পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সংঘাতে রেমিট্যান্স কমার শঙ্কা, নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: শামা ওবায়েদ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে রেমিট্যান্সে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এর কারণ হিসেবে তিনি ওই অঞ্চলে অনেক বাংলাদেশির চাকরি হারানো, বাধ্য হয়ে অনেকের দেশে ফিরে আসা এবং চাকরি ছাড়া অনেকের সেখানে টিকে থাকার চেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিআইআইএসএস মিলনায়তনে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সৌদি আরবে তিন মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নতুন বিদেশি শ্রমবাজার অনুসন্ধানের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মগন্তব্য চিহ্নিত করতে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
শামা ওবায়েদ বলেন, বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমাতে দক্ষ কর্মী পাঠানো ও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দক্ষতা বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দুই দিনে এসব ঘটনায় বাংলাদেশ দুই নাগরিককে হারিয়েছে। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার মধ্যে কয়েকজন আইসিইউতেও রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হবে। কারণ সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন, পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আরও প্রাণহানি ও দুর্ভোগ এড়াতে সংঘাতের দ্রুত অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
৩ দিন আগে
রিয়াদে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে চারজন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, তাদের নিজ নিজ জেলার তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে বাংলাদেশ মিশন সৌদি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে থাকা অন্য বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মিশনগুলো যোগাযোগ রাখছে, তাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশিদের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবারের সবাইকে ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া মানুষদের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। যুদ্ধ ও হামলা বন্ধ হবে এবং আর কোনো প্রাণহানির খবর আসবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোট ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।
নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে সাধারণত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। তবে হামলায় বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট বিমান সংস্থা বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য সরকার পায়নি বলে জানান তিনি।
এর আগে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার হুতির চালানো হামলার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতিও দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়া আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
৪ দিন আগে
পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে দুই দেশের আন্তরিকতা জরুরি: হুমায়ুন কবির
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে আন্তরিকতা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে যদি আন্তরিকতা থাকে—সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ে, নেতৃত্ব পর্যায়ে এবং দুই পক্ষের পানি নিয়ে কাজ করা আলোচকদের মধ্যে...আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি।’
দুই দেশের নেতৃত্ব সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে পানি সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নেতৃত্বের যদি এগিয়ে এসে সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকে, তাহলে আমরা অবশ্যই এই সমস্যার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’
তিনি মনে করেন, সিনিয়র কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পানি নিয়ে আলোচনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব হবে।
পানিসম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে বৃহত্তর পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, কূটনীতি ও সংলাপই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।’
এসব সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইন বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে আমরা এই অবস্থানেই আছি।’
গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা-কুশিয়ারা ও ফেনীসহ বাংলাদেশ ও ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেয়। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিন্ন নদীর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করে।
এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষ নিজ নিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও সংলাপ চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের অবস্থান থেকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিতসহ বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে একটি নতুন ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।
বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পানি কূটনীতি বোঝা এবং অন্যান্য সমমনা দেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও নিজেদের প্রচেষ্টা জোরদারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুযোগ চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়।
সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ এবং পানি ন্যায়বিচারে তরুণদের কণ্ঠ আরও জোরালো করার বিষয়টি নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন।
একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণ নেতৃত্ব ও তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাব্য পথ নিয়েও আলোচনা হয়।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চায় ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তা সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন আনিস মাত্তা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আমন্ত্রণে আনিস মাত্তা ৫ থেকে ৯ অক্টোবর সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কনস্যুলার সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরো পরিসর এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিস মাত্তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা, ইন্দোনেশিয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ওষুধজাত পণ্য আমদানির অনুরোধ, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের জন্য জি-টু-জি ব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পাটের ব্যাগ কেনা, বাংলাদেশি আলুর জন্য ইন্দোনেশিয়ার বাজার উন্মুক্ত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা শুরু করা।
৯ দিন আগে
রোহিঙ্গা সংকট এখন বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে জড়িত: ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক উদ্বেগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বৃহত্তর নিরাপত্তা ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিষয়ও জড়িত। সেই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আরও জোরালো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ার ও এমপি আফসানা বেগমের নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে এপিপিজির অব্যাহত আগ্রহের প্রশংসা করেন। প্রতিনিধিদলে হাউস অব লর্ডসের সদস্য শওকত আদম এমপি ও লর্ড কুরবান হুসেইনও ছিলেন।
এ সময় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংহতি ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে এপিপিজির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ততা তৈরিতে এপিপিজির সহযোগিতা চান।
প্রতিনিধিদলটি বুধবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে উল্লেখ করে এপিপিজির প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্দশা মোকাবিলায় তাদের সমর্থনের কথা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সোচ্চার থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিনিধিদলটি।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময় জোরদার গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সংহতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি কাজে লাগানো এবং মানবাধিকারের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করে এবং সংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চ্যানেলের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা-দিল্লি, চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার আশা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্ত্রণালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান।
হাইকমিশনারের সঙ্গে ‘খুব ভালো, আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। এছাড়া সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব। আর অবশ্যই, যখন একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীও সফর করতে পারেন...আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে পরে তা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘তাই আমরা যখন পরিবেশ অনুকূল হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সফর করব।’
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় হিসেবে নভেম্বর নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘অনেক গুঞ্জনই থাকে, কিন্তু আমি গুঞ্জন নিয়ে কথা বলি না। আমি বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি, আর বাস্তবতা হলো—আজকে আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’
সম্পর্ক ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’
অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাইকমিশনার বলেন, আমি আবারও বলছি, আমাদের আমন্ত্রণ খোলা আছে। আমার মনে হয় না, তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন আছে। সবকিছুই খুব ইতিবাচক। তবে আমাদের যথাযথ সময় দিতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতের সঙ্গে দূরদর্শী ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
অন্যদিকে ত্রিবেদী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরবর্তী যোগাযোগের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময় খুঁজে নেবে। তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই নিজেদের সুবিধাজনক মনে করবেন, তখনই বিষয়টি এগিয়ে যাবে। এ বিষয়ে তারা খুবই আত্মবিশ্বাসী।
নেতিবাচক কোনো কিছুর প্রশ্নই ওঠে না উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রশ্নই নেই। আমি ইতিবাচক, প্রতিমন্ত্রী ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের জনগণও ইতিবাচক। সবকিছুই সম্ভব।’
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশেরই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কাজ এগিয়ে চলছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তার সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি হুমায়ুন কবিরকে খুবই নীতিবান, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও খোলামেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাদের আলোচনা খোলামেলা ও ইতিবাচক হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ত্রিবেদী। তিনি জানান, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানোর একটি সুযোগ ছিল।
তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি খুশি। পাশাপাশি তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও আমার শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার চমৎকার বৈঠক হয়েছে।’
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় এবং নিউইয়র্কে সদ্য সমাপ্ত ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে ভারত আবারও জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নিতে চায়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করে দেশটি।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী সম্পর্ক চায়।
বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান মুখপাত্র।
জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে, গঠনমূলক দিকে এবং দূরদর্শী উপায়ে এগিয়ে নেওয়া।’
১৬ দিন আগে
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আলোচনা
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আলোচনা হয়।
এ সময় মন্ত্রীর কার্যালয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান হাইকমিশনার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থাকাকালীন তাদের আগের বৈঠকগুলোর কথা স্মরণ করেন হাইকমিশনার।
১৭ দিন আগে
বোয়িং চুক্তিতে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির পেছনে কোনো গোপন এজেন্ডা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমান চলাচলের কেন্দ্র হতে হলে আমাদের বহর সম্প্রসারণ করতে হবে। এর পেছনে কিছুই নেই...কোনো গোপন এজেন্ডাও নেই। বাংলাদেশ প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এটি করেছে। আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
এ সময় আন্তঃসরকারি সংস্থা অনুবিভাগের সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির দেশের বিমান চলাচল খাতের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি বহর রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘সফল ও অর্থবহ’ হিসেবে বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়।
চুক্তি সইয়ের কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বিশ্বের সেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোর আরও ১১টি কেনার চুক্তির জন্য বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি লাভজনক চুক্তি!
এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে সরকার। দুই পক্ষই তখন ঘোষণা দেয়, ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ।
১৭ দিন আগে
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ-কানাডার উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আশা
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দুই দেশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে তৈরি পোশাকের বাইরে হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কানাডায় বসবাসরত এক লাখের বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডার অব্যাহত সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যদিকে হাইকমিশনার মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনে কানাডার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু নেতৃত্ব ও জলবায়ু অর্থায়নে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন।
কানাডার হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে কৃষি খাতে সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এ সময় দুই পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করে।
উভয় পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে, বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে অব্যাহত রয়েছে।
২৫ দিন আগে
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরানোর আগ পর্যন্ত কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান থাকবে: শামা ওবায়েদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হচ্ছে এবং আরও নেওয়া হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলছে। এ নিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘রায়টা তো গতকালকেই হলো। সেইটার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিসিয়ালি যখন আমরা সব কাগজপত্র হাতে পাব, আমরা ডিউ প্রসেসে আমাদের যা যা করার প্রয়োজন, ভারত সরকারের সঙ্গে আমরা সেটা কমিউনিকেট করব।’
আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আমাদের আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা অবশ্যই সরকার নেবে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। তবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘তাদের দিক থেকেও একটা লিগ্যাল প্রসেস হয়তো আছে। তো সেই প্রসেসটা তারা চালাচ্ছে। এখন আমাদের এই কার্যক্রম চলমান থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি।’
ভুয়া নথি ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
এ সময় বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা ঠেকাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত ও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি মাইগ্রেশন সেল বা উইংও খোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি মূলত একটি ‘ব্রেইনস্টর্মিং সেশন’ ছিল উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে যেতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ভুয়া ও বিভিন্ন ধরনের নথির আশ্রয় নেন। কীভাবে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো কীভাবে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
‘আমরা চাই যে আরও বাংলাদেশি ভাইয়েরা স্কিলড প্রক্রিয়ায়, স্কিলড লেবার বিদেশে যেতে পারে লিগ্যাল প্রক্রিয়ায়। তো সেই জায়গাটা যাতে সুগম হয়, সেটা অ্যাচিভ করার জন্যই কিন্তু এই পদক্ষেপগুলো আমরা নিচ্ছি,’ বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিকের বিভিন্ন তথ্য একটি ডেটাবেসে একীভূত হলে ভুয়া নথি ব্যবহার এবং দালালচক্রের তৎপরতা আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ওই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যাতে সঠিক নথি নিয়ে বিদেশে যান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে একটি ফোকাল পয়েন্ট করা হয়েছে। বৈঠকে পাসপোর্ট অফিস, ইমিগ্রেশন, পুলিশ, এসবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো নিয়ে ‘দাপ্তরিক বিবৃতি’ ছাড়া সংবাদ না করার অনুরোধ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের অ্যাগ্রিমো গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ‘ডেফিনেট স্টেটমেন্ট’ না আসা পর্যন্ত এসব খবরের আমল না দিতে তিনি অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার একটাই বক্তব্য—বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনো ডেফিনেট কোনো স্টেটমেন্ট না আসা পর্যন্ত এসব নিউজের আমল না দিতে আমি অনুরোধ করব এবং নিউজ না করারও অনুরোধ করব।’
২৯ দিন আগে