লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুড়িমারী-পাটগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার জোড়াপুকুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছালে একদল দুষ্কৃতিকারী শিহাব আহম্মেদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রার্থীর ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রার্থীর শত শত সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। তারা লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা শেষ করে ফিরছিলাম। কিন্তু জোড়াপুকুর এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আমাদের ওপর পরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমার গাড়ি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মাঠের পরিস্থিতি যদি এমন অস্থিতিশীল হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস হারাবে। এমতাবস্থায় আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কিনা, তা নিয়ে আমি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি।’
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রার্থীর কাছে গিয়েছি এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। উত্তেজিত সমর্থকদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই হামলার ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’