রোহিঙ্গা
মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহতের আশঙ্কা
মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকা দুটিতে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও যাত্রা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে লিন অং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্রদের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে বছরের এই সময়ে তারা সাধারণত এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলেন। কারণ, এ সময়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেশি হয় ও সমুদ্র উত্তাল থাকে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এসব শরণার্থীর নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০১৭ সালে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যারাই এখনও মিয়ানমারের ক্ষমতায় রয়েছে।
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেককে অন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখেছে সরকার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও একটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মিয়ানমারে এই অস্থিরতার কারণে ক্রমেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রাপথে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন। এছাড়া দেশটির স্থানীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধার না করে ফেলে রাখে। এমনকি তারা বিপদে পড়া নৌকার খবর পেয়েও অনেক সময় কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বৃহস্পতিবার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সর্বশেষ এই সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। এসব পথে প্রাণহানি ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এছাড়া বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
১৩ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৪০০ টন চাল দিচ্ছে সরকার
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (ডব্লিউএফপি) ৪০০ টন চাল দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে আজ ১৩৯ টন চাল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উখিয়ায় ডব্লিউএফপির লজিস্টিকস হাবে চাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান ও বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা। এছাড়া শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির ও ভাসানচরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপের এই চাল সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি এক মাসের জন্য প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গার খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে পারবে।
ঘনবসতিপূর্ণ ও পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা শিবিরগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও বন্যায় শিবিরের বিভিন্ন এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চলাচল ও জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে এবং কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। আয়ের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ রোহিঙ্গা এখনো মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণে মানবিক সহায়তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
অনুষ্ঠানে সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু বছর ধরে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই চাল সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আমাদের অব্যাহত অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। একইসঙ্গে আমরা এই সংকটের একটি টেকসই সমাধানের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। এই সংকটে ডব্লিউএফপির কার্যকর ও ফলপ্রসূ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও প্রশংসার দাবিদার।
এই চাল ডব্লিউএফপির চলমান খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ডব্লিউএফপি নিয়মিত এ কর্মসূচি পর্যালোচনা করে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সংস্থাটি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তার অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন মাত্রার খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে থাকা পরিবারগুলো সর্বোচ্চ সহায়তা পাচ্ছে এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘এই সময়োপযোগী সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি ডব্লিউএফপি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানায়। বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন যখন তীব্র চাপে রয়েছে, তখন এই উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত নেতৃত্ব, মানবিকতা ও সংহতিরই প্রমাণ।’
খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ডব্লিউএফপি নারী ও শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, লার্নিং সেন্টারে পড়ুয়া শিশুদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩৩ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র কৃষককে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও বাজার সংযোগে সহায়তা দিচ্ছে, যাতে তারা স্থানীয় বাজার এবং ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করতে পারেন।
আগামী ১২ মাসে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ডব্লিউএফপির জরুরি ভিত্তিতে ১১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
কোকো উশিয়ামা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা এখনো জীবনরক্ষাকারী সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর পাশে থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।’
১৯ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অস্ট্রেলিয়া-ইউনিসেফের ১৩৭ কোটি টাকার চুক্তি
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সই করেন।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউনিসেফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এ সহযোগিতার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চুক্তি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা প্যাকেজের অংশ।
২০১৭ সাল থেকে এ আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত মোট ১২৬ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা) মানবিক সহায়তা দিয়েছে।
নতুন এ ১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তহবিল শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করবে ইউনিসেফ।
৩৫ দিন আগে
বাস্তুচ্যুতির ৯ বছর: রোহিঙ্গাদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান
এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। বিশেষ এই দিনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা—ইউএনএইচসিআর ও মানবিক সহায়তা অংশীদাররা।
মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভার পালে দে নাসিওঁতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ তার বক্তব্য এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ বছর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়ার নয় বছর পূর্ণ হবে। ইউএনএইচসিআর তার অংশীদারদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভুলে না যায়। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছেন।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে আসছেন। বাংলাদেশ সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে পর্যায়ক্রমে আসা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় ঢলটি আসে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে, যখন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদার সহায়তা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, এমন এক সময়ে ইউএনএইচসিআর এই আহ্বান জানাচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকটের চাপ বাড়ছে। এর ফলে সীমিত সম্পদের মধ্যে কঠিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য সেবাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গত মাসে বাংলাদেশে জাতিসংঘ এবং এর অংশীদাররা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন করেছে। প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও এই অতিগুরুত্বপূর্ণ চাহিদাভিত্তিক আবেদনটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী কার্যক্রমে মানবিক অর্থায়ন বাংলাদেশকে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বজায় রাখতে এবং শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনে সহায়তা করেছে। তবে উল্লেখযোগ্য মানবিক চাহিদা রয়ে গেছে এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সংহতি ছাড়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর দুর্দশা আরও বাড়বে।
বাবর বালোচ বলেন, মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও ব্যাপকভাবে ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগ এবং কমে যাওয়া সহায়তা পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে নারী ও কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং ২০২৪ সালের শুরু থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা আরও প্রায় দেড় লাখ নতুন আগত মানুষের জন্য।
তিনি আরও জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা, নিপীড়ন এবং সংঘাত অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ফলে অনেক শরণার্থী মরিয়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন, প্রাণহানির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও অনেক শরণার্থী ভালো জীবনের আশায় অন্য দেশে যেতে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।
তার মতে, ২০২৫ সাল ছিল এ ধরনের যাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক প্রয়োজনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ।
ইউএনএইচসিআর জানায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অতি জরুরি সহায়তা আবেদনে ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের ৬০ শতাংশ পাওয়া গেছে। তবে শুধু ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শরণার্থীদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি ব্যয় ও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমারে সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে প্রচেষ্টা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
৫৭ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন।
তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরওয়ের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।।
এ ছাড়াও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।
সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৭ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো দিচ্ছে ফিনল্যান্ড
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিচ্ছে ফিনল্যান্ড সরকার।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিসহ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে, যেখানে এত দিন অর্থের ঘাটতি ছিল।
মিয়ানমারে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসার প্রায় এক দশক পরও বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সীমিত জীবিকার সুযোগের কারণে তারা মূলত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ২৩ শতাংশ শরণার্থী পরিবার ‘কাজের বিনিময়ে অর্থ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আয় করেছে, যা তাদের জন্য অনুমোদিত একমাত্র আনুষ্ঠানিক জীবিকামূলক কার্যক্রম। ৪২ শতাংশ পরিবারের আয়ের উৎস ছিল অস্থায়ী এবং অনিশ্চিত, আর ৩৫ শতাংশ পরিবারের আয়ের কোনো উৎসই ছিল না।
তহবিল সংকোচনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী, কিশোরী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বয়স্ক মানুষ। পাশাপাশি ২০২৪ সালের শুরু থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাও এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে জায়গার অভাবে তাদের অনেকেই এখনও আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা এখন একটি নাজুক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্রমহ্রাসমান তহবিল, ক্যাম্পের অবনতিশীল পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ঝুঁকি এবং মিয়ানমারের চলমান অস্থিতিশীলতা এর প্রমাণ। এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের বর্ধিত প্রতিশ্রুতি তাদের অসাধারণ উদারতার পরিচয় বহন করে।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’
নয়াদিল্লিতে ফিনল্যান্ড দূতাবাসের অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মারি আহমেদ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা জনগণের পাশে রয়েছে। বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পরও রোহিঙ্গারা এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগের অপেক্ষায় আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক সহায়তার পাশাপাশি একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের দুর্দশা যেন বৈশ্বিক দৃষ্টি থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।’
এই অনুদান এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ ও এর মানবিক অংশীদাররা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২০ মে তারা রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের জন্য যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) ২০২৬ সালের হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে।
পরিকল্পনাটির আওতায় শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে ৭১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার চাওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জেআরপির তুলনায় এ অর্থের পরিমাণ ২৬ শতাংশ কম। এটি মূলত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ইউএনএইচসিআর জানায়, বছরের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই আবেদনের ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দেশটি ইউএনএইচসিআরের মূল তহবিলে আরও ৭০ লাখ ইউরো দিচ্ছে, যা সংস্থাটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে।
ইউএনএইচসিআরের মতে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করতে এবং মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি।
৫৯ দিন আগে
আন্দামান সাগরে নৌকাডুবি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বুধবার (১৫ এপ্রিল) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, ৯ এপ্রিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম টি মেঘনা প্রাইড নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৩ জন রোহিঙ্গা ও ৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নৌকাটি কখন ডুবেছে এবং বুধবার পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধান অভিযান চলছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ট্রলারটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রবল বাতাস এবং উত্তাল সাগরের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআরের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নাইজমান আজ (বুধবার) বলেন, এ বিষয়ে সংস্থাটির কাছে আর কোনো নতুন তথ্য নেই।
কোস্ট গার্ডের আরেকজন গণমাধ্যম কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া আটজন পুরুষ ও একজন নারী সবাই নিরাপদে আছেন। কোস্ট গার্ড তাদের উদ্ধার করে টেকনাফে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই উদ্ধার অভিযান কোনো আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ ছিল না, কারণ ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের সীমানার বাইরে।
সরকারি নীতিমালার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি ফোনে এসব কথা বলেন।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম জানায়, এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং স্থায়ী সমাধানের অভাবকে প্রতিফলিত করে।
তারা জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সীমিত মানবিক সহায়তা এবং শরণার্থী শিবিরে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাকে সমুদ্রপথে বিপজ্জনক যাত্রা বেছে নিতে বাধ্য করছে, যেখানে প্রায়ই উচ্চ আয় ও ভালো জীবনের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন ও সংহতি জোরদার করার জন্য।
১০৫ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সহায়তায় ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার দিচ্ছে কানাডা
পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে দেশটি এ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে দেওয়া এ অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের দৈনন্দিন রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পসংলগ্ন নাজুক পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নত হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, ‘কানাডা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অংশীদার হিসেবে রয়েছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক সহায়তা পরিবেশগতভাবে নাজুক একটি অঞ্চলে বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এটি শরণার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে। পাশাপাশি, অসহায় মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি কমাবে, যার মধ্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত। কানাডা আনন্দের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর ও আইওএমকে ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে, যাতে পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নত করা যায়।’
কক্সবাজার দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, ‘নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার এই সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে এবং এর জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে বসবাস নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
বাংলাদেশে আইওএমের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, ‘নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সেই পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য মৌলিক, যারা গত নয় বছর ধরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমরা কানাডাকে তাদের উদার সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই সহায়তা নিশ্চিত করবে যে শরণার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।’
২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে।
কানাডার এই অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। এর ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি কমবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত হ্রাস পাবে, একই সঙ্গে স্থানীয় সক্ষমতাও জোরদার হবে বলে মনে করছে ইউএনএইচসিআর।
১০৮ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিল জাপান
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশিদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।
পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।
১৪৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ওজিল, সঙ্গে এরদোয়ানপুত্র বিলাল
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের পুত্র বিলাল এরদোয়ান, জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাহসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশেষ বিমানে চড়ে তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন। এরপর কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে কমিশনার মহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পরে সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন বিলাল এরদোয়ান। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কথা বলেন।
তিনি বলেন, তুরস্কের সরকার ও জনগণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে থাকবে এবং তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে যাবে।
সেখান থেকে তারা সড়কপথে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির দেখতে যান। এছাড়া ক্যাম্প ৯-এ তুরস্কের ফিল্ড হাসপাতাল, ক্যাম্প ১৬-তে তুরস্কের সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্র ঘুরে দেখবেন তারা। রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনকালে তারা একটি সংক্ষিপ্ত প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ করবেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে রোজার প্রথম ইফতার করবেন তারা।
১৬০ দিন আগে