কোরবানি
সিলেটে কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে আহত অর্ধশতাধিক
ঈদুল আজহায় সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২০ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতরা চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অধিকাংশই কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় অসাবধানতাবশত দা ও ছুরির আঘাতে আহত হয়েছেন। এছাড়া গরুর লাথি ও শিংয়ের আঘাতেও কয়েকজন আহত হন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে অদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাবই প্রধান কারণ। আহতদের বেশিরভাগই পেশাদার কসাই নন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জামান বলেন, কোরবানির পশু জবাইয়ের কাজ করতে গিয়ে সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি ২০ জন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
ঢাবির পরিসংখ্যান ৮৮ ব্যাচের উদ্যোগে কুড়িগ্রামের চরে কোরবানির মাংস বিতরণ
ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কালির আলগা চরের দরিদ্র মানুষের মাঝে কোরবানির গরুর মাংস বিতরণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে যাত্রাপুর ইউনিয়নের কালির আলগা চরে আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রমে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নদীবেষ্টিত ও বিচ্ছিন্ন চরের মানুষের জন্য এমন সহায়তা ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, ইউপি সদস্য হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
২৩ ঘণ্টা আগে
হাট ব্যবস্থাপনা ও জাল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাল টাকা শনাক্তে হাটে বিশেষ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাট এলাকায় ব্যাংকিং সেবা রাখা হয়েছে, যাতে বিক্রেতারা নিরাপদে অর্থ জমা দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে নতুন হিসাব খুলেও অর্থ সংরক্ষণ করতে পারেন।
রবিবার (২৪ মে) সকালে রাজধানীর দিয়াবাড়ী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ দেশে রয়েছে এবং এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশের কৃষক ও খামারিরা যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন করেছেন, তা কোরবানির চাহিদা পূরণে যথেষ্ট।
পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বড় হাটগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হারিয়ে যাওয়া পশু উদ্ধারে মাইকিং, তদারকি ও তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হারানো পশু দ্রুত উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ভারতীয় বা সীমান্তপথে আসা গবাদিপশুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার সীমান্তে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোরবানির আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো মূলত পশুর গঠন, স্বাস্থ্য, আকৃতি ও বাহ্যিক মান বিবেচনায় দরদামের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। ফলে একই ধরনের পশুর দাম ভিন্ন হতে পারে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক বা ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ ও নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে হাজারো বিক্রেতা ও ক্রেতার উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন। বাজারের প্রতিযোগিতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়।
তিনি জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বেচাকেনা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করেছে এবং ঈদ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম, ডা. মো. সফিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
৫ দিন আগে
ফেনীতে অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীর গরু ছিনতাই
ফেনীতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য আনা এক ব্যবসায়ীর গরুর পালে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুরে অবস্থিত র্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মানুষের থেকে ঋণ নিয়ে ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য ১০টি গরু ক্রয় করি। ফেনীর র্যাব ক্যাম্পের পাশেই গরুগুলো বেঁধে রেখে পাহারা দিচ্ছিলাম। শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ ৪/৫ জন ব্যক্তি এসে আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন আমার চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করলেও আটকাতে পারেনি। আমি গরুটি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
স্থানীয়রা জানায়, অনেকেই লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু এনে ফেনীর হাট বাজারে বিক্রি করছেন। এভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, রামপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
৭ দিন আগে
পশু ক্রয় থেকে মাংস সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান বাকৃবির বিশেষজ্ঞদের
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে ভিড় বাড়ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড, গ্রোথ হরমোন ও ক্ষতিকর ওষুধ দিয়ে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজা করছেন। পাশাপাশি কোরবানির হাট থেকে অ্যানথ্রাক্সসহ প্রাণঘাতী রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে। আবার কুরবানির পর সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মাংসের গুণগত মান। এসব বিষয়ে নিয়েই ইউএনবির বাকৃবি প্রতিনিধির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক।
কৃত্রিম মোটাতাজা করা গবাদিপশু চেনার উপায়
বাকৃবির ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর নাক শুকনো থাকে, শরীর থলথলে হয় এবং দেহে অতিরিক্ত পানি জমে।
তিনি জানান, এসব গরু অল্প হাঁটলেই হাঁপিয়ে যায়, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেশি থাকে। আঙুল দিয়ে চাপ দিলে শরীর দেবে যায় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। রানের মাংস অস্বাভাবিক নরম হয় এবং হাড় তুলনামূলক দুর্বল থাকায় দুর্ঘটনায় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ড. মোহাম্মদ আলম আরও জানান, এসব গরুর খাওয়ার আগ্রহ কম, জাবর কাটে না এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হয়। দীর্ঘ পথ হেঁটে হাটে আসার পর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না।
প্রাকৃতিক উপায়েও গরু মোটাতাজা করা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে ২ থেকে ৪ বছর বয়সী সুস্থ গরু বেছে নিয়ে সুষম খাদ্য, নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ, ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ব্যবহার এবং পরিষ্কার পরিবেশ নিশ্চিত করলে ৩ থেকে ৬ মাসেই গরু ভালোভাবে মোটাতাজা করা সম্ভব।
পশু কেনার সময় শুধু আকার নয়, আচরণ, শ্বাস-প্রশ্বাস, নাকের অবস্থা ও চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। সন্দেহ হলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি।
পশুরহাটে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি
বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আমিমুল এহসান জানান, সম্প্রতি রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে চামড়ায় ক্ষত ও চোখ ফোলার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস বা দেহের যেকোনো অংশের সংস্পর্শে এলে এ রোগ মানুষের শরীরেও ছড়াতে পারে। নিয়মিত টিকাদান এবং হাটের প্রবেশপথে বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত পশু সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, পশু অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশের আগেই মারা যায়। লক্ষণ দেখা দিলে পশুর তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। মৃত্যুর পর নাক, মুখ ও পায়ুপথ দিয়ে আলকাতরার মতো কালো রক্ত বের হয় যা বাতাসের সংস্পর্শে স্পোর তৈরি করে দীর্ঘদিন সংক্রমণ ছড়াতে পারে। জীবিত পশুর ক্ষেত্রে জিহ্বা, নাক বা গলায় কালচে দাগ ও ফোসকা এবং অস্বাভাবিক উত্তেজনা বা অতিরিক্ত শান্তভাব লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
খুরা রোগকেও চিন্তার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাতাসের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়াতে পারে এবং কোরবানির সময় মহামারি আকার নিতে পারে। দিনাজপুর বা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা একটি আক্রান্ত গরু পুরো পথজুড়ে এবং হাটের আশপাশের সব গরুর মধ্যে জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে।
কোরবানির পর অবিক্রিত পশু হাট থেকে আক্রান্ত হয়ে নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে সুস্থ পশুকেও সংক্রমিত করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। অসুস্থ পশু চিকিৎসা করে সুস্থ না করে হাটে আনা উচিত নয় বলে খামারিদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আমিমুল এহসান আরও বলেন, হাটে যাওয়ার সময় শরীরে কোনো ক্ষত বা কাটা থাকলে ঢেকে যাওয়া জরুরি কারণ ক্ষতস্থান দিয়ে অ্যানথ্রাক্স বা টিটেনাসের জীবাণু সহজেই প্রবেশ করতে পারে। পশুর সংস্পর্শে আসার পর সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করা এবং হাটের বর্জ্য ও রক্ত যত্রতত্র না ফেলা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
ভালো গরু চেনা ও মাংস সংরক্ষণ
বাকৃবির অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ ইউএনবিকে জানান, ভালো মাংসের গরুর শরীরে মাংসের বিন্যাস সমান ও মসৃণ হবে। রানে অতিরিক্ত মাংস জমা বা আঙুরের থোকার মতো অস্বাভাবিক ক্লাস্টার থাকলে সেই মাংস কম সুস্বাদু হয়। গলার নিচের ঝুলন্ত অংশ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকলে তা শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, ৩৫০ কেজির বেশি ওজনের গরুতে চর্বি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। গুণগত মানের মাংসের জন্য ২০০ থেকে ২৫০ কেজি ওজনের দুই দাঁতের দেশি গরু উপযুক্ত বলে তিনি মত দেন। দাঁত দেখতে না পেলে শিংয়ের গোড়া মোটা হলে বুঝতে হবে গরুটি ক্রয়যোগ্য।
মাংস সংরক্ষণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আজাদ বলেন, পশু জবাইয়ের পর মাংস সরাসরি মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ডিপ ফ্রিজে রাখা সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে মাংসের স্বাভাবিক বায়োকেমিক্যাল প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে এবং পরে ডিপ ফ্রিজ করার সময় মাইক্রো স্ট্রাকচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মাংস ছিবড়ে হয়ে যায়।
তিনি বলেন, জবাইয়ের পর মাংসের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। এটি ধীরে ধীরে ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে প্রায় ১৬ ঘণ্টা এবং এরপর প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো এসিডে রূপান্তর হতে আরও ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে মাংস থেকে পুরোপুরি পুষ্টি পাওয়া যায় না।
সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, মাংস ১–২ কেজি করে প্যাকেট করে প্রথমে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সাধারণ ফ্রিজে ২৪–৪৮ ঘণ্টা রাখতে হবে। এই ধাপ সম্পন্ন হলে তারপর ডিপ ফ্রিজে স্থানান্তর করলে মাংস ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ভালো মানে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এছাড়া গরুর মাংসের আসল স্বাদ ও গন্ধ পেতে হলে জবাইয়ের অন্তত তিন দিন পর রান্না করা উচিত বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।
৭ দিন আগে
কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
পবিত্র ঈদ উল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সকল মসজিদে খতিব ও ইমামগণ যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদরাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, তা যেন সফল হয়, সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সিটি করপোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ
• প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার
• বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ
• স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান
• পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
• অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ
• সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।
১৫ দিন আগে
কোরবানির চামড়ার দাম বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সমানভাবে কার্যকর হবে।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য এবারও সরকার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করবে। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী এবং মসজিদ-মাদরাসার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগামী কোরবানির ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেবে। তারা কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ করবেন।
এর আগে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন।
১৬ দিন আগে
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
চামড়ার বাজারে এবারও হতাশা, গোড়ায় গলদ রেখে দাম নির্ধারণ
এবারের ঈদুল আজহায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর চামড়ার বর্ধিত নতুন দাম নির্ধারণ করে দিলেও নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হয়নি বলে অভিযোগ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, মূল সমস্যা সমাধান না করে চামড়ার দাম বাড়ালেই বাজার চাঙ্গা হবে না।
কোরবানির প্রথম ৭২ ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে সবচেয়ে বেশি চামড়া এসেছে লালবাগের পোস্তায়। কাঁচা চামড়ার এ আড়তে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শহরের নানা জায়গা থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছেন চামড়া। তবে তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না তারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দর অনুযায়ী, এ বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
ট্যানারির হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বর্গফুট কিংবা এর চেয়ে বেশি আকারের চামড়াকে বড়, ২০ বর্গফুটের ওপরের চামড়াকে মাঝারি এবং ২০ বর্গফুটের নিচের চামড়াকে ছোট চামড়া হিসেবে ধরা হয়।
এ হিসাবে সর্বনিম্ন দাম ধরলেও একটি বড় চামড়ার দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০০ টাকা, মাঝারি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৫ ফুটের ছোট চামড়ার দাম হয় ৯০০ টাকা। কিন্তু মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করতে পারছেন। এর চেয়ে বেশি দামে কোনোভাবেই চামড়া বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
চামড়া ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘কোরবানির দিন বিকালে প্রতি পিস চামড়া ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছি। ৯০০ টাকা দাম বলে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও ক্রেতা পাওয়া যায়নি।’
একই অভিযোগ জানিয়ে আরেক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মিলন সরকার বলেন, ‘কেউ ফুট মেপে চামড়া কেনেনি। পিস হিসেবে গড়পড়তা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেছি। সরকার দাম বাড়িয়েছে শুনে মাদরাসা–লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে বড় বিপদে পড়তে হয়েছে।’
আরও পড়ুন: অনভিজ্ঞতার কারণে চামড়া নষ্ট হয়েছে, মেলেনি কাঙ্ক্ষিত দাম: শিল্প উপদেষ্টা
কেন সরকারের নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে পোস্তার আড়তদাররা জানান, এবার চামড়ার বাজার আগেরবারের চেয়েও খারাপ। নির্ধারিত দামে চামড়া কিনলে লোকসান দিয়ে ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করতে হবে।
এ বিষয়ে কাঁচা চামড়ার সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘যারা চামড়ায় অর্থলগ্নি করত, এবার তাদের অনেকেই এ ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী আগের সরকারের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন, তারা পলাতক। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের হাতে নেই নগদ টাকা। আগে যে ব্যবসায়ী ১০ হাজার পিস চামড়া কিনতেন, এবার তারা কিনছেন ৫ হাজার পিস করে।’
এ ছাড়া পোস্তায় প্রচুর নষ্ট চামড়াও এসেছে উল্লেখ করে টিপু বলেন, ‘৩০ শতাংশেরও বেশি চামড়া পচে গেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লবণ না লাগিয়ে কাঁচা চামড়া নিয়ে এসেছেন। বিক্রি করতে করতে অনেক চামড়া হয় পচে গেছে, না হলে মান হারিয়েছে। সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা লবণ না দিয়ে চামড়া এনেছেন। এতেও দাম অনেক কমেছে।’
৩৫৩ দিন আগে
কোরবানি: হাটগুলোতে জমে উঠছে পশু কেনাবেচা
ঈদুল আজহার প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় অস্থায়ী গবাদিপশুর হাট গড়ে উঠতে শুরু করেছে। জমে উঠছে পশু কেনা-বেচাও।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন এবং হাটগুলোও দ্রুত কোরবানির পশুতে ভরে উঠছে। এরইমধ্যে ব্যাপক পশু কেনা-বেচার মৌসুম শুরু হচ্ছে ঢাকায়।
স্থানীয়ভাবে যেগুলোকে ‘কোরবানি হাট’ বলা হয়, সেগুলো প্রতি বছর ঈদুল আজহা শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে বসে, যাতে পর্যাপ্ত পশুর চাহিদা মেটানো যায়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে সরকারি হাটগুলো সাধারণত ঈদের দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বসতে থাকে।
এই বছর, মে মাসের শেষ সপ্তাহে কার্যক্রম শুরু হয়, যখন মফস্বল এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগল এবং মহিষ নিয়ে আসেন। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী দেশ ভারতের ও নেপালের কিছু পশুও এসেছে। কিন্তু সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে এই সংখ্যাটা সীমিত।
আরও পড়ুন: কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ
২০২৫ সালে, ঢাকা শহরে ১৮টি সরকারি গবাদিপশুর হাট বসেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে, গাবতলী—শহরের একমাত্র স্থায়ী হাট, সাথে সাদেক হোসেন খোকা প্লে-গ্রাউন্ড, ধোলাইখাল, বাসিলা, কমরাঙ্গীরচর, ইস্টার্ন হাউজিং, মিরপুর ও উত্তরা সেক্টর ১৫-এর মতো অস্থায়ী স্থানগুলো।
এছাড়াও কিছু এলাকায় অনুমোদনবিহীন ছোট ছোট হাট গড়ে উঠতে শুরু করেছে। বিভিন্ন হাট পরিদর্শনে দেখা গেছে দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে। অধিকাংশ বাঁশের কাঠামো তৈরি হয়েছে, বিক্রেতারা ও কৃষি খামার মালিকেরা তাদের স্থান চিহ্নিত করেছেন সাইনবোর্ড দিয়ে।
শহরের দৃশ্যমান পরিবর্তন হচ্ছে, পশু বোঝাই পিকআপ-ট্রাক ব্যস্ত রাস্তায় চলাচল করছে এবং তৈরি হচ্ছে ত্রিপলের ছাউনিযুক্ত অস্থায়ী খাঁচা।
তবে ব্যবসায়ী ও খামারিরা বলছেন, ‘কয়েক বছর ধরে গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এতে গরু পালনে ব্যয় বেড়েছে। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি।’
গাবতলী হাটের পাশ দিয়ে নিয়মিত অফিসে যান মিরপুরের বাসিন্দা জামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন অফিস যাত্রায় গাবতলীর পাশ দিয়ে যাই। বাজারটি এখনই বেশ ভিড়, দাম খুব বেশি। লোকজন পছন্দের পশু কিনতে দরকষাকষি করছেন।’
এ বছর খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে কথা বলেন পাবনা থেকে এক পশু ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। জ্বালানি দাম ও টোলের কারণে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারছি না। ক্রেতারা চমক আশা করেন, কিন্তু আমাদের অনেক খরচ হয়েছে।
দনিয়া কলেজ মার্কেটে ফরিদপুর থেকে আসা আব্বাস আলী তার ছয়টি বলদ নিয়ে বললেন, ‘মানুষ দামাদামি করছেন। কিন্তু বিক্রি কম হচ্ছে। শুরুতে অবশ্য বিক্রি কম হওয়ারই কথা।’
এ সময়ে পশুখাদ্য বেড়ে যাওয়া ও পরিবহন খরচের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা
হাট এলাকায় সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনগুলো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, পরিচ্ছন্ন পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মোবাইল পশুচিকিৎসা সেবা, সিসিটিভি নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তা টহল।
প্রতারণা ও চুরি প্রতিরোধে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। অনলাইনে গবাদিপশু বিক্রির প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পশুর হাটের ভিড় এড়াতে ও লেনদেনের সুবিধার কারণে লোকজন অনলাইন মাধ্যমে পশু ক্রয় করছেন।
তবে কয়েকটি সমস্যা রয়ে গেছে। হাট এলাকা সংলগ্ন সড়কে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশুর বর্জ্যের কারণে স্যানিটেশন সমস্যা বাড়ছে। অনিয়মিত ও বেআইনি হাটগুলোর বিস্তার তত্ত্বাবধানে জটিলতা সৃষ্টি করছে, আবার চাহিদা ও সরবরাহে ওঠানামা দামেও প্রভাব ফেলছে।
তবুও কোরবানির উৎসাহ কমেনি। গবাদিপশুর হাট এখন পুরো গতিতে চলছে। যার মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরে এক দুর্দান্ত ব্যবসায়িক মৌসুম শুরু হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা সুরক্ষিত ও সফল মৌসুমের প্রত্যাশায় রয়েছেন, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন ঘটছে।
আরও পড়ুন: কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিতে সংরক্ষণে সহায়তা দেবে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা
লেনদেনের জন্য ব্যাংকের সময় বাড়ল
কোরবানি মৌসুমে আর্থিক লেনদেনের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে হাট সংলগ্ন ব্যাংক শাখাগুলোকে ৩ জুন থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অস্থায়ী ব্যাংক বুথও গড়ে তোলা হচ্ছে বাজারে, যেখানে নগদ জমা, উত্তোলন ও হিসাব খোলার সেবা প্রদান করা হবে।
আবহাওয়ার সতর্কতা
জুনের প্রথমার্ধে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সিটি কর্পোরেশনগুলো হাট এলাকায় দ্রুত নর্দমা ব্যবস্থা বাড়াচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা কামরুল হালকা রসিকতা করে বলেন, ‘ঈদের আগে বেশি বৃষ্টি হলে হাটগুলোতে কাদা মেলা হবে—শান্তিতে পশু কেনাবেচা সম্ভব হবে না।’
তবুও ঢাকা দৃঢ়সংকল্পে এগিয়ে চলছে। পশুর হাট কেবল বাণিজ্যের উৎস নয়, আস্থা, ধৈর্য্য ও উৎসর্গের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে।
৩৬২ দিন আগে