ফরিদপুর
প্রশাসনের উদ্যোগে খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা নিরসনে প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে শান্তি ও সম্প্রীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘাত থেকে সরিয়ে এনে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
খারদিয়া এলাকার নেতৃত্বে মুশফিক বিল্লা জিহাদ, অন্যদিকে ময়েনদিয়া এলাকার নেতৃত্বে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষের ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিরোধের জেরে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দুই পক্ষের মানুষকে শান্ত করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন।
ছোট্ট এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসানের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের এই আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হয়েছে।
সালথা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে খারদিয়া ও ময়েনদিয়ার মানুষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে দুই এলাকার মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সনাক সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, অবশ্যই সাধুবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা প্রশাসনকে, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ যদি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়, ওই দুটি অঞ্চলের জন্য এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে দফায় দফায় আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এই আধিপত্য নিয়ে আর যেন মানুষের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার ইউএনও দবিরউদ্দিন বলেন, মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান, উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাও প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের সদিচ্ছার দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে বোয়ালমারীর ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমরা সবসময় চেষ্টা করে চলছি।
প্রশাসনের এই কর্মকর্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ দিনের বিরোধী দুই পক্ষকে প্রাথমিকভাবে মেলানো সহজ ছিল না। তবে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
৫ দিন আগে
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পরদিন গতকাল রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে জিহাদপন্থি লোকজন ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালায়। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। গেল শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন গতকাল রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৮ দিন আগে
ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজন হলেন চয়ন (২৩)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের হাসানহাটি গ্রামের এনায়েতের ছেলে। তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্য দুজন হলেন: একই গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন (২০) এবং আজগার শেখের ছেলে সিয়াম ওরফে সজিব (২২)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বাতেনসহ কয়েকজন জানান, নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে সড়কের দিকে তাকিয়ে তারা দেখতে পান, একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক সড়কে ছিটকে পড়েছেন। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক চয়ন গুরুতর মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহত নয়ন ও সিয়ামকে গুরুতর অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে তাদের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকতার হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের আমরা ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের সজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৯ দিন আগে
ফরিদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন মোল্লা (১৯) ও উসমান বেপারী নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি রিয়াজ বেপারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ওই আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মোল্লা ও উসমান বেপারী ফরিদপুর সদর উপজেলার চর দুর্গাপুর হাজীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া ঘাটে যায় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী। সেখানে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও তিনি না আসায় কিশোরী তার আত্মীয় রিয়াজ বেপারীকে বিষয়টি জানান। পরে রিয়াজ মোটরসাইকেলে করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রিয়াজের মাধ্যমে কিশোরীকে ফরিদপুরের ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে সুমন ও উসমান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে অন্যত্র রেখে পালিয়ে যান তারা।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমন ও উসমানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে রিয়াজ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
এদিকে, অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
১৬ দিন আগে
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় এক নারীর মৃত্যু, ১১ রোগী ভর্তি
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় একজন নারী মারা গেছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া নারী নাসরিন সুলতানা (৩০) ভাঙ্গা উপজেলার চৌধুরীকান্দা এলাকার মিরাজ শেখের স্ত্রী। তিনি দুই পুত্র সন্তানের জননী।
নাসরিনের স্বামী মিরাজ শেখ জানান, গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ আগস্ট দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত রবিবার জ্বরে আক্রান্ত হলে তার স্ত্রীকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করা হলেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে দেয়নি চিকিৎসক। পরে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক দেখিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মিরাজ শেখ আরও বলেন, ‘আগেই যদি জানতে পারতাম আমার স্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত, তাহলে হয়তো আরও আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা আরও জোরালোভাবে করা যেত।’
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬৩ জন। বর্তমানে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার এ সিভিল সার্জন। একইসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
১৮ দিন আগে
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) ও একই গ্রামের নাসির মোল্যা (৩৬)।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশ পাহারায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলার ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আসামি নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসেন। খবর পেয়ে মেয়েটি সেখানে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান।
পরে আসামিরা তাকে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে নদীর চরে নিয়ে যান। সেখানে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। সে সময় তারা মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ও ছবি ধারণ ধারণ করেন তারা। পাশবিক নির্যাতনে ভুক্তভোগী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে পুনরায় নৌকায় করে নদীর পাড়ে ফিরিয়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ভুক্তভোগীর স্বজনরা ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় হাজির হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ (মঙ্গলবার) এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, ‘আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।’
২১ দিন আগে
কার পার্কিং নিয়ে তর্ক, জনসমক্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লেন যুবক
ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে প্রাইভেটকার থেকে অজ্ঞাত যুবকের এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জনসমক্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন ওই যুবক। এ ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে ২ জন আহত হয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গুলি ছোড়া ওই যুবকের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী একটি প্রাইভেট কার ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে থামিয়ে চা খেতে নামেন এক যুবক ও যুবতী। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন ওই যুবককে বলেন, ‘ভাই, প্রাইভেট কারটি সাইড করে দাঁড়ান।’ এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই যুবক গাড়িতে ঢুকে পিস্তল বের করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এরপর প্রাইভেটকার নিয়ে তারা দ্রুত খুলনার দিকে চলে যায়।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব।
২১ দিন আগে
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা
ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ৫টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়ায় করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈম উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার বিষয় উঠে আসে।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময় হাসপাতালটির নানা অব্যবস্থাপনার সত্যতা পাওয়া যায়। যার মধ্যে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) অব্যবস্থাপনা, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের শয্যায় মনিটর না থাকা এবং ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে। পরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচারসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এছাড়া একই এলাকার আরও ৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন সিভিল সার্জন। লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনা করার অপরাধে এসব হাসপাতালের কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অভিযান শেষে সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সেগুলো বন্ধ করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ যাতে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। সেই লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
আল-জারা হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন এবং সহকারী অধ্যাপক। এই হাসপাতালে এসে অস্ত্রোপচার করা তার ঠিক হয়নি। তার বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেব এবং তাকে শোকজ করা হবে।’
৩৫ দিন আগে
ফরিদপুরে হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাই
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হরিরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৪ টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের হরিরহাট বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকানের মালামালসহ ব্যবসায়ীদের ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
হরিরহাট বণিক সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা মাতুব্বর জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর হঠাৎ করেই বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, বাজারের ব্যবসায়ী হাশেম মিয়া, আজিজ মুন্সী, পরেশসহ চারজনের দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে মুদি ও কাঁচামালের দোকান ছিল।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় তিন-চারটি গ্রামের মানুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দোকানগুলোর সঙ্গে ভেতরে থাকা মালামালও পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
৩৬ দিন আগে
সৎ মাকে হত্যার ১০ বছর পর আপন মাকেও ‘কুপিয়ে হত্যা’ করল যুবক
ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আপন মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ১৬ বছর আগে একইভাবে তার সৎ মাকেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যারডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
নিহত নারী ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী সামেলা বেগম (৬০)। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে এ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। কয়েকদিন আগেও তিনি তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এর জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরা না থাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাকে কোপাতে থাকেন। এতে তার মায়ের মাথা কেটে মগজ বের হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, ২০১৬ সালে সৎ মাকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন রহিম। ওই ঘটনায় প্রায় ৬ বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। পরে তার বাবা তাকে জামিনে বের করে আনেন। এরপরও তিনি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। তার থাকার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের মেয়ে কাকলি আক্তার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে আমি কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হতো। আমি যখন বেরিয়ে যাই, তখন তিনি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুপুরে মাকে মেরে ফেলছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।’
ঘটনাটি নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, ছেলেটি তার মাকে কোনো কিছু দিয়ে উপুর্যপুরি আঘাত করে পালিয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মরদেহ দেখতে পাই। প্রায় ১০ বছর আগে অভিযুক্ত তার সৎ মাকে হত্যা করে ৬ বছর কারাগারে ছিলেন। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে তার পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছে।’
তার থাকার ঘর থেকে উদ্ধার করা মাদক সেবনের সরঞ্জাম আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৪০ দিন আগে