বাজেট
বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়; এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত সাম্প্রতিক বাজেটটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। বাজেট তৈরি ভালো হলেও এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর।’ তিনি অর্থ বিভাগের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসে তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।
প্রচলিত পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে আমির খসরু বলেন, সভাগুলোকে কেবল একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে (আউট অব দ্য বক্স) কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাজের পরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু অভিযোগ না করে কাজের সুযোগ, নতুন ধারণা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। তিনি অর্থ বিভাগকে দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে, সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যেখানে পর্যটনের উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে কক্সবাজার অন্যতম ‘গ্রোথ হাব’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে কক্সবাজারের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
৬ দিন আগে
মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। গরিব মানুষও এখন ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা স্বল্পমূল্যে বা বিনা মূল্যে পাবেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে লালমনিরহাট ডায়াবেটিস হাসপাতালে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার চলতি বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে। একইসঙ্গে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনগণমুখী করা হবে।
এ সময় লালমনিরহাট ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যসচিব অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিয়ামুল ইসলাম ফাতেমী, জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম ও ডা. এবিএম মোবাশ্বের আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
চলতি বাজেটেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: এমপি বাবুল
কোনো দেশ সাড়া না দিলেও চলতি বাজেটেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, কোন দেশ সাড়া না দিলেও চলতি বাজেটেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তিস্তাপাড় কথা বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ লাঘব হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতি চীন সফর করেছেন। তার এ সফরের প্রধান এজেন্ডাই ছিল তিস্তা মেগা প্রকল্প। তিনি দেশে ফিরে সংসদে বলেছেন যে দ্রুত সময়ে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
এমপি বাবুল আরও বলেন, তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন আমরাই করেছি। সেই আন্দোলনে ৪৮ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসুচিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সেই আন্দোলন থেকে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মেগা প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ দল তিস্তাপাড় পরিদর্শন করেছে। খুব দ্রুত তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিস্তা আর অভিশাপ নয়, আর্শিবাদে পরিণত হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই সংসদ সদস্য বলেন, তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের আন্দোলন আমরা করেছি এবং করছি, যার সুফল পেতে যাচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। একসময় একটি দল লোক দেখানো আন্দোলনের নামে তিস্তাপাড়ে কর্মসূচি দিয়েছিল। সেটি ছিল হাস্যকর ও জনবিচ্ছিন্ন একটি কর্মসূচি।
তিস্তাপাড়ের বন্যাদুর্গত আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় পৃথক স্থানে প্রায় দেড় হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চালসহ শুকনো খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে বলেও এ সময় জানান তিনি।
ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাসের মো. রাজিব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মাজহানুর রহমান, উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. ফেরদৌসুর রহমান প্রমুখ।
২৮ দিন আগে
মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ডিসিসিআই’র, নীতি সুদহার বহালে গভীর উদ্বেগ
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে সদ্যঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেট ও সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই জানায়, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
সংগঠনটি বলেছে, সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই, যা রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ নীতি সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ তহবিলের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
ডিসিসিআইর মতে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই), রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, কম ডকুমেন্টেশন এবং দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ তহবিলের আওতায় আনতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া আরও জরুরি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এ প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
এছাড়া সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাকেও গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে ব্যাংক খাতের সীমিত তারল্যের বড় একটি অংশ সরকারি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিসিসিআই মনে করে, জাতীয় বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব প্রণোদনা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে সেসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
২৯ দিন আগে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামলে বিদেশে নামাতে হবে লাল-সবুজের পতাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এমনটি হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে, এমনকি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি ভোটের জন্য উপস্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এ ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সাতক্ষীরা-৪, রংপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে প্রবাসীদের দেওয়া আমাদের সব সেবা। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বার্ষিক প্রদেয় অর্থ আমরা দিতে পারব না, যার ফলে জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যেতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানের এই পরিবর্তনশীল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদের কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং লক্ষ্য হচ্ছে— সবার আগে বাংলাদেশ, যার অভূতপূর্ব সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর।’
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমাদের জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৯ দিন আগে
পাচার হওয়া অর্থ ও অপরাধীদের ফেরাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান বিরোধী দলীয় নেতা
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং এ অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ উদ্ধার করা গেলেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। কিন্তু সেই অর্থ কীভাবে ফেরত আনা হবে, সে বিষয়ে বাজেটে কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘাটতি খুব বেশি নয়। পাচারকৃত অর্থের নয় ভাগের এক ভাগও যদি আগামী অর্থবছরে ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে আমাদের কোনো বাজেট–ঘাটতি থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সম্পদের সঙ্গে কালপ্রিটদেরও (অপরাধী) ফিরিয়ে আনতে হবে। সম্পদ এল, আর কালপ্রিটরা থেকে গেল, তাহলে সঠিক শিক্ষা হবে না।’ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমীর বলেন, সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, সবার চিন্তাধারা এক হওয়া সম্ভব নয়। সবার চিন্তা একই রকম হলে এত লোকের বক্তৃতা বা এত সময় খরচের প্রয়োজন হতো না, দুই পক্ষ থেকে একজন করে কথা বললেই চলত। আমরা জনগণের ভালোবাসা এবং ভোটে নির্বাচিত হয়ে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এই সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাই প্রত্যেকেই নিজের বিবেক, মহান আল্লাহ এবং প্রিয় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
বাজেট অধিবেশনকে বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এর ভিত্তির ওপরই পুরো বছরটি কেমন যাবে তা নির্ভরশীল এবং সব সদস্য সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বক্তব্য দিয়েছেন।
এ সময় তিনি প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্বদানকারী জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী এবং স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আবদুর রবের অবদানের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ৯০-এর গণআন্দোলন, ২৮ অক্টোবর, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর এবং সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
নিজের দলকে একটি ‘কষ্টে ভোগা দল’ হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের বুক থেকে এক এক করে ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ১২ নম্বর জন হিসেবে কেবল তিনিই এখন জীবিত আছেন। ড. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ফ্যাসিবাদী আমলের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানান।
পিলখানায় বীর সেনাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডকে জাতির সূর্য-বীর্যের জায়গায় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের শাহাদত কবুলের জন্য দোয়া করেন। সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ এমন কোনও আচরণ করবে না যা মজলুম দেশবাসীকে আঘাত করে, বরং এটি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, ঐক্যবদ্ধ করবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
তোষামোদের নয়, দায়িত্ব পালনের জায়গা
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা আপনার আছে; আমার নেই। এখানে আরও কয়েকজন আছেন যারা অতীতেও ছিলেন। আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামোদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। দায়িত্ব পালন করা জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করি। আমি প্রথম দিন অনুরোধ করেছিলাম, অতীতের ব্যাড কালচারকে (খারাপ সংস্কৃতি) আমরা চর্চা না করি; এই সংসদে দাঁড়িয়ে চরিত্র হনন যেন না হয়।’
বিরোধী দলের বক্তব্য ‘কুচি কুচি করে কাটার যন্ত্র’ ফেলে দেওয়ার আহ্বান
সংসদে বিরোধী দলের ওপর বারবার আক্রমণের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা চমৎকার টেনডেন্সি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি—সরকারি দলের প্রায় সব বক্তা বিরোধী দলের বক্তব্য কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’
৩০ দিন আগে
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোসহ বাজেটের বেশকিছু বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার সংশোধনীর প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।’
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখেন সংসদ নেতা।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগের তথ্য প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে ‘প্রশ্ন ও উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই প্রস্তাবিত এই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবেও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে এ প্রস্তাবও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান সরকারপ্রধান।
৩০ দিন আগে
বিএমইউর ১,০৩৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা; বিনামূল্যে ওষুধ, ক্যান্সার সেবায় গুরুত্ব
ক্যান্সার সেবার সম্প্রসারণ, রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)।
শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেটের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শততম সিন্ডিকেট সভায় বাজেটটি অনুমোদন করা হয়।
বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন।
ঘোষিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৬৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে। বাজেটে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য ‘আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’। চিকিৎসা মানুষের সামর্থ্যের ভিত্তিতে নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, স্বাস্থ্য খাতের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ এবং আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার ভবিষ্যৎ চাহিদাকে সামনে রেখে ‘কস্ট কন্ট্রোল অ্যান্ড কস্ট রিডাকশন’ নীতির ভিত্তিতে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে বাজেটে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ই-লার্নিং সম্প্রসারণ, গবেষণায় অনুদান বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) চালু এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহে অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন জানান, এবারের বাজেটে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহে ২০ কোটি টাকা, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে ৯০ কোটি টাকা এবং ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় অনকোলজি বিভাগের একটি অকেজো লিনিয়ার এক্সিলেটর পুনরায় চালু ও আরও দুটি নতুন লিনিয়ার এক্সিলেটর স্থাপনের জন্য ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
৩২ দিন আগে
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
৩৭ দিন আগে
বাজেট উচ্চাভিলাষী, তবে মূল প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের সম্ভাবনা কম: সিপিডি
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মানব উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি স্পষ্ট দর্শন ফুটে উঠেছে। তবে এর উচ্চাভিলাষী সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রস্তাবিত রাজস্ব কাঠামোটি যেভাবে আছে, সেভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
রবিবার (২১ জুন) গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ ২০২৬’-এ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই গবেষণা সংস্থার ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিভিউ অব বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট’ (আইআরবিডি) বিশ্লেষণটি উপস্থাপন করেন।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছিলেন, তার ওপর এই গবেষণা সংস্থা আটটি মূল পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
সিপিডি উল্লেখ করেছে, সরকারের সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ থেকে একটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দাবি প্রকাশ করে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সিপিডি চিহ্নিত করেছে যে, সরকার রাজস্ব সংগ্রহে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিপিডির নিজস্ব প্রাক্কলন বলছে, গত অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আদায় হতে পারে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
গবেষণা সংস্থাটি মানবসম্পদ খাতে সরকারি ব্যয়কে নতুন করে অগ্রাধিকার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২৪ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, উভয় খাতেই দীর্ঘস্থায়ী বাজেট ব্যবহারের দুর্বলতা রয়েছে। যেমন: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবহারের হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৮০ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সম্পর্কে সিপিডি বলেছে, ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দ (যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি) একটি উচ্চাভিলাষী আর্থিক অবস্থান প্রদর্শন করে। তবে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপির মাত্র ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়েছিল, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিম্ন সক্ষমতারই ইঙ্গিত দেয়।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা ৮টি মেগা প্রকল্পের একটিও সময়মতো শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ব্যক্তিগত আয়কর কাঠামোর ক্ষেত্রে সিপিডি বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা দেখিয়েছে যে, বার্ষিক ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর আনুপাতিকভাবে করের বোঝা বেশি বেড়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে (এসএসএনপি) বরাদ্দ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে সিপিডি লক্ষ করেছে যে, পেনশন ব্যবস্থাপনা ও কৃষি ভর্তুকি মিলেই মোট সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ চলে যায়, যা মূলত সরাসরি দরিদ্রদের লক্ষ্য করে নেওয়া কর্মসূচি নয়।
১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে, সে বিষয়ে সিপিডি দেখেছে, কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট প্রধান চারটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অংশ হিসেবে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ ৯০৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩২৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেটে মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপের অনুপস্থিতিও চিহ্নিত করেছে সিপিডি।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণের প্রথম বড় সুযোগ এই বাজেট।’ তবে এর সফলতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের গুণগত মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৩৯ দিন আগে