সড়ক দুর্ঘটনা
বোনের কুলখানি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই নিহত
কুমিল্লার হোমনায় বড় বোনের দাফন-কাফন ও চারদিন পরে কুলখানি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপ মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা-হোমনা সড়কের সিনাইয়া এলাকায় বিএডিসি হিমাগার-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রূপ মিয়া মুরাদনগর উপজেলার রোয়াচালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আহতরা হলেন— নিহতের ছোট বোন হনুফা বেগম (৫০), ভগ্নিপতি বাবুল মিয়া (৫৫) এবং মালবাহী অটোরিকশারচালক মো. তানভীর (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সানারপাড় এলাকায় বড় বোনের কুলখানি শেষে বাড়ি ফিরতে তারা বাসে করে দাউদকান্দির গৌরীপুরে নামেন। সেখান থেকে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হোমনা সদর হয়ে মুরাদনগরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সিনাইয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী অটোরিকশার সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রূপ মিয়া নিহত হন।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল্লাহ জানান, রূপ মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হনুফা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
১ দিন আগে
কুমিল্লায় বিআরটিসির বাস উল্টে আহত ১০
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি বিআরটিসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বাসের এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই বাসটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন ) দুপুরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার নকুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক প্রামাণিক (৬৫) ও হাসেন প্রামাণিক (৬০)। তারা উভয়েই মৃত রিয়াজ প্রামাণিকের ছেলে।
আহতরা হলেন—একই এলাকার হাতেমের ছেলে লালন এবং জালালের ছেলে লাল্টু। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, নকুলবাড়িয়া এলাকার একটি মসজিদের জন্য মাইক কেনার উদ্দেশে চার যাত্রী অটোরিকশাযোগে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। বানেশ্বর ইয়ামাহা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসেন প্রামাণিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
১ দিন আগে
উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
রাজধানীর উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফজলুল করিম (৮৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে উত্তরার পূর্ব থানার আজমপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফজলুল করিম উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
নিহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী জাহাঙ্গীর জানান, আজ (সোমবার) সকালে আজমপুর এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন ফজলুল করিম। সে সময় অসাবধানতাবশত একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল হঠাৎ তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কের ওপর লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই পথচারীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুপুর সোয়া ১টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দুটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে আতাউর রহমান (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া-প্রাগপুর সড়কের উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মাঠপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আতাউর রহমান উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়ুড়া ফুটানিপাড়া গ্রামের মৃত উজির বিশ্বাসের ছেলে ছিলেন।
আহতরা হলেন— উপজেলার কৈপাল এলাকার শুভ হোসেন (৩৫) ও হুমায়ুন কবির (২১)। তাদের মধ্যে শুভ হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপর আহত হুমায়ুন কবির দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাঠপাড়া এলাকায় দুটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আতাউর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
৫ দিন আগে
মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৬২২ প্রাণ: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
গত মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং আহতের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছয়জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, আটজন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, দুজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন আইনজীবী এবং তিনজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুলিশ সদস্য, দুইজন বিজিবি সদস্য, একজন চিকিৎসক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, আটজন শিক্ষক, একজন আইনজীবী এবং তিনজন রাজনৈতিক কর্মী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনা, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।
স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ৫ দশমিক ২২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরে, শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে এবং শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়ক চিহ্ন ও পর্যাপ্ত আলোর অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণগত ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি দুর্ঘটনা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও পথচারী সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধের সুপারিশ করেছে।
৬ দিন আগে
ফেনীতে ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীতে সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ৮ জন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফেনীর খাইয়ারা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (৪০) নামে একজনের পরিচয় জানা গেলেও অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। সকাল ৬টা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের চাকা নষ্ট হলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে চালক ও সহকারী চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষ জড়ো হন। হঠাৎ ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।
খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, রাত ২টার পরপরই অন্তত ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের অনেকের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। জরুরি চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খাঁন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
৮ দিন আগে
রাজশাহীতে মাহিন্দ্রা-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।
বুধবার (১০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে খাড়ইল মিলঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ছিলেন। তাৎক্ষণিক নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মারুফ হোসেন (৩৭)।
এদিকে, গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিক নিহত ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৯ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩
কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে সজীব (২৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হেলপার জিহাদসহ (১৫) আরও দুজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের উপজেলার ৯ মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে আম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ট্রাক নিয়ে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন চালক সজীব ও হেলপার জিহাদ। তারা রাজশাহী যাওয়ার পথে ৯ মাইল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক সজীব নিহত হন। এ সময় হেলপার জিহাদসহ তাদের আরও ২ জন সহযোগী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত সজীবের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় ট্রাক দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০ দিন আগে
টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও একজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে সড়কের কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে নূরনবী (৬৪), নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে রফিকুল (১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর (২২) এবং ভোলা জেলার মো. সেলিমের ছেলে সুমন (২৬)। সুমন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৪০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া বাজার-সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি ট্রাকে বাঁশ বোঝাই করার কাজ চলছিল। এ সময় বড়চওনার দিক থেকে আসা দ্রুতগতির মুরগিবোঝাই পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় ট্রাকে থাকা জহিরুলও গুরুতর আহত হন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১০ দিন আগে