সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
সুনামগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
সুনামগঞ্জের ছাতকে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামের মতিউর রহমান মতিন, দিলদার হোসেন ও কামারগাঁও গ্রামের বিল্লাল হোসেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ আগস্ট সকালে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে ছাতকের ওই তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় হাসামপুর গ্রামের বখাটে যুবক মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন। উপজেলার সিংচাপইড় গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ওই দুই যুবক। পরবর্তীতে ধর্ষকদের সহযোগিতায় আসামি বিল্লালসহ আরও এক যুবক ভুক্তভোগীকে অন্য গ্রামে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ্যে এলে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এরপর অভিযুক্ত তিন ধর্ষকসহ ৫ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর ভাই।
পুলিশ অভিযুক্তদের বিষয়ে আদালতে চার্জ দাখিল করলে সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ (সোমবার) আলোচিত এই মামলার রায় দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। রায়ে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০-এর ৭ ধারায় মতিউর রহমান মতিন ও দিলদার হোসেনকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই আইনে ৯ এর ৩ ধারায় দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে আব্দুস সোবহান নামের একজনকে বেকসুর খালা দেওয়া হয়।
মামলার রায় শুনানীর সময় মতিউর রহমান ও দিলদার হোসেন উপস্থিত থাকলেও দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি বিল্লাল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শামসুর রহমান। তিনি বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে কলেজছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরের ভেতরে ঢুকে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মারা যান। জীবিকার তাগিদে শুক্রবার রাতে তার মা ও ভাই ওই মেয়েটিকে ঘরে রেখে সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে রেণু পোনা শিকারের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী নদীতে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুই যুবক সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর চিৎকারে পাশের ঘর থেকে চাচার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১১ দিন আগে
জামালপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন তিনি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার শীলদহ গ্রামের মো. শিপন (২১), মো. ইব্রাহিম (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২২) ।
রাষ্টপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজুর রহমান মন্টু ও হাফিজুর রহমান হিরু মিয়া।
অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ইসলামপুর উপজেলার শিলদহ গ্রামের প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে তারা বাড়ির কাছাকাছি এক জঙ্গলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হলে সাদিক ভুক্তভোগীকে একা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে এবং তাদের বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিপন, ইব্রাহিম ও ইউসুফ ভুক্তভোগীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ধর্ষকরা তাকে রাত ১০টার দিকে বাড়ির সামনে রেখে পালিয়ে যান। এরপর ভুক্তভোগী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তার পরিবারকে জানায়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা ৪ জনকে আসামী করে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার দুই বছর পর ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) এ রায় ঘোষণা করেন। প্রেমিক যুবকটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
২০ দিন আগে
হবিগঞ্জে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ১
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে আসা এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩ ও সিপিসি-১-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আখাউড়া থানার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. শাহিন মিয়া (৩০)। তিনি মাধবপুর উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা।
গত ২৩ মার্চ বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী তার পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে মাধবপুর বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে সুরমা চা বাগানে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা বাগানের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় দুই ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘ডাকাত’ বলে ধাওয়া করলে তরুণীর সঙ্গে থাকা ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপর অভিযুক্তরা তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক চা বাগানের ভেতরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে মারধর করে তার স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে, ভুক্তভোগীর সঙ্গী পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে (৩৪) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর কানের দুল উদ্ধার করা হয়। তবে মো. শাহীন মিয়া সে সময় পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৫৯ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, আটক ৫
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন রাতেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়কের উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের মসলেমপুর এলাকার ফাঁকা মাঠ নামক স্থানের একটি লিচু বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই ঘটনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বামীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে থানায় নিয়ে এসে বসিয়ে রাখে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই নারী (২৬) পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে তার স্বামীর বাড়ি। বারো মাইল এলাকার ওই হোটেলে কাজ শেষ করে রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানযোগে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় উপজেলার মসলেমপুর ফাঁকা মাঠ এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই ভেড়ামারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে।
আটকৃতরা হলেন— মসলেমপুর গ্রামের কালু প্রামানিক (৪৬), ষোল দাগ এলাকার মুর্শিদ শেখ (৪৫), টিটু মন্ডল ওরফে টিপু (৪২), এজাজুল (৪২) এবং ভ্যানচালক রুবেল আলী (২৪)।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার স্বামীকে পুলিশ ভেড়ামারা থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাতভর তাদের থানায় রাখা হয়। সে সময় সাংবাদিকরা কথা বলার চেষ্টা করলেও ভেড়ামারা থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
ভুক্তভোগী নারীকে রাতেই থানায় নেওয়া হলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতে হয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পরও তাকে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা শেষে ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে ওই নারী দাবি করেছেন যে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন। তার দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা পাঁচজনকে আটক করেছি।’
২৯৭ দিন আগে
সিলেটে প্রতিবন্ধী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ২
সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঈদের দিন (৭ জুন) রাতে কদমতলি এলাকার যমুনা মার্কেটের ডায়মন্ড আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
রবিবার (৮ জুন) দুপুরে এ ঘটনায় হোটেলের ম্যানেজার ও নাইট গার্ডকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—হোটেলের ম্যানেজার লুৎফুর রহমান (৪৫) ও নাইট গার্ড খিজির আহমদ (৩৫)।
আরও পড়ুন: ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, গ্রেপ্তার ২
এ বিষয়ে কদমতলি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ওই তরুণীকে কদমতলি এলাকায় একা পেয়ে তাকে ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হোটেলের ম্যানেজারসহ পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার ও নাইট গার্ডকে আটক করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভিকটিম বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন আছেন।’
বাকি অভিযুক্তদের ধরতেও অভিযান চলছে বলে জানান এসআই সুমন চক্রবর্তী।
৩৫২ দিন আগে
কেরাণীগঞ্জে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
তিন বছর আগে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে মারিয়া নামে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন— কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার খোলামোড়া গ্রামের মো. সজিব, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার খাঁকান্দা গ্রামের মো. রাকিব এবং শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার মুসলিম মাতবরের ওরফে ভ্যালকা শাওন।
আরও পড়ুন: এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার
এছাড়াও লাশ গুমের ঘটনায় তাদের প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম বলেন, ‘আসামিদের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, আলী আকবর (২২) এবং মো. রিয়াজ (২২) নামে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি রাকিব, রিয়াজ এবং শাওনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব এবং শাওনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১১ জুন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার আঁটিবাজার এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিল।
ডিউটি চলাকালে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পায়, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে একজনের লাশ পানিতে ভাসছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
পরে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শুরু করে।
প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ভুক্তভোগীর বান্ধবী বৃষ্টি আক্তার সাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, এটা তার বান্ধবী মারিয়ার লাশ। পরে পুলিশ শাওনকে গ্রেপ্তার করে।
দোষ স্বীকার করে আদালতে শাওন জবানবন্দি দেয়। শাওন জানায়, তিনিসহ মো. রাকিব, মো. সজিব, মো. আলী আকবর মিলে ভুক্তভোগী মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের পানিতে ফেলে রাখে।
আরও পড়ুন: আইন সংশোধনসহ শিশু ধর্ষণের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে সরকার
পরে রাকিব এবং সজিব গ্রেপ্তার হয়। তারাও একই কথা বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলাটি তদন্ত করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক অলক কুমার দে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
৪২৮ দিন আগে
কুমিল্লায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
কুমিল্লার চান্দিনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বাদী হয়ে শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে চান্দিনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মো. বিল্লালের ছেলে মো. সোয়েব ও একই ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে প্রভাত চন্দ্র সরকার এর ছেলে রতন চন্দ্র সরকার।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রী চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। সে কচুয়া উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত ১৯ মার্চ বিকালে চান্দিনা ও কচুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা কৈলাইন বাজারে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে নারী সাংবাদিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানায়- বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যার পর অটোরিকশায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফেরার পথে ৫ থেকে ৬ জন যুবক আমার অটোরিকশাটি থামিয়ে অটোরিকশাচালক ও আমাকে চর থাপ্পর দিয়ে টেনে হেঁচরে জমির মাঝে একটি সেলু মেশিনের ঘরে নিয়ে যায়। অটোরিশাচালককের হাত-পা বেঁধে পাঁচ যুবক তাকে ধর্ষণ করে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত দুই যুবককে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়। পরদিন ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
৪৩১ দিন আগে
রাজধানীতে নারী সাংবাদিককে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় এক নারী সাংবাদিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে আজ (মঙ্গলবার) রাতে জানিয়েছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
ইউএনবিকে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী দাবি করা ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর আজ সকাল ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে এনামুল হক (৩৮) ও মহিদুর রহমান (৫০) নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজনসহ আটজনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও আটজনসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিসি তালেবুর।
৪৩৫ দিন আগে
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার
বহুল আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা বদলি করতে হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ২০২০ সালে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুই অভিযোগের বিচার চলবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।
সোমবার (১৭ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ খারিজ করে এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ব্যারিস্টার কামারুন মাহমুদ দীপা।
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে শাহ পরান থানায় মামলা করেন।
মামলায় আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন জানান, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর চেয়ে রিট করেছিলেন ভিকটিমের স্বামী। প্রায় দুই বছর পরে সোমবার মামলার শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষ নিজেদের আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল। এখন এ বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে ত্বরান্বিত হবে এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করি। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে ছিল। তারপর এটি আর এগোয়নি বলে জানান আইনজীবী।
এ ধর্ষণ মামলায় ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার
অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।
এছাড়া এ ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়রা আদালতে পৃথক অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। পরে বাদীপক্ষ হাইকোর্টে আসলে দুটি মামলা এক আদালতে চলবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০২২ সালের ১১ মে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন আদালত।
২০২১ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণ মামলায় এবং চাঁদাবাজির মামলায় ২০২২ সালের মে মাসে অভিযোগ গঠন করা হয়। কিন্তু সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি। এ কারণে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার চেয়ে মামলার বাদী হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি শেষে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। রায়ে ৩০ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির জন্য প্রজ্ঞাপন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
৪৩৫ দিন আগে