বিক্ষোভ
ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত, মরদেহ কাঁধে নিয়ে সহপাঠীদের বিক্ষোভ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় লিয়া বেগম (১৫) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে চালককে গ্রেপ্তার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সহপাঠীরা।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-শশীভূষণ সড়কের জলিল মাঝির বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়া বেগম হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের মেয়ে। স্থানীয় চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে একটি টমটম (মোটরচালিত থ্রি-হুইলার) লিয়াকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর টমটমটি ফেলে চালক পালিয়ে যান।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিহত লিয়ার মরদেহ খাটিয়ায় তুলে কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় তারা ‘আমার বোন ফিরিয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত চালককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত টমটমটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। চালককে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪ দিন আগে
বরিশালে বকেয়া পরিশোধ ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে সিমেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কারখানার প্রধান ফটক থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা থেকে রূপাতলী গোলচত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এতে তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
সমাবেশে শ্রমিকরা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানা বিক্রি হলে তাদের চাকরি বহাল রেখে কারখানা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমস্যার সমাধান এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময়ে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুনের বৈঠকে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সব কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
৭ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
২১ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভের মুখে এসআই মাসুদ প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত মো. জোবায়েরের (১৮) মৃত্যুর পর মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে মরদেহ নিয়ে গতকাল রবিবার রাতে বন্দর থানা ঘেরাও করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঘুষ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নেই।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা সেতুর উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জোবায়েরের মরদেহ ঢাকা থেকে বন্দর এলাকায় পৌঁছালে শত শত মানুষ মরদেহ নিয়ে বন্দর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ঘটনার পর মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি এবং ঘুষ দাবির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি। জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরে মরদেহ নিয়ে তারা থানার সামনে অবস্থান নেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেছেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২৭ দিন আগে
সাভারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ
সাভার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম’ গ্রুপের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপের ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানার সামনে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেন প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাভারে কর্মরত কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অফিসে ডেকে নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা উলাইল এলাকায় কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক আলেয়া আক্তার, জোসনা বেগমসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করেছে। আমাদের অনেকেরই ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
কারখানার অপারেটর সালমা আক্তার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ করেই কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। বাসা ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ-সব মিলিয়ে হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার কথা থাকলেও তারা আমাকে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছে।
১৩ বছর ধরে এই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর জানান, হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে ছাটাই করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে দেয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তার। তাদের অভিযোগ, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।
বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়কের সার্ভিস লেন অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই। শ্রমিকদের দাবি, তাদের পাওনাদি ঠিকমতো না দিয়েই ছাঁটাই করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং কারখানার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে।
তার দাবি, কারখানা পলিসি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোনো শ্রমিকের যদি পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতা থাকে, তাহলে তারা যোগাযোগ করলে আমরা যাচাই করে তা পরিশোধ করে দেব।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’ তাদের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল এলাকার ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানা থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার ‘প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার’ কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’ কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
২৯ দিন আগে
বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিরোধিতায় ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ
ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদি। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ইসরায়েলজুড়ে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ জুন) ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও জেরুজালেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি বিক্ষোভস্থলে এক সেনাসদস্যের ওপর হামলা করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান ও ঘোড়া ব্যবহার করতে হয়েছে।
এই বিক্ষোভের ফলে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জেরুজালেম ও তেল আবিব মহানগর এলাকায় বিশাল জনসমাগমের কারণে বেশ কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি সেখানে গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।
ইসরায়েলে অধিকাংশ ইহুদি নারী ও পুরুষের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী রক্ষণশীল ইহুদিরা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনা করতে এই সম্প্রদায়কে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ফলে বর্তমানে তাদের সেই অব্যাহতি ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
আবার অনেক ইসরায়েলি রক্ষণশীল ইহুদিদের দীর্ঘদিনের এই অব্যাহতি ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক নাগরিককে একাধিকবার সংরক্ষিত সেনাসদস্যের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন সময়ে রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক সেবার দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলে দাবি তাদের।
এদিকে, এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন সরকারের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রক্ষণশীল ইহুদিরা সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ফলে চলতি বছরে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একটি সংসদীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার রক্ষণশীল ইহুদি তরুণ ১৮ বছর বয়সে সামরিক নিয়োগের উপযুক্ত হন। তবে তাদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
অন্যদিকে, সেনাসদস্যের ঘাটতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে অধিকাংশ ইহুদি পুরুষকে প্রায় তিন বছর সামরিক সেবা দিতে হয়। এরপর তাদের দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত সেনাসদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইহুদি নারীদের জন্য এই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ দুই বছর।
জেরুজালেমের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা রক্ষণশীল সম্প্রদায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এই বিক্ষোভকে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছি। আমাদের দৃষ্টিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মানে ধর্ম ত্যাগ করা। আমরা আমাদের ইহুদি ধর্ম ছাড়তে চাই না। তাই আমাদের কাছে এটি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদিকে জোর করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার কোনো উপায় নেই।’
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল, ‘জায়নিস্ট হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে আমরা ইহুদি হিসেবে মরতে রাজি’ এবং ‘জায়নিস্ট ধর্মের স্বার্থে পরিচালিত সেনাবাহিনীতে আমরা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানাই।’
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশই রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সদস্য। একইসঙ্গে এই সম্প্রদায়ে সেখানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জনগোষ্ঠী। ঐতিহ্যগতভাবে তারা পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় এই ব্যবস্থার সূচনা হয়। সে সময় গণহত্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত করা হয়েছিল।
তবে রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সামরিক সেবা থেকে এই অব্যাহতি এবং ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাতা দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বহু ইসরায়েলির অসন্তোষের কারণ হয়ে আছে।
এদিকে, ইসরায়েলকে বর্তমানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িত পড়েছে তারা। ফলে তাদের সেনাবাহিনী জনবল সংকট ও তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।
২০১৭ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রক্ষণশীলদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির কারণে এই অব্যাহতি ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে।
ইসরায়েলের ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর কাছে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা জাতীয় ঐক্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের অনেকেই আশঙ্কা করেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে তরুণরা ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির সংস্পর্শে চলে যাবে।
৩৩ দিন আগে
সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের সেশন ফি ও অনান্য ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাস্পাস ও শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতি বছর অতিরিক্ত সেশন চার্জ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ টাকা নিচ্ছে। যেসব খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো সেবা বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না। দাবি মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি সল্প সময়ের, আবার কিছু দীর্ঘ সময়ের। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৬১ দিন আগে
শেরপুর ও বগুড়া নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ
শেরপুর-৩ আসনে জাতীয় নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির আমলের প্রথম নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগকেও হার মানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ নির্বাচনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
গণভোট প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছে, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু সরকার গঠন করে তারা গণভোটের আদেশ বাতিল করছে। বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহিদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেইমানি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যদি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় মেনে নিতে না পারেন, তবে তাদের সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়নি। তারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে থাকেন, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে যেভাবে শপথ নিয়েছেন, একইভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করতেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপি যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, ৫ কোটি জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে বিএনপির সেই নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে দিয়েছে। এজন্য বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। বিএনপি জুলাই সনদের বিপক্ষে গিয়ে হাসিনার তৈরি কালো আইন বহাল রাখতে কাজ করছে।
বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
সমাবেশ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর গিয়ে শেষ হয়। এ সময় হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ভোট ডাকাতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানান।
৮৬ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
১১৩ দিন আগে
বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে থানা ঘেরাও করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে বাকেরগঞ্জ থানার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানার সামনে সমাবেশ করে থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশের নেতৃত্ব দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রোকনুজ্জামান ডাকুয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান জাহাঙ্গীর।
সমাবেশে বক্তারা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার নেতৃত্বদানকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারসহ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পরবর্তীতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সোহেল রানা অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ সমাবেশ সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
১১৭ দিন আগে