ফরিদপুর
ফরিদপুরে দুই উপজেলাবাসীর সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে দুই উপজেলার সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান মাতু্ব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগিসংযোগ করে সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
১ দিন আগে
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপির ৩, জামায়াতের ১ প্রার্থী জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের কোনো প্রার্থী বিজয় অর্জন করলেন বলে জানান স্থানীয়রা। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা হয়। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান মোল্যার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে ফরিদপুর-১ আসনে।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী। এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। । মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ প্রয়োগ হয় এ আসনে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৫৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ।
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। এখানে ৮ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ।
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
২ দিন আগে
ফরিদপুরে ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা
ফরিদপুরে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তানজির ইসলাম। তিনি দেওরা এলাকার বাসিন্দা। বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ‘ধানের শীষের’ পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে আমরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্বাচনী আইন-২০২৫ এর ১৩ (চ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় তাকে নির্বাচনি আইন ১৯৭২ এর ৯১(বি)(২) ধারা মোতাবেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ দেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।
৪ দিন আগে
ফরিদপুর-১: ভোটকেন্দ্রের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজারে ভোটকেন্দ্রের পাশে মাংসের দোকানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজারে ভোট কেন্দ্রের পাশে মাংসের দোকান থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির মো. তাইজুর রহমান বলেন, এটি বোমা নয়। তবে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে। তবে এটি মারাত্মক কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি ব্যাটারি ও তার প্যাচানো অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
৪ দিন আগে
ফরিদপুরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ব্যালট পেপার ও গণভোটের ব্যালট হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে ফরিদপুর জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এ কার্যক্রম। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তা ও নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধির কাছে এ ব্যালট পেপার হস্তান্তর করা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ছাপানো ব্যালট পেপার প্রথমে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর আজ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালটগুলো বুঝে নেন ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের ৯ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগের দিন সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে। ব্যালট পেপার হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘ব্যালট পেপার হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। তাই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি।’
ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনে এবারে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৮ জন প্রার্থী। এ জেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন।
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে কারাবন্দিসহ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১৭৯৮৮ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরে জেলা কারাগারের বন্দিসহ মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
এর মধ্যে জেলখানার ৫২ জন বন্দি ও ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। এই প্রথম কারাগার থেকে বন্দি ও কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ৫২ জন বন্দির মধ্যে ২ জন নারী বন্দিও রয়েছেন।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে মোট ১ হাজার ২৪৪ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জন নারী বন্দি আছেন।
মোট বন্দির মধ্যে ৫২ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে ১০ জন হাজতি ও ৪২ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন। আগ্রহী দুইজন নারী বন্দিও সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর হাজতি ও কয়েদিদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগ্রহী বন্দিদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের জন্য দুইটি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বুথ স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, জেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।
১৪ দিন আগে
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ফরিদপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফিরলেন আইনজীবীরা
ফরিদপুরে আইনজীবীরা ‘কোর্ট বর্জন’ করায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বৈঠকের পর বিচার কার্যক্রম সচল হয়েছে।
ফরিদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আজ (বুধবার) দুপুর পর্যন্ত চলে বলে জানিয়েছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু।
তিনি বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।’
তাই আইনজীবী সমিতি গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই কোর্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি।
আইনজীবী পিলু বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ও দায়রা মহোদয়ের আহ্বানে আমরা সমিতির কর্মকর্তা, সিনিয়র আইনজীবী ও বিজ্ঞ বিচারকগণ দীর্ঘ বৈঠক হয়। পরে বিচার বিভাগ আইনজীবী সমিতির দাবির বিষয়টি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন এবং তাদের অনুরোধে আইনজীবীদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।’
বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি:
এদিকে, আদালতের চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন বিচারপ্রার্থীরা।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় অপেক্ষায় থাকলেও আইনজীবীরা না আসায় আজ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম শুরু হতে দেখা যায়নি।
জেলার আলফাডাঙ্গা থেকে আসা এক বিচার প্রার্থী বলেন, ‘এই আদালতে আইনজীবীদের কোর্ট বর্জন চলছে এটা জানা ছিল না, আমি ৫৫-৬০ কিলোমিটার দূর থেকে শহরে এসেছি । বিষয়টি আগে জানা থাকলে এতো কষ্ট করতে হতো না।’
একই রকম কথা বলেন সালথা থেকে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী। তিনি বলেন, আদালতে বিজ্ঞ বিচারক ও আইনজীবীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। কারণ আদালতে যে পরিমাণ মামলার জট তাতে যদি এভাবে আইনজীবীরা কর্মসূচি দেন তাহলে বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
উল্লেখ্য, ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল থেকে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করে।
১৮ দিন আগে
ফরিদপুরে বিচারকের আচরণ ঘিরে চলছে আইনজীবীদের আদালত বর্জন
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিনি আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে রুঢ় আচরণ ও অশোভন ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে এক জরুরি সভা ডেকে ওই আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও (বুধবার) আইনজীবীদের আদালত বর্জন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধানে আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ জিয়া হায়দার।
সমিতির সভাপতি আইনজীবী খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারক সেলিম রেজা আইনজীবী এবং মামলার পক্ষদের সঙ্গে নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রুঢ় ব্যবহার করেন। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সমিতি এই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আইনজীবীদের সঙ্গে এমন আচরণ সহ্য করা যায় না। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্ট বর্জন ঘোষণার পরই জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান কিছু মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আইনজীবীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু আদালতে কর্মপরিবেশের মান রক্ষা নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার আহ্বায়ক আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন জানান, ফরিদপুরের আইনজীবী সমাজ এই প্রেক্ষাপটে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাতে আদালতের মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা বলছেন, আদালত হলো ন্যায়ের শেষ ঠিকানা, আর সেখানে সকল পক্ষের প্রতি শালীন ও সম্মানজনক আচরণ অপরিহার্য।
১৯ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কে নয়াপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। এ সময় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত দুইজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২২ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১
ফরিদপুরের মধুখালীতে অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী।
মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে আটক হন ওই গ্রামের বাদল সরকার (৫২)।
অভিযানে বাদলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, ২টি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যে খবর পায়, বাদল নিজস্ব ওয়ার্কশপে নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করতেন। সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে বলেও জানান সেনাবাহিনীর এক সদস্য।
সেনা ক্যাম্প সূত্র আরও জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বাদলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর উদ্ধার অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তাকে মধুখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে বাদলের বিরুদ্ধে। তাকে আজ (শনিবার) আদালতে পাঠানো হবে।
২৩ দিন আগে