সড়ক দুর্ঘটনা
ডিসেম্বরে সড়কে ঝরেছে ৫০৩ প্রাণ, মোটরসাইকেলেই ৪০.৫৫ শতাংশ
ডিসেম্বর মাসে দেশে ৫৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮৬ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৭৮ জন। মোট নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২০৪ জনের, যা শতকরা ৪০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে সংঘটিত ২৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ১৩১ জন পথচারী নিহত হন, যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৩ জন, যা শতকরা ১২ দশমিক ৫২।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন।
সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ২০৪ জন, বাসের যাত্রী ১৪ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৪২ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ১৭ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২২ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনার মধ্যে ১৯৪টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৩টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৮১টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি, ড্রাম ট্রাক, ডাম্পার, পুলিশভ্যান, তেলবাহী ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ ছিল ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মোটরসাইকেলের অংশগ্রহণ ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং থ্রি-হুইলারের অংশগ্রহণ ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ডিসেম্বর মাসে দুর্ঘটনায় মোট ৯৮৭টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২৬৩টি মোটরসাইকেল, ১৬৬টি থ্রি-হুইলার, ১২৩টি বাস এবং ১৩৭টি ট্রাক ছিল।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ভোরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, সকালে ২৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, বিকালে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৫ শতাংশ এবং রাতে ১৮ দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হন। রাজধানী ঢাকায় ২৯টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ৩৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের তথ্যে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ৮২ জন, বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় প্রতিনিধি ২৯ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২৬ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ১৯ জন, এনজিও কর্মী ১৬ জনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও মানসিক চাপ, নির্ধারিত বেতন-কর্মঘন্টা না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দায়ী করা হয়েছে।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহে কুয়াশার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক নদীতে, নিহত ২
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে ২ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার গাজামানিকুন্ডা গ্রামের আবুল কালাম শেখের ছেলে ট্রাকটির চালক সোহেল শেখ (২৭) এবং একই গ্রামের জাফর মিয়ার ছেলে ট্রাকের হেলপার মুবারক হোসেন (২০)।
ফায়ার সার্ভিসের যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, রাতে যশোর থেকে একটি ডালবোঝাই ট্রাক পাবনা যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে গাড়াগঞ্জ এলাকার বড়দহ পুরাতন সেতুর ওপর পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে কুমার নদে পড়ে যায় ট্রাকটি।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিসের ২ টি ইউনিট উদ্ধার কাজ শুরু করে। আজ (রবিবার) ভোরে হেলপার মুবারক হোসেন ও সকাল ৮টার দিকে চালক সোহেল শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
১ দিন আগে
বরিশালে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের চালকসহ নিহত ২
বরিশাল নগরীতে বেপরোয়া গতির ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী মিলিয়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গভীর রাতে নগরীর রূপাতলী উকিলবাড়ির সামনে বরিশাল-ঝালকাঠি আন্তঃজেলা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মামুন উল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— নগরীর রূপাতলীর বাসিন্দা জুয়েল (২৮) এবং রুইয়ার পোল এলাকার রাসেল (২৫)। তারা দুজনেই এসিআই এনিম্যাল হেলথের স্টোরে সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন।
কোতয়ালি থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে অফিস শেষ করে জুয়েল এবং রাসেল নাশতা করতে মোটরসাইকেলযোগে রূপাতলী বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ঝালকাঠিগামী মালবোঝাই একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে এসে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রাসেল প্রাণ হারান। গুরুতর আহত জুয়েলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জুয়েলেরও মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ট্রাকটি রাস্তার ওপর রেখেই পালিয়ে যান চালক এবং সহকারী। পুলিশ তাদের দুজনকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন-উল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
২ দিন আগে
রাজশাহীতে হাটের মধ্যে ট্রাকচাপায় নিহত বেড়ে ৫
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাট এলাকায় বালুবাহী ট্রাক উল্টে চাপা পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। ঘটনাস্থলে চারজন নিহতের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান জলিল নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম (১৫), পাইকপাড়া গ্রামের আক্কেল প্রামাণিকের ছেলে মুনকার প্রামাণিক (৩৫), নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত রায়হান আলী জলিল (৪৫) উপজেলার খুটিপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝলমলিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রতিদিনের মতো কলার হাট বসেছিল। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে একজনের লাশ স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নিহতরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সারওয়ার হোসেন জানান, সকাল সোয়া ৭টার দিকে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক ছেড়ে ব্যস্ত বাজার এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং পরে উল্টে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রায়হান জলিলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পরে সেখানে তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে শুরু করে। এরই মধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুনলাম, তিনিও মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাকটি উদ্ধারে নাটোর ও রাজশাহীর পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। কেন এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
৪ দিন আগে
মৌচাক ফ্লাইওভারে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২
রাজধানীর মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার চালক ও মোটরসাইকেলের আরোহী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ৬টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতারা হলেন—অটোরিকশার চালক মো. নয়ন তালুকদার (৭০) এবং মোটরসাইকেলের আরোহী মো. ইয়াসিন আরাফাত (২১)।
নিহত নয়ন তালুকদার যাত্রাবাড়ী ধলপুর এলাকার রমেজ তালুকদারের সন্তান ও ইয়াসিন আরাফাত দক্ষিণ মুগদার ১৪১ নম্বর বাসার জহিরুল ইসলামে সন্তান।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপরে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালকই গুরুতর আহত হন। পরে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
৪ দিন আগে
বালুভর্তি ট্রাক ঢুকে গেল বাজারে, রাজশাহীতে নিহত ৪
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এত আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ঝলমলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিস জানায়, বালুভর্তি একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজারের ভেতরে ঢুকে গিয়ে উল্টে যায়। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে নাটোর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট উদ্ধারকাজ করতে আসে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুঠিয়া থানার পরিদর্শক ওসি (তদন্ত) বারি মুনশি বলেন, এখন ঘটনাস্থলে আছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
৪ দিন আগে
ঝিনাইদহে এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৫ জনের মৃত্যু
অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে ঝিনাইদহের সড়ক-মহাসড়ক মৃত্যু ফাঁদে পরণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণ ঝরছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সড়ক মহাসড়কে থামানো যাচ্ছে না অবৈধ যান চলাচল। সড়ক দুর্ঘটনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২০২৫ সালে ৭৫ জন নিহত হয়েছে।
ঝিনাইদহ হাইওয়ে পুলিশ, হাসপাতাল, জেলা পুলিশ ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন রুটে গত এক বছরে সর্বোচ্চ ১৯ জন, হরিণাকুন্ডু উপজেলায় ৯ জন, শৈলকুপা উপজেলায় ১৮ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১১ জন ও মহেশপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ জন মানুষ।
নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগ মারা গেছে সড়কে চলাচলকৃত অবৈধ যানবাহনের কারণে। এছাড়া কিশোর ও তরুণ কলেজ শিক্ষার্থীরা দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের কর্মী সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু জানান, সড়ক-মহাসড়কে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন বন্ধ না করা হলে মানুষ সড়কে ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়বে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আবার এসব অবৈধ গাড়ি যারা চালান, তারাও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য।
ঝিনাইদহ ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, সড়ক-মহাসকে অবৈধ যানবাহন মুক্ত করতে প্রতি নিয়ত হাইওয়ে পুলিশ নসিমন, করিমন, আলমসাধু, লাটাহাম্বার, ভটভটি ও ইজিবাইক আটক করে জরিমানা করছে। তারপরও তাদের থামানো যাচ্ছে না। জরিমানা দিয়ে তারা আবার মহাসড়কে ফিরছে।
তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশের একার পক্ষে অবৈধ যানচলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যানবাহন চালক ও নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে।
৪ দিন আগে
দিনাজপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ১ জন নিহত, আহত ৩
দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে বদরগঞ্জ সড়কের ক্যানেল ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় নিহত আসিফ ইকবাল (১৯) জেলার পলাশবাড়ীর উত্তর ধোবাকল গ্রামের মৃত আলমের ছেলে।
পাবর্তীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক জানান, ক্যানেল ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা দুইটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এক মোটরসাইকেলের চালক আসিফ ইকবাল দুর্ঘটনাস্থলে নিহত হন। মোটরসাইকেলে থাকা অপর যাত্রীরা আহন হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকচাপায় একটি কাভার্ডভ্যানের চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার মানিকপুর এলাকার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নাটোরের নলডাঙ্গার সোহাগ হোসেন (৩০) ও টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বিপ্লব হোসেন (৩২)।
পুলিশ জানায়, ভোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ঢাকা থেকে নাটোরগামী একটি কাভার্ডভ্যান পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক সোহাগ হোসেন (৩০) ও তাকওয়া ফুড কোম্পানির এসআর বিপ্লব হোসেন (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
৬ দিন আগে
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পিকআপ উল্টে আহত ৯
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার কামারখোলা রেল ওভারব্রিজের ঢালে একটি পিকআপ ভ্যান উল্টে ৯ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রায় আধঘন্টা মাওয়ামুখী যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার উদ্দেশে যাওয়ার পথে পিকআপটির পেছনের একটি চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পিকআপটিতে কুমিল্লার একটি মেলা শেষে মেলার ডেকোরেশন এবং দোকানের মালামালসহ দোকানিদের বহন করা হচ্ছিল।
শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলায় হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
৭ দিন আগে