অর্থমন্ত্রী
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল কর্তৃক ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এফএআর সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ট্রাস্টওয়ার্দি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটার্স।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি অস্থির সময় পার করেছে। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, তদারকি ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাসমূহ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এছাড়া মিথ্যা প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার ফলে যোগ্য ও মৌলিক কোম্পানিগুলো বাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।
আর্থিক খাতের বর্তমান সংকট উত্তরণে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন একটি ক্রসরোডে (মোড়ে) দাঁড়িয়ে আছি। বর্তমান সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে।
তিনি বলেন, এফআরসি, আইসিএবি এবং আইসিএমএবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করছে, তার ওপরই অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার পক্ষে প্রতিদিন ভুল বের করা সম্ভব নয়। তাই হিসাববিদদের নিজেদের এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সবার আগে ‘সেলফ-রেগুলেট’ বা স্বপ্রণোদিত নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের ওপর বিশ্বাস রেখে অতীতে বিজিএমইএকে যেভাবে ইউডি সার্টিফিকেট প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছিল, ঠিক তেমনি আইসিএবি এবং আইসিএমএবি-কে কেবল বার্ষিক সাধারণ সভা বা ডিনারের আয়োজক হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সদস্যরা কীভাবে কাজ করছে এবং সঠিক অডিট করছে কি না, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের বড় বড় ফান্ড ম্যানেজার এবং বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বখ্যাত ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসতে চায়। আমরা হংকং ও লন্ডনে বাংলাদেশ ডেডিকেটেড ফান্ড ফ্লোট করার পরিকল্পনা করছি, পাশাপাশি ডোমেস্টিক বন্ড চালু করতে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এই বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণের প্রথম শর্তই হলো নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন। বিনিয়োগকারীরা যদি অডিট প্রতিবেদনের ওপর আস্থা না পায়, তবে কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।
স্বল্পমেয়াদি সুবিধা নয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য পুঁজিবাজার, এনবিআর এবং আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম ভাইস প্রেসিডেন্ট বিটিএমএ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
১০ দিন আগে
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে আর্থিক খাত: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজারসহ দেশের বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (বিএসআইসি) উদ্বোধনী ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের উদ্যোক্তা খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক যৌথভাবে বিএসআইসি চালু করেছে, যা বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম। প্রাথমিকভাবে ৪২৫ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য স্টার্টআপ খাতের বিদেশি অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। বিনিয়োগ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না—এটি সরকারের স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে যাতে এটি তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন হবে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, বিএসআইসি বৈশ্বিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার প্রতি আমাদের আস্থার প্রতিফলন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, ৩০ জুনের পর বাংলা কিউআর কোড ছাড়া পেমেন্ট করা যাবে না।
গভর্নর আশাপ্রকাশ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের অর্থায়নে সফল হবে স্ট্যার্টআপ কোম্পানি। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রকল্প বাছাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকগুলোর প্রাথমিক ৪২৫ কোটি টাকার বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল হিসেবে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেবে।
গত পাঁচ বছরের নিট মুনাফার ১ শতাংশ অবদান রেখে ব্যাংকগুলো এ তহবিল গঠন করেছে। এটি সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ের বিনিয়োগের জন্য ধারাবাহিক তহবিলচক্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, ২০১০ সাল থেকে ৪৫০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাতে ১০০ কোটির বেশি ডলার বিনিয়োগ এলেও এর ৭ শতাংশেরও কম এসেছে দেশীয় উৎস থেকে।
তিনি জানান, বিএসআইসি শুধু একটি তহবিল নয়; এটি এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম, যা স্থানীয় আস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক ভেঞ্চার মানদণ্ডের সংযোগ ঘটাবে। প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতেও এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিএসআইসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা প্রথম তিনটি বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে চায়। এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ করপোরেট সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং স্থানীয় স্টার্টআপগুলোকে বিদেশি অংশীদারদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
১৮ দিন আগে
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে।
বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) যৌথ উদ্যোগে রবিবার (১০ মে) ঢাকায় পিকেএসএফ অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরোওয়ার্ড: দ্য ইনঅগারেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকোনমিক ডেমোক্র্যাটাইজেশন বা অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জনকল্যাণমুখী ও কর্মসংস্থানবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং পরিবেশগত সুরক্ষার শর্তগুলো পূরণ করা হবে।
এছাড়া অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্প বর্তমানে পর্যালোচনা বা বাতিলের তালিকা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পিকেএসএফের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন এবং পিকেএসএফের কার্যক্রমের মধ্যে মিল রয়েছে। পিকেএসএফের কাজের পরিধি আরও বৈচিত্র্যময় করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে সরকারের নতুন উদ্যোগ, যেমন: ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রসারে পিকেএসএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, সরকার সরাসরি নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবারের বাজেট রক্ষক হিসেবে নারীদের সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয় প্রবণতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সরাসরি সেবা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থমন্ত্রী দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই। যেমন: বরিশালের শীতল পাটিকে নকশায় সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়া যায়, তবে তা জিডিপিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া থিয়েটার, খেলাধূলা এবং গানকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতের অর্থনৈতিক বোঝা এবং বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) সচিব নাজমা মোবারেক। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডাইরেক্টর ড. গেইল এইচ মার্টিন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, পিকেএসএফের কর্মকর্তা এবং রেইজ প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীগণ।
২০ দিন আগে
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত: আমীর খসরু
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্য কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বিনির্মাণ করা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী গণম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের দায়িত্ব হলো একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানো।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে এমন এক অর্থনীতি পেয়েছে যা কাঠামোগত দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতের চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং সুশাসনের চ্যালেঞ্জে জর্জরিত। এর জন্য জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জ্বালানি বাজার, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, নাগরিকদের কষ্ট লাঘব করতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। ফলে চলতি অর্থবছরে মূল বাজেটের বাইরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাজেট ঘাটতি বাড়াবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই অতিরিক্ত আমদানির জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাজেট সহায়তা ও পেমেন্ট ব্যালেন্স স্থিতিশীল রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থায়নের চেষ্টা করছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।
৫০ দিন আগে
জ্বালানি সংকটে দ্রব্যমূল্য বাড়ার আশঙ্কা অর্থমন্ত্রীর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আগামীতে বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর আঁগারগাওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তোরণ (এলডিসি গ্রাজুয়েশন)’ প্রস্তুতি বিষয়ক এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়ছে সব ধরনের পণ্য, খাদ্যদ্রব্য এবং সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর। এর ফলে সামনের দিনগুলোতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই সমস্যাটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে খসরু বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
মন্ত্রী সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের কথা স্বীকার করে বলেন, অন্যান্য দেশ জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালেও বাংলাদেশ এখনো তা করেনি যা রাষ্ট্রীয় তহবিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আমরা কতক্ষণ জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখতে পারব তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ দিয়ে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের জন্যই লোকসান হবে। তবে জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সম্পন্ন হলে দেশ গ্র্যাজুয়েশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে এবং তখন বিষয়টি জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে। তবে বর্তমানে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ চলমান থাকায় এখনই গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
৫৫ দিন আগে
অর্থমন্ত্রীর বাজেটোত্তর নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী আয়োজিত বাজেটোত্তর নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (৩০ জুন) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফর বাংলাদেশ-ভারতের মৈত্রীর গভীরতার প্রতিফলন: জয়শঙ্কর
অর্থমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন টেবিল ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন- সংসদ উপনেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা।
এছাড়াও নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: হাসিনার ভারত সফর: বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে নেবে
৬৯৮ দিন আগে
মূল্যস্ফীতি রোধে সংকোচনমূলক নীতি নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক নীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শ্লথ করতে পারে, এ কথা অনস্বীকার্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সমাপনী ভাষণে তিনি বলেন, ‘যদিও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করা দরকার, তবে এটি অনস্বীকার্য যে দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতি প্রবৃদ্ধিকে ধীর করতে পারে।’
তিনি বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে বাংলাদেশকে অব্যাহত উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘মূল্যস্ফীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ৬ মাস অপেক্ষা করুন’: বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে আমরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির আপাত পরস্পরবিরোধী লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য, অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে সরকার উপায় ও সামর্থ্যের ব্যবধান কমিয়ে দ্রুত উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসতে পারবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টিতেও আমরা যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছি।’
তাই এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মুদ্রানীতিতি; পলিসি রেট (রেপো) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ এবং ব্যাংকের সুদের হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে এবং রেমিট্যান্স ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ডলারের বিনিময় হারে ক্রলিং পেগ সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মুদ্রানীতির সংকোচনমূলক উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা রাজস্ব নীতিতে সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছি, যেমন বাজেট ঘাটতি হ্রাস, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিরুৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ।’
সরকারের গৃহীত এসব নীতিমালার ফলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পদ সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের জন্য ওপেক তহবিলের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
‘এসব উদ্যোগের ফলে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং মধ্য মেয়াদে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি বলেন, সরকারি ব্যয় মেটাতে সরকার সম্পদ সংগ্রহে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায় নীতিমালা নির্ধারণের আগে আমরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছি।’
মাহমুদ আলী বলেন, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে সরকার কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে কর ফাঁকি হ্রাসসহ কর আদায় বাড়াতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে।
‘রাজস্ব আহরণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সমাধানের মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণোত্তর বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার জাতীয় কাস্টমস নীতিমালা সংস্কার করছে।
‘রপ্তানিবিরোধী পক্ষপাত কমাতে সহায়তা করার জন্য আমদানি শুল্কের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা হচ্ছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত শত ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে দেশের সব মানুষকে নিয়ে একের পর এক জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ করে যাচ্ছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব এবং ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে শামিল হব এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা একটি উন্নত-সমৃদ্ধ-স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ।’
আরও পড়ুন: বাজেট এখনও পাস হয়নি, অনেক কিছু সংশোধন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী
৬৯৯ দিন আগে
বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি
চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সরকারি মালিকানাধীন ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পাওনা ৫১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন থেকে (বিএডিসি) বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে কম ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৮ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা সংসদ সদস্যের
সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- চিনিকল (৭ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা), সার, কেমিক্যাল ও ওষুধ শিল্প (৭ হাজার ২৫০ কোটি ৭১ লাখ টাকা), অন্যান্য নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন-পাবলিক (৬ হাজার ৬০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা), ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (৫ হাজার ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা), বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন (৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা), খাদ্য মন্ত্রণালয় (৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা), বাংলাদেশ পাটকল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান (৬০৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা), বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড (৫৮৭ কোটি ৩ লাখ টাকা), বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (৫৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (২৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা), ইক্যুইটি এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ড (২৬৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা), অন্যান্য আর্থিক মধ্যস্থতাকারী সরকারি (১৬৫ কোটি টাকা) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (১৪৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা)।
আরও পড়ুন: জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ অর্থবছর: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬.৭৫ শতাংশ
৭০৫ দিন আগে
বাজেট এখনও পাস হয়নি, অনেক কিছু সংশোধন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পাসের আগে সরকার বাজেট নিয়ে সব ধরনের বাস্তবসম্মত সমালোচনা ও পরামর্শ বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশের পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা সব মতামত বিবেচনায় নিচ্ছি। বাজেটে যেগুলো বাস্তবসম্মত ও সমাধানযোগ্য সেগুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কারণ বাজেট এখনো পাস হয়নি।’
বৃহস্পতিবার(২০ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে 'বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, খাদ্য ও পুষ্টি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাজেট পেশের পর বিভিন্ন মহল বিবৃতি দিয়েছে এবং মন্তব্য করেছে। তিনি বলেন, 'আমি তাদের বলব, আমাদের অর্থনীতি ও বাজেট নিয়ে বিশ্বব্যাংক কী বলছে তা দেখুন।’
তিনি বলেন, 'বাজেট নিয়ে আরও কিছু বলার আছে, বিশ্বব্যাংক বলেছে এটা ভালো। আমার টাকা দরকার, বিশ্বব্যাংকের কথা শুনতে হবে। তা না হলে আপনারা (সমালোচকরা) আমাকে টাকা দিন।’
আরও পড়ুন: প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫টি প্রস্তাবের সবগুলোই উপেক্ষা করায় ক্ষুব্ধ বাজুস নেতারা
অর্থমন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, কেউ কেউ বলেন সরকার দেউলিয়া, কিন্তু দেউলিয়া মানে কী? ‘আমরা দেউলিয়া নই। বিশ্বব্যাংক কিছু বোঝে না, আপনারা সব বোঝেন?'
তিনি আরও বলেন, ‘এটা দেখুন এবং এটি বোঝার চেষ্টা করুন। এই বাজেট জনবান্ধব বাজেট। কোনো বিষয়ে সমস্যা হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, কৃষি বিপণন বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাজ্জাদুল হাসান এমপি প্রমুখ।
আরও পড়ুন: বাজেটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিক-নির্দেশনা নেই: নাগরিক প্ল্যাটফর্ম
৭০৯ দিন আগে
‘মূল্যস্ফীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ৬ মাস অপেক্ষা করুন’: বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে দেশবাসীকে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
তিনি বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবকিছু করছে এবং বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বছরের শেষের দিকে এটি কমতে শুরু করবে।
শুক্রবার (৭ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে জাতীয় বাজেটের আকার কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর বিকল্প নেই: অর্থমন্ত্রী
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ শতাংশ, ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ শতাংশে। কিন্তু সরকার দুই বছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরবর্তী দশকে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে।’
আপাতত সংকোচনমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা আরও কী করতে পারি তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।’
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার (৬ জুন) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নে ২০ প্রকল্পের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর
সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ছাড়া বাকিরা সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন। গভর্নর অংশ নিলে সাংবাদিকরা সংবাদ সম্মেলন বর্জন করবেন বলে জানান। এরপর তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
আরও পড়ুন: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' রূপকল্প তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী
৭২২ দিন আগে