হত্যা
রংপুরে সেচ ঘর থেকে কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি সেচ ঘর থেকে এক কৃষকের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজার রহমান স্থানীয় সেচ মেশিনের মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার (৬ মে) রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।
স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে চোরচক্র সেচ ট্রান্সমিটার চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সমিটার নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, উমরপুর এলাকায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরে ঘর ভাড়া না দেওয়ায় আনিছুর রহমান (৬৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) রাতে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন তিনি।
নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জয়েন্ট ট্রেডিংয়ের মালিক। তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার গুয়াখোলা এলাকার মৃত মজিদ সরদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের নওয়াপাড়া বাজারে আনিস প্লাজা নামে একটি বহুতল মার্কেট রয়েছে। নওয়াপাড়ার পীর বাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে শাহ মাহামুদ আনিস প্লাজায় একটি দোকান ঘর ভাড়া নিতে চান। কিন্তু আনিছুর রহমান তাকে ঘর ভাড়া দিতে রাজি হননি। এর জের ধরে শাহ মাহামুদ গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে আনিছুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নওয়াপাড়ার তার মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি,তদন্ত) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়িতে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহ মাহামুদ পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
১ দিন আগে
নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
নড়াইল সদর উপজেলায় আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনী আক্তার খাদিজা (২০) নামে এক গৃহবধুকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সাকিব শেখের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাকিব শেখকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রাম এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত খাদিজা খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ফুলতলা থেকে সোমবার (৪ মে) নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহিরগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়াতে আসেন সাকিব শেখ ও তার স্ত্রী। সাকিব মাদকাসক্ত ও কর্মবিমুখ হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তার স্বামী সাকিব। পরে স্বজনরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি 'দুর্ঘটনা' বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সদর থানা পুলিশ। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে প্রকৃত ঘটনা।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, হাসপাতালে নিহতের পরিবার দাবি করে, অসাবধানতাবশত বটির ওপর পড়ে গিয়ে চাঁদনী আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত এবং সাকিবের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। পরে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২ দিন আগে
রংপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভ্যানচালক খুন
রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম(২৫) নামে এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বালুয়াভাটা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আরিফুল পৌরশহরে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রংপুর আদালতে একটি মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের মমিনুলসহ তার দলের ৫ জন হাজিরা দিতে যায়। একই মামলায় কিশোর গ্যাংয়ের ফিরোজ শাহ ওরফে মার্ডার ফিরোজ ও তার দলবলও সেখানে উপস্থিত হয়। এ সময়ে বাগবিতণ্ডা হলে ফিরোজ ও তার দলবল মমিনুল গ্রুপের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় মমিনুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তবে সেখানেই বিষয়টির মীমাংসা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ওই ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। প্রতিশোধ নিতে মমিনুল তার লোকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজ বাহিনীকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঠানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আরিফুলকে ছুরি দিয়ে জখম করে ফিরোজ গ্যাং। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফুলের বাবা রেজাউল ইসলাম বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘মোর বাবা পাঠান পাড়ার বলে মারছে ওরা। মোর তিনটে ব্যাটা, একটা ব্যাটাক বাঁচপার পাও নাই। আর দুইটার একটাক মারি ফেলাইলো। বাপের ঘারত ছেলের লাশ, এর চেয়ে দুঃখ পৃথিবীতে আর হয় না। আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। আমি অপরাধকে মানিয়ে নেওয়া লোক নোয়াই। আমি এর কঠোর বিচার চাই, নাহলে আমি আত্মহত্যা কইরব।’
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক যাদোন্দ্রনাথ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই তিনি মারা গেছেন।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ সরকার বলেন, কোর্টে আগের মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে মারামারি হয়েছে। পরে পাঠানপাড়ারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে এসে একটা দোকান ভেঙে চলে যাওয়ার পর ফিরোজ গ্রুপ এসে পাঠানপাড়ার বাসিন্দা হওয়ায় একটি নিরীহ ভ্যানচালককে কুপিয়ে জখম করে। ফিরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। নতুন করে এই ঘটনার এজাহার নেওয়া হয়েছে।
২ দিন আগে
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
৫ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।
আইরিন আক্তার বিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে আইরিনের খোঁজ চালাতে থাকেন। তবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ৩০ এপ্রিল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা একটি পঁচাগলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি মরদেহটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব্স্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার দায়ে ময়নাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই রায় দেন শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবদুল হান্নান। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২১ সালে উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে আসামি ময়নাল হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশু উম্মে হাবিবা মীমকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে পেঁচিয়ে মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় নিহত উম্মে হাবিবার মীমের মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তদের
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোতালেব হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোতালেব ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ধানক্ষেতে মোতালেবের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন বলেন, আমার বাবা মাগরিবের নামাজের আগে বাড়ি থেকে ধানক্ষেত দেখতে বের হন। তিনি প্রায়ই জমি দেখতে যেতেন। এ সময় কে বা কারা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর মরদেহের পাশে তার মোবাইল ফোন পড়ে ছিল এবং কোমরে বাঁধা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা অক্ষত ছিল। দুর্বৃত্তরা এসবের কিছুই নেয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে গেছে। তবে সঙ্গে থাকা টাকা না নেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
৯ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে সুমাইয়া আক্তার জামিলা নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুড়বাড়ির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের সালামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ৩০ অক্টোবর রিপন আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়া আক্তার জামিলার। বিয়ের পর থেকেই রিপন আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকার জন্য সুমাইয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল (সোমবার) রাতে স্বামী রিপন আলী সুমাইয়াকে তার বাপের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে সুমাইয়ার অসুস্থতার খবর জানিয়ে তার পরিবারকে ডাকা হয়। খবর পেয়ে সুমাইয়ার মা সেখানে গিয়ে দেখেন, বিছানায় তার মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। পরে শিবগঞ্জ থানা থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তা ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, মরদেহের গলায় ও বাঁ চোয়ালের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
১০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
১০ দিন আগে