অ্যাম্বুলেন্স
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ছলিম প্রামানিক (৭০), তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)। নিহত ছলিম প্রামানিকের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে। অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনায় ছলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০), নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে নাফিজ (৮) আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুন নামে এক মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহত চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সষবেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছলিম প্রামানিক মারা যান।
ওসি জানান, নিহত ছলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়া খাতুনের নানা-নানি।
১১ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
১৭ দিন আগে
গাড়িবহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ ছেড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
সড়কে জরুরি সেবার প্রতি অগ্রাধিকার দিয়ে ভিভিআইপি প্রটোকল ভেঙে একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৬ মে) সকালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারওয়ান বাজার প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে। সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে এই ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল ৯টার কিছু সময় আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বনানী এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কারওয়ান বাজার এফডিসি মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। আকস্মিক প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি পড়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। তার গাড়িবহরের পেছনে সাইরেন বাজাতে বাজাতে অ্যাম্বুলেন্সটি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল।
প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বুঝে অতি জরুরি সেবার এই গাড়িকে পথ করে দিতে বহরে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে কর্মকর্তারা অ্যাম্বুলেন্সকে যাওয়ার পথ করে দেন।
বাংলাদেশে সাধারণত ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় অন্যান্য যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকে।
৮২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
অযত্ন-অবহেলায় যেন নিজেই রোগী হয়ে যাচ্ছে ভারত সরকারের উপহার পাওয়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স পড়ে থেকে থেকে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এখন কর্তৃপক্ষের বোঝস্বরূপ পড়ে আছে হাসপাতালে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন বিল্ডিংয়ের এক কোণে পড়ে আছে এই অ্যাম্বুলেন্সটি। অবশ্য এর আগে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভেতরেও পড়েছিল ভারতের উপহারের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি।
আরও পড়ুন: সিসি ক্যামেরা স্থাপনের টাকা নিয়ে হাওয়া, ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্কে ফেনী পৌরবাসী
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার হিসেবে যেসব অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশ পেয়েছিল, তাদেরই একটি পায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।
সে দিনই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি বুঝে নেওয়ার প্রায় সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা হয়নি এর সেবা। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ যেন গাড়ি থাকলেও ঘোড়া না থাকার মতো অবস্থা।
জানা যায়, আইসিউ অ্যাম্বুলেন্স তো পরের কথা, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ সেবা চালু নেই। অথচ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়তই মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। যে কারণে এই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটির ব্যবহার এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ অ্যাম্বুলেন্সটি চালুর বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরীক্ষা কেন্দ্র, ব্যাহত শ্রেণিকার্যক্রম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার রায় বলেন, ‘রোগী বহনে হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়ে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইসিউই ইউনিট চালু হলে অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা যাবে।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে রয়েছে। তবে সেটি সচল করে সেবা দিতে প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের প্রয়োজন। জনবল না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি অব্যবহৃত পড়ে আছে।’
৪৯৩ দিন আগে
পাবনায় অ্যাম্বুলেন্স-অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু
পাবনায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের সিঙ্গা বাইপাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে দুই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ তরুণ নিহত
নিহতরা হলেন- অটোরিকশার চালক পাবনা পৌর সদরের শালগাড়ীয়া মেরিল বাইপাস এলাকার শামসুল ইসলামের ছেলে দুখু মিয়া (৩৫) ও একই এলাকার মৃত দরবেশ আলীর ছেলে রমজান আলী (৫০)।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, ঘটনার সময় রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক অটোরিকশার চালক ও এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি রওশন আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। নিহত দুখু ও রমজানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরের সড়ক দুর্ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: ত্রাণের টিন আনতে গিয়ে প্রাণ গেল ৪ জনের
৮২৭ দিন আগে
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার!
কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার বসানো হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এদিকে হাসপাতালের মধ্যে নবনির্মিত গ্যারেজের মধ্যেই চেয়ার-টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার। পাশে ঝোলানো হয়েছে খুলনা জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি লিমিটেড পরিচালিত, অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার।
এছাড়া হাসপাতালের মধ্যে ও বাইরে রাস্তা দখল করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো। দূর থেকে দেখে মনে হবে এটা কোনো সরকারি হাসপাতাল না, যেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। রোগী পরিবহনে চাহিদা যতটা, তার চেয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেশি। কিন্তু রোগী পেলেই ভাড়া হাঁকা হয় অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: সরকারি বিএল কলেজে আবাসন-পরিবহন সংকট চরমে
হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স না নিয়ে অন্য কোথাও থেকে কম টাকায় ভাড়া করার সুযোগ নেই। হাসপাতালের মধ্যে নবনির্মিত গ্যারজের জায়গা দখল করে তোলা হয়েছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কাউন্টার।
কাউন্টারের সামনে ১০ থেকে ১২টা অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি বিভাগের সামনে রয়েছে ৪ থেকে ৫টা, হাসপাতালের আউটডোর পেছনে রয়েছে ৭ থেকে ৮টা অ্যাম্বুলেন্সের সারিবদ্ধ লাইন।
এর বাইরে লাশ ঘরে যেতে যে রাস্তা সেখানেও রয়েছে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়া হাসপাতালের দেয়াল ঘেঁষে বাইরে রয়েছে আরও ১০ থেকে ১২টা অ্যাম্বুলেন্সের লাইন। দূর থেকে যে কেউ মনে করবেন, এটা কোনো সরকারি হাসপাতাল নয়, অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যান্ড।
রোগীও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালকেন্দ্রিক ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ রোগীকে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে তুলতেই দেয় না। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো একটি জরুরি পরিবহন সেবাকে ঘিরে এ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স এক চালক জানান, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো নীতিমালা নেই। তাছাড়া অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় ট্রিপ কমে গেছে। এ কারণে খরচ পোষাতে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার কোনো তালিকা নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালাও। যে যেভাবে পারছেন রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স নামাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে হাসপাতালগুলোর কর্মচারীদের (ওয়ার্ডবয় ও আয়া) উপর। এজন্য তাদের ভাড়ার একটা অংশ কমিশন দিতে হয়। এ কমিশন বাণিজ্য না থাকলে ভাড়া অনেকটাই কমে যেত।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কয়েকজন চালকরা আমার কাছে এসে বলেন, তাদের নিজস্ব জায়গায় কাউন্টার কাজ বসানোর কাজ চলছে। ২ থেকে ১ দিনের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এই অনুরোধের কারণে তাদের বলেছিলাম কয়েকদিনের জন্য হাসপাতালের ভেতরে কাউন্টার রাখার জন্য। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনার পরে জানতে পারলাম এদের একটু মানবিক দিক সুযোগ দেওয়ায় পুরো হাসপাতালটাই দখল করে নিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে মধ্যে কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকতে পারবে না, রোগীদের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাড়া আনতে পারবেন। এর বাইরে হাসপাতালের জায়গা দখল করে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সুযোগ নেই।
খুলনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মেহেদী নেওয়াজ জানান, মেডিকেল কলেজের নিজস্ব অ্যামবুলেন্স যার মাধ্যমে রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। তারপরও বেসরকারি অ্যামবুলেন্স চালু হয়েছি বলে শুনেছি। কোনো রোগীকে যাতে হয়রানি না করা হয় সে জন্য প্রোয়জনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মনজুর মোরশেদ বলেন, এ ব্যবসা অনেকদিন যাবত চলছে। খুমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি সহযোগিতায় তাদের উঠিয়ে দিলে কিছুদিন পর আবার তারা বসতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, খুমেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেই ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
৯১১ দিন আগে
সাতক্ষীরায় স্বামীর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে স্ত্রীর সন্তান প্রসব!
সাতক্ষীরায় আলতাফ হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সন্তান প্রসব করেছেন তার স্ত্রী রহিমা খাতুন।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ থেকে স্বামীর লাশ নিয়ে আশাশুনি যাওয়ার পথে বুধহাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আলতাফ হোসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর এলাকার শামছুর রহমানের ছোট ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইট ভাটাশ্রমিক আলতাফ হোসেনের। লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে বুধহাটা বাজার এলাকায় পৌঁছালে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে থাকা গর্ভবতী স্ত্রী রহিমা খাতুনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তিনি একটি মেয়েশিশুর জন্ম দেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলতাফ হোসেন গত দুই সপ্তাহ আগে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তার জানান আলতাফের ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। খুব দ্রুত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ছেলের বন্ধুদের হাতে বাবা নিহত
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ গ্রামের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর নেওয়া হচ্ছিল। বুধহাটা এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আলতাফ হোসেনের স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই তিনি একটি মেয়েশিশুর জন্ম দেন।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলতাফের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে তার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। লাশ বাড়িতে আনার পথে লাশবাহী গাড়িতে তার স্ত্রী একটি মেয়েশিশুর জন্ম দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আলতাফের পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে। তার পরিবারকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে ৫ বছরের ২ শিশুর মৃত্যু
সাতক্ষীরায় ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে মা ও নবজাতক নিহত
৯৫৬ দিন আগে
বগুড়ায় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নারী নিহত
বগুড়ার নন্দীগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বুড়ইল এলাকার নন্দীগ্রাম-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোমেনা বিবি (৫০) উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ধুন্দার গ্রামের মৃত বুলু মিয়ার স্ত্রী।
আরও পড়ুন: শাজাহানপুরে বাস খাদে পড়ে ২ নারী নিহত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নন্দীগ্রাম-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বুড়ইল রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মোমেনা। শেরপুর থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সের চাকা হঠাৎ পাংচার হয়ে ধাক্কায় দেয় মোমেনাকে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় নারী নিহত, আহত ৩
যাত্রাবাড়ীতে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নারী নিহত
১০৭৩ দিন আগে
সাঈদীর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে সমর্থকদের বিক্ষোভ: শাহবাগে মোটরসাইকেলে আগুন
রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) সামনের সড়কে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) ভোরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অন্তত দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে বিক্ষোভ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন
এ সময় তারা সাঈদীর জানাজা ঢাকায় করার দাবি জানান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
এর আগে সোমবার (১৫ আগস্ট) রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী।
আরও পড়ুন: বুকে ব্যথা নিয়ে কারাগার থেকে হাসপাতালে সাঈদী
চট্টগ্রামে সাঈদীর মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস, মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
১০৭৭ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে মা ও নবজাতক নিহত
সাতক্ষীরায় তেলবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা ও নবজাতক কন্যা নিহত হয়েছে। বুধবার (১০ মে) বিকালে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মির্জাপুর শ্মশান এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নিহত ৩
নিহতরা হলো-সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খলিষানী গ্রামের আলাউল ইসলামের স্ত্রী তানজিলা খাতুন (৪০) ও তার নবজাতক শিশু কন্যা।
নিহত নারীর স্বামী আলাউল ইসলাম বলেন, বাড়িতে সন্তান জন্মদানের পর বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে মির্জাপুর এলাকায় তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তারা নিহত হন।
হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়।
এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সেরে চালকসহ কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দুই জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত
উলিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু
১১৭৪ দিন আগে