সড়ক দুর্ঘটনা
জয়পুরহাটে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত ২
জয়পুরহাটে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ নারী যাত্রী। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে জয়পুরহাটের সদর উপজেলার জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক সড়কের বনখুর ওয়াপদা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের কাদেরপাড়া মহল্লার অটোরিকশাচালক তৌহিদ হোসেন (৩৩) এবং একই উপজেলার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা ফুলমনি রাণী (৪৪)।
আহত ৫ যাত্রীর মধ্যে আশঙ্কাজনক ৪ জনকে জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন—একই এলাকার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা বাসন্তী, কেশমনি, শেফালী ও অঞ্জনা রাণী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে পাঁচবিবির বীরনগর এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় করে ৫ জন নারী যাত্রী জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি সদর উপজেলার বনখুর ওয়াপদা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক তৌহিদ ও আরোহী ফুলমনি রাণী মারা যান। এ সময় অপর ৫ যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বর আহত ৪ নারী যাত্রীকে উদ্ধার করে। তাদের জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
২ দিন আগে
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত, আহত ৮
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের সঙ্গে দুটি ইজিবাইকের (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খুলনা মহানগরের হরিণটানা থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই উপজেলার হরিদাসকাঠি এলাকার তাপস হোর ওরফে সুনু হোড় (৬০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি ট্রাক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি ইজিবাইকও ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে একটি ইজিবাইক ট্রাকের নিচে ঢুকে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ট্রাকটি সড়কের একপাশে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক ইজিবাইকচালক ও এক যাত্রী নিহত হন। আহত সাত থেকে আটজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে হরিণটানা ও লবণচরা থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে কেএমপির রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও ইজিবাইক সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২ দিন আগে
দিনাজপুরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী মা-ছেলে নিহত
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তার ৩ বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলচালক গৃহকর্তা নাজমুল হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট পাঁচপীর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: কাহারোল উপজেলার মালগ্রাম গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২৮) এবং তাদের ৩ বছর বয়সী ছেলে নাস আব্দুল্লাহ।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে স্ত্রী ও সন্তানকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকার এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে কাহারোল উপজেলার মালগ্রাম গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে রওনা দেন নাজমুল হোসেন।
পথিমধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট পাঁচপীর মোড়ে মোটরসাইকেলটির পেছনে ধাক্কা দেয় একটি মাছ বহনকারী পিকআপ ভ্যান। এ সময় ফাহিমা আক্তার ও তার ছেলে রাস্তায় ছিটকে পড়ে পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তারা।
ওসি আরও জানান, মোটরসাইকেলচালক নাজমুল হোসেন দূরে ছিটকে পড়ায় আহত হয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তাকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
২ দিন আগে
দিনাজপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের প্রাণহানি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাজিউর রহমান রবি নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই দিনে জেলার খানসামা উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে পৃথক স্থানে এ দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রবির পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ (রবিবার) ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে উপজেলার গোলাপগঞ্জ এলাকায় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাকে দিনাজপুর শহরের জিয়া ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, রবি মাঝে মধ্যে ভারসাম্য হারানোর মতো আচরণ করতেন।
অন্যদিকে, খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ধীরেনপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির মা বাড়ির পাশের ব্র্যাক স্কুলে শিক্ষকতা করেন। আজ সকালে তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যান। একপর্যায়ে মায়ের অজান্তে শিশুটি স্কুল-সংলগ্ন পুকুরের পানিতে পড়ে যায়।
পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শিশুটিকে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৪ দিন আগে
জুনে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪৩৮টি প্রাণ
দেশে গত জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু।
নিহতদের মধ্যে ১৩৪ জন মোটরসাইকেলের আরোহী বা চালক, যা মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। একই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৭ জন এবং ২১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ৯১ জন পথচারী (২০.৭৭ শতাংশ) এবং ৫৭ জন চালক ও সহকারী (১৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৪ জন, বাসের যাত্রী ২৭ জন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রলির আরোহী ৩৭ জন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের আরোহী ১৪ জন, থ্রি-হুইলারের যাত্রী ১১২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৫ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেল আরোহী ৮ জন।
দুর্ঘটনার মধ্যে ১৫১টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৭টি শহরের সড়কে এবং ৬টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০৯টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৯৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৫৩টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে এবং ৭টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
মোট ৭১৩টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ১৫৭টি মোটরসাইকেল, ১৪১টি থ্রি-হুইলার, ১১৬টি বাস, ১০৭টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ২৮টি পিকআপ, ১৬টি মাইক্রোবাস, ১৩টি প্রাইভেটকার, ৪টি অ্যাম্বুলেন্স, ৪২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন, ৭টি রিকশা, ৪টি বাইসাইকেল এবং ৩০টি অজ্ঞাত যানবাহন রয়েছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে। এছাড়া ভোরে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, দুপুরে ১৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বিকালে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং রাতে ১৯ দশমিক ২৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে রয়েছেন একজন পুলিশ সদস্য, চারজন শিক্ষক, দুইজন সাংবাদিক, একজন চিকিৎসক, তিনজন প্রকৌশলী, চারজন আইনজীবী, একজন চীনা নাগরিক, ১৩ জন ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৭ জন এনজিও কর্মী, ২১ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২৪ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, চারজন মসজিদের ইমাম বা খাদেম, ছয়জন পোশাক শ্রমিক, পাঁচজন নির্মাণ শ্রমিক, দুইজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫৮ জন শিক্ষার্থী।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
এসব দুর্ঘটনা কমাতে সংস্থাটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন সমন্বয়ে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করেছে।
৪ দিন আগে
কুড়িগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার এক আরোহী নিহত, আহত ৪
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গ্যাসবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন।
শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের শিমুলতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম এরশাদ আলী (৪০)। তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, শফিউর রহমান ও সিএনজিচালক দুলু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ (শনিবার) সকালে ওমেরা গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কুড়িগ্রামের দিকে আসছিল। পথে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এরশাদ আলীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পথে এরশাদ আলীর মৃত্যু হয়।
আহত বাকি চারজনকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৫ দিন আগে
গাজীপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলআরোহী ২ বন্ধু নিহত
গাজীপুরের শ্রীপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলআরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে তারা এ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সারেংকান্দি গ্রামের হাসিন সিকদারের ছেলে মো. সোলেমান সিকদার (২২) এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ মান্দাইল এলাকার গিয়ার উদ্দিনের ছেলে কাওসার হোসেন (২৮)। সোলেমান সিকদার কেরানীগঞ্জে ব্যবসা করতেন এবং কাওসার হোসেন চাকরি করতেন।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনরা জানায়, চার বন্ধু সাজ্জাদ, আরিফ, সোলেমান সিকদার ও কাওসার হোসেন দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। তারা সেখানে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুরের শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক কাওসার ও সোলেমানকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বন্ধু নিহত হন।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাক ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান পুলিশের এ ওসি।
৬ দিন আগে
রংপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেলের আরোহী দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নাতি আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মানদ্রাইন এলাকার নির্মল চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র রায় (৩৫)। প্রশান্ত পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল চন্দ্র রায়, তার ছেলে প্রশান্ত এবং নাতি বন্ধন একটি মোটরসাইকেলে করে তুলশীহাটে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথে মন্থনা বাজারে সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এ সময় প্রশান্ত চন্দ্র রায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্মল চন্দ্র রায়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। আহত বন্ধন চন্দ্র রায় বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর জানান, ট্রাকটির চালক পলাতক রয়েছে। ট্রাকটি থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদরাসা মাঠে হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে সম্মিলিত জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হয়।
এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) সকালে কফিনবন্দী পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এ সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানান।
ওয়েজ অনার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও ৩ লাখ টাকা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ।
গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় এই পাঁচ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হন। এই দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন কানাইঘাটের বাসিন্দা। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন অকাল প্রয়াণে পুরো কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
৯ দিন আগে
সিলেটে পৌঁছেছে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ
কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ আজ সকালে সিলেটে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরী হয়।
নিহতরা হলেন— সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী গ্রামের আব্দুল কাদির, মাঝতালুক গ্রামের মুস্তাক আহমেদ আফনান, একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদ, আগাতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন এবং আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমেদ।
বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সময় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতদের দাফন ও শেষকৃত্যের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে বোর্ড থেকে আরও তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের আকুনি মাদ্রাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাদের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে গত ২১ জুন সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। ঘটনার দিন ওই পাঁচজন একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই ছয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন। পরে তাদের মরদেহ কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
শ্রম কল্যাণ উইং জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ গতকাল (সোমবার) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৯ দিন আগে