হত্যা
দ্রুত সময়ের মধ্যে নন্দিনী হত্যার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে নন্দিনী হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নন্দিনীর বাড়িতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাজেট অধিবেশন থেকে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তা করতে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলার তিনজন সংসদ সদস্য ও জেলা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসেছি।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যতদূর শুনেছি, গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, তা সম্পন্ন করে চার্জশিট দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে। যারা এতটুকু একটি ছোট শিশুকে হত্যা করতে পারে, তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তা উদাহরণ হয়ে থাকে, এমন কাজে আর কেউ যেন যুক্ত হতে সাহস না পায়।
তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিলেন। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কার ইন্ধনে, কার উসকানিতে, কার প্ররোচনায় প্রশাসনকে আক্রমণ করা হলো—সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তারা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকবে। কিন্তু যারা অপরাধী, যারা প্রশাসনকে আক্রমণ করে মব সৃষ্টি করেছে, তারা অপরাধী। আমরা বলেছি, যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছরের শিশু নন্দিনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর শিশু নন্দিনীর পরিবারের কাছে যান ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, সমবেদনা জানান এবং এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
রংপুরে হোটেলে ‘পানের পিক’ ফেলায় কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
রংপুর নগরীতে একটি হোটেলের বাসনপত্র রাখার স্থানে ‘পানের পিক’ ফেলায় শাওন (২৪) নামের এক কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত শাওন ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে।
ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। ওইখানে শাওন পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর অভিযুক্ত মিজানুরকে আধাঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা আমির হোসেন বলেন, ওর মানসিক সমস্যা আছে। একসময় তাকে তাবলিগে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আসার পর সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন। এখনও মাঝেমধ্যে তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে ধমক দিয়ে রাখি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ওই হোটেলের মালিক আমির হোসেন ও তার তিন ছেলে। সেখানে শাওন নামে এক যুবক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর মালিকপক্ষের ছেলে মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জেনেছি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, সেটি চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তিনি মানসিক রোগে ভুগছেন বা চিকিৎসাধীন এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা-ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ মনে হয়নি।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে কুলি বা ময়লা ফেলা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথায় আঘাত করেন।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
নড়াইলে টিকটকে আসক্তির জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার
নড়াইলের লোহাগড়ায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী লিমনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মধ্যরাতে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। সুমনা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সুবাদে লিমন ও সুমনার প্রথমে পরিচয় ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে ঢাকাতেই লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনার চতুর্থ বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান লিমন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও সুমনাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় পরিবারে তীব্র কলহ শুরু হয়। এর জেরে লিমনের প্রথম স্ত্রী তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রংপুরে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করতেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। সুমনা ভবিষ্যতে আর এমন করবেন না বলে ওয়াদাও করেছিলেন।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটকে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট এবং পরপুরুষের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের বিষয় নিয়ে লিমন ও সুমনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের মারধরে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর লিমন গলা টিপে শ্বাসরোধ করে সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।
হত্যাকাণ্ডের পর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান। সারা দিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজেই ঘরের দরজা খুলে চিৎকার-চেঁচামেচি ও কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে প্রাথমিক সুরতহাল দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরবর্তীতে রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ‘আটক লিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। মূলত হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করতেই মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী নারীর পরিবারকে খবর পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
২ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
২ দিন আগে
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলির মামলার রায় ২৮ জুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।
সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।
মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
৩ দিন আগে
সিলেটে ফাহিমা হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেন এবং মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমে জাকিরকে সহযোগিতার জন্য তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা সকলে ফাহিমার প্রতিবেশী। ঘটনার পরই জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে ফাহিমাকে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পরদিন ১২ মে সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায় জাকির। সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, সে সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। প্রথমে তিনি মরদেহ ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখেন। পরে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় সেটি পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
৬ দিন আগে
মানিকগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে তার বৃদ্ধ মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজিয়া বেগম (৯৫) মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে ঘরের ভেতরে থাকা বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মা রেজিয়া বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রেজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।
এলাকাবাসী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
খবর পেয়ে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।’
৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৩
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাজুল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বত্তরা। এ ঘটনায় তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তাজুল ওই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে ছিল। আটকরা হলেন— ওই গ্রামের রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮)
স্থানীয়দের বরাত পুলিশ জানায়, রাতে ওই এলাকার কামাল মৃধার বাড়িতে তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠান থেকে তাজুলকে বাড়ির পেছনের বিলে ডেকে নিয়ে তলপেটে ছুরিকাঘাত করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে ওই তিন যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওই তিন যুবককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে।
১৮ দিন আগে
মানিকগঞ্জে বড় ভাইয়ের পরিবারকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, নিহত ২
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ইউসুফ আলীর (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বড় ভাই আব্দুস ছালামও (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— আব্দুস ছালামের স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী শিশুপুত্র আসওয়াদ।
এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পালিয়ে যান। গুরুতর আহত আব্দুস ছালামকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। শনিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে মো. ইউসুফ মোল্লা (৩৫) তার বড় ভাই সালাম মোল্লা (৪০) ও তার স্ত্রী আমেনার সঙ্গে পারিবারিক বিষয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ইউসুফ ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ভাবি আমেনা ও ভাতিজা আসওয়াদকে কুপিয়ে জখম করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বড় ভাই আব্দুস ছালামও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লাকে তাৎক্ষণিক আটক করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
১৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে গাছের সঙ্গে বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা এক যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচারবাড়িয়া গ্রামের শাহ ভিটা নামকস্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বুধবার (২০ মে) রাতের কোনো এক সময় নির্জন জঙ্গলে দুর্বৃত্তরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলার মশাখালী ইউনিয়নের দরিচারবাড়িয়া গ্রামের এক যুবক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পরিত্যক্ত শাহ ভিটার জঙ্গলে যান। এ সময় জঙ্গলের ভেতরে একটি জামগাছের সঙ্গে হাত বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান তারা। নিহত যুবকের পরণের শার্ট ও গেঞ্জি দিয়ে গাছের সঙ্গে দুই হাত বাঁধা ছিল। তার পরণে প্যান্ট ছিল এবং বাঁ হাতে ঘড়ি পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল কবির জানান, এ ঘটনার বেশ কয়েক বছর আগে এখানে আরও একটি হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনোতোষ পাল জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিহত ওই যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৮ দিন আগে