পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারা জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে
এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’
ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’
সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।
১ দিন আগে
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক
সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তারা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
গতকাল (রবিবার) রিয়াদের মুসা সানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তায় দূতাবাস প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদানুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
৪ দিন আগে
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের শোষণে জড়িত সিন্ডিকেট দমনে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অসাধু সিন্ডিকেট ও দালাল চক্র দমনে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফএসিডি-সিএবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ১৪তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আপনাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে অনেক অসাধু চক্র থাকে বা দালাল চক্র থাকে যারা আমাদের ছেলেমেয়েদের এডভান্টেজ নেন এবং অত্যন্ত চড়া মূল্য দিয়ে তাদেরকে বিদেশে যেতে হয়। সেই জায়গাটায় অবশ্যই সরকার সচেতন আছে, সরকার কাজ করছে এবং আপনারা যদি তথ্যগুলো দিয়ে আমাদেরকে সাহায্য করেন কারণ আমাদের প্রায়রিটি, কারণ আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটা মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে।
‘মাইগ্রেশন সোল রেসপন্সিবিলিটি হচ্ছে যে আমাদের দেশ বাংলাদেশিদের সকল প্রকার মাইগ্রেশনের প্রবলেমগুলো অ্যাড্রেস করা। আপনারা যদি আমাদেরকে এই তথ্যগুলা দিয়ে সাহায্য করেন, কারণ আমরা যৌথভাবে কোলাবোরেটলি আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই দালাল চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে এবং আমাদের ইউনাইটেডলি কাজ করতে হবে এই যারা অসাধুভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে।
‘তো সেই কাজটা কিন্তু আপনারাও সরকারকে তথ্যগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি যে আপনারা যদি সঠিক তথ্য দেন এবং আমরা যদি সে তথ্য যদি প্রমাণিত হয় তাহলে অবশ্যই সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উন্নত সেবা দিতে এফএসিডি-সিএবি-কে সহযোগিতা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
সমস্যা সমাধান ও দাবি পূরণের লক্ষ্যে বিষয়গুলো যাতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা যায় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে—সেজন্য এফএসিডি-সিএবি-কে তাদের দাবি ও সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে শিক্ষার্থীরা যাতে দেশে ফিরে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির গুরুত্বের ওপর জোর দেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, সরকার চায় শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করুক এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
শিক্ষাকে কূটনীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের মধ্যে শিক্ষাগত ও গবেষণা অংশীদারত্বকে উৎসাহিত করা অব্যাহত রাখবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপন, একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৈধ স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বশেষ বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে।
শিক্ষা পরামর্শক, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই ফ্ল্যাগশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষা মেলা শুরু হয়।
চলতি বছর এই মেলায় বিশ্বের প্রায় ৩০০টি বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরামর্শ সেবা দেওয়ার জন্য ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, টিউশন ফি, ভিসা প্রসেসিং ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন।
৭ দিন আগে
বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দোষ অস্বীকার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ভাষায় তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি। এর আগেও আমরা বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাউ (অনুমোদন) করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘এক্সট্রিমিজম’ ও ‘টেররিজম’-এর একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জঙ্গিবাদের তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল। এখন তারা বিদেশের মাটিতে বসেও সেই একই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
‘তবে এটা ভারত এলাউ করবে কি করবে না, সেটা ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’, বলেন তিনি।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের বয়ান দেশি-বিদেশি কেউ বিশ্বাস করেনি, এখনও বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আন্তর্জাতিক মহলে মনোযোগ আকর্ষণের একটি পুরোনো রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।’
আওয়ামী লীগের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সময় নীরব ছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা শোনা ‘হাস্যকর’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭-১৮ বছরে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেটি আবার ফিরে আসুক—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই সম্পর্ক উন্নত হোক—এটাই চায়। ‘কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি, জ্বালানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। ‘আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এ ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে যোগ দেবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো একটি জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি সহযোগিতা আছে, পানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, সীমান্ত ইস্যু আছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। এই সংলাপ চলবে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন একটি বিষয়, যা ‘জুলাই যোদ্ধা’, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
‘যেটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি সাধারণ গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে—তাদের আহত করে। সেই জায়গাটায় ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে এবং এ বিষয়ে তাদের খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকুক, কারণ সেটি জনগণের স্বার্থে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং উভয় দেশের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে। ভারত যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সেটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
৮ দিন আগে
দক্ষ জনশক্তি নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরব বাংলাদেশের মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সৌদি সরকার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করাই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সরকারের ওপর সৌদি সরকারের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, সৌদি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে তাদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশও সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের আগ্রহ রয়েছে। দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে আলোচনার ভিত্তিতে অবশ্যই সেই সফর হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, খুব শিগগিরই সৌদি আরবে বিনিয়োগবিষয়ক একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে রাজনৈতিক পরামর্শ সভা এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় সেখানে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সৌদি সরকার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট বা অন্যান্য কনস্যুলার-সংক্রান্ত বিষয় এ বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল না।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কনস্যুলার ও পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা বিভিন্ন দেশেই রয়েছে। জেদ্দা ও রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।’
সৌদি আরবে প্রায় ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের মিশন কাজ করছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সৌদি আরবে আমাদের মিশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি প্রতিনিধি দল বারবারই জোর দিয়েছে যে তারা শুধু একটি খাতে নয়, বরং বহুমুখী ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, এই সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১০ দিন আগে
শেখ হাসিনা রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে কি না, ভারত সরকারকেই তা স্পষ্ট করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশে বসে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে চায় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন সেই সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেটিই প্রত্যাশা।
সোমবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজক ক্লাবের সভাপতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এতে ভারত সরকারের কোনো আপত্তি নেই—এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান। তিনি কোথায় কী বলছেন, সেটির জবাব দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের কাজ নয়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে ভারতে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে এবং এমন কর্মকাণ্ডকে তারা সমর্থন করে না। এখন আলোচিত অনলাইন অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিরা যদি রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো ষড়যন্ত্রে জড়ান, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে এবং দুই দেশ ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করছে। সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা আমরা চাই না এবং আমার গভীল বিশ্বাস, ভারতও তা চায় না।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে সরকার কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
তিনি আরও জানান, অতীতেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও যোগাযোগে বাংলাদেশ এ বিষয়টি একাধিকবার ভারতের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে তুলে ধরেছে। তাদের সঙ্গে যখনই আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, মতবিনিময় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা আমাদের তরফ থেকে পরিষ্কার করছি। সুতরাং যেহেতু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রিত, তাই এ বিষয়ে ভারত সরকারকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
এ ধরনের কর্মসূচি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মানুষ কেউই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। বরং সম্পর্ক আরও উন্নত হোক, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। ভারতও সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার অবস্থান
ভারতের সংসদীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। মন্ত্রণালয়ে এসে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে। ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।
ব্রিকস সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পরে ব্রিকস সম্মেলনেও যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় সফর করবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি যথাসময়ে নেবেন।
ব্রিকসের আমন্ত্রণটি নরেন্দ্র মোদি ব্রিকসের চেয়ারম্যান হিসেবে দিয়েছেন, নাকি ভারত সফরের আমন্ত্রণও ছিল—এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি এখন আলোচনার বিষয় নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে চলমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেকোনো দেশের প্রতিনিধিদল এলে সরকার তা স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার কাজ করবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংলাপেরই অংশ। অতীতেও এ ধরনের আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে (সিভিল নিউক্লিয়ার) সহযোগিতা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হলে সরকার তা এগিয়ে নেবে, অন্যথায় পুনর্বিবেচনা করবে।
মুসলিম দেশগুলোর জোটে নীতিগত সমর্থনের ব্যাখ্যা
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মুসলিম দেশগুলোর সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ওআইসি ও বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার নীতিগতভাবে এ জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে কী মাত্রায় সম্পৃক্ততা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো বিশদ সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
১১ দিন আগে
এমন কোনো সমস্যা নেই যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও অগ্রগতি হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।’
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না—এমন কোনো সমস্যা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’
১৬ দিন আগে
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সরকার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছে এবং অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে, তারা কীভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এটি একটি চলমান আলোচনা। অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কাজ করছে।’
তিনি বলেন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী, স্টেকহোল্ডার ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় আজকের রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্থ উপদেষ্টা, বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, এখানে মূলত আলোচনা হয়েছে, আমাদের কী কী সমস্যাগুলো আছে; আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে বিলম্ব (ডেফারমেন্ট), আমাদের পুঁজিবাজার, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, এখানে সহজে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্নভাবে যে ধরনের সমস্যা এখানে মোকাবিলা করতে হয়, সেগুলোর সমাধানে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন সমস্যা, আলোচনা ও পরামর্শগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে সমাধানের দিকে এগোনো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার ও বিভিন্ন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে একটি গতিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সৃজনশীল অর্থনীতি, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোনে যখন বিনিয়োগ হবে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কী কী ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, কী কী ধরনের প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে যাতে তারা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারেন, সেইসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে আমরা যখন ক্রিয়েটিভ ইকোনমির (সৃজনশীল অর্থনীতি) কথা বলছি, সেখানে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আমাদের কুটির শিল্প, আমাদের কৃষ্টি, কালচার—এখানেও কিন্তু অর্থনৈতিক বিনিয়োগের একটা বিশাল সুযোগ আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতেও বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ক্রীড়া কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের আপামর জনতা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আমাদের নারী সমাজ—প্রত্যেকেই এই অগ্রগতি, এই উন্নয়নের অংশ হবে, সেটি বাস্তবায়ন করাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ।
ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘অবশ্যই, অবশ্যই! ব্লু ইকোনমি নিয়ে কথা হয়েছে, ব্লু ইকোনমি তো ওয়ান অব দ্য প্রায়োরিটিজ (অন্যতম অগ্রাধিকার)। ব্লু ইকোনমিতে আমরা ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) চাই; বিভিন্ন ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলো আমাদের ব্লু ইকোনমিতে ইনভেস্ট করতে চাচ্ছে এবং সেটার অনেক সুযোগও আছে বাংলাদেশে। তো সেগুলো নিয়েও আমাদের কথা হচ্ছে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য এ ধরনের রাউন্ড টেবিল বৈঠক আরও আয়োজন করা হবে।
আগামী ছয় মাস বা এক বছরে কত বিনিয়োগ আসতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিনিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া; এর জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া তো ইতোমধ্যে চলছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে যে তারা বিভিন্ন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী বিডার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশই কিন্তু বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে। তারা বিনিয়োগের ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট দিয়েছেন, উনি কিন্তু বলেছেন যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা অর্থনীতি আমরা অর্জন করতে চাই; সেটি আমাদের লক্ষ্য। সেই অর্থনীতি বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের যে ধরনের বিনিয়োগ দরকার, সেই ধরনের বিনিয়োগ আমরা আনার চেষ্টা করছি। সেই কাজ চলছে।
১৯ দিন আগে
ভিসা জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে সরকার: শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আমাদের ভিসার যে অবনমন ঘটেছে এবং সেটার জন্য আপনারা অনেকগুলো দিন সময়ও পেয়েছেন। কিন্তু আমাদের ভিসা-পাসপোর্টের মান এত নিচে রয়েছে যে অনেক দেশের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সাংবাদিকরা তা জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা মাত্র সাড়ে চার মাস হলো সরকার গঠন করেছি। এর আগ থেকেই ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ছিল।’
তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা বন্ধ রয়েছে এবং এ বিষয় সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ভিসা বন্ধ থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অনেক বাংলাদেশি বৈধ পথের পরিবর্তে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে জাল বা ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করেন। এসব সমস্যাও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছি।’
তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা-সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছি।’
২২ দিন আগে
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এটি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হলো কি না—জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হয়েছে। যেহেতু তিনি পলাতক আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা সেটাই দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এটা আমরা বারবার বলেছি আগেও যে, কূটনীতিতে যে নর্মস (রীতি) আছে, যে প্রটোকল আছে, সেই প্রটোকল অনুযায়ী, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান কামালকে (খানকে) দেশে ফিরিয়ে এনে উনার বিচারও সম্পন্ন করা হবে; ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের বিচার হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে বিচার চলাকালে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আলাদা করে আর কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে আসাদুজ্জামান খানকে চেয়ে চিঠি কবে পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন, আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগগুলো নেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কূটনীতি অনুযায়ী আমরা সেই কাজগুলো করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া যে, যারা পলাতক আসামি, যাদের বিচার হয়ে গেছে, সাজা হয়ে গেছে—তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার হবে এবং জনগণও সেটা আশা করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই যে একটা সুষ্ঠু বিচার হোক এবং সেই প্রক্রিয়াটা সরকারের পক্ষ থেকে চলমান থাকবে। চিঠি দেওয়া হলো; এখন জবাব আসা, এরপর কী করব, না করব—সেগুলো তো ভারত সরকারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি গেছে, আমরা অপেক্ষা করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবশ্যই আমরা আশা করব যে, ভারত ইতিবাচক জবাব দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, সেটাকে জোরদার করার লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে যা দায়িত্ব, সেটা তারা পালন করবে।
ভারতে পলাতক থাকা অন্যদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন চিঠি যায়। যারা আসামি, যারা পলাতক আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা চিঠি দিচ্ছি।
গত ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে ফের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তার প্রত্যর্পণ চাওয়া অব্যাহত রাখব। বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
২৫ দিন আগে