পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দোষ অস্বীকার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ভাষায় তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি। এর আগেও আমরা বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাউ (অনুমোদন) করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘এক্সট্রিমিজম’ ও ‘টেররিজম’-এর একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জঙ্গিবাদের তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল। এখন তারা বিদেশের মাটিতে বসেও সেই একই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
‘তবে এটা ভারত এলাউ করবে কি করবে না, সেটা ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’, বলেন তিনি।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের বয়ান দেশি-বিদেশি কেউ বিশ্বাস করেনি, এখনও বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আন্তর্জাতিক মহলে মনোযোগ আকর্ষণের একটি পুরোনো রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।’
আওয়ামী লীগের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সময় নীরব ছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা শোনা ‘হাস্যকর’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭-১৮ বছরে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেটি আবার ফিরে আসুক—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই সম্পর্ক উন্নত হোক—এটাই চায়। ‘কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি, জ্বালানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। ‘আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এ ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে যোগ দেবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো একটি জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি সহযোগিতা আছে, পানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, সীমান্ত ইস্যু আছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। এই সংলাপ চলবে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন একটি বিষয়, যা ‘জুলাই যোদ্ধা’, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
‘যেটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি সাধারণ গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে—তাদের আহত করে। সেই জায়গাটায় ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে এবং এ বিষয়ে তাদের খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকুক, কারণ সেটি জনগণের স্বার্থে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং উভয় দেশের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে। ভারত যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সেটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
৮ দিন আগে
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে এবং প্রক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানানো হবে।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য তার কাছে নেই। ‘আমি বিভিন্ন বৈঠক থেকে এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আপডেট না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।’
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর ছিল একটি পরিচিতি ও অনুসন্ধানমূলক সফর। এটি ছিল তার বাংলাদেশে প্রথম সফর এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে, হুতিদের হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আমরা ইরানের সাথেও কথাবার্তা বলছি, তাই এটিকে কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কিছু হিসেবে দেখার কারণ নেই।
তিনি বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদির সাথে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু তীর্থযাত্রা, ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না, ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে একটি কৌশলগত সম্পর্ক। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সম্পর্ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব দুটি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। তাই এখানে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যেকোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তারা যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখন একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’—দুটি ভিন্ন বিষয়। এ দুটি ধারণা নিয়ে বিভ্রান্তি না রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
১২ দিন আগে
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অষ্টাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে ব্যাংকক, রোম, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফেরদৌসি শাহরিয়ারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৬ দিন আগে
পাট রপ্তানি সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, হবে আন্তর্জাতিক জুট এক্সপো
পাটখাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি অচিরেই আন্তর্জাতিক মানের একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল জুট এক্সপো’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় ‘বাংলাদেশের পাটখাতের কৌশলগত অর্থনৈতিক কূটনীতি ও রপ্তানি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ ঘোষণা দেন।
সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পাট অধিদপ্তর, পাটশিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভার শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পাটশিল্প পুনরুজ্জীবনে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাটখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ‘সোনালি আঁশের’ সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনীর গুরুত্ব রয়েছে। এ খাতের উন্নয়নে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এ উদ্যোগের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি পাট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে দুই মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
২৪ দিন আগে
কুয়েতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরানো বাংলাদেশিদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান
কুয়েতের হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নিয়েছে কুয়েত সরকার। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কুয়েত সরকার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে হাসাবিয়া এলাকায় অবস্থিত খাদিজা বিনতে জাবের স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে একাধিকবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেছেন।
দূতাবাসের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে কুয়েত সরকার খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া উচ্ছেদ হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দূতাবাস কুয়েতের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে দূতাবাস ইতোমধ্যে জরুরি যোগাযোগের নম্বরসহ পৃথক একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২৬ দিন আগে
সার্ক ও বিমসটেকের মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক ও বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ—বিমসটেকের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ দুটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিপূরক সম্পর্ক থাকা উচিত।
সোমবার (৬ জুলাই) এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সার্ক এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বিমসটেকের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়াকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। অন্যদিকে, সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিস্তৃত আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে বিমসটেকের বাইরে থাকা দেশগুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো যেন সার্কের গতি কমিয়ে না দেয়; বরং এগুলোকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ একই সঙ্গে সার্ক এবং বিমসটেককে সমর্থন করতে পারে। কারণ, যোগাযোগ, স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে উভয় প্ল্যাটফর্মই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উপদেষ্টা এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়া স্টাডিজের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো তারিক এ করিম।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (সার্ক ও বিমসটেক) এবং কোডারসট্রাস্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন।
মূল প্রবন্ধে মানচিত্র নিয়ে আপত্তি
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় প্রদর্শিত একটি মানচিত্র নিয়ে আপত্তি জানান ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক ও তথ্য) পূজা কুমারী ঝা।
তিনি বলেন, এখানে ভারতের যে মানচিত্র দেখানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই উপস্থাপিত মানচিত্রটি সঠিক নয় বলে আমি মনে করি।
জবাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী সাবেক রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম বলেন, মানচিত্রটি শুধু উপস্থাপনার সুবিধার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকৃত সীমারেখা নির্দেশ করে না।
পরে পূজা কুমারী ঝা বলেন, আমি বুঝতে পারছি, স্যার। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরকে আমরা ভারতের অংশ হিসেবে দেখি এবং এখানে সেটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই বিষয়টি শুধু উল্লেখ করতে চেয়েছি।
এর জবাবে তারিক করিম বলেন, বিষয়টি নথিভুক্ত করা হলো।
‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ সার্ক পরিচালনার আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রাথমিক ধাপে বাংলাদেশ চায়, পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটি ‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ পরিচালিত হোক।
তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায়’ কথাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ শুধু প্রতীকীভাবে সার্ককে টিকিয়ে রাখা নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মতভাবে যতটুকু সম্ভব, তার সর্বোচ্চটা করা। অর্থাৎ লক্ষ্য হবে উচ্চাভিলাষী, কিন্তু পদ্ধতি হবে বাস্তবভিত্তিক।
৩৯ দিন আগে
সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত, জাপান, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার শিকার ৯ জন ইতালীয় নাগরিকসহ ২৪ জনেরও বেশি নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করেছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা এবং এই ক্ষেত্রে দেশটির অর্জনের কথা স্মরণ করেন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এই হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে তার বাসভবনে একটি স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার চ্যান্সেলরির প্রধান লরা শিলা স্মারক অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের আগে সব ভুক্তভোগীর নাম পাঠ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, কূটনৈতিক কোরের ডিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এসওয়াই রামাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপমিশন প্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিনিধি পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
হামলার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদকে কখনোই যৌক্তিক বলা যেতে পারে না। বাংলাদেশ কাউকেই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেবে না।
১ জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলাকে মানবতার ওপর এক নৃশংস আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, (সন্ত্রাস দমনে) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশের ঢাকার গুলশান কূটনৈতিক এলাকার হোলি আর্টিসান বেকারিতে একটি নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, যা ২৪ জনের (২০ জন জিম্মি ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা, এবং ৬ জন হামলাকারী) প্রাণ কেড়ে নেয়। ১২ ঘণ্টার এই অবরুদ্ধ দশা ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা।
৪৪ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামলে বিদেশে নামাতে হবে লাল-সবুজের পতাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এমনটি হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে, এমনকি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি ভোটের জন্য উপস্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এ ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সাতক্ষীরা-৪, রংপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে প্রবাসীদের দেওয়া আমাদের সব সেবা। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বার্ষিক প্রদেয় অর্থ আমরা দিতে পারব না, যার ফলে জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যেতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানের এই পরিবর্তনশীল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদের কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং লক্ষ্য হচ্ছে— সবার আগে বাংলাদেশ, যার অভূতপূর্ব সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর।’
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমাদের জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৪৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন-মালয়েশিয়া সফরের অর্জন নিয়ে যা জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর আশ্বাস, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা ত্বরান্বিতকরণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চীন সফরে নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক, তিস্তা ও আঞ্চলিক সংযোগে অগ্রগতি
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রণী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের বার্ষিক সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ডব্লিউইএফের সিইও।
চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ (কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ) থেকে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘২+২ ডায়ালগ মেকানিজম’ চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বড় ও ছোট জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
৪৮ দিন আগে
‘ডা. জাহেদের সঙ্গে ঘটা ঘটনাটি অনভিপ্রেত, দিল্লির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ঢাকা’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ।
বুধবার (২৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ইউএনবিকে এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (আইওরা) বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন—এ বিষয়টি কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে অবহিত করা হয়েছিল।
এরপরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ‘অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন মুখপাত্র।
এদিকে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুসহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
৫১ দিন আগে