হত্যা
জয়পুরহাটে চালককে হত্যা করে অটোভ্যান ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যাত্রী সেজে অটোভ্যান ছিনতাই ও চালককে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু কামাল।
গ্রেপ্তাররা হলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হাবিল উদ্দিন (৪১) এবং তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন (৪৭), জাকারিয়া (২৯) ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বিপ্লব (৩৭)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুর বাজার থেকে পাথরঘাটা যাওয়ার কথা বলে শাখাওয়াত হোসেনের অটোভ্যান ভাড়া করেন হাবিল। ভ্যানটি পাথরঘাটা সেতুর কাছে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে হাবিল লোহার শাবল দিয়ে শাখাওয়াতের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
পরে শাখাওয়াতের গামছা দিয়ে রক্তের দাগ মুছে গামছা ও শাবল সেতুর নিচে ফেলে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হাবিল। পরে চক্রের অপর সদস্য আনোয়ারের সহায়তায় ছিনতাই করা ভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। এরপর জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার শাবল, রক্তমাখা গামছা ও ভ্যান বিক্রির নগদ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি রাজু কামাল জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো দিক রয়েছে কি না, তা জানতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় সুমন নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার সুমন স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির চালক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে। সুমনকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লায় রওয়ানা দিয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। তবে কখন সংবাদ সম্মেলন করা হবে সেই বিষয়ে তিনি কিছুই জানাননি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
এই ঘটনার পর নিহত জান্নাতুলের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
৯ দিন আগে
রংপুরে চার খুন: আলামতে অস্তিত্ব মিলল দুই আসামির ডিএনএর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় এসব আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দুই আসামির অবস্থানের বিষয়ে তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যুক্ত হলো।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) যে আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং করাইছি, সেখানে আলামতে পাওয়া ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যাচ করেছে।’
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব নমুনা কার, তা শনাক্ত হয়নি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কথা জানায় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
৯ দিন আগে
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১২ দিন আগে
ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মীকে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মী সায়মনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামের আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। সেই সঙ্গে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে দণ্ডিত সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি বেতন পেয়ে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হন।
কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী সায়মনের পথ আটকান। তাদের এক ছোট ভাইকে সায়মন মেরেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তারা ভয়ভীতি দেখান এবং ‘কথা আছে’ বলে সায়মনকে সঙ্গে নিয়ে যান।
পরে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে দিয়ে তাকে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তারা চাকু বের করে সায়মনকে ভয় দেখান এবং তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দিতে বলেন। সে সময় সায়মন টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তিনজন পালিয়ে যান।
সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
ইউসুফ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ঘটনায় ইকবাল ও মেহেদী জড়িত থাকার কথা জানান তিনি।
এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও জানান ইউসুফ।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হত্যা এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১২ দিন আগে
লালমনিরহাটে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে আতিকুল ইসলামেদিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকায় বসতঘর থেকে মিতু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দুই বছর আগে মিতু আক্তারের সঙ্গে আতিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আতিকুল স্ত্রী মিতুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে পাঁচ মাস বয়সী মেয়ের কান্নাকাটির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায় ঘোষণাকালে আদালত উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া জব্দ করা আলামত ধ্বংসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বাদীর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
১২ দিন আগে
ফরিদপুরে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামী-শাশুড়ির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সুমি আক্তার হত্যা মামলায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) ও শাশুড়ি মোছা. রাহেলা বেগম (৫০)। এ মামলার অপর আসামি সুমির শ্বশুর খলিলুর রহমান তালুকদারকে (৫৫) খালাস দেওয়া হয়েছে। আতিয়ার বর্তমানে পলাতক এবং রাহেলা ও খলিলুর রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করে এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।
মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদারের সঙ্গে ২০১০ সালে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী নিহতের ভাই মো. সরোয়ার মোল্যা (৪৫) এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে আতিয়ার ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। তার পর থেকেই সুমিকে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সুমিকে নির্যাতন করা থামেনি বলে অভিযোগ করেন তার ভাই।
২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা কেশরাইল গ্রামে গিয়ে আতিয়ারের বাড়ির ঘরে খাটের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।
বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।
২০ দিন আগে
খুলনায় হোটেল কক্ষ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
খুলনা নগরীর আবাসিক হোটলের কক্ষ থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু নামের এক যুবককের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের কথিত স্ত্রী ফাতেমাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর থানার খানজাহান আলী রোডের কপোতাক্ষ আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্টান্ড রোডের লোকমান ফকিরের ছেলে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গেল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাবু ও ফাতেমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে অবস্থান করেন। তাদের উভয়ের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন ফাতেমা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অন্যদিকে, ফাতেমাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, বাবুর আরেকজন স্ত্রী রয়েছেন। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না বাবুর। ফাতেমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফলে ফাতেমা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল (রবিবার) রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে বলে ফাতেমা প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এরই জেরে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।
২৭ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে কুবি ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোয়ার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতীম আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে দয়া করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে অপ্রতিমের মরদেহ শেষবার দেখেন এবং তার মৃত্যুতে শোক জানান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ গতকাল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তার মায়ের আইফোন নিয়ে গেল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। তবে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
২৮ দিন আগে
তিন সপ্তাহ পরও উদঘাটন হয়নি বীনা রাণী হত্যার রহস্য
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রাণী রায় (৫৮) নামের এক গৃহকর্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। কারা, কী কারণে ও কী উদ্দেশ্যে ওই নারীকে হত্যা করেছে, তা এখনও অজানা। মামলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে নিহতের স্বজনদের।
গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর উপজেলার বরকইট গ্রামে নিজ ঘরে ধর্মীয় আচার হিসেবে মালা জপছিলেন বীনা রাণী রায়। ওই সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ছেলে তাপস কুমার রায় বলেন, ‘কারা ও কেন আমার মাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। এ কারণে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেলেও এখনও মায়ের হত্যার রহস্য জানতে পারিনি। আদৌ জানতে পারব কি না, সেটাও বুঝতে পারছি না।’
স্বামী দিলীপ কুমার রায় জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘর কর্মী। তাদের তিন ছেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায় বাড়িতে শুধু তারা দুজনই থাকতেন। ঘটনার দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। এ সময় তার স্ত্রী ঘরে বসে মালা জপছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে কে বা কারা পিটিয়ে আহত করেছে। খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রীর মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আমার স্ত্রী ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। সাধারণত পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া রাতে সে দরজা খুলত না। কিন্তু হামলার পর ঘরের দরজা স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। দরজা বা অন্য কোথাও ভাঙচুরের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমার ধারণা, পরিচিত কেউই তাকে হত্যা করেছে।’
নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, হামলাকারীরা কীভাবে ঘরে প্রবেশ করল, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।
কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি অনতিবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে আমরা কাজ করছি, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বিস্তারিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।’
৩৯ দিন আগে