ভুল চিকিৎসা
শেবাচিমে ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সদের দায়িত্ব অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসায় দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের চতুর্থ তলার নাক-কান-গলা বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকুরি বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন।
নিহতরা হলেন— বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার সারসী গ্রামের মৃত বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৮) এবং পটুয়াখালীর কলাপাড়া ইউনিয়নের মহিপুর থানাধীন ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মন্নান তালুকদারের স্ত্রী শেফালি বেগম (৬০) ।
হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা ও নাক-কান গলা ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভর্তি হন হেলেনা বেগম এবং ৮ মার্চ ভর্তি হন শেফালি বেগম। এর মধ্যে হেলনা বেগম থাইরয়েডে আক্রান্ত ছিলেন এবং শেফালি বেগম মুখের ভেতর টিউমার অপসারণ করার জন্য ভর্তি হন।
নিহতদের স্বজনরা জানান, আজ (রবিবার) সকালে তাদের উভয়ের শরীরে অস্ত্রোপচারের জন্য কিছু ইনজেকশন দেন নার্সরা। এরপরই তাদের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয় এবং কিছু সময় বাদে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
হেলেনার ছেলে ইব্রাহিম বলেন, নার্স ইনজেকশন দেওয়ার পরই আমার সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে যান এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিষয়টি আমরা হাসপাতাল প্রশাসনকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো মামলায় যাচ্ছি না। একে তো আমরা মা হারিয়েছি, তার ওপর মামলা দিয়ে আর হয়রান হতে চাই না।’
অপরদিকে, শেফালি বেগমের মেয়ে খাদিজা বেগম বলেন, আমার মা সুস্থ ছিলেন, কিন্তু সকালে নার্স এসে কয়েকটা ইনজেকশন দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি নার্সদের জানানো হলেও তারা কোনো ভ্রূক্ষেপ করেননি, সুস্থ করার জন্য কোনো উদ্যোগ নেননি। চোখের সামনে সুস্থ মা অসুস্থ হয়ে মুহূর্তেই মারা গেলেন, আর মায়ের মৃত্যুর পরে নার্সদের টনক নড়ে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে উভয়ের স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল পরিচালক ঘটনার পর ওয়ার্ডে যান। প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখে তিনি বিষয়টি যে নার্সদের অবহেলা তা নিশ্চিতও হয়েছেন। আমরা তার কাছেই বিচারের দায়িত্ব তুলে দিয়েছি। বিচার না হলে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা অন্য রোগীর সঙ্গে ঘটবে এবং অন্য কোনো সন্তান তার মাকে অকালে হারাবে।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স হেলেন অধিকারী নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন, তিনি ইনজেকশনের কোনো ভায়েল ভাঙেননি, ভেঙেছেন মলিনা হালদার। তাই তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না, শুধু ইনজেকশন পুশ করেছেন দুজন রোগীর শরীরে। তবে মৃত ওই দুই রোগীর সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক এবং তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে বলে জানান তিনি।
মলিনা হালদার বলেন, নিয়ম মেনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে যেসব ইনজেকশন দেওয়ার কথা, তাই দিয়েছি। পরে রোগী দুজনের অবস্থা খারাপ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে মোবাইলে বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক যে ধরনের ইনজেকশন দিতে বলেছেন, তাই দিয়েছি। কোনো রোগী মৃত্যুবরণ করুক সেটা আমরা চাই না। গত ২৬ বছরে কোনো ভুল করিনি, এবার এমন হলো কীভাবে তা বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং তত্ত্বাবধায়ক খাদিজা বেগম বলেন, সকালে হাসপাতালে এসেই বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। কীভাবে কী হয়েছে তা এখনও সঠিকভাবে জানতে পারিনি।
কোনো রোগীর মৃত্যু কাম্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, একই ওয়ার্ডে দুজন রোগীর মৃত্যু অবশ্যই দায়িত্বে অবহেলা। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক যে ব্যবস্থা নেবেন তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে এবং সার্বিক সহযোগিতাও করব।
এই বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, আজ ওই দুই রোগীরই শরীরের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। এক্ষেত্রে কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে দিতে হয় এবং কিছু ওষুধ অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর দিতে হয়। অ্যানেসথেটিক ড্রাগ দেওয়ার পরে রোগীর এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা মেশিনের মাধ্যমে কাজ করাতে হয়, কিন্তু ওই ওষুধ সেবিকারা অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে আগে ওয়ার্ডে বসে দিয়েছেন। ফলে কিছু সময় পরে রোগীরা মৃত্যুবরণ করেন। এটি অবশ্যই পেশাদারত্বে জায়গা থেকে দায়িত্ব অবহেলা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তিনি বলেন, দায়িত্ব অবহেলা, খামখেয়ালিপনা তো অবশ্যই আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। সেই সঙ্গে রোগীর স্বজনরা ইচ্ছে করলে মামলাও দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে স্বজনদের সহযোগিতা করা হবে। আর ঘটনাটি ভুল হোক বা যাই হোক, শক্তভাবে দেখা না হলে ভবিষ্যতে আবার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
১৯ দিন আগে
রংপুরে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল সিলগালা-জরিমানা
রংপুরে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় একটি শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আরোগ্য হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সিলগালা ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া একটি নাম সর্বস্ব প্যাথলজি সালমা ব্লাড ট্রান্সমিউটেশন সেন্টারের একজনের ৭ দিনের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকালে এ অভিযানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মিশু সিলগালা ও জরিমানার আদেশ দেন।
এই নিয়ে গত এক মাসে ভুল চিকিৎসায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো বলে জানান সিভিল সার্জন ডাক্তার শাহিনা সুলতানা। তিনি বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে যেসব ক্লিনিকে চলছে, সেখানেই ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে আরোগ্য হাসপাতালে ভর্তিচ্ছু বদরগঞ্জ লালদিঘি সরকার পাড়ার জমির উদ্দিনের মেয়ে মোকহার জাহান জুঁই (১১) পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। মঙ্গলবার রাতে আরোগ্য হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে স্বজনরা ওই শিশুর লাশ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রেখে আন্দোলন করে।
পড়ুন: কিশোরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ২ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি
রোগীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে মোকহার জাহান জুঁই (১১) নামে এক শিশুকে ভর্তি করা হয় আরোগ্য হাসপাতালে। ওই রাতেই অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন করা হয়। একদিন পরে রবিবার আবারো একটা অপারেশন করা হয়। তবে রবিবার কি অপারেশন করা হয়েছে সেটি জানানো হয়নি রোগীর লোকজনকে। এরপর রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে সোমবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
ওই শিশুর অপারেশনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মো. মুজিব জানান, অপারেশনের পর কিডনি বিকল হওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না।
এদিকে একই সময়ে সালমা ব্লাড ট্রান্সমিউটেশন সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একজনের ৭ দিনের জেল দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান মিশু জানান, হাসপাতাল ও অপারেশন থিয়েটার অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট ছিল না। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে অপারেশনের সময় জরুরি ওষুধ না থাকা। এসব কারণে হাসপাতাল ও অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালের মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন বলেন, ওই হাসপাতাল এবং অপারেশন থিয়েটার পুরোপুরি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতাল চালু করতে পারবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ওই হাসপাতালে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৬৮ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় ২ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি
কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে দুই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে ভুল চিকিৎসার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছেন। এছাড়া মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নার্সকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মৃত দুই রোগী হলেন- কটিয়াদী উপজেলার ধুলদিয়া এলাকার বাসিন্দা মল্লিক এবং নিকলী উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল।
আরও পড়ুন: ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
জানা যায়, হার্নিয়ার চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মল্লিক। অপরদিকে পেটে ব্যথাজনিত কারণে ভর্তি হয়েছিলেন জহিরুল।
আজ সকালে দুজনেরই অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অপারেশনের আগে সকালে নার্স নাদিরা বেগম ওয়ার্ডের সিটেই দুজনকে ইনজেকশন দেন। এর পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই তারা মারা যান।
পরে তাদের মৃত্যুর খবরে স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন এবং সংশ্লিষ্ট নার্সের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
রোগীর স্বজনরা জানান, ‘নর কিউ’ নামক অ্যানেসথেশিয়ার ইনজেকশনটি অপারেশন থিয়েটারে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি আগেই ওয়ার্ডের সিটেই পুশ করেন নার্স। এতেই মৃত্যু হয় দুজন তরতাজা যুবকের।’
আরও পড়ুন: ‘ভুল চিকিৎসায়’ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, হাসপাতাল ও কলেজে ভাঙচুর
হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. হেলিশ রঞ্জন সরকার জানান, এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট নার্সকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. অজয় সরকারকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নার্সের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে তিনি নিজেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
৪৪৩ দিন আগে
ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নার্সের ভুলে ৩ দিন বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাভির ইনজেকশন হাতের শিরায় পুশ করার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
নিহত শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: হাজীগঞ্জে বালতির পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু
শিশুটির বাবা সাব্বির হোসেন বলেন, রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। বাচ্চাটা বেশি অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আমি নার্সদের ডেকে নিয়ে আসি। চিকিৎসক সানিকোর্ড (Sanicord) নামে একটি ওষুধ নিয়ে আসতে বলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসি। একজন নার্স সেই ওষুধ সিরিঞ্জে করে নিয়ে হাতের ক্যানুলাতে পুশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার সন্তান মারা যায়। আমরা এর বিচার চাই।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, খবর পেয়ে শিশু ওয়ার্ডে গিয়েছিলাম। তিন দিন বয়সি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় পুকুরে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
৫৬৩ দিন আগে
যশোরে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত শুরু
যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন সিটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় তাহেরা খাতুন নামে একজন ব্রেস্ট টিউমার রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ।
শুক্রবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মনজুরুল মুরশিদ সাত দিনের মধ্যে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদুল আলমকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি নারীর মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
নিহতের পুত্র শহিদুল ইসলাম বলেন, তাহেরা খাতুন বুকের ব্যথার চিকিৎসা নিতে নাভারন সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন গত ২৮ এপ্রিল রাত ৮টার সময়। হাসপাতালের ডাক্তাররা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর তার ব্রেস্ট টিউমার হয়েছে বলে জানায়। এক পর্যায়ে সিটি হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে রাত ১০টার সময় হাসপাতালের এমবিবিএস ডাক্তার সুজিত রায় তাহেরা খাতুনকে অপারেশনের জন্য অপারশন কক্ষে নেন। এসময় অজ্ঞান করার দায়িত্বে ছিলেন এমবিবিএস ডাক্তার আশরাফুল আলম। অপারেশন শেষে রোগীর জ্ঞান না ফেরায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন নিহতের পুত্র শহিদুল ইসলাম।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছাম্মদ মাহফুজা খাতুন বলেন, ঘটনাটি আমার এলাকায় হলেও খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তর এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মনজুরুল মুরশিদ বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদুল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদুল আলম বলেন, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে তদন্তের নির্দেশনা পাওয়ার পর ৩ মে মেডিসিন বিশেজ্ঞ ডা. রফিকুজ্জামানকে প্রধান কর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা।
নির্ধারিত সময়েই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: তীব্র তাপপ্রবাহ: খুলনার হাসপাতালগুলোয় রোগীর বাড়তি চাপ, ব্যাহত চিকিৎসা
ঈদে চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
৭০০ দিন আগে
বামনায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতালে তালা
বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলায় সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতি মোসা. মেঘলা আক্তার এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ কিশোরের মৃত্যু
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে বামনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান এবং বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কুমার মন্ডল সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান এবং ইউপি সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক।
ডৌয়াতলা কলেজ রোডের এই হাসপাতালে সোমবার বিকালে উত্তর বামনা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের (তারেক) প্রসূতি স্ত্রী মেঘলা আক্তারকে ভর্তি করানো হয়।
আরও পড়ুন: বরগুনার বজ্রপাতে নদীতে ছিটকে পড়া জেলের লাশ উদ্ধার
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ কুমার দাস, পরিচালক মো. রেজাউল ইসলামসহ ৫/৬ জনে মিলে প্রসূতি মেঘলা আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন।
রাত পৌনে ১১টার দিকে অপারেশন থিয়েটরে মেঘলা আক্তার এবং নবজাতকের মৃত্যু হয়। এরপর সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই মালিক, ডাক্তার, নার্সসহ সব স্টাফ পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কুমার মন্ডল মেঘলা আক্তার ও তার নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে বরগুনা মর্গে পাঠান।
আরও পড়ুন: বরগুনায় পিকনিকের বাস খাদে পড়ে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১৮
বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই।
তিনি আরও জানান, এই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মেঘলা আক্তার ও তার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা হাসপাতালটিতে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।
এছাড়া এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বামনা থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: বরগুনায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে
হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।
অপর দিকে সুন্দরবন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে মালিক পক্ষ, ডাক্তার, নার্সসহ কোনো স্টাফকে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: বরগুনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
৮০৮ দিন আগে
বরিশালে ভুল চিকিৎসায় সংকটাপন্ন প্রসূতি
বরিশালে অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগ পাওয় গেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ১৭ দিন পরে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে ওই প্রসূতির পেট থেকে তা বের করা হয়।
বরিশালের বানারীপাড়ার হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটেছে। ভুল চিকিৎসার শিকার ওই নারী বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: বরিশালে আরও ৩ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু, শনাক্ত ৩৩৯
ঘটনার শিকার নারীর স্বজনরা জানান, ভূমিষ্ঠ হওয়া কন্যা সন্তান সুস্থ থাকলেও ভুল চিকিৎসার শিকার নারী শঙ্কামুক্ত হননি।
রোগীর বোন ইসরাত জাহান বলেন, বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের বাড়ি। বোন শিল্পী আক্তারের প্রসব বেদনা উঠলে উপজেলা সদরের হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে কনসালটেন্ট ডা. মো. লুৎফুল আজিজের অধীনে তাকে ভর্তি করা হয়। স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত না পেরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ান অপারেশন করলে তার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।
ইসরাত জাহান বলেন, অপারেশনের পর থেকে চার দিন রোগীর প্রস্রাব ও পায়খানা বন্ধ থাকে। আমরা টেনশন করছিলাম। বিষয়টি জটিল দেখে হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ওখানে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করাই। কিন্তু আমাদের কিছুই জানাননি। অথচ আমার বোন দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করাই। এখানে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান- আমার বোনের পেটের মধ্যে গজ রেখে দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের ছাড়পত্র দিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করান।
তিনি বলেন, ঝুঁকি বুঝে আমরা সিনিয়র এক চিকিৎসকের রেফারেন্সে ২৯ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালেই অপারেশন করাই। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অপারেশন করে বোনের পেটের মধ্য থেকে দুই হাত লম্বা গজ বের করা হয়।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আর দুই তিন দিন এইভাবে থাকলে আমার বোন মারা যেতেন। আমি চাই হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুল চিকিৎসা যিনি দিয়েছেন সেই ডাক্তারের শাস্তি দেওয়া হোক। তাদের অপচিকিৎসায় আমার বোন আজ মৃত্যুপথযাত্রী।
অভিযোগের বিষয়ে হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক অর্পন বলেন, আমি বানারীপাড়াতে নেই। তবে এমন একটি ঘটনা শুনেছি আমার হাসপাতালে ঘটেছে। বিস্তারিত কিছুই জানি না। বিস্তারিত জেনে বলতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল।
আরও পড়ুন: বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু
বরিশালে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু
৯১৪ দিন আগে
ভারতের যশোদা হাসপাতালে 'ভুল চিকিৎসায়' নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
ভারতের হায়দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায়’ বাংলাদেশি এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ঘটনা তদন্তের দাবি জানিযেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
একই সঙ্গে ভুল চিকিৎসায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত ফারহানা আক্তার ওরফে ডিনার পরিবারের সদস্যরা এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নিহতের স্বামী আমিন আল মামুন বলেন, তার স্ত্রী বাম কাঁধে ব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও পরিত্রাণ পাননি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর অভিযোগ
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ২০ জুলাই তাকে ভারতের হায়দ্রাবাদের যশোদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৭০ হাজার রুপি মূল্যের বিভিন্ন ল্যাব টেস্ট করা হয়। অর্থোপেডিক ডাক্তার সুনীল দাচেপল্লী তাকে বলেছিলেন, তার স্ত্রীর জয়েন্টের হাড় বেড়ে গেছে এবং তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
আমিন আল মামুন বলেন, ‘আমি তখন ডাক্তারকে বললাম, আমার স্ত্রীর অ্যানেস্থেসিয়ায় অ্যালার্জি আছে। ওষুধে অ্যালার্জির কারণে সে দু'বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেসময় আমার স্ত্রী যেসব ওষুধ খেয়েছিলেন ডাক্তার সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছিলেন।’
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় 'ভুল চিকিৎসায়' কলেজছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগে আটক ৩
তিনি আরও বলেন, ‘২৮ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। আধা ঘন্টা পরে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে আমার স্ত্রীর অ্যানেস্থেসিয়ায় অ্যালার্জি আছে কি না। আমি তখন তাদের বলি যে আমি এই বিষয়ে তাদের (ডাক্তারদের) বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছি।’
ফারহানা আক্তারের স্বামী বলেন, হাসপাতালের ডা. সুনীল ও ডা. এস প্রশান্ত রেড্ডি তখন বলেন যে তারা তাকে ওষুধ প্রয়োগ করার পর তার শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলে সেখানে ১ আগস্ট ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি ভুল চিকিৎসায় জড়িত চিকিৎসক ও অন্যান্যদের তদন্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ওই দম্পতির ২ মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, লাশের সঙ্গে ডাক্তার অবরুদ্ধ
৯৪৪ দিন আগে
সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. মিলিকে আত্মসমর্পণে হাইকোর্টের নির্দেশ
রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চিকিৎসক বেগম মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি বিশ্বজিত দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসকের ‘অবহেলায়’ মারা যাওয়া নবজাতকের মায়ের মৃত্যু
এর আগে মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন ডা. বেগম মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলি।
জানা যায়, সেন্ট্রাল হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার (গাইনি) অধীনে গত ৯ জুন ভর্তি হয়েছিলেন মাহাবুবা রহমান আঁখি। কিন্তু সেদিন ডা. সংযুক্তা হাসপাতালে ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী চিকিৎসক আঁখির সন্তান প্রসব করানোর চেষ্টা করেন। জটিলতা দেখা দেওয়ায় নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়। একইসঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরে গত ১০ জুন বিকালে আঁখির নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় অবহেলা জনিত মৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়।
এছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
১৮ জুন দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখিও।
ওই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ডা. বেগম মাকসুদা ফরিদা আক্তার মিলি।
আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: অপারেশন থিয়েটার বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতাল দায়ী: ডা. সংযুক্তা সাহা
১০০৩ দিন আগে
ফেনীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, লাশের সঙ্গে ডাক্তার অবরুদ্ধ
ফেনীর একটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা আদনান আহমেদ নামে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে লাশের সঙ্গে অপারেশান থিয়েটার রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের কাঁচা তরকারির আড়তের সামনে অবস্থিত আল মদিনা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
ওইদিন রাতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন টিপুর সমঝোতায় লাশ হস্তান্তর করা হয়।
মৃত ওসমান গনি (৫) ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
এছাড়া, রবিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন না থাকায় এবং আইন লঙ্ঘন করে পরিচালনা করায় মেডিকেল প্রাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্স ১৯৮২ মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন- জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুভল চাকমা। এসময় জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষে চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও) আশিকুদ্দোলা, ফেনী সদর উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে ছিলেন চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমও) যোবায়ের ইবনে খায়ের। ফেনী মডেল থানা–পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করে।
শিশুটির মা আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার জ্যান্ত ছেলের কিডনি কেটে ডাক্তার মেরে ফেলেছে। আমার সন্তান চাই। আর কিছু চাই না, আমার সন্তানকে বুকে ফিরিয়ে দিতে হবে।’
ওসমানের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হার্নিয়া রোগের অপারেশন করার জন্য শনিবার বিকাল ৪টায় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি করি। কথা ছিল সন্ধ্যার পর অপারেশন হবে। কিন্তু বিকাল সাড়ে ৪টায় ডাক্তার এসে ইনজেকশন পুশ করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই ছেলের মৃত্যুর খবর আসে। আমরা এর বিচার চাই। দোষীদের শাস্তি চাই।’
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মারা যাওয়া রোগী আমাদের আত্মীয় হয়। অপারেশন শেষ হওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরেনি। অপারেশন থিয়েটারে তার সার্জারিতে কোনো ভুল হয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করে দেখা হবে।’
থিয়েটারে অ্যানেস্থেসিয়া দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর রোগীর অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। পরে তার জ্ঞান ফিরে না আসায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। এক পর্যায়ে দেখি সে বেঁচে নেই। সম্ভবত সে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে।’
থিয়েটারে সার্জারি চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকা আদনান আহমেদ বলেন, ‘নিয়ম মোতাবেক অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার পর আমি তার অপারেশন শেষ করি। রোগীর জ্ঞান ফিরে আসা না আসাটা মূলত অ্যানেস্থেসিয়ার ওপর নির্ভর করে।’
বিষয়টি নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হলে মূল সমস্যা বের হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান বলেন, হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের সঙ্গে সমস্যার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. শিহাব উদ্দিন জানান, ভুল অপারেশানে শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন না থাকায় এবং আইন লঙ্ঘন করে পরিচালনা করায় মেডিকেল প্র্যাকটিস ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্স ১৯৮২ মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে 'ভুল চিকিৎসায়' শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
মনপুরায় হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ
১০২৭ দিন আগে