মানববন্ধন
উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষকরা। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দিয়ে সেখানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা উপাচার্যকে ‘দুর্নীতিবাজ’ ও ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তাতে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, মো. গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন অত্রাদ, জাহিদ হাসান ফাহাদ, মঈনুল হাসান সাদিক, মেহেদী হাসান রতন, সাদাব হোসেন রিয়ন, আহ্বায়ক সদস্য আশরাফুল ইসলাম, সদস্য রাজেশ বাছাড়, তারিকুল ইসলাম, মামুন মিয়া, মুক্তার হোসেন, নাজমুল হোসেন ও ধ্রুব সিদ্দিকী।
এর আগে, গেল সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন: এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দুররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।
পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতকাজ করা হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি তাদের।
ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
১৮ দিন আগে
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন
সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তাদের দাবি, ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানববন্ধনে এই সিদ্ধান্ত বালিত না করলে কঠিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে মানববন্ধনের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ—বন্ধ কর, করতে হবে’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া—ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘ছি ছি ধিক্কার—জাহেদ তুই চাটুকার’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনের কথা না ভুললেও আমাদের সরকার হয়তো ভুলে গেছে। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, কিন্তু আমরা দেখতে পারছি, বর্তমান সরকার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। যে জুলাই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, আবার তা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং ভাইবার নামে আবার কোটাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ১৯৯০–১৯৯৬-এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরাসরি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও সরকারি চাকরিতে হস্তক্ষেপ করার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় তারা। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি এসব বন্ধ করুন, তা না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্যসচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে থাকি যে কোটা না মেধা—মেধা মেধা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে কোটা আবার নতুনভাবে ফিরে আসছে। আজকে আমরা কারো নিজের সুবিধার জন্য এখানে আসিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এভাবে বাড়তে দিলে এক পর্যায়ে এই সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা চব্বিশের আন্দোলন দেখেছি। এরপরও যদি আমরা না শুধরাই, আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করছে, তা হবে আরও ভয়ংকর। তাই এই ব্যবস্থা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব থেকেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটি ইচ্ছা থাকে যে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করব কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করার সেই পথটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের এই ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দরকার, প্রতিবাদ করা দরকার এবং যার যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের বারবার যে কোনো বিষয় নিয়ে রাজপথে নামা লাগে, অথচ এই সরকার হওয়ার কথা ছিল জনগণের। কিন্তু সরকার হয়ে যায় তার নিজের দলের। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটা সরকার কীভাবে সবকিছুতে দলীয়করণ করে তা আশপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। আমরা তারেক সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের যদি আবার ফ্যাসিবাদী কায়দা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আর কখনো হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তা কখনোই মেনে নেবে না।’
কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা লক্ষ করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অনেকে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ তাদের সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমাদের এই প্রতিবাদ সারা বাংলাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আরও লক্ষ করছি, সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা মনে করছি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা চলছে, সরকারকে সেখান থেকেও ফিরে আসতে হবে। ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শ গ্রেডের সরকারি চাকরিতেও বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০, প্রস্তাবিত বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সপ্তদশ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।
১৯ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদীতে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নৌযান মালিক-কর্মচারীসহ ৩ উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত ‘সালাম বাহিনী’র বিরুদ্ধে বেলকুচি ক্ষিদ্রচাঁপিয়া এলাকায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার চরবেল, পুংলি, কাকুয়া, জাঙ্গালিয়া, কলাবাগান ও মহেষপুরের নৌযান মালিক-কর্মচারীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকার ত্রাস হিসেবে খ্যাত সালাম ও তার সহযোগী রুবেল, কাওছার আলম, মাসুদ ও হাবিব গং সন্ধ্যা নামার পর যমুনা নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয়।
সিরাজগঞ্জ-ঢাকা নৌরুটে তারা সব ধরনের বাল্কহেড, ছোটবড় নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করে আসছে। তার দাবিকৃত চাঁদা না দিলে নৌযান শ্রমিক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ সালাম বাহিনীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আজ আমরা নৌযান মালিক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন করছি। যমুনায় নৌপথ নিরাপদ করতে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
আবু সাঈদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে নৌযান মালিক-কর্মচারীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইউসুফ মোল্লা, কছির উদ্দিন, সুমন ও বক্কার মোল্লাসহ অনেকে। নৌযান মালিক-কর্মচারী ছাড়াও বেলকুচি, টাঙ্গাইল সদর ও চৌহালী উপজেলার ২৭ গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
৪৫ দিন আগে
দাবি না মানলে ১৮ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীকে নওগাঁয় ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি
নওগাঁয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সড়কে নেমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ সফরে শিক্ষামন্ত্রীকে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা ও বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষাগ্রহনের সুযোগ নিশ্চিতসহ সকল দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি মেনে না নিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এ সময় আগামী ১৮ জুলাই নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে আসলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নওগাঁয় প্রবেশে বাধা দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারশিয়া রহমান, নাইম আহম্মেদ, রাহিম হোসেনসহ অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজন ও একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদমান বক্তব্য রাখেন।
৭৬ দিন আগে
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ৬ লেন মহাসড়কের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বরিশাল জেলা সমিতির নেতৃত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন মহাসড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণ, বরিশাল-ভোলা সেতু নির্মাণ, নদীভাঙন থেকে বরিশালকে রক্ষা, ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাস বরিশালে সরবরাহ এবং বরিশালে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
মানববন্ধনে ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতি, বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতি, বরিশাল বিভাগীয় কর আইনজীবী সমিতি, পটুয়াখালী জেলা সমিতি, দক্ষিণবাংলা ফোরামসহ বিভিন্ন উপজেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বরিশাল জেলা সমিতির সভাপতি ড. এনায়েত করিম অনুষ্ঠানে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
৯৩ দিন আগে
ওসি বলেন, আমাকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে: খুন হওয়া ইবি শিক্ষিকার স্বামী
নিজ অফিস কক্ষে খুন হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি যাদের এজাহারভুক্ত আসামি করেছি, তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে বলেন—প্রমাণ করার দায়িত্ব নাকি আমার! প্রমাণ করতে হবে আমাকে! ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বলেন—প্রমাণ করেন আপনারা।’
আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নিহতের চার সন্তান, পরিবার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, এই হত্যার বিষয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের বক্তব্য আমি ওসিকে দেখাতে গিয়েছিলাম। উনি (ওসি) বলেন এটা আপনিই দেখেন। কত দেখতে পারবেন ইউটিউবে! এতে আমার দেখার কাজ নেই।
ওসিকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, ছিঃ ছিঃ! লজ্জার কথা। এই ওসি তদন্ত করে বিচার করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
নিহতের স্বামী আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে তার সহকর্মী শ্যামসুন্দর সরকার, বিশ্বজিৎ কুমার ও হাবিবুর রহমান একটি দিনের জন্যেও ভালো ব্যবহার করেননি। তারা যদি প্রমাণ করতে পারেন, একটি দিন তারা ভালো ব্যবহার করেছেন, কাজে সহযোগিতা করেছেন, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছতার দিকে ইঙ্গিত করে ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সরকার লাখ লাখ টাকা তছরূপ করেছেন। প্রশাসন বারবার চিঠি দিয়েছে, একটিবার তার হিসাব দেননি। কই প্রশাসন তো কিছু বলেনি? বিশ্বজিতের (মামলার ২ নম্বর আসামি) মতো একজন কর্মকর্তা সাদিয়াকে বলেছিলেন—আমরা যেভাবে বলব, সেখানে সাক্ষর করবেন। কতটা ক্ষমতাবান হলে তারা এভাবে বলতে পারেন?
মানববন্ধনে অংশ নেয় নিহতের চার শিশু সন্তান। তাদের বয়স দেড় থেকে ৯ বছরের মধ্যে। সবচেয়ে বড় কন্যা ইফফাত তায়েবা বলেন, আমার মাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার খুনিদেরও যেন সেভাবে হত্যা করা হয়। মাকে ছাড়া আমার ছোট ভাইবোনগুলো সারা রাত ঘুমায় না। মা আমাদের কত আদর করে ঘুম পাড়াতো! আমরা এখন মাকে কোথায় পাব?
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিট্যাকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। মানববন্ধনে আসা তার সহকর্মীরা বলেন, এই মানববন্ধন আমাদের করার কথা নয়। এটা করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, কিন্তু একজন শিক্ষকও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা। একজন সামান্য কর্মচারীর হাতে শিক্ষক খুন হলো নিজের অফিস কক্ষে, অথচ তার কোনো সহকর্মী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এটা বড় লজ্জার কথা।
সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এখন থেকে সাত মাস আগে ক্যাম্পাসে খুন হলেন শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ। সেই খুনের রহস্য এখনও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই ম্যামকে খুন করা হলো। এই ক্যাম্পাস আর কারো জন্যই নিরাপদ নয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার কক্ষে ফজলুর রহমান নামের এক কর্মচারী তাকে হত্যা করেন। পরে ওই ব্যক্তি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০৫ দিন আগে
স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন
জাতীয় বেতন কমিশনের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, যাদের মাথাপিছু আয় আমাদের থেকে কম, তাদের থেকেও কেন আমাদের শিক্ষকরা পিছিয়ে থাকবেন? সেই দেশগুলোকে অনুসরণ করে আমাদের শিক্ষকদেরও সম্মানজনক অবস্থানে রাখা হোক। আমরা আশা করব, সরকার এই দিকটিতে সংস্কার করবে।
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, আমরা জানি, আমাদের উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে তিনজন শিক্ষক আছেন। আমরা জানতে চাই, আপনারা থাকা অবস্থায় কী করে এ রকম সিদ্ধান্ত হতে পারে। সরকারের কাছে আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানাব।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-সংক্রান্ত উপকমিটি তিনটি ‘টিওআর’ (টার্মস অব রেফারেন্স) দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় যেন মেধাবীরা আসতে পারেন সেটা নিশ্চিত করা, মেধাবীরা যেন দেশেই থাকেন সেটা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহ প্রদান করা—যার কোনোটিই গ্রহণ করা হয়নি।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা কি চান না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় মেধাবীরা আসুক, গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি পাক? আপনাদের কাজ সেটাই প্রমাণ করে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে শিক্ষকদের বেতন ৬ গুণ বেশি। তাহলে আমাদের দেশে এই চিত্র কেন? জাতীয় বেতন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি যে অবজ্ঞা ও বৈষম্য করেছে, আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
২৫২ দিন আগে
গাজীপুরে নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন করেছে। পরে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকালে নার্সিং কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, শিক্ষার্থীদের হুমকি ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে ইন্সট্রাক্টর মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. তাজুল ইসলাম ও মো. মোখলেছুর রহমানের বদলির দাবিতে তারা এসব কর্মসূচি পালন করেছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের রাজবাড়ী সড়কে মানববন্ধন করে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
এ সময় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোতাসিম বিল্লাহ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিনামা সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেয়।
কর্মসূচি চলাকালে কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ফারিহা আলম, মোসাম্মৎ শারমিন আক্তার,মেহেদী হাসান চয়ন, হৃদয় খান, লুৎফুন নাহার লিজা, তুহিন মোর্শেদ, রাফিউল আলম সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
৪০৩ দিন আগে
আটাবে প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদে সাধারণ সদস্যদের মানববন্ধন
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশে (আটাব) প্রশাসক নিয়োগের প্রতিবাদে এবং নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে আটাব কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো অ্যাসোসিয়েশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কার্যকর ফল আসেনি। বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসক নিযুক্ত থাকলে অ্যাসোসিয়েশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। আটাবে আগে কখনো প্রশাসক নিয়োগ হয়নি এবং সাধারণ সদস্যরা তা চান না।
তাদের দাবি, নির্বাচিত কমিটির অধীনেই আটাবের কার্যক্রম পরিচালিত হোক।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে প্রশাসক প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতারণায় ট্রাভেল এজেন্টদের ক্ষোভ, হস্তক্ষেপ দাবি আটাবের
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাত্রীর নাম ও পাসপোর্ট ছাড়াই এয়ার টিকিট ব্লক করে একটি সিন্ডিকেট তা কালোবাজারে বিক্রি করছে। তারা টিকিটের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু জিএসএ এবং হাতে গোনা কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি জড়িত। সরকারের জারি করা পরিপত্র অমান্য করেও এরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা আরও বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) পরিচালনায় এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে কিছু ওটিএ প্রতিষ্ঠান যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ওটিএ নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান আটাব সদস্যরা।
মানববন্ধনে আটাব সদস্যদের পক্ষ থেকে, বিগত সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা টিকিট সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা জুম্মন চৌধুরী ও সবুজ মুন্সীর গ্রেপ্তার এবং তাদের এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের দাবি তোলা হয়। বিমান মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আটাব সাধারণ সদস্যদের প্রধান সমন্বয়ক শাহ আলম কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আটাব সদস্য শরীফুল আলম দিপু, মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আলম, মাহমুদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, সুমন, ফয়সাল করিম জনি, ইমাম হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মোজাফ্ফর হোসেন ও জসিম হোসেন প্রমুখ।
৪১৭ দিন আগে
কুয়েট ভিসির পদত্যাগ দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
কুয়েট শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ও কুয়েট ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার নেতা-কর্মীরা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকাল ৪টা দিকে জাবির শহিদ মিনার চত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাগছাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব জাবি শিক্ষার্থী জিয়াউদ্দিন আয়ানের সঞ্চালনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ভিসির পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবে সামনের সারিতে ভূমিকা পালনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় একটি দলের সন্ত্রাসীরা। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উল্টো বিপ্লবীদেরই বহিষ্কার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে কুয়েট প্রশাসন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেইসঙ্গে ভিসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার আহ্বায়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ নেতা আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে অন্যায়-অবিচার করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কুয়েটের ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে অনশনে বসেছেন। তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছি এবং কুয়েটের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।’
ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি করে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জাবি শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘এ দেশের হাজারো ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে সফল করেছে। তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ছাত্র উপদেষ্টারা ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করছেন, অথচ কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায়ের কোনো প্রতিকার করছেন না। আপনারা ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন।’
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, আপনারা যদি নির্দিষ্ট কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করতে চান, তাহলে পদত্যাগ করুন। দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের চেয়ারে বসানো হয়নি। কুয়েট ভিসির পদত্যাগ নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।’
৫২৪ দিন আগে