ফরিদপুর
বাণিজ্যিক আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ফরিদপুর
একসময় ধান ও পাট উৎপাদনের জন্য পরিচিত ফরিদপুর এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক আম চাষের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা এবং লাভজনক বাজার ব্যবস্থার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই ফল চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬ কোটিরও বেশি টাকা। উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। বর্তমানে এসব বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের আম চাষ এবং আধুনিক পরিচর্যার ফলে উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধুখালীর জাহাপুর এলাকার আমচাষি কামাল হোসেন বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় আম চাষে উৎপাদন খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছর নতুন নতুন কৃষক ও উদ্যোক্তা আম চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
১০ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
মৃত শিশুটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ মাস বয়সী তানহাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬২ জন ভর্তি হয়েছে। একইসময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
১৪ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আমন ধানের জমিতে চাষাবাদের সময় ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে জয় বিশ্বাস (২০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা, জয় বিশ্বাস বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ওই ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। সে সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন জয়। রাতে তার সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তখন কেউ জানতে পারেনি।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল, পুরোটা ডুবে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়া বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১৪ দিন আগে
ফরিদপুরে ঈদের ছুটিতে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত ৪৩৭, প্রাণ গেছে ৬ জনের
ঈদের ছুটির পর থেকে ফরিদপুরে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। এ সময়ে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
বুধবার (৩ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান হাম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩৮ জন।
গতকাল (সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি (গত ২৬ মে থেকে ২ জুন) পর্যন্ত ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। আর এই সময় প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।
এ ছাড়াও, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫৭ জন। যার অধিকাংশই শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গ্রামে এসেছে সে সকল অভিভাবকের শিশুদের মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন।
ডা. নিরঞ্জন আরও বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
১৫ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও ২ প্রাণহানি, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান গত ১ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১৯০ শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৫
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার ছেলে আরিফ ইসলাম (২৪), একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮), রাকিব (১৮) এবং প্রাইভেট কারের অজ্ঞাতপরিচয় চালক (২৫)।
আহতরা হলেন: আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)। তারা সবাই প্রাইভেট কারের যাত্রী ছিলেন।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটি ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাকিব নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। নিহত চালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারের চালক ট্রাকের পেছনে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
১৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও তিন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দিন জানান, ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ফরিদপুরগামী একটি বিআরটিসি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
২৬ দিন আগে
ফরিদপুরের চলন্ত ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ২
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত একটি ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কায় ২ জন নিহত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) ভোর ৫টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল খান জানান, ভোর পাঁচটার দিকে আতাতি ফ্লাইওভার-সংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী গাছের চারাবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে আরেকটি মাছবাহী ট্রাক দ্রুত গতিতে ধাক্কা দেয়। এতে মাছবাহী ট্রাকের দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা দুজন মাছবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারী।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৩২ দিন আগে
ফরিদপুরে বাসচাপায় ঝরল বাবা-ছেলের প্রাণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় ট্রাকটির চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজন সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোল প্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর তাদের মরদেহ সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী সহকারী হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।
এ ব্যাপারে শিবচর হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পেছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের ওপর একপাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গাগামী দ্রুতগতির একটি বাস পেছন থেকে এসে তাদের দুজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ঘাতক বাস ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের চালক এবং বাবা সহকারী ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
৩৪ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।
আইরিন আক্তার বিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে আইরিনের খোঁজ চালাতে থাকেন। তবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ৩০ এপ্রিল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা একটি পঁচাগলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি মরদেহটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব্স্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৯ দিন আগে