রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাট এলাকায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। ঘটনাস্থলে চারজন নিহতের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান জলিল নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম (১৫), পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামাণিকের ছেলে মুনকার প্রামাণিক (৩৫), নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত রায়হান আলী জলিল (৪৫) উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝলমলিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রতিদিনের মতো কলার হাট বসেছিল। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে একজনের লাশ স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নিহতরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সারওয়ার হোসেন জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক ছেড়ে ব্যস্ত বাজার এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হান জলিলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পরে সেখানে তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে শুরু করে। এরই মধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুনলাম, তিনিও মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধারে নাটোর ও রাজশাহীর পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। কেন এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।