নদী ভাঙন
ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধের বড় অংশজুড়ে ধস, ঝুঁকিতে কয়েক গ্রামের মানুষ
ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া বাঁধের চারটি আলাদা স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস দেখা দেয়।
গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তিনটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। এর প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধের বড় একটি অংশে আবারও ধস দেখা দিল।
এদিকে, বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে চিলমারীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে ধস শুরু হয়। একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদে ধসে পড়তে থাকে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাউবো সূত্র জানায়, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে চারটি স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধের ওই অংশটি দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।
পাউবো জানায়, বাঁধের ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ থাকায় সেখানে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। ওই দুটি স্থানের মেরামতকাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যবর্তী স্থানে আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদে ধসে পড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা না হলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ দিন আগে
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পেটে ২৫০ ঘরবাড়ি; খোলা আকাশের নিচে কাটছে জীবন
তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে মাত্র দুই দিনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অন্তত ২৫০টি ঘরবাড়ি ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা হারিয়ে কাপাসিয়া, ভোরের পাখি ও লালচামার এলাকার বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে রাত-দিন কাটাচ্ছে। ঘরে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই—নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এসব মানুষের জীবন এখন মানবেতর।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই ঘরের চাল বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। সর্বস্ব হারিয়ে কেউ নদীর পাড়ে, কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নদীভাঙনে বাস্তুহারা মানুষের জন্য প্রতিদিন খিচুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির মাজেদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল বিতরণ করেছেন।
এদিকে, নদীভাঙনে শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে চলতি বছরে গাইবান্ধার চরাঞ্চলের অন্তত আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে।
চরাঞ্চলের বালুচরে একসময় যেখানে ছিল বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ-টেবিল আর শিক্ষার্থীদের কোলাহল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। ইতোমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে।
ভবন হারানো আটটি বিদ্যালয়ের কোথাও খোলা আকাশের নিচে, আবার কোথাও টিনের ছাপড়া তুলে চলছে পাঠদান। রোদবৃষ্টি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না। কোথাও একটি ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
তিস্তা নদীর ভাঙনের শিকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্কুল গেল, আশপাশের গ্রামও নদীতে চলে গেছে। আমাদের স্কুলের শিশুরা কে কোথায় চলে গেছে বলতে পারছি না। তবে এখনও চার টিনের ছাপড়ার নিচে দুই শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ক্লাস চলছে।’
নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাবেক ইউপি সদস্য রাজা মিয়া বলেন, ‘নদীতে সব চলে গেল, এখন বস্তা ফেলে রক্ষার কাজ শুরু করলেন।’
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা চরবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ জায়গা নির্ধারণের দাবি জানান।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাশ বলেন, চলতি বছরের বন্যায় চরাঞ্চলের আটটি স্কুল নদীগর্ভে চলে গেছে। আরও ছয়টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে।
২০ দিন আগে
শেরপুরে নদ-নদীতে পানিবৃদ্ধি, ভাঙনে বিলীন ৬৫ বসতভিটা
ভারী বর্ষণ থামলেও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ায় শেরপুরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া ও শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে নদীতীরবর্তী অন্তত ৬৫টি পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি স্কুল, মাদরাসা, মসজিদসহ আরও কয়েকটি স্থাপনা।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে জনপদ। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। নদীভাঙন রোধে জরুরি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে মৃগী নদীতে পানি বাড়ায় নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়া এবং শ্রীবরদী উপজেলার কেকেরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি নদীর ভাঙনে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ১০০ ফুট পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে সড়কটি রক্ষার কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃগী ও চেল্লাখালি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিধ্বস্ত সড়ক জরুরি মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁধ সংস্কারসহ রাস্তাঘাটের টেকসই উন্নয়ন করা হবে।
৭৪ দিন আগে
যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, তীব্র ভাঙনের কবলে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। কয়েকদিন আগে পানি কিছুটা কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। ইতোমধ্যে কাজিপুর উপজেলার খাসরাজবাড়ি ও চরগিরিশ, চৌহালীর চর সলিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা ও কাওয়াকোলা চর এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
যদিও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব বাহুকা এলাকায় ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে চৌহালী ও কাজিপুরের চরাঞ্চলে ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে দুই দফায় চৌহালী ও কাজিপুরে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে না পারায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া ভাঙন শুরু হওয়ার পরই শুধু জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা স্থায়ী সমাধান নয়। ফলে প্রতি বছরই একই ধরনের ভাঙনে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। স্রোতের তীব্রতা এবং নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ভাঙন অব্যাহত থাকলেও আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৮৪ দিন আগে
পানি নামতেই ভয়াল তিস্তা, এক সপ্তাহে বিলীন ৪০ ঘরবাড়ি
কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি বাড়ার পর বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনে। বরং পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা যেন হয়ে উঠেছে আরও হিংস্র।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের চর ঢুষমারা এলাকায় গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়েছে অন্তত ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। প্রতিদিনই ভাঙন এগিয়ে আসছে মানুষের ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার দিকে।
চর ঢুষমারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল সারি সারি বসতবাড়ি, উঠান আর ফসলের জমি, সেখানে এখন শুধু তিস্তার উত্তাল স্রোত। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো ভাঙন দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ বাঁশ-খুটি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউবা চেষ্টা করছেন শেষ মুহূর্তে সংসারের সামান্য জিনিসপত্র বাঁচানোর।
স্থানীয়দের ভাষায়, বন্যার পানি কমার পর থেকেই ভাঙনের গতি বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলো বাস করছে খোলা স্থানে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে কিংবা উঁচু স্থানে অস্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার চেষ্টা করছেন।
শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চর ঢুষমারা জামে মসজিদ, ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে সোলেমান, সুফিয়ান, সাবিল্লা বেগম ও রশিদ মিয়ার ঘর। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্থাপনাও বিলীন হতে পারে নদীতে।
চর ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বললেন, ‘তিস্তার ভাঙন আগেও দেখেছি আমরা, কিন্তু এবার যেভাবে এক সপ্তাহের মধ্যে এত মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেল, এমন দৃশ্য দেখিনি আগে।’
বসতভিটা হারানো বাদশা মিয়ার কণ্ঠে হতাশা, ‘পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিলীন হয়ে যাবে পুরো চর ঢুষমারা।’
‘আমরা ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া শেষ হবে না এই দুর্ভোগের’, বলছিলেন জয়নাল আবেদীন। একই দাবি জানিয়ে আবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সবাই বড় বড় কথা বলে, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। প্রতি বছর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে আমরা ক্লান্ত।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেজবাহুল রহমান জানিয়েছেন, পরিদর্শন করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, যাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেওয়া যায়।
চর ঢুষমারা এলাকার ভাঙনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলামও। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
৮৪ দিন আগে
যমুনায় হারিয়ে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো মাতল ঢালারচরের ফুটবল মাঠ
শেষ বাঁশিটি শুধু একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি; বিদায় জানিয়েছে এমন একটি মাঠকে, যা আর কয়েক সপ্তাহ পরই যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) পাবনার আমিনপুরের ঢালারচরের বালুচরে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বপ্নগ্রাম ব্রাজিল’ ও ‘স্বপ্নগ্রাম আর্জেন্টিনা’র মধ্যকার শেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘চর বয়েজ’ নামে পরিচিত স্থানীয় তরুণ ফুটবলাররা এতে অংশ নেন। নদীভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জনপদের মানুষকে সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করে বিকে ফাউন্ডেশন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা এখন সারা বিশ্বে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার লড়াই দেখতে টিভি পর্দায় চোখ রাখে কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু ঢালারচরের মানুষগুলো ফুটবল উন্মাদনাকে বরণ করে নিয়েছে অন্য একভাবে। তাদের ছোট ছোট নৌকা আর টিনের ঘরের চালায় উড়ছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকা। জেলেরা যখন নদীতে জাল ফেলছে, তখন তাদের নৌকার মাস্তুলে দোল খাচ্ছে সেই পতাকা। ঘরের স্ত্রীরা রান্নাঘরের কাজ করতে করতেও যেন এক পলক দেখে নিচ্ছে সেই পতাকার দিকে—বিশ্বকাপের স্বপ্ন তাদেরও। কিন্তু এই স্বপ্ন তারা দেখছে এক অনিশ্চিত জীবনের মাঝে। নদী যাদের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে, তারা অন্তত আজকের এই খেলাটি দেখবে। বিশ্বকাপের সেই উন্মাদনা হয়তো তাদের ঘরে পৌঁছায় না, কিন্তু আজ তারা সেই উন্মাদনাকে নিজেদের করে নিয়েছে।
ঢালারচরের মৎস্যজীবী ও কৃষক পরিবারগুলোর কাছে যমুনা নদী শত্রু নয়; এটি একটি শক্তি, যার বিরুদ্ধে তারা লড়াই করা ছেড়ে দিয়েছে। বছর বছর ধরে এই শক্তিশালী নদী তাদের বসতবাড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে, তাদের ফসল ও জমি কেড়ে নিচ্ছে। তারা দেখেছে প্রতিবেশীরা কীভাবে নিজেদের সবকিছু গুছিয়ে ভেতরের দিকে সরে গেছে। একমাত্র পরিচিত ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে তারা। এখন আর কোনো রাগ নেই, শুধু ক্লান্তিকর এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
৮৪ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমে বাড়ছে ভাঙন, পানিবন্দি অন্তত ২০ হাজার পরিবার
তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি দুর্ভোগ। নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
গত দুদিনে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬৫টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। চরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশারায় পড়েছে নদী পারের মানুষ। বিপৎসীমার উপরে বইছে দুধকুমারও।
চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ ও ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
উত্তরের ৫ জেলায় পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে ৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙছে তিস্তার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অংশেও। ৫ জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
৮৯ দিন আগে
কালজানির ভাঙনে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, ঘুম উড়েছে দুই গ্রামের মানুষের
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরজুড়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।
স্থানীয়দের মতে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।’
আরেক বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, ‘দিনরাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
১১৫ দিন আগে
অধিকাংশ চরাঞ্চলে নেই ঈদের আনন্দ, হয়নি পশু কোরবানি
উত্তরের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে এবার ঈদুল আজহা এসেছে নিঃশব্দ বেদনা হয়ে। তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা শত শত চরে নেই উৎসবের রঙ, কোরবানির আনন্দ। কোথাও ঈদের দিনেও হাঁড়িতে ওঠেনি মাংস, কোথাও আবার নদীভাঙনের আতঙ্কে মানুষ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বসতভিটা।
রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় প্রায় ৭০০টি চর রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর কুড়িগ্রামে, প্রায় ৪৫০টি। প্রতিটি চরে বসবাস করে ১৫০ থেকে ৫০০ পরিবার। এসব চরবাসীর প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। কিন্তু এবার আলু, ধান, ভুট্টাসহ প্রায় সব ফসলেই লোকসানের কারণে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে গেছে। অধিকাংশ চরেই হয়নি পশু কোরবানি।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধান এলাকার কৃষক মকবুল হোসেনের বয়স এখন ৬৮। জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে মাঠে-ঘাটে। কিন্তু এবারের ঈদ তার কাছে উৎসব নয়, বরং দীর্ঘশ্বাসের আরেকটি দিন। উঠানে ধান শুকালেও ঘরে নেই ঈদের আনন্দ, শিশুদের নতুন জামার হাসিও নেই।
১১ বিঘা জমিতে আলুচাষ করে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান গুনেছেন তিনি। এখনও তার মাথায় আড়াই লাখ টাকার ঋণ। ভেবেছিলেন বোরো ধান হয়তো কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু ভালো ফলন হলেও বাজারদর তাকে আরও হতাশ করেছে।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়েছে প্রায় ৯৫০ টাকা। অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ধান, আলু, ভুট্টা—সবখানেই লোকসান। কয়েক দফা কালবৈশাখীতে সবজিও নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষিকাজে এবার শুধু ক্ষতি আর ক্ষতি। মনে কোনো শান্তি নেই। ঈদের আনন্দও নেই।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর বুকে দ্বীপচর ফলিমারীতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। গত কয়েকদিন ধরে নদীভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো চরে। ঈদের দিনেও নদীর তীরে চলেছে ভাঙন। ফলে উৎসবের বদলে উৎকণ্ঠাই এখন সঙ্গী। গত বছর এই চরে দুটি গরু ও তিনটি ছাগল কোরবানি হলেও এবার কোনো পশু কোরবানি হয়নি।
১২৩ দিন আগে
তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকিতে, ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী সমাধান দাবি ভুক্তভোগীদের
তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এতে জীবন-জীবিকা হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নদীতীরবর্তী মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাঙনের কারণে প্রতিদিনই জমি হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা। অনেক বসতবাড়িও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের পর এটি নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধার হরিপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়েছে। নদীটির বাংলাদেশ অংশ প্রায় ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার তিস্তা নদীর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনপ্রবণতা রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ারডাঙ্গা ইউনিয়নের রামহরি এলাকায় ৪০০ মিটার, নাজিমখান ইউনিয়নের একটি অংশে ৫০০ মিটার, উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের চাপড়ারপাড়ে ১ হাজার মিটার, সাদুয়ারদামারহাটে ৫০০ মিটার এবং বজরা এলাকায় ৭০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়লেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। শুধু অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল দিচ্ছে না।
রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই নদী আমাদের জমি গ্রাস করছে। এখন ঘরবাড়িও ঝুঁকিতে। আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।’
একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, ‘ভাঙনের ভয়ে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। প্রতিবারই কাজের আশ্বাস পাই, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয় না।’
কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, ‘আমার চাষের জমি নদীতে চলে গেছে। আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের বসতভিটাসহ গৃহ নির্মাণে সহযোগিতা করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের ব্যবস্থা নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন জরুরি।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে, রংপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙনরোধে ফেলা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবার একই ধরনের আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে মানুষ নদীভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
১৫০ দিন আগে