আইনমন্ত্রী
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহারে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছি।’
মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে তিনি দুটি স্পষ্ট ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা যতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হোক না কেন, তা প্রত্যাহারের আওতায় আনা হবে না। অন্যদিকে, মাদকের মামলাগুলো বিরোধীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইন দুটির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নের আগে সুশীল সমাজ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে তিন দফা মতবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। বিল দুটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর দ্রুত জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারক নিয়োগের মাধ্যমেই প্রকৃত স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খান এবং বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিচার বিভাগের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং গুমের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, নৈরাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে আইনমন্ত্রী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা সময় চেয়ে বলেন, ‘আমরা ভুল করলে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবেন। আমরা তা সাদরে গ্রহণ করব।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ কিংবা মৌলবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করব না।’
অধিকারের সভাপতি ড. তাসমিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, অধিকারের পরিচালক এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
১ ঘণ্টা আগে
সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না।
৪ ঘণ্টা আগে
মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রি-কেস (মামলাপূর্ব) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। এই উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (ইউএনবি) ঢাকায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
তিনি জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে ১ হাজার ৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন-সংক্রান্ত মামলায় ২ হাজার ১টি থেকে ৬৬১টি তে নেমে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়া, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলায় ১৭টি থেকে ২টিতে নেমে ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে নেমে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে। সব মিলিয়ে গড়ে ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের সুযোগ পাচ্ছে—এই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রশংসনীয়। এ সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান।
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে আসাদুজ্জামান বলেন, এই দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং জনসেবামূলক একটি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কার্যকর, দ্রুত ও জনবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আরও বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।
বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী ১০টি জেলায় একযোগে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলাগুলো হলো— বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ-এর বিধান অনুযায়ী এসব জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হলো। এখন থেকে উল্লিখিত জেলাগুলোতে ৭টি আইনের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের পূর্বে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
৪ দিন আগে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে: আইনমন্ত্রী
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায়, কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এরপর যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেটা বিএনপির বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট (ধারণা) থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গেছি। ১৯৯৬ সালে সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল আনা হয়েছিল। এটি এনে বিএনপি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম। সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। এবং সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম—এটা আল্ট্রা ভাইরাসের মতো কনস্টিটিউশন।’
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষিত সংবিধানের সংশোধনীগুলো বহাল রয়েছে এবং যেসব বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এক্ষেত্রে জুলাই সনদকে মুখ্য বিবেচনায় রেখে জনপরামর্শের ভিত্তিতে সংসদে সংশোধনী বিল আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা পার্লামেন্টের সামনে উপস্থাপন করব। সেখানে আমাদের এই সংশোধনীগুলো আনতে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই চার্টার। জুলাই সনদকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে, যুগোপযোগী, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য কীভাবে সংশোধনী আনা যায়, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ও জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংসদে বিল আনব।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, রায় হাতে পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও জাতীয় অঙ্গীকার। সে অনুযায়ী আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, রায়ে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট নয়, মোট ৫৪টি বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। সরকার সবগুলো বিষয়ই পর্যালোচনা করবে এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, সংসদ যে আইন প্রণয়ন করতে পারে, একইভাবে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সেই আইন বাতিল করারও ক্ষমতা রাখে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায়, জুলাই সনদ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুসারে যখন আমরা সংশোধনীগুলো আনব, হাইকোর্টের রায় আমার সামনে থাকবে। যে যে জায়গায় সংস্কার, সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জন দরকার, সব জায়গায় আমরা রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করে জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই দিয়ে আইন পাস করার চেষ্টা করব।
আইনমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করবে না।
তিনি জানান, যেসব আইন ব্যাপকভাবে জনগণকে প্রভাবিত করবে, সেগুলো প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। এজন্য খসড়া আইন প্রকাশ করে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক জনপরামর্শ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শেষ করে মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
১৫ দিন আগে
আপিল বিচারাধীন থাকলে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই: সংসদে আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি শাস্তি মওকুফ বা ক্ষমা প্রার্থনা করলে তা আইন ও সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাগেরহাট-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল’ দায়ের হওয়া মামলার রায় প্রত্যাহার বা দণ্ড মওকুফের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান মো. আব্দুল আলীম। জবাবে আইনমন্ত্রী মামলা প্রত্যাহার ও দণ্ড মওকুফ-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বিধান তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে। আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
এ সময় সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আদালতে ৪৬,৩৯,৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন
দেশে কত মামলা এখন বিচারাধীন রয়েছে—যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় বর্তমানে ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩টি দেওয়ানি এবং ২৮ লাখ ২৬ হাজার ২১৩টি ফৌজদারি। এক বছরে উচ্চ আদালতে ৬৩ হাজার ৩০৯টি এবং অধস্তন আদালতে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২১ হাজার ৬৫২টি দেওয়ানি ও ১৭ হাজার ৬১টি ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা বিচারাধীন ছিল। হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮ দেওয়ানি ও ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩ ফৌজদারি মামলাসহ মোট ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১ টি মামলা বিচারাধীন। সেই সঙ্গে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন ছিল, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি। গত এক বছরে মোট ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ২১ হাজার ৬৫২টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। দেশের অধস্তন আদালতে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি। এ মামলার মধ্যে ৫ বছরের অধিক পুরোনো মামলার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৪টি।
ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের ২০টি জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু থাকায় ওই জেলাগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই জেলাগুলোর আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করার হার ৬২ দশমিক শূন্য ৮৩ শতাংশ কমেছে। এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার আইনি বাধ্যবাধকতা পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় কার্যকর হবে।
জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের আদালতগুলোয় (গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত) ৩ হাজার ৬২৫টি অর্থ ঋণ মামলা বিচারাধীন।
সংরক্ষিত আসনের মাহফুজা হান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে ৫ জন, হাইকোর্ট বিভাগ ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদের বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন কর্মরত আছেন।
১৭ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫৯ জনের সাজা, ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা সাতটি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাকি আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোট ৮০টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৭৩টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
চলমান ৭৩ মামলার মধ্যে ২২টি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। অন্য ৫১টি মামলা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৭৪ জন। পলাতক রয়েছেন ২৮৮ জন। এ ছাড়া একজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
৩৪ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একই ধরনের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির অন্য সদস্যরাও ঘটনাটির পর সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
৪৭ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায়ে সরকার আপাতত সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আইনের প্রত্যেকটি ধাপ পেরিয়ে ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিচারে ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, এটি উচ্চ আদালতে গেলেও রায় বহাল থাকবে।’
এর আগে একই দিন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাত্র ১৭ দিনের বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হয়েছে।
বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায়ও আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় আসে।
৪৮ দিন আগে
বিচারকরা স্বাধীন বলেই এনসিপি নেতারা গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন বলেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ঝিনাইদহে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
পাশাপাশি রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার, তা করা হবে বলে পুনরায় সরকারের দৃঢ়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী। তবে সারা দেশে বিচারক এবং আইনজীবী সংকটের কারণে অনেক সময় বিচারকার্য দীর্ঘ হয়ে থাকে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইন মন্ত্রণালয় থেকে আদালত নিয়ন্ত্রণ করা হয়—এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, উনি (হাসনাত আব্দুল্লাহ) যা বলেছেন, তা আদালত অবমাননার সামিল। বিচারক বিচারকার্যে সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলেই তাদের (এনসিপি) নেতারা মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেয়েছেন।
বাংলাদেশের বিচারকরা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মামলা জট রয়েছে। কারণ, আমাদের বিচারক সংকট আছে। একইসঙ্গে আইনজীবীর সংখ্যাও কম। বিচারকাজে অংশ নেওয়ার মতো আইনজীবী বেশি না থাকায় মামলা জট কমানো যাচ্ছে না।
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যা হয়েছে, সেখানে পুলিশের দায়িত্বশীলতার কোনো ঘাটতি ছিল না। বিচারকরাও স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। কাজেই এগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা এ কথাগুলো তারা বলছেন।
এদিন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন আইনমন্ত্রী। এ সময় শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬০ দিন আগে
২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সে–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা এ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারা দেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের সুপারিশ করার জন্য চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রের পাশাপাশি এজাহার, চার্জশিটের সার্টিফাইড কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতামত পর্যালোচনা করে।
আসাদুজ্জামান বলেন, যদি দেখা যায় যে কোনো মামলা রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, জনস্বার্থে এর প্রয়োজন নেই এবং এটি চালিয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে, তবে কমিটি সেই মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে।
তিনি জানান, এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে জেলা পর্যায়ের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গত ৮ মার্চ একটি ছয় সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
৮৬ দিন আগে