হাওর
চাষের আওতায় আসছে হাওরের ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমি
সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় কৃষির উন্নয়নে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পতিত জমি চাষাবাদ, খাল-পাহাড়ি নালা খনন, হাওরের গোপাট পাকাকরণ, কৃষক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম শেষ হবে ২০২৯ সালে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ১৭ হাজার ১৯ হেক্টর পতিত জমির সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে প্রায় ৫১ হাজার ৫৮ টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলা করে পানি সংরক্ষণ ও এর সঠিক ব্যবহার করে কীভাবে চাষাবাদ করতে হয়, তা শিখবেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে করে ধান এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনও বাড়বে। বাস্তবায়িত প্রকল্পে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাল ও পাহাড়ি নালা খননের ফলে মাছেরও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো ও পানির সঠিক ও টেকসই ব্যবহারও নিশ্চিত করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৫ হাজার ৩৩৯ হেক্টর ভূ-উপরিস্থ জমির পানি এবং ১ হাজার ৬৮০ হেক্টর ভূগর্ভস্থ জমির পানিতে সেচ সরবরাহে জুন মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষক সক্ষমতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়াতে খাল খনন, রাবার ড্যাম, রেগুলেটর সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি গভীর নলকূপ স্থাপন ও কৃষক সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরসিসি গোপাট নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় খুশি কৃষকরা। গোপাট নির্মিত হলে কৃষকরা সহজে বোরো মওসুমে নৌপথে ও গাড়িতে করে হাওর থেকে ধান বাড়িতে নিয়ে আসতে পারবেন। এতে তাদের সময় ও অর্থ অপচয় কম হবে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে হাওর জেলা সুনামগঞ্জে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে খনন করা হবে ৭০ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা, ১০টি গভীর নলকূপ স্থাপন, ৩০টি পুরাতন স্কিম সংস্কার, ১৫টি কালভার্ট নির্মাণ, দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ, ৪টি গোপাট নির্মাণ এবং প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রকল্পে চার জেলায় ২২১ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি নালা খনন এবং ১০৫ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি ছড়া সংস্কার করা হবে। খননের ফলে খালের পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং বন্যা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সঞ্চিত পানি দিয়ে আমন ও রবি মৌসুমে সম্পূরক সেচের ব্যবহার করা হবে। এতে ২ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার হবে।
উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হাওর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা খাল, নালা, পাহাড়ি ছড়া পুনর্খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে আগাম বন্যা থেকে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমি রক্ষা পাবে এবং ৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন নির্মাণের ফলে ১৬৭ হেক্টর জমির স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে ৮ হাজার ৬৭ হেক্টর বোরো জমির প্রায় ২৪ হাজার ২০০ মে.টন ফসল সুরক্ষা পাবে।
এ ছাড়াও প্রকল্পে ১১০টি ৫-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ২-কিউসেক এলএলপি, ৮টি ১-কিউসেক এলএলপি, ৪০টি ১.৫-কিউসেক ফোর্সমোড পাম্প স্থাপনসহ ৩৬৭.৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ০.৫-কিউসেক উচ্চ হেডের পাম্পের সাহায্যে ২০টি স্প্রিঙ্কলার সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ, ৪০টি আর্টেশিয়ান নলকূপ স্থাপন এবং ৫টি ফোর্সমোড নলকূপ পুনর্বাসন করে ১০ হাজার ৩২ হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় চলে আসবে। প্রকল্পে ৮০টি ওয়াটার পাস, ক্যাটল ক্রসিং, ফুট ব্রিজ, পাইপ স্লুইসসহ ক্ষুদ্রাকার সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ১০টি রেগুলেটর, সাবমার্জড ওয়ার, ক্রস ড্যাম, সাইফন, কনডুইট নির্মাণের মাধ্যমে মধ্যমাকার সেচ অবকাঠামো করে প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি আধুনিক সেচের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাছাড়া বৃষ্টি ও বন্যার পানি সংরক্ষণ, নিষ্কাশন, চলাচলে ৯০টি অবকাঠামো ব্যবহার করে কৃষকরা সহজে হাওর থেকে ফসল পরিবহন করতে পারবেন।
কৃষকদের ফসল পরিবহনে অন্তত ১০ কিলোমিটার গোপাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পে ৯শ মেকানিক, ম্যানেজার, অপারেটর, ফিল্ডসম্যান, কৃষক ও কৃষাণীকে সেচ ব্যবস্থাপনা, সেচযন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ, খাদ্যশস্য ও বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবজি উৎপাদন বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষিতে বিশেষ দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কঠোর নজরদারির দাবি হাওর আন্দোলনের
কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী এই পদক্ষেপকে হাওর আন্দোলনের নেতাসহ কৃষকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানিয়েছেন যে ড্রেন, কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণ এবং খাল খননে যেসব ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিম্নমানের কাজ করেন। খাল খনন না করেই বরাদ্দ লোপাট করার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। ড্রেন নির্মাণের পর ১ বছর না যেতেই ধসে পড়েছে। কালভার্ট ও রেগুলেটর নির্মাণেও অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হয়েছে। তাই এসব কাজ যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, বিএডিসি সরকারের কৃষি উন্নয়নের আদি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, তা যুগান্তকারী। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, নাহলে সরকারি বরাদ্দের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হবে এবং কৃষিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা ও হাওরের গোপাট নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে কথা বলা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, হাওরের গোপাট পাকা করা হলে কৃষক সহজে নৌপথে ও সড়কপথে ধান পরিবহন করতে পারবে। এতে খরচ ও সময় বাঁচবে। তবে প্রকল্পের খাল, পাহাড়ি নালা খনন ও সংস্কার, রেগুলেটর ও কালভার্ট নির্মাণে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এসব কাজে প্রচুর অনিয়ম হয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জসহ চার জেলায় কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে।
সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব বলেন, প্রায় ৫ বছরের চেষ্টার পর প্রকল্পটি চলতি অর্থবছর থেকে শুরু হয়েছে। প্রকল্পে খাল-পাহাড়ি নালা খনন, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, গোপাট নির্মাণ, পুরাতন প্রকল্প সংস্কার, গভীর নলকূপ স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে। প্রকল্পে যাতে কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা না হয়, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।
৪ দিন আগে
বর্ষাকালেও হাওরে পানি নেই, ঋণের টাকায় নৌকা বানিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
সুনামগঞ্জের হাওরের মানুষ এখনো বলে, ‘বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও’, অর্থাৎ বর্ষাকালে নৌকা, শুকনোর সময় পা-ই ভরসা। কিন্তু এই বর্ষায় প্রবাদটির অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। কারণ, হাওরে এখনো বর্ষা-বর্ষা ভাবটাই যে আসেনি!
বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে হাওরে এখনও আশানুরূপ পানি আসেনি। ফলে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া নৌকার হাটে বর্ষাকালেও চলছে ক্রেতা-খরা।
প্রায় তিন যুগ পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট বসে প্রতি শুক্রবার। হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ, জীবিকা ও কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে বজরা, হিল্লা, পাতামী ও বারকীসহ নানা ধরনের নৌকা কেনাবেচা হয় এখানে। অথচ এ বছর এখনও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় শীত-গ্রীষ্মে শুকিয়ে যাওয়া নদী, খাল-বিল এখনও পানিশূন্যতায় ধুঁকছে। ফলে হাওর এলাকায় নৌকার প্রয়োজন এখনও সেভাবে না দেখা দেওয়ায় বাজারেও রয়েছে ক্রেতার অভাব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারজুড়ে ৩-৪ শ’ নৌকা সাজানো রয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই প্রতিবারের মতো নেই বেচাকেনার ধুম। ব্যবসায়ীরা দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু দাম ও পানির অভাবে তেমন সাড়া মিলছে না।
জানা যায়, এ বছর নৌকা তৈরির উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঠের দাম বেড়ে গেছে আগের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। একেকটি লম্বা নৌকা বানাতে যেখানে আগে খরচ হতো ৯ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।ি
আরও পড়ুন: গড়াই-তীর দখল করে চলছে অবৈধ নির্মাণ, নীরব প্রশাসন
বর্তমানে বারকী নৌকা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকায়, পাতামী নৌকার দাম সেখানে ১৩ থেকে ১৫ হাজার, আর খিল্লা নৌকা পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। তবুও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলেও লাভ খুব বেশি হচ্ছে না। কারণ, উচ্চমূল্যে মানুষ নৌকা কিনছে না।
তাদের দাবি, ভরা মৌসুমে এই হাটে যেখানে গড়ে ১২০০ নৌকা বিক্রি হতো, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০০টিতে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টি নৌকা, যা আগের তুলনায় অনেক কম। নৌকার পাশাপাশি বৈঠার বাজারেও লেগেছে ধাক্কা।
আজমিরীগঞ্জ থেকে আসা বাছির মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে একেক হাটে ১ হাজার থেকে ১২০০ বৈঠা বিক্রি করতাম, এখন তা কমে এসেছে ২ থেকে ৩ শ’তে।
৬ হাতের বৈঠা আগে যেখানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ছিল, এখন তা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নৌকা বাজার ঘিরে এই অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। কারিগর, কাঠ ব্যবসায়ী, বৈঠা বিক্রেতা, পরিবহন শ্রমিক ও ইজারাদারসহ অনেকে এই কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আষাঢ় মাস শেষ হতে চললেও এখনো বৃষ্টির পানিতে সুনামগঞ্জের নদী, খাল-বিল ভরে ওঠেনি। এদিকে, কেউ কেউ এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা বানিয়ে থাকেন, নৌকার বাজারে জোয়ার না আসায় তারা এখন পড়েছেন আর্থিক চাপে।
শান্তিগঞ্জের রনশি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়া বলেন, ‘এ বছর পানি নেই, তাই ৭০টা নৌকা বানিয়েছি। অথচ, আগে বানাতাম দেড়শ-দুইশটা। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০টা নৌকা বিক্রি হয়েছে। সারা দিন বসে থেকেও আশানুরূপ বিক্রি হয় না। ব্যাংক থেকে ঋণ করে নৌকা বানিয়েছি, অথচ লাভ তো দূরে থাক, ঋণ পরিশোধ করাই এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন: সাঁকো ভেঙেছে এক মাস, সাঁতরে নদী পার হচ্ছে ৮ গ্রামের মানুষ
অন্যদিকে, ক্রেতাদের মনেও একই রকমের হতাশা বিরাজ করছে। হাটে আসা বরকাপন গ্রামের আজমান আলী ও রনশী গ্রামের আখলিস আলী বলেন, মাটি কাটা, মাছ মারা, ঘাস কাটা—সব কাজে নৌকা লাগে। কিন্তু পানি না থাকায় কাজও হচ্ছে না, তাই নৌকা কেনা হচ্ছে না। তার ওপর দাম বেশি, তাই হাত গুটিয়ে আছি।
বাজারের ইজারাদার মুরাদ চৌধুরী ও সামছুদ্দিন সুনু বলেন, সাধারণত এক মৌসুমে যদি অন্তত ৫টি শুক্রবার ভালো বেচাকেনা হয়, তাহলে আমাদের লাভ চলে আসে। সেখানে এ বছর মাত্র এক সপ্তাহে কিছুটা বেচাবিক্রি হয়েছে, বাকি প্রতিটি হাটেই আমাদের নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে সামনে পানি বাড়লে নৌকাও বিক্রি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা বলেন, ‘আক্তাপাড়া নৌকার হাট এই উপজেলার ঐতিহ্য। এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সম্প্রসারণে কোনো সমস্যা হলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব। বাজারে সোলার লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে; পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনাও আছে। কিন্তু বৃষ্টির ওপর তো আমাদের হাত নেই!’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে কিছুদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে নৌকা বিক্রি বাড়বে। আর ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্বস্তি ফিরবে।’
১৭৮ দিন আগে
হাওরে ইজারা বন্ধ করতে হবে: মৎস্য উপদেষ্টা
প্রকৃত মৎস্যচাষীদের স্বার্থে হাওরে ইজারা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, কোনো হাওরে ইজারা থাকা উচিত নয়; হাওর ওই অঞ্চলের মানুষের অধিকার, আর তা রক্ষা করতে হবে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯: হাওর অঞ্চলে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
হাওরের মালিক মূলত কে, উপদেষ্টা বলেন, ‘আসলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাওরগুলো রয়েছে। যদিও অধিকাংশ হাওর এলাকা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিয়ে দেওয়া হয়েছে; যারা শুধু ইজারা দিয়ে এখান থেকে রাজস্ব আহরণ করে।’
‘হাওরকে ঘিরে একটা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। হাওর অঞ্চলের ২৯ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন,’ বলেন ফরিদা আখতার।
উপদেষ্টা বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, তাকে বলা হচ্ছে অল ওয়েদার সড়ক। পরে জানা যায় যে, সব ঋতুতেই এই সড়ক সহনশীল। অথচ এই রাস্তা তৈরির মাধ্যমে এরইমধ্যে ওই এলাকার নিদারুণ ক্ষতি হয়ে গেছে।’
‘মাছ ধরার জন্য এরইমধ্যে আমরা কারেন্ট জাল বন্ধ করেছি। কিন্তু বর্তমানে চায়নাদুয়ারী নামক জালে মাছ ধরা হচ্ছে। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করা হবে। জাল হবে মৎস্যজীবীদের একটা উপকরণ, অথচ এই জাল হয়ে গেছে একটি অবৈধ জাল। প্রকৃত জেলেরা এসব অবৈধ জাল ব্যবহার করেন না। কিছু মৌসুমী মৎস্যজীবীরা এসব জাল ব্যবহার করা থাকেন,’ যোগ করেন তিনি।
উপদেষ্টা হাওর রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘এর ফলে বিলুপ্ত হওয়া মাছগুলো ফিরে আসতে পারে। সুতরাং জৈবিক ব্যবস্থাপনা হবে হাওর রক্ষার একটা মূল পদক্ষেপ।’
হাওরে অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘হাওরের বিল ইজারা প্রায়ই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহাজনদের হাতে যায়; যার ফলে সাধারণ মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হয়। মৎস্যজীবী সমিতির নামে হাওর ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকরা থাকেন। তাই হাওর বিল লিজ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে প্রকৃত সাধারণ মৎস্যজীবী বা মৎস্যচাষীরা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর আহ্বায়ক রাশেদা কে. চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, সাবেক সচিব ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
আরও পড়ুন: এখনই ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে যেতে চান না মৎস্য উপদেষ্টা
এতে আরো বক্তৃতা করেন বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, হাওর সংস্কৃতি অধ্যয়ন এবং গবেষণা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সজল কান্তি সরকার, মানবাধিকার কর্মী জাকিয়া শিশির, হাওর উন্নয়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. এম মোখলেসুর রহমান। এসময় হাওর অঞ্চলের ভুক্তভোগী আহ্লাদ খান, অঞ্জনা বিশ্বাস, বোরহান উদ্দিন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্য সচিব শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় হাওর অঞ্চলে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে উপস্থাপনা করেন অ্যাসোসিয়েটস ফর ইনোভেটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এআইআরডি)-এর পরিচালক আব্দুল হাই চৌধুরী।
২৫৮ দিন আগে
হাওর রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: মৎস্য উপদেষ্টা
হাওর রক্ষায় কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে হাওর অঞ্চলে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই বলে মত দেন তিনি।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে ‘বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের সাথে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় পাখি শিকার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরণের শিকার নির্মম, অমানবিক, প্রাণবৈচিত্র্যসহ সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য ক্ষতি।’
আরও পড়ুন: দেশ থেকে সার সংকট জাদুঘরে পাঠানো হবে: কৃষি সচিব
মৎস্য উপদেষ্টা জানান, বাইক্কা বিল রক্ষার জন্য অভয়াশ্রম করা হয়েছে। বিদেশি সহায়তা নির্ভর না হয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নিজস্ব অর্থায়নে অবিলম্বে দাদুরিয়া বিল খননের উদ্যোগও গ্রহণ করা হবেও আশ্বাস দেন।
‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের কাজগুলো অভয়াশ্রম রক্ষায় বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিল রক্ষায় মৎস্য কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে কাঙ্ক্ষিতভাবে অভয়াশ্রম রক্ষায় কাজ করা কঠিন হবে। কালচারাল (নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ উৎপাদন) মাছের ওপর নির্ভর করে চলতে চাই না,’ বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের জন্য নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ৫ আগস্টে শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্প গ্রহণ করে তাদের সহায়তায় কাজ করে যাবে।’
এর আগে শ্রীমঙ্গলের হাজীপুর এলাকার বাইক্কার বিল মৎস্য অভয়াশ্রম সংলগ্ন পাড়ে হিজল গাছ রোপন করেন তিনি।
৩২৭ দিন আগে
কোম্পানীগঞ্জে হাওর থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার
সিলেট কোম্পানীগঞ্জের ইছাকলস ইউনিয়নের হাওর থেকে আতাউর রহমান আতাই (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বিলেরখড় হাওর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আতাউর রহমান পুটামারা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার মৃত বশির মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে পুটামারা বাজারে যান আতাউর। তারপর থেকে আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে বোরো খেতের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তাকে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
৩৮৪ দিন আগে
হাওরে ইজারা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
হাওরে ইজারা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা নষ্ট করে ইজারা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকায় সমস্যা আছে, দয়া করে আপনারা আমাদের জানাবেন। আমরা সেখানে যাব এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এএলআরডি, বারসিক ও বেলা’র আয়োজনে হাওরের প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ, জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ‘জাতীয় হাওর সংলাপ ২০২৪’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
হাওর জীববৈচিত্র্যের আধার উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলে ১৪৩ প্রজাতির দেশি ও ১২ প্রজাতির বিদেশি মাছ রয়েছে। কয়েক প্রজাতির মিঠা পানির চিংড়িসহ বিভিন্ন ছোট-বড় মাছ, শামুক, ঝিনুক রয়েছে। আরও রয়েছে- দেশের মোট গবাদি পশুর ২২ শতাংশ, হাঁস ২৪ শতাংশ, ১২৯ দেশীয় ও ১২৮ প্রজাতির বিদেশি পাখি, ২৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণি, ৪০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং কয়েক প্রজাতির ধান।
উপদেষ্টা আরও বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর চাষের মাছ নিয়ে খুব বেশি বলা হতো। এছাড়া দেশি মাছের কথা বললেই হাওরের মাছের কথা চলে আসে। অন্যদিকে যখন মৎস্যজীবীর কথা বলা হয় তখন প্রকৃত মৎস্যজীবী, অরিজিনাল মৎস্যজীবী- এরকম কথা চলে আসছে। এর মানে হচ্ছে এ পেশায় অনেকেই অন্যায়ভাবে প্রবেশ করেছে। যারা সত্যিকারের মৎস্যজীবী তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ৪৭ লাখ সুবিধাভোগীর স্মার্টকার্ড করতে ডিসিদের সহায়তা চাইলেন উপদেষ্টা
তিনি বলেন, হাওর নিয়ে সবসময় টানাটানি হয়, মন্ত্রণালয়গুলো কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। হাওর রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।
এছাড়া হাওর রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, হাওরে যেমন মাছ ও ধান আছে, তেমনি প্রাণিসম্পদও রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে হাওরে উফসি ও হাইব্রিড ধানে কীটনাশক ও হার্বিসাইড ব্যবহারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। মেশিন দিয়ে ফসল কাটা হচ্ছে। এই মেশিন হাওরে নামার ফলে মাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছড়া আমি কৃষি উপদেষ্টাকে জানিয়েছি- মা মাছ রক্ষার্থে হাওরের ধানে যেন কীটনাশক না দেওয়া হয়।
মানবাধিকারকর্মী ও এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, শেয়ার দ্য প্ল্যানেট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তেৎসু চুচুই, বেলা’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি ড. লেলিন চৌধুরী, অধ্যাপক আফজালুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রধান মো. বেলাল উদ্দীন বিশ্বাস প্রমুখ।
এছাড়া সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাওরাঞ্চলের কৃষক, জেলে, আদিবাসী, হাওরের স্থানীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিক, উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে কাজ করবে নয়া দিল্লি: প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব
৩৮৮ দিন আগে
পর্যটকে মুখরিত হাওর; দুই মাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশায় ব্যবসায়ীরা
তিন দফা বন্যা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে প্রায় দুই মাসের মতো বন্ধ ছিল সুনামগঞ্জের হাওরের পর্যটন ব্যবসা। বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল পর্যটন ব্যবসায়ীদের। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুর সীমান্তের কাছে পর্যটন এলাকাগুলোতে। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের কয়েকটি পর্যটন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিখ্যাত জলরাশির হাওরের দিকে ছুটছেন অনেকে। পর্যটকদের আগম বাড়তে থাকায় দুই মাসের ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে শুরুর সাহস পেয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও নিকটবর্তী এলাকার ১০টি ঐতিহাসিক মন্দির
হাওরের বুকে ঘুরে বেড়ানো হাউজবোটগুলোর মালিকরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গেল ২ মাস পর্যটক আসেনি হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। এ কারণে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যটকের উপচে পড়া চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ২ মাসের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ভরসা পাচ্ছেন তারা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় দেশের ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের পর্যটন এলাকাগুলোতে যাওয়ার সুযোগ মেলেনি। অন্যদিকে গেল ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৩ দিন বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে প্রশাসন। এতে ভ্রমণপ্রিয় মানুষরা হাওরকেই বেছে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: হাকালুকি হাওর ভ্রমণ: এক নিঃসীম জলজ মুগ্ধতা
হাউজবোট মালিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই হাউজবোটগুলো অগ্রিম বুকড হয়ে গেছে। শিডিউল মেনে ট্যুর পরিচালনা করতে হচ্ছে।
৪৪৩ দিন আগে
বাংলাদেশের হাওর-উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে: ইইউ রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশের হাওর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি।
তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও মানবিক বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হলেও হাওর ও উপকূলীয় এলাকার মতো দেশের অনগ্রসর অঞ্চলগুলোতে অতিদারিদ্র্যের হার এখনও বেশি। তাই এসব স্থানে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।
রবিবার (১৪ জুলাই) পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন পিপিইপিপি-ইইউ প্রজেক্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার ও ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পিকেএসএফের বাস্তবায়নে ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল– ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (পিপিইপিপি-ইইউ)’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
হোয়াইটলি আরও বলেন, গত বছর ইইউ ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে। পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পটি এ সম্পর্কেরই একটি প্রতিফলন।
কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, ‘গত দেড় দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এর পেছনে সরকারের বিভিন্ন গণমুখী, সময়োপযোগী পদক্ষেপের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।’
মুখ্যসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অতিদারিদ্র্য নিরসন এবং এ লক্ষ্যপূরণে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই কার্যক্রম নেওয়ার বিকল্প নেই।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নমিতা হালদার।
পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পকে একটি অভিনব প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করে ড. নমিতা হালদার বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও লবণাক্ততার প্রকোপ মোকাবিলার মতো কঠিন বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করা সম্ভব যা একই সঙ্গে সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে পিকেএসএফের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অগ্রগতি আশানুরূপ তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
কর্মশালায় প্রকল্প থেকে পাওয়া সহায়তার সুফল নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
এছাড়া, ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়নাধীন পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা হয় এবং প্রকল্পবিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে গাড়ি রেখে সিএনজিতে ইইউ রাষ্ট্রদূত
'ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ'র অভিবাসন সুবিধা তুলে ধরলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত
৫৩৭ দিন আগে
গোপদিঘী হাওরে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী হাওর থেকে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
২২ ঘণ্টা পর শনিবার (৬ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে আবিদের লাশ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পরে করিমগঞ্জ থানায় লাশ হস্তান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল ৫টার দিকে মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের হাসানপুর সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে পানিতে বন্ধুরা মিলে গোসল করতে নামেন। স্রোতের বিপরীতে সাঁতরাতে গিয়ে হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যায় আবিদ।
এসময় সাঁতার না জানায় আবিদকে উদ্ধার করতে পারেনি তার বন্ধুরা। পরে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শনিবার সকাল ৭টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে আবিদের লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা মোর্শেদ খান বলেন, আবিদ গাজীপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত। তারা কয়েক বন্ধু মিলে শুক্রবার হাওর বেড়ানো শেষে হাসানপুর সেতুতে গোসলের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
করিমগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস উপসহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে ডুবুরি দল করিমগঞ্জে পৌঁছে সকালে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শনিবার বিকাল ৩টায় লাশ উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাবনায় নিখোঁজের ১ দিন পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার
মৌরিতানিয়ায় সাগরের উপকূল থেকে ৮৯ অভিবাসীর লাশ উদ্ধার
৫৪৫ দিন আগে
হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে জেলে নিখোঁজ
সিলেটের ওসমানীনগরে হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে অজিত সরকার নামের এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন।
শনিবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার বানাইয়া হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: পদ্মায় ট্রলার ডুবে গরু ব্যবসায়ী নিখোঁজ
অজিত সরকার উপজেলার সাদিপুর ইউপির লামা গাভুরটিকি গ্রামের মৃত ঠাকুরচান সরকারের ছেলে।
সাদিপুর ইউনিয়নের সচিব মারতি নন্দন ধাম অজিত সরকারের নিখোঁজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে নৌকা নিয়ে বের হন তিনি। তার ব্যবহৃত ছাতা ও নৌকার বৈঠা হাওরে পাওয়া গেলেও নৌকাসহ তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে একজন নিখোঁজের খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বৃষ্টির কারণে নৌকা ডুবে গেছে।
আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
পঞ্চগড়ে নিখোঁজের একদিন পর কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার
৫৬৬ দিন আগে