চীন
নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে কুনমিং এক্সপো: বাণিজ্যমন্ত্রী
চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ২০২৬-এ থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা–২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং এটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্প।
এর আগে, সকাল ৯টায় থিম কান্ট্রি হিসেবে স্থাপিত বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো। পরে মন্ত্রী প্যাভিলিয়নের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সভাপতিত্বে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার, লাওসের উপ-প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী, নেপালের ডেপুটি স্পিকার, সার্ক মহাসচিব এবং সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আখতার হোসেন এমপি, মো. খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি, সুলতানা জেসমিন এমপি, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিংস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইপিবি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেলার প্রথম দিনে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইয়ান ডং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে, এক্সপোর সাইডলাইন ইভেন্ট ‘বিগ মার্কেট ফর অল: এক্সপোর্ট টু চায়না’-এ ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
আগামীকাল (১২ জুন) এক্সপো প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন হবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হবে।
৮ দিন আগে
তাইওয়ান সফরের করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ আইনপ্রণেতার ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার ওপর এক বছরের জন্য চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস। পরে সংসদীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বার্তাটি নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে অতীতে অন্যান্য দেশের আইনপ্রণেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। তবে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রথম চীন এমন পদক্ষেপ নিল। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে চীন।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের চার আইনপ্রণেতার মধ্যে দুজন এপিকে জানিয়েছে, তারা চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্য দুইজনের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, তারা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গে কথা বলবে।
এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের এক মুখপাত্র জানান, চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আইনপ্রণেতারা গত মে মাসে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই সফর করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কয়েক দশক ধরেই এ ধরনের সফর করে আসছেন।
চীনের দাবি, তাইপেইয়ের নিজস্বভাবে কোনো ধরনের বিদেশি সম্পর্ক পরিচালনার কোনো অধিকার নেই। এছাড়া বিদেশি আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরকে চীনের সার্বভৌমত্বের প্রতি বাধা হিসেবে দেখছে তারা।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের মুখপাত্র জানান, ‘ওয়ান চায়না’ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের একটি প্রদেশ হিসেবে দাবি করা হয়। নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতার ওই সফর ‘ওয়ান চায়না’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এছাড়া তাইওয়ান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন ১২টি দেশের মধ্যে নিউজিল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত নয়।
এপি জানিয়েছে, ওয়েলিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিসে একটি বার্তা পাঠায়। ওই বার্তার মাধ্যমে তাইওয়ানে সফর করা চার আইনপ্রণেতাকে এক বছরের জন্য চীন, ম্যাকাও ও হংকংয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধের বিষয়টি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টারি সার্ভিস থেকে এই বার্তাটি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের একটি ইমেইলে পাঠানো হয়।
চীনা দূতাবাসের বার্তায় আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতারা যদি তাইওয়ান সফরের জন্য চীনের কাছে ক্ষমা চান, তাহলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, নিউজিল্যান্ডসহ যেসব দেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, অনেকদিন ধরেই সেসব দেশের আইনপ্রণেতাদের তাইওয়ান সফরের বিরোধিতা করে আসছে চীন। এই ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। নিউজিল্যান্ডের এ বিষয়ে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং ও ওয়েলিংটনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা চীনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা চীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ জানাবেন।
তিনি আরও জানান, বিদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা কোন অঞ্চলে ভ্রমণ করবেন, সে সিদ্ধান্ততা তারা স্বাধীনভাবে নিয়ে থাকেন। এসব সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
লিবার্টারিয়ান অ্যাক্ট পার্টির আইনপ্রণেতা লরা ম্যাকক্লুর জানান, চীনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার এই দাবি স্পষ্টতই অপমানজনক। তিনি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না।
অন্যদিকে, মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা ডানকান ওয়েব জানান, নিউজিল্যান্ড গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এ কারণে যদি আমাকে এক বছরের জন্য চীনে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতেও আমি প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড ও চীনের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। চীন বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডই প্রথম চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছিল।
অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের ওপর চীনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাদের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করবে। এ বিষয়ে বেইজিং এবং ক্যানবেরায় চীনা মিশনের সঙ্গে কথা বলবে অস্ট্রেলিয়া।
বৃহস্পতিবার ক্যানবেরায় সিনেট কমিটির এক বৈঠকে ওয়ং জানান, নিউজিল্যান্ড যে অবস্থান নিয়েছে, অস্ট্রেলিয়াও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্যদের মতো নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারাও সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারেন।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনপ্রণেতাদের ওপর ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।’
১৫ দিন আগে
চীনের কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
চীনের শানঝি প্রদেশে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বার্তায় তিনি বলেন, ‘শানঝি প্রদেশে কয়লা খনি বিস্ফোরণে বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং চীনের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের এবং যারা নিখোঁজদের সন্ধানে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, সেই উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য আমাদের প্রার্থনা রইল।
আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই বিপদে চীনের পাশে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, আহতদের সেবা এবং এই ঘটনার তদন্তে আপনাদের চলমান প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলে যেনো ধৈর্য, সাহস ও সান্ত্বনা খুঁজে পায় সেই কামনা করছি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে চীনের শানঝি প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ২৪৭ জন শ্রমিক ছিলেন বলে জানায় চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
২৬ দিন আগে
চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৯০
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক খনির নিচে আটকা পড়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটির চাংশি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনির নিচে ২৪৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
আজ (শনিবার) ভোরে প্রথমে আটজন নিহত এবং ৩৮ জন আটকা পড়ার তথ্য জানিয়েছিল সিনহুয়া। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর এই সংখ্যা ৯০-এ উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনে গ্রিসের চেয়েও বড় এ প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। গত বছর প্রদেশটির কয়েক লাখ খনি শ্রমিক প্রায় ১৩০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছেন, যা চীনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
২৭ দিন আগে
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
৩০ দিন আগে
চীনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২ জন নিহত, ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
চীনে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। এ দুর্যোগে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং লিউঝো শহর থেকে ৭ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ভোরে দক্ষিণ চীনের গুয়াংশি অঞ্চলে এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
নিখোঁজ কয়েকজন বাসিন্দার অনুসন্ধান কাজ আজ (সোমবার) দুপুরের দিকে শেষ হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ আটকে পড়া ৯১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ জীবিত এবং সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, এক্সকেভেটর দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৩টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধস এলাকার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। লিউঝো এলাকায় ট্রেন চলাচলও বাতিল বা বিলম্বিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ চীনে মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হয়ে থাকে, তবে তীব্র ভূমিকম্প সাধারণত পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে অথবা তাইওয়ানের দিকে পূর্বাঞ্চলে বেশি দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পটি ছিল ২০০৮ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশে, যেখানে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন।
৩২ দিন আগে
সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান পেল বাংলাদেশ
চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে।এ উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং উপস্থিত ছিলেন।মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, অনুদান হিসেবে দেওয়া সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও টিকা এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে এসব টিকা সরবরাহ করা হবে।অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে দেশের এই সময়ে সহযোগিতা করায় চীনের প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, সেটি আবারও প্রমাণ হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
৪৫ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৮ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চাইছে চীন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আদায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করার মধ্য দিয়ে বেইজিং বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সংহত করতে চাইছে। তবে চীনের এই প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের চীন কর্মসূচির পরিচালক সান ইউন বলেন, ইরান যুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে সকল দেশের জন্য অগ্রাধিকার। চীন তার নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না।
তবে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো ড্যানি রাসেল চীনের এই কূটনীতিকে ‘প্রদৰ্শনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য চীনের দেওয়া ১২ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে এর তুলনা করে বলেন, চীন দেখাতে চায় যে ওয়াশিংটন যেখানে বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক, সেখানে চীন শান্তি ও নীতির পক্ষে। আসলে আমরা যা দেখছি তা মধ্যস্থতা নয়, বরং নিজেদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রচারের চেষ্টা।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং শান্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
চীনের কূটনীতিকে যেভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় বা তারা কোনো সাফল্যের কৃতিত্ব পায়—এমন কোনো সুযোগ দিতে রাজি নয় ওয়াশিংটন।
চীন-পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে নিরপেক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ বিষয়ে মত দেন, তাহলে অবস্থান বদলাতে পারে।
বেইজিংয়ের জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যুদ্ধ থামানো একটি বড় লক্ষ্য। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প তার মার্চের নির্ধারিত সফরটি ইতোমধ্যে পিছিয়ে দিয়েছেন।
সান ইউন বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ট্রাম্প আবারও যে তার চীন সফর পিছিয়ে দেবেন না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব ও চীনের অবস্থান
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন বর্তমানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীন তার তেলের মাত্র ১৩ শতাংশ ইরানের কাছ থেকে আমদানি করে। এছাড়া তারা নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুদও বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে সামলে নিলেও চীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়া চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ও পরামর্শক উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাব যখন স্পষ্ট হচ্ছে, তখন চীন এই সংকট নিরসনে নিজেকে সহায়তাকারী হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে।
চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া, ওমান, ইরান, ফ্রান্স, ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে তিনি বেইজিংয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিউ বলেছেন, তিনি আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ২০টিরও বেশি ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একজন বিশেষ দূত এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের কাছে চীনের পরিকল্পনার জন্য সমর্থন চেয়েছেন এবং তাকে বলেছেন যে এটি ব্যাপক, আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতিনিধিত্ব করে। ওয়াং সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
আবার বাহরাইন কর্তৃক জাতিসংঘে উত্থাপিত ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খোলার’ প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে চীন। এ বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ উত্তেজনা কমানোর জন্য হওয়া উচিত, আগুনে ঘি ঢালার জন্য নয়।
কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিসংঘের একজন কূটনীতিক বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রাণঘাতী যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উভয় দেশেরই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার তেমন কোনো তাগিদ নেই বলেই মনে হচ্ছে। চীন যেখানে অর্থ দিয়ে তার কিছু জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে রাশিয়া তার প্রধান রপ্তানি পণ্য তেলের উচ্চমূল্য থেকে লাভবান হচ্ছে।
বেইজিং বলছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি দরকার। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত একপ্রকার নীরবই রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, এই পরিকল্পনাটি মূল্যায়ন করা কঠিন, কারণ এটি শান্তির একটি রূপরেখার চেয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান, কূটনীতির গুরুত্ব এবং জাতিসংঘের ভূমিকার প্রতি একটি অস্পষ্ট আবেদন মাত্র।
৭৫ দিন আগে