জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩০, গুলিবিদ্ধ ১
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে মারামারিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার জগদীশপুর মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
আহতদের মধ্যে ইমন মিয়া (২৩), সোহাগ (১৪), দুকু মিয়া (৪৭), গফফার মিয়া (২৫), মাহফুজ মিয়া (১৭), রুমান (২৫), আলাই মিয়া (৩৯), আব্দুর রউফ (৩৫), সাদিকুর রহমান (২০) কে সিলেটে এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বরযাত্রীর বাস উল্টে খাদে, আহত ৩০
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবহণ শ্রমিকের মারামারিকে কেন্দ্র করে গ্রামের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি ও ইট পাটকেলের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে এম এ ওসমানী হাসপাতালে পাঠান।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ছাতক থেকে সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি।
৪১ দিন আগে
জগন্নাথপুরে সন্দেহজনক ‘জঙ্গি আস্তানা’ ঘিরে রেখেছে পুলিশ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সন্দেহজনক ‘জঙ্গি আস্তানা’ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। রবিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার আষাঢ়কান্দি ইউনিয়নের ফেচী আটঘর এলাকার ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আদালত চত্বর থেকে ২ জঙ্গি ছিনতাই: গ্রেপ্তার রাফির ৭ দিনের রিমান্ড
সুনামগঞ্জ (জগন্নাথপুর সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শুভাশিস ধর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিত্যক্ত বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার সকালে পুলিশের একটি দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
বাড়ির মালিক সিলেট নগরীর বাসিন্দা বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আল কায়েদা অনুপ্রাণিত ৬ জঙ্গি গ্রেপ্তার: সিটিটিসি
দুই জঙ্গির পলায়নকে 'ব্যর্থতা' বলেছেন র্যাব মহাপরিচালক
৮১০ দিন আগে
সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু
সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলার জগন্নাথপুর ও শাল্লা উপজেলায় এই পৃথক ঘটনা ঘটে।
জগন্নাথপুরে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে বয়ে যাওয়া ঘন্টাব্যাপী প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে মা-মেয়ে ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বহু ঘরবাড়ি, ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক হারুণ মিয়ার টিন সেড ঘরের ওপর পাশাপাশি দুটি বিশাল আকৃতির ঢেউয়া ও খস গাছ প্রচন্ড ঝড়ে উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে চাপা দিলে সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল শিক্ষক হারুণ মিয়ার স্ত্রী মৌসুমি বেগম (৩৫), মেয়ে মাহিমা বেগম (৪) এবং এক বছর বয়সী ছেলে হোসাইন আহমদের মৃত্যু হয়।
পাটলী ইউপি চেয়ারম্যান আংগুর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে প্রচন্ড শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে বড় আকৃতির দুটি গাছ টিন ঘরের মধ্যে পড়ে চাপা দিলে মা ও ছেলে- মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: বজ্রপাতের সময় করণীয়
তিনি জানান, পরিবারটি খুবই গরীব। স্ত্রী সন্তানদের হারিয়ে একটি বেসরকারি স্কুলের খন্ডকালীন শিক্ষক হারুণ মিয়া এখন পাগলপ্রায়।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মা ও ছেলে- মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলার শাল্লা উপজেলার নাছিরপুর গ্রামে বজ্রপাতে মুকুল খাঁ (৫০) ও তার ছেলে মাসুদ খাঁর (৭) মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাতটার সময় এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাসুদ খাঁ তার দুই ছেলে ও শ্যালক পুত্রকে নিয়ে বাড়ির পাশে জমিতে কৃষি কাজ করতে যান। সকাল ৭টার দিকে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মুকুল খাঁ ও ছেলে মাসুদ খাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মুকুল খাঁর ছেলে রিমন খাঁ (১১) ও শ্যালক পুত্র তানভীর হোসেন (৭) আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে শাল্লা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ নিহত ৩
১০৭৯ দিন আগে
সুনামগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা: তিন আসামি ৮ দিনের রিমান্ডে
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ছয় টুকরো করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে জগন্নাথপুরের অভি মেডিকেল হল ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ, মুদি দোকানদার অনজিৎ গোপ ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসিত গোপের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড প্রার্থনা করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) পরিদর্শক লিটন দেওয়ান।
রিমান্ড শুনানি শেষে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রত্যেক আসামির আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তিন আসামির দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালত পরিদর্শক মো. বদরুল আলম তালুকদার।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তিন আসামিকে সিআইডি তাদের হেফাজতে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
মৃত জোৎস্না জগন্নাথপুর থানার নারকেলতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছরকু মিয়ার স্ত্রী। তিনি ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজের বাসায় দুই ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী।
সিআইডি জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওষুধ কেনার সুবাদে অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক গোপন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিতেশ জোৎস্নার মায়ের প্রেশার মাপার জন্য তাদের বাড়িতে যায়। তখন জোৎস্না তার গোপন সমস্যার কথা জিতেশকে জানালে সে তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলে। ওইদিন বিকেলে জোৎস্না জিতেশের দোকানে গেলে দোকানে কাস্টমার রয়েছে বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এদিকে রাত গভীর হলে জোৎস্নার বাসায় যাওয়ার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন ওই ফার্মেসির মধ্যে জোৎস্নাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেয় জিতেশ। এতে তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। এরপর রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিতেশ ও তার দুই সহযোগী এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর খন্ডিত লাশ উদ্ধার
সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ধর্ষণের বিষয়টি জোৎস্না তার পরিবারকে জানাবে বলে জানান। তখন জিতেশ ও তার সহযোগীরা জোৎস্নার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে ওই ফার্মেসিতে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে জোৎস্না দুই হাত, দুই পা ও বুক-পেটসহ ছয় টুকরা করে। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে খন্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে তারা ফার্মেসি তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই লাশের খণ্ডিত অংশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় ও লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেনি।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিতেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনজিৎ ও অসীত গোপকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
১১৩১ দিন আগে
জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর খন্ডিত লাশ উদ্ধার, ফার্মেসির মালিকসহ গ্রেপ্তার ৩
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি ওষুধের ফার্মেসি থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার (৩৪) ছয় টুকরা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ফার্মেসি মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফার্মেসি মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্য দুইজন হলো- অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও অসীত চন্দ্র গোপ (৩৬)। গ্রেপ্তার জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইতনা থানার শহিলা গ্রামের যাদব চন্দ্র গোপের ছেলে, অনজিৎ চন্দ্র গোপ একই এলাকার রসময় চন্দ্র গোপের ছেলে এবং অসীত চন্দ্র গোপ নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার সুয়াইর অলিপুর গ্রামের পতিত পবন গোপের ছেলে।
শনিবার দুপুরে সিআইডির সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এসব তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর খন্ডিত লাশ উদ্ধার
মৃত জোৎস্না জগন্নাথপুর থানার নারকেলতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছরকু মিয়ার স্ত্রী। তিনি ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজের বাসায় দুই ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী।
সিআইডি জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মুক্তা ধর বলেন, ওষুধ কেনার সুবাদে অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক গোপন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিতেশ জোৎস্নার মায়ের প্রেশার মাপার জন্য তাদের বাড়িতে যায়। তখন জোৎস্না তার গোপন সমস্যার কথা জিতেশকে জানালে সে তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলে। ওইদিন বিকেলে জোৎস্না জিতেশের দোকানে গেলে দোকানে কাস্টমার রয়েছে বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এদিকে রাত গভীর হলে জোৎস্নার বাসায় যাওয়ার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন ওই ফার্মেসির মধ্যে জোৎস্নাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেয় জিতেশ। এতে তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। এরপর রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিতেশ ও তার দুই সহযোগী এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে ট্রাক্টর-অটোরিকশা মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত ২
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি জোৎস্না তার পরিবারকে জানাবে বলে জানান। তখন জিতেশ ও তার সহযোগীরা জোৎস্নার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মুক্তা ধর বলেন, পরে ওই ফার্মেসিতে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে জোৎস্না দুই হাত, দুই পা ও বুক-পেটসহ ছয় টুকরা করে। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে খন্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে তারা ফার্মেসি তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই লাশের খণ্ডিত অংশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় ও লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেনি।
এই ঘটনার পর সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিতেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনজিৎ ও অসীত গোপকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে মাদক জব্দ, ‘ভুয়া পুলিশ’ আটক
১১৩২ দিন আগে
স্কুল কমিটি নিয়ে জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০, গ্রেপ্তার ১৪
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্কুল কমিটিতে নাম রাখা না রাখা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (০১ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে জেলার জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইসহাকপুর গ্রামে সংঘর্ষের সময় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন-নোমান আহমদ, আবদুস সালাম, শমসের উদ্দিন, জাকির আহমদ, নুর আলম, ইউনুছ মিয়া, জুবেল। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নুর আলম, ফরুক আহমদ, সুজন মিয়া, আলী নুর, শাহ আলম, জাকির আহমদ, সিজিল উল্লাহ, আংগুর মিয়া, হেলাল মিয়া, রুবেল মিয়া, নজরুল ইসলাম, মনর আলী, সফু মিয়া ও আবদুল আউয়াল।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩ বন্ধু নিহত
জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটিতে নাম রাখা ও না রাখা নিয়ে গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী উস্তার গণি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে উত্তেজনা হলেও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অবশেষে ১ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে ১০ টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, সংঘর্ষে তাদের পক্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযানে পাঁচটি সুলফি, ৩৯টি সুপারি গাছের শলা, একটি ত্রিশুল, ছয়টি লাঠি ও তিনটি ঢালসহ উভয় পক্ষের আহতসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার এসআই আবদুস ছত্তার জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
আরও পড়ুন:সুনামগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় মদসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ
সুনামগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস পানিতে ডুবে নিহত ১
১২৪১ দিন আগে
জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা-ছেলের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার সকাল ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।
তারা হলেন উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে রবি দাসের ছেলে অরুন রবি দাস (১৪) এবং তার মা ফালমতি রবি দাস (৪৫)।
৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল জলিল জানান, মাছ ধরতে গিয়ে উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী খালের পাড়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের খুটি থেকে পানিতে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের লাইনে অসাবধানতা বসত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবি দাস মারা যায়।
খবর পেয়ে মা ফালমতি রবি দাস ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ছেলেকে স্পর্শ করলে তিনিও মারা যান।
তিনি বলেন, পরে এলাকার লোকজনের সহায়তায় মা ছেলেকে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্ব্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. স্নিগ্ধা তালুকদার তারা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
১৪১২ দিন আগে
স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে জগন্নাথপুরে জমে উঠেছে উপজেলার বাজার
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ঈদ বাজারগুলো ক্রেতা, বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠছে তবে কেউই স্বাস্থ্যবিধি পালন করছেন না।
ক্রেতাদের ভিড়ে দোকানে ঠাই পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রি ভালো তাই দোকানিরা খুবই খুশি।
উপজেলায় প্রায় ১০০টি শপিংমল আছে। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন যাবত লকডাউনে শপিংমল বন্ধ থাকার কারণে মানুষের প্রয়োজনীয় সামগ্রী জুতা, প্যান্ট, শার্ট, শাড়ি কাপড়ের পাশাপাশি মহিলাদের যাবতীয় কসমেটিক্স আইটেম ক্রয় করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে হাট বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বেহাল অবস্থা
তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা থাকলেও কেউ মানছে না কোনো সামাজিক দুরত্ব। শপিংমল গুলোতে পুরুষদের চাইতে মহিলাদের ভিড় বেশি দেখা গেছে ।
সকালে শপিংমল খোলার আগেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। কখন শপিংমল খুলবে, আর কখন চাহিদা মতো শপিং করে বাসায় ফিরবে এই অপেক্ষায় ছিলেন ক্রেতারা। আর বিক্রি ভালো হওয়ায় দোকানিরা খুবই খুশি।
সরজমিনে জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাজার ও মার্কেট গুলোতে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে মহিলা ক্রেতার ভিড় বেশি। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তারা নিজেদের ছেলে মেয়েদের জন্য পছন্দ অনুযায়ী পোশাক কিনতে ও ঈদের অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয় করতে মার্কেটে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে এতে করে অধিকাংশ ক্রেতা মাস্ক ব্যবহার না করে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে চলাফেরা করছে মার্কেটের দোকান গুলোতে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যবিধি অমান্য: চুয়াডাঙ্গায় সব মার্কেট, শপিংমল বন্ধ ঘোষণা
জগন্নাথপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি মুসলিম পরিবার দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তাদের সাধ্যমতো ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দকে উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। আমরা ব্যবসায়ীরা এই ঈদে বেশি কেনা বেচা করতে অপেক্ষায় বসে থাকি। বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে গত বছর ব্যবসা মন্দা ছিল। তবে এবছর কিছুদিন আগে সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট, শপিংমল স্বল্প পরিসরে খোলার অনুমতি দেওয়ায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিশেষ করে গ্রাম এলাকার মানুষের মাঝে করোনা সম্পর্কে সচেতনতা দেখা যাচ্ছেনা। আমরা ব্যবসায়ীরা চেষ্টা করছি সরকারের নির্দেশনা মতো সামাজি দুরত্ব বজায় রেখে ও মাস্ক পরিধান করে চলতে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। যারা করোনা সম্পর্কে সচেতন তারা ঠিকই মাস্ক, সেনিটাইজার ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করছেন।
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহির উদ্দিন বলেন, মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা এক বছর যাবৎ ব্যবসা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল। এবছর ও করোনার দ্বিতীয় ধাপে আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মহা বিপদে আছি কখন যে কি হয়। তবে এবছর ঈদে সামান্য ব্যবসা করে কোন রকম টিকে থাকতে পারবো।
১৪১৮ দিন আগে
অনাবাদি জমিতে সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে কৃষক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক সময়ের অনেক অনাবাদি জমিতে এখন নয়ানাভিরাম সূর্যমুখীর হলদে ফুলের হাসি শোভা পাচ্ছে। আর সে হাসিতে যেন কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
১৪৭৬ দিন আগে
সুনামগঞ্জে নির্মাণকালেই ভেঙে পড়ল ১৫ কোটি টাকার সেতু!
সুনামগঞ্জ-পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর অংশে কুন্দানালা খালের ওপর নির্মাণকালে ১৫ কোটি টাকার সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে সিলেটের বৃহত্তম রানীগঞ্জ সেতুর ১৫০ কোটি টাকার কাজের ভবিষ্যৎ কি হবে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
১৪৮৬ দিন আগে