ওয়ান স্টপ সার্ভিস
প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষাবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ফারজানা শারমীন বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০টি জেলা বা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করা হবে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ, আইনি সহায়তা এবং অভিভাবকদের জন্য আয়বর্ধক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গা থেকে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিশেষায়িত প্রশিক্ষক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যেসব অভিভাবক সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ সময় সেবাকেন্দ্রে অবস্থান করবেন, তাদের জন্যও আয়বর্ধক কার্যক্রমের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া সেবাকে দান বা অনুগ্রহ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক আইনি সহায়তা কার্যক্রম চালুর বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য তাদের জীবনকে আরও সহজ করা এবং মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় পর্যায়ে দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর বাস্তবায়নের জন্য গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং সহ-সভাপতি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিনিধিরা এ কমিটির সদস্য।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কড়াইল বস্তিতে ‘শিশুস্বর্গ’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক হাজার প্রতিবন্ধী শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু করেছে। চলতি অর্থবছরে দেশের ২০ থেকে ২৫টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ, কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও রেফারেলের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশুর জন্য পৃথক ফাইল খোলা হবে, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য অধিকার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এম এ মুহিত জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নতুন ক্রীড়া অবকাঠামোয় প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে সফল ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রতিবন্ধীবান্ধব নকশা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প মূল্যায়নের সময় প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো রয়েছে কি না, সেটিও অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করবে পরিকল্পনা কমিশন। নতুন সরকারি ভবনে র্যাম্প, প্রয়োজনীয় লিফট এবং অন্তত একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট রাখার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে চালু হতে যাওয়া বৈদ্যুতিক (ইভি) বাসে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের ওঠানামার সুবিধা রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী ২ থেকে ১০ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছেন। সংখ্যাটি প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি। তাই এসব কর্মসূচি স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান উদ্যোগ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে।
পাইলট প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, কড়াইল বস্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাকি পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোও আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।
১৫ দিন আগে
২০ নয়, এক জায়গায় সব সুবিধা পাবে এলপিজি ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশ লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) অপারেটররা লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অন্তুর্ভুক্ত হতে চলেছেন। এর ফলে এলপিজি অপারেটরদের এখন থেকে আর লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠানে দৌঁড়াতে হবে না। এর ফলে তাদের পরিচলানা খরচও কমে যাবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সূত্র মতে, এলপিজি সেক্টরের প্রসার ও নৈতিকতা বজায় রাখতে খুব দ্রুতই অপারেটরদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা এক জায়গায় সব সেবার ব্যবস্থা করা হবে।
জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান বলেন ইউএনবিকে বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মতো ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল সুবিধা এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’
আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে এলপিজি অপারেটরদের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সহ বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক এবং লাইসেন্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।
এ ব্যাপারে বসুন্ধরা এলপিজির বিপণন প্রধান জাকারিয়া জালাল বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি অপারেটরদের জেলা হতে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত প্রায় ২১টি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়।
এই শিল্পের সাথে জড়িত এবং ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকার কারণে ব্যবসায়ী ও ভোক্ত পর্যায়ে দিন-দিন দাম বেড়েই চলেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর এসকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেয়া ফি এর অতিরিক্ত খরচের সবশেষে ভোক্তার ওপরই চাঁপানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আজম জে চৌধুরী এক সেমিনারে বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর সরাকরি ও বেসরকারি ১৩টি সংস্থাকে লাইসেন্স নবায়ন ও বহাল রাখার জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ টাক ফি প্রদান করতে হয়।
আরও পড়ুন: প্রথমবার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করল সরকার
সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের এক শুনানিতে, ছয়টি বৃহৎ এলপিজি কোম্পানি একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানায়।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং কনভার্শন মালিক সমিতির সদস্য হাসিন পার্ভেজও অন্তত ২২টি প্রতিষ্ঠানে ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ এবং হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা হল, এখানে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার কোনও নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা নেই। এর দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পাঠানো হয় লাইসেন্স পাওয়ার জন্য।’
একই অভিযোগের কথা উল্লেখ করে, বাংলাদেশ ভোক্তা সমিতির উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘আমরাও জ্বালানি খাতে একটি মাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার আধিক্যের কারণে যেমন ব্যবসায়িকর খরচ বৃদ্ধি পায়, তেমনি ভোক্তাকে অধিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়।’
বিইআরসি’র সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে শুধু একটি এবং প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা উচিত। এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলো সাথে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করবে।
১৯০৫ দিন আগে
বিডার অনলাইন ওয়ান স্টপ সার্ভিসে যুক্ত আরও ৬ সেবা
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনলাইন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে আরও ছয় সেবা।
২০২৩ দিন আগে
সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশ ২০২১ সালে দুই অংকের ঘরে আসবে: সালমান
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বুধবার বলেছেন, আগামী বছর বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার (ইজি অব ডুয়িং বিজনেস) সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই অংকের ঘরে আসবে।
২১৬৫ দিন আগে