হত্যা
মানিকগঞ্জে শিশুকে হত্যার অভিযোগে ‘গণপিটুনি’, নিহত ২
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ৮ বছর বয়সি এক এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৫টার দিকে ওই এলাকার দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেন এবং এলাকায় মাইকিং করে খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ দৃশ্য মুহূর্তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, সৃষ্টি হয় তীব্র ক্ষোভের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা পান্নু মিয়া, তার ভাই ফজলুর রহমান ও ছেলে নাজমুলকে আটক করে ধোলাই দেয়। এতে পান্নু (৩৫) ও ফজলু (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমুলকে (২০) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী জানায়, নাজমুল মাদকাসক্ত ছিল। নেশার জন্য মেয়েটিকে হত্যা করে তার কানে থাকা স্বর্ণালংকার লুটে নেয় বলে অভিযোগ তাদের।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে গণধোলাইয়ের ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি।
পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনা তদন্তে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর অধিকতর তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪ ঘণ্টা আগে
মুন্সীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে অহিদুজ্জামান নাঈম (৭১) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত অহিদুজ্জামান নাঈম উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে।
আহতের স্বজনদের অভিযোগ, অহিদুজ্জামান নাঈমের সঙ্গে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের জমির মাপজোপ ছিল। এ সময় ক্যাডার তুহিনের নেতৃত্বে একটা দল আশপাশে মহড়া দিতে থাকে। মাপের একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে তুহিনের ভাইসহ ৮/১০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে। পিটিয়ে ও কুপিয়ে তাকে আহত করেন তারা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি জানান, আহীদুজ্জামান নাঈমের সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। জমি দখল নিয়ে একাধিক ব্যাক্তির নামে আদালতে মামলা চলছে। তার জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা বলেন, দুপরে একজন রোগী হাসপাতালে নিয়ে আসেল প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, তার একটি হাত ও একটি পা ভাঙা এবং মাথার পেছনে কোপের চিহ্ন রয়েছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৭ দিন আগে
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় স্বামী মো. আমিনুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, বিগত ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল রাত ১০টায় জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বেলুয়ার চর গ্রামের আমজল আলীর পুত্র মো. আমিনুল ২০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী সুজানা আক্তারকে (২৩) নির্মমভাবে প্রহার করে হত্যা করেন। পরে নিহত গৃহবধূর পিতা সুরুজ মিয়া বাদী হয়ে আমিনুলসহ ৩ জনের নামে দেওয়ানগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
১৮ দিন আগে
নড়াইলে পাম্প ব্যস্থাপককে হত্যার ঘটনায় সব পাম্প বন্ধ ঘোষণা
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পেট্রোল পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সকল পাম্প বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু।
তিনি বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিহাদ মোল্যা (২৭) নামের পাম্পটির এক কর্মী গুরুতর আহত হন।
ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদ সরদার উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্পটির ব্যবস্থাপক নাহিদ। তেল না পেয়ে ট্রাকচালক তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করার হুমকি দেন সুজাত। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে চড়ে নিজ গ্রামে যাচ্ছিলেন নাহিদ ও পাম্পের কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে একটু দূরে গেলে পেছন থেকে এসে সুজাত তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দর আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও ট্রাকটিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
১৯ দিন আগে
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় ‘হত্যা’
নড়াইলে তেল না পেলে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে এক ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৫) চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাহিদ সরদার উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে ছিলেন তিনি। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে বাগবিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাকটিকে। পরে ওই ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৯ দিন আগে
মানিকগঞ্জে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করল তার বন্ধু
মানিকগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিক মিয়া (২৮)। তিনি ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রফিক মিয়া ও গ্রেপ্তাররা একে অপরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা রফিককে কালীগঙ্গা নদীর তীরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আরিফ মিয়া ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক দল লোক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২১ দিন আগে
কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা, ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈকত লাগোয়া কবিতা চত্বর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নারী সমন্বয়ক তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত খোরশেদ আলম কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসুলুর ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শাহ আলম। তিনি কক্সবাজার শহরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিতা চত্বর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার বন্ধু শাহ আলম ও সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার পেট ও পায়ে ছুরিকাঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টায় খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কক্সজার জেলা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের সঙ্গে থাকা এক নারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
২৩ দিন আগে
খুলনায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন
খুলনার কয়রা উপজেলায় স্বামীকে শ্বাসরোধ ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করেছে স্ত্রী।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন স্ত্রী খুকুমনি।
নিহত ফজলু গাজী জোড়শিং গ্রামের মৃত ফকির গাজীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর জোড়শিং গ্রামের ফজলু গাজীর (৬৬) সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খুকুমনির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর অণ্ডকোষ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাশ্ববর্তী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা খুকুমনিকে বিয়ে করেন ফজলু গাজী।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত ও অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা-চাচির ঝগড়ার জেরে প্রাণ দিতে হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
২৯ দিন আগে