অটোরিকশা
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক শিশুসহ আরও চার যাত্রী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন: সোনিয়া আক্তার (৩০) ও সাদেক আলী (২৭)। সাদেক আলী ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে, আর সোনিয়ার বাড়ি একই উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামে। তারা দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন জানান, দুর্ঘটনায় সোনিয়ার ছেলে সাজিদ (৬) ও অটারিকশার চালক হারুন গুরুতর আহত হয়েছে।
সাদেক আলীর এক স্বজন জানান, সাদেকের এক আত্মীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাদেক তাকে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড় পৌঁছালে একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সোনিয়া নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুসহ বাকীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪ দিন আগে
সরকার ৩ চাকার বৈদ্যুতিক যান নিয়ন্ত্রণে আনবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু (সংরক্ষিত নারী আসন-৪) কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেওয়া নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের সুবিধার কারণে গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও এ ধরনের তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান শহর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, এ খাত চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক ও শ্রমিক, ব্যাটারি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী, চার্জিং সেবা প্রদানকারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে।
তবে এ খাতের দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট, পরিবেশদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক যানবাহন একই সময়ে চার্জ দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
মন্ত্রী এসব যানবাহনে ব্যবহৃত লিড-অ্যাসিড ব্যাটারি অনিরাপদভাবে ব্যবহার এবং নিয়ম না মেনে পুনর্ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ তিন চাকার বৈদ্যুতিক যান দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি। তিনি বলেন, এর ফলে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
নিবন্ধনহীন যানবাহন, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলোকব্যবস্থা, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত ও ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত রিকশার গ্যারেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) যৌথ অভিযানও পরিচালনা করছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশাকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে অনুমোদিত ও বৈধ অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট দেওয়ার মাধ্যমে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় আনা, কিউআর কোডের মাধ্যমে চালকদের নিবন্ধন শনাক্ত করা এবং ধাপে ধাপে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্য নির্দেশনার আলোকে অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া, রুট নির্ধারণ, চালক ও তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগ করা হবে। এসব পদক্ষেপ রাজধানীর যানজট কমাতে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর ১৭টি ট্রাফিক সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা ইতিবাচক ফল দিয়েছে। রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের আওতায় আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ঢাকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও ধীরে ধীরে আরও এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর, বিশেষ করে রাজধানীর সড়কে ধীরে ধীরে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। লাল বাতি অমান্য করা, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে লেন পরিবর্তন ও গতিসীমা অতিক্রমের মতো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এখনও নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, এসব যানবাহনে নম্বর প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরা সেগুলো শনাক্ত করতে পারলেও জরিমানা করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এসব বেপরোয়া যান নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরিয়ে নিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অটোরিকশার নকশার ত্রুটি দূর করে নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও লাইসেন্স দেওয়াসহ সবকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না করে সরকারকে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলেও মনে করেন রানু। তিনি বলেন, জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে তাদের যানবাহন জব্দ করে ফেলে দেওয়া এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা ঠিক নয়।
জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি ব্যবহারকেও শর্ত হিসেবে রাখা হবে এবং নিবন্ধন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সংযোগ নিয়ে অবৈধ চার্জিং স্টেশন পরিচালনার কারণে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে দুর্নীতিও জড়িত। যারা এসব অবৈধ চার্জিং কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবহার করছে, তাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত বলেও মন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব যাতে না বাড়ে, কর্মসংস্থান যাতে ব্যাহত না হয়, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে, যানবাহনে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি হয়—সরকার সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
৮ দিন আগে
হাটহাজারীতে অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে তৈরি হতো অস্ত্র
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় পেনগানসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ওয়ার্কশপটিতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর হাটহাজারী থানা পুলিশ নজরদারি ও তথ্য যাচাই শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় পুলিশের একটি বড় দল হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে মো. জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবিরকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা এবং তাদের হেফাজত থেকে একটি অত্যাধুনিক পেনগান, চারটি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি ও দুটি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো। পরবর্তীতে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হতো।
এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১৪ দিন আগে
চার খুনের রহস্য না কাটতেই অটোচালককে গলা কেটে হত্যা, আতঙ্কে রংপুরবাসী
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুরোপুরি উদঘাটন না হতেই গলাকাটা অবস্থায় এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে গজঘণ্টা শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বটগাছের নিচ থেকে মুখলেসুর রহমান (৬০) নামে ওই অটোরিকশা-চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মুখলেসুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার নবনীদাস গ্রামের মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শান্তিপাড়া এলাকায় নির্জন স্থানে বটগাছের নিচে মুখলেসুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক চিৎকার করে ওঠেন। পরে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলে মুখলেসুরের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। পুলিশ ধারণা করছে, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। রিকশাটি উদ্ধারে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের ভাতিজা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মুখলেসুর গত ২০-২৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর সবুর বলেন, মুখলেসুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
৪ খুনের আসামির পক্ষে লড়বে না রংপুর আইনজীবী সমিতি
এদিকে, রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা নিকৃষ্টতম। আইনজীবী সমিতি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।
১৭ দিন আগে
সিরাজগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত দুই
সিরাজগঞ্জ সদরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই জন নিহত হয়েছেন। এ সময় অটোরিকশার এক যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বহুতি বটতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জা গ্রামের গুতু রাজবংশির ছেলে ঠাকুর হালদার (৭০) ও কামারখন্দ উপজেলার কুঠিরচর গ্রামের আলী আকতার ফকিরের ছেলে অটোরিকশাচালক আশিক (৩৫)।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ভোরে মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঠাকুর হালদার ও তার ছেলে বিষ্ণ হালদার। তারা কামারখন্দ উপজেলার বাজার ভদ্রঘাট থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে আসছিল। দ্রুত গতির অটোরিকশাটি সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বহুতি বটতলা নামক স্থানে পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাটির চালক আশিক ও যাত্রী ঠাকুর হালদার নিহত হন। আহত হন যাত্রী বিষ্ণ হালদার। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহত আশিকের ভাতিজা ইসমাইল হোসেন বলেন, ভোরে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আশিক। সকাল ৬টার দিকে খবর আসে চাচা দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে এসে দেখি তিনি মারা গেছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মরদেহ নিয়ে স্বজনরা বাড়ি চলে গেছে।
১৮ দিন আগে
সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অটোরিকশা চার্জ দিলে জরিমানার বিধান হচ্ছে, বাতিল হবে নিবন্ধন
ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা অটোরিকশা সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে চার্জ দিলে জরিমানার বিধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ করলে এসব অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিবন্ধনের পর এ কাজ করলে পরবর্তী সময়ে নবায়নও করা হবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রণয়নাধীন বিধিমালায় এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার আওতায় নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এসব যানবাহন চার্জ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের বাইরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।’
সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য বিদ্যুৎ দিয়ে রিচার্জ করতে গেলে তাদের যে জরিমানা হবে, সেটাও আমাদের আইনে থাকবে।’
২৯ দিন আগে
জয়পুরহাটে ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত ২
জয়পুরহাটে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ নারী যাত্রী। এ ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে জয়পুরহাটের সদর উপজেলার জয়পুরহাট-হিলি আঞ্চলিক সড়কের বনখুর ওয়াপদা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন—জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের কাদেরপাড়া মহল্লার অটোরিকশাচালক তৌহিদ হোসেন (৩৩) এবং একই উপজেলার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা ফুলমনি রাণী (৪৪)।
আহত ৫ যাত্রীর মধ্যে আশঙ্কাজনক ৪ জনকে জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন—একই এলাকার বীরনগর আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা বাসন্তী, কেশমনি, শেফালী ও অঞ্জনা রাণী।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে পাঁচবিবির বীরনগর এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় করে ৫ জন নারী যাত্রী জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি সদর উপজেলার বনখুর ওয়াপদা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক তৌহিদ ও আরোহী ফুলমনি রাণী মারা যান। এ সময় অপর ৫ যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বর আহত ৪ নারী যাত্রীকে উদ্ধার করে। তাদের জয়পুরহাটের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
৭০ দিন আগে
রাজশাহীতে ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন ) দুপুরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার ইয়ামাহা মোটরসাইকেল শোরুমের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পুঠিয়ার নকুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক প্রামাণিক (৬৫) ও হাসেন প্রামাণিক (৬০)। তারা উভয়েই মৃত রিয়াজ প্রামাণিকের ছেলে।
আহতরা হলেন—একই এলাকার হাতেমের ছেলে লালন এবং জালালের ছেলে লাল্টু। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, নকুলবাড়িয়া এলাকার একটি মসজিদের জন্য মাইক কেনার উদ্দেশে চার যাত্রী অটোরিকশাযোগে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক নাটোরের দিকে যাচ্ছিল। বানেশ্বর ইয়ামাহা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ট্রাক ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসেন প্রামাণিক মারা যান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। তবে ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৯০ দিন আগে
ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর অঞ্চলিক সড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার চার বছরের ছেলে রোহান। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ও ব্যক্তি ও তার ছেলে নিহত হন।
এসআই ফরিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১০৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৫৯ দিন আগে