হত্যা
মানিকগঞ্জে রিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করল তার বন্ধু
মানিকগঞ্জে ব্যাটারিচালিত রিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ মার্চ বিকেলে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিক মিয়া (২৮)। তিনি ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিহত রফিক মিয়া ও গ্রেপ্তাররা একে অপরের পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে তারা রফিককে কালীগঙ্গা নদীর তীরে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আরিফ মিয়া ঘিওর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) ইউপিডিএফের পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় এক দল লোক সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
ইউপিডিএফের কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিত খীসাপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১ দিন আগে
কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
কক্সবাজারে জুলাইযোদ্ধা, ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলমকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈকত লাগোয়া কবিতা চত্বর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নারী সমন্বয়ক তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত খোরশেদ আলম কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসুলুর ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শাহ আলম। তিনি কক্সবাজার শহরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিতা চত্বর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার বন্ধু শাহ আলম ও সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার পেট ও পায়ে ছুরিকাঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ভিড় করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টায় খুনিদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কক্সজার জেলা ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের সঙ্গে থাকা এক নারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
৩ দিন আগে
খুলনায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন
খুলনার কয়রা উপজেলায় স্বামীকে শ্বাসরোধ ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করেছে স্ত্রী।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন স্ত্রী খুকুমনি।
নিহত ফজলু গাজী জোড়শিং গ্রামের মৃত ফকির গাজীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর জোড়শিং গ্রামের ফজলু গাজীর (৬৬) সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খুকুমনির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর অণ্ডকোষ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাশ্ববর্তী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা খুকুমনিকে বিয়ে করেন ফজলু গাজী।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত ও অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
৪ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মা-চাচির ঝগড়ার বলি আড়াই বছরের নুজাইফা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা-চাচির ঝগড়ার জেরে প্রাণ দিতে হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেছেন যে, শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি নুজাইফাকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে নিয়ে যান। সেখানে নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে শিশুটির মরদেহ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় গ্রামবাসী। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে কল্পনা তার অপরাধ স্বীকার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ওসি আরিফুর রহমান জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৯ দিন আগে
নবীগঞ্জে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩), নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাই প্রবাসী । বাড়িতে তিনি পুত্রবধূ তামান্না আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে নিজ বাড়ি থেকে ফেরদৌসী ইসলামের হাত-পা বাঁধা এবং মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে (২২) আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
অভিযুক্ত তামান্নার জবানবন্দিতে জানা যায়, তার সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার রাতে ওই যুবকসহ আরও ২-৩ জন তাদের বাড়িতে আসে। তারা আলমারি ভেঙে স্বর্ণ ও টাকা লুট করে। সে সময় শাশুড়ি ফেরদৌসীর গলার হার নিতে গেলে তিনি জেগে ওঠেন। তিনি চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে তামান্না ও তার কথিত প্রেমিকসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামল দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
১০ দিন আগে
চাঁদপুরে ঈদে শোকের ছায়া নিয়ে বাড়ি ফিরলেন জাবির খাদিজা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা (২৫) সাভারে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদপুরে নিজ বাড়িতে ফিরলেন শোকের ছায়া নিয়ে। ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পরিবারের কাছে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিথর দেহ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে তার মরদেহ কচুয়ার তেতৈয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত খাদিজা কচুয়া উপজেলার ৬ নম্বর কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহজাহান মোল্লার মেয়ে ছিলেন। জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের তিনি আবাসিক ছাত্রী ছিলেন।
এদিকে, ঈদের আনন্দের সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গ্রামের প্রতিবেশিরা জানান, খাদিজা খুবই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের মেয়ে ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে দেশের নামকরা মানুষ হবে খাদিজা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফাহিম আল হাসান (২২) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তিনি ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা।
এ হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে, এ ঘটনায় নিহত খাদিজার চাচা মনিরুল ইসলাম (৪৬) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মনিরুল ইসলাম মামলার এজাহারে অভিযোগ করে বলেন, শারমিন জাহান খাদিজার সঙ্গে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম আল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা গত ২৪ জুন ইসলামি শরিয়ত মেনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর আমাদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।
মামলার এজহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বর মাস থেকে আশুলিয়া থানার ইসলামনগর জামে মসজিদ-সংলগ্ন জনৈক সুপ্তদের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়া বসবাস করেছিলেন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই উভয়ের দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ সৃষ্টি হয়। কলহের বিষয়টি খাদিজা তার বাবা ও মাকে জানিয়েছিলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, চতুর্থ তলা বাড়িটির নীচ তলার বাম পাশের রুমে ঢুকে খাদিজাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন আমি আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আমার ভাতিজিকে চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, মর্গে মরদেহ পাঠানোর আগে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। খাদিজার কপালের ডান পাশে, মাথার ওপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে জানতে পারি, আসামি ফাহিম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরে যান। এই সময়ের মধ্যেই ফাহিমসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পরের যোগসাজশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করেন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ইসলামনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা।
১১ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহ শহরের সৃজনী পেট্রোল পাম্পে তেল দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাম্পকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক পিতা আবুল কাশেমের সঙ্গে বসবাস করতেন। ঝিনাইদহ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলে তেল নিতে তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা তাদের মোটরসাইকেলে তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তারা ফিরে আসার সময় দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক পিতা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, তাদের মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০ দিন আগে
নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে ‘হত্যার’ পর স্বামীর আত্মহত্যা
নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী ও দুই বছরের সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সকারের ছেলে রাজ সরকার জয় (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যাশিশু জিনি সরকার (২)।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রাজ সরকার জয় মাদকাসক্ত ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি সরকার এর আগে অনেকবার সংসার ছেলে চলে যান এবং আবার ফিরে আসেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জয় তার স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী মারা যান। পরে নিজেও ছুরি দিয়ে শরীরে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখানে গিয়ে জয় ও জিনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসক তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) সকালে তারা উভয়ই মারা যান।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন জয়; পরে তিনি নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
২২ দিন আগে
খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর ডাকবাংলোর মোড়ের বাটার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী মাসুমকে ভাড়ায় খুন করতে আসে। কে কত টাকা পাবে, তাদের মধ্যে তা হিসাব করা ছিল। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমড়ে পিস্তল রাখতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এ অপারেশনে ৭ জন জড়িত ছিল। তাদের কাছে নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাসুমের রাজপথে ভূমিকা ছিল।
২৩ দিন আগে