হত্যা
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল আইনজীবীর
বাগেরহাটে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪৮) নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় ওই আইনজীবীর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
নিহত নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাগেরহাট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন।
বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান দিপু জানান, বাগেরহাট শহরে চেম্বারে কাজ শেষ করে প্রতিদিনের মতো নিজাম উদ্দিন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল গাতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় তিনি দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, মৎস্য ঘের নিয়ে এলাকায় নিজামের সঙ্গে বিরোধ আছে বলে শোনা যাচ্ছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এরেই মধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকারীদের আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তবে এখনও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আজ (শনিবার) সকালে আইনজীবী নেতারা বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হন। তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
৪ দিন আগে
গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিয়ান পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারী হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ লালন শেখের স্ত্রী ফরিদা খাতুন (৪০)।
ফরিদাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ছেলে মো. ফয়সালও গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাবের আলী পালু জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রতিবেশী মো. পরশ (১৮) নামের একটি ছেলে ফরিদা খাতুনকে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। তবে এর আগেই অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরে জানানো হবে।
৪ দিন আগে
নড়াইলে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ২ দিনের রিমান্ডে আসামি
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির (৩৫) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে তার রিমান্ড কার্যকর হয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সদর আমলী আদালতের বিচারক মারুফ হাসান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলার একমাত্র আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ (বুধবার) সকালে নড়াইল সদর থানায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত সোমবার উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনার পরদিন (মঙ্গলবার) সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় জনতা।
নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এদিকে, শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে ফাঁসির দাবিতে এসপি অফিসের সামনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে নড়াইল-মাইজপাড়া-মাগুরা সড়কে অবস্থান করেন ছাত্র-জনতা।
অপরদিকে, নড়াইল-বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর বিকেল ৩টায় নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।
নিহত জান্নাতুলের চাচা মুজিবুর রহমান বলেন, জান্নাতুলের বাবা মফিজুর রহমান গত সোমবার বিকেলে স্থানীয় হাট থেকে মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে আসেন। জান্নাতুল সেই মিষ্টি খেতে খেতে বাড়ির পাশের রাস্তায় ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে জান্নাতুলকে ডেকে নেন। ঘণ্টাখানেক পরও জান্নাতুল বাড়িতে না আসায় তাকে পরিবারের লোকজন আশপাশের বাড়িতে ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে অভিযুক্তের ঘরের মেঝে থেকে কাপড় দিয়ে ঢাকা জান্নাতুলের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত একাই তার ঘরে থাকতেন। তিনি বিবাহিত হলেও অনেক দিন ধরে তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিল না।
এ ব্যাপারে গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, শিশু জান্নাতুল মাওয়া জান্নাতিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে অপরাধীকে ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তের কাছে মোবাইল ফোন ছিল না। তবুও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তাকে শনাক্ত করতে। তার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হবে। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ধরনের আইনগত সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে। আশা করছি, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
জিয়া হত্যা: মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি জানান, মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।
৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা ৭৭ বছর বয়সী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হন। তার আগের দিন তিনি দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান ও বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি জিয়াউর রহমানের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান এবং তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
৮ দিন আগে
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী এলাকায় ১০ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আয়নীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আসামি রুবেল তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মামলায় তিনটি পৃথক ধারায় আসামিকে পৃথক ৩টি রায় দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাইলেন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার ডোবা থেকে আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার পর প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সী রুবেলকে আটক করা হয়। তাকে আটক করার পরই তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শিশুটির মরদেহের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলেছিলেন রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আয়নীর সঙ্গে আসামির আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে ভ্যান করে নিয়ে যান তিনি। পরে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, রুবেল শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যান। ভবনটিতে তার পরিচিত একজনের খালি বাসা ছিল। সেখানে রুবেল তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় আয়নী চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়র চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে সুযোগ বুঝে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যান। সেখান থেকে তিনি শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসেন।
আয়নী পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের বাসা ছিল পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় ।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) একজন পোশাককর্মী। শিশুটির বাবাও ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের জেরা শেষে আদালত আসামি মো. রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেন। আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে বিচারক আজ এই মামলার রায় দেন।
৯ দিন আগে
পাওনা টাকা চাওয়ায় নড়াইলে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলিনুর ফকির কুমড়ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিনুর ফকির রাতে ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই গ্রামের রাজিব শেখের কাছে পাওনা টাকা চাইলে আলিনুরের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজিব আলিনুরের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্ত রাজিব শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কুট্টাপাড়া এলাকার বাসিন্দারা।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কুট্টাপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা জিহাদ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। পরে হাইওয়ে থানা, সরাইল থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই রাতে কুট্টাপাড়া হাইওয়ে থানার পূর্ব পাশে একটি সেতুর কাছে কুট্টাপাড়া গ্রামের জিহাদ (১৭) নামের এক কিশোর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছেন।
১০ দিন আগে
চাঁদপুরে ডাকাতির সময় গৃহবধূকে হত্যা, আরেক নারী আহত
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে জানালা ভেঙে বসতঘরে ঢুকে রিগান আক্তার মিম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। এ সময় তাদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)। এ সময় ঘরে থাকা কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাওলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। নিহতের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে ও চার মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া জানান, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি তাদের ঘরে প্রবেশ করে ছুরি দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলেন। তিনি ভয়ে আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা হঠাৎ তার ওড়না দিয়ে দুই হাত বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তার কানের দুল, আলমারি থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যান ডাকাতরা। এরপর তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করেন।
তিনি আরও জানান, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তিনি তাকে সাহায্য করতে পারেননি।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালার কাছে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। তখন ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি চিৎকার করেন। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে আসেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা বাড়িটির বসতঘরের পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় পুত্রবধূদের দাদা-শ্বশুর নুরুল ইসলাম গেট খুলে দিলে স্থানীয়রা ঘরে প্রবেশ করেন। তারা ছোট গৃহবধূকে হাত বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অন্য ঘরে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। স্বজনরা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে স্থানীয় একজন চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাইয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন, গেটটি বাইরে থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ইউএনবিকে বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
১৪ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
যৌতুকের দাবিতে নিজের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রায় দুই বছর ১১ মাস পর স্বামী মো. লালন মোল্লাকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারের একটি ছেলে থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন তিনি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম সেদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
১৬ দিন আগে
ঝগড়ার জেরে স্বামীর খুনের ঘটনা ফাঁস করলেন নারী, দুজনেই আটক
খুলনার হরিণটানা এলাকায় প্রায় ৫ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ইজিবাইকচালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে হরিণটানা থানার রেলব্রিজ ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকায় মুরাদ মোল্লার বাড়ির সামনে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন—মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, রেলসেতু-সংলগ্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মুরাদের সঙ্গে তার স্ত্রী ফাল্গুনীর প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় কলহ বাঁধত। আজ (সোমবার) সকালে মুরাদ স্ত্রী ফাল্গুনীকে মারধর করলে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানা পুলিশকে অবগত করেন এবং মারুফ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশকে জানান, তার স্বামী মারুফ নামে এক ইজিবাইকচালককে হত্যা করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মারুফের ইজিবাইক বিক্রি করে দেন। ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে তার স্বামী মুরাদ মোল্লাকে আটক করে। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে চালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
তিনি বলেন, চালক মারুফ আসামিদের পূর্ব পরিচিত। গত রমজানের কোনো একদিন রাতে মারুফকে ফোন করে তাদের বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে গাড়িতে বসা অবস্থায় পেছন থেকে দড়ি বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওই দিন রাতেই বাড়ির উঠানে তাকে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এরপর তার ইজিবাইকটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করে দেন তারা।
ওসি আরও জানান, ইজিবাইকের একটি নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ইজিবাইকটি খালিশপুর থানার ৪/১ মুজগুন্নী মেইন রোডের বাসিন্দা মোল্লা মো. মোস্তফার। এ নিয়ে আটক দম্পত্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
১৬ দিন আগে