সড়ক দুর্ঘটনা
দেশে ফেরার পথে সৌদির সড়কে প্রাণ গেল সিলেটের ২ প্রবাসীর
সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফ শহরের আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়ির চালকসহ চারজনই প্রাণ হারান।
সিলেটের নিহত দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তাদের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে তারা লাগেজ গুছিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের শেষযাত্রা।
এদিকে দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে তাদের নিজ এলাকায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাওয়ার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান। এ ঘটনায় পরিবার দুটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবারও সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে উপজেলাজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
৩ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের বাস খাদে, আহত ২০
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের একটি ভ্রমণ বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা বার্ষিক ভ্রমণে বরিশাল থেকে কক্সবাজারে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ভ্রমণ বাতিল করে ফিরে গেছেন।
আহতরা হলেন: যাওয়াত, ফেরদৌস, কৌশি, মিরাজ, মুরসালিন, ইমন মৃধা, আরিফ, শফিকুল ইসলাম, মালিহা মেহনাজ, রায়হান, সাজিয়া, তাসপিয়া, আরিফুল ইসলাম, সামিউল, রাজর্ষি, তাসনীম, হুমায়রা, মিলা, নিসা ও তানজিনা।
এদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূর উদ্দিন বাহার বলেন, আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করি। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে মোট ৪০ জন ছাত্র ছিলেন। তাদের মধ্যে আহত হন ২০ জন। ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ প্রাণহানি, আহত ৬৬৪
গত আগস্ট মাসে দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত এবং ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৬.৫৯ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৫.৬৭ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
এই সময়ে ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ মোট নিহতের ১৩.৯২ শতাংশ। এছাড়া আগস্টে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।
আরএসএফ ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৭৬ জন (৩৬.৫৯ শতাংশ), বাসের যাত্রী ৩৭ জন (৭.৬৯ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি-ড্রাম ট্রাকের আরোহী ৫১ জন (১০.৬০ শতাংশ), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জিপের আরোহী ১১ জন (২.২৮ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
এছাড়া থ্রি-হুইলার যাত্রী—অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা—নিহত হয়েছেন ৭৮ জন (১৬.২১ শতাংশ)। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের—নসিমন, ভটভটি ও মাহিন্দ্র—যাত্রী নিহত হয়েছেন ২১ জন (৪.৩৬ শতাংশ)। রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন পাঁচজন (১.০৩ শতাংশ)।
আরএসএফের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৩টি (৩১.৭৭ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২১৭টি (৪২.৩০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬২টি (১২.০৮ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৭১টি (১৩.৮৪ শতাংশ) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে দুর্ঘটনায় মোট ৭৪৯টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে বাস ১০৩টি, ট্রাক ১০৮টি, কাভার্ডভ্যান ৩৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর আটটি, ট্রলি ছয়টি, লরি ১২টি, ড্রাম ট্রাক ১০টি, তেলবাহী ট্রাক একটি, ১৪ চাকার লরি একটি, মাইক্রোবাস ১৪টি, প্রাইভেটকার ২০টি, অ্যাম্বুলেন্স আটটি, জিপ চারটি, মোটরসাইকেল ১৯৪টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৬টি, রিকশা আটটি, বাইসাইকেল পাঁচটি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩১টি।
থ্রি-হুইলারের মধ্যে অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও লেগুনা এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের মধ্যে নসিমন, ভটভটি, আলমসাধু, টমটম ও মাহিন্দ্র রয়েছে।
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৮ শতাংশ ভোরে, ২৭.৮৭ শতাংশ সকালে, ১৮.৯০ শতাংশ দুপুরে, ১৫.২০ শতাংশ বিকালে, ৯.৯৪ শতাংশ সন্ধ্যায় এবং ২০.০৭ শতাংশ রাতে ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্র
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৫২ শতাংশ এবং প্রাণহানির ২৯.৯৩ শতাংশ ঘটেছে। রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪.৮১ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৮.৫০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৭.৩৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ১৫.৫৯ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.৯৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮.৭৩ শতাংশ।
বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৯২ শতাংশ ও প্রাণহানি ২.৯১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.০৬ শতাংশ ও প্রাণহানি ৭.৬৯ শতাংশ, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৫২ শতাংশ ও প্রাণহানি ১০.৮১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৮৪ শতাংশ ও প্রাণহানি ৫.৮২ শতাংশ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকায় আগস্টে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছেন।
জুলাইয়ের তুলনায় প্রাণহানি বেড়েছে
আরএসএফের পর্যালোচনায় বলা হয়, গত জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩.৪১ জন নিহত হয়েছিলেন। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৫.৫১ জন। এ হিসাবে আগস্টে প্রাণহানি বেড়েছে ১৫.৬৫ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এ গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণে পথচারী নিহতের ঘটনাও বাড়ছে বলে উল্লেখ করে আরএসএফ। এজন্য সরকারি উদ্যোগে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ
আরএসএফের প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১ দফা সুপারিশ
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন করে এর অধীনে বিআরটিএ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) পরিচালনার সুপারিশ করেছে আরএসএফ। কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংস্থাটি বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং এসব কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবহন সেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আরএসএফ।
দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করে তাদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বল্পগতির ছোট যানবাহনের জন্য সব মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ নিরাপদ রোড ডিজাইনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টেকসই পরিবহন কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করা হলে সমন্বিত, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
আরএসএফ বলেছে, সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ‘অতীব জরুরি’।
১ দিন আগে
আগস্ট মাসে সিলেটের সড়কে ঝরেছে ৪৭ প্রাণ
সিলেট বিভাগে আগস্ট মাসে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ১২২ জন। চলতি বছরে এক মাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ ৫১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশে ১০টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলায় তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। কম দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায়।
প্রতিবেদনে আগস্ট মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম না মেনে বেপরোয়া ওভারটেকিং করা, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চালানো, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও সড়কে নির্মাণ ত্রুটিকে উল্লেখ করা হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আগস্ট মাসে সিলেট জেলায় ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলায় চারটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন এবং হবিগঞ্জ জেলায় নয়টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।
নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলার সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচা সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে নিসচা বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন সিএনজি ও টমটম চালক ও আরোহী, ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন চালক এবং সাতটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন পথচারী নিহত হয়েছেন।
এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে সাতটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে আঘাতে একটি দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আগস্ট মাসে নিহত ৪৭ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসে সিলেট বিভাগে ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছেন।
১ দিন আগে
গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩০ জন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছিল। গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে ব্রিজ-সংলগ্ন খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ১২ জনকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস গেড়াখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা গেছেন। আহতদের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
২ দিন আগে
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৪
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। এছাড়া আরও দুজন আহত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, শ্রীপুরের মাওনা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনাস্থলেই ফিরোজা বেগমসহ দুজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে আসাদুল মারা যান। পরে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান নাসিমা বেগম। নিহত নাসিমা বেগম ও আসাদুল সম্পর্কে মা-ছেলে। নিহত আরেক ব্যক্তির পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর সড়কটিতে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে কাভার্ড ভ্যান চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
৩ দিন আগে
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত, আহত ৪
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালিয়াকৈর-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শ্রীপুরের মাওনা থেকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কালিয়াকৈরের দিকে যাচ্ছিল। কাঞ্চনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।
এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে গিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন, আর আহতাবস্থায় চালকসহ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩ দিন আগে
ফেনীতে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে বাসের ধাক্কা, নিহত ৪
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ইউনিক পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেওয়ায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে পুরাতন মুহুরীগঞ্জ দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—চট্টগ্রামের কনফুলী এলাকার মৃত সফর আলীর ছেলে কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুর আজিজ (৭০) ও কেরানীগঞ্জের পারগেন্ডারিয়া এলাকার সফি মিয়ার ছেলে বাসচালক আবুল হোসেন (৬২) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের রসুল আহমেদের ছেলে মো. হোসেন (২৮) ও ইউনিক বাসের সুপারভাইজার ঝিনাইদহের শৈলাকুপা এলাকার শামীম হোসেন (৫৫)।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাস্থলে একটি কাভার্ডভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। পরে সেটি সরানোর জন্য একটি লং ভেহিকেলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ইউনিক পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে কাভার্ডভ্যানের চালক ও সহকারী এবং ইউনিক বাসের চালকসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম নবী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কাভার্ডভ্যানের চালক, সহকারী ও ইউনিক বাসের চালককে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাদীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
ফেনী ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ডভ্যান, ইউনিক বাস এবং লং ভেহিকেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪ দিন আগে
গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ২
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল-আরোহী ও মাইক্রোবাসচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাদুল্লাপুরে ছেলেকে মোটরসাইকেলে করে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গোলাম রব্বানী নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম রব্বানী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাদুল্লাপুরে যাচ্ছিলেন। পথে নলডাঙ্গা থেকে আসা ফাতেমা পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি ছিটকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম রব্বানী নিহত হন।
মোটরসাইকেলের অপর যাত্রী তার ছেলে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত গোলাম রব্বানী সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে, সকাল ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া সেতু-সংলগ্ন মাঝিপাড়া এলাকায় বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক মাসুদ রানা নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গাইবান্ধা থেকে যাত্রী নিয়ে আল হামরা পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বাসটি সাকোয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসচালক মাসুদ রানা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের অপর এক যাত্রী আহত হয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩
ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন যাত্রী নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের ধারাপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন (৬০) ও ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামলী বাংলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসটি আলালপুর এলাকা পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হালুয়াঘাটগামী ইমাম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ দুর্ঘটনায় দুই বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাস্থলেই যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক মারা যান। এছাড়া আহত হয় অন্তত আটজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আল আমিন বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা ছয়জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করি। বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই বাসের চালক ও সহকারিরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
৫ দিন আগে