বৃষ্টি
মৌসুমি বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে এক মাসে ১০৯ প্রাণহানি
পাকিস্তানে গত এক মাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহের শেষদিকে বিভিন্ন এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৬ জুন থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ঘরবাড়ি ও ছাদ ধসে প্রাণ হারিয়েছেন। মোট নিহতের প্রায় অর্ধেকই আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা।
এদিকে, এনডিএমএ সারা দেশে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছে। সংস্থাটির বৈঠকে নদীতরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় তারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারেন অথবা বন্যার পানি সেসব এলাকায় পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজন হলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
১ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, ধসে গেছে সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) এবং ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল। একই সঙ্গে চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) ধসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে ছোটবড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো খানাখন্দে পানি জমে আছে। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় খানাখন্দে পড়ে যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকরা ধীরগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন।
এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার, ১১টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার এবং ১৪টি জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টির কারণে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১২ দিন আগে
সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৫৭
টানা অতিবৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খোলা ১১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্যাকবলিত জেলা সাতটি। এগুলো হলো: খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৩৩৪টি এবং পৌরসভা ৯টি।
জেলাভিত্তিক হিসাবে রাঙামাটিতে ৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩২ জন (স্থানীয় ১৯ ও রোহিঙ্গা ১৩), চট্টগ্রামে ১৫ জন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।
আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন (স্থানীয় ২০ ও রোহিঙ্গা ৫) এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।
দুর্যোগবকলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারে নগদ অর্থ, চাল ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ টন চাল এবং ৪৯ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানায়, ৭ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিপ্রবণ জেলাগুলোর জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে সাত জেলার জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন
বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গতকাল রবিবার পর্যন্ত হ্রদের পানি সমুদ্রস্তরের ১০০ ফুট নীচে থাকলেও আজ সোমবার সকাল থেকে হ্রদের পানি সেই স্তর অতিক্রম করেছে। সেইসঙ্গে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ১০০ দশমিক ৬০ ফুট মিন সি লেভেল, যেখানে গতকাল রাত পর্যন্ত পানির লেভেল ছিল ৯৯ দশমিক ১৫ ফুট মিন সি লেভেল।
প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২০৬ মেগাওয়াট, যা চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর আগে, গত বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও হ্রদে পানি স্বল্পতায় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াট এর নিচে চলে আসে।
এদিকে, কাপ্তাই কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
৫টি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট বলে জানান কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা।
১৬ দিন আগে
বর্ষা নামলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নড়াইলের গ্রামীণ জনপদ
তিন গ্রামের মানুষের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। ২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কে কাদা আর কাদা। মাঠের ফসলও ঘরে তুলতে কষ্টের শেষ নেই এ সব গ্রামের কৃষকদের। বর্ষাকালে সব ধরনের যান চলাচল একেবারেই বন্ধ। হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে হাসপাতালে আনতে গেলে তাদের জীবন অর্ধেক শেষ। সড়কটির এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটেছেন সরকারি দপ্তরে, কিন্তু মেলেনি কোনো প্রতিকার ।
গ্রামীণ সড়কটি নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের দূর্বাজুড়ি গ্রাম থেকে সীতারামপুর অভিমুখী। রাস্তার পাশে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের গ্রামীণ এ সড়ক নির্মাণের দাবি বহু আগে থেকেই। কিন্তু বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি পেলেও রাস্তায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
দূর্বাজুড়ি গ্রামের গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের গ্রামে তিন থেকে চার বার এমপি এসেছে। এসে রাস্তা দেখে গেছে। তারা আশ্বস্ত করে যায় রাস্তা হবে, কিন্তু আর হয় না। আমাদের এক মণ ধান হাটে নিতে হলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়। তা ও তারা আসে না। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয় না। আমরা চাই আমাদের এই রাস্তা দ্রুত পাকা হোক।’
শুধু দূর্বাজুড়ি সীতারামপুরের হিজলডাঙ্গা, ইচড়বাহাসহ কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচল এ রাস্তায়। বর্ষা এলেই কাদায় ডুবে যায় গ্রামের রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে যেমন দুর্ভোগ, তেমনি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য। স্কুল - কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়।
কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, ‘সমান্য বৃষ্টিতে এই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে গাড়ি পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তাটি পাকা করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করি।’
শুধু এই দুইটি গ্রামের সড়ক না। এরকম জেলায় তিনটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গ্রামীণ সড়কগুলোর অধিকাংশ এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই সব গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে থাকা ১ হাজার ৪৪৭ টি সড়ক, যার দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার। গ্রামীণ এ সড়কের ৬০ শতাংশ কাঁচা। এর মধ্যে রয়েছে— সদর উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৮১ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৭৩৮ কিলোমিটার। এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬২ শতাংশ।
লোহাগড়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ১৯৯ কিলোমিটার, এর মধ্যে কাঁচা রয়েছে ৭৮৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ এ উপজেলায় কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬০ শতাংশ।
কালিয়া উপজেলায় মোট সড়ক রয়েছে ৭৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৩৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। যা মোট সড়কের ৫৮ শতাংশ ।
এছাড়া, এলজিইডিতে নতুন সড়ক তালিকা আইডিভুক্ত (গেজেট) করার জন্য ১ হাজার ১০০টি কাঁচা সড়কের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৯৪৬ কিলোমিটার। আরও ২৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ২১৪টি কাঁচা সড়ক নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, জেলায় ৬০শতাংশ রাস্তা এখনও কাঁচা আছে। বর্তমান অর্থ বছরে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু রাস্তা সংস্কার করার জন্য প্রক্রিয়াধীন আছে, কিছু রাস্তা টেন্ডারে আছে।
নড়াইল জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহত্তর যশোর জেলা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এটি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেলে আগামী অর্থ বছরে কাঁচা এবং পাকা রাস্তা ৫০ শতাংশে আনতে পারব বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর।
১৬ দিন আগে
শনিআখড়ায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত
রাজধানীর শনিআখড়া এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রেজাউল করিম (৬২) নামে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিমের বাড়ি কদমতলীর শনিআখড়া এলাকায়। তার বাবার নাম মৃত কাজিমুদ্দিন বিশ্বাস। তিনি পরিবার নিয়ে শনিআখড়ার নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা আত্মীয় মো. বাকি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির নিচে জমে থাকা পানি দেখতে গিয়েছিলেন রেজাউল করিম। এ সময় তিনি নিজ বাড়ির নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুতের মিটারে পানি পড়েছে কিনা পরীক্ষা করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহর থেকে পান্টি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। তবে সড়কটি যেন আর সড়ক নেই, অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরে গেছে সেটি। কোথাও আবার বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোটখাটো পুকুর। ভাঙা সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
এলজিইডি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করে এলজিইডি। তবে ১০ টন ধারণক্ষমতার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের অসংখ্য বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় বেহাল দশা হয়েছে সড়কটির।
এলাকাবাসী জানায়, কুমারখালীর দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই নানাবয়সি দুই থেকে তিন লাখ মানুষ চলাচল করে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার একাংশের মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সংস্কারের পর দ্রুতই ভেঙে গেছে সড়কটি। ভাঙা সড়কে চলতে ঘটছে ছোট-বড় অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। দ্রুত ভারী যানবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।
১৬ দিন আগে
সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত নামল, ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (১১ জুলাই) সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্কতা সংকেত নামলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছার সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামীকাল (রবিবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী চার দিন অব্যাহত থেকে তার পর থেকে ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল রংপুরে এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়।
১৮ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে ভাসছে কোটি টাকার আমদানিপণ্য
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে হাঁটুপানিতে ভাসছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩ নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল পানিতে তলিয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল।
স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে এলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আব্দুল অলিম বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই বন্দরের কাস্টমসের মাধ্যমে বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
১৮ দিন আগে
১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
সম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত সকল পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, উক্ত সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, গত চার দিনের টানা বর্ষণে বান্দরবান জেলার জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল এবং নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১০০ জন দূর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পৌরসভা, সেনাবাহিনী এবং বিজেবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তাসহ শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে