ভারতীয় হাইকমিশনার
হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বা সেনাবাহিনী ভারতে আনেনি: ত্রিবেদী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
১৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা-দিল্লি, চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার আশা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান।
হাইকমিশনারের সঙ্গে ‘খুব ভালো, আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। এছাড়া সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব। আর অবশ্যই, যখন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন...আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা যখন পরিবেশ অনুকূল হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সফর করব।’
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘অনেক গুঞ্জনই থাকে, কিন্তু আমি গুঞ্জন নিয়ে কথা বলি না। আমি বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি, আর বাস্তবতা হলো—আজকে আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’
সম্পর্ক ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার বলেন, আমি আবারও বলছি, আমাদের আমন্ত্রণ খোলা আছে। আমার মনে হয় না, তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন আছে। সবকিছুই খুব ইতিবাচক। তবে আমাদের যথাযথ সময় দিতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরবর্তী যোগাযোগের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময় খুঁজে নেবে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই নিজেদের সুবিধাজনক মনে করবেন, তখনই বিষয়টি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী।
নেতিবাচক কোনো কিছুর প্রশ্নই ওঠে না উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রশ্নই নেই। আমি ইতিবাচক, প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের জনগণও ইতিবাচক। সবকিছুই সম্ভব।’
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কাজ এগিয়ে চলছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তার সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি হুমায়ুন কবিরকে খুবই নীতিবান, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও খোলামেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাদের আলোচনা খোলামেলা ও ইতিবাচক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রিবেদী। তিনি জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর একটি সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি খুশি। পাশাপাশি তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও আমার শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার চমৎকার বৈঠক হয়েছে।’
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে ভারত আবারও জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করে দেশটি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী সম্পর্ক চায়।
বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান মুখপাত্র।
জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে, গঠনমূলক দিকে এবং দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নেওয়া।’
১৭ দিন আগে
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর তারিখ শিগগিরই ঘোষণা হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এখন আমরা এরোপ্লেনে যাই, সেটি হচ্ছে একটি আলাদা ক্লাস। সেখানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ সড়ক ও রেল দিয়ে যাতায়াত করে। আমি তো রেলমন্ত্রী ছিলাম। রেলমন্ত্রী মানে সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও বলেন, রেল মাঝে যে কারণেই হোক, বন্ধ ছিল। কিন্তু মালবাহী ট্রেন বন্ধ হয়নি। আমি শুনলাম যে অলমোস্ট দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সেটি খুবই ভালো কথা। তার মানে বাণিজ্য চলছে।
মালবাহী ট্রেনের এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে সড়ক, রেল আর জলের এই ট্রেড আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।
মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই আমরা একটা ভালো খবর দিতে পারব, মৈত্রী এক্সপ্রেসের।
তিনি আরও বলেন, আমার মনে হচ্ছে, একটি শুভ খবর আসছে। সেটি খুব শিগগিরই আসবে। এ ব্যপারে যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া ট্রেনটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান হাইকমিশনার। তিনি বলেন, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালুর বিষয়ে খুব শিগগিরই আমরা একটা ফিক্সড ডেট দিয়ে দিতে পারব। এ ব্যাপারে মিটিং চলছে।
দুই দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ করার বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, মন্ত্রী মহোদয় একটা কথা বললেন যে, একটি রুটে এখন ছয় ঘণ্টা, সাত ঘণ্টা লাগছে, কীভাবে তিন ঘণ্টা কমানো যায়। এ ব্যাপারে পদ্মা ব্রিজ নিয়ে টেকনিক্যালি কথা হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ ত্রিবেদীর
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানান দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার ও মাননীয় ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফর এবং গণতন্ত্রের মন্দির ভারতের সংসদ ভবন পরিদর্শনের জন্য আমরা আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’
এছাড়া ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পক্ষ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি মাননীয় স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশের স্পিকার আমার বন্ধু। তাকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি। তিনি জনবান্ধব। বিষয়টি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন, সেগুলোর এজেন্ডা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের উদ্দেশ্যই যে জনকল্যাণমুখী, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। যখন উদ্দেশ্য জনকল্যাণমুখী থাকে, তখন কাজ এগিয়ে যায়।’
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উপায়, রোহিঙ্গা সংকট ও তাদের পুনর্বাসন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিভিন্ন উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে সব সময় এগিয়েছে এবং সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তথাকথিত ‘সাজানো’ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছে।
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক মূলত সরকারকেন্দ্রিক ছিল উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।’
পারস্পরিক সম্মান এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত বলেও তিনি জোর দেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করার গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বর্তমান ভারত সরকার জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে।
এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন হাইকমিশনার।
৪৩ দিন আগে
সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অতীতে আটকে থাকা যাবে না: ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অতীতে আটকে থাকা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ হবে না।’
বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। আর ইন্টারনাল পলিটিক্স (অভ্যন্তরীণ রাজনীতি) নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না, আমাদের বলা উচিতও নয়। কেননা, দেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, দেশের নির্বাচিত সরকার জনগণের জন্য যা ভালো বুঝবে, ওটাই আসল কথা।
ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে দুই দেশের সম্পর্ককে কীভাবে দেখেন, জানতে চাইলে হাইকমিশনার বলেন, ‘প্রতিনিধি তো আমরা একই চাই, যে পিপল-টু-পিপল রিলেশনশিপ, ওইটা সব সময়...আমি না থাকলে অন্য কেউ আমার জায়গায় থাকলেও একই জিনিস। আপনারও যে প্রতিনিধি ওখানে (দিল্লিতে) আছে, উনিও একটাই কথা চান।’
এছাড়া দুই দেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, সর্বোপরি যেটা হয় যে, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভার পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য যা কিছু ভালো, সে বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। আর আমরা তো সব সময় বলি যে আমরা তো একটি স্বপ্ন শেয়ার করি।
দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের কথা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বর্ডার তো শেয়ার করিই, তার জন্য আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। অ্যাজ অ্যা নেইবার (প্রতিবেশী হিসেবে) আমার দায়িত্ব বেড়ে যায়। আর এই নেইবারে আমি সবসময় বলি, উই আর ইকুয়াল (সমান)।’ কেউ বড় নয়, কেউ ছোটও নয়, বলেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ চ্যালেঞ্জকে পরস্পরের উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে। গণতন্ত্রে বাংলাদেশের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো আমাকে উপলব্ধি করতে হবে। আবার ভারতের চ্যালেঞ্জগুলোকেও বাংলাদেশকে উপলব্ধি করতে হবে। এটা মাথায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
অতীতের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমরা যদি অতীতে আটকে যাই, অতীতকে যদি আমরা ভুলতে না পারি, তাহলে তো উন্নয়নের কাজ হবে না!
আজকের বৈঠকে দুই দেশের মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কীভাবে আমরা দুই দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারি, আন্তঃনির্ভরশীল মুক্ত বাণিজ্য—এগুলো নিয়েও কথা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে ভারতীয় দূত সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘উনি সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আর বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির আজকে পয়লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে উনি তার দেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। এটা একদম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর আমাদের মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত একটা আলোচনা হয়েছে।’
সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে উনি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। উনি নিজেও যেহেতু একজন পলিটিশিয়ান, এমপি ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন ভারতের। উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আমি এবং আমার মন্ত্রী আমাদের রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচনগুলো নিয়ে আমরা বলেছি, চলতি অর্থবছরে আমাদের নির্বাচনগুলো হবে এবং এই নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নির্বাচনগুলো আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের ভোটে নির্বাচিত, এই আরকি। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যের মধ্যেই ছিল আর কি।’
৪৫ দিন আগে
হাদি হত্যার আসামি ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার তাগিদ ঢাকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ এবং শহিদ ওসমান হাদিকে হত্যায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করতে গেলে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মধ্যে এ দুটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আজ বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ত্রিবেদীকে বাংলাদেশের ষোড়শ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় ভারত। তিনি প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হন।
গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে ত্রিবেদী আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ঢাকায় কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
৬৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
৬৭ দিন আগে
ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারতের হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাতকালে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, পৃথক এক বার্তায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এই আলোচনাটির কেন্দ্রে ছিল পারস্পরিক আগ্রহ ও পারস্পরিক কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে জনগণ-কেন্দ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। হাই কমিশনার ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নমূলক আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইতিবাচকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারতের অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
৭৩ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অস্বস্তি নিরসন করা খুবই প্রয়োজন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বিদ্যমান কিছু ‘অস্বস্তি’ দূর করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ সরকার বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা এখন রিভিউ (পর্যালোচনা) করছি। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের সেটা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাধিক দাওয়াত আছে। সে সবগুলো তো অনেক সময় ধরে... উনি যেমন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাবেন, সব কিছু আমাদের সামগ্রিকভাবে দেখতে হচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল আমার প্রথম সাক্ষাৎ। এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ত্রিবেদীর আজকে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করিনি। এটাই স্বাভাবিক, কারণ এর জন্য আমাদের সময় পড়ে আছে।’
দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, তবে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেটের (নতুন করে শুরু) ব্যাপারে—এটা তো আমরা আগেও বলেছি—আমরা দুজনেই ঐকমত্য পোষণ করি। পারস্পরিক স্বার্থ সামনে রেখে এবং আমি বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা ঐকমত্য পোষণ করেছি।
পুশ-ইনসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, আজকে আমরা কোনো বিশেষ বিষয়ে কথা বলি নাই। কিছু কিছু ইরিটেশন (অস্বস্তি) আছে, উনিও জানেন, আমিও জানি। এগুলো নিরসন করা খুবই প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা তো সকলেই উপলব্ধি করেন।’
ভারতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজকে আগেই বলেছি, এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। উনি নিজেকে আমাদের কাছে উপস্থাপন করলেন সরকারিভাবে। এই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করলেন। আপনাদের বললাম একটু আগে যে আমরা বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে এবার কথা বলিনি। আমাদের মধ্যে যে বিষয়গুলো আছে, আগামী দিনগুলোতে সব নিয়েই আমরা আলোচনা করব।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অজিত দোভাল সাহেবের সঙ্গে আমার ম্যানিলাতে দেখা হয়নি, জয়শঙ্কর সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এবং সাধারণভাবে উনি জানেন যে মিস্টার ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার বৈঠক আছে। আমরা দুজনেই আশা প্রকাশ করেছি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই কাজ করবে।’
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের আগের দিন ভারতীয় হাইকমিশনারের এ সাক্ষাতের কোনো বিশেষ তাৎপর্য আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, এটার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আমি গতকাল ফিরে এসেছি এবং যারা যারা উনার সঙ্গে আমার মিটিংটা হওয়ার প্রয়োজন ছিল, আমি যত দ্রুত সম্ভব সে মিটিংটা করে নিয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের আসন্ন সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে ম্যানিলাতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, বৈঠক হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেছি।
‘আপনারা জানেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমুখী। তারাও চাইছেন সম্পর্কটাকে আরও এগিয়ে নিতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (সার্জিও গোর) কেবল ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত না, উনি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষয়ভিত্তিক প্রতিনিধি। এটি তার প্রথম সফর। দক্ষিণ এশিয়া যেহেতু তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, বাংলাদেশও তার অন্তর্ভুক্ত। প্রথম সফর হিসেবে আমরা ধারণা করছি এটা এক্সপ্লোরেটরি (অনুসন্ধানমূলক) সফর হবে। উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গে না, অন্যান্য অনেক স্টেকহোল্ডারের (অংশীজন) সঙ্গেও কথাবার্তা বলবেন।’
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে উনি অবগত আছেন। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে যে বৈদেশিক সহায়তা আমরা পেয়েছি, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সর্বাধিক। আমরা সেটা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করি। উনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন বলে আমরা আশা করছি।’
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্ভাব্য সফর নিয়ে কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সংক্ষেপে বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের চাপ অনুভব করছি না।’
বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার মনে হওয়ার বিষয় নয়, কূটনীতিতে আমরা আন্দাজে কাজ করি না। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করি।’
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য দেশের পরিপ্রেক্ষিতে জিরো-সাম গেম নয়। একজনের সম্পর্ক ক্ষতি করে আরেকজনের সম্পর্ক বৃদ্ধি করছি—আমরা কখনোই সেটা করব না। সব দেশের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে, নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। কারো সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানেই এই নয় যে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ভারতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যান, আমরা আশা করব সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হোক। আবার মার্কিন প্রতিনিধির সফরও আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অংশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তো একটা দেশের না, বহু দেশের সম্পর্ক আছে। এটা তো স্ত্রী এবং সতীনদের মধ্যে মারামারি নয় ভাই! এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ, আমরা সেখানে যাব।’
৭৮ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
৭৮ দিন আগে