হত্যা
চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার তিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহতের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের এক কর্মকতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
মামলায় ২৯ জনের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা ইয়াসিনকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। এর মধ্যে দুইজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি বলে জানান শাকিলা ইয়াসমিন সূচনা।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৪ দিন আগে
নাটোরে জিয়া পরিষদ সদস্যকে হত্যা, সন্দেভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগে এক বৃদ্ধা নিহত
নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদ সদস্য ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১১টার পরে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
রেজাউল করিম উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহনী কলেজের সহকারি অধ্যাপক এবং উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন।
রেজাউলের পরিবার জানায়, রাতে মোটরসাইকেলে একদল ব্যক্তি বাড়ির সামনে গিয়ে রেজাউলকে ডাক দেয়। বাড়ি থেকে বের হতেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে তারা চলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই এলাকার আব্দুল ওহাব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে আব্দুল ওহাবের বৃদ্ধা মা সাবিহা নিহত হন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে মরহেদ উদ্ধার করে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর বলেন, দুই মৃত্যুর ঘটনারই রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৪ দিন আগে
মুন্সীগঞ্জে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী নিখোঁজ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর গ্রামে মা ও মেয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহতরা হলেন— আমেনা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে মরিয়ম (৮)।
নিহত আমেনার স্বামীর নাম মিজান মিয়া। তিনি কাঠমিস্ত্রী কাজ করেন। তারা ওই গ্রামের নুরুজ্জামান সরকারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, চার মাস ধরে আমেনা ও তার পরিবার ওই এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন। আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করা হয়। তবে কারো সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভেতরে মা ও মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ বা পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তার স্বামীর ব্যাপারেও খোঁজখবর করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
৭ দিন আগে
মানিকগঞ্জে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যা
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরুচোর সন্দেহে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইমাননগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার দশআনি গ্রামের মজনু মিয়া (৩৫) এবং ছয়আনি গ্রামের দ্বীন ইসলাম (২৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাত ২টার দিকে ইমামনগর গ্রামের শাকিলের বাড়িতে গরু চুরি করতে যান মজনু ও দ্বীন ইসলাম। এ সময় বাড়ির লোকজন ও গ্রামবাসী টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের পিটুনি দেন। এতে গুরুতর আহত হন মজনু ও দ্বীন ইসলাম।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। এরপর রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে আজ (সোমবার) সকাল ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে জানান ওসি।
তিনি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত মজনু ও দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
বোনের সঙ্গে প্রেমের চেষ্টা করায় বন্ধুকে খুন করল কিশোর
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল ইসলাম শাওন (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করেছে তার বন্ধু ও মেয়েটির ভাই। এ ঘটনায় জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— উপজেলার চানগাঁও চকপাড়া এলাকার আবুল কায়েস (১৪) এবং জাহাঙ্গীরপুর এলাকার মো. মাহফুজ রহমান ইমরান (১৬)।
নিহত শাওন কদমশ্রী ভূঁইয়াহাটি গ্রামের দুলাল ভূঁইয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, শাওন ও মাহফুজ সহপাঠী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। মাহফুজের ছোট বোন একই বিদ্যালয়ে পড়ত। শাওন তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে মাহফুজ ক্ষেপে যায়। এরপর গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শাওন। পরদিন সকালে কদমশ্রী হাওরের একটি কৃষিজমি থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে মাহফুজকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজ জানায়, সে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাওনকে হত্যা করেছে।
মাহফুজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ সকালে সহযোগী কায়েসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গামছা ও গ্লাভস উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
রাজধানীর কদমতলীতে সিলিন্ডার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
রাজধানীর কদমতলী থানার কুদার বাজার এলাকায় শাহাবুদ্দিন (৪০) নামে এক সিলিন্ডার-গ্যাস ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহাবুদ্দিনের ভাই মহিউদ্দিন জানান, শাহাবুদ্দিন কদমতলী-জুরাইন এলাকায় বাস করতেন। তিনি ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করতেন। গত দুই মাস ধরে বাসার নিচে গ্যাস সিলিন্ডার-গ্যাসের ব্যবসা করতেন তিনি।
মহিউদ্দিন বলেন, রাতে জানতে পারি কদমতলির কুদার বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে আমার ভাইকে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে গেছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান আমার ভাই আর বেঁচে নেই।
তিনি আরও বলেন, কে বা কারা কী কারণে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সে বিষয়টি এখনো জানি না।
কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাফায়েত হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি যে, আগের শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
১৯ দিন আগে
নরসিংদীতে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা
নরসিংদীর পলাশে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় মনি চক্রবর্তী (৪০) নামে এক মুদি দোকানি নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মনি চক্রবর্তী জেলার শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের মৃত মদন ঠাকুরের ছেলে। চরসিন্দুর বাজারে মুদি দোকান রয়েছে তার। সেখানেই ব্যবসা এবং সুলতানপুর গ্রামে বাস করতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে তার দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন মনি। সুলতানপুরে তার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে তিনি আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই রনি চক্রবর্তী বলেন, আমরা একসঙ্গে দোকান বন্ধ করে বের হই। পথের মাঝে ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পাই। তার কোনো শত্রু ছিলো না। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মোটরসাইকেল, মোবাইল, টাকা সেখানেই পড়ে ছিল। এ ঘটনায় অপরাধীদের আটক করতে কাজ করছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
২০ দিন আগে
ভোলায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ভোলায় পূর্ববিরোধের জেরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতা হত্যার শিকার হয়েছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার ক্লোজার বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ছাত্রদল নেতার নাম রেজওয়ান আমিন সিফাত (২৮)। তিনি ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হাওলাদারের পুত্র এবং ভোলা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সিফাতের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে তার সঙ্গে চাচাতো ভাই হাসিব ও সাকিবের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে সিফাত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। তখন ক্লোজার বাজার এলাকায় সিফাতকে একা পেয়ে তার চাচাতো ভাইসহ আরও কয়েকজন মিলে হামলা চালান। এ সময় তাকে কুপিয়ে আহত করে রেখে যান তারা।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সিফাতের বাবা মো. আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে ভোলা থেকে লক্ষাধিক বিএনপির নেতা-কর্মী ঢাকায় যাবেন। গত তিন দিন ধরে দলে দলে লোকজন ঢাকায় যাচ্ছেন। ভোলা থেকে বুধবার রাতে ১০টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সিফাতও ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মাগরিবের নামাজের পরে ব্যাগ নিয়ে বের হলে পথে হাসিব, সাকিব, রনিসহ আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। পরে তাকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।
রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাজাহান বেপারী বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আলাউদ্দিনের ছেলে রেজওয়ানকে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায় তার চাচাতো ভাইয়েরা।
ভোলা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়া উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
৩২ দিন আগে
গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরের শ্রীপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লতিফপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ফরিদ সরকার। তিনি শ্রীপুরের গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত বছর জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশে ফিরে একটি ইটভাটার ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি একটি মামলা চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে ফরিদকে হত্যা করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
পুলিশ জানায়, ইটভাটায় ফরিদ সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বড় ভাই ফারুক হোসেন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা করা হবে।
৩৩ দিন আগে
ঋণ পরিশোধে চুরি করে গরু বিক্রির চেষ্টা, দেখে ফেলায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা
নেত্রকোণার সদর উপজেলায় ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে এক নারী নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির দায়িত্ব দেন চোর চক্রের এক সদস্যকে। কিন্তু চুরি করার সময় দেখে ফেলেন স্বামী। পরে নিজের ঘরের বিছানায় ভাড়া করা চোর চক্রের চার সদস্য ও স্ত্রী মিলে স্বামীর পা বেঁধে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
এমন লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) হত্যাকাণ্ডে সরাসারি জড়িত মো. লিটন মিয়া (৫০) ও মো. রিয়েল মিয়া (৩৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে প্রেরণ করেছেন থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) চম্পক দাম।
এর আগে, নিহতের স্ত্রী বেদেনা আক্তারকে (৪২) গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) আদালতে স্বামী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
ওই নারীর দেওয়া তথ্যমতে, এ ঘটনায় তিনি ও আদালতে পাঠানো দুজনসহ জড়িত মোট পাঁচজন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দুজনের নাম বলেননি তদন্ত কর্মকর্তা।
পরিদর্শক চম্পক দামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেদেনা আক্তার অনেক ঋণ করে ফেলেছিলেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু স্বামী বাধা দেওয়ায় তা করতে পারেননি। পরে নিজেদের গোয়ালের গরু চুরি করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই উদ্দেশ্যে তার বাপের বাড়ি, জেলার বারহাট্টা উপজেলায় দুধকুড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন মিয়াকে (৫০) দায়িত্ব দেন।
গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) মধ্যরাতে লিটন মিয়া তার সঙ্গে গ্রেপ্তার নারিয়াপাড়া গ্রামের রিয়েল মিয়াসহ চারজন গরু চুরি করতে যান। এ সময় বেদেনা আক্তারের স্বামী হেলাল উদ্দিন তালুকদার (৬০) চোরদের দেখে ফেলেন। তিনি তাদের চিনতেও পারেন। পরে তারা সবাই মিলে ভুক্তভোগীর পা বেঁধে জবাই করে হত্যা করেন। এরপর বেদেনা আক্তার ছাড়া বাকি সবাই পালিয়ে যান।
বেদেনা আক্তারের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও মোবাইলের ফোনের কলের তালিকা অনুযায়ী এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় লিটন ও রিয়েলকে গ্রেপ্তার করে চম্পক দামের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল।
এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে পাঁচ-ছয়টি চুরির মামলা রয়েছে। রিয়েল মিয়া একটি হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিন-চার বছর জেল খাটার পর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। বাকি দুজনও মামলার আসামি এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
গত ২২ ডিসেম্বর সকালে খবর পেয়ে বসতঘরের নিজ শয়নকক্ষ থেকে হেলাল উদ্দিন তালুকদারের পা বাঁধা ও গলা কাটা রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী কালিয়ারা গাবরাগতী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন ও জেলা যুবদলের সাবেক নেতা শাহাবউদ্দিন রিপনের চাচাতো ভাই। এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন নিহত হেলাল তালুকদার।
৩৩ দিন আগে