জাপান
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ নিয়ে যা বললেন মাহ্দী আমিন
দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য বিনা খরচে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, সরকার জাপানিজ শিক্ষকদের বাংলাদেশে এসে ভাষা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এছাড়া, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে তাদের কীভাবে ভিসা প্রক্রিয়ার আবেদন এবং আবাসন ব্যবস্থা সহজিকরণ করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার জাপানের সঙ্গে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাপানি ভাষা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, টাউন লাইফ কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে জাপানে বাংলাদেশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই পর্যালোচনা সভা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তৃতীয় ভাষার শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ চলমান।
তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমা সনদধারীদের কর্মসংস্থান ভিসার মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হবে। প্রার্থীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জাপানে প্রবেশ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে জাপানিজ এই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ল্যাব উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম দিয়েও প্রত্যক্ষ সহায়তা দেবে। নির্বাচিত প্রকৌশলীরা জাপানে যোগদানের পর প্রতি মাসে উচ্চ বেতন পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ভাতা ও বোনাস সুবিধাও পাবেন।
ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জাপানিজ ভাষা শিক্ষাক্রম প্রায় শেষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এখন দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষাক্রম চলমান রয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে যারা জাপানি ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তারা সবাই পর্যায়ক্রমে জাপানে কাজের সুযোগ পাবেন; তাদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের চাকরি নিশ্চিত। তারা চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে জাপানে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করবেন। বাকি নির্বাচিতরা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে জাপানে প্রবেশ করবেন বলে সভায় নিশ্চিত করা হয়।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোমিজাওয়া কাজুনোরি, শাখা ব্যবস্থাপক ওকাদা ইয়োহেইসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
টোকিওতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ৩৭
জাপানের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি অঞ্চলের দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সৃষ্ট হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পাঁচটি অঞ্চলের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন ও ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভোরে মানুষ কিছু যখন ঘুমিাচ্ছিল, ভূমিকম্পটি তখন আঘাত হানে। সে সময় মানুষ ঘুম ভেঙে আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়েন। আহতদের বেশিরভাগই ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অথবা আসবাবপত্র ও দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছেন।
জাপানের ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কানাগাওয়া অঞ্চলের ইয়োকোহামায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, টোকিওর পূর্বাঞ্চলের তাইতো এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক যুবক আসাহি সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তিনি কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাক থেকে পণ্য পড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরের সঙ্গে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ট্রেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে ভূমিকম্পের মধ্যেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ‘এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।’
এদিকে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা টোকিওর বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহে আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবারের ভূমিকম্পে টোকিওতেও বেশ জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়। সে সময় টোকিওর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মিতো ও সাইতামাসহ আশপাশের শহরগুলোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, টোকিওতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এ ভূমিকম্পে এসব স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।
১৬ দিন আগে
জাপানে ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ৯
জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নজিরবিহীন বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চিবা প্রদেশে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানকার একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকায় ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল নাগাদ চিবা শহরে আগস্ট মাসে সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এনএইচকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শনিবার সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল আটজন। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে এবং অন্যদের প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিবা অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ৭০টির বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার জানিয়েছে, তাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাড়ি এখনও বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্যাক ব্যবহার করে সরানোর কাজ করছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
২৩ দিন আগে
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৪
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পানির সংকট, জ্বালানির অভাব এবং তীব্র গরমের মধ্যে হাজারো দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝে অসুস্থতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কুমামোতোর স্থানীয় সরকার শুক্রবার (৩১ জুলাই) এ তথ্য জানায়।
এদিকে, শনিবার (১ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে চতুর্থ দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে একটি শপিংমলে বিস্ফোরণ, একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়া এবং অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভূমিকম্পে হাজারো বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হলেও শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়ালেও এখনও ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৯৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি ও জ্বালানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ
কুমামোতো প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৮০ হাজার বাড়িতে এখনও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ৯ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক পেট্রোল পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য এলাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে জ্বালানির অভাবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার কুমামোতো শহরের জন্য চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
ভূমিকম্পে ঘর হারানো হিরোকাজু সাতো বলেন, অস্থায়ী বাসস্থানে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘কবে অস্থায়ী বাসায় উঠতে পারব, জানি না। দিন-রাত এয়ার কন্ডিশনার চালিয়ে রাখতে হচ্ছে, এতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হচ্ছে।’
শিল্প উৎপাদনেও প্রভাবের আশঙ্কা
কুমামোতো জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। ফলে ভূমিকম্পের কারণে এ খাতগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা কয়েক মাস ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) কুমামোতোতে একটি গবেষণাগার রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সব কর্মী নিরাপদ আছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রাথমিক পরিদর্শনে ভবন কাঠামো নিরাপদ পাওয়া গেছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনও চলছে।
নিখোঁজের সংখ্যা এখনও অজানা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম তিন দিন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শুক্রবার বিকেলকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাপানি কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায় কুমামোতোজুড়ে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চলছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর একটি কাশিমা শহরের ধসে পড়া এইয়ন শপিংমলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় শপিংমলটিতে হাজারো মানুষ ছিলেন। বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ভবনের অন্য অংশে কর্মরত কিছু কর্মী ভেতরেই রয়ে যান। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইয়াতসুশিরোর নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ধসে পড়া চিমনির নিচে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়াও দক্ষিণ কুমামোতোর বিভিন্ন শহরে ধসে পড়া বাড়িঘরে ছোট পরিসরে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। তবে মোট কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
৩৮ দিন আগে
জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ ও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণেও জাপানের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
তিনি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা প্রশিক্ষণে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং পরিবহন খাতে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া বৈঠকে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন এবং চলমান ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্পের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলবিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো, জাপানের সিভিল এভিয়েশন ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
৪২ দিন আগে
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে, এ ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দেশটির ইওয়াতে প্রদেশের পূর্ব উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জেএমএ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরে তা ৭ দশমিক ২-এ উন্নীত করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। গত ডিসেম্বরে একটি ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহব্যাপী ‘মেগা-ভূমিকম্প’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অফিসগামী ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।
তবে জাপান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের জরুরি দল ‘মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত (আফটার শক) সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
৭৫ দিন আগে
জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, দক্ষতা-ভিত্তিক ও শিশুবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতা, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের কাজ করছি। এতে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সিভিক এডুকেশন, ক্রীড়া শিক্ষা, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জিং ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের নাগরিক শিক্ষা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চাই।
৭৫ দিন আগে
দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের গোলে ডাচদের রুখে দিল জাপান
বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করে পরের ধাপে পৌঁছানো যে কতটা কঠিন তা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই প্রস্তুত ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাদের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর সুযোগের অপেক্ষা। পুরো ম্যাচজুড়ে সেই পরিকল্পনাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করল এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তাই ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে ডাচদের হতাশ করা ড্রয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জাপান।
বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপের প্রথম ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের সবগুলো গোলই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫১তম মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের হেডারে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। তবে ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচে ফের এগিয়ে গিয়েছিল শক্তিমত্তা ও মাঠের পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ডাচরা। এর ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে জাপানের সমর্থকদের আনন্দে ভাসান দাইচি কামাদা।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে নেদারল্যান্ডস, অন্যদিকে মাথা ঠান্ডা রেখে ডাচ আক্রমণ রুখে দেওয়ায় মনোযোগী হয় জাপান। তবে তৃতীয় মিনিটে ডনিয়েল মালেনের শট থেকে ভালো একটি সুযোগ এসেছিল ডাচদের, অবশ্য গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকির নৈপুণ্যে শুরুতেই পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায় জাপান।
শুরুর দিকে নিজেদের অর্ধেই ব্যস্ত থাকতে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে জাপান। ১৫তম মিনিটে দাইজেন মায়েদার নিচু ক্রস থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডাচ রক্ষণ তা নস্যাৎ করে দেয়।
৮৫ দিন আগে
প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান
জাপানে যুদ্ধবিমানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে যাবে দেশটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক্স পোস্টে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তবে জাপান কোন কোন অস্ত্র বিদেশে বিক্রি করবে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এ বিষয়ে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ।
পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘এই সংশোধনের মাধ্যমে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই রপ্তানি করা যাবে। তবে গ্রাহক দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বিশ্বের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজস্ব শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ।’
জাপানের চুনিচি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানে তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। তবে আরও কিছু দেশ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যুক্ত হলে তালিকা বাড়তে পারে।
আসাহি পত্রিকা জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা চুক্তি অনুযায়ী জাপান কেবল নজরদারি ও মাইন অপসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত থাকবে। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।
চুনিচি পত্রিকা জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই টোকিওর এই নীতিগত পরিবর্তন এল।
১৩৯ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
১৪১ দিন আগে