শ্রমিক
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ১৪ অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানিয়েছে, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে রাস্টেনবার্গ শহরের কাছে একটি খনিতে ওই শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয় পুলিশ সার্ভিস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি কোম্পানিগুলো ব্যবহার না করা সোনা ও প্লাটিনামের খনিতে অবৈধভাবে কাজ করেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক। এসব অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক খনির ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট খনিজের সন্ধান করেন এবং তা বিক্রি করেন। তারা প্রায়ই যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন এবং কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ ভূগর্ভে অবস্থান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনিশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাস্টেনবার্গ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাটিনাম মজুত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনানুষ্ঠানিক খনন একটি গভীর সমস্যা এবং এর সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিকরা ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ঝুঁকি গ্রহণকারী’। তারা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়ান।
অবৈধ খনন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রকার সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় একটি সোনার খনিতে শত শত খনি শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েন। পুলিশ ওই খনিটি ঘিরে রাখার পর উদ্ধার অভিযান নিয়ে কয়েক মাস অচলাবস্থা চলে। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই ঘটনায় ভূগর্ভে ৮০ জনের বেশি খনি শ্রমিক মারা যান।
সংগঠিত অপরাধ দমনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছরের শুরুতে এক বছরের একটি অভিযানে রাস্তায় সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেন। অবৈধ খননও ওই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
৭ দিন আগে
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহত
বগুড়া সদরের এরুলিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিলে ৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর যাত্রীবাহী বাসটি উঠে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন— বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা তাজমুল (৪৫), বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে তাদের সংগ্রহ করেন। আজ (শুক্রবার) ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সচল করার চেষ্টা করছে।
১১ দিন আগে
দুই মাস ‘বেতন বন্ধ’, বরিশালে ফরচুন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া বেতন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার (ওভারটাইম) মজুরি পরিশোধ, কাজের নিরাপত্তাসহ আট দফা দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ফরচুন সুজ লিমিটেডের শ্রমিকরা।
আন্দোলনে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত নতুন বাজার সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সড়কের একপাশে সরিয়ে দিলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশ শ্রমিক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টায়ও সড়কের একপাশে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। নিয়মিত ওভারটাইম করানো হলেও সেই কাজের মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না। শ্রম আইন অনুযায়ী, ওভারটাইমের জন্য মূল মজুরির দ্বিগুণ পাওয়ার কথা থাকলেও তারা এক টাকাও পাননি বলে দাবি করেন।
শ্রমিকরা বলেন, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালে উল্টো মানসিক হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। এমনকি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা। তাই বকেয়া বেতন-ভাতাসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমের মজুরি এবং অন্যান্য দাবি মেনে নিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এ বিষয়ে ফরচুন সুজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগর পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ধীরগতিতে যান চলাচল করায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিক্ষোভকারীদের সড়কের একপাশে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’
১৯ দিন আগে
ভালুকায় ইটিপি ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি সিরামিকস কারখানার নির্মাণাধীন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) পরিষ্কার করতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত এক্সিলেন্ট সিরামিকস কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকসা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে ও মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার শফিকুল ইসলাম (২৮) এবং নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বল্লী গ্রামের কুহিল মিয়ার ছেলে ও সিভিল হেলপার রুমেল মিয়া (২৫)।
সহকর্মীদের অভিযোগ, কাজ করার সময় প্রথমে শফিকুল ইসলাম ইটিপি প্ল্যান্টের ট্যাংকে নামেন। বেশকিছু সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রুমেল মিয়া নিচে নামেন। তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি বর্তমানে মমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ময়মনসিংহ শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনছার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা উদ্ধারকাজে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১ দিন আগে
রাজবাড়ীতে বিটুমিন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: অগ্নিদগ্ধ ২ শ্রমিকের মৃত্যু
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকায় ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানির বিটুমিন তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটনার ৫ দিন পর অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক মারা গেছেন।
সোমবার (২৯ জুন) পুলিশ ও ঢাকা পাইরোলাইসিস কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আহত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন— সোহেল রানা (২৪) ও শাওন মন্ডা (১৬)। সোহেল রানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মোল্লা পাড়া গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে এবং শাওন মন্ডা মৌলভীবাজার জেলার জুরি উপজেলার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডার ছেলে ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে সোহেল গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এবং শাওন মুন্ডা আজ (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে মারা যান। আগুনে সোহেলের দেহের অন্তত ৬০ শতাংশ এবং শাওনের দেহের ৭০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো তারা কারখানার বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন তৈরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হলে অন্য কর্মচারী ও স্থানীয়রা দ্রুত তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫ বছর আগে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে জনবহুল এই এলাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ কারখানাটি স্থাপন করেন। ইতোমধ্যে কারখানাটির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও চলতি বছর পুনারায় অনুমোদন না নিয়েই বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটি হতে বের হওয়া টায়ার পুড়ানোর কালো ধোয়ার দুর্গন্ধে তাদের বাড়িঘরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাতাসে কালো ধোয়া এসে ঘর বাড়ি, গাছপালা ও মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কালো ধোয়া ও দূর্গন্ধে তারা ঠিকমতো খাবার দাবারও গ্রহণ করতে পারছে না।
দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, ‘আমরা মারা যাওয়া দুই শ্রমিককে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তাদের বাঁচানো গেল না।’
তিনি দাবি করেন, কারাখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেনি। বয়লারের ভেতরের অতিরিক্ত গরম গ্যাস বের হয়ে দুই শ্রমিক দ্বগ্ধ হন। শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু নিজেদের অসাবধানতার জন্য দুই শ্রমিক আহত হন। কোম্পানির পক্ষ হতে মৃত দুই শ্রমিকের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়া দুই শ্রমিকের মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারখানাটি এখনও তালাবন্ধ আছে এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সবাই আত্নগোপনে রয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি। বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে পরবর্তীতে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৫০ দিন আগে
বরিশালে বকেয়া পরিশোধ ও চাকরির নিরাপত্তার দাবিতে সিমেন্ট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে কারখানার প্রধান ফটক থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি গ্যাস টার্বাইন এলাকা থেকে রূপাতলী গোলচত্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলা ১১টার দিকে রূপাতলী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এতে তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অংশ নেন।
সমাবেশে শ্রমিকরা দুই মাসের বকেয়া মজুরি, ওভারটাইম, নাইট বিল ও সার্ভিস বেনিফিট দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে কারখানা বিক্রি হলে তাদের চাকরি বহাল রেখে কারখানা হস্তান্তরের নিশ্চয়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. পাভেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা বলেন, কারখানা বন্ধের নোটিশের পর গত ১৮ দিন ধরে শ্রমিকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা আগামী ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমস্যার সমাধান এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময়ে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৩০ জুনের বৈঠকে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সব কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।
৫১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পাগলা তালতলা এলাকার নির্জন গার্মেন্টসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, বয়লার বিস্ফোরণের পর বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। এতে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বয়লারের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে তারা আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তারা অভিযোগ করেন, কারখানার অভ্যন্তরীণ সড়কে মালামাল রাখায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় অনেক শ্রমিক দ্রুত বের হতে পারেননি। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার পিএম জসীম উদ্দীন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরে ফতুল্লা থানা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক বাবুল আহমেদ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
৬০ দিন আগে
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জর্ডানের আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
এ বিষয়ে জেরাশ গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস, জর্ডানের মাধ্যমে অভিযোগ জানায়। পরে অভিযোগটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল অনুসন্ধান শুরু করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, বিদেশগমন-সংক্রান্ত ১৬টি চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকিগুলো সৌদি আরবগামী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই অভিযুক্তরা বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করছিলেন, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
৬৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। এ সময় তারা কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ সেন্টারপাড়া এলাকায় স্থানীয় আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি হাজার বিড়ি তৈরিতে ৬১ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মজুরি ৮১ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তবে, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি দেননি। এর প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি ভেঙে সড়ক অবরোধে নেমেছেন।
শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম ও টিপু বলেন, সকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না আসেনি। ফলে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬১ টাকার মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যাত্রী ও পথচারীদের অনেকেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। দুপুরের তীব্র রোদে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে মজুরি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৭২ দিন আগে
সাভারে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ
সাভার অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম’ গ্রুপের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপের ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানার সামনে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেন প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, কারখানার মূল ফটকের সামনে শিল্প পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাভারে কর্মরত কিছু গণমাধ্যমকর্মীকে অফিসে ডেকে নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা উলাইল এলাকায় কারখানার সামনে এসে অবস্থান নেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী সার্ভিস লেনে অবস্থান নেন। এর ফলে মহাসড়কের ওই লেনে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক আলেয়া আক্তার, জোসনা বেগমসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আমাদের ছাঁটাই করেছে। আমাদের অনেকেরই ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে হঠাৎ চাকরি হারিয়ে আমরা পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের হয় চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে, না হয় আইনানুযায়ী সমস্ত বকেয়া পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে।
কারখানার অপারেটর সালমা আক্তার বলেন, ২০১৭ সাল থেকে এই কারখানায় কাজ করছি। হঠাৎ করেই কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। বাসা ভাড়া, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ-সব মিলিয়ে হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, তিন মাসের টাকা দিয়ে ছাঁটাই করার কথা থাকলেও তারা আমাকে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছে।
১৩ বছর ধরে এই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত আফানুর জানান, হঠাৎ মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে তাকে ছাটাই করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে কাজে এলে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে দেয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭ বছর ধরে কর্মরত রোজিনা আক্তার, ২ বছর ৫ মাস ধরে কর্মরত মো. রকিবুল্লাহ এবং ট্রেনিং সেন্টার থেকে সদ্য লাইনে আসা আছিয়া আক্তার। তাদের অভিযোগ, তিন মাস ১৩ দিনের পাওনা দিয়ে ছাঁটাই করার নিয়ম থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।
বর্তমানে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়কের সার্ভিস লেন অবরোধ করার চেষ্টা করলে আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই। শ্রমিকদের দাবি, তাদের পাওনাদি ঠিকমতো না দিয়েই ছাঁটাই করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং কারখানার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলকামান ও সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারায় শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেই ছাঁটাই করা হয়েছে।
তার দাবি, কারখানা পলিসি মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোনো শ্রমিকের যদি পাওনা টাকা নিয়ে জটিলতা থাকে, তাহলে তারা যোগাযোগ করলে আমরা যাচাই করে তা পরিশোধ করে দেব।
প্রসঙ্গত, দেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল-মুসলিম গ্রুপ’ তাদের তিনটি কারখানার মোট ১ হাজার ৮৬৮ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের মধ্যে সাভার পৌর এলাকার উলাইল এলাকার ‘একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড’ কারখানা থেকে ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনি এলাকার ‘প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার’ কারখানার ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ায় অবস্থিত ‘আল-মুসলিম অ্যাপারেলস’ কারখানার ৫৩ জন কর্মী রয়েছেন।
৭৩ দিন আগে