সম্পাদক পরিষদ
‘দেশে গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যম অপরিহার্য’
দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে মুক্ত, স্বাধীন, সক্রিয় ও নির্ভীক গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সমাজের সার্বিক অধিকারকেই হুমকির মুখে ফেলে।
মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) শুরু হয়েছে গণমাধ্যম সম্মিলন।
সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ সাংবাদিকতায় আসে, তা কখনোই অপরাধ হতে পারে না। যখন গণমাধ্যমগুলোকে আক্রমণ করা হয় বা স্তব্ধ করার চেষ্টা চলে, তখন তা পুরো সমাজের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে। গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বাহন হিসেবে কাজ করে, সেগুলোকে দমন করতে আইন, বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নুরুল কবির বলেন, গণমাধ্যম কেবল কয়েকশ বা কয়েক হাজার সাংবাদিকের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার নয়। সংবাদপত্র ও অন্যান্য গণমাধ্যম যদি কাজ করতে না পারে, সক্রিয় থাকতে না পারে এবং কথা বলতে না পারে, তাহলে সমাজের নানা স্তরের অধিকার অনিবার্যভাবেই দমে যাবে।
বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিকাশ পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
তিনি বলেন, ‘সরকার আপনি মনে রাখবেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপনার দলীয় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না। আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।’ সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশাকে আরও বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’
তিনি বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’
আয়োজকেরা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে জনতার সহিংসতার ঘটনার মাধ্যমে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতির জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা গণতান্ত্রিক পরিসর ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকদের সম্মিলনে অংশ নেন।
৪ ঘণ্টা আগে
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সেক্রেটারি দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সই করা বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও এর মধ্য দিয়ে সৃষ্ট নতুন বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ থেকে এ প্রতিশ্রুতি বারবার ব্যক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের ওপর হামলা: সম্পাদক পরিষদের নিন্দা-উদ্বেগ
এতে আরও বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা অক্ষুণ্ণ রাখার পরিবেশ নিশ্চিতের এ প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনো সমাজের কোনো কোনো অংশ থেকে দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতার ওপর নানাভাবে আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের শীর্ষ কয়েকটি মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলা-ঘেরাওয়ের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি পত্রিকা তাদের প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদনও করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ্য।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, কোনো পত্রিকার পরিবেশিত কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় নীতিমালা নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকলে তিনি লেখালেখির মাধ্যমে নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু এভাবে হুমকি-ধামকির মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রয়াস বিগত কাঠামোর জনবিরোধী চর্চারই পুনরাবৃত্তির নামান্তর।
সম্পাদক পরিষদ এভাবে স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা ও পরিবেশকে ব্যাহত করার প্রয়াসের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান, গণমাধ্যমসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে মব জাস্টিস কঠোরহস্তে দমন করুন। সম্পাদক পরিষদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ জানাচ্ছে।
গত ৪ নভেম্বর ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
এতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির, আজকের পত্রিকা সম্পাদক ড. মো. গোলাম রহমান, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, দেশ রূপান্তর সম্পাদক মোস্তফা মামুন এবং সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম।
আরও পড়ুন: সম্পাদক পরিষদের নতুন কমিটি: মাহফুজ আনাম সভাপতি, দেওয়ান হানিফ সাধারণ সম্পাদক
৪৩৭ দিন আগে
সম্পাদক পরিষদের নতুন কমিটি: মাহফুজ আনাম সভাপতি, দেওয়ান হানিফ সাধারণ সম্পাদক
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে সভাপতি ও বনিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে সম্পাদক পরিষদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবির ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে রবিবার ডেইলি স্টার ভবনে এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয় বলে পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
কমিটিতে ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহানকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যা: তদন্তের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ডিআরইউ’র
এছাড়া কমিটির নতুন পাঁচ সদস্য হলেন- ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক।
সভায় আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমানকে নতুন সদস্য এবং সমকালের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফিকে সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দেয়া হয়।
নতুন কমিটি গঠনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা পালন করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
১৪১১ দিন আগে
বিএনপি সবকিছুতেই লুটপাটের সাথে যুক্ত ছিল: হাছান মাহমুদ
বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সবকিছুতেই লুটপাটের সাথে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
১৮২২ দিন আগে
নিবন্ধনে অগ্রাধিকার পাবে দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সন: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন নিউজপোর্টাল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন ভার্সন অগ্রাধিকার পাবে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
১৯৬৪ দিন আগে