চীন
স্বাস্থ্যখাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যখাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কীট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা চান।
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে ১ হাজার বেডের হাসপাতালে নির্মাণে চীন তার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খোরশেদ আলম ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করতে তারা পিছুপা হবেন না, তা সাধারণ হাসপাতাল হোক বা বিশেষায়িত হাসপাতাল।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চীন থেকে চিকিৎসক দল এসেছে। রোবোটিক পুনর্বাসনকেন্দ্রে ৮২টি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশি মেডিকেল কর্মীদের চীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল উত্তরবঙ্গে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত, যেহতু উত্তরবঙ্গ অনুন্নত ও অবহেলিত।
৭ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
১২ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১২ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ-পরবর্তী এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার বিষয় কথা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান আছে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন খাতে চীন কীভাবে আরও বেশি সহযোগিতা দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে। চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩ দিন আগে
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
২৯ দিন আগে
মিয়ানমারভিত্তিক অপরাধচক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
মিয়ানমারভিত্তিক একটি পারিবারিক অপরাধ চক্রের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। চক্রটির বিরুদ্ধে ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল।
ওয়েনঝৌ সিটি ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানায়।
গত সেপ্টেম্বরে দেশটির আদালত ওই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন মিং গুওপিং ও মিং ঝেনঝেন, যারা প্রতারণা ও জুয়া কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। এছাড়া ঝৌ ওয়েইচ্যাং, উ হংমিং ও লুও জিয়ানঝাংওয়ের মতো চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এই শাস্তি পেয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়ার পর চক্রটির পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও গত নভেম্বরে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চাপ প্রয়োগ করলে ওই পারিবারিক চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে ‘স্ক্যাম পার্ক’ শিল্পভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সেখানে পাচার হওয়া ও স্বেচ্ছায় যুক্ত হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে সারা বিশ্বের ভুক্তভোগীদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল প্রতারণা চালানো হয়ে থাকে।
এই ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অঞ্চলটির কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
৩৯ দিন আগে
চীনে এসসিও সম্মেলন ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন কারা
চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে শুরু হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের আমন্ত্রণে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন পুতিন-মোদিসহ আরও প্রায় ২০টি দেশের নেতারা।
এরপর বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর উপলক্ষে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও ২০ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেবেন।
এসসিও সম্মেলন কোথায় হচ্ছে, কারা অংশ নিচ্ছেন
বোহাই সাগরের তীরে চীনের বন্দরনগর তিয়ানজিনে এ বছর এসসিও সম্মেলনের আয়োজন হয়েছে। ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বরে দুই দিনের এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০০১ সালে এসসিও প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এটিই জোটটির সবচেয়ে বড় বৈঠক হতে চলেছে। বিভিন্ন দেশের ২০ জনের বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের এ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এসসিও সদস্যদেশ—রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভ, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ও তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুসহ আরও কয়েকজন নেতার এ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হর্নও সম্মেলনে অংশ নেবেন।
সবাই কুচকাওয়াজে থাকছেন না
বেইজিংয়ে বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে এবার প্রদর্শিত হবে চীনের সর্বাধুনিক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, যার মধ্যে রয়েছে ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং অসংখ্য ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র।
এসসিও ফোরামের অনেক উচ্চপর্যায়ের অতিথি এক হলেও সামরিক কুচকাওয়াজে কিছু ভিন্নতা থাকবে।
ভারত, মিসর ও তুরস্কের নেতারা এসসিও সম্মেলনে থাকলেও কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন না। তবে কায়রোর একজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা দেশটির প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অন্যদিকে, এসসিও সম্মেলনে না থাকলেও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এর মধ্যে দিয়ে ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন কিম।
আরও পড়ুন: চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে তার প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে।
এমন একটি সময় শি, পুতিন ও কিম একসঙ্গে বসতে চলেছেন, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের এই বৈঠক পশ্চিমা বিশ্বে একটি স্পষ্ট ঐক্যের বার্তা দেবে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও মস্কোর আগ্রাসনকে নিন্দা জানায়নি বেইজিং। এমনকি রাশিয়াকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। এদিকে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে যুদ্ধে সহায়তার জন্য সেনা পাঠিয়েছে।
এ ছাড়াও কুচকাওয়াজে যোগ দিচ্ছেন মিয়ানমারের সেনা সরকারপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তিনি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।
তাছাড়া কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ ক্যানেল এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও জিম্বাবুয়ের নেতারাও কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন।
এই আয়োজনে অংশ নেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছেন রাশিয়া-ঘনিষ্ঠ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ এবং স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।
১৮৯ দিন আগে
বিডিআরসিএসকে ১৫ লাখ ডলারের জরুরি বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম দিলো চীন
বন্যায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (বিডিআরসিএস) অনুদান হিসেবে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের সরঞ্জাম দিয়েছে চীন সরকার।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১০০টি ইঞ্জিনসহ রাবার বোট, ১৫টি ওয়াটার পিউরিফিকেশন ইক্যুপমেন্ট, ১০টি ডিজেল জেনারেটর, ৬সেট সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ যন্ত্র, ৫০০টি লাইফ ভেস্ট, ৫০০টি রেসকিউ হেলমেট, ৫০০ জোড়া রেসকিউ বুট, ৫০০ জোড়া হ্যান্ড গ্লাভস, ৩০০টি সামুদ্রিক ফার্স্ট এইড কিট, ২৫০টি রেসকিউ রোপ, ২৫০ সেট রেসকিউ রোপ ব্যাগ, ১০০ সেট লাইফ র্যাক্ট, ৫০টি ফ্লোট প্লেট, ৫০টি রেসকিউ প্যানেল এবং ২৫টি সফট স্ট্রেচার।
অনুষ্ঠানে ফারুক ই আজম বলেন, বাংলাদেশ বন্যা ও প্রকৃতির দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রতিটি দুর্যোগে সরকার মানবিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার কাজ করে। চীন সরকারের এ সহায়তা আমাদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, সারা দেশে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। আমি বিডিআরসিএসকে অনুরোধ করছি যাতে কার্যকরভাবে এই সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে এসকল সরঞ্জমাদির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
উপদেষ্টা বলেন, এই হস্তান্তর বাংলাদেশ এবং চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং সহযোগীতারই প্রতিফলন। আমরা এই সংহতিকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি।
আরও পড়ুন: সংস্কার হয়নি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৪ বিদ্যালয়, ফেরত গেল সাড়ে ১২ কোটি টাকা
বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ড. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস-চেয়ারম্যান ড. তাসনিম আজিম, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির বাংলাদেশস্থ হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এবং বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেজারার মো. আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
১৯৫ দিন আগে
ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উচ্চমানের ও ঝামেলামুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল’ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এই আশ্বাস দেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের প্রধানরা।
ইউনান প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক ওয়াং জিয়ানকুন জানান, তারা আন্তর্জাতিক রোগীদের ন্যায্যমূল্যে উচ্চমানের সেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের এই পাইলট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া বাংলাদেশি রোগীরা অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের সহায়তায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার এবং ঢাকায় আমাদের দূতাবাস স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের ওই গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নেয়।
সেশনে হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট জেং ঝিং, মেডিকেল প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক শি হংবিন এবং আন্তর্জাতিক মেডিকেল বিভাগের পরিচালক হান রুইসহ চীনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সেখানে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যয়, বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ, লিয়াজোঁ অফিস, ফলো-আপ চিকিৎসা ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া এবং মৃতদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উচ্চ খরচ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন চীনা কর্মকর্তারা।
ওয়াং জিয়ানকুন বলেন, আমরা বাংলাদেশি রোগীদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত রয়েছি তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
চীনা কর্তৃপক্ষকে তাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান আজাদ মজুমদার। এতে তারা বাংলাদেশি রোগীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত ছয় মাসে ৬৭ জন বাংলাদেশি রোগী লিভার সিরোসিস, স্তন ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
চীনের স্থানীয় ফরেন অফিসের আয়োজিত ভোজসভায়ও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার (৮ আগস্ট) কুনমিংয়ের আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২১৩ দিন আগে
চীনে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ৭ হাজার, কঠোর অবস্থানে সরকার
চীনজুড়ে ফের ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। এবার মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশটির ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির সরকার।
মশার উৎপত্তিস্থল অনুসন্ধানে ড্রোন ব্যবহার, মশারি, জীবাণুনাশক স্প্রে থেকে শুরু করে জড়িতদের জরিমানা করার মতো বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে চীন।
বুধবার (৬ আগস্ট) পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এর অধিকাংশই হংকংয়ের নিকটবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব ফোশান শহরে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে।
চিকুনগুনিয়া মূলত মশাবাহিত একটি রোগ। এই ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গুর মতো জ্বর ও জয়েন্টে ব্যথা হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শহরের সড়ক, আবাসিক এলাকা, নির্মাণস্থলসহ অন্যান্য স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করার খবর দেখানো হয়েছে। এমনকি কর্মীরা অফিস ভবনে প্রবেশের আগে কিছু জায়গায় স্প্রে করা হচ্ছে।
পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণে বছরে দেড় লাখ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যঝুঁকি
দেশটিতে মশারোধে খালি বোতল, ফুলদানি বা অন্যান্য স্থানে জমাট পানি ফেলে না দিলে ১০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ১,৪০০ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের গুয়াংডং প্রদেশে, যেখানে ডংগুয়ানসহ অন্যান্য শিল্পকেন্দ্র অবস্থিত, ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বোলিভিয়া ও ভারত মহাসাগরের কিছু দ্বীপরাজ্যও বিপৎসীমার মধ্যে রয়েছে। ব্রাজিলও ভাইরাসের প্রভাব ব্যাপক দেখেছে।
চীনে ভারী বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা পরিস্থিতি আরও অবনতি করেছে। ২০০৩ সালের মারাত্মক সার্স মহামারির পর থেকে চীন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এবার ফোশানে রোগীদের ন্যূনতম এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মশার লার্ভা খাওয়া মাছ ব্যবহার ও বড় মশাদের মাধ্যমে ভাইরাসবাহী মশাদের শিকার করার চেষ্টা নিয়েও খবর এসেছে। জাতীয় পর্যায়ে সভা হয়েছে এবং প্রোটোকল গৃহীত হয়েছে, যা চীনের ভাইরাস সংক্রমণ থামানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২১৫ দিন আগে