প্রাকৃতিক দুর্যোগ
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের
আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা কামনা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সারা দেশে চলমান অতিবর্ষণ, সাত জেলায় পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার কারণে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানসিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং চরম যাতায়াত প্রতিকূলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন।
এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতোমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।
এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে। এছাড়া, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষাকেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।
তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের পাশে থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩ দিন আগে
লুটপাটের উদ্দেশ্যে আ.লীগ আমলের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েছে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণেই দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তা না করে লুটপাট ও টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিত উন্নয়ন করেছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, খরা ও ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, নদী-নালা ও খাল-বিলের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করে। কিন্তু গত সরকার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা দিলে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার অভিযোগ, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে যেমন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’
রিজভীর দাবি, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পানিবন্দি এবং বন্যায় ইতোমধ্যে ৫২ থেকে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন তিনি। তার মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের পেছনেও দলীয় লোকদের ঠিকাদারি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল।
এই রাজনীতিক বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় শুধু বিরোধী দল নয়, পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও সতর্ক করেছিলেন যে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর হবে। কিন্তু সরকার একটি বিশেষ দেশকে খুশি করার জন্য সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের সমালোচনা করলে গুম, কারাবরণ কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখন মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও স্বাধীনভাবে কথা বলছেন।
বর্তমানে টানা অতিবৃষ্টিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের সব সচ্ছল মানুষের প্রতি বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
৩ দিন আগে
সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব
ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সবার অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৯ আমাদের একটি পরিবার। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সীমাবদ্ধ সক্ষমতা দিয়ে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের এই কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, তার সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করতে চাই।’
এ সময় বৃষ্টির মধ্যেও দেশের মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এই সরকার অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে থাকার এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছেন। আমরাও ঢাকা-৯ পরিবার হিসেবে আপনাদের পাশে আছি, থাকব। আপনাদের নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব।’
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট অব্যবস্থাপনার দ্বিমুখী ছোবলে দিশেহারা সুনামগঞ্জের কৃষক
সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর জনপদ এখন পরিণত হয়েছে শোকের উপত্যকায়। একদিকে আকাশ থেকে নেমে আসা বজ্রের মরণঘাতী ছোবল, অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা বছরের অন্ন জোগানোর সম্বল বোরো ধান।
প্রকৃতি ও মানবসৃষ্ট পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতায় দিশেহারা হাওরবাসী এখন এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে। বছরের পর বছর বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও তা রোধে সরকারি উদ্যোগগুলো যেন কেবলই লোক দেখানো।
সরকারি নথিতে বজ্রপাত প্রতিরোধে ২০১৮ সালে ১ লাখ এবং ২০২৪ সালে আরও দুই হাজার তালগাছ রোপণের তথ্য থাকলেও, বাস্তবে হাওরজুড়ে সেগুলোর কোনো চিহ্ন নেই। সঠিক পরিচর্যার অভাবে চারাগুলো বড় হয়ে ওঠার আগেই মরে গেছে।
কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো বজ্রনিরোধক দণ্ডেরও একই দশা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও তা হাওরবাসীর কোনো কাজে আসছে না।
গত পাঁচ বছরে জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭২ জন। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন শাখার তথ্যমতে, চলতি বছরে এপ্রিল পর্যন্তই অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বোরো মৌসুমে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষক ও জেলেরা।
জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান জানান, তালগাছ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দোহাই দিয়ে আর কত লাশ পড়বে? তাদের দাবি, দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তির ব্যবস্থা করাই এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতির চরম বৈরিতার পাশাপাশি মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনা কৃষকের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
এদিকে, গত সোম ও মঙ্গলবার রেকর্ড ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে আধপাকা ধান। মাঠের অর্ধেক ধান এখনও অবিন্যস্ত। শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় হারভেস্টার মেশিনও অকেজো হয়ে পড়ায় অসহায় কৃষক নিজের চোখের সামনেই দেখছেন স্বপ্নের মৃত্যু।
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া জানান, ১৫ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র ৫ কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি তিনি।
জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, পিংলার হাওরে ১০ কেদার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত মাত্র ২ কেদারের ধান কাটা হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, হাওরে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
৭৭ দিন আগে
জ্বালানি সংকট, দুর্যোগে হাওরের বোরো আবাদ বিপর্যস্ত
জ্বালানি তেলের সংকট, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো আবাদ। এর মধ্যে বাজারে কাঁচা ধানের দাম নেমে এসেছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত দামের অর্ধেকেরও কম।
স্থানীয় আড়তগুলোতে বোরো ধান ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা। মাঠপর্যায়ে কৃষকরা আরও কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে এখনও পানি নামেনি, কোথাও কোথাও পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, ফলে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার প্রধান বোরো উৎপাদন এলাকা বানিয়াচং উপজেলায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
বানিয়াচং সদরের ধান-চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমদ জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে ধান কিনছেন। তবে কৃষকদের কাছ থেকে তা আরও কম দামে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসেবে, জেলায় ৯টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৪ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর এবং বানিয়াচং উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ জানান, উপজেলায় ১০৬টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে হারভেস্টারগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি জমিতে পানি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্র নামানো যাচ্ছে না।
কৃষকরা জানান, ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
কুমড়ী গ্রামের কৃষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ‘তেল সংকট ও জমিতে পানির কারণে ধান কাটতে চরম সমস্যায় পড়েছি। পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেলও পাইনি।’
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় হাওরাঞ্চলে দ্রুত ধান কাটার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা হলেও চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার ৬টি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমির বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বানিয়াচংয়ে ২৪৮ হেক্টর, আজমিরীগঞ্জে ১৫৪ হেক্টর, হবিগঞ্জ সদরে ৯০ হেক্টর, লাখাইয়ে ২৫ হেক্টর, নবীগঞ্জে ২০ হেক্টর এবং চুনারুঘাটে ১৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাওরাঞ্চলের বোরো উৎপাদন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
৭৯ দিন আগে
আফগানিস্তানে বন্যা-ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১০
আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড় এবং ভারী বর্ষণে বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় নতুন করে আরও সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটিতে সামনে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রায় ১২ দিন আগে আফগানিস্তানজুড়ে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, যা দেশটির ৩৪টি প্রদেশকে প্রভাবিত করেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই দেশজুড়ে ১১ জন মারা গেছেন এবং ৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নতুন করে সাতজন নিখোঁজ হয়েছেন যাদের সবাই বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ১২ দিনে বন্যা, ভূমিধস এবং বজ্রপাতে মোট ১১০ জন নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৯৫৮টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ১৫৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের হেরাত প্রদেশে বন্যার পানিতে আটকে পড়া দুইজনকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটির ৩২৫ কিলোমিটারেরও বেশি সড়কপথ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, সেচ খাল ও পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৬ হাজার ১২২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব তথ্য প্রাথমিক বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এদিকে, মঙ্গলবারের জন্য প্রায় পুরো দেশজুড়ে আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে জনগণকে নদীর কাছাকাছি এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানজুড়ে ভারী তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এছাড়া ভূমিধস ও বন্যার কারণে দেশটিতে দুটি প্রধান মহাসড়ক কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিকল্প দীর্ঘ পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাকিস্তান সীমান্ত ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে সংযুক্তকারী কাবুল-জালালাবাদ মহাসড়ক গত বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, জালালাবাদ থেকে কুনার ও নুরিস্তানগামী সড়কটি রবিবার থেকে পাথর পড়ার কারণে বন্ধ হয়ে আছে।
আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে প্রায়ই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে বসন্তে এমনই এক আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।
১০০ দিন আগে
কার্বন বাণিজ্য কী? এটি কীভাবে কাজ করে?
কার্বন নির্গমন, প্রধানত কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO₂) এবং মিথেন (CH₄) এর আকারে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধির জন্য দায়ী, যা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানল, খরা, তাপপ্রবাহ ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংঘটন ও তীব্রতা বৃদ্ধি করে। কার্বন নির্গমন হ্রাসের বহুমুখী পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। কার্বন বাণিজ্য (Carbon Trading) কার্বন নির্গমন হ্রাসের একটি উপায় এবং একইসঙ্গে একটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ব্যবস্থা। আসুন জেনে নেই কার্বন বাণিজ্য কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক ও কার্যকরী হতে পারে।
কার্বন বাণিজ্য কী?
কার্বন বাণিজ্য, যা কার্বন নির্গমন বাণিজ্য নামেও পরিচিত। এটি একটি বাজারভিত্তিক পদ্ধতি যা গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করে। এটি দেশ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড বা অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের অধিকার প্রতিনিধিত্বকারী অনুমতি (permit) কেনা-বেচার সুযোগ দেয়। কার্বন নির্গমনের উপর মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে এটি অংশগ্রহণকারীদের কার্বন নির্গমনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করতে এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে।
কার্বন নির্গমন বাণিজ্য একটি ক্যাপ-অ্যান্ড-ট্রেড (Cap-and-Trade) ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। যেখানে সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা মোট নির্গমনের জন্য একটি সীমা (cap) নির্ধারণ করে। কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্বন ক্রেডিট (carbon credits) পায় বা ক্রয় করে, যা তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন-দেয়-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনের অনুমতি দেয়। যদি কোনো কোম্পানি নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম কার্বন নির্গমন করে—তাহলে তারা অতিরিক্ত কার্বন ক্রেডিট অন্যদের কাছে বিক্রি করতে পারে। আর যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নির্গমন করে—তাহলে তাদের অতিরিক্ত কার্বন ক্রেডিট কিনতে হবে বা শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
কার্বন বাণিজ্য কার্বন নির্গমন হ্রাসের একটি কার্যকরী ব্যবস্থা। কারণ এটি ব্যবসাগুলোকে পরিবেশবান্ধব হতে আর্থিকভাবে উৎসাহিত করে। তবে, এটি তখনই কার্যকরভাবে কাজ করে, যখন সঠিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়—যাতে প্রকৃত নির্গমন কমে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াল ১০টি ঘূর্ণিঝড়
কার্বন ক্রেডিট বিক্রির প্রক্রিয়া
কার্বন ক্রেডিট বিক্রির প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়, যেখানে ক্রেডিট তৈরি করা থেকে শুরু করে ক্রেতা খুঁজে লেনদেন সম্পন্ন করা পর্যন্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ জড়িত। নিচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো—
কার্বন ক্রেডিট উৎপাদন
প্রথমে, একটি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে গ্রিনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন কমাতে বা অপসারণ করতে হবে। এই কার্যক্রমের মধ্যে বনায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প, বা কার্বন ক্যাপচার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। কার্বন নির্গমন হ্রাসের পরিমাপ ও যাচাই পদ্ধতি অবশ্যই স্বীকৃত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সত্যায়ন হতে হবে।
যাচাই ও সার্টিফিকেশন
প্রকল্পটি নিম্নলিখিত স্বীকৃত কার্বন স্ট্যান্ডার্ডের মাধ্যমে যাচাই ও অনুমোদিত হতে হবে:
- ভেরিফায়েড কার্বন স্ট্যান্ডার্ড (VCS)
- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড (Gold Standard)
- ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম (CDM)
- ক্লাইমেট অ্যাকশন রিজার্ভ (CAR) ইত্যাদি।
এই মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি কার্বন ক্রেডিট ১ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO₂) হ্রাস বা অপসারণের সমতুল্য।
আরো পড়ুন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পশু-পাখির সুরক্ষা: বন্যা, খরা ও শৈত্য প্রবাহে করণীয়
কার্বন রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধন পদ্ধতি
যাচাইকরণের পরে কার্বন ক্রেডিটগুলো নিম্নলিখিত প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত হয়:
- ভেরা (Verra)
- আমেরিকান কার্বন রেজিস্ট্রি (American Carbon Registry - ACR)
- গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড রেজিস্ট্রি (Gold Standard Registry) ইত্যাদি।
প্রতিটি কার্বন ক্রেডিটকে একটি নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়, যা ডাবল কাউন্টিং প্রতিরোধ করে।
আরো পড়ুন: বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক হোন
৫০৫ দিন আগে
ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠন ও ঋণ আদায় নিশ্চিতে সুপারিশ কমিটি
নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিম্ন প্রবৃদ্ধি, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির অভিঘাত মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ঋণগ্রহীতা প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা এবং সমস্যাসংকুল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও প্রতিষ্ঠানকে নীতি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে কিনা; তা যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে এই কমিটি।এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা রয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটির কার্যপরিধিতে ৫০কোটি ও তার চেয়েও বড় অংকের যেসব ঋণ নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে শ্রেণিকৃত হয়েছে, সেগুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আর শিখা বলেন, পাঁচ সদস্যের কমিটিতে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মেজবাহ-উল-হক, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. দেলোয়ার হোসেন, অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ, হক বে থেকে বাণিজ্য প্রতিনিধি আবদুল হক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান।
কাজটি শেষ করার ক্ষেত্রে কোনো সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, মাসে সর্বোচ্চ দুবার বৈঠকের জন্য তাদের পারিতোষিক দেওয়া হবে।
৫৩২ দিন আগে
দাবানল কী ও কেন হয়? পৃথিবীর ইতিহাসে ভয়ানক কয়েকটি দাবানল
লস অ্যাঞ্জেলেসের চলমান দাবানল দুর্যোগের বিধ্বংসী প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বকে। গত ৭ জানুয়ারি থেকে প্যালিসেডে শুরু হওয়া এই অগ্নিকাণ্ড বনাঞ্চল ছাড়িয়ে আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। উষ্ণ সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে দীর্ঘদিনের উত্তপ্ত অবস্থা থেকে উৎপত্তি এই দাবানলের। উত্তর আমেরিকার গ্রেট বেসিন নামক বিস্তৃত মরু অঞ্চল থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ধেয়ে আসে এই গরম বাতাস। এখন পর্যন্ত দাবানলে ২৫ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। দাবানল কি শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয়? দাবানল সৃষ্টির নেপথ্যের কারণ খুঁজে দেখার পাশাপাশি চলুন, ইতিহাসের সর্বাধিক প্রাণহানী ঘটানো দাবানলগুলো সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।
দাবানল কি এবং কেন হয়
শুষ্ক বনাঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত উত্তাপের রেশ ধরে সৃষ্ট আগুন গোটা বন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দাবানল হিসেবে পরিচিত। বনের ভেতরে ঘন ঝোপঝাড় এবং পরস্পর সংস্পর্শে থাকা গাছপালা স্বতঃস্ফূর্ত দহনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এমতাবস্থায় ছোট একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট পুরো বনভূমিকে অঙ্গারে পরিণত করার জন্য। এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের নেপথ্যে প্রাকৃতিক ও মনুষ্য ঘটিত উভয় কারণই থাকতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্ফুলিঙ্গের সাধারণ প্রাকৃতিক কারণ থাকে বজ্রপাত। মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্প ফায়ার, সিগারেটের উচ্ছিষ্ট বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি।
দাবানলের ব্যপ্তি কতটা জায়গা জুড়ে হবে তা স্থানটির ভৌগলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। যেমন আশপাশের কোনো স্থান থেকে শুষ্ক ও উত্তপ্ত বাতাসের চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, ও দীর্ঘস্থায়ী খরা। এসব কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বনসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোকে অধিক শুষ্ক করে রাখে।
আরো পড়ুন: দাবানলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু: গবেষণা
উষ্ণ বাতাসের স্থায়ীত্বের সঙ্গে আগুন জ্বলতে থাকার মাত্রা সমানুপাতিক হারে বাড়ে। তাছাড়া ছোট একটি জায়গায় আগুন লাগলে তার আশপাশের পরিবেশ এমনিতেই উত্তপ্ত হতে থাকে। এমন সময় সেখানে থাকা তাপ পরিবাহী বস্তুগুলো আবহাওয়া উষ্ণ রাখার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাকি থাকে শুধু একটি সহায়ক মাধ্যম যার উপর দিয়ে আগুন নিমেষেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়বে। এই অনর্থ সংঘটনের জন্য বন-জঙ্গল সব থেকে আদর্শ জায়গা। গায়ে গায়ে লেগে থাকা গাছপালা এখানে রীতিমত বৈদ্যুতিক তারের ভূমিকা পালন করে। একবার আগুন লেগে গেলে তা অনেক দূর পর্যন্ত নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে। চরম অবস্থায় এই আগুন আশপাশে থাকা গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসের কারণ হয়।
৫৪৪ দিন আগে
প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহজবোধ্য পূর্বাভাসের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবন ও জীবিকার ক্ষতি এড়াতে সহজবোধ্য পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি একটি কার্যকর হাইড্রোলজিক্যাল স্ট্যাটাস এবং আউটলুক সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য সকল অংশীদারদের অবদান রাখার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট অফিসের দুর্নাম দূর করতে কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আহ্বান
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সবসময় হুমকির মুখে রয়েছে। তাই একটি কার্যকরী পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার জন্য পূর্ব সতর্কীকরণ: হাইড্রোলজিকেল স্ট্যাটাস এবং আউটলুক সিস্টেম’ শীর্ষক পরামর্শক কর্মশালায় উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা হচ্ছে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শক্তিশালী হাইড্রোলজিকেল সিস্টেম ভবিষ্যত দুর্যোগের সঠিক পূর্বাভাস দিতে সহায়ক হবে, যার মাধ্যমে জীবন, সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, এক্ষেত্রে উজানের দেশগুলোর রিয়েলটাইম তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সরকারি সংস্থা, বৈজ্ঞানিক এবং স্থানীয় অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন, যাতে সবার জন্য, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একটি সহজপ্রাপ্য এবং কার্যকর পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুল হাসান; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাজমুল আহসান এবং ডব্লিউএমও হাইড্রোলজি এবং পানি সম্পদ বিভাগের প্রধান ড. হুইরিন কিম। সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা কর্মশালায় অংশ নেন এবং হাইড্রোলজিকেল ঝুঁকি মোকাবিলার একটি শক্তিশালী পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে, রিজওয়ানা হাসান গাজীপুরে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি’র (জিইএফ) নীতিমালা এবং কার্যক্রমের উপর অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন অনলাইনে যোগ দিয়ে।
আরও পড়ুন: আইনশৃঙ্খলার অবনতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রাঙ্গামাটিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
৬৪৫ দিন আগে