বৃষ্টি
লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ১০ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ঝরার পূর্বাভাস
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে পশ্চিম ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী অন্তত ১০ দিন দেশজুড়ে চলমান বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া শুক্র, শনি ও রবিবারও বৃষ্টিপাতের এই ধারা বজায় থাকতে পারে এবং তার পরের পাঁচ দিনও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
৬ দিন আগে
হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপাকে হাজারো মানুষ
কয়েক ঘণ্টার টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হয়েছে। জেলায় মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে মাইনী নদী এবং চেঙ্গি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি সদরের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
শনিবার (২২ আগস্ট) খাগড়াছড়ি পৌরসভার মুসলিমপাড়া, নিচের বাজার ও মেহেদীবাগ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক বাসিন্দা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, ঘরের ভেতর পানি। আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি।
মেহেদীবাগ এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার বলেন, গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে বৃষ্টি হয়। তখন ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে পাশের বাড়ির লোকজন ডেকে জানান, ঘরে পানি ঢুকেছে। তখন তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এসে দেখি, ঘরের মধ্যে গলা-সমান পানি।
একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ছামাদ বলেন, সকাল ৬টার দিকে পানি বাড়িঘরে ঢুকতে শুরু করে। এখনও পানি বাড়ছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ বলেন, মেহেদীবাগ, মুসলিমপাড়া, নিচের বাজারসহ শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানছড়ি ও এর ওপরের দিকে ভারী বৃষ্টির পানি চেঙ্গী নদী দিয়ে নেমে আসায় খাগড়াছড়ি সদরের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
১৭ দিন আগে
জাপানে ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ৯
জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নজিরবিহীন বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চিবা প্রদেশে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানকার একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকায় ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল নাগাদ চিবা শহরে আগস্ট মাসে সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এনএইচকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শনিবার সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল আটজন। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে এবং অন্যদের প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিবা অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ৭০টির বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার জানিয়েছে, তাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাড়ি এখনও বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্যাক ব্যবহার করে সরানোর কাজ করছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
২৩ দিন আগে
নড়াইলে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি
নড়াইলে অবিরাম বর্ষণ আর দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিস্তীর্ণ মাঠের আউশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বিলের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ আটকে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খাল-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।
আবাদের এমন আকস্মিক বিনাশে শত শত কৃষক চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাদের দাবি, এই ফসলহানিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
সরেজমিনে লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদার বিল, আন্ধারকোটা বিল ও কুচিয়াবাড়ির বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ বুকসমান পানিতে তলিয়ে আছে। যেখানে এখন সোনালী ধানের সমারোহ থাকার কথা, সেখানে শোভা পাচ্ছে শাপলা, শালুক আর জলজ আগাছা। ফসলশূন্য খেতে এখন চরে বেড়াচ্ছে পাতিহাঁসের দল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, নিচু অঞ্চলের এসব জমি অধিক পানি সহনশীল স্থানীয় জাতের ‘রাতুল আউশ’ ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ জাতের ধানের গাছ দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। বিগত বছরগুলোতে সহনীয় বৃষ্টিপাতের কারণে রাতুল ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় এবারও চাষিরা ব্যাপক উৎসাহে আবাদ করেছিলেন। লক্ষ্মীপাশা ছাড়াও জেলার বাঁশগ্রাম, নলদি, কোটাকোল, কলাবাড়িয়া, বাঐসোনা, পহরডাঙ্গা, খাশিয়াল, মাইজপাড়া ও সেখহাটীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বিলে এই ধানের চাষ হয়েছিল।
তবে এবার জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া রেকর্ড পরিমাণ টানা বৃষ্টিতে বিলের নিচু জমিগুলো হঠাৎ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে পানি সরার পথ অবরুদ্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকে এবং একপর্যায়ে পচে নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষকদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবিলম্বে অবৈধ ঘের উচ্ছেদ করে অবরুদ্ধ খাল-নালা পুনরুদ্ধার এবং নদীর সঙ্গে সংযোগকারী খালগুলো পুনঃখনন করা জরুরি।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ১০৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত বলে দাবি করা হলেও কৃষকেরা তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, বিলের উপরিভাগের কিছু ধান রক্ষা পেলেও নিচু এলাকার সিংহভাগ ফসলই পচে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, নিচু বিল অঞ্চলের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা বর্তমান চাষাবাদের জন্য একটি বড় হুমকি। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কৃষি বিভাগ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে ভরাট ও হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ করছে।
৩১ দিন আগে
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
৪২ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, ধসে গেছে সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) এবং ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল। একই সঙ্গে চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) ধসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে ছোটবড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো খানাখন্দে পানি জমে আছে। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় খানাখন্দে পড়ে যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকরা ধীরগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন।
এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার, ১১টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার এবং ১৪টি জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টির কারণে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৫৩ দিন আগে
সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৭
টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলা সাতটি। এগুলো হলো: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ৯টি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগবকলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে সাত জেলার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৫৫ দিন আগে
ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন
বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গতকাল রবিবার পর্যন্ত হ্রদের পানি সমুদ্রস্তরের ১০০ ফুট নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল থেকে হ্রদের পানি সেই স্তর অতিক্রম করেছে। সেইসঙ্গে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট মিন সি লেভেল, যেখানে গতকাল রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট মিন সি লেভেল।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০৬ মেগাওয়াট, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর আগে, গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও হ্রদে পানি স্বল্পতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট এর নিচে চলে আসে।
এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
৫টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট বলে জানান কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা।
৫৭ দিন আগে
বর্ষা নামলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নড়াইলের গ্রামীণ জনপদ
তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে কাদা আর কাদা। মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই এ সব গ্রামের কৃষকদের। বর্ষাকালে সব ধরনের যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে আনতে গেলে তাদের জীবন অর্ধেক শেষ। সড়কটির এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি কোনো প্রতিকার ।
গ্রামীণ সড়কটি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি গ্রাম থেকে সীতারামপুর অভিমুখী। রাস্তার পাশে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের গ্রামীণ এ সড়ক নির্মাণের দাবি বহু আগে থেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও রাস্তায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
দূর্বাজুড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের গ্রামে তিন থেকে চার বার এমপি এসেছে। এসে রাস্তা দেখে গেছে। তারা আশ্বস্ত করে যায় রাস্তা হবে, কিন্তু আর হয় না। আমাদের এক মণ ধান হাটে নিতে হলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। তা ও তারা আসে না। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয় না। আমরা চাই আমাদের এই রাস্তা দ্রুত পাকা হোক।’
শুধু দূর্বাজুড়ি সীতারামপুরের হিজলডাঙ্গা, ইচড়বাহাসহ কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল এ রাস্তায়। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেমন দুর্ভোগ, তেমনি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য। স্কুল - কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, ‘সমান্য বৃষ্টিতে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তাটি পাকা করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।’
শুধু এই দুইটি গ্রামের সড়ক না। এরকম জেলায় তিনটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই সব গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা ১ হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে— সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।
লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা রয়েছে ৭৮৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।
কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। যা মোট সড়কের ৫৮ শতাংশ ।
এছাড়া, এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডিভুক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০শতাংশ রাস্তা এখনও কাঁচা আছে। বর্তমান অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কার করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে, কিছু রাস্তা টেন্ডারে আছে।
নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেলে আগামী অর্থ বছরে কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ৫০ শতাংশে আনতে পারব বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর।
৫৭ দিন আগে
শনিআখড়ায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত
রাজধানীর শনিআখড়া এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রেজাউল করিম (৬২) নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি কদমতলীর শনিআখড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত কাজিমুদ্দিন বিশ্বাস। তিনি পরিবার নিয়ে শনিআখড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আত্মীয় মো. বাকি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির নিচে জমে থাকা পানি দেখতে গিয়েছিলেন রেজাউল করিম। এ সময় তিনি নিজ বাড়ির নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটারে পানি পড়েছে কিনা পরীক্ষা করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৫৭ দিন আগে