আইনমন্ত্রী
২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
৫ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনীর বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনকে চেয়েছেন আইনমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম চেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার আগে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে আসছে, সেটিই এখানে অনুসরণ করতে চান তারা। সেই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত হবে।
তিনি জানান, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা ঠিক করা হয়েছে। এতে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে।
বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদের আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে। এভাবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দল ‘সংস্কার’ চায়, কিন্তু এখানে ‘সংশোধন’-এর প্রস্তাব এসেছে। এ জায়গায় আগেও মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের অবস্থানে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তারা অপেক্ষা করতে প্রস্তুত এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তাদের আপত্তি নেই।
৬ দিন আগে
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
সামর্থ্যহীনদের আইনি সহায়তা পেতে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনের পর তিনি এসব কথা বলেন।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা-জিআইজেড বাংলাদেশ এতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া, যারা খরচ, দূরত্ব ও আইনি সচেতনতার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, কিন্তু আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তারা ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করলেই সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সরকারনির্ধারিত প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে অধিদপ্তরে উন্নীতকরণের অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, লিগ্যাল এইড সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাক। এটি প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে।
এ সময় দুজন নারীকে তাৎক্ষণিক আইনি পরামর্শ প্রদান করেন আইনমন্ত্রী। একইসঙ্গে বস্তিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারে সমতা নিশ্চিত করতে কমিউনিটিভিত্তিক আইনি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিআইজেড বাংলাদেশের বাস্তবায়নে ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস ফর উইমেন’ প্রকল্পের আওতায় প্যারালিগ্যালদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া নারী নেতৃত্বাধীন কমিউনিটি মধ্যস্থতার মাধ্যমে ৬ হাজারেরও বেশি বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে দেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব এম এ আউয়াল এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর (গভর্ন্যান্স) ও হেড অব প্রোগ্রাম মার্টিনা বুকার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানুষের কাছে আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। এসব স্থানে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেলভুক্ত আইনজীবীরা বিনামূল্যে পরামর্শ দেবেন। প্রশিক্ষিত প্যারালিগ্যালরা সেবাগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
৮ দিন আগে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে সরকার ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৫ মার্চ জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট জেলা পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনার জন্য ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, এমনকি হত্যা মামলাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা উভয় কমিটি পর্যালোচনা করবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, জেলা পর্যায় থেকে আসা সুপারিশগুলো কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১৯ দিন আগে
অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা বিচারাধীন: আইনমন্ত্রী
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসানের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের নিম্ন আদালতে মোট ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন ছিল। মামলার এই বিশাল জট দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনের জন্য সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে সরকার আশাবাদী। এছাড়া মামলার জট কমানো ও ন্যায়বিচারের মান উন্নয়নে জনগণের যেকোনো সুপারিশও আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
তিনি আরও জানান, ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮’-এ যুগোপযোগী সংশোধন আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়েছে। এতে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিক্রি জারির জন্য আলাদা মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর আওতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আসামির দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মামলার জট নিরসনে এরই মধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃষ্টি এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আরও ৫৫৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাসহ আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে সলিসিটরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আইনগত সহায়তা সেবা জোরদারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে। ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং হয়রানি কমেছে।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিয়ে ও তালাক-সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে।
১৯ দিন আগে
জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে সংসদীয় কমিটিতে ঐকমত্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে গ্রহণের সুপারিশ করতে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।
বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি প্রদানকারী অধ্যাদেশের সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি সম্পূর্ণ একমত। তিনি তাদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া নৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজও শুরু করেছে কমিটি।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি অধ্যাদেশ বিস্তারিতভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছি। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে জমা দেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য হলো সাংবিধানিক বিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংবিধান এবং জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই সংবিধানের প্রাধান্য বজায় থাকবে।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলো সরাসরি আইনে পরিণত হবে না। কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনাগুলো সংসদে পেশ করবে এবং সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে এই সুপারিশগুলো আইনে রূপান্তরিত হবে কি না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রবর্তিত আইনি পদক্ষেপগুলো বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো মূল্যায়ন ও নিয়মিতকরণের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশগুলোর পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
৪২ দিন আগে
৫ দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল কারাগারে
রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় পোশাকশ্রমিক ফজলুল করিম হত্যা মামলায় সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আনিসুল হককে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহমুদুর রহমান।
আরও পড়ুন: নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সালমান ও আনিসুলসহ ৫ জন
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাগীব নূরের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২০ নভেম্বর এ মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ফজলুল করিম। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় ৪০ জনের নামে মামলা করেন।
আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ২ দিনের রিমান্ডে
৫১৯ দিন আগে
আন্ডার গ্রাউন্ডে গেলে জামায়াত-শিবির মোকাবিলার প্রস্তুতি আছে: আইনমন্ত্রী
নিষিদ্ধের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও দলটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে মোকাবিলার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যেতে পারে। আন্ডার গ্রাউন্ডে অনেক দল গেছে। অনেক দলের কী হয়েছে, সেটা আপনারা জানেন। তবে সেটাকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি আমাদের আছে।'
আরও পড়ুন: ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন কোটা আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ক
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনও আমরা সংশোধন করার ব্যবস্থা করেছি। নিষিদ্ধ করার পরেও তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না এমনটি নয়। হয়তো নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আর সাজার মধ্যে আসবে না।
দলটির সম্পদের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, সেগুলোরও ব্যবস্থা হবে। সেটা আইনে আছে।
দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই দলের অধীনে তারা রাজনীতি করতে পারবে না। বাংলাদেশের কোনো আইনে তারা অপরাধ করলে সেটার বিচার হবে। আপনারা যদি বলেন গণহারে যারা জামায়াত ইসলামীর নতুন কর্মী রয়েছেন, ১৯৭১ এর পরে যারা জন্ম নিয়েছেন তাদের বিচার করা হবে- এরকম গণহারে বিচার করা হবে না।'
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করল সরকার
৬৪২ দিন আগে
কোটা সংস্কারে সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী
কোটা সংস্কারে সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘কোটার বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দেবে সরকার সেটা বিবেচনা করবে, সেটার প্রতিপালন করার চেষ্টা করবে।’
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেন। এরপর সাত থেকে আটজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে মামলা করেন। আজ যারা কোটা আন্দোলন করছেন, তারা তো হাইকোর্টে যাননি। হঠাৎ একদিন যখন হাইকোর্টের রায়ের কথা পত্রিকায় বের হয়েছে, তখন তারা আন্দোলনে নেমে পড়েছেন। তারা হাইকোর্টে না গিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
প্রশ্ন উঠেছে, কোটা আদালতের বিষয় নয়, সরকারের বিষয়- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আদালতে যখন একটি বিষয় যায়, তখন সরকার অপেক্ষা করে আদালত কী বলে। তারপর সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় হয়। তাই কোটার বিষয়ে সরকার আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সরকার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতকে সম্মান করবে।’
আরও পড়ুন: হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন আইনমন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারী ছাত্রছাত্রীরা চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন। আদালত মূল দরখাস্ত বিবেচনা, নিষ্পত্তিকালে তাদের বক্তব্য বিবেচনায় নেবেন। সর্বোচ্চ আদালত তাদের এ আশ্বাস পর্যন্ত দিয়েছেন। তারপরও এ আন্দোলন করার কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? আন্দোলনের যে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, এর প্রয়োজনীয়তা থাকে?’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ইনডেমনিটি আইনের ধারাবাহিকতায় আমরা কিন্তু এখন ছাত্রদের মুখে স্লোগানের কথা শুনছি। যারা আন্দোলন করছেন, তারা যদি- আমি কে, তুমি কে, আমরা বাঙালি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- বলতেন তাহলে আমি অবশ্যই বলতাম তারা সঠিক পথে আছেন।’
আনিসুল হক বলেন, ‘যৌক্তিক কথা প্রধানমন্ত্রী শুনবেন। জনগণের জন্য যেটি ভালো হয়, সেটি প্রধানমন্ত্রী করবেন, কিন্তু তার সরকার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবে না। সেই আদর্শ হলো বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’
‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ অসম্মান করতে পারবে না। এ চেতনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ এবং একটি আইনের শাসনে প্রতিষ্ঠিত দেশ হিসেবে পরিচিত করার সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাংলাদেশে বিচারহীনতার জন্ম দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দেওয়ার হাতিয়ার হয়েছিল। এই অধ্যাদেশ জন্ম দিয়েছিল- বাংলাদেশে রাজাকার, আল-বদর এবং নিজামী মুজাহিদরাই থাকবে, মুক্তিযোদ্ধারা থাকবে না।’
ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১২ই নভেম্বর এই অর্ডিন্যান্স বাতিল করে প্রমাণ করে দেন যে, বাংলাদেশের জনগণ এই অর্ডিন্যান্স সহ্য করবে না।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সংসদ সদস্য তারানা হালিম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী, বঙ্গবন্ধু গবেষক মো. হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক নেতা মানিক লাল ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রেতাত্মারা: আইনমন্ত্রী
কোটা নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য শুনে ন্যায়বিচার করবেন আদালত: আইনমন্ত্রী
৬৫৮ দিন আগে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রেতাত্মারা: আইনমন্ত্রী
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রেতাত্মারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।
শুক্রবার (১২ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল, কোটা আন্দোলনে সেই প্রেতাত্মাদের ষড়যন্ত্র অস্বীকার করতে পারব না।’
এ সময় নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন নিয়ে সর্ব্বোচ্চ আদালতের আদেশ মেনে শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যাবেন।
জানমাল রক্ষা করা এবং তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, 'সেখানে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত করে, সরকারকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।'
আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন- আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী।
৬৬২ দিন আগে