান্সফার: কেবল হার্ডওয়্যারে নয়, বাংলাদেশের তরুণ মেধার বিকাশে বিনিয়োগের আহ্বান। সাইবার বিজ্ঞানী তৈরিতে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন। ২. অ্যাফোর্ডেবল কানেক্টিভিটি: প্রযুক্তি হস্তান্তর সাশ্রয়ী করা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল বিভাজন রোধ করা। ৩. ডিজিটাল পাবলিক গুডস: ডিজিটাল উন্নয়নকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইপি ও ডাটা আর্কিটেকচার বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা।
সাইবার স্পেসের হুমকি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য ও ডাটা উপনিবেশবাদের মতো ঝুঁকি মোকাবেলায় সাইবার শাসনব্যবস্থাকে বহুমেরুকরণ (মাল্টিপোলারাইজেশন), স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
বক্তব্যের শেষে প্রাচীন সিল্ক রোডের আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সুপারহাইওয়েকেও আমাদের সেই একই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ সংযোগ, তরুণ শক্তি ও উদ্ভাবনী চেতনা নিয়ে এই যাত্রায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত।’
২১ও ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন অতিথি ও প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট হেলথকেয়ার এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীন ও বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন।
৭ দিন আগে
চীনে ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই অঞ্চলে এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, তার মধ্যেই উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টির উপকণ্ঠে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে পড়ে। এতে ১০টির বেশি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, খাড়া পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি ভবনের পাশে একটি গাড়ি অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। ধসে পড়া একটি পাথরের আকার ছিল বহুতল ভবনের চেয়েও বড়।
পেংশুই কাউন্টির পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পাথরের আয়তন প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার।
১১ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানেও বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চীন সফর এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি দেশে এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে চীনের অভূতপূর্ব অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্ভাবনা। চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
১১ দিন আগে
চীনে ঝড়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯, ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’
দক্ষিণ চীনে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মেসাক’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এর মধ্যেই ‘বাভি’ নামে আরেকটি টাইফুন আঘাত হানার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। নতুন ঝড়ের আঙ্কায় তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
নানিং শহরের ভাইস মেয়র ডিং ওয়েই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ঝড়ে নানিংয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২৬ জন মারা গেছেন। তিনি বলেন, গুয়াংসি অঞ্চলে এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে মৃতের সংখ্যা ৬ জন ছিল বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ চীনের কর্তৃপক্ষ।
মেসাকের প্রভাবে গত শনিবার থেকে গুয়াংসিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সেখান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির তোড়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ কয়েক দিন ধরে নিজেদের বাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়ে ছিলেন।
২০ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান এবং বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতা চান। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয়ে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে উভয় দেশ একযোগে কাজ করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২২ দিন আগে
চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, একাধিক সমঝোতা স্মারক সই
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বৈঠকটি শেষ হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুমন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৩৪ দিন আগে
চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৫টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৩৪ দিন আগে
দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত দুই দিনব্যাপী ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
চীনের রাজধানীতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করতে উচ্চগতির ট্রেনে করে স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১ টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমান তার স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দালিয়ান ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার তিন দিনের আনুষ্ঠানিক চীন সফরের সূচনা করবেন। সফরকালে তিনি আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানাবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী সেখানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ডব্লিউইএফ-এর ১৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নেন বলে জানিয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন।
উদ্ভাবন কীভাবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে, তার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ (ব্যাপক পরিসরে উদ্ভাবন) থিম নিয়ে সম্মেলনটি শুরু হয়। তার আগে তিনি সকাল ৯টায় শুরু হওয়া সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনেও যোগ দেন।
ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইঙ্গি উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান ছাড়াও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ন্যাম-ওসর উছরাল, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদৌ ওউরি বাহ, মন্টেনেগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিক এবং কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ এই অধিবেশনে যোগ দেন।
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই আলোচনাগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করে।
অধিবেশনের বিরতির সময় অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতারা একটি আনুষ্ঠানিক ফটো সেশনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমের নেতাসহ ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যের এবারের ইভেন্টটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, যুব কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রধান বৈশ্বিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং এর ব্যাপক অর্থনৈতিক সুবিধার মধ্যকার ব্যবধান দূর করা এই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল।
৩৫ দিন আগে