অটোরিকশা
সুনামগঞ্জে গ্যারেজে অটোরিকশা রাখা নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশ-পথচারীসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় গ্যারেজে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও পথচারীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের ছাতক রোডে দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে অটোরিকশা রাখতে গেলে তার সঙ্গে চালক ছাদিক মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যারেজের বাইরে। পরে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে দীঘলী ও তিকপুরের শতাধিক লোকজন জড়ো হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্তকেন্দ্র ও জয়কলস হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত কমপক্ষে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সহিংসতার কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তিনটি সড়কের দুইপাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকে। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং বিদেশগামী যাত্রীদের সে সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে রাখা সাতটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করেন। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আটকে থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ টহল জোরদার রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
১৭ দিন আগে
বিয়ানীবাজারে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার লাসাইতলা হাওর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গত ৫ মার্চ রাতে নিজ মালিকানাধীন অটোরিকশায় গ্যাস নিতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন গাড়ির মালিক শাহাদাত হোসেন সামাদ। তার বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়।
যাত্রী নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলে ছিনতাইকারীরা তার অটোরিকশা মুল্লাপুর ইউনিয়নের লাসাইতলা হাওর এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সেটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় অটোরিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে তারা মারপিট করে। পরে সেখানকার স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিয়ানীবাজারের মাথিউরা পূর্বপাড় গ্রামের রাজন আহমদ (৩৫), খায়রুল ইসলাম সরোয়ার (২৮), শাহগলী নিদনপুর এলাকার সালেহ আহমদ সুলতান (৩৫) ও চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ গ্রামের মাহমুদ হোসেন জাহিদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
৪৭ দিন আগে
টেকনাফে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা খাদে, নিহত ২
কক্সবাজারের টেকনাফে ট্রাকের ধাক্কায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা খাদে পড়ে অটোরিকশাচালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— অটোরিকশার চালক ফারুক (৩০) ও যাত্রী ইমান হোসেন (২৫)। ফারুক হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মো. সেলিমের ছেলে এবং ইমান হোসেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়ার মো. সৈয়দ নুরের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে খাদে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকসহ দুজন নিহত হন।
টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নুরুল আবছার জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাক ও অটোরিকশাটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৩৮ দিন আগে
অটোরিকশা চলবে নির্দিষ্ট রুটে, নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক
দেশে অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর নীতিমালা আসছে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় সেইসঙ্গে করা হচ্ছে নানা নিয়ম।
মহাসড়ক বাদে নির্ধারিত রুটে চলতে পারবে এসব যানবাহন। তবে কত সংখ্যক অটোরিকশা চলবে, তা ঠিক করবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি মধ্যম গতির ও পাঁচটি ধীরগতির অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন। যাত্রাপথের ভাড়া নির্ধারণ করবে বিআরটিএ এবং এক বছরের মধ্যে সব অটোরিকশাকে নিরাপদ মডেলে রূপান্তর করতে হবে। মধ্যম গতির অটোরিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার ও ধীরগতির জন্য ৩০ কিলোমিটার নির্ধারিত হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক নিয়মের মধ্যে আনতে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’–এর খসড়া করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হবে। কোনো এলাকায় কত সংখ্যক অটোরিকশা নিবন্ধন পাবে বা চলাচল করবে, সেই সীমা নির্ধারণ করবে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী গঠিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি।
কোনো ব্যক্তি মধ্যম গতির ৩টি ও ধীরগতির ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না। এ যানগুলো কোথায় চলাচল করতে পারবে, কোথায় পারবে না—সেটিও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘অন্যের টাকায় বাঁচতে চাই না,’ বাবার কথায় যা করলেন অটোরিকশাচালক
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জানা যায়, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী, এ জাতীয় মোটরযানকে ফিটনেস সনদ নিতে হবে। অটোরিকশা চালকেরা প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।
মধ্যম ও স্বল্পগতির অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক) রাজধানীসহ সারা দেশে চলাচল করছে। ফিটনেসবিহীন এ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ট্রাফিক ব্যবস্থাকে চরম বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সংখ্যায় এ যানবাহন এত বেড়েছে যে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে এগুলোকে কয়েক দফা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেও আন্দোলনের মুখে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারগুলোর জন্য কোনো আইন, নীতিমালা বা বিধিবিধানও নেই।
কোনো সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও বিআরটিএ বলছে, সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক রয়েছে। মনে করা হয়, এর মধ্যে ঢাকাতেই রয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ।
বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে, কারিগরিভাবে ত্রুটিমুক্ত ডিজাইন অনুসরণ করে এসব যানবাহন তৈরি করে। সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী এ ধরনের যানের সংখ্যা নির্ধারণ করে মহাসড়ক ছাড়া সুনির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে স্থানীয় জনগণের চাহিদা ও সড়কের ধারণক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুনির্দিষ্ট সংখ্যক কারিগরিভাবে ত্রুটিমুক্ত বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচলের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এহসানুল হক ইউএনবিকে বলেন, ‘বহুসংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক রাজধানীসহ সারা দেশে চলাচল করছে। ফিটনেসবিহীন এ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ট্রাফিক ব্যবস্থাকে চরম বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সংখ্যায় এ যানবাহন এত বেড়েছে যে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে এগুলোকে কয়েক দফা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেও বন্ধ করা যায়নি।’
সচিব বলেন, ‘থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশাগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অনেক দিন থেকেই বিভিন্ন পর্যায় থেকে একটি নীতিমালা করার দাবি ছিল। আমরা একটি নীতিমালার খসড়া করেছি। বাস্তবতার নিরিখেই খসড়াটি করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তা চূড়ান্ত হবে। চূড়ান্ত নীতিমালাটি হলে ব্যাটারিচালিত রিকশার যে বিশৃঙ্খলা, তা কেটে যাবে বলে আমরা মনে করি।’
আরও পড়ুন: অটোরিকশা চলাচল বন্ধে শিগগিরই অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক
নীতিমালার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, স্বল্প নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতাসম্পন্ন, ধীরগতির বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার দ্রুতগতিসম্পন্ন মোটরযানের সঙ্গে একই মহাসড়কে চলাচলের সময় গতির পার্থক্যের কারণে প্রায়ই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি সংখ্যক বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করায় অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে যা ভ্রমণ সময় ও বিদ্যুতের অপচয় বাড়াচ্ছে।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিআরটিএ নির্ধারিত নমুনা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার তৈরি হতে হবে এবং এর টাইপ বিআরটিএ অনুমোদিত হতে হবে।
বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারে ব্যবহৃত দেশে তৈরি বৈদ্যুতিক মোটর, কন্ট্রোলার, গিয়ার বক্স, এক্সেল, হুইল রিম, ব্রেক, স্পিডোমিটার, হেডলাইট, শক অ্যাবজরভার, ব্যাটারি, চার্জার ইত্যাদি বিএসটিআই অনুমোদিত হতে হবে। তবে বিএসটিআই এ ধরনের মোটরযানের যন্ত্রাংশ অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিআরটিএর মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
অনুমোদিত মডেল বা বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারককে বিআরটিএর তালিকাভুক্ত হতে হবে জানিয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত না হয়ে কোনো প্রস্তুতকারী বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা এর যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করতে পারবে না। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই নিজস্ব ব্র্যান্ড নামে এ ধরনের মোটরযান বা এর যন্ত্রাংশ বাজারজাত করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা এর যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী, উৎপাদনকারী অথবা সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো আমদানিকারক বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা এর যন্ত্রাংশ আমদানি কিংবা বাজারজাত করলে বিআরটিএর অনুমোদন নিতে হবে। তবে শুধুমাত্র নতুন বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা বিএসটিআই অনুমোদিত মানসম্পন্ন নতুন যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাবে। এ জাতীয় মোটরযানের নির্দিষ্ট স্থানে খোদাই করা বডি বা চেসিস নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
এ জাতীয় মোটরযানের ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের ‘বৈদ্যুতিক যান চার্জিং নির্দেশিকা, ২০২১’ অনুসরণ করে নির্ধারিত স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা যাবে।
বিআরটিএ নিবন্ধন লাগবে
সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির নির্ধারিত সংখ্যা অনুযায়ী বিআরটিএ মধ্যম ও স্বল্পগতির বৈদ্যুতিক অটোরিকশা নিবন্ধন দেবে। তবে সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, সড়ক নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সীমা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের অনুমোদন নিতে হবে বলে খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তি নিজের নামে মধ্যম গতির তিনটির বেশি বা গঠিত পরিবহন কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা ক্রয় ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে না। অন্যদিকে ধীরগতির অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন।
অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যসম্পন্ন না করে মধ্যম ও ধীরগতির বৈদ্যুতিক অটোরিকশা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
এ জাতীয় মোটরযান বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল করবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ধীরগতির অটোরিকশার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩.৯ মিটার, প্রস্থ ১.৫ মিটার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উচ্চতা ২.১ মিটার, সর্বোচ্চ ওজন (ব্যাটারিসহ) ৫০০ কেজি হবে।
আরও পড়ুন: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় না চড়তে ডিএনসিসি প্রশাসকের আহ্বান
বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত হারে কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন আবশ্যক হবে।
সর্বোচ্চ গতিসীমা
নীতিমালায় বলা হয়েছে, মধ্যম গতির বৈদ্যুতিক অটোরিকশা, মোটরক্যাব রিকশা ও অটোটেম্পু এবং থ্রি-হুইল ভ্যান সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। ধীরগতিসম্পন্ন বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার।
এ জাতীয় মোটরযানের ইকনোমিক লাইফ ‘সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮’ এবং ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৩’ অনুযায়ী সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলে নীতিমালায় জানানো হয়েছে।
কোথায় চলাচল করবে, কোথায় চলতে পারবে না
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, মধ্যম ও স্বল্পগতির বৈদ্যুতিক অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না। তবে মহাসড়কের সার্ভিস লেনে এ জাতীয় মোটরযান চলাচল করতে পারবে।
মহাসড়ক ছাড়া অন্যান্য নির্দিষ্ট এলাকা বা রুটে এ জাতীয় মোটরযান চলাচল করতে পারবে। সিটি করপোরেশন ও ‘এ’ ক্যাটাগরির পৌরসভার ভেতরে মধ্যম গতির বৈদ্যুতিক অটোরিকশা, অটোটেম্পু ও মোটরক্যাব রিকশা এবং থ্রি-হুইল ভ্যান চলাচল করতে পারবে। এর বাইরে জেলা ও উপজেলার নির্ধারিত রুটেও চলাচল করতে পারবে।
ধীরগতির অটোরিকশা শুধু জেলা, মেট্রোপলিটন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় রুটে চলাচল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট জেলা, মেট্রোপলিটন, উপজেলা ও ইউনিয়ন এলাকায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি এ জাতীয় মোটরযানের সংখ্যার সীমা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রুট নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয়েছে প্রস্তাবিত নীতিমালায়।
অপরাধের শাস্তি কী
বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে অটোরিকশা মোটরযান চলাচল করবে এবং এর কোনো ধরনের ব্যত্যয় হলে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এ বর্ণিত অপরাধের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে বলে খসড়া নীতিমালায় জানানো হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির পরামর্শে বিআরটিএ জেলাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। এ জাতীয় মোটরযানের অভ্যন্তরে যাত্রীর দৃশ্যমান স্থানে মোটরযানের মালিক ও চালকের মোবাইল ফোন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।
এ জাতীয় মোটরযান চালকের জন্য বিআরটিএ ইস্যুকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। চালনার সময় ড্রাইভিং লাইসেন্স অবশ্যই চালকের সঙ্গে থাকতে হবে বলে খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপদ মডেলে রূপান্তরে সময় এক বছর
বিদ্যমান অনিরাপদ ধীরগতির বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৩’ অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে স্বউদ্যোগে নিরাপদ মডেলের থ্রি-হুইলার মোটরযানে রূপান্তর করতে হবে। এ সময় পার হওয়ার পর অননুমোদিত মোটরযানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিকাজে ও নৌযানে ব্যবহৃত ডিজেল ও পেট্রোল ইঞ্জিন দিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুত করা অননুমোদিত যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি উপযুক্ত অনুমোদিত যানবাহন চালুর উদ্যোগ নেবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬৬ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২ যুবক নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নবীনগর-রাধিকা সড়কের ধনাশী গ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বিদ্যাকটু ইউনিয়ন সেমন্তঘর গ্রামের মো. আহাদ মিয়ার ছেলে পারভেজ (২২) ও শিবপুর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে উজ্জল (১৮)।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নবীনগর-রাধিকা সড়কে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান উজ্জ্বল। গুরুতর আহতাবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় পথচারী নিহত
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘নবীনগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে পারভেজ ও উজ্জল নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।’
‘এদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে ও অন্যজন সদর হাসপাতালে মারা যান।’
৩৬২ দিন আগে
কুমিল্লায় অটোরিকশার পেছনে বাসের ধাক্কায় হতাহত ৫
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে বাসের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার দেবপুর সাকুরা স্টিল মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোস্তফা সরোয়ার বিপ্লব (৫০) নরসিংদীর কামাড়গাঁও গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কুমিল্লা থেকে ছেড়ে আসা মুরাদনগরগামী রয়েল সুপার এসি বাসটি মহাসড়কের দেবপুর এলাকায় পেছন থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়।
এ সময় অটোরিকশায় থাকা একটি শিশুসহ পাঁচ যাত্রী আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে শহীদের মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন বাসটি আটক ভাঙচুর করে। এ সময় রাস্তার উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ‘নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৬৪ দিন আগে
অটোরিকশা চলাচল বন্ধে শিগগিরই অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যৌথ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
ঢাকা শহরের ভিতরে অটোরিকশা তৈরির ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধ করতে শিগগিরই এ অভিযান শুরু করা হবে বলে তথ্য দেন তিনি। শনিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ এজাজ জানান, ঢাকা শহরের ভিতরে অটোরিকশা তৈরির ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশন বন্ধে শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। ডিএমপি ইতোমধ্যে অটোরিকশা তৈরির ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশনের তালিকা করেছে। শিগগিরই রাতে অভিযান করে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা ঢোকার অনুমতি না দিতে বিভিন্ন এলাকার বাড়ির মালিক সমিতিকে অনুরোধ ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, আপনাদের আবাসিক এলাকাগুলো যে পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছে, তার বাইরে অন্যকিছু প্রবেশ করতে দেবেন না। আবাসিক এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক কাজ করতে দেবেন না। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটি সোচ্চার হলে অবৈধ অটোরিকশা, অবৈধ হকার বন্ধ করা সহজ হবে।
আরও পড়ুন: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় না চড়তে ডিএনসিসি প্রশাসকের আহ্বান
এ সময় জলাধার রয়েছে এমন কোনো প্লট হাউজিং কোম্পানিগুলোর থেকে না কেনার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করেন তিনি। এতে পরবর্তীতে ঝামেলা হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় পল্লবী ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার খালগুলো উদ্ধারে ডিএনসিসির উদ্যোগের কথা জানান তিনি। এমনকি খালগুলো রক্ষায় মামলা পর্যন্ত করেছিল তারা। উদ্বোধনী বক্তব্যে পল্লবী এলাকায় পরিকল্পনা করে গাছ লাগানোর জন্যও আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করছি ছোট গাছ না লাগিয়ে বড় গাছ লাগাবেন। পরিকল্পনা করে একটা রোডে কৃষ্ণচূড়া লাগান, আরেকটা রোডে সোনালু লাগান। এতে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’
৩৬৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ত্রিশাল-মধুপুর সড়কের উপজেলার বীররামপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত একজনের নাম অনুফা বেগম। তিনি জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তবে নিহত অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালক ও যাত্রী নিহত
স্থানীয়রা জানান, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসটি ত্রিশাল হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। রাত ৮টার দিকে ত্রিশাল-বালিপাড়া আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার বীররামপুর এলাকা পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন অটোরিকশার দুই যাত্রী। এ সময় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় অটোরিকশার চালককে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, ‘স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি জব্দ করা সম্ভব হলেও চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
৩৮১ দিন আগে
ফেনীতে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালক ও যাত্রী নিহত
ফেনীতে ট্রাকের চাপায় ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও যাত্রী নিহত হয়েছেন।
এরা হলেন— উপজেলার দক্ষিণ চানপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক নজরুল ইসলাম ও অটোরিকশার যাত্রী দুধমুখা এলাকার রাজিব।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের বসুরহাট সড়কের শরীফপুরেএ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বাসচাপায় অটোরিকশার নারী যাত্রী নিহত
স্থানীয়রা জানান, নতুন পোল এলপিজি সিএনজি পাম্পের সামনে একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন অটোরিকশাচালক নজরুল ইসলাম। এছাড়া আহত অবস্থায় অটোরিকশার যাত্রী রাজিবকে দাগনভূঁইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘অটোরিকশা ও ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৮১ দিন আগে
অটোরিকশা ভাড়া করা নিয়ে নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, যুবক নিহত
নরসিংদী সদর উপজেলায় অটোরিকশা ভাড়া করাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে সুমন মিয়া নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার বাবা আলম মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন জয়নগর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, জয়নগর বাজারে সুমনের চাচা মুকুলের সঙ্গে প্রতিবেশি আয়ুব, মোমেন, তারেক, দেলোয়ারসহ ৪-৫ জনের অটোরিকশা ভাড়া করা নিয়ে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মুকুলের বাড়িতে হামলা করতে যায়। এ সময় বাড়ির পাশে হৈচৈ হলে ঘর থেকে বেরিয়ে সুমন ও তার বাবা আলম মিয়া দেখতে যান। তাদের সামনে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসী তাদের নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া হামলায় আহত আলম মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের চাচা মুকুল মিয়া বলেন, ‘আমার মা অটোরিকশায় করে ভাতিজার জন্য ঔষধ আনতে গিয়েছিল। এ সময় আয়ুব মিয়া, মোমেন, তারেক এই রিকশায় যেতে চেয়েছিল। রিকশাচালক কেন মাকে নিল—এজন্য তারা খারাপ ব্যবহার করে। আমি তার প্রতিবাদ করি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বাড়িতে হামলা করতে এসে সুমনকে হত্যা ও তার বাবাকে গুরুতর আহত করে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গার তিতুদহে সংঘর্ষে সাবেক বিএনপি নেতা নিহত, আহত ২
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শওকত হাসান বলেন, ‘রাতে দুজনকে হাসপাতালে আনার পর সুমন নামের যুবককে মৃত পাওয়া যায়। আর আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
সুমনের হাত, বুক ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে চিকিৎসক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘অটোরিকশায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, এরপর তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সুমন নিহত হয়েছে এবং তার বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
৪১১ দিন আগে