পানিতে ডুবে মৃত্যু
চাঁদপুরে পুকুরের ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
চাঁদপুরের কচুয়ায় খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উজানী গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রহিম হোসেনের মেয়ে সাদিয়া (১০) ও বিল্লাল হোসেনের মেয়ে সামিরা (৮) সম্পর্কে বোন। সামিরা চট্টগ্রাম থেকে পূজার ছুটিতে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্বজনরা জানান, দুপুর ১টার দিকে সাদিয়া ও সামিরা বাড়ির উঠানে খেলছিল। পরে তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে দুই শিশুর দেহ ভাসতে দেখেন তারা।
এরপর তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বিকেল ৩টার দিকে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো মামলা হয়নি।’
১২ ঘণ্টা আগে
ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে হুমায়রা (৩) ও নাহিয়ান (৪) নামের দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়রা ওই গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে এবং নাহিয়ান আশিকুরের ভাই বাবুর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের মতো এদিন দুপুরেও দুই শিশু বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে হুমায়রা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে নাহিয়ানও পানিতে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে তাদের ভেসে উঠতে দেখেন স্বজনরা।
দুই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাড়ির কোলঘেঁষা পুকুরপাড়ে নিষ্পাপ দুটি শিশু খেলতে গিয়ে যে এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুই অবুঝ সোনামণির এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো যাদবপুর গ্রাম আজ শোকস্তব্ধ।’
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
৫ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে নানাবাড়িতে পুকুরে ডুবে যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে তানিশা (৮) ও রায়হান (৮) নামের যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার চসীমউদ্দীন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুরা কুয়েত প্রবাসী শরীফ মিয়ার সন্তান। তারা রাজধানীর ডেমরা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত।
শিশুদের নানা কাশেম মিয়া বলেন, গতকাল (শনিবার) তারা আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। আজ (রবিবার) দুপুরে সবার আড়ালে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় দুই ভাই-বোন। অসাবধানতাবশত হঠাৎ একজন পুকুরে পড়ে গেলে অপরজন তাকে হাত বাড়িয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাদের ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
২১ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দায় ডুবে ২ তরুণের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই তরুণ মারা গেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মহিপুর ভাটোপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে সুজন (১৮) ও একই এলাকার সুবাহানের ছেলে আহমেদ (১৯)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ (রবিবার) দুপুর পৌনে ২টার দিকে সুজন ও আহমেদ মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে যান। ঘটনাটি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
২১ দিন আগে
পাবনায় মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
পাবনা সদর উপজেলায় বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতে নেমে ডুবে ৩ শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো— দাশপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬) এবং একই গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭)। তারা সবাই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, আজ (শুক্রবার) দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে সুমি, খালিদ ও আফিয়া গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে এক শিশু ডুবে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর দুজনও তলিয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের সন্ধান চালান। সন্ধানের এক পর্যায়ে তাদের সেখানে দেখতে পান তারা। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশু তিনটির মৃত্যু হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম খবর নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
নেত্রকোণায় জেলের জালে উঠল শিশুর মরদেহ
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে খালের পানিতে ডুবে আলী (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিখোঁজের পর জেলেদের জালে তার মরদেহ উঠে আসে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আলী ওই গ্রামের আশিকুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা-বাবা দুজনই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। আলী গ্রামে দাদা আবু তাহেরের কাছে থাকত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির পাশে সাপমরা খালে যায় আলী। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জেলেরা খালে জাল ফেললে সেই জালে আলীর মরদেহ উঠে আসে।
স্থানীয়রা জানান, আলীর মৃগীরোগ ছিল। খালে নামার পর হঠাৎ ওই রোগের কারণে সে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর মিয়া বলেন, আলীর মা-বাবা ঢাকায় থাকায় সে দাদার কাছে থাকত। মুখ ধোয়ার জন্য খালে গেলে মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে সে পানিতে তলিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৮ দিন আগে
দেড়শ কিলোমিটার দূরে ডুবুরি, কুষ্টিয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে
নদীতে কেউ নিখোঁজ হয়েছেন। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিসের দল। কিন্তু শুরু করা যাচ্ছে না উদ্ধার অভিযান। কারণ, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসে নেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি। প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরত্বের খুলনা থেকে ডুবুরি দল আসার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যাতে সময় লেগে যায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
নদীবেষ্টিত কুষ্টিয়ায় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। পদ্মা, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, হিসনা, কালীগঙ্গা, কুমার ও সাগরখালীসহ জেলার ওপর দিয়ে ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত আটটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এসব নদীর সঙ্গে জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ নদীতে দুর্ঘটনা বা কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য কুষ্টিয়াকে নির্ভর করতে হয় খুলনার ওপর।
এর ফলে দুর্ঘটনার পরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টা কেটে যায় শুধু ডুবুরি দলের অপেক্ষায়। এতে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যেমন কমে, তেমনি মরদেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। কোনো কোনো ঘটনায় স্বজনদের এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সেই চিত্রই সামনে এনেছে। শুধু আগস্ট মাসেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন নদীতে ডুবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত ঘাটে পদ্মা নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ বছরের মাদ্রাসাছাত্র মোস্তাকিম হোসেন। স্থানীয়রা আরেক শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করলেও মোস্তাকিমকে সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়ায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় ব্যাহত হয় উদ্ধার অভিযান। পরে খুলনা থেকে ডুবুরি দল পৌঁছালে পরদিন সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার আগে ৫ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর পাড় ধসে নদীতে পড়ে যায় পাঁচ বছরের নূরী খাতুন ও আট বছরের জামিলা খাতুন। স্থানীয়রা জামিলাকে জীবিত উদ্ধার করলেও নূরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয় পরদিন মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে।
১৪ আগস্ট কুমারখালীর শিলাইদহ পদ্মা নদীর ঘাটে নিখোঁজ হয় আট বছরের শিশু আলিফ হোসেন। একই দিন সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর ২৪ আগস্ট কুমারখালী পৌরসভার এম এন বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে গড়াই নদীতে ডুবে মারা যান জেলে পরিমল মণ্ডল (৩৮)।
শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এসব ঘটনায় উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছালেও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেন না। স্থানীয়রা নৌকা, জাল কিংবা দেশীয় উপকরণ নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব ব্যবস্থা প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জামের বিকল্প নয়।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেনের বক্তব্যে সমস্যাটির প্রশাসনিক দিকটিও উঠে এসেছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে নৌ-দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। জেলা পর্যায়ে আলাদা ডুবুরি দল না থাকায় বিভাগীয় শহর খুলনার ওপর নির্ভর করতে হয়। খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
ওয়াদুদ হোসেন বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুলনার ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয়। জেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ডুবুরি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, সমস্যাটি যে নতুন নয়, তা ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব বক্তব্যেই স্পষ্ট। ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথ, নিয়মিত দুর্ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের দাবির পরও কুষ্টিয়ায় কেন স্থায়ী ডুবুরি দল গঠন হয়নি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সামাজিক সংগঠন ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাহাব উদ্দীন মিলন বলেন, ‘যে জেলায় পদ্মা ও গড়াইয়ের মতো প্রমত্তা নদী রয়েছে, সেখানে স্থায়ী ডুবুরি দল না থাকা হতাশাজনক। অবিলম্বে কুষ্টিয়া জেলায় স্থায়ী ডুবুরি দল নিয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ফায়ার স্টেশনে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা দরকার।’
পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে কেউ নিখোঁজ হলে স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শঙ্কায় থাকেন, অন্যদিকে কখন উদ্ধারকারী দল আসবে, সেই অপেক্ষাও করতে হয়। স্থানীয়রা নৌকা, জাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও আধুনিক সরঞ্জামের বিকল্প তারা হতে পারেন না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোমিন ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে। কিন্তু দূরের জেলা থেকে ডুবুরি দলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’
মোস্তাকিমের মা শিউলি খাতুনের আহাজারিতেও সেই অপেক্ষার অসহায়তা ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমার ছাওয়াল ছুটির দিন বন্ধুগোরে সাথে নদীর পাড়ে খেলতে যায়ে ডুবে গেল। এখনও ছাওয়ালটার খোঁজ পালাম না। খুলনা থেকে লোক আসপে, তারপরে উদ্ধার হবে—এই অপেক্ষা করতি হচ্ছে।’
কুষ্টিয়ার মতো নদীবেষ্টিত একটি জেলায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানের প্রথম কয়েক ঘণ্টাই যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দেড়শ কিলোমিটার দূর থেকে ডুবুরি দলের আসার ওপর নির্ভরতা কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। আর ততদিন নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় স্বজনদের অপেক্ষার সময়টিই হয়ে থাকছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।
৪৫ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশু নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশু নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো— চর চাকলা এলাকার মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১০) ও আরিফা (৮), নেজাম উদ্দিনের দুই মেয়ে সুরাইয়া (৯) ও সুমাইয়া (১১) এবং অপরজন হলো শরিফুল ইসলামের মেয়ে সরিফা (১১)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দেবীনগর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা এলাকায় মরা পাগলা নদীতে গোসল করতে নামে বেশ কিছু শিশু। গোসলের এক পর্যায়ে পাঁচ শিশু পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা নদীতে তল্লাশী চালিয়ে একে এক ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৫১ দিন আগে
ময়মনসিংহে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরো পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো: সতেরো পাড়া এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারহান (৪) ও আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. মাশরাফি (৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করেছিল ফারহান ও মাশরাফি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর শিশুদের দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই শিশুর এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
৬২ দিন আগে
চুয়েট ক্যাম্পাসে পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত
চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ২৪তম ব্যাচের অর্ণব চন্দ (২২) ও শান্ত দেব (২৩)। তাদের দুইজনের বাড়ি সিলেট বলে জানা গেছে। নিহত অর্ণব চন্দ কম্পিউটার সায়েন্স এবং শান্ত দেব ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে ফুটবল খেলা শেষে হলের পুকুরে তারা গোসল করতে যান। তবে সাঁতার কাটতে গিয়ে তারা পুকুরের মাঝ অংশে ডুবে যান। ডুবে যাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে অর্ণবকে এবং প্রায় ৪৫ মিনিট পর শান্তকে উদ্ধার করা। পরে চট্টগ্রাম শহরের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দুজনকেই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তাদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে ওই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা (২২)।
৬৭ দিন আগে