পানিতে ডুবে মৃত্যু
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মাত্র ৫ ডুবুরি, এক মাসে পানিতে ডুবে অর্ধশতাধিক প্রাণহানি
নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিলবেষ্টিত রংপুর বিভাগের আটটি জেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। বিশাল এ অঞ্চলের জন্য এ সংখ্যা শুধু অপ্রতুলই নয়, বরং উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিভাগের কোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির নির্দিষ্ট কোনো পদ নেই। ফলে পানিতে ডুবে কেউ নিখোঁজ হলে রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের এই পাঁচ ডুবুরির ওপরই নির্ভর করতে হয় পুরো বিভাগের মানুষকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসেই রংপুর বিভাগের আট জেলায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু ডুবুরি সংকটের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই নিভে যাচ্ছে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।
রংপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও—এই আটটি জেলা ভৌগোলিকভাবে নদীমাতৃক অঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি, নৌকাডুবি, বন্যা ও বিভিন্ন জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখানে বেশি। কিন্তু সেই ঝুঁকির তুলনায় উদ্ধার সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চগড় কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে জরুরি কল এলে রংপুর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ২২টি উদ্ধার-সংক্রান্ত কল পেয়েছে বিভাগীয় ডুবুরি দল। এসব ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
গত এক মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৩ মে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নীরব নামে তিন বছরের এক শিশু, ১২ মে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশু, ১৬ মে তিস্তা নদীতে ডুবে দুই ভাই, ২০ মে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাবিয়া জান্নাত (৬) ও সিয়াম (৪), ২৭ মে গঙ্গাচড়ায় রুশা মনি (১৫) ও তার ভাই সাইফ (৫), ২৮ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মোমিন আলী, ২৯ মে রংপুরের তারাগঞ্জে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬), ৩ জুন দিনাজপুরের খানসামায় আত্রাই নদীতে মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২), ৩১ মে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে চার বছরের এক শিশু, ১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সৃজন কুমার (৬) ও বৃন্দা রানী (৫) এবং ৬ জুন সাদুল্লাপুরে সিনথিয়া আক্তার (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়।
এছাড়া ৩ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে রংপুরের পীরগাছায় ছয় শিশু, ৫ জুন ঘাঘট নদীতে নেমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, ৭ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলায় দুই মাদরাসাছাত্র এবং একই দিনে নীলফামারীর ডিমলায় রুপাইয়া (৪) ও আশফিকা (৪) নামে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৭ জুন লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ২৫ সদস্যের একটি ডুবুরি ইউনিট গঠনের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পদায়ন করা হয়। সে সময় রংপুরে দুইজন ডুবুরি দায়িত্ব পান। প্রায় তিন দশক দুই ডুবুরি দিয়ে কাজ চালানোর পর ২০১৯ সালে আরও তিনজন যোগ দিলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। এরপর আর কোনো জনবল বাড়েনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও ডুবুরি সংকট কাটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, পানি বহনকারী গাড়ি, ফোম টেন্ডার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির কোনো পদ সৃষ্টি না হওয়ায় সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে।
বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত ডুবুরি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে কল এলে রংপুর থেকে যেতে অন্তত দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা প্রশ্ন করেন, এত দেরি হলো কেন। কিন্তু দূরত্বের বাস্তবতা তো অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি জানান, অনেক সময় পঞ্চগড়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ শেষ করে গাইবান্ধায় যেতে হয়। আবার সেখান থেকে লালমনিরহাট বা অন্য জেলায় ছুটতে হয়। কখনও টানা পাঁচ থেকে সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় উদ্ধার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ডুবুরির সংখ্যা বাড়লে এ ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
রংপুর নগরীর কটকিপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পঞ্চগড়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে রংপুর থেকে ডুবুরি পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ সময়ে একজন মানুষের পানির নিচে বেঁচে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে ডুবুরিরা গিয়ে কেবল মরদেহ উদ্ধারের কাজই করতে পারেন। এ অবস্থায় ডুবুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট অযৌক্তিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবুরি সংকটের পাশাপাশি সচেতনতার অভাবও পানিতে ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। শিশুদের একা না রাখা, জলাশয়ের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো এবং সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাঁতার না জেনে পানিতে নামা উচিত নয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের কোনো অবস্থাতেই একা ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় পানির নিচে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয় না। রংপুর বা অন্য জেলা থেকে ডুবুরি আসতে যে সময় লাগে, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তার মতে, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ ডুবুরি ইউনিট থাকা প্রয়োজন, যেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত ডুবুরি থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা জরুরি। অন্যথায় ডুবুরি সংকটের এই মূল্য রংপুরবাসীকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হবে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডুবুরিদের কোনো জেলা পর্যায়ের পদ নেই। তারা বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত থাকেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান জনবল দিয়ে এত বড় অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ডুবুরি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জেনেছেন।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বারবার ডুবুরি চেয়ে অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এখনও সংকট কাটেনি। তবে আশা করছি, খুব দ্রুতই নতুন ডুবুরি পাওয়া যাবে।’
৭ দিন আগে
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু
রংপুরে পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে দুই শিশু ও এক কলেজ শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জেলার পীরগাছা উপজেলা এবং রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন—পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের নজর মাহমুদ গ্রামের সজিব মিয়ার ছেলে রাজীব মিয়া (৬), একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে সেনাতুল আক্তার (৪) এবং রংপুর নগরীর দর্শনা সূত্রাপুর এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব (২৬)। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে রাজীব ও সেনাতুল বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর পানবাড়ি এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘাঘট নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন কলেজ শিক্ষার্থী সিহাব। পরে নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার আব্দুল মাবুদ নদী থেকে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৪ দিন আগে
রংপুরে পুকুরে গোসলে নেমে প্রাণ গেল দুই কিশোরের
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঠালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— উপজেলার কাঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) ও সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে চার বন্ধু একসঙ্গে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। তাদের মধ্যে তামিম ও সাদমান সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু চিৎকার শুরু করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান বলেন, ‘তারা সব সময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত। বিকেলে গোসল করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।’
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহিন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দুই কিশোরের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার বলেন, তাদের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
২৮ দিন আগে
নাটোরে পুকুরে ডুবে ২শিশুর মৃত্যু
নাটোরের বড়াইগ্রামে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্নকলস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— ওই গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র প্রবাসী রাজু আহমেদের ছেলে নুর মোহম্মদ এবং তার চাচাতো ভাই তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ঢাকায় কর্মরত পিন্টু আহমেদের ছেলে আরাফাত।
স্থানীয়রা জানান, নুর মোহম্মদ ও আরাফাত আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। অনেক খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়রা পুকুরে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে পানির নিচে তলিয়ে থাকা অবস্থায় উভয় শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় ক্লিনিকে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবার দুটি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ মন্ডল।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।
৩১ দিন আগে
চট্টগ্রামে পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে সাকি (৮) ও সানজিদা (১১) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলিম বাপের বাড়ির হাবিবুর রহমানের মেয়ে। নিহত সানজিদা একই বাড়ির জাকির হোসেনের মেয়ে।
এ বিষয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জানান, বাড়ির পাশে ইটভাটার মাটি কাটার পানিভর্তি গর্তে পড়ে দুই শিশু নিহত হয়েছে। একজন পানিতে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনই মারা যায়।
৭৫ দিন আগে
রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুকুরে ডুবে শিক্ষার্থী নিহত
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সাকিবুল হাসান (১৪) নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক থেকে নিহত সাকিবুলের বাবা আব্দুল করিম জানান, আমার ছেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে বন্ধুদের সঙ্গে রাজারবাগ পুলিশ লাইন পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার নাই গাড়ি গাড়ি এলাকায়। বর্তমানে অমি শান্তিবাগে পরিবার নিয়ে থাকি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৭৬ দিন আগে
মাদারীপুরে এক দিনে পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মাদারীপুরের শিবচর ও কালকিনি উপজেলা থেকে একই দিনে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই পানিতে ডুবে নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবারের (২ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনাদুটির একটি ঘটনা ঘটেছে শিবচর পৌরসভার ডিসি রোড এলাকায়, অন্যটি কালকিনি উপজেলার চরফতেপুর বাহাদুর এলাকায়।
গতকাল দুপুরে শিবচরের ডিসি রোড এলাকার মাওলানা রফিকুল ইসলামের স্ত্রীকে অজ্ঞান করে তিন মাস বয়সী শিশু মারিয়ামকে দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
শিশুটির মা কানন বেগম বলেন, দুপুরে মারিয়ামকে নিয়ে ঘর থেকে রাস্তায় এলে তাকে অজ্ঞান করে দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ঘণ্টা খোঁজ করে বাড়ি পাশের পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশু নিহত
শিশুটির বাবা মাওলানা রফিকুল জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর মাথায় সমস্যা রয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখেন। সেখানে দেওয়া যায়, মা কানন বেগম বাচ্চা নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন এবং পরে একা ঘরে ঢুকছেন। পরে পুলিশ তিন ঘণ্টা খোঁজ করে সন্ধ্যায় পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, কালকিনির চরফতেপুর বাহাদুর এলাকার একটি খালে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মঙ্গলবার ওয়ালিদ (৩) নামে আরেকটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারে সদস্যরা জানান, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ির পাশে খালের কাছে খেলতে গিয়ে পরিবারের অলক্ষে পানিতে পরে ডুবে যায় ওয়ালিদ। এরপর কালকিনি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের লোক ও ডুবুরি দিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
কালকিনি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৮৯ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নদীতে ডুবে তানিশা মনি (৫) ও তাবাসসুম (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধায় উপজলার গোয়লনগর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তানিশা মনি কদমতলী গ্রামের জুনায়েদ মিয়ার এবং তাবাসসুম একই গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় কদমতলী গ্রামের নদীতে এখন থৈ থৈ পানি। শনিবার বিকেলে দুই শিশু বাড়ির পাশে খেলা করছিল। পরিবারের অজান্তেই তারা বাড়ির পাশে নদীর পানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও দুজনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে বাড়ির পাশে নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরীন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৩১৩ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্রে নৌকাডুবি: নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদি ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামের তিন শিক্ষার্থী মাদরাসায় যাওয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছেন নিহতের স্বজনরা।
বুধবার (২ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার ১৫ নম্বর টাংগাব ইউনিয়নের বাঁশিয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের দিকে দুই শিশু লাশ ভাসতে দেখে স্বজনরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরফরাদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান।
তিনি জানান, ভোরে নিহতের স্বজনরা নৌকা নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ আবির (৭) ও জুবায়েদকে (৬) খুঁজতে বের হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এলাকায় দুজনের লাশ নদে ভাসতে দেখেন। পরে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
এর আগে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে ৯ শিক্ষার্থী একটি ছোট নৌকায় করে ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে মাদরাসায় যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দত্তের বাজার-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে নৌকাটি ডুবে যায়। এর মধ্যে ৬ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তিনজন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালালেও তাদের খোঁজ মেলেনি।
এ সময় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী চর আলগী গ্রামের মাইনুদ্দিনের মেয়ে শাপলা আক্তারকে (১৪) ঘন্টাখানেক পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিল একই গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে আবির ও মুমতাজ উদ্দিনের ছেলে জুবায়েদ। তারা তিনজন বিরুই নদীরপাড় দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী।
ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর তাদের দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে স্বজনরা।
৩৫২ দিন আগে
গোপালগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
গোপালগঞ্জের পানিতে ডুবে ওমর ফারুক (২) ও নুসরাত খানম (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলার চৌরখুলী ও হিজলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শিশু ওমর ফারুক উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামের জসিম শেখের ছেলে এবং নুসরাত খানম একই উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের মশিউর হাজরার মেয়ে।
নিহত ওমর ফারুকের দাদা জেহারুল শেখ বলেন, ‘আমার নাতি ওমর ফারুককে বাড়ির উঠানে বসিয়ে রেখে ওর মা পুকুর ঘাটে জামাকাপড় ধুতে যায়। কিছু সময় পরে আমরা ওমর ফারুকে উঠানে দেখতে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গা খোঁজাখুঁজি করি। এ সময় পরিবারের লোকজন বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরের পানিতে ওমর ফারুকে ভাসতে দেখতে পায়। এরপর তাকে পুকুর থেকে তুলে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
নুসরাত খানমের বাবা মশিউর হাজরা বলেন, ‘বাড়ির পাশে ভেকু মেশিন দিয়ে মাছের ঘের কাটা হচ্ছিল। ভেকু মেশিন দেখতে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে আমার মেয়েও সেখানে যায়। পরে সে একা একা বাড়ি ফিরছিল। পথে পাশের বাড়ির বিজয় মাস্টারের মাছের ঘেরের সামনে পৌঁছালে পা পিছলে ঘেরে পড়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘পাশের বাড়ির শিশু জোনায়েদ নুসরাতকে পানিতে পড়া দেখেতে পায় এবং আমাদের বাড়ি এসে খবর দেয়। আমরা দৌড়ে গিয়ে মাছের ঘের থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’
এ ঘটনায় উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
৪৩৪ দিন আগে