ঈদে মিলাদুন্নবী
রাতারাতি পুলিশের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করতে পারি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
তার ভাষ্য, ‘একটি ঘটনাও নাই! এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।’
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, যে আকাশসম উচ্চতার প্রত্যাশা—জনপ্রত্যাশা আমরা পেয়েছি, আমাদের যেটা প্রত্যাশা আছে, সবকিছু আমাদের একসাথে বিবেচনায় নিতে হবে।’
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, তাদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করার কাজ একসঙ্গে করতে হচ্ছে এবং সরকার তা করে যাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংগঠিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের আওতায় আনে নাই।’
তিনি বলেন, ভঙ্গুর মনোবল ও দুর্বল অবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাওয়ার পর গত ছয় মাসে তাদের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং তারা পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।
রংপুরের ৪ খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই ঘটনা সংগঠিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
‘এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই, প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা অ্যাড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।’
ক্ষেত্রবিশেষে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করার ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবকিছুই আপনারা জানেন, এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।’
তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রত্যাশিত ও জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তাদের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভালো ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পুরস্কার, সনদ ও পদক দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ দেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব, তাতে জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে।’
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শান্তি, ক্ষমা, ধৈর্য, সাম্য, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
বর্তমান বিশ্বে ইসলামের শান্তির বাণী অনুসরণ করা হলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বার্থের সংঘাত, অর্থনৈতিক সংঘাত এবং পরস্পর স্বার্থের জন্য যুদ্ধবিগ্রহ—এগুলোর কোনোকিছুই থাকবে না যদি আমরা শান্তির পথে, সাম্যের পথে থাকি এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি।’
এ সময় দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
১৩ দিন আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল দিয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আজ বুধবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দুদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, দুদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিবসে সরকারি ছুটি থাকায় আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরে পণ্য খালাস করা ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো ফিরে যেতে পারবে।
১৩ দিন আগে
চট্টগ্রামে জশনে জুলুস র্যালিতে অংশ নিয়ে নিহত ২
চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস র্যালিতে অংশ নিয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এদের একজন ভিড়ের চাপে, অন্যজন একটি সেতু ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সোয়া দুপুর ১২টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে মো. মাহফুজ (৩৫) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত শামসুল আলমের ছেলে। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, আজ (শনিবার) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে মাহফুজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ভিড়ে পদদলিত হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫
অপরদিকে, মোহাম্মদপুর ষোলশহর এলাকায় মানুষের ভিড়ে একটি ছোট ব্রিজ ভেঙে পড়ে একজন নিহত ও কমপক্ষে দশজনের মতো আহত হয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, জসনে জুলুস শেষ করে লোকজন চলে যাওয়ার সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে।’
৩৬৭ দিন আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৃথক বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। এদিন সরকারি ছুটি।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। আজ সেই মহিমান্বিত দিন, যেদিন আল্লাহর সর্বশেষ রসুল, হজরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় আগমন করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর আগমন মানবজাতির জন্য বয়ে আনে রহমত, শান্তি ও মুক্তির বার্তা। তৎকালীন আরব সমাজের অন্যায়, অসত্য ও অন্ধকার দূর করে মানুষকে তিনি আলোর পথ দেখান।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরান নাজিল করে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর জগতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে হজরত মুহাম্মদ (সা.) অসীম ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমগ্র পৃথিবীতে পবিত্র কোরানের মর্মবাণী ছড়িয়ে দেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহানবি (সা.) একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকলের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং মুসলমানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে উম্মতদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিটি কথা, কর্ম ও জীবনাদর্শ সকল মুসলমানের জন্য অবশ্য অনুসরণীয়।
পড়ুন: যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হবে
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর বাণীতে বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’তথা সমগ্ৰ বিশ্বজগতের জন্য রহমত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েত ও নাজাতের জন্য প্রেরণ করেছেন।
তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন ‘সিরাজাম মুনিরা’ অর্থাৎ আলোকোজ্জ্বল প্রদীপরূপে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, দাসত্ব ও পাপাচারের অন্ধকার থেকে মানুষকে মুক্তি ও আলোর পথ দেখাতে শান্তি, প্রগতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আল্লাহর প্রতি অসীম আনুগত্য ও ভালোবাসা, অনুপম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, অপরিমেয় দয়া ও মহৎ গুণের জন্য পবিত্র কোরানে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনকে বলা হয়েছে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ অর্থাৎ সুন্দরতম আদর্শ। তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য যে অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন, তা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে।
দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে এবং জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল (হিজরি) তারিখে পবিত্র মক্কায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। এ দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাই দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের উপলক্ষ।
৩৬৮ দিন আগে
যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হবে
১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আগামীকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপিত হবে।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসহ সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এএফএম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে জাতীয় পতাকা এবং কালিমা তাইয়্যেবা লেখা ব্যানার ও পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কিরাত ও নাত প্রতিযোগিতা, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক আসর, আরবি খুতবা রচনা প্রতিযোগিতা, সেমিনার আয়োজন এবং বিশেষ স্মারক প্রকাশ। এছাড়া ১২ রবিউল আউয়াল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রাঙ্গণে দুই সপ্তাহব্যাপী ইসলামী বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে, আর পত্রপত্রিকা প্রকাশ করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
পড়ুন: ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারের বর্ণাঢ্য জাতীয় কর্মসূচি
দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন, ওয়াকফ প্রশাসক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হজ অফিসগুলো আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, নাত পাঠ এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এসব কর্মসূচিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা এবং ইসলামের শান্তি, অগ্রগতি, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারী মর্যাদার বার্তা তুলে ধরা হবে।
শিশুদের জন্য বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নাত পাঠ, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে।
এ উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু নিবাস ও বৃদ্ধাশ্রমে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করবে।
৩৬৮ দিন আগে
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ (১২-১৭ রবিউল আউয়াল) উপলক্ষে ঢাকায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
এসময় বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূলকে (সা.) রাহমাতুল্লিল আলামীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, রাসূল (সা.) হলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য পাঠানো পূর্ণাঙ্গ রহমতস্বরূপ, যার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তার এই রহমত পৌঁছে দিয়েছেন। কোনো বিশেষ জাতি বা যুগ নয়, রাসুলের মাধ্যমে পাঠানো এই রহমতের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য বহমান থাকবে। এছাড়া আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগে মানবতা যখন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা মক্কার কুরাইশ বংশে মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) পাঠিয়েছেন। যিনি এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর মানুষকে মুক্তি দিশা দেখিয়েছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্মের মূল কাণ্ডারী হিসেবে সবার জন্য যেসব পরামর্শ ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিয়ে গেছেন তাতে তার আনুগত্য ও অনুসরণ করাই ইসলামি উম্মাহর ঐতিহাসিক ও অগ্রসরমাণ পথ চলার মূল কথা যা মুসলমানদের মধ্যকার সকল বিভেদ ও বিভাজনকে দূর করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: ঢাকায় ইমাম খোমেইনীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জনাব মানসুর চাভোশি, ঢাবির কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান ও সাবেক জেলা দায়েরা জজ মো. ইসমাইল মিয়া।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান।
আরও পড়ুন: জার্মানিতে বিএনপির আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
৭১৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দেওয়ানবাগ শরীফে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করায় দেওয়ানবাগ শরীফে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) ফজরের নামাজের পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ দরবার শরীফের অনুসারীদের।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বিএনপির ৫ নেতার বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ
স্থানীয়রা জানায়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করায় দেওয়ানবাগ শরীফে ভাঙচুর, লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে দেওয় হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নেভায় এবং বন্দর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: যশোরে ইউপি সদস্যের ঘরে অগ্নিসংযোগ, শিশুসহ দগ্ধ ৪
৭৩২ দিন আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুই দেশের মাঝে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ।
আরও পড়ুন: হিলিতে মোটরসাইকেলচাপায় আদিবাসী নারী নিহত, চালক আটক
তিনি জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সরকারি ছুটি হওয়ায় সকাল থেকে এই বন্দর দিয়ে দুই দেশের মাঝে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় দুইদিন পর আগামী শনিবার থেকে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফ বলেন, সরকারি ছুটির কারণে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আরও পড়ুন: জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
ভারত ৪০% শুল্ক আরোপ করায় হিলি দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমেছে
১০৭৬ দিন আগে
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ঈদে মিলাদুন্নবী
বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। সে হিসেবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।
শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার।
আরও পড়ুন: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী
সভায় জানানো হয়, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা পাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায় নি। ফলে আগামীকাল শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. বশিরুল আলম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মহা. আসাদুর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি ২০ অক্টোবর
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বঙ্গভবনে মিলাদ মাহফিল
১০৮৯ দিন আগে
দৌলতদিয়ায় ৩ কিমি. দীর্ঘ যানজট
কয়েক দিনের টানা ছুটি, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ’ গাড়ি। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট ছাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গাড়ির যাত্রীরা দুই-তিন ঘন্টার বেশি ধরে আটকে রয়েছেন।
রবিবার বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গাড়ির চাপ বাড়ে। সেই সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ফরিদপুরের আটরশিগামী গাড়ি ফিরতে থাকায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এসব গাড়ি মিলে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট ছাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার লম্বা গাড়ির লাইন তৈরি হয়।
এছাড়া শারদীয় দূর্গাপূজা সহ সাপ্তাহিক ছুটিতে থাকা অনেকে কর্মস্থলের দিকে ছুটছে। ওই সব মানুষবাহী গাড়ির চাপও রয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই প্রথম যানবাহনের এতবড় লম্বা লাইন তৈরী হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা ছুটি, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ’ গাড়ি। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট ছাড়িয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গাড়ির যাত্রীরা দুই-তিন ঘন্টার বেশি ধরে আটকে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর উত্তরা থেকে মহাখালী পর্যন্ত যানজট, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৬টি ফেরির মধ্যে বর্তমানে চলাচল করছে মাত্র ১০টি ফেরি। এরমধ্যে ৫টি রো রো (বড়), ৪টি ইউটিলিটি (ছোট) এবং ১টি কেটাইপ ফেরি চালু রয়েছে। অবশিষ্ট ফেরি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭টি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ৪টি ঘাট। এরমধ্যে পানির নাব্যত কমতে থাকায় ৭নম্বর ঘাটের একটি পকেট বন্ধ রয়েছে। পন্টুনের সংস্কার কাজ চলায় রবিবার সকাল থেকে পকেটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ৬ নম্বর ঘাটটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরির জন্য। সবচেয়ে ব্যস্ততম এবং বড় ৫ নম্বর ঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। ৪নম্বর ঘাট শুধুমাত্র ভিআইপি ফেরির জন্য সচল থাকে। ৩নম্বর ঘাটটি গতকাল শনিবার সারাদিন একটি পকেট যান্ত্রিক সমস্যায় বন্ধ ছিল, বর্তমানে সচল রয়েছে। বাকি ১ এবং ২ নম্বর ফেরি ঘাট ২০১৯ সালে ভাঙনে বিলীন হয়। পরে সংস্কার করলেও ঘাট দুটি চালু হয়নি।
দৌলতদিয়া ঘাট পরিবহন শ্রমিক মো. রানা শেখ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি সংখ্যা বেশি থাকলেও গাড়ির স্বল্পতায় সবকটি ফেরি চালু করা হয়না। শনিবার সাপ্তাহিক ও ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছে। আবার পূজাসহ সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে কেউ কর্মস্থলের দিকে ছুটতে থাকায় শনিবার রাত থেকে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া ঘাটে গাড়ির চাপ পড়ে। এরপর সবকটি ফেরি চালু না করায় দৌলতদিয়া প্রান্তে গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে।
ফরিদপুরের আটরশি ফেরত আলামিন শেখ নামের এক বাসযাত্রী বলেন, গতকাল শনিবার রাতে তারা গাজীপুর থেকে তিনটি বাস বোঝাই করে আটরশিতে যান ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করতে। রাত শেষে সকালে মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠান শেষে দুপুরের পর রওনা করেন। তাদের মতো এরকম শতাধিক আটরশি ফেরত গাড়ি দুই ঘন্টার বেশি লম্বা লাইনে আটকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন অফিস সময়: সকালেই রাজধানীতে তীব্র যানজট
কুষ্টিয়া থেকে আসা লালন পরিবহনের ঘাট তত্বাবধায়ক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, রবিবার দুপুর থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। অনেকে রয়েছেন যারা সাপ্তাহিক ছুটি শেষে নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। অনেকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি কাটাতে ছুটছেন। এছাড়া ফরিদপুরের আটরশি ফেরত অনেক গাড়ি আসায় বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর প্রথম ঘাট থেকে প্রায় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার যানবাহনের লাইন তৈরি হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ১৬টি ফেরি রয়েছে। যানবাহনের চাপ না থাকায় মাত্র ১০টি ফেরি চালু রেখে বাকিগুলো পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় বসিয়ে রাখা হয়। রবিবার দুপুর থেকে ছুটি ও ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে চাপ বাড়তে থাকায় গাড়ির লম্বা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা বসিয়ে রাখা ফেরিগুলো নামাতে পারি।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনার জেরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৫ কিমি দীর্ঘ যানজট
১৪৩০ দিন আগে