ফরিদপুর
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক সবজি বিক্রেতাকে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার চান সরদার (৪২) ও তার ভাই তারা সরদার (৩৫) এবং বাবুল আকন্দ (৩৬)। তাদের মধ্যে রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া পলাতক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে ফয়সাল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ফয়সাল ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার মৃত আকু শেখের ছেলে ছিলেন।
এ ঘটনার পরের দিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় চান সরদার, তারা সরদার ও শাহিন সরদারের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, ফয়সাল শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলি সেতু-সংলগ্ন এলাকার সবজি বিক্রেতা ছিলেন। অন্যদিকে, আসামি চান সরদার আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার আগে ফয়সালের সঙ্গে আসামি চান সরদারের মনোমালিন্যের জেরে কথা কাটাকাটি হয়। এর মধ্যে ঘটনার দিন দুপুরে ফয়সাল শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এলাকায় পৌঁছালে তাকে কৌশলে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নিয়ে যান চান সরদার। সেখানে ওঁৎ পেতে থাকা অন্য আসমিরা ফয়সালকে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করেন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ফরিদপুর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া। তিনি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই চারজন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাতে তিনি উল্লেখিত তিনজন আসামিসহ তদন্তপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাবুল আকন্দের নাম সংযুক্ত করেন। এ মামলার শুনানি চলাকালে শাহিন সরদার (২২) মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান (খোকন) বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে আদালতে হত্যাকাণ্ডটি সন্দেহতীতভাব প্রমাণিত হয় এবং তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি দুজন পলাতক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
১ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশুধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যাক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) খেত দেখতে গিয়েছিল। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরে শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করান। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এরপর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
৬ দিন আগে
ফরিদপুরে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে অটোরিকশাচালক নাঈম শেখ হত্যা মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলার আরেক আসামি আশিক শেখের শিশু আদালতে বিচার চলছে ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ (পারিবারিক আপিল আদালত) আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: আসমত শেখ ও সাগর মোল্লা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটোরিকশাচালক নাঈম শেখকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
ওই ঘটনার পরদিন ২২ এপ্রিল নিহতের ভাই রাসেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসমত শেখ, আশিক শেখ ও সাগর মোল্লাকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান বলেন, আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসমত শেখ ও সাগর মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অপর আসামির বয়স কম হওয়ায় শিশু আদালতে তর বিচার চলছে।
তিনি বলেন, ‘এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে।’
৮ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
যৌতুকের দাবিতে নিজের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা প্রায় দুই বছর ১১ মাস পর স্বামী মো. লালন মোল্লাকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। এটি ছিল লালনের দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম সংসারের একটি ছেলে থাকলেও সাজেদা-লালন দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। লালন স্থানীয় একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। ২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। এ সময় টাকা দিতে না পারায় স্ত্রীকে মারধর করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন তিনি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম সেদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় ঘোষণার পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
১৬ দিন আগে
ফরিদপুরে কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় সড়কের দুই প্রান্ত থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে বহু যানবাহন আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মৌজী মহসরদি গ্রামবাসীর সঙ্গে মানিকদি ইউনয়নের পুখরিয়া, ব্রাহ্মনকান্দাসহ ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। গ্রাম্য আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কয়েক গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
৩১ দিন আগে
ফরিদপুরে হাত-পা কাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় হাত-পা কাটা অবস্থায় পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) নামে এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়ক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পান্নু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে সালথা বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহটি উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় লোকজন সড়কে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আল ফাহাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাটখেতের ভেতরে তাকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। মরদেহের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
৩৪ দিন আগে
পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ফরিদপুরের ডিবির ওসি প্রত্যাহার
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গেল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে এবং মায়ের সামনেই মারধর করে। পরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
৩৬ দিন আগে
বাণিজ্যিক আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ফরিদপুর
একসময় ধান ও পাট উৎপাদনের জন্য পরিচিত ফরিদপুর এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক আম চাষের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা এবং লাভজনক বাজার ব্যবস্থার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই ফল চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬ কোটিরও বেশি টাকা। উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। বর্তমানে এসব বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের আম চাষ এবং আধুনিক পরিচর্যার ফলে উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধুখালীর জাহাপুর এলাকার আমচাষি কামাল হোসেন বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় আম চাষে উৎপাদন খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছর নতুন নতুন কৃষক ও উদ্যোক্তা আম চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
৫০ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
মৃত শিশুটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ মাস বয়সী তানহাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬২ জন ভর্তি হয়েছে। একইসময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
৫৪ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আমন ধানের জমিতে চাষাবাদের সময় ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে জয় বিশ্বাস (২০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা, জয় বিশ্বাস বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ওই ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। সে সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন জয়। রাতে তার সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তখন কেউ জানতে পারেনি।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল, পুরোটা ডুবে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়া বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৫৪ দিন আগে