জলদস্যু
সুন্দরবনের চার বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে র্যাব-৬-এর ধারাবাহিক অভিযানে চারটি ভিন্ন বাহিনীর মোট ৫২ জন জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত কার্যক্রমে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন ও আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্যসহ মোট ৫২ জন জলদস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা জলদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির কারণে চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বনটি পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
এর ঠিক আগের দিন এই ৫২ জন দস্যুর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা বনের জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব-৬-এর অধিনায়ক।
২ দিন আগে
খুলনায় অস্ত্র ও গুলিসহ সুন্দরবনের জলদস্যু আটক
সুন্দরবনের জলদস্যু ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহানকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬ এর স্পেশাল কোম্পানির অভিযানিক দল। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি ওয়ান শুটার গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা সিসা বুলেট উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে র্যাব-৬ খুলনার পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজহারুল ইসলাম ওরফে খানজাহান খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের সোনামুকুন্দি মোরলের খাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৬২ দিন আগে
সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৬ জেলে
মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের শিকার ১০ জেলের মধ্যে ৬জন জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরেছে।
শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে সাদ্দাম, ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলাম এবং আজ (শনিবার) ভোরে আনারুল, ইমরান ও সুশান্ত বাড়িতে ফিরে আসেন। এর আগে অপহরণের শিকার এসব জেলেদের পরিবারের সদস্যরা জলদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করেন।
ফিরে আসা জেলে ও তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সাদ্দামের মুক্তিপণ বাবদ ৪০ হাজার, আনারুল, সুশান্ত এবং ইমরানের জন্য মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এছাড়া ইউনুস আলী ও সাইফুল ইসলামের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। তবে এনামুল ও হযরতসহ চার জেলের এখনও কোন খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেরা দাবি করেছেন, ১ এপ্রিল বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনার পর র্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ তৎপর হওয়ার কারণে জলদস্যুরা অপহৃত অপর জেলেদের নিয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার মো. ফজলুল হক জানান, অপহরণ কিংবা ফিরে আসার বিষয়ে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ এবং মামুন্দো নদী থেকে ‘ডন ও ‘আলিফ ওরফে আলিম’ বাহিনীর পরিচয়ে অপর চার জেলের সঙ্গে তাদের অপহরণ করা হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ধরনের ঘটনায় জেলেরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। অপহৃতদের জীবনের ঝুঁকির কারণে তারা পুলিশকে তথ্য দিতে চায় না। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
এদিকে, বনবিভাগের কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের নোটাবেঁকী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে সাতজনের একটি মৌয়াল দল মধু সংগ্রহ করছিলেন। পরবর্তীতে অভয়ারণ্যে মধু কাটার অভিযোগে স্মার্ট টহল টিমের সদস্যরা তাদের আটক করেছেন। তবে নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থানের কারণে আটক ৭ মৌয়ালের কারও নাম পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১৫১ দিন আগে
সুন্দরবন থেকে ৭ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
মুক্তিপণের দাবিতে ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর হাঁসখালী, চেলাকাটা, হেতালবুনি খাল থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা জেলেরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন— সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), আনারুল ইসলাম (২২), নাজমুল হক (৩৪), শামিম হোসেন (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও হরিনগর জেলেপাড়ার মুজিবুল হোসেন (৩৫)।
ফিরে আসা দুই জেলে ফজের আলী ও সবুজ মিয়া জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে কাঁকড়া ধরার জন্য তারা সুন্দরবনে যান। বনে কাঁকড়া শিকারের জন্য রবিবার তারা মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তিনটি নৌকায় ১০ জন বন্দুকধারী তাদের ঘিরে ধরে। এ সময় তারা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকাশ নম্বর দিয়ে সেটিতে মুক্তিপণের মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তারা আরও জানান, ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিলেন। এখন চালান তো উঠবেই না, উল্টো মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে। এমন দুরবস্থার মধ্যে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল বলে আক্ষেপ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা নিচে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আপনারা কোস্টগার্ডকে একটু অবহিত করেন।
কোস্টগার্ড কৈখালী বিসিজি স্টেশন সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিষয়টি তারা শুনেছেন। অপহরণের শিকার জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৭০ দিন আগে
মেঘনায় জলদস্যুর দুদলের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
মুন্সীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জলদস্যুর দুদলের বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কালীরচর ও চাঁদপুরের মোহনপুরের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ভাসানচরের বাসিন্দা রাসেল ও চাঁদপুর মতলবের রিফাত। আহত আইয়ুব আলীকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: পল্লবীতে 'মাদক সংক্রান্ত বন্দুকযুদ্ধে' নারী নিহত
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কানা জহির ও কিবরিয়া দলের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এ ঘটনায় দুজন নিহত হন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন আহত হন।
মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন জানান, নৌপুলিশ কাজ করছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
৫৮১ দিন আগে
বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলকে আমরা জলদস্যু মুক্ত করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও এর আশপাশের সমস্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে আমরা জলদস্যু-ডাকাত মুক্ত করব।’
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গাস্থ র্যাব-৭ এর সদর দপ্তর মাঠে ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করব। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
তিনি আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের উদ্দেশে বলেন, ‘দস্যুতা আপনাদের জীবনে কখনো শান্তি ফিরিয়ে আনবে না।’
এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমপর্ণ করেন বঙ্গোপসাগর দাপিয়ে বেড়ানো অর্ধশত জলদস্যু।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করব না। যারা এই পেশা ত্যাগ করবে না, তারা কী দুঃসংবাদ লিখে নিয়ে যাবে সেটা একমাত্র আল্লাহই জানেন।’
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে র্যাবের ৩৩ জন সদস্য জীবন দিয়েছে। হাজার হাজার সদস্য আহত হয়েছেন, অনেকের অঙ্গহানি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ এখানে একজন নারী জলদস্যুও রয়েছে। তারা কখনো অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হয়ে বাধ্য হয়ে এসব কাজে জড়িত হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা তাদের এইসব কাজে জড়িত হতে বাধ্য করেন।’
চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম তো আগের সেই চট্টগ্রাম নেই। অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। টানেল সেতু সব হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এইসব এলাকায় জলদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের জলদস্যুদের ভালো অবস্থা দেখে আজ তারা উদ্বুদ্ধ। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। যেসব জলদস্যু এখনো ফিরে আসেনি তাদের কাউকে আমরা ছাড় দেব না। যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করা হবে।’
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের ১৮টি বাহিনীর ৫০ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, র্যাবের মহাপরিচালক খুরশিদ হোসেন, সিএমপি পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মাহাবুব আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নূরে আলম মিনা, র্যাব-৭ এর পরিচালক মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
৮২৬ দিন আগে
চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫০ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১২ গ্যাংয়ের ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর এলিট হলে অনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকার জলদস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করে অস্ত্র জমা দেন।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনায় জলদস্যুদের হাত থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ মুক্ত: খালিদ
র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক শরীফ-উল-আলম বলেন, ৫০ জন জলদস্যুর মধ্যে একজন নারী এবং তাদের মধ্যে তিনজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রয়েছেন।
এক্ষেত্রে ৩৫টি বন্দুক, ১৮টি এসবিবিএল, ১৭টি ওয়ান শাটার গান, ১টি গান, ১টি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১টি এসএমজি, ২টি এয়ারগানসহ আন্তর্জাতিক অস্ত্র জমা দেওয়া হয়।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৩৪২ জন জলদস্যুকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৬০৩টি অস্ত্র ও ২৯ হাজার ১২৩টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি বেশি ভয়ংকর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৮২৬ দিন আগে
জিম্মি জাহাজ আব্দুল্লাহর মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জলদস্যুরা
সোমালিয়ার উপকূলে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ জিম্মি করার ৯ দিনের মাথায় জাহাজ মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে জলদস্যুরা।
বুধবার (২০ মার্চ) দুপুরে জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানায় এমভি আব্দুল্লাহ’র মালিকপক্ষ এসআর শিপিং (কবির গ্রুপ)- এর গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ার হাবিয়ো বন্দরে নোঙর করেছে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ
তিনি ইউএনবিকে বলেন, বুধবার দুপুরে জলদস্যুরা ফোন করেছে। তবে এখনও কোন কিছু তারা দাবি করেননি। নাবিকদের বিষয়ে এবং জাহাজের সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে মাত্র। এখন আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা আশা করছি একটি সমাধানের পথ বেরিয়েছে। দস্যুরা জানিয়েছে নাবিকরা সবাই ভালো আছে। তাদের উপর কোনো নির্যাতন করা হবে না। তারা আবারও যোগাযোগ করবে।
নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, যোগাযোগ শুরুর দিকটি ইতিবাচক। মালিকপক্ষ ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠান জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, মোজাম্বিক থেকে ৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ নামে বাংলাদেশি একটি জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। পরে জাহাজটি তারা সোমালিয়ার একটি উপকূলে নোঙ্গর করে। জিম্মি করার ৯ দিনের দস্যুদের পক্ষ থেকে বুধবার প্রথম যোগাযোগ করা হয় বলে মালিক পক্ষ জানায়। এর মধ্য দিয়ে ২৩ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্ত হওয়ার আশার আলো দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কয়লাভর্তি জিম্মি জাহাজ আব্দুল্লাহতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী
৮৯৭ দিন আগে
সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি সব ক্রু সদস্যকে মুক্ত করতে জরুরি পদক্ষেপ চায় নাবিক জয়ের পরিবার
সোমালিয়ান জলদস্যদের হাতে জিম্মি হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহতে কর্মরত নাটোরের জয় মাহমুদের পরিবারের প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে উৎকন্ঠায়। অর্ডিনারি নাবিক হিসাবে কর্মরত জয় মাহমুদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামে।
মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দুপুরে ভারত মহাসাগর থেকে জাহাজটিকে জিম্মি করে জলদস্যুরা। জিম্মি করা হয় জয়সহ জাহাজের ২৩ জনকে। জলদস্যুদের কবলে পড়ার মুহূর্তে জয় তার চাচাতো ভাই মারুফকে জানিয়েছিলে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা। তবে বাবা-মাকে জানাতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু চাপা থাকেনি সে কথা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পায় পরিবার। একমাত্র ছেলের বন্দিদশার কথা শোনার পর থেকে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা আবিদা বেগমের চোখে ঘুম নেই। তারা চান তাদের সন্তানসহ জাহাজের সবাইকে উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার ও জাহাজ কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, নাটোরের জয় মাহমুদ গত বছরের ২৯ নভেম্বর জাহাজটিতে যোগদান করে। জাহাজে জিম্মি ২৩ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের ১১ জন, নোয়াখালীর ২ জন। এছাড়া নাটোর, নওগাঁ, ফরিদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, নেত্রকোণা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও খুলনার নাবিক রয়েছেন।
৯০৫ দিন আগে
জলদস্যুর কবলে জাহাজ: ২৩ নাবিকের ১১ জনই চট্টগ্রামের
ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর জিম্মি ২৩ নাবিকের ১১ জনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকের প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের শিল্প গ্রুপ কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।
কেএসআরএমের কর্মকর্তারা জানান, জাহাজটি আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যাত্রাপথে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুরা জাহাজের দখল নেয়।
জিম্মি নাবিকরা সুস্থ আছেন জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জলদস্যুর কবল থেকে জাহাজ ও নাবিকদের মুক্ত করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জাহাজটির ২৩ নাবিকের মধ্যে ১১ জনই চট্টগ্রামের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: সোমালিয়ার দস্যুদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ
কেএসআরএম-এর মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জাহাজটি ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়েছে বলে জানতে পেরেছি। জলদস্যুরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে জিম্মি ২৩ ক্রুর সবাই জাহাজের কেবিনে নিরাপদে আছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জিম্মি হওয়া ক্রুরা হলেন- ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, চিফ অফিসার মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, থার্ড অফিসার মো. তারেকুল ইসলাম, ডেক ক্যাডেট মো. সাব্বির হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী এএসএম সাইদুজ্জামান, দ্বিতীয় প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম, তৃতীয় প্রকৌশলী মো. রোকন উদ্দিন, চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমদ, ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান, ইলেক্ট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, এবি মো. আনোয়ারুল হক, এবি মো. আসিফুর রহমান, এবি সাজ্জাদ হোসেন, ওএস জয় মাহমুদ, ওএস মো. নাজমুল হক, ওএস আইনুল হক, অয়েলার মোহাম্মদ শামসউদ্দিন, মো. আলী হোসেন, ফায়ারম্যান মোশারফ হোসেন শাকিল, চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলাম, জিএস মো. নূর উদ্দিন ও ফিটার মো. সালেহ আহমেদ। তাদের মধ্যে ১১ জন চট্টগ্রামের বলে জানা গেছে।
গোল্ডেন হক নামে পরিচিত এমভি আবদুল্লাহ গত বছর কেএসআরএম গ্রুপের মালিকানায় আসে। জিম্মি জাহাজটিসহ কেএসআরএম গ্রুপের মোট ২৩টি জাহাজ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে একই মালিকের ‘এমভি জাহান মনি’ নামের আরেকটি জাহাজ জিম্মি করেছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। সে সময় মুক্তিপণ দিয়ে জাহাজটি মুক্ত করা হয়।
৯০৫ দিন আগে