পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভিসা জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আমাদের ভিসার যে অবনমন ঘটেছে এবং সেটার জন্য আপনারা অনেকগুলো দিন সময়ও পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের ভিসা-পাসপোর্টের মান এত নিচে রয়েছে যে অনেক দেশের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সাংবাদিকরা তা জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা মাত্র সাড়ে চার মাস হলো সরকার গঠন করেছি। এর আগ থেকেই ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ছিল।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে এবং এ বিষয় সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভিসা বন্ধ থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি বৈধ পথের পরিবর্তে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করেন। এসব সমস্যাও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছি।’
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছি।’
২ দিন আগে
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এটি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হলো কি না—জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হয়েছে। যেহেতু তিনি পলাতক আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা সেটাই দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এটা আমরা বারবার বলেছি আগেও যে, কূটনীতিতে যে নর্মস (রীতি) আছে, যে প্রটোকল আছে, সেই প্রটোকল অনুযায়ী, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান কামালকে (খানকে) দেশে ফিরিয়ে এনে উনার বিচারও সম্পন্ন করা হবে; ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের বিচার হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে বিচার চলাকালে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আলাদা করে আর কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে আসাদুজ্জামান খানকে চেয়ে চিঠি কবে পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন, আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগগুলো নেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কূটনীতি অনুযায়ী আমরা সেই কাজগুলো করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া যে, যারা পলাতক আসামি, যাদের বিচার হয়ে গেছে, সাজা হয়ে গেছে—তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার হবে এবং জনগণও সেটা আশা করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই যে একটা সুষ্ঠু বিচার হোক এবং সেই প্রক্রিয়াটা সরকারের পক্ষ থেকে চলমান থাকবে। চিঠি দেওয়া হলো; এখন জবাব আসা, এরপর কী করব, না করব—সেগুলো তো ভারত সরকারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি গেছে, আমরা অপেক্ষা করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবশ্যই আমরা আশা করব যে, ভারত ইতিবাচক জবাব দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, সেটাকে জোরদার করার লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে যা দায়িত্ব, সেটা তারা পালন করবে।
ভারতে পলাতক থাকা অন্যদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন চিঠি যায়। যারা আসামি, যারা পলাতক আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা চিঠি দিচ্ছি।
গত ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে ফের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তার প্রত্যর্পণ চাওয়া অব্যাহত রাখব। বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
শেখ হাসিনা ফিরলে আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আত্মসমর্পণ করে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, সেটিই হবে এবং তাকে জেলে যেতে হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, উনি যদি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। উনাকে জেলে যেতে হবে এবং সেই আইন আইনের গতিতে চলবে।
শেখ হাসিনা ‘আসামি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ না করে যে উনি বিদেশে বসে বক্তব্য দিচ্ছেন, এগুলো আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে উনার আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী পালিয়ে আছেন, লুকিয়ে আছেন, তাদের চাঙ্গা করার জন্য, উজ্জীবিত করার জন্য বলছেন। এছাড়া কোনো কারণ আমি দেখছি না। কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যেকোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যে প্রক্রিয়া আমাদের আছে, সেভাবেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। কোনো আসামি যদি আত্মসমর্পণ করে, তাহলে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের আওতায় যা প্রয়োজন, সেটাই হবে।
শেখ হাসিনা বিদেশে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনে আত্মসমর্পণ করতে পারেন কি না— সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথায় এবং কীভাবে একজন আসামি আত্মসমর্পণ করবেন, সেটি তার নিজস্ব বিষয়।
তিনি বলেন, ‘সেটি উনার ব্যাপার। সেটি আমাদের ব্যাপার নয়। এখন একজন আসামি কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন, কীভাবে করবেন, সেটি একেবারেই উনার ব্যাপার এবং আমাদের, সরকারের কোনো সাবজেক্ট (বিষয়) এখানে নেই। তবে বিদেশে বাংলাদেশের কোনো মিশনে আত্মসমর্পণ করুক বা বাংলাদেশে এসে আত্মসমর্পণ করুক, প্রক্রিয়া এক।’
বিদেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সরকারের অবস্থান বা চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, একজন আসামি কী বক্তব্য দেন, সেটা বাংলাদেশ সরকারের আমলে নেওয়ার কথা না এবং নেবে না। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজনের সাজা হয়েছে, তিনি অলরেডি (ইতোমধ্যে) সাজাপ্রাপ্ত। আমাদের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়া আগে থেকেই চলমান আছে। এটা নতুন করে আর নতুন প্রক্রিয়ায় চলার কোনো অবস্থা নেই।
১২ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোর্ট একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। তো উনার এখানে... শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে উনার বক্তব্যটা এখানে (দেশে) রেলেভেন্ট (প্রাসঙ্গিক) না, একেবারেই রেলেভেন্ট না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগটা শুরু হয়েছে, এখন সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। একজন বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে যখন ফেরত আনা হয়, সেই যে প্রটোকল আছে, যে নর্মস (নিয়মকানুন) আছে, সেই নর্মস অনুযায়ী উনাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।
তিনি বলেন, এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।
প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে সফলতার ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, না; এটা দেখুন... এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়াটা চলমান আছে। তার মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পরে প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। তো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। সেখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে। উনারাও কাজ করছেন, প্রক্রিয়াটা চলমান আছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যেই প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সেই প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।
গঙ্গা পানি চুক্তি প্রসঙ্গ
গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব ভারত বুঝতে পারছে। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে আগাচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’
ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে উনারা এগিয়ে আসবেন।’
‘কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হচ্ছে’
এ সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।
রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রদবদল প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৬ দিন আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে শামা ওবায়েদ ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
৩৬ দিন আগে
শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের রাজনৈতিক, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সামাজিক-অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও দুর্বলতা মোকাবিলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে চলমান তারল্য সংকটের মধ্যেও শান্তিরক্ষা ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
৭১ দিন আগে
জ্বালানিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরও জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ওষুধ শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শ্রমবাজার এবং উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২০ এপ্রিল সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত ‘শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামে’র একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল বৈঠকের পর জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এ আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করে।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে জাপানের আরও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
৯৫ দিন আগে
বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই জ্বালানির দাম বেড়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়দের ইসলাম রিংকু বলেছেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই জ্বালানি তেলের দম বেড়েছে। অনেক দেশে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও ভারতসহ সব জায়গায় জ্বালানি তেলের দাম প্রচুর বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে জ্বালানির দাম এখনও বাড়েনি।
এটিকে বর্তমান সরকারের সফলতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সব পর্যায়ের জনগণ যাতে ভালো থাকতে পারে, আমরা তার চেষ্টা করছি। যুদ্ধের সময় যেন তাদের কোনো সমস্যা না হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। যদি আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হয়, তাহলে আমাদের জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা সমন্বয় হতে পারে। সেটাও জনগণকে নিরাপদ জায়গায় রেখে হতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে প্রভাবিত হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের দেশের প্রবাসীরা। যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতি ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে যাতে থাকে, সেজন্য বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পররাষ্ট্রনীতি শুরু করেছিলেন। সৌদি আরবে প্রথম লোক পাঠিয়ে তিনি শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার যখনই দায়িত্ব এসেছে, তখনই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে আমাদের একটি সুসম্পর্ক ছিল।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে যুদ্ধের সময়ও ইরানসহ সব দেশ বাংলাদেশকে একটি বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে মর্যাদা দিচ্ছে। আমার প্রবাসী ভাইয়েরা ওইসব দেশে সুরক্ষিত আছেন। বিভিন্ন পথে তেল ও গ্যাস—যেগুলো আমাদের আসার দরকার, সেগুলো আমরা পাচ্ছি। সেগুলোতে আমাদের কোনো সংকট হচ্ছে না।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর আগেও আমি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছি। তখনও দেখেছি এর অবস্থা করুণ। আজকে দেখে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। মানদণ্ডের দিক দিয়ে এটি কোনো পর্যায়ে পড়ে না। এখানে প্রয়োজনের যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই।
এ সময় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা, ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১২ দিন আগে
মানবপাচার বন্ধ ও অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবপাচারচক্র জড়িত। এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও লিবিয়া উভয় দেশেই সক্রিয়। তারা উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ নৌপথ ব্যবহার করছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের মিশনগুলো সেখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। যারা উদ্ধার হয়েছেন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।
টাকা উপার্জনের নেশায় মানুষ এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, যাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাদের হাসপাতালে অথবা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল তথ্য থাকলে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা, গ্রিস সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং শারীরিক ও আইনি অবস্থা বিবেচনা করার পরই তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১১৮ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, কলকাতা পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলকাতার উপকমিশনার এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। যদি এ আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।’
কতদিনের মাঝে ফেরানো সম্ভব, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করতে পারবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।’
১৩৮ দিন আগে