বিক্ষোভ
রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ, আল্টিমেটাম
রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। ভোট পুনর্গণনা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভোট গণনা দাবিতে হারাগাছে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। তাদের দাবি, ভোট কারচুপি করে এমদাদ ভরসাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।
এদিকে, রংপুর-৬ আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ অস্বীকার করে জনগণকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং সড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় হারাগাছ-রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ করেন।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুর্নগণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
রংপুর ৪ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী আখতার হোসেন মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমরাও চাই ভোটের ফলাফল পুনর্গণনা হোক।’
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জানান, নির্বাচনে তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু, বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষ আখতার হোসেনের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করে।
তিনি আরও বলেন, ভোটে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল জনগণের সামনে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লোকজন মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রংপুর-৪ আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তারা রাতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে ফল পুনঃগণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
১০ ঘণ্টা আগে
মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় নিহত ১, সড়ক অবরোধ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নির্মাণাধীন ‘তমি মার্কেট’ দখল চেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বালাশুরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বেলা ১১টার দিকে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন— ওই এলাকার তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তুষার (২৪) ও আব্দুর রহমান (২৩)।
বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-দোহার সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বালাসুর এলাকায় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে সাইকেল, অটোভ্যানসহ বেশকয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
১১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রেন থামিয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সব শ্রেণি পাঠ ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক। এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।
তারা জানান, আগে কারিগরি খাতে দশম গ্রেডের পদগুলো ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩০ মিনিট খুলনার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সড়কপথের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
১১ দিন আগে
শাবিপ্রবিতে আজও বিক্ষোভ অব্যাহত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় সহকারী উপাচার্যকে দেখে ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনরত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের গাড়ি উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে দেখে ‘দালাল’ ‘দালাল’ বলে স্লোগান দেন। তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্যানেলের সাবেক নেতা সহকারী উপাচার্য সাজেদুল করিম কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এর আগে, শাকসু নির্বাচনের দাবিতে সকাল থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রার্থীদের একটা প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে যান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তারা ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, এক হও’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দাও’, ‘দালালদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
কর্মসূচি চলাকালে শিবিরের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, গতকাল আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বলেছি যে, যেভাবেই হোক চেম্বার জজ আদালতের মাধ্যমে বুধবার শাকসু নির্বাচন করতে হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়া হবে, কেননা আমাদের দাবি যৌক্তিক।
শিবিরের জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। গতকাল চেম্বার জজের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাও হয়নি। আজকে আদালতের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, চেম্বার জজ শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় দেবেন।
২৫ দিন আগে
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ
চার সপ্তাহের জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্ট।। এর আগে গতকাল রবিবার রিটটি করেছিলেন স্বতন্ত্র সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ।
এদিকে, নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের রায়ের খবর শোনার পর বিক্ষোভ শরু করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।
দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।
তারা বলেন, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিটকারী প্ররোচনার শিকার। তিনি রিট করে সকলের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন। আমরা নির্বাচন যথাসময়েই চাই। নির্দেশনা আসা না পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
সড়ক অবরোধের কারণে সিলেট–সুনামগঞ্জ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল (রবিবার) শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে এবং সে নির্দেশনার আলোকে শাকসু নির্বাচন আয়োজন আইনসম্মত নয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বিভিন্ন পদে মোট ৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে চারজন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাতজন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে চারজন প্রার্থী রয়েছেন।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ২৩টি পদ রয়েছে। অপরদিকে হল সংসদে পদ সংখ্যা ৯টি।
এদিকে, প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
গতকাল সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রচারণার শেষ সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বাড়ানো হয়।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীরা আজ (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
২৬ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘লাল-সবুজের পতাকায়, হাদি তোমায় দেখা যায়’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা, ঢাকা’ ইত্যাদি নানা ধরনের শ্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, গতকাল শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পর্যালোচনার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মূল আসামিদের কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, কারা তাদের আড়াল করতে চায়, আমরা তা বুঝি। রাষ্ট্র যদি তাদের আড়াল না করে, তাহলে তাদের লুকানোর কোনো পথ নেই।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরের দিন তার মরদেহ দেশে আনার পর গত ২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
২৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানের সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান ডাবলুর (৫০) মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেইসঙ্গে ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল (১২ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী। অভিযানে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি একটি ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক’ উল্লেখ করে আইএসপিআর বলেছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে ওই ক্যাম্পের কমান্ডার ও অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছিল। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
৩২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু, নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ডাবলু জীবননগর উপজেলা শহরের হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। ডাবলু ওই সময় একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর আসে।
ডাবলুর মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষোভস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেন, ‘অভিযানের নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে শামসুজ্জামান সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।’
তবে সেনা ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, ডাবলুকে নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। এই সময়ে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শামসুজ্জামানের মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তার (কর্নেল) ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসুজ্জামান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আজ (মঙ্গলবার) সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেন।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জীবননগর শহরজুড়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে, জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ চলছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।
৩২ দিন আগে
অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৩৫
ইরানে চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবারও (৬ জানুয়ারি) বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, চার শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্য রয়েছেন। দেশটির ৩১টির মধ্যে ২৭টি প্রদেশের ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমগ্র ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কর্মীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে বিক্ষোভকারী সংগঠনটি। ফলে অস্থিতিশীল পরিবেশেও নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারে তারা। অতীতেও বিক্ষোভের সময় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের জন্য তারা পরিচিত।
দেশটির আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স সোমবার গভীর রাতে জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর অন্তত ৪৫ সদস্য রয়েছেন আহতদের তালিকায়।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্পের এসব মন্তব্য হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিলেন মাদুরো।
অবশ্য ট্রাম্প কীভাবে এবং আদৌ হস্তক্ষেপ করবেন কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তার মন্তব্যের পর ইরান থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এটিকে ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চলমান আন্দোলন এখনও আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভের মতো ব্যাপক ও তীব্র হয়নি। সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক হওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে আমিনির মৃত্যু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে কয়েক দফা বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্প্রতি ১২ দিনের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি। গত ডিসেম্বরে ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখে নেমে আসে। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ।
কিন্তু চলমান বিক্ষোভের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ বিষয়ে খুব কম তথ্য দিচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে শুধু অল্প সময়ের জন্য রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বা গুলির শব্দ শোনা যায়। পাশাপাশি ইরানে সাংবাদিকদের চলাচলে অনুমতির বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মাঝে মধ্যেই তাদের হয়রানি কিংবা গ্রেপ্তারের খবর শোনা যায়।
এসবের মধ্যেও বিক্ষোভ থামছে না বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের উপযুক্ত জায়গায় রাখা উচিত।’
৩৯ দিন আগে
জুলাই যোদ্ধা সুরভী রিমান্ডে, মুক্তির দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ
প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতের বিচারক এই আদেশ দেন।
এদিকে, তার মুক্তির দাবিতে অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে আদালত এলাকায় বিক্ষোভ করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের নেতারা সেখানে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া, গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে তোলার সময় তাহরিমা নিজেও নানা কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। পরে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তাহরিমা জামান সুরভী।
৪০ দিন আগে