অভিযান
সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় দুটি বিষয়ে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো— আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। সেজন্য চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে সেই হিসেবে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করে সে হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি প্রদান করা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারব্যবস্থার মধ্যে ছিল, সে সময় অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন পুলিশকে সত্যিকার অর্থেই জনগণের বন্ধু মনে করে, আমরা পুলিশ বাহিনীকে সে লক্ষ্যে পরিচালিত করছি। আজকের মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ রাজনীতিক বলেন, ‘পুলিশ কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক নির্দেশে চলবে না বা কোনো পিতৃতান্ত্রিক সিস্টেম এখানে চলবে না; পুলিশ চলবে আইনানুগভাবে।’
মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে তারা আজ সংকল্প ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো আছে, তা স্মরণ করে দিয়েছি। আমি আশা করছি, তারা জনগণের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। তবে মন্ত্রী যদি চান, যেকোনো স্তরের কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ভঙ্গ করে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
ঢাকার যানজটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি প্রতিবেদন দেবেন।
এ সময় ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি সড়কে, যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
ব্রিফিংয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
রাজধানীতে মাদক কারবারীদের গুলিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ
রাজধানীর সায়েদাবাদের বাস টার্মিনালে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে মাদক কারবারিদের গুলিতে মো. সিদ্দিকুর রহমান (৩৮) নামে একজন ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সায়দাবাদ এলাকায় অভিযানের সময় ডিএনসির এই ইন্সপেক্টরকে গুলি করে পালিয়ে যান মাদক কারবারীরা।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ সার্কেলের উপপরিচালক রাজিউর রহমান জানান, ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের ৭টি টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল। আমাদের একটি টিম সায়দাবাদ রেললাইন এলাকায় অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ৩ জন মাদক কারবারীকে শনাক্ত করে আমাদের টিম। পরে তাদের মধ্য থেকে একজনকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে ৪ রাউন্ড গুলি করেন। এতে আমাদের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে পিস্তলের একটি গুলি লাগে। গুলি করে ওই মাদক কারবারীরা পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
সিলেটে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আটক ৮ যুবক
সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক দুই অভিযানে ৮ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া খেলার আলামত ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তীর-শিলং জুয়া খেলার সময় ৩ জনকে আটক করে।
আটকরা হলেন— সিদ্দিক মিয়া (৩০), দিরাব ওরফে সিরাজ (৫৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান দিদার (২৪)।
এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে, ওইদিন রাত পৌনে ১১টার দিকে জেলার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন বাগবাড়ি পশ্চিম কাজলশাহ সোনারবাংলা আবাসিক এলাকায় রবিউল ইসলামের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় আরও ৫ জনকে আটক করে পুলিশ।
আটকরা হলেন— মো. আলী (৪২), মো. মাহফিজুর রহমান (৩৮), মাছুম আহমদ (৪৫), তোফায়েল আহমদ (২৯) ও রবিউল ইসলাম (৪১)।
তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের মোট পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।
৭ দিন আগে
মাগুরায় বাড়ির পাশের ঝোপ থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার
মাগুরা সদর উপজেলার রাউতাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে সদর থানাধীর রাউতাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে পিস্তল দুটি উদ্ধার করা হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, ওই গ্রামে মৃত প্রদ্যুৎ কুমারের একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অভিযানের সময় ওই বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দুটি পিস্তলের মধ্যে একটির সঙ্গে ম্যাগাজিন ছিল, অপরটি ছিল ম্যাগাজিনবিহীন। তবে অস্ত্র জব্দ করা হলেও ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা যায়নি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমে জব্দকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাফিজুর রহমান।
এ বিষয়ে র্যাব জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কীভাবে সেখানে এলো এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধচক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
২৫ দিন আগে
উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। অভিযানে শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশপাশের এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি এখনও চলমান থাকায় আটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
যৌথ বাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাম্প নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়ম ভঙ্গ করে স্থানীয় বাঙালিদের জমি দখল করে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছেন। এটি কেবল আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনি আবহে এই বিশাল অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠীকে নাশকতামূলক কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আটক রোহিঙ্গাদের বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করা হচ্ছে। সেখান থেকে সরাসরি ক্যাম্পে ফেরত না পাঠিয়ে প্রথমে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে— তারা কেন এবং কাদের সহায়তায় ক্যাম্পের নির্ধারিত সীমানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ তাদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
২৬ দিন আগে
যশোরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০ গ্রেনেডসহ অস্ত্র উদ্ধার
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআইয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করা হয় উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের দড়িআগ্রা গ্রামে চুন্নু মোল্লার বাড়িতে।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ওই বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাড়ির সদস্যরা পালিয়ে যায়। অভিযানে মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮)। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অস্ত্র ও বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এগুলো দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এসব অস্ত্র জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারত।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রায়হান মোল্লাকে আটকে অভিযান চলছে।
৩৩ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গান পাউডার ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ গান পাউডার ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাব।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে র্যাব-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার ঘাড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন একটি লিচু বাগান থেকে ওইসব সরঞ্জাম জব্দ করে।
অভিযানে বাগানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা দুটি বাজার করার প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতর থেকে বিপজ্জনক আলামত উদ্ধার করেছে র্যাব।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—পলিথিনে মোড়ানো সাদা, কালো ও হলুদ বর্ণের মোট ৩ কেজি ৩০৬ গ্রাম গান পাউডার, বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত কাঁচের গুঁড়া ৮৫৫ গ্রাম, পাথর ৮০২ গ্রাম, লোহার পেরেক ১৮৭ গ্রাম, ২টি লাল রঙের স্কচটেপ, ১২টি জর্দার কৌটা এবং ৬টি গ্যাস লাইটার।
আজ (শনিবার) সকালে র্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাশ নামের এক ব্যক্তির লিচু বাগানে অভিযান চালিয়ে দুটি ব্যাগ সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সামনে ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা আলামতগুলো পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
সাভারে সরঞ্জামসহ ৩ জুয়াড়ি আটক
সাভারের হেমায়েতপুর কাঁচাবাজার এলাকায় অবৈধভাবে জুয়া পরিচালনা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্পের নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— অলিয়ার, সাজু মিয়া ও খলিল মিয়া।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ সময় আটকদের কাছ থেকে ভুয়া পুরস্কারের বিভিন্ন সামগ্রী, জুয়ার টিকিট, জুয়ার লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্র, নগদ অর্থ, একাধিক মোবাইল ফোন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনে ব্যবহৃত ধারালো ও লোহার তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় তাদের সাভার মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
৪৪ দিন আগে
সুনামগঞ্জের শতবর্ষী হিজল বাগান দখলদারদের ইউএনওর হুঁশিয়ারি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান দখল ও ধ্বংসের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সিদ্দিকীসহ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে রংচী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগান পরিদর্শন করেন ইউএনও।
অভিযানকালে বাগানের ভেতরে অবৈধভাবে মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন ও কৃষিকাজের প্রস্তুতির আলামত দেখতে পান তিনি। তারপর বনের ভেতরে জায়গা নির্ধারণ করে চাষাবাদের জন্য সমতল করা জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করে দেন এবং সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন তিনি।
একইসঙ্গে বাগানের ভেতরে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের কৃষিকাজ বা গাছ কাটার ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও বলেন, রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান শুধু একটি বন নয়; এটি এই এলাকার প্রাকৃতিক ঢাল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা, মাটি তোলা কিংবা চাষাবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই বাগান দখলের চেষ্টা করবে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উজ্জ্বল রায় আরও জানান, হিজল বাগানটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে বাগানটি ঘিরে সীমানা চিহ্নিতকরণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নতুন হিজল চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের দ্রত পদক্ষেপ না এলে ঐতিহ্যবাহী হিজল বাগানটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেত। বাগানটি সংরক্ষণে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
৬৬ দিন আগে
সাদাপাথর-জাফলংয়ে লুট: দুই দিনে ১ লাখ ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার
সিলেটের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে লুট হওয়া আরও ৪৫ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার দিনভর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব পাথর জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাতেই জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করে। এতে জানানো হয়, গত দুই দিনে মোট প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথরের অর্ধেক ইতিমধ্যে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা, মিডিয়া সেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, শুক্রবার দিনভর কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মোট প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর জব্দ হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথর পর্যায়ক্রমে সাদাপাথরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পাথর ব্যবসায়ীরা অভিনব কৌশলে এসব লুট হওয়া পাথর লুকিয়ে রাখছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাটিচাপা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ পাথর উদ্ধার হয়।
এর মধ্যে সাত ট্রাক পাথর ইতোমধ্যে সাদাপাথর এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও আনুমানিক পাঁচ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে, যা আজ শনিবার ফেরত পাঠানোর হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা, জেলা ব্র্যান্ডিং ও পর্যটন সেল) মাহমুদ আশিক কবির।
আরও পড়ুন: এক রাতের অভিযানে ১২ হাজার ঘনফুট পাথর ফিরল সাদাপাথরে
এদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন স্পট জিরো পয়েন্ট থেকে চুরি হওয়া পাথর উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে।
পিয়াইন নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাথর পূনরায় নদীতে প্রতিস্থাপনের লক্ষে জাফলং জিরো পয়েন্টে নৌকা দিয়ে ফেলা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের আধারে বৃষ্টির মধ্যে কিছু পাথর সরিয়ে ফেলছিল। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত পদক্ষেপ নিই। এরপর থেকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ ও বিজিবির টহল অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখান থেকে যে পাথরগুলো সরানো হয়েছে আমরা সেই পাথরগুলো খুঁজে বের করে সাড়ে ৮ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছি।’
তবে পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।’
২০২ দিন আগে