বিক্ষোভ
শাবিপ্রবিতে আজও বিক্ষোভ অব্যাহত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সহকারী উপাচার্যকে দেখে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনরত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের গাড়ি উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে দেখে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন। তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্যানেলের সাবেক নেতা সহকারী উপাচার্য সাজেদুল করিম কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে, শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সকাল থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তারা ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, এক হও’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’, ‘দালালদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিবিরের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, গতকাল আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বলেছি যে, যেভাবেই হোক চেম্বার জজ আদালতের মাধ্যমে বুধবার শাকসু নির্বাচন করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়া হবে, কেননা আমাদের দাবি যৌক্তিক।
শিবিরের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। গতকাল চেম্বার জজের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাও হয়নি। আজকে আদালতের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, চেম্বার জজ শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় দেবেন।
৫ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ
চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট।। এর আগে গতকাল রবিবার রিটটি করেছিলেন স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শরু করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
তারা বলেন, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটকারী প্ররোচনার শিকার। তিনি রিট করে সকলের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আমরা নির্বাচন যথাসময়েই চাই। নির্দেশনা আসা না পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সড়ক অবরোধের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল (রবিবার) শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে এবং সে নির্দেশনার আলোকে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাতজন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপরদিকে হল সংসদে পদ সংখ্যা ৯টি।
এদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচারণার শেষ সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আজ (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
৬ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একটি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে আইএসপিআর বলেছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
১২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
তবে সেনা ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, ডাবলুকে নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার (কর্নেল) ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
১২ দিন আগে
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৩৫
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। দেশটির ৩১টির মধ্যে ২৭টি প্রদেশের ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমগ্র ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। ফলে অস্থিতিশীল পরিবেশেও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে তারা। অতীতেও বিক্ষোভের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের জন্য তারা পরিচিত।
দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য রয়েছেন আহতদের তালিকায়।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্পের এসব মন্তব্য হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিলেন মাদুরো।
অবশ্য ট্রাম্প কীভাবে এবং আদৌ হস্তক্ষেপ করবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের পর ইরান থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এটিকে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চলমান আন্দোলন এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়নি। সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি ১২ দিনের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখে নেমে আসে। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ।
কিন্তু চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে শুধু অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বা গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের চলাচলে অনুমতির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের খবর শোনা যায়।
এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ থামছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের উপযুক্ত জায়গায় রাখা উচিত।’
১৯ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধা সুরভী রিমান্ডে, মুক্তির দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ
প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
এদিকে, তার মুক্তির দাবিতে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় তাহরিমা নিজেও নানা কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। পরে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জামান সুরভী।
২০ দিন আগে
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে আবারও বিক্ষোভ
ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাইরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিক্ষোভের ডাক দেয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই ও এএনআইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গেরুয়া পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরা একাধিক পুলিশী ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যায়। এতে উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা ছিল দিল্লিতে। এজন্য সেখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা হয় হাইকমিশন চত্বর। দিকে দিকে বসানো হয় পুলিশ ব্যারিকেড। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনীও।
তবে বেলা গড়াতেই উত্তেজনা ছড়ায় হাইকমিশনের বাইরে। বহু লোক জড়ো হয় সেখানে। তাদের মুখে স্লোগান। হাতে প্ল্যাকার্ড। এ সময় তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। এর মধ্যে র্যাব সাতজনকে এবং পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভিএইচপিসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে।
৩৩ দিন আগে
গাজীপুরে কারখানা বন্ধের ঘোষণায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ
গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। কারখানা খুলে দেওয়া এবং তাদের কিছু দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ এলাকার পি এন কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার এক শ্রমিক গত ৭ ডিসেম্বর জরুরি কাজে কারখানা থেকে বের হয়ে বাইরে যান। যখন তিনি কাজ শেষ করে ফিরে আসেন, তখন কারখানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরের দিন, অর্থাৎ গতকাল (সোমবার) শ্রমিকদের কয়েকজন ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সারা দিন শ্রমিকদের বুঝিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিকেলে শ্রমিকরা চলে গেলে কর্তৃপক্ষ রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধের নোটিশ কারখানার প্রধান ফটকে সেঁটে দেওয়া হয়।
নোটিশে লেখা রয়েছে, পি এন কম্পোজিট লিমিডেটের সংশিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ৭ ডিসেম্বর থেকে কারখানার শ্রমিকরা কিছু অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে, অবৈধভাবে কারখানায় সংঘবদ্ধ হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে। চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে এবং অবৈধ ধর্মঘটে লিপ্ত হয়, যা আজও চলমান। এর ফলশ্রুতিতে কারখানার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। এ ছাড়াও কারখানার নির্ধারিত রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আহ্বান জানায় যে, যে কোনো প্রকার দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং সবাইকে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা কাজে যোগদান করা থেকে বিরত থাকে। ফলে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। শ্রমিকদের এই আচরণ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী বেআইনি ধর্মঘট হিসেবে গণ্য হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ এই কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করল। পরবর্তীতে কারখানা চালু করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন, কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তারা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ও কোনাবাড়ি থানা পুলিশ শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে কারখানার ব্যবস্থাপক তাপসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর ডিউটি চলাকালীন একজন শ্রমিক কারখানার বাইরে যায়। পরে তার সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়। একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা কথা না শুনে সোমবারও কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পরে কর্তৃপক্ষ সকাল থেকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে শিল্প ও থানা পুলিশ রয়েছে। শ্রমিক এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৪৭ দিন আগে
নাটোরে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে কৃষকদের বিক্ষোভ
সারের দাবিতে নাটোরের নলডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য ডিলার পয়েন্টে গিয়ে সার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলা মোড়ে কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভে উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ সকাল ১০টার দিকে উপজেলা মোড়ে অবস্থিত সার ডিলার শ্যাম সুন্দর আগরওয়ালের দোকানে গিয়ে সারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। সেখানে সার না থাকার খবর পেয়ে একপর্যায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন তারা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকে ফিরে উপজেলা মোড়ে গিয়ে প্রধান সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় কৃষকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোয়ার হোসেনের অপসারণ দাবি করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সার প্রপ্তি নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।
শ্যাম সুন্দরের ব্যবস্থাপক বকুল দাস জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী সব সার তারা উত্তোলন করতে পারেননি। অনেক কৃষক চলতি রবি ও আসন্ন বোরো মৌসুমের একবারে সার সংগ্রহ করার কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী সকল সার কৃষক-পর্যায়ে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খান বলেন, ডিলার পয়েন্টে সার পৌঁছলেও কৃষকরা কেন পাচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৪৯ দিন আগে