হত্যা
কুমিল্লায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে তাপস রায় জানান, আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন; বাবা দোকানে চা পান করতে গিয়েছিলেন। এমন সময় দুষ্কৃতকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এ সময় আমাদের পাশের ঘরের এক জেঠা আমার মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আমার মাকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি।
এ ব্যাপারে বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, স্থানীয়ভাবে যেটুকু জেনেছি, তাতে ধারণা করছি যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পাারিনি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটনসহ দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজেদ আলম সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: অনিক, আকাশ খান ও চান্দি বাবু।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত। এ সময় ছিনতাইয়ে বাধা দিলে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তারা সীমান্তকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে তার ব্যাগ ও মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হাজী আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত তা কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করছি।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা হাজী আলমও। ছেলের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
১ দিন আগে
লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো কারা
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ শ্বশুরবাড়ির উঠানে রেখে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি ওই বাড়ির উঠানে রেখে সটকে পড়েন। তবে নিহতের বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, ওই নারীকে তার স্বামীই নির্যাতন করে হত্যা করে লোক দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আফরোজা ওই গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে দীন ইসলামের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কাজের সুবাদে তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায়ই আফরোজাকে তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন আফরোজা।
নিহতের পরিবারের ভাষ্য, গতকাল (রবিবার) রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এ কথা বলার পরই ফোনটি কেটে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আফরোজার স্বামী দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে বলেন, ‘আফরোজা অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। টাকা পাঠান, তার চিকিৎসা করাতে হবে।’
তবে বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেলেও আফরোজার বাপের বাড়ির লোকজন টাকা পাঠাননি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের জানান, আফরোজা মারা গেছেন।
এরপর সোমবার সকালে গাজীপুর থেকে একটি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন ব্যক্তি আফরোজার মরদেহ কালীগঞ্জে দীন ইসলামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিচিত ওই ব্যক্তিরা মরদেহটি টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির উঠানে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এ সময় তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির, এমনকি বাপের বাড়ির কাউকে তাদের সঙ্গে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, আফরোজার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
আফরোজার চাচাতো বোন শাপলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গাজীপুরের বাসায় তার স্বামী দীন ইসলাম আফরোজাকে কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। চিকিৎসার কথা বলে তাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। তারা টাকা না দেওয়ায় কৌশলে মরদেহ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যার বিচার দাবি করেন শাপলা বেগম।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, মরদেহের সঙ্গে থাকা ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। ওই কাগজে বিষপানে আফরোজার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে আমরা তদন্ত করছি। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১ দিন আগে
খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফান (২১) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী (উচ্চমান সহকারী) মো. মাজাহারুল ইসলাম। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকন্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি ইরফান খুলনা ব্রজলাল (বিএল) কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। নিহত নুর জাহান ওরফে খানো বিবি আসামির দাদি। ইরফানের মা ফাতেমা খাতুন প্রায়ই নুর জাহানের সম্পত্তি তার নাতির নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তাদের পারিবারিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ইরফান ছাত্র অবস্থায়ই অসাধু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন। ইরফানের মা ফাতেমা নেশার জন্য ছেলেকে টাকা দিতেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে দাদির ওপর চলত অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ইরফানকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তার বাবা। পরবর্তীতে আসামির মা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনেন।
২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে নেশার টাকার জন্য বাড়িতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন ইরফান। তখন তার দাদি তাকে বাধা দেন। নেশার টাকা জোগাড় করার জন্য ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ডাব পাড়তে গাছে উঠলে ইরফানকে বাধা দেন ওই বৃদ্ধা। সেদিন দুপুর দেড়টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ইরফান। এতে ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর-অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছিল।
৭ দিন আগে
কুমিল্লায় গৃহবধূকে খণ্ডিত করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে ফরিদা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন।
পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি বস্তা ও প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় কাছে গিয়ে তিনি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। সে সময় সন্দেহের ভিত্তিতে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, লাইলী বেগম প্রায় আট দিন আগে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রাম থেকে এসে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন।
নিহত ফরিদা বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের এক ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এদিকে, স্থানীয়রা জানায় সূত্রে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি পুরোনো হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার অভিযোগে লাইলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তারা জামিনে মুক্তি পান। তবে ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক, কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘৯টি প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক নারী আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
৯ দিন আগে
রাজধানীর কলাবাগানে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ
রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঠালবাগান এলাকায় কথা কাটাকাটির জেরে রাত্রি (২০) ও ফিরোজা বেগম (৩৫) নামে দুই নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কাঠালবাগান আলামিন মসজিদের পাশে পাঁচতলা ভবনের একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় মা ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এবং মেয়ে রাত্রি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক জানান, আজ (রবিবার) সকাল ৯টার দিকে কলাবাগান থানার আলামিন মসজিদের ৫২ নাম্বার বাসার পঞ্চম তলায় স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় শিপনের। পরবর্তীতে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাশুড়িকে এবং স্ত্রীকে আঘাত করেন শিপন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রি নিহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, রাত্রির সঙ্গে শিপনের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল এরপরও তারা একইসঙ্গে থাকত বলে জেনেছি।
হত্যাকারী শিপন থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৬ দিন আগে
সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর আপন মাকেও ‘কুপিয়ে হত্যা’ করল যুবক
ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ১৬ বছর আগে একইভাবে তার সৎ মাকেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যারডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
নিহত নারী ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী সামেলা বেগম (৬০)। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কয়েকদিন আগেও তিনি তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এর জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরা না থাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাকে কোপাতে থাকেন। এতে তার মায়ের মাথা কেটে মগজ বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৬ সালে সৎ মাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন রহিম। ওই ঘটনায় প্রায় ৬ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বাবা তাকে জামিনে বের করে আনেন। এরপরও তিনি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। তার থাকার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের মেয়ে কাকলি আক্তার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে আমি কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হতো। আমি যখন বেরিয়ে যাই, তখন তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুপুরে মাকে মেরে ফেলছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।’
ঘটনাটি নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ছেলেটি তার মাকে কোনো কিছু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে পালিয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মরদেহ দেখতে পাই। প্রায় ১০ বছর আগে অভিযুক্ত তার সৎ মাকে হত্যা করে ৬ বছর কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে তার পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছে।’
তার থাকার ঘর থেকে উদ্ধার করা মাদক সেবনের সরঞ্জাম আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৯ দিন আগে
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আইনজীবীর
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪৮) নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় ওই আইনজীবীর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
নিহত নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাগেরহাট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন।
বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান দিপু জানান, বাগেরহাট শহরে চেম্বারে কাজ শেষ করে প্রতিদিনের মতো নিজাম উদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল গাতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, মৎস্য ঘের নিয়ে এলাকায় নিজামের সঙ্গে বিরোধ আছে বলে শোনা যাচ্ছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরেই মধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকারীদের আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তবে এখনও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আজ (শনিবার) সকালে আইনজীবী নেতারা বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হন। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
২৪ দিন আগে
গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ লালন শেখের স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৪০)।
ফরিদাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ছেলে মো. ফয়সালও গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রতিবেশী মো. পরশ (১৮) নামের একটি ছেলে ফরিদা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে।
২৪ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ২ দিনের রিমান্ডে আসামি
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে তার রিমান্ড কার্যকর হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সদর আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার একমাত্র আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (বুধবার) সকালে নড়াইল সদর থানায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনার পরদিন (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় জনতা।
নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে ফাঁসির দাবিতে এসপি অফিসের সামনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান করেন ছাত্র-জনতা।
অপরদিকে, নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর বিকেল ৩টায় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।
নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেন। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশপাশের বাড়িতে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে অভিযুক্তের ঘরের মেঝে থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত একাই তার ঘরে থাকতেন। তিনি বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।
এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তাকে শনাক্ত করতে। তার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ধরনের আইনগত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। আশা করছি, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ দিন আগে