মহাসড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেছেন একদল পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে নগরীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা।
অবরোধের ফলে সড়কের দুধারে অসংখ্য যানবাহন আটকে চরম যাত্রী দুর্ভোগ হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর দেড়টার দিকেও অবরোধ চলছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একজন হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থী আলিফ বলেন, বৈরি পরিবেশের মধ্যেও গতকাল (সোমবার) পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কঠিন পরীক্ষার আগেও পর্যাপ্ত বন্ধ দেওয়া হয়নি। উল্টো অতীতের চেয়ে এবার প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে। এমনকি সিলেবাসের বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানেই পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার পরও এক বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সব বোর্ডে তা স্থগিত করা হয় নি। সমস্যাগুলো সমাধান না করেই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কটুক্তি করেছেন তাই আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।
এছাড়াও তারা এই পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলছেন। আশাকরি, খুব শিগগিরই অবরোধ উঠে যাবে।
৩ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। এ সময় তারা কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ সেন্টারপাড়া এলাকায় স্থানীয় আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি হাজার বিড়ি তৈরিতে ৬১ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মজুরি ৮১ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তবে, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি দেননি। এর প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি ভেঙে সড়ক অবরোধে নেমেছেন।
শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম ও টিপু বলেন, সকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না আসেনি। ফলে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬১ টাকার মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যাত্রী ও পথচারীদের অনেকেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। দুপুরের তীব্র রোদে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে মজুরি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
৩৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুড়িমারী-পাটগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার জোড়াপুকুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতিকারী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর শত শত সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। তারা লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা শেষ করে ফিরছিলাম। কিন্তু জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমার গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মাঠের পরিস্থিতি যদি এমন অস্থিতিশীল হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারাবে। এমতাবস্থায় আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি।’
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রার্থীর কাছে গিয়েছি এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। উত্তেজিত সমর্থকদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৫৮ দিন আগে
বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীতে মহাসড়ক অবরোধ
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে কারিগরি শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীসহ বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই অবরোধ করেন।
এ সময় মহাসড়কের দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূর্ভোগে পড়ে মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ যাত্রীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও অবরোধ চলছিল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশ করেছে সরকার। সরকারকে এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
তারা আরও জানান, সহকারী প্রকৌশলী পদে বরাবর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পান। তবে গতবছর এ পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুযোগ চেয়ে আন্দোলন করেন বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু করেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। আমরা এমন সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারণ উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি বরাবরই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের জন্য ছিল।
আন্দোলনে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী রবিন মিয়া, ফাহিম আহমেদ, রিয়াদ হোসেন, মো. সাজ্জাদ, মো. তামজিদ ও সিয়াম মিয়া।
১৬৩ দিন আগে
গাজীপুরে অটোরিকশা চালকদের মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার
গাজীপুরের শ্রীপুরে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি ও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন অটোরিকশা চালকরা। পুলিশের চেষ্টায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে শ্রীপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অটোরিকশাচালক একত্র হয়ে এই অবরোধ শুরু করেন।
এ সময় তারা মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের বৈধ অনুমতি প্রদান এবং অযৌক্তিক পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজটে পড়ে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে তাদের।
১৭৩ দিন আগে
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ‘কুষ্টিয়ার জনসাধারণ’-এর ব্যানারে শহিদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে এসে জড়ো হন এবং সেখানে সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেন।
হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা যতক্ষণ না প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তারা।
বিক্ষোভকারীদের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের দুই ধারে কয়েকশ যানবাহন এ সময় আটকা পড়ে। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এরপর দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
২০১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বাসচাপায় স্কুলছাত্র নিহত, প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ইমাম ইসলাম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দিঘীরহাট এলাকায় ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমাম উপজেলার সিংগিমারী শস্য গুদাম এলাকার সৌদি প্রবাসী নুর ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় হাতীবান্ধা সহর উদ্দিন সরকার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৪ জন নিহত
পুলিশ জানিয়েছে, স্কুল ছুটির পর মহাসড়ক হয়ে বাড়ি ফিরছিল ইমাম। দিঘীরহাট এলাকায় পৌঁছালে বুড়িমারী থেকে আসা ঢাকাগামী ‘ফাওমিতা পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় সে।
স্থানীয়রা জানান, তারা বাসটি আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও চালক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এতে সড়কের দুপাশেই বেশকিছু যানবাহন আটকা পড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় কুমার জানান, ঘাতক বাসটি আটক রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩১৬ দিন আগে
মরদেহ নিয়ে মায়ের মহাসড়ক অবরোধ: সেই ছেলে জীবিত উদ্ধার
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নিখোঁজের পর লাশ শনাক্ত করে দাফন করা হলেও ১৭ দিন পর রবিউল ইসলাম নাইম (১৪) নামের ওই কিশোরকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নাইম ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার এলাকার গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, নাইম ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার-সংলগ্ন ব্রাহ্মণগ্রাম সুপ্রিম ফিলিং স্টেশন মার্কেটের বগুড়া রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিল। গত ২৬ জুলাই ওই রেস্তোরাঁ থেকে নিখোঁজ হয় সে। এরপর গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে রবিউলের পরিবার লাশটি তাদের ছেলের বলে শনাক্ত করে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।
সে সময় রবিউলের পরিবারের অভিযোগ ছিল, বগুড়া রেস্টুরেন্টের মালিক বুলবুল মিয়া তাদের ছেলে রবিউলকে হত্যা করে কুলাউড়ায় লাশ ফেলে রেখেছেন।
লাশ উদ্ধারের পর ওসমানীনগর ও কুলাউড়া থানায় মামলা করতে চাইলে প্রথমে দুটি থানাই গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। কিন্তু লাশ দাফন করা হলেও গেল শুক্রবার (২২ আগস্ট) সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ, নিখোঁজের ১৭ দিন পর রবিউলকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলের নানার বাড়ি। রবিউল তার নানার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। শুক্রবার হঠাৎ তার পরিবারের লোকজনই তাকে খুঁজে পেয়ে কুলাউড়া থানাপুলিশকে খবর দিলে পুলিশ রবিউলকে হেফাজতে নিয়ে শনিবার মৌলভীবাজার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠায়। ঠিক কি কারণে সে আত্মগোপনে ছিল, তা সে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, রেস্তোরাঁর মালিকের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে সে আত্মগোপনে ছিল।
আরও পড়ুন: সিলেটে ছেলের মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে মায়ের বিচার দাবি
এদিকে, কুলাউড়া রেলস্টেশনের পাশের ডোবা থেকে যে কিশোরের লাশ উদ্ধার করে সেটি রবিউলের বলে করে দাফন করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ওই কিশোরের পরিবার বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়নি। তবে যদি কেউ ওই কিশোরের খোঁজ নিতে আসেন, কিংবা দাবি করেন, তাহলে আগের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার লাশ পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক কওমি বলেছেন, রবিউলের পরিবার থেকে যে মামলাটি করা হয়েছে তা হয়তো নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। যেহেতু এটি হত্যা মামলা ছিল এবং এখন রবিউলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাই মামলাটি শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগের লাশ উদ্ধার ও দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩২৭ দিন আগে
বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, আমরণ অনশন
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের তিন দফা দাবিতে নগরের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসংলগ্ন মহাসড়ক ও সদর রোড অবরোধ এবং আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ছাত্রজনতা পৃথক দুটি স্থানে অবরোধ শুরু করে। এতে দুই সড়কে যানবাহন আটকে যাত্রীদের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশি সহায়তায় বিকল্প পথ ব্যবহার করে অধিকাংশ যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে সাত দফা দাবিতে সোমবার বেলা ১১টা থেকে হাসপাতালের প্রধান ফটকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
এর আগে, টানা আন্দোলনের ১৮তম দিনে সাড়ে চার ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেন সংগঠক মহিউদ্দিন রনি।
তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা, রোগীদের হয়রানি এবং স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাঙার তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’
মহিউদ্দিন রনি জানান, রবিবার ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সরাসরি আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের পর তিন দফা দাবির প্রতি সুস্পষ্ট আশ্বাস চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় শেষ হলেও তিনি বরিশালে আসেননি। তাই দাবির পক্ষে তারা বরিশাল ব্লকেড কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বরিশালবাসীর আর্তনাদ এখনও মন্ত্রণালয় পর্যন্ত পৌঁছায়নি, সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েনি। শেবাচিম হাসপাতালে রোগীদের ওপর দুর্নীতি, ভোগান্তি ও অবহেলা চলতে থাকলে আন্দোলন কঠোর হবে।’
অবরোধ চলাকালে কুয়াকাটা থেকে আসা যানবাহনগুলো নগরের সি অ্যান্ড বি রোডের চৌমাথা থেকে নবগ্রাম রোড হয়ে কাশিপুর চৌমাথা দিয়ে বিকল্প পথে পাঠানো হয়। এতে যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে না থেকে বিকল্প পথ ব্যবহার করে মহাসড়কে যুক্ত হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। একই পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী গাড়িগুলোও চলাচল করেছে।
অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেও যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে সময় বেশি লাগায় ভোগান্তি ছিল।
অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা অ্যাম্বুল্যান্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ইমার্জেন্সি লেন তৈরি করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
আরও পড়ুন: টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন সিকদার জানান, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আজও মহাসড়ক ও সদর রোড অবরোধ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গত ১৯ দিন ধরে তিন দফা দাবিতে ছাত্রজনতা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
৩৩৭ দিন আগে
ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার ইস্যুতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, থানা ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আসামি ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও তাদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে থানার সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি শেষে থানার সামনে শান্তিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার সময় পুলিশ অতর্কিত লাঠিচার্জ করলে পটিয়া থানা চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আশরাফুল ইসলাম তৌকির (২১) ও সাইফুল ইসলাম (১৭) গুরুতর আহত হয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঘরে ফিরেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি শেষ করে থানার মোড়ে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সেখানে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ নেতা দীপংককে দেখতে পেয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় ছাত্ররা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল রাতেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
আহত আশরাফুল ইসলাম তৌকির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম। দীপংকরকে দেখে পুলিশকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই পুলিশ আমাদের ওপর আক্রমণ চালায়। কোনো কারণ ছাড়াই তারা লাঠিচার্জ করে।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক গোলাম মওলা মাশরাফ বলেন, ‘পুলিশ এখন বট, দুই নম্বর ও ফাও হয়ে গেছে। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজদের রক্ষা করছে আর নিরীহ ছাত্রদের পেটাচ্ছে। আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, এই বিপ্লব মরার জন্যই করছি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরতে ব্যর্থ পুলিশ এখন আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে। তবে আমরা থেমে থাকব না।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নওশাদ জানান, ‘আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ছাত্রদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় তারা বলেন, ‘ওসি ও সংশ্লিষ্ট এসআইদের অপসারণসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ঘটনার বিচার না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাহেদ মো. নাজমুন নূর বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগের এক নেতাকে থানায় নিয়ে এসে মব সৃষ্টি করে মারধর করেছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ৩-৪ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।’
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বুধবার সকাল থেকে ওসির অপসারণের দাবি করে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন ছাত্ররা। তবে বিকল্প সড়ক বাইপাস দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
৩৮০ দিন আগে