হাওর
হুমকির মুখে হবিগঞ্জের খোয়াই প্রতিরক্ষা বাঁধ, নদীর পাড় উপচে হাওরে ঢুকছে পানি
হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি উজানে হ্রাস পেলেও ভাটিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের হুমকি দেখা দিয়েছে। পানির চাপে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে বাঁধ। হালকা ফাটল ও ছিদ্র হয়ে চুইছে পানি।
প্রতিরক্ষা বাঁধের অপর পাশে থাকা বানিয়াচং উপজেলার মকরমপুর ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় নদীর বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে ওই উপজেলার মকরমপুর ও সুজাতপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাওরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে হাওরে কোনো ফসল না থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা কম রয়েছে।
এদিকে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌর এলাকার দানিয়ালপুর যশের আব্দা, কামড়াপুর এলাকায় শতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কৃষ্ণধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ১১৮ সেন্টিমিটার ও শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী বাল্লায় খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার ও হবিগঞ্জ শহরতলীর মাছুলিয়া এলাকায় ১২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শহরের প্রতিরক্ষা বাঁধ মোটামুটি ভালো আছে। তবে শরতলীর ভাদই এলাকায় বাঁধের কিছু স্থান ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে জিও ব্যাগ ও বালু দিয়ে মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বানিয়াচং উপজেলার রাধানগর গ্রামে খোয়াই নদীর তীর উপচে বন্যার পানি হাওরে প্রবেশ করছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বৃষ্টিপাত কমছে জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজানে বৃষ্টি কমায় আশা করা যাচ্ছে, আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার দিকে হবিগঞ্জেও খোয়াই নদীর পানি কমবে।
৭ ঘণ্টা আগে
হাওরে ফসলহানি: ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে পায়নি মানবিক সহায়তা, তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের ‘ঘনিষ্ঠজনেরা’
গেল মার্চের স্বস্তির বৃষ্টি অতিবৃষ্টিতে রূপ নিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গোটা হাওরাঞ্চল। দেড় মাসের টানা বৃষ্টিতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জের লক্ষাধিক কৃষক পরিবার। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে হাওরাঞ্চলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকই সরকারি মানবিক সহায়তার চাল ও নগদ অর্থ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কিংবা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৬৪ হাজার ৩৮৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৪ হাজার ৬৩০, বিশ্বম্ভরপুরে ২ হাজার ৪৬৬, জামালগঞ্জে ৫ হাজার ১০৩, শান্তিগঞ্জে ২ হাজার ৭০৩, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৫৯, ছাতকে ১ হাজার ৯৪, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬, জগন্নাথপুরে ৩ হাজার ৬০৩, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৪০, শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫, ধর্মপাশায় ৫ হাজার ৪৩৪ এবং মধ্যনগরে ৭ হাজার ২৭১টি পরিবার রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে বড় একটি অংশের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এলাকায় বসবাস করেন না, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং পছন্দের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়নে সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৮২ জনের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনকি জমিজমা নেই বা বোরো আবাদই করেননি—এমন ব্যক্তিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই একই ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে।
গোপালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কালীকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জমি করছিলাম ১৫ কিয়ার। আমার ৮ কিয়ারের ক্ষতি হইছে। এইডি এক্কেবারে তলাইয়া গেছে, কাটতে পারছি না। আমারে কিচ্ছু দিছে না, অথচ আমরার গ্রামের যারার ক্ষতি হইছে না, তারারে দিতাছে। আমরার ওয়ার্ডের মানিক মেম্বারে দেইখ্যা দেইখ্যা নাম দিছে। আমার নাম নাই।’
গত ২১ জুন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগ দেন। ১০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগে গ্রামের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ১২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়।
ওই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. তুরুক মিয়া বলেন, ‘যে সাহায্য আইছে, এইডা মনে করৌক্কা যেরা পাইতো এরা পাইছে না। যেরার খেত নাই, এরা পাইছে। এক বাড়িতে তিন-চাইট্টা নাম। কোনো জমিজমা করছে না। এরার হাবিগোষ্ঠী লন্ডন। কিন্তু ক্ষতি হইলেও আমরার নাম নাই।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল বোরো মৌসুমে জেলার ছোট-বড় ১৯৩টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ হলেও প্রায় ৪ লাখ কৃষক চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষকের ৪৩ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০১ টাকা। চালের হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭ টন।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব সহায়তায় প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয় না। এগুলো কৃষকের নাম ভাঙিয়ে ফাঁকিবাজি ছাড়া কিছুই না। এসব বাদ দিয়ে কৃষকদের ফসল বীমার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, ইউএনওর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগ মিলে মানবিক সহায়তার তালিকা করা হয়েছে। এককভাবে কেউ তালিকা করেনি। ভুলত্রুটি হলে উপজেলা কমিটি খতিয়ে দেখবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকে হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
১ দিন আগে
সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান
অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।
৬৫ দিন আগে
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।
রবিবার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সহায়তা পাবেন।
আগামী ৬ মে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য সুনামগঞ্জ সফরে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০১টি অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল দোকানের মালামাল, ভ্যানগাড়ি, গরু এবং সেলাই মেশিন।
৬৭ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল, কাঁদছে কৃষক
গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানীতে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। এর ফলে শালদিঘা হাওরের হাজারো কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকে উপচে পড়া পানির প্রবল চাপে ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যেতে শুরু করে, ফলে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও কৃষকরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইল্যানী উপপ্রকল্পের ২০ নম্বর পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শালদিঘা হাওরের কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনও কাটা হয়নি। যদি বাঁধটি আটকানো না যায়, তাহলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
একই এলাকার কৃষক রনি তালুকদার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, কাটলেও শুকাতে পারছি না। এর মধ্যে আবার বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম বিপদে আছি।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাউবোর এসও ও পিআইসি সভাপতির যোগসাজশে বাঁধে দুর্নীতি হয়েছে। বাঁধের উচ্চতা কম হয়েছে, স্লোপ কম ছিল। এ কারণে হাওরের সর্বনাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, এই বাঁধের অন্য অংশের চেয়ে এই অংশ নিচু হয়েছে। এ কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তেই এদিক দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, সকালে বাঁধের ভাঙনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩০-৩৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছি। স্থানীয় কৃষকরাও চেষ্টা করছেন। পিআইসির সভাপতি লাল মিয়াকে কমপক্ষে ১০০টি ফোন দেওয়ার পরে রিসিভ করে বলেন, সাড়ে ৯টায় আসবেন। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই।
পিআইসির সভাপতি মো. লাল মিয়া চামরদানি ইউনিয়ন বিএনপির চার নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি। তিনি জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে বাঁধটি নিচু হয়ে যায়। বাঁধ রক্ষার জন্য সারা রাত ঘটনাস্থলে ছিলাম। সকাল থেকে অন্য পাশে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সেখানে যেতে পারিনি।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, শালদিঘা হাওরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ধান পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। বাঁধ রক্ষায় ভোর থেকেই কাজ করছি। আশা করছি, বাঁধটি পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
৬৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সড়ক ভেঙে ডুবছে হাওর, দুশ্চিন্তায় কৃষক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার এরনবিল (ইকরাছই) হাওরে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর হয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে মনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হামিদপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে এই পানি হাওরে প্রবেশ করছে। এতে এখনও হাওরে থাকা জমির ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইকরাছই হাওরে মোট ১১৪ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে কৃষকরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হেক্টর জমির ধান সফলভাবে ঘরে তুলেছেন। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বর্তমানে হাওরের বাকি ধান রক্ষা করাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওর এলাকার কৃষকরা জানান, পাহাড়ি ঢল আসার সময়টি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ায় তারা আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। সড়ক ভেঙে পানি ঢোকায় এখন অবশিষ্ট পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী যৌথভাবে ভাঙন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, যে সড়কটি ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে, সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাঁধ নয়, এটি একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকা দিয়ে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের কারণে মনাই নদীর পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে সড়কটির একটি অংশ ভেঙে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদিও অধিকাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে, তবুও অবশিষ্ট ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় জনতা ও প্রশাসন মিলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
৭২ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত, হাওরে ধান কাটার সময় সতর্কতা জারি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েন তারা।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুর কাদিরের ছেলে জমির উদ্দিন (৪০) এবং একই উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের কায়িদ হোসেনের ছেলে জমির হোসেন (৪২)।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ (সোমবার) দুপুরে আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আসে, জমির উদ্দিন তখন অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে আব্দুল্লাহপুর গ্রামের দেখার হাওরে ধান কাটছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে গৌরারং ইউনিয়নের বৈটাখালি গ্রামের বাসিন্দা জমির হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্রামের নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়াও, সুনামগঞ্জের পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাতে প্রাণহানির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন হাওরে কর্মরত কৃষকদের দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে সতর্ক থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা জায়গা বা হাওর থেকে দ্রুত নিরাপদ পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
৭৩ দিন আগে
বন্যার ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে দ্রুত ধান কাটার তাড়া
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে ২৮ এপ্রিল থেকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাসে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দ্রুত পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার তাগিদ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর আগামী ৭ দিনের (২৩ এপ্রিল হতে ৩০ এপ্রিল) বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২৪-২৬ এপ্রিল হালকা থেকে মাঝারি, ২৭ এপ্রিল মাঝারি হতে ভারী এবং ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
উক্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বৌলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং ২৮ এপ্রিল থেকে নদীগুলোর কোথাও কোথাও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি সমতল বিপদসীমার ১ দশমিক ৭৬ মিটার বা ৫ দশমিক ৭৭ ফুট নিচে রয়েছে। ফলে ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে কৃষকদের যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পাকা সেসব জমির ধান দ্রুত কাটার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ধান কেটে বাড়িতে এনে মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা, শ্রমিক সংকট, ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির বিষয়গুলো তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বছরই সময়মতো বাঁধ নির্মাণ শেষ না হওয়া ও অনিয়মের কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। ‘হাওর বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতারাও একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ হলেও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে পাউবো জানিয়েছে, চলতি বছর ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০৩ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, ধান ভালো হলেও এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা বাঁধের স্থায়িত্ব।
আঙ্গারুলি হাওরের কৃষক জমির মিয়া বলেন, ‘ফসল ভালো, কিন্তু বাঁধ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না।’
খরচার হাওরের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, ‘ধান কাটছি, তবে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ না ভাঙলেই বাঁচি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। আশা করছি, কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে তারা যেন দ্রুত কেটে ফেলেন। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।
৭৫ দিন আগে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে, শত একর বোরো ধান হুমকিতে
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে আকস্মিকভাবে বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকছে। এতে শত শত একর জমির আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, হাওরের গুজাউনি বাঁধের একটি অংশ ভেঙে দ্রুতগতিতে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে চলে যেতে শুরু করেছে। অসহায় কৃষকরা বাঁধের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে দেশবাসীর কাছে সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধসংলগ্ন একটি বিলের ইজারাদার মাছ আহরণ শেষে বাঁধটি যথাযথভাবে মেরামত না করে দুর্বল অবস্থায় রেখে দেন। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং এলাকাবাসী বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালান।
ওই এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, এই হাওরে আমাদের কয়েক হাজার একর জমি রয়েছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাবে।
তিনি আরও জানান, উথারিয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব হতো।
আরেক কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, বিলের মালিক সঠিকভাবে বাঁধ সংস্কার না করায় পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। এখন পাউবো ও এলাকাবাসী মিলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১০০টি জিও ব্যাগ ও বাঁশ ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। এখন পানি প্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করি ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।
এদিকে, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, দেখার হাওরের এই বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নয়। তবুও ফসল রক্ষায় বাঁধটি মেরামতের জন্য আমাদের একটি টিম এলাকায় কাজ করছেন।
৮৭ দিন আগে
সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, হাওরে আশঙ্কায় কৃষক
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
এ অবস্থায় ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া পিআইসি সদস্যরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় ৯টি হাওরের বাঁধের কাজ সোমবার পর্যন্ত গড়ে ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া—এই ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এসব হাওরে ধর্মপাশায় ৯৩টি এবং মধ্যনগরে ৪১টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিরা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল এবং মধ্যনগরের ঘোড়াডোবা, গুরমা ও কাইলানী হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ চলমান, আবার কয়েকটি বাঁধ নিম্নমানেরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর উপজেলার কাইলানী হাওরের ১৩ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাঁধটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৯৫ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ভেকু মেশিন নষ্ট থাকার কারণে ও টাকার অভাবে কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধারদেনা করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন লাগবে।’
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৩৯ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকাই পেয়েছি। ধারদেনা করে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছি। এখন পাওনাদারদের টাকা দিতে না পারায় বাঁধে যেতে পারছি না, নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়মতো কাজ শেষ না হলে এবার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সদর ইউনিয়ন সভাপতি বিপ্লব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন না। অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং ঘাস লাগানো হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অংশ ধসে পড়ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘অর্থের অভাবে অনেক পিআইসি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’
১১২ দিন আগে