সড়ক দুর্ঘটনা
রংপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত
রংপুরে আইডিয়াল মোড়-সংলগ্ন মহাসড়কে বাসচাপায় জুয়েল হোসেন নামে এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। অপরদিকে, নগরীর পীরগঞ্জে ট্রাকচাপায় আব্দুর রহিম নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জুয়েল হোসেন মোটরসাইকেল নিয়ে টার্মিনাল থেকে মহাসড়ক ধরে মেডিকেল কলেজ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা লেগে সড়কের মাঝে পড়ে যায়। এরই মধ্যে একটি চলন্ত বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত জুয়েল হোসেন নগরীর কেল্লাবন্দ এলাকার মৃত জহুরুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন। কেল্লাবন্দ এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শাপলা আদর্শপাড়ায় বসবাস করতেন তিনি।
অপরদিকে, পীরগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন আব্দুর রহিম। এ সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
নিহত আব্দুর রহিম পীরগঞ্জের চতরা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের সামনের রাস্তায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় আমেনা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আমেনা বেগমের বাড়ী চাঁদপুর সদরের দেওয়ার বাড়ী এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত এবাদুল্লাহ। যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
নিহতের নাতি জাবেদ জানান, গতরাতে (শুক্রবার) আমার নানী পায়ে হেঁটে যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তের সামনের সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে আমরা তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান আমার নানি আর বেঁচে নেই। ট্রাকচালক ও ট্রাক পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
কুষ্টিয়ায় ট্রাক-পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এতে পিকআপের চালকসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা গেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বিত্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলা সদর উপজেলার বাঙালিপাড়া এলাকার আব্দুল হকের ছেলে সিফায়েত (৩৫) ও সাধুখালী এলাকার বিমলের ছেলে বিকাশ (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আজ সকালে ঘোড়া বহনকারী একটি পিকআপভ্যান নড়াইলের দিকে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সিফায়েত নিহন হন। আহত অবস্থায় বিকাশকে হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা তিনটি ঘোড়াও মারা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত পিকআপের চালক নাজমুল (৩৭) এবং দুই আরোহী তামিম (১৪) ও জিয়াকে (৪৫) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২ দিন আগে
কুমিল্লায় বাসচাপায় পথচারী নিহত
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাধাইয়া এলাকার দোতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতিতে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের সামনে পড়ে যান ওই পথচারী।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে পথচারী বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে পড়ে যায়।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩ দিন আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপচালক নিহত
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাসের ধাক্কায় ডিমবাহী পিকআপ উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে এর চালক রাহুল নিহত হন।
মঙ্গবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি এলাকায় দুর্টনাটি ঘটে।
রাহুলের বাড়ি শেরপুর জেলার গৌরীপুর গ্রামে।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি ডিমবোঝাই পিকআপ সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। নাটোরের গড়মাটি এলাকা অতিক্রমকালে একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে পিকআপটির। ফলে এটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপচালক রাহুল নিহত হন এবং সহকারী আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৫ দিন আগে
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
৫ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে দুই ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-পিকআপ সংঘর্ষে দুই বাঙ্গী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এতে যাত্রীবাহী বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ৪০ ফিট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় পিকআপটিতে থাকা দুই যাত্রীর মধ্যে জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪২) ঘটনাস্থলেই ও ঢাকা নেওয়ার পথে আলমগীর শেখ (৪০) নিহত হন। তারা দুজনই পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্ৰামে।
এ ছাড়াও বাসটিতে থাকা কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অধিকাংশের হাত, পা, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ও ভেঙে গিয়েছে।
এ বিষয় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মামুন জানান, ফরিদপুর থেকে মাদারীপুরগামী শাহ ফরিদ নামের একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা টেকেরহাট থেকে বাঙ্গী বোঝাই একটি পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপটি উদ্ধার করি। আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২, সর্বোচ্চ প্রাণহানি মোটরসাইকেলে
গত মার্চ মাসে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২ হাজার ২২১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন। মোট প্রাণহানির মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি যেখানে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন যা মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চ মাসে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ৭৯ জন পথচারী (১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং ৬৬ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী (১২ দশমিক ৪০ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭ জন এবং আহত হয়েছেন ২২৪ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনার যানবাহনভিত্তিক চিত্র
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন (৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৪৫ জন (৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন (৫ দশমিক ২৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন (৪ দশমিক ৩২ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন (২ দশমিক ৪৪ শতাংশ)।
সড়কের ধরন
দুর্ঘটনার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শহরের সড়কে এবং ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৬টি (২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৩১টি (৪০ দশমিক ১০ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৮৬টি (১৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দিয়ে, ৮২টি (১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করে এবং ১১টি (১ দশমিক ৯০ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ২৪৪টি, থ্রি-হুইলার ২০০টি, বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি এবং অন্যান্য যানবাহনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণ
দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে সকালে (২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২ দশমিক ৯২শতাংশ)। এছাড়া রাতে ২১ শতাংশ, বিকেলে ১৭ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভোরে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার তুলনামূলক বেশি, আর সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।
পেশাভিত্তিক নিহত
নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ১৪ জন, সাংবাদিক ৫ জন, চিকিৎসক ২ জন, আইনজীবী ৩ জন, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ১৭ জন, এনজিও কর্মী ১২ জন, ব্যবসায়ী ২৭ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৩ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর্যালোচনা ও কারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৪২ জন নিহত হলেও মার্চে তা বেড়ে ১৭ দশমিক ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধিকাংশ দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিকতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকে দায়ী করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে গাড়িচাপায় প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গাড়িচাপায় এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর আসমা আলী পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইরফান বলেন, খবর পেয়ে আমরা যাত্রাবাড়ীর আসমা আলী পাম্পের সামনে থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করি । পরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে আসমা আলী পাম্পের সামনে দিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি গাড়িচাপায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবকের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
রাজধানীর ওয়ারীতে গাড়ির চাপায় যুবক নিহত
রাজধানীর ওয়ারীতে দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় এক যুবক (২৫) নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ওয়ারী থানার বঙ্গভবনের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আজ ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন জানান, আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
নিহতের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিআইডি ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
১৫ দিন আগে