সড়ক দুর্ঘটনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ) ভোর ও দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের মুসলিমপুর ও কানসাট এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: উপজেলার বালিয়াদিঘি গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান (২০) ও জমির উদ্দিনের ছেলে আবুল হায়াত (৩৫) এবং একই উপজেলার শেখটোলা এলাকার এরফান আলীর ছেলে আসাদ (১৯) ও জাফর আলীর ছেলে জাবের আলী (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোর সোয়া ৫টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের নিচে পড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র জানান, হাবিবুর রহমান ও আবুল হায়াত কানসাট এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি বালিয়াদিঘিতে ফিরছিলেন। পথে অসাবধানতাবশত মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টের নিচে পড়ে যায়। পরে পথচারী ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কানসাট এলাকায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলআরোহী আরও দুই যুবক নিহত হন।
শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিবগঞ্জ থেকে কানসাটগামী একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলআরোহী আসাদ নিহত হন। এত অপর মোটরসাইকেলআরোহী জাবের আলী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় পুলিশ ট্রাকটি আটক করলেও চালক এখনও পলাতক রয়েছেন।
১০ ঘণ্টা আগে
গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২৫
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের বৌলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা সোনালী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসটি গোপালগঞ্জের বৌলতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে এবং ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও দুজন। এছাড়া আহত হন বাসের অন্তত ২৫ যাত্রী।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
দুর্ঘটনার ব্যাপারে বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শফিউল আলম বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
১২ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্মাণাধীন কালভার্টে পড়ে মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি কালভাটে পড়ে মোটরসাইকেলআরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— একই ইউনিয়নের বালিয়াদিঘি গ্রামের সাদিকুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান (২০) ও জমির উদ্দিনের ছেলে আবুল হায়াত (৩৫)। তারা দুজনেই ট্রাকের শ্রমিক ছিলেন।
শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসআই খোকন চন্দ্র জানান, কানসাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে ভোর সোয়া ৫টার দিকে নিজ বাড়ি বালিয়াদিঘি ফিরছিলেন হাবিবুর রহমান ও আবুল হায়াত। এ সময় অসাবধানতাবসত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের মুসলিমপুর এলাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নির্মাণাধীন কালভার্টের নিচে পড়ে পড়ে যায়। এতে দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে পথচারী ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
রাঙামাটিতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪
রাঙামাটি সদর উপজেলায় পিকআপ উল্টে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: মেঘরানী চাকমা (৪৫), শান্তনা চাকমা (৩৮), শোভা চাকমা (৫২) এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা (৬৫)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত জ্ঞান বিকাশ চাকমা (৫০) এবং সুমন চাকমা (৪৫)-কে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি পিকআপ কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশে যাওয়ার পথে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার করে আহতদের রাঙামাটি হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে চারজনকে রাঙামাটি হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার মানিকছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোকন কান্তি রুদ্র জানান, অনাকাঙ্খিত এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২ দিন আগে
হাতীবান্ধায় অটোরিকশা চাপা দিয়ে শোরুমে ঢুকল ট্রাক, নিহত ২
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন পথচারী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: উপজেলার শিংগিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫০) ও একই উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে জহুরুল হক (৪৮)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উপজেলার বড়খাতা এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত একটি অটোরিকশা হাতীবান্ধা সদরে যাচ্ছিল। রিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌছলে বিপরীত দিক লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এ সময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি মোটরসাইকেল শোরুমে ঢুকে পড়ে। ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত ও তিনজন পথচারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
চাঁদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২০
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বালুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচোঁ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সদরের বালুবাহী ট্রাকটির চালক আবদুল ওহাব (৪৫), বাসের চালক গাইবান্ধার কামাল (৪০) ও বাসচালকের সহকারী বাগেরহাটের শোভন (৩৫)।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নোয়াখালী থেকে যশোরগামী আল-আরাফা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেন। আহতদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার ইউএনবিকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আহত ১৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা এই হাসপাতালে চলছে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
হবিগঞ্জে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের (৪৫) ও ট্রাকচালকের সহযোগী রিপন মিয়া (২৭)। আবুল খায়ের পশ্চিম মাধবপুরের বাসিন্দা ও রিপন মিয়া উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেজুড়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাক ও সিলেটগামী একটি তেলবাহী বাউজারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার ওপর বালুবাহী ট্রাকটি উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের নিহত হন। সে সময় ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ে চালকের সহযোগী রিপন মিয়া নিহত হন।
খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একদল কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত ৩টি গাড়ি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
৯ দিন আগে
বগুড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩
বগুড়া সদরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উড়ালসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে অন্য একটি ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়ার শেরপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার আনন্দ সরকারের ছেলে তাপস সরকার (৩৫) এবং তার ছেলে তীব্র সরকার (১৮)। নিহত অন্য একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায়। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (রবিবার) ভোরে ছিলিমপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকাগামী একটি ট্রাকের চাকা বিকল হয়ে পড়ে। চালক ও সহকারী ট্রাকটির চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রংপুরগামী অন্য একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
নিহত তাপস সরকারের শ্যালক নয়ন রায় জানান, ট্রাকটির চাকা নষ্ট হওয়ার পর তাপশ তার ছেলেকে চাকা নিয়ে আসতে বলেছিলেন। পরে বাবা-ছেলে মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করলে পেছন থেকে একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলে নিহত হন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। একটি ট্রাকের কেবিন পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। আমরা আসার পর দুইজনের মরদেহ ভেতর থেকে উদ্ধার করেছি।’
বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ও মালামাল সড়ক থেকে সরানোর কাজ চলছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৯ দিন আগে
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহতদের পরিচয় মিলেছে
সিলেটে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে। এ দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের ১৪ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের চার বছর বয়সী মেয়ে শিশু ফাইজা আক্তার, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (২৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন (৪৫), এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন—ওয়াহাব (৪৫), ঢাকার মনসুর আলী (৩৪), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আতিকুল ইসলাম (৪৮), কিশোরগঞ্জের বাবুল (৪০), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), সুমানগঞ্জের রাজু দাস (৩৫)। এক জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আহত অন্যরা হলেন—কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদ (৫০), ফরিদপুরের শামীম আহমদ (৫০), ঢাকার মঞ্জু দাস (৫০), কুমিল্লার ইমরান (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কাশিকাপন নামক এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতগামী ইউনিক পরিবহন বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের ডান দিক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা, শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ওসমানীগর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে হতাহতদের উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে পুলিশ আধঘণ্টা চেষ্টা করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার কোচ ওভারটেক করতে গিয়ে ঢাকাগামী ইউনিক বাসকে আঘাত করে। ঘটনার পর স্বজনহারাদের ভিড় নামে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের খুঁজছে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মোট ১৬ জন আহতকে আনা হয়। এর মধ্যে চার বছরের শিশু জাইফাকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রীতম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা পাঁচজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুইজনের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানান তিনি।
চক্ষু বিভাগে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং একজনের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। নিউরো সার্জারিতে ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো হলেও আফতাব নামে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে যাই। ঘটনার কথা মনে হলে শরীর কেঁপে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে ইউনিক গাড়িকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে যায়।’
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা থানা পুলিশ এবং ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস মিলে হতাহতদের উদ্ধার করি। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
১০ দিন আগে
নাটোরে ভটভটির সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩
নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে গরুবাহী ভটভটি ও বাসের সংঘর্ষে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের গুরুদাসপুরের নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রহমান, আক্কাছ আলী এবং তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম। তাদের বাড়ি বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষীকোল এলাকায়।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নাটোরের বড়াইগ্রাম থেকে চান্দাইকোনা গরুর হাটগামী ভটভটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ভটভটিতে থাকা এক গরু ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
আহত তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ করছে পুলিশ।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১০ দিন আগে