সড়ক দুর্ঘটনা
ফেনীতে বাসচাপায় প্রাণ গেল পথচারী নারীর
ফেনীর পুরাতন মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নাজমা আক্তার (৩৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত নাজমার বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সমিতি বাজার এলাকায়।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, দুপুরে নাজমা আক্তার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পার হয়ে পুরাতন মুহুরীগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ফেনী থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আবু নোমান আরও জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
পাবনার আতাইকুলা থানা এলাকায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সচালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ছলিম প্রামানিক (৭০), তার স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)। নিহত ছলিম প্রামানিকের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামে। অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে।
দুর্ঘটনায় ছলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০), নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) ও একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে নাফিজ (৮) আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুন নামে এক মেয়ের মরদেহ নিয়ে তার স্বজনরা পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও বুলু খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, আহত চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সষবেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছলিম প্রামানিক মারা যান।
ওসি জানান, নিহত ছলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়া খাতুনের নানা-নানি।
১ দিন আগে
নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ‘মিথিলা’ ভ্যানের চালকসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জলঢাকা-ডোমার আঞ্চলিক সড়কের একবট নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন— ডোমার উপজেলার পাঙ্গামটকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়াডের নদীয়াপাড়ার ওলি বর্ম্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্ম্মন (৪০), নিহত পরিমলের ছোট ভাই প্রদীপ বর্ম্মনের স্ত্রী প্রতিমা বর্ম্মন (৩০), তার দুই সন্তান বিপাশা বর্ম্মন (৮) ও যাদব বর্ম্মন (৪)।
এ সময় নিহত প্রতিমার জমজ অপর এক সন্তান নম্রত বর্ম্মন (৪) ও অপরযাত্রী সহিদুল ইসলামকে (৪০) আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবারটি ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের মোড়ালের ডাঙ্গা এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় জলঢাকা থেকে ডোমারের দিকে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে ওই সড়কের একবট নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী মিথিলাকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি সড়কের ধারে পড়ে যায়। এতে ভ্যানচালক ও ৩ যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় নিহত প্রতিমার সন্তান নম্রত বর্ম্মন ও অপর যাত্রী সহিদুল ইসলাম আহত হয়।
ওসি হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও এলাকাবাসী নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ডোমার হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে আহত দুইজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রমেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
রংপুরে বাসচাপায় মাদরাসা সুপার নিহত, ক্ষোভে বাসে আগুন দিল জনতা
রংপুর নগরীতে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এক মাদরাসা সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মডার্ন মোড়ের দক্ষিণে তুলা গবেষণাকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরিফ দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। পাশাপাশি একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করতেন। তার বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেম তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে মাদরাসায় পৌঁছে দিতে মোটরসাইকেলে করে লোকাল লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে লোকাল লেনে চলে এলে তিনি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার মুহূর্তে আবুল কাশেম তার মেয়েকে রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ায় শিশুটি অক্ষত থাকে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেন এবং বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে বাসচালক ও তার সহকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
রংপুরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল এবং ওই এলাকায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
৫ দিন আগে
রাজধানীতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে বের হয়ে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত
রাজধানীর কুড়িলে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইন এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় রাকিব (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার চর খলিফা গ্রামে। তার বাবার নাম মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবু রায়হান বলেন, আজ (রবিবার) সকাল ৭টার দিকে কুড়িল বিশ্বরোডের রেলগেট পার হচ্ছিলেন ওই যুবক। এ সময় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা বিমানবন্দরগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন তিনি। পরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি তাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পথচারী আবু রায়হান আরও জানান, এরই মধ্যে যুবকটির মোবাইল ফোনে কল আসলে তার বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়। ফোনের মাধ্যমে যুবকের নাম ও তাদের দেশের বাড়ি ঠিকানা আমি জানতে পারি। পরে তার বাবাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে আসতে বলি। তার বাবার কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি একটি চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
শ্রীপুরে কভার্ডভ্যানচাপায় দম্পতি নিহত
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় কভার্ডভ্যানের ধাক্কায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বেড়াইদেরচালা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার উত্তররাণীপুর গ্রামের সেকান্দার আলী বেপারীর ছেলে রাকিব হাসান (৩৫) এবং তার স্ত্রী বিথী আক্তার (৩০)। তাদের ৯ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
রাকিব হাসান শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার ডেনিম্যাক গার্মেন্টস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, শনিবার দুপুরে ওই দম্পতি বেড়াইদেরচালা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ময়মনসিংহগামী লেনে একটি অজ্ঞাত কভার্ডভ্যান তাদের চাপা দেয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই বিথী আক্তারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিব হাসানকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর কভার্ডভ্যানটি পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি কামরুজ্জামান।
৫ দিন আগে
বছরের প্রথমার্ধে ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠনও সম্ভব। কিন্তু মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, আহত হচ্ছে এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।
বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বাধিক প্রাণহানির ওই ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সরকার কার্যকর সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা গড়ে ওঠেনি এবং প্রতিবছরই সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ হারাচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে। সেগুলো হলো—
১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমনরুমে সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং আঁকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।
৪. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ দিয়ে লাল পতাকার মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।
৫. প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।
৫ দিন আগে
জয়পুরহাটে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত ২
জয়পুরহাটে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ নারী যাত্রী। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে জয়পুরহাটের সদর উপজেলার জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক সড়কের বনখুর ওয়াপদা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের কাদেরপাড়া মহল্লার অটোরিকশাচালক তৌহিদ হোসেন (৩৩) এবং একই উপজেলার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা ফুলমনি রাণী (৪৪)।
আহত ৫ যাত্রীর মধ্যে আশঙ্কাজনক ৪ জনকে জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন—একই এলাকার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা বাসন্তী, কেশমনি, শেফালী ও অঞ্জনা রাণী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে পাঁচবিবির বীরনগর এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় করে ৫ জন নারী যাত্রী জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি সদর উপজেলার বনখুর ওয়াপদা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক তৌহিদ ও আরোহী ফুলমনি রাণী মারা যান। এ সময় অপর ৫ যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বর আহত ৪ নারী যাত্রীকে উদ্ধার করে। তাদের জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
৯ দিন আগে
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুইজন নিহত, আহত ৮
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি ট্রাকের সঙ্গে দুটি ইজিবাইকের (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খুলনা মহানগরের হরিণটানা থানাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই উপজেলার হরিদাসকাঠি এলাকার তাপস হোর ওরফে সুনু হোড় (৬০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি ট্রাক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয়। এ সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি ইজিবাইকও ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে একটি ইজিবাইক ট্রাকের নিচে ঢুকে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে ট্রাকটি সড়কের একপাশে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক ইজিবাইকচালক ও এক যাত্রী নিহত হন। আহত সাত থেকে আটজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে হরিণটানা ও লবণচরা থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে কেএমপির রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও ইজিবাইক সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৯ দিন আগে
দিনাজপুরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলআরোহী মা-ছেলে নিহত
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তার ৩ বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোটরসাইকেলচালক গৃহকর্তা নাজমুল হোসেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট পাঁচপীর মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: কাহারোল উপজেলার মালগ্রাম গ্রামের নাজমুল হোসেনের স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২৮) এবং তাদের ৩ বছর বয়সী ছেলে নাস আব্দুল্লাহ।
বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে স্ত্রী ও সন্তানকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকার এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে কাহারোল উপজেলার মালগ্রাম গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে রওনা দেন নাজমুল হোসেন।
পথিমধ্যে বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট পাঁচপীর মোড়ে মোটরসাইকেলটির পেছনে ধাক্কা দেয় একটি মাছ বহনকারী পিকআপ ভ্যান। এ সময় ফাহিমা আক্তার ও তার ছেলে রাস্তায় ছিটকে পড়ে পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তারা।
ওসি আরও জানান, মোটরসাইকেলচালক নাজমুল হোসেন দূরে ছিটকে পড়ায় আহত হয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তাকে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
১০ দিন আগে