হত্যা
নওগাঁয় স্বর্ণকারকে হত্যা, সোনা-টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
নওগাঁর মহাদেবপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামের এক স্বর্ণকার নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছে থাকা ছয় ভরি সোনা ও সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুলালপাড়া এলাকায় অলিফের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত সুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি মহাদেবপুর বাজারে দত্ত জুয়েলার্স নামে একটি দোকান পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) মহাদেবপুর বাজারের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন অলিফ। বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ছয় ভরি সোনা ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কেবলই ছিনতাই নাকি এর পেছনে শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান বলেও জানান তিনি।
৩ ঘণ্টা আগে
কক্সবাজারে ঘরে ঢুকে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ
মহেশখালীর হোয়ানকে ঘরে ঢুকে শিল্পী রানী শীল (৫০) নামের এক গৃহবধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার হোয়ানকের কালাগাজীর পাড়ায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিল্পী শীল ওই এলাকার রবি শীল সওদাগরের স্ত্রী।
রবি শীলের ভাইপো নিকাশ শর্মা জানান, তার কাকা বাজারে দোকান করেন। কাকি বাড়িতে একা থাকেন। তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে শুনে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, রবি সওদাগরের পরিবারের সঙ্গে কারো বিরোধ নেই। রবি ও শিল্পী দম্পতির সন্তানরা পড়াশোনার কারণে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন।
নিজ বাড়িতে গৃহকর্ত্রী খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মহেশখালী থানা পুলিশ। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
নিখোঁজের ২৫ দিন পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর এক যুবকের কঙ্কাল, প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের পরিত্যক্ত গারোর ভিটা এলাকা থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল ইসলাম (২০) ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। খবর পেয়ে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পোশাক দেখে মরদেহটি তার ছেলের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জসিম উদ্দিন (২৪), রফিক (২৮) ও মোজাম্মেল হোসেন (২৭)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রাশেদুলকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও রাশেদুলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে রাশেদুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন জসিম উদ্দিন। তার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে রাশেদুলের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার কাছে কল করা হয়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হয়। ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহজাহান।
অন্যদিকে ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চলে যান জসিম। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করে নিহতের পরিবার। এতে জসিমকে প্রধান করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গতকাল (রবিবার) দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই গ্রামের রফিক ও মোজাম্মেলকে তাদের নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জসিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে চন্দ্রপুর গ্রামের গারোর ভিটা এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন হাড়, মাথার খুলি এবং প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করে পুলিশ।
শাহজাহান জানান, মাস খানেক আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে শসার ক্ষেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক থেকে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে ১০০ টাকা দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন। পরে রাশেদুল পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে তিনজন মিলে রাশেদুলের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফুলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিকরুল ইসলাম বলেন, আসামিরা একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়ের অংশগুলো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। আর গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
১ দিন আগে
এক বছরেও শেষ হয়নি কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যার বিচার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী ও তার মা তাহমিনা বেগম হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারিক কার্যক্রম। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এ পর্যন্ত পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তার মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করেন।
স্বীকারোক্তিতে মোবারক আরও জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক করার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি মা তাহমিনা বেগম দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনও কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’
আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তার মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’
সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘(আদালতের) পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে। ’
১ দিন আগে
রংপুরে চার খুন: আসামিদের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
রংপুর নগরীর গণপতি চক্রবর্তীসহ চার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল পাওয়া গেছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো অবৈধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। পরে বিচারক আসামিদের দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চরম উন্মাদনা ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উভয় আসামির শরীরে ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে চিকিৎসকদের মতে, মাদক সেবনের পর মানবদেহে বা প্রস্রাবে এর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা থেকে চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী বলেন, এত বড় একটি ঘটনার এক-দুই দিন পরই ডোপ টেস্ট করা যেত। সেখানে ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করে নেগেটিভ এসেছে। এখন কী হবে, তা আপনারা দেখেন।
ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও এতে খুনের তদন্তের অন্য দিকগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে না। আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ১০ দিনের মাথায় ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। যারা মাদক সেবন করেন, তাদের প্রস্রাবে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে তারা মাদকে আসক্ত কি না, তা বোঝা যেত। পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি বলে তারা মাদকাসক্ত নন—এমনটা বলা যায় না। আবার ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় তারা মাদকাসক্ত ছিলেন না, সেটিও বলা যাবে না।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ডোপ টেস্টে তাদের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতি রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।
৮ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকা নিয়ে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি, নির্যাতনের অভিযোগ
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে ডিবির বিরুদ্ধে তাদের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) বিকেলের দিকে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘হত্যার ব্যাপারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছে পুলিশ। আমরা যতটুকু মিডিয়ায় বলেছি, ততটুকুই পুলিশকে জানিয়েছি।’
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হচ্ছেন। তার স্বজনদের অভিযোগ, পার্থকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে গেল ডিবি আর এখন তিনি খুড়িয়ে খুড়িয়ে বের হয়ে এসেছেন।
নির্যাতনের ব্যাপারে ডিবির পক্ষ থেকে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়া পাড়ার তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় পরের দিন রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় সীমান্ত ও বিদ্যুৎ দাস নামে দুইজন সাক্ষীও আদালতের মাধ্যমে জবানবন্দি দেন।
৯ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: পুলিশের নতুন বয়ান—‘দিনের আলোয় খোলা ছাদেই খুন হন গণপতি পরিবার’
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বয়ান, তদন্ত ঘিরে নানা প্রশ্নের মধ্যে ফের নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
আদালতে আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন (শুক্রবার) সকালে গণপতি চক্রবর্তী তার বাড়ির ছাদে হাঁটতে গেলে সেখানে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। এরপর ছাদেই তাকে হত্যা করা হয়। শব্দ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে স্ত্রী-মেয়ের মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে ছাদের সিঁড়ির কাছে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে আদালতের বরাতে এসব কথা জানান রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
তিনি বলেন, আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে নতুন কিছু তথ্য যুক্ত হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে যাওয়ার কারণ ছিল সেখানে ইয়াবা সেবনের সুবিধা। তার ভাষ্যে, ‘বাসার ছাদে গিয়েছিল। এর কারণ হলো যে দেবুদের বাসার ছাদ ফাঁকা, সেখানে বাতাস আছে। ইয়াবা সেবন করতে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, সেটা বাতাসে না থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হয়। আর গণপতি স্যারের বাসার ছাদে ওয়াল (দেওয়াল) রয়েছে, যে ওয়ালের ফাঁকে বাইরে থেকে দেখা যায় না।’
কমিশনার আরও বলেন, ‘বাসার ছাদে এরা পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। তারা খেয়াল করেনি যে ভোরের আলো ফুটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেই রাতে তারা দুইজনে আটটা ইয়াবা সেবন করে। এটা সিদ্ধার্থের জবানবন্দি। জীবনে কখনও তারা এত বেশি ইয়াবা সেবন করে নাই। সর্বোচ্চ দুইটা ইয়াবা একসঙ্গে সেবন করেছিল।’
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘সকালে গণপতি স্যার ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন। দেখে ফেলে ধমক দেন এবং জোরে জোরে বলেন, ‘তোরা এত সকালে এখানে কী করিস?’ তখন তাদের মাথা কাজ করছিল না। আত্মসম্মানের ভয়ে মুগ্ধ দাস এবং সিদ্ধার্থ দাস গলায় গামছা পেঁচিয়ে টান মেরে গণপতিকে মেরে ফেলেন।’
মেয়ে ও স্ত্রীকে হত্যার বর্ণনায় পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘স্যারের মরদেহ টান দিয়ে ঢেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত স্যারের স্ত্রী এবং মেয়ে শব্দ শুনে ছাদে চলে আসে। তাদের দেখে চিল্লাতে লাগলে মুগ্ধর হাতে স্যারের গামছা ছিল, সেই গামছা দিয়ে স্যারের স্ত্রীর গলা চেপে ধরে আর সিদ্ধার্থ দাস স্যারের মেয়ের গলা চেপে ধরে। একহাতে মেয়ের গলা চেপে ধরে, আরেকহাতে মুখ চেপে ধরে। মুগ্ধ স্যারের স্ত্রীকে মারার পর সেই গামছা দিয়ে আবার দুইজনে একসঙ্গে মেয়ের গলায় পেঁচায়। তাতে মেয়ে না মরলে পাশে কবুতরের খাবার রাখার বাক্স থেকে রশি নিয়ে এসে মেয়েটার গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেয়।’
এরপর আসামিরা গণপতির ঘরে ঢুকলে তার ছেলে প্রিয়ম ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে দেখতে পায় বলে জানান পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাটা সিদ্ধার্থকে দেখে বলে, সিদ্ধার্থ দাদা, তুমি এখানে কেন? দেবুদের বাসার কেউ শব্দ শুনে টের পেয়ে যায় কি না এই ভয়ে বাচ্চাটাকে তারা কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেরে ফেলে।’
পুলিশ কমিশনার জানান, এর আগে পুলিশ যে তথ্য দিয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটির ওপর হামলা করা হয়। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সিদ্ধার্থের বক্তব্যে শিশুটি ঘুম থেকে উঠে তাকে দেখে ফেলার বিষয়টি এসেছে।
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও দুটি বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রথমত, সিদ্ধার্থ দাসের জবানবন্দি অনুযায়ী জানা গেছে, নিহত পরিবারটি তার পূর্বপুরুষের জমি কিনেছিল। সম্ভবত একটু বেশি মূল্যে কেনা ওই জমির টাকা সব অংশীদার বা শরিকরা আনুপাতিক হারে সমানভাবে পায়নি। এই অর্থ বণ্টন নিয়ে শরিকদের মনে কোনো ক্ষোভ ছিল কিনা, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক ব্যবধানের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। আবদুল মাবুদ বলেন, মাছুয়াপাড়ার অধিকাংশ মানুষ দাস সম্প্রদায়ের হলেও নিহত গণপতির পরিবার ছিল ব্রাহ্মণ। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে রাস্তাঘাটে দেখা-সাক্ষাৎ বা সাধারণ মেলামেশা থাকলেও একে অপরের বাড়িতে আসা-যাওয়ার মতো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। এই সামাজিক দূরত্বের কারণেও কারও মনে কোনো ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করতে থাকলেও কোনো উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান পুলিশ কমিশনার।
এর আগে, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছিলেন, গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতে শব্দ পেয়ে ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় খুন হন গণপতি। মা ও মেয়েকে সিঁড়িতে খুন করা হয়েছিল। এরপর মামলার এজাহার, আলামত ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ ঘটনাটি ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গত শনিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী আগামী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আয়ুশের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হয় এবং থানা থেকে তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
১২ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত, আসামিদের সঙ্গে মিলেছে বর্ণনা
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামের এক যুবক। তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামির বন্ধু।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে সাক্ষী সীমান্তের বর্ণনায় ইয়াবা সেবনের বিষয়ে মিল পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা যে সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে বিষয়টিও উঠে এসেছে।
সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া সীমান্ত চন্দ্র দাস নগরের মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার সুবাস চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু এবং নগরের একটি মার্কেটে কাপড়ের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘সাক্ষী হিসেবে সীমান্ত তার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচারক ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।’
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত তার জবানবন্দিতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে মিলেছে। আসামিরা তার বাড়িতে ইয়াবা সেবনের যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে একই কথা জানিয়েছেন।
এর আগে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তারের পর গেল রবিবার সংবাদ সম্মেলনে আরএমপি কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে, আসামিদের ডোপ টেস্ট করা হবে কি না—এ প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সোমবার সকালে ডকেট পেয়েছি। ইতোমধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আবেদন করেছি। বুধবার (আজ) তা চলে যাবে।’
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের বক্তব্য, তথ্যে অমিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে খোঁজা হবে। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে যতগুলো প্রশ্ন আছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উত্তর খোঁজা হবে। এ মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গেল রবিবার আরএমপির কোতোয়ালি থানায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতে গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ মামলায় প্রথমে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জিকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়। পরদিন সোমবার মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছ থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এরপর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়ির নিচতলার কাজ এখনও শেষ হয়নি। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন গণপতি।
গেল শনিবার রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন সীমান্ত চন্দ্র দাস নামের এক যুবক। তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই আসামির বন্ধু।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিরা যে সীমান্তের বাসায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে মামলার এজহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এদিকে, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় সীমান্তের। পরে স্বাক্ষীকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রবিবার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়।
ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়।
১৩ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: পুলিশের বয়ান ঘিরে নানা প্রশ্ন-আন্দোলন, মামলার তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বয়ান ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অধিকতর তদন্তের দাবির মধ্যেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার পরিবর্তে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)।
পুলিশ বলছে, অধিকতর স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে বিকেলেই পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে মিলন চ্যাটার্জি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান।
আগের বক্তব্যের সঙ্গে মিল তবে কিছু নতুন বিষয় যুক্তও হয়েছে
ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গত রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি, আসামিরা হুবহু একই বক্তব্য দিয়েছে যা কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তথা দেশবাসীকে জানিয়েছেন। এমনকি তারা কিছু কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্যও যুক্ত করেছে, যা আগে আমাদের কাছে প্রকাশ করেনি।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি এখন ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্তভার বদল
এর আগে, গত রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এই বক্তব্যের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের কারণ, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অধিকতর তদন্তের দাবি ওঠে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেন তারা।
এমনকি গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারও প্রশ্ন তোলেন তারা দুজনে চারজনকে কীভাবে খুন করেন। এর পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করার দাবি তোলেন অভিযুক্তদের পরিবার। এর মধ্যেই মামলার তদন্তভার থানার কাছ থেকে ডিবিতে দেওয়া হলো।
পুলিশের ভাষ্য, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
যে রাতে নিভে যায় একটি পুরো পরিবার
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়ির দোতলায় বসবাস করছিলেন তিনি। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।
গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর গত রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই যুবক জানিয়েছেন, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
তবে পুলিশের এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, এত দ্রুত তদন্তের একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। সেখানে অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যে ভবন ব্যবহার করে গণপতির ছাদে উঠেছিল সেই ছাদে তাদের জন্য নিরাপদ ছিল ইয়াবা সেবনের, কিন্তু তারা ঝুঁকি নিয়ে কেন গণপতির ছাদে গেল? গণপতির ছাদেই যদি ইয়াবা সেবন করতে যায় তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ কখন, কেন বিচ্ছিন্ন করল?
ঘুমন্ত প্রিয়মকে হত্যার কারণ কী? সিদ্ধার্থের বাসা গণপতির ভবনের প্রাচীর লাগোয়া তাহলে হত্যার পর তারা নিরাপদে সেখানে যেতে পারতেন, কিন্তু কেন তারা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেন? সিদ্ধার্থের বন্ধু গণপতির পাশের বাড়ি সীমান্তের বাড়িতে যদি তারা ইয়াবা সেবন করে থাকেন, তাহলে গণপতির ছাদে যেতে হলো কেন? প্রথমে ডাকাতির কথা বলা হলেও পরে মাদককে সামনে আনা হয়েছে। মাদকের কারণে নাকি পরিকল্পিত হত্যা, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
১৪ দিন আগে
রংপুরে ৪ জনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। তাদের মুখের কাছে পাওয়া তরল পদার্থ কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বার্নের কারণে নয়, মরদেহ পচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মুখের রং ও চেহারায় এমন পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মোবাইল ফোনে ইউএনবিকে এ তথ্য দেন চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস।
মরদেহগুলো উদ্ধারের পর তাদের মুখের কাছে তরল পদার্থ দেখতে পায় পুলিশ। নিহতদের মুখ ‘বীভৎস’ ছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ কারণে মরদেহে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
গতকাল (রবিবার) বিকেলে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী বলেছিলেন, ‘নিহতদের মুখগুলো প্রাথমিক অবস্থায় বীভৎস ছিল। মুখের কাছে কিছু তরল পড়ে ছিল। তাতে আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিলাম যে, কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে কি না। এটা ফরেনসিক করবেন যে ডাক্তার, তাকে আমরা বলেছি। তাদের বডিতে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে কি না। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে ফাইনালি এটা শিউর হতে পারব। শরীরে অন্য কোথায় ছিল না, শুধু সবার মুখগুলো বীভৎস ছিল।’
এ বিষয়ে ডা. বাবলু কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মৃতদেহ যখন পচে ওঠে, তখন পোশাকের বাইরে অংশগুলো অনেক সময় একটু কালো দেখায়। ওটা কোনো ধরনের কেমিক্যাল বার্ন বা এমন কোনো কিছু ছিল না।’
তিনি বলেন, কালো দেখাচ্ছে এটা ঠিক। এটা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু ওই যে বললাম, এটা ডিকম্পোজিশন প্রসেসে, মানে রক্ত যখন পচে যেতে থাকে, তখন রঙ আস্তে আস্তে এরকম হয়ে যায়। এটা কেবল একটি প্রক্রিয়া আর কি, পচনের একটা প্রক্রিয়া। সাধারণত মরে গেলে তাজা মানুষই দেখি, পচা মানুষ তো আর খুব বেশি দেখা যায় না, যে কারণে যে দেখেনি তার কাছে এমন মনে হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু এমনি কোনো কেমিক্যাল বার্ন-টার্নের চিহ্ন সেখানে নেই।
হত্যার বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেন, শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে। ধস্তাধস্তির ফলে বিভিন্ন জায়গায় হয়তো একটু আঘাত ছিল। এছাড়া অন্য কিছু নেই।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন পরিবারের অভিভাবক। স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রিয়ম ও মেয়ে আগামীকে নিয়ে ছিল তার সংসার। গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে তাদের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্বজনরা জানান, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা শনিবার বাড়িতে গিয়ে চারজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সেদিন রাতেই পুলিশ চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
গত শনিবার রাতেই প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গতকাল রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। তবে মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল থেকে রংপুর জেলা স্কুল, কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা বিক্ষোভ করছেন। আজও (সোমবার) আন্দোলন চলমান রয়েছে।
১৫ দিন আগে