পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৯১ মৎস্যজীবী
সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে ভারতে আটক থাকা ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যথাযথ দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকার সবসময় সহায়তা দিয়ে থাকে।
মৎস্যজীবীদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
৭ দিন আগে
অবৈধ অভিবাসনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানাল সরকার
সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি’ রুটে অনিয়মিত অভিবাসনের সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি-বাংলাদেশ সিচুয়েশন’ শীর্ষক এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এতে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়া দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান অংশ নেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত অসাধু সিন্ডিকেটগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চলতি বছরের জুনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিয়মিত অভিবাসন সফলভাবে পরিচালনার জন্য গন্তব্য দেশের কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার মতো অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশন বাস্তবায়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা অবৈধ অভিবাসন রোধ, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াকে মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।
৩৪ দিন আগে
শামা ওবায়েদকে নিয়ে ছড়ানো ফটোকার্ড ‘ভুয়া’, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে উদ্ধৃত করে ছড়িয়ে পড়া কিছু ফটোকার্ড সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৩০ মার্চ) এক বিবৃতিতে জনগণকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কয়েকটি ভুয়া ফটোকার্ড পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব ফটোকার্ডে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের নামে পুরোপুরি অসত্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এমন একটি কার্ডে দাবি করা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়ার সাথে আমাদের চোখ নিচু করেই কথা বলতে হবে, এই যে যেমন এখন ইন্ডিয়ার হাতে পায়ে ধরে তেল আনতে হচ্ছে, গাধার মতো ‘‘দিল্লি না ঢাকা’’ স্লোগান দিলেই তো হবে না, বুঝতে হবে যে ইন্ডিয়ার সাথে ঝামেলা করলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করছে যে, এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কখনোই কোথাও এরকম বক্তব্য প্রদান করেননি। কাজেই, এসব অপতথ্য ও গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সব রাষ্ট্রের সাথে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে। বাংলাদেশ মেরুদণ্ড সোজা করে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, কথা বলবে, বন্ধুত্ব রাখবে।’
৭৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের লক্ষ্যে তার এ সফর।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে তুরস্কে অবস্থান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময় আঙ্কারায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. খলিলুর।
তিনি আরও জানান, তুরস্কে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সফরকালে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। এসব আলোচনার মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এরপর ওই পদে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। প্রার্থী দেওয়ায় এ পদে এবার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও এ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করা হচ্ছে।
৯২ দিন আগে
ঢাকায় আসছেন চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং আগামী ২–৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করবেন। সফরকালে তিনি চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে চতুর্দশ বাংলাদেশ–চীন কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে সান ওয়েইডং উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতকালে চীনা রাষ্ট্রদূত আসন্ন সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এই পরামর্শ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা খোঁজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহায়তা ও অবদানের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
৯৪ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি ঘিরে বিভ্রান্তি: মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিকে ঘিরে সৃষ্ট বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠান। পরে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।
চিঠিটি জাতীয় সংসদের প্যাডে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে লেখা ছিল। এতে ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন। পাশাপাশি বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার জন্যও তিনি অনুরোধ জানান।
মন্ত্রণালয় জানায়, চিঠিটির নিচে কেবল বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি দিলে চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয় এবং সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না।’
তবে এ ধরনের কোনো ফোনালাপ সংঘটিত হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৯৫ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি ঘিরে বিভ্রান্তি: জামায়াতের ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দলের পক্ষ থেকে দেশের পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল।
তবে তিনি আমিরের নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিশেষ করে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত যে অংশ উল্লেখ করা হয়, তা জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টি দলের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত আমির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসানকে গত ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে দল বিশ্বাস করে।
তিনি আরও বলেন, আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
৯৬ দিন আগে
লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৫ বাংলাদেশি
লিবিয়ায় আটক ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের দেশে আনা হয়।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ৩০ জন এবং বেনগাজী ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ১৪৫ জন রয়েছেন। তারা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
জানা যায়, তাদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
১০৮ দিন আগে
বিদেশি দূতাবাসগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় বিদেশি মিশনের প্রধানদের অবহিত করেছে সরকার। এ সময় বিদেশি দূতাবাসগুলোকে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক বৈঠক বিদেশি মিশনের প্রধানদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন যে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে, ব্রিফিংয়ে সেটা তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাতেও আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তিনি বলেন, এ ছাড়া স্বশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সদাসতর্ক ও সচেষ্ট রয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দূতাবাসগুলোকে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ঢাকার দূতাবাসগুলোর প্রায় ৪০ জন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
১৭৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার আহ্বান জানিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়ায়’ বাংলাদেশ সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা ভারত সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়াও আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার জন্য ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া রোধ করতে এবং যদি তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো ভারতের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।
এ সময় ভারতের হাইকমিশনার বলেছেন, ভারত বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
১৮২ দিন আগে