শ্রমিক
বাড্ডায় চিপস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: দুই শ্রমিকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বাড্ডা থানার পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোড এলাকার একটি চিপস ফ্যাক্টরি থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) ভোরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন: মো. মোস্তফা (২১) ও মাহমুদুল হাসান (২৩)। মোস্তফা রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার বড় কুমারপাড়া গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে। মাহমুদুল হাসান ওই থানার কাজীপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। তারা ওই কারখানায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা ভোর ৪টার দিকে পূর্ব বাড্ডা কবরস্থান রোডে আমির হোসেনের চিপস কারখানায় পৌঁছাই। এরপর কারখানার ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করি।
তিনি আরও বলেন, আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে পারি, নিহত দুই যুবক ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
৫ দিন আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে অন্তত অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কারখানাটিতে ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১১ মে) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার প্যানাসিয়া ক্লোদিং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কারখানায় গিয়ে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। মিলাদ শেষে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) শ্বাসকষ্টে কারখানার একজন শ্রমিক মারা যান। এতে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণ মনোদৈহিক রোগে আক্রান্ত এসব রোগীদের নিয়ে তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। চিকিৎসা দেওয়ার পর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে একজন নারী শ্রমিক হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। এরপর থেকেই অন্যরা অসুস্থ হতে থাকেন। বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯ দিন আগে
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
২৬ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে মেশিনের বোর্ডের আঘাতে শ্রমিকের মৃত্যু
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে সিটি প্লাইউডের কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের আঘাতে মো. মিরাজ (১৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিরাজ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার আমুয়া গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচরের ওই কারখানায় থাকতেন।
মিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কারখানার সুপারভাইজার মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, রাতে কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের বোর্ডের আঘাতে গুরুতর আহত হন মিরাজ। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, মিরাজ এই কারখানায় প্রায় সাত বছর শ্রমিকের কাজ করতেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
২৮ দিন আগে
মহান মে দিবস আজ
আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দিন এটি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর ১ মে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ঐতিহাসিক মে দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত।’
দিবসটি উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে।
আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে।
১৮৮৬ সালের এ দিনে ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের কাছে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে ১০ জন শ্রমিক নিহত হন। আন্দোলনের তীব্রতায় কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং বিশ্বব্যাপী ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস চালু হয়।
শিকাগোর শ্রমিকদের সেই আত্মত্যাগ ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমাবেশে ১ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ‘মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস’ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শ্রমিকের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যে কোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দুটো হাত রাষ্ট্র এবং সমাজের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়নের চাবিকাঠি। শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষের কল্যাণের কথা ভেবেই শহিদ জিয়া নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার প্রবর্তিত নীতি ও সংস্কার শ্রমিক কল্যাণের ভিতকে শক্তিশালী করেছে। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করেছিলেন তিনি। সেই প্রবাসী শ্রমিকরা বর্তমানে দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।
২৯ দিন আগে
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১৩ বছর: শ্রদ্ধা নিবেদন, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সাভারে শ্রমিক সমাবেশ
সাভারে বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ত্রয়োদশ বর্ষপূর্তিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বজন, আহত শ্রমিক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। একইসঙ্গে শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধসে পড়া রানা প্লাজার জমিতে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিবেদিতে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিককর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি সাভারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার এখনও শেষ হয়নি, যা নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।
সংগঠনের সাভার থানা কমিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বেপারীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে ভবন মালিক সোহেল রানার ফাঁসি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে রানা প্লাজার জমি ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, এক জীবনের আয়ের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং দুর্ঘটনাস্থলে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। একইসঙ্গে দেশের সকল কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এই দিনটি নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য এক গভীর বেদনার স্মারক। তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার, গ্রামীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এতে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক।
৩৫ দিন আগে
চট্টগ্রামে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন আগ্রাবাদ বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় মাটি খননের সময় দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) একটি হাইড্রো কোম্পানির কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাকিবের পরিচয় জানা যায়নি তবে নিহত তুষারের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।
স্থানীয় সূত্র্রে জানা যায়, গত রাতে খননকাজের সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে চার শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চমেকের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদকে হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
৩৭ দিন আগে
বাড্ডায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিক নিহত
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মো. নাজমুল (২৭) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ভবনটির রড মিস্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সহকর্মীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর দেড়টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে নিহতের খালাতো ভাই জয়নাল আবেদীন জানান, আমার ভাই ওই নির্মাণাধীন ভবনে রড মিস্ত্রীর কাজ করছিলেন। আজ (বুধবার) দুপুরে অসাবধানতাবশত পাঁচতলা তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বাড্ডা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
৪৬ দিন আগে
বেনাপোল বন্দরে ক্রেনের তার ছিঁড়ে শ্রমিক নিহত
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্লেনশিট লোড করার সময় ক্রেনের তার ছিঁড়ে শাহজাহান আলী (৪৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেল হোসেন নামে আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বন্দরের টিটিআই মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার পাঠবাড়ি গ্রামের আফতাবের ছেলে। আহত সোহেল হোসেন একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। তারা দুজনই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১-এর সদস্য।
সোহেল জানান, রাতে স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠে ক্রেনের সাহায্যে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে লোহার ভারী প্লেনশিট লোড করা হচ্ছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে ক্রেনের তার ছিঁড়ে প্লেনশিট তাদের শরীরের ওপর পড়ে। এতে তারা দুজনই পিষ্ট হন।
পরে সহকর্মীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহজাহান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অপরজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ক্রেনের তার ছিঁড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকের অবস্থাও গুরুতর বলে জানান তিনি।
৫১ দিন আগে