জাপান
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিল জাপান
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশিদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।
পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।
৪ দিন আগে
আগামী তিন বছরে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে
‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশের শ্রম বাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথল্য দেখানো যাবে না।
তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাপান প্রধানত চারটি ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। ‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি মোতাবেক, দেশের অভ্যন্তরের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পর বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি অতিরিক্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে যার একটি বিরাট অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবাসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বলা হয়, জাপানি ভাষা শিক্ষক/প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চাহিদা অনুসারে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতকরণ, জাপানে ‘ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট’ ভিসায় শিক্ষার্থী প্রেরণের হার বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশে এসএসডব্লিউ-এর ১৬টি ক্ষেত্রের মধ্যে ৬টির পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
অপর ১০টি ক্ষেত্রের দক্ষতার পরীক্ষা শুরুকরণ, ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি পদ্ধতির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ পূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট হতে কর্মীর চাহিদা সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ, শ্রমবাজার সার্চ করে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদন প্রেরণ করবে এবং জাপানিজ ভাষা পরীক্ষার আসন সংখ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্র বৃদ্ধি করার বিষয়ে সভায় বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে সকল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রতে (টিটিসি) জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশি জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা। সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মে জাপানিজ প্রশিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দপ্তর/সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পদে নিযুক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা প্রজেক্টটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।
চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে সাইদা শিন-ইচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানের নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) কোমিনে কেন, প্রথম সচিব (অর্থনীতি) মোচিদা ইউতারোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
১২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ, দীপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দীপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে টোকিও।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদি আমিন; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ড. রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
দুই পক্ষ এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইএসডিপি)-এর আওতায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের সংযোগ সহজ করতে একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, মেট্রোরেল সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশকে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন।
১২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচি জাপানের সরকার ও দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অভিনন্দন বার্তায় তাকাইচি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান একটি বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রাকে স্বাগত জানান তাকাইচি। দুই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তার বার্তায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত এবং একটি সমৃদ্ধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৯ দিন আগে
জাপানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির দল
জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। প্রাথমিক ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ জনপ্রিয়তা এ বিজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের খবরে বলা হয়েছে। এর ফলে তিনি জাপানের নিরাপত্তা, অভিবাসনসহ বিভিন্ন নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার সুযোগ পাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজয়ের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনএইচকে’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকাইচি বলেন, তিনি জাপানকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে যে নীতিমালাগুলো প্রয়োজন, সেগুলোর ওপর জোর দেবেন।
ভোট গণনার প্রাথমিক ফলের উদ্ধৃতি দিয়ে এনএইচকে জানায়, সোমবার সকাল পর্যন্ত তাকাইচির এলডিপি একাই ৩১৬টি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্টের ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষের ২৬১ আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার যে সীমা রয়েছে, তা সহজেই অতিক্রম করেছে দলটি।
জাপানের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের মধ্যে নিম্নকক্ষই বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। ১৯৫৫ সালে দলটি প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের সর্বোচ্চ আসনে জয় পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে, ১৯৮৬ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুহিরো নাকাসোনের নেতৃত্বে দলটি ৩০০টি আসন জিতেছিল। নতুন মিত্র দল জাপান ইনোভেশন পার্টির অর্জিত ৩৬টি আসনসহ তাকাইচির ক্ষমতাসীন জোট মোট ৩৫২টি আসন পেয়েছে।
ফল ঘোষণার পর এলডিপির সদরদপ্তরে একটি বোর্ডে বিজয়ীদের নামের ওপর বড় লাল ফিতা লাগান তাকাইচি। এ সময় উপস্থিত দলীয় শীর্ষ নেতারা করতালির মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করেন।
উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তুলনামূলক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন নিম্নকক্ষে নির্বাচনের আগের অবস্থানের তুলনায় বড় অগ্রগতি তাকাইচিকে একটি ডানপন্থী কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। এই এজেন্ডার লক্ষ্য চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জাপানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
তাকাইচি বলেন, নিজেদের নীতিগত লক্ষ্য দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করবেন তিনি। তার ভাষ্যে, ‘আমি নমনীয় থাকব।’
তাকাইচি জনপ্রিয় হলেও গত সাত দশকের বেশিরভাগ সময় জাপান শাসন করা এলডিপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থায়ন ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারি নিয়ে চাপের মধ্যে ছিল। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাস পরই তিনি রবিবার আগাম নির্বাচনের ডাক দেন।
২৮ দিন আগে
জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২৩, সাগরে ২ ফুট সুনামি
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় সুনামির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটি হাচিনোহের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) গভীরে আঘাত হানে।
এরপর সম্ভাব্য আফটারশক ও বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর উত্তরে আওমোরির উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে। তবে, জাপান সরকার এখনো সুনামি ও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে বিধায় চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর আওমোরির ঠিক দক্ষিণে ইওয়ার কুজি বন্দরে ৭০ সেন্টিমিটার (২ ফুট ৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি আঘাত হেনেছে।
ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
এনএইচকে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের বেশিরভাগই ধসে পড়া বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছেন। হাচিনোহের একটি হোটেলে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং তোহকুতে গাড়ি খাদে পড়ে এক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছেন।
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্কতা না ওঠা পর্যন্ত উঁচু স্থান বা নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ৮০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং এই অঞ্চলের কিছু অংশে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন ও লোকাল রেললাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আওমোরি হাচিনোহে শহরের দোকান মালিক নোবুও ইয়ামাদা সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে’কে বলেন, ‘আমি এত বড় কম্পন আগে কখনো অনুভব করিনি। সৌভাগ্য যে আমাদের এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রয়েছে।’
ওই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কিহারা।
পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আওমোরির রোক্কাশো জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের জ্বালানি শীতলীকরণ এলাকা থেকে প্রায় ৪৫০ লিটার পানি উপচে পড়েছে। তবে পানির স্তর স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে এবং কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, হাচিনোহে বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ৪৮০ জন বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য ১৮টি প্রতিরক্ষা হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
এনএইচকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে হোক্কাইডোর নিউ চিটোস বিমানবন্দরে প্রায় ২০০ যাত্রী সারা রাত আটকা পড়েছিলেন।
এদিকে, আগামী কয়েকদিনে সম্ভাব্য আফটারশকের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। তারা জানিয়েছে, টোকিওর পূর্বে চিবা থেকে হোক্কাইডো পর্যন্ত জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলজুড়ে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প এবং সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি কিছুটা বেড়েছে।
সংস্থাটি এই এলাকার ১৮২টি পৌরসভার বাসিন্দাদের আগামী সপ্তাহে তাদের জরুরি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সাংবাদিকদের জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত নিরূপণের জন্য সরকার একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং আমাদের পক্ষে যা সম্ভব সবই করছি।
তিনি ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় পৌরসভাগুলোর সর্বশেষ তথ্যের দিকে নজর রাখার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘দয়া করে প্রস্তুত থাকুন যাতে কম্পন অনুভব করার সাথে সাথেই আপনারা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন।’
আবহাওয়া অফিসের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিভাগের কর্মকর্তা সাতোশি হারাদা বলেন, ‘আপনাদের এমন একটি দুর্যোগ আবারও ঘটতে পারে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে হবে।’
তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কর্তৃপক্ষ উত্তর জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জন্য জারি করা সব সুনামি সতর্কতা তুলে নেয় বলে খবরে বলা হয়েছে।
৯০ দিন আগে
৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে রাশিয়া, জাপানে সুনামি; দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি
রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার ৮.৮ মাত্রার ওই কম্পনে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে সুনামির সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া আলাস্কা, হাওয়াই ও দক্ষিণে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
জাপান ও মার্কিন ভূমিকম্পবিদদের মতে, জাপানের স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৮.০। পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তা সংশোধন করে ৮.৮ করে এবং ভূকম্পনটির গভীরতা ছিল ২০.৭ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল রাশিয়ার কামচাটকার পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কি শহর থেকে ১১৯ কিলোমিটার পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পূর্বে। ওই শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার। সেখানে এ পর্যন্ত ৬.৯ মাত্রার বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পনও রেকর্ড করা হয়েছে।
পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাতস্কিতে ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রাস্তায় গাড়ি দুলেছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মোবাইল ফোন সেবাও বন্ধ হয়ে যায়।
রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কয়েকজন চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
২০১১ সালের মার্চে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে আঘাত হানা ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশ্বজুড়ে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। ওই ভূমিকম্পে বিশাল সুনামি হয়েছিল এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গলন শুরু হয়।
তবে জাপানের প্রশান্ত উপকূলীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বুধবারের ভূমিকম্পের পর কোনো গড়বড় ধরা পড়েনি। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, ফুকুশিমা দাইইচি কেন্দ্রটিতে প্রায় ৪ হাজার কর্মী উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং দূর থেকে কেন্দ্রে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।
২২২ দিন আগে
বাংলাদেশ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ড. ইউনূসকে জাইকা শীর্ষ কর্মকর্তা
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরা বলেছেন, এশিয়ায় বাংলাদেশ এখনও জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়াজাকি কাতসুরা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে বিনিয়োগ, মৎস শিল্প, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা ও তরুণদের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপান সবসময়ই আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। সম্প্রতি জাপান সফরকালে আমি ও আমার প্রতিনিধি দল যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা পেয়েছি, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মাতারবাড়ি প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে একে দেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: গুমের সঙ্গে সেনা সদস্যদের জড়িতের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: সেনা সদর দপ্তর
সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি জাপানে জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমি বলেছিলাম আমরা একটি ব্লু ইকোনমির দেশ হতে চাই।’
ড. ইউনূস বাংলাদেশের তরুণদের জন্য জাপানে শিক্ষাবৃত্তি বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে যেতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো ভাষায়। আমরা আহ্বান করছি যে—জাপানি শিক্ষকরা এখানে আসুক, অথবা দূরশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের মানুষকে জাপানি ভাষা ও কর্মক্ষেত্রের আচরণ শেখানো হোক।’
প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সমস্যার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। হাজার হাজার রোহিঙ্গা তরুণ ক্যাম্পে ভবিষ্যতের কোনো আশা ছাড়াই বেড়ে উঠছে। এতে তারা ক্রমেই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।’
জবাবে মিয়াজাকি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘জাইকা এ দেশের বিচার বিভাগ, সরকারি প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে সহায়তায় নজর দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপান-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পে স্থানীয় সরকার, কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্ত থাকবে।
তরুণদের উন্নয়নের প্রসঙ্গে ড.ইউনূস বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ উন্নতি করেছে। তারা সব জায়গায়ই জিতছে। গতকালও তারা একটি ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে। আমরা তাদের জন্য হোস্টেলের সংখ্যা বাড়াচ্ছি। তবে তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণের জন্য সহায়তা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে মিয়াজাকি বলেন, জাপান বিভিন্ন দেশে শিক্ষা প্রকল্পে স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নারীদের ক্রীড়া খাতে আরও সহযোগিতা বিবেচনায় নিচ্ছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সম্প্রতি ১০০ কোটি ডলারের ঋণ ও অনুদান চুক্তির জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। এই অর্থ দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় হবে। তিনি বার্ষিক জাপানি অনুদানের পরিমাণ ৩০০০ কোটি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সাড় ৪ হাজার কোটি ইয়েনে উন্নীত করার অনুরোধ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,‘বাংলাদেশের জনগণ জাপানের বন্ধুত্ব ও উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।’
২৪৯ দিন আগে