বৃষ্টি
বাগেরহাটে কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে বৃষ্টি
বাগেরহাটে একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণাক্ততা কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত চলতি রোপা আমন ধানের বীজতলা, আউশ ধান এবং সবজির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আর্শিবাদ হয়ে এসেছে।
জেলার ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্ততা রয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। বৃষ্টি কমতে থাকায় সাধারণ মানুষ এবং ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে একটানা ৪দিন বৃষ্টির পর সূর্যের দেখা মিলেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত হালকা রোদ দেখা গেছে। এরপর আবার গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ঝরতে দেখা যায়। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘ দেখা যাচ্ছে। ভ্যাপসা গরম অনুভুত হচ্ছে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার নির্মল দাস, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা এখন রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরি করছেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তাদের বীজতলা করতে সুবিধা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সবজির জন্যও বৃষ্টি উপকারে এসেছে। বৃষ্টি হলে তাদের ধান এবং সবিজর ভালো ফলন হয় বলে জানান তারা।
বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার রতন দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভ্যানে করে স্যান্ডেল নিয়ে ঘুরে ঘুরে তা বিক্রি করেন। যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে কষ্টে তার সংসার চলে। কিন্তু একটানা চার দিন ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে তার বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল। বিক্রি করতে না পারলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসারের খরচ চালাতে তার অনেক কষ্ট হয়। আজ সকালে বৃষ্টি না থাকায় ভ্যানে করে স্যান্ডেল বিক্রি করতে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। দুপুর পর্যন্ত মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে। এতেই তিনি খুশি।
বাগেরহাট শহরে ভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে আম বিক্রেতা ইকরাম হোসেন এবং কলা বিক্রেতা করিম শেখসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে তাদের আম ও কলা বিক্রি হয়নি। আজ দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি না থাকায় তা বিক্রি হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকচালক আলমগীর হোসেন জানান, ইজিবাইক চালিয়ে দিনে যা আয় হয়, তা দিয়েই তাদের পাঁচজনের সংসার চলে। কিন্ত একটানা কয়েদিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় যাত্রী কম থাকায় তার আয় অনেক কম হয়েছে। আজ সকালের দিকে বৃষ্টি না থাকায় রাস্তায় মানুষের চলচল ছিল। যাত্রী পরিবহন করে দুপুর পর্যন্ত তিনি ৪০০ টাকা আয় করেছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, বাগেরহাটের ৬১ শতাংশ জমির মাটিতে লবণাক্তা রয়েছে। একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির লবণ ধুয়ে যাচ্ছে। এতে করে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং সবজির জন্য উপকার হচ্ছে। এই বৃষ্টিপাত বাগেরহাটে কৃষির জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণ হলে, পানি জমে থাকলে রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং বিভিন্ন সবজির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ দশমিক ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করেছে বলে তিনি জানান।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমান্বয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোংলায় ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়। মোংলা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত বহাল রয়েছে। সাগর উত্তাল রয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামি দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান তিনি।
১৩ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে সড়ক, জনজীবনে দুর্ভোগ
খাগড়াছড়িতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বৈরি আবহাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর পানি কিছুটা কমায় আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও মাইনী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জেলার চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া-খালের পানি কিছুটা কমে এসেছে। তবে মহালছড়ির নিম্নাঞ্চল এবং জেলা সদরের লার্মাপাড়া, পেরাছড়া, দ্রোণাচার্যপাড়া ও ভাইবোনছড়ার কিছু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা আছে।
অন্যদিকে, দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাজেকের কবাখালী ও লংগদু সড়ক এবং বড় মেরুং এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাজেক ও লংগদু সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বাঘাইহাট এলাকা নিচু হওয়ায় সেখানে পানি উঠেছে। ফলে এ রুটে আপাতত যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে।
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, পাহাড়ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
১ দিন আগে
৪২ বছরের ইতিহাসে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি
টানা ভারী বর্ষণে ফের ডুবে আছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েছে নগরীবাসী। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে শুধু নগরী নয়, পুরো চট্টগ্রামে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সড়ক জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর
বুধবার (৮ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানি জমে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহমদ বলেন, টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ৪২ বছরের মধ্যে বন্দরনগরীতে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার ও বন্দর এলাকার নিম্নাঞ্চলে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে আছে। অনেক স্থানে সড়ক ও ড্রেন একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। কিছু এলাকায় ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে।
১ দিন আগে
নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে বৃষ্টি ঝরছে, দুর্ভোগে শিক্ষর্থীরা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। এতে সাধারণ মানুষসহ দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৫ জুলাই) গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলেও আজ (সোমবার) ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
সকাল থেকে বৃষ্টিপাতের কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের পরীক্ষার্থীরা সব চেয়ে বেশি দুভোর্গে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে আবাহওয়া বিভাগ ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জানান, বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন। তবে দফায় দফায় মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে কাজকর্ম করতে হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, পেটের তাগিদে তারা রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। বৃষ্টির কারণে যাত্রী কম। এতে তাদের দুর্ভোগ হচ্ছে।
মোংলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। গতকার (রবিবার) সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোংলায় ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তিন জেলায় বন্যার শঙ্কা
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলাগুলোতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের খেত। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে করে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ভারতের মেঘালয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
১৮ দিন আগে
এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানির নিচে বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
মাত্র এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৬৭ নম্বর গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন একজন প্রধান শিক্ষক ও নয়জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পানির সঙ্গে কাদা ও আবর্জনা মিশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ভেজা কাপড় নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবক নিলিমা নাসরিন বলেন, ‘আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বৃষ্টি হলে সে স্কুলে যেতে চায় না। এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যায়। এতে শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচুকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে। এতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণেও সমস্যা আরও বেড়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে, সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়ই আরও বাড়বে।
২৩ দিন আগে
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত
মুষলধারে বৃষ্টি ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত। চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ জামাতে প্রায় লাখো মুসল্লি অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন বড়বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশ থেকেও আগত মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোর থেকেই জায়নামাজ হাতে দলে দলে মুসল্লিরা শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসতে শুরু করেন। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আবেগের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো এলাকা। রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে নামাজের প্রস্তুতির সংকেত দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ঈদের জামাত।
জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে প্রবেশের আগে প্রত্যেক মুসল্লিকে তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
মাঠ ও প্রবেশপথজুড়ে বসানো হয় সিসি ক্যামেরা। ছিল চারটি ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সহায়তায় কাজ করেন বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসক দল। রাখা হয় সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালানো হয় ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুসল্লিদের অনেকে জানান, শোলাকিয়ার বিশাল জামাতে অংশ নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে—এমন বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগ থেকেই প্রতি বছর তারা এই ঐতিহাসিক ঈদগাহে ছুটে আসেন।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, এবারের জামাতে প্রায় এক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। তিনি বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী রমজানের ঈদের আগেই মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সর্বোচ্চ মানের।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
৪২ দিন আগে
৬ জেলার নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত, দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস
লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। এর ফলে গতকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আগামীকাল (বুধবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়ার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
এছাড়া খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও লক্ষ্মীপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে যা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বৃষ্টিপাতে এই ধারা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরপর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
বাগেরহাটে ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি, দুর্ভোগে জনজীবন
বাগেরহাটে এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে শহরের ব্যস্ততম বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি ঝরতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে শহরের সাধনার মোড়, রাহাতের মোড়, ফলপট্টি মেইন রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোডসহ বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। জলাবদ্ধাতার কারণে মানুষ এবং রিকশা-ভ্যান, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ হাঁটু পানিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে, বাগেরহাটের বিভিন্ন নদ-নদীতে জোয়ারে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমিতে পাকা বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
৬৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫ বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে অন্তত ৫টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়েছে শত শত গাছপালা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ ও সলিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর কয়েক দফায় প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। এতে নবাবগঞ্জ গ্রামের মন্নান বয়াতি, মরিয়ম ও মাধবের বসতঘর এবং সলিমপুর গ্রামের নির্মল বিশ্বাস ও বিমল বিশ্বাসের বসতঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এছাড়া লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আহাজারি চলছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলায় ১৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর উত্তল রয়েছে। তবে মাছধরা ট্রলারগুলো নিরাপদে রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
৭১ দিন আগে