ফরিদপুর
ফরিদপুরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কে নয়াপাড়া প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের সহকারী নিহত হন। এ সময় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত দুইজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
২ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১
ফরিদপুরের মধুখালীতে অবৈধভাবে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ডুমাইন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে যৌথবাহিনী।
মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে আটক হন ওই গ্রামের বাদল সরকার (৫২)।
অভিযানে বাদলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি সিঙ্গেল ব্যারেল পাইপ গান, একটি ১২ গেজের কার্তুজ, ১৪টি রিকয়েল স্প্রিং, ২টি হ্যামার, একটি ড্রিল মেশিন, প্লায়ার্স, ব্লোয়ার ও হ্যাকসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ডুমাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যে খবর পায়, বাদল নিজস্ব ওয়ার্কশপে নিয়মিতভাবে অস্ত্র তৈরি করতেন এবং এসব অস্ত্র ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার দুর্বৃত্তদের কাছে সরবরাহ করতেন। সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে বলেও জানান সেনাবাহিনীর এক সদস্য।
সেনা ক্যাম্প সূত্র আরও জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, বাদলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। অভিযানের পর উদ্ধার অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ তাকে মধুখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে বাদলের বিরুদ্ধে। তাকে আজ (শনিবার) আদালতে পাঠানো হবে।
২ দিন আগে
ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত নারী-পুরুষ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের শুরুর দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আরও সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাজুড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিনে দুই দফায় তালুকদার গ্রুপের লোকজন অন্যায়ভাবে খান গ্রুপের লোকজনকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে শুরু হয় পাল্টা হামলা।
তবে পুলিশের সঠিক তৎপরতা থাকলে ঘটনা এতদূর গড়াত না বলে দাবি তাদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া কবির মাতুব্বর জানান, গত পরশুদিন (রবিবার) তার পক্ষের লোকজনকে মারধর, বসতঘরে হামলা ও লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষ তালুকদারের লোকজন। তার জের ধরে আজকে (মঙ্গলবার) এ সংঘর্ষ হয়।
প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে, তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আজও তার জেরেই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাদের পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, হাবিবুর রহমান তালুকদার ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ২ দিন আগে কবির খানের পক্ষের লোক শহীদ খানকে গ্রামের রাস্তার ওপরে বেদম মারধর করে। তারপর গত দুই দিনে এই নিয়ে দুই দফায় কবির খানের পক্ষের লোকজনের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। সেসব ঘটনার জের ধরেই আজ (মঙ্গলবার) সকালে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে সকাল ১০টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ফরিদপুরে শ্রমিকবাহী পিকআপে ট্রেনের ধাক্কা, তিনজন নিহত
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের সঙ্গে জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাইসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার সোতাশী রেলগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. জব্বার মোল্যা ও মো. মুছা মোল্যা আপন ভাই। তারা ময়না ইউনিয়নের বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্যার ছেলে ছিলেন। অপরজন একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। আরও ৫ জনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে কালুখালী থেকে ছেড়ে আসা ভাটিয়াপাড়াগামী লোকাল ট্রেন সোতাশীর ধলা হুজুরের বাড়ির কাছে রেলগেট পার হওয়ার সময় জনতা জুট মিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় জব্বার, মুছা ও জাহানারা বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
১৪ দিন আগে
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবির, সাধারণ সম্পাদক পিয়াল
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক পদে মাহাবুব হোসেন পিয়াল এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মফিজুর রহমান শিপন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) প্রেসক্লাব নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সালাম জানান, নির্বাচনি তফসিল মোতাবেক ফরিদপুর প্রেসক্লাবের কাযনির্বাহী কমিটির ১৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় উক্ত পদে ১৮ জন প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। এতে কবির-পিয়াল-শিপন পরিষদ ছাড়া অন্য কেউ প্রার্থী না হওয়ায় তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন: সভাপতি দৈনিক নাগরিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক পদে স্থানীয় দৈনিক ফতেহাবাদের মাহাবুর হোসেন পিয়াল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বার্তা সংস্থা ইউএনবি, এখন টেলিভিশন ও বিডি নিউজের জেলা প্রতিনিধি মফিজুর রহমান শিপন।
এ ছাড়াও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন গাজী টিভির শেখ মনির হোসেন, দৈনিক দিনকালের নুরুল ইসলাম আঞ্জু, ও দৈনিক সংগ্রামের আশরাফুজ্জামান দুলাল; অর্থ সম্পাদক পদে চ্যানেল আইয়ের শাহাদাত হোসেন তিতু, দপ্তর সম্পাদক ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির মাসুদুর রহমান তরুণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দৈনিক ভোরের কাগজের বিভাষ দত্ত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পাঠাগার সম্পাদক আজকের সারাদেশের মুইজ্জুর রহমান খান, প্রচার প্রকাশনায় দৈনিক জনকণ্ঠের আবিদুর রহমান নিপু, ক্রীড়া সম্পাদক দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রাবন হাসান।
কমিটির নির্বাহী সদস্যরা হলেন: মানিক দাস (ভোরের রানার), বি কে সিকদার সজল (সময় টিভি), রুহুল আমীন (বৈশাখী.কম), এস এম রুবেল (কুমার), এস এম জাহিদ (বুদ্ধিযুদ্ধ) ও নির্মল কুমার বিশ্বাস নয়ন (জাগো নিউজ)।
২৮ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাকচাপায় অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাকের চাপায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রহমতুল্লাহর ছেলে সাকিবুর রহমান নিশান (২৭) ও তার বোন রুকাইয়া আক্তার নীলা (৩২) এবং রুকাইয়ার স্বামী মিজানুর রহমান (৪০)।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক কৃষ্ণ দাস (৫৫)। তিনি যশোর জেলার সোনাডাঙ্গা থানার বিষ্ণু দাসের ছেলে। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তারপর থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে তার স্ত্রী ও শ্যালক অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মুনসরাবাদ এলাকায় খুলনাগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে ওই অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং চালকসহ আহত হন আরও দুইজন।
খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা স্বাভাবিক হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৩০ দিন আগে
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেলআরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দুই আপন ভাই।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সুমন (২৫) ও তার ভাই ইমন (২২)। তারা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকী মোহাম্মদপুরের করিম মন্ডলের ছেলে। আরেকজন হলেন আশিক মোল্লা (২২)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি যানবাহন মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমন ও ইমন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আশিককে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সার্জেন্ট রাসেলকে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটিকে একটি অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ আজ (রবিবার) সকালে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধী গাড়িটি ও তার চালককে শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
৫১ দিন আগে
ফরিদপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০, বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ অংশগ্রহণে এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে শুরু হয়ে বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার এলাকার তিনটি স্থানে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে; লুটপাট করা হয়েছে গবাদি পশুসহ অন্যান্য মালামাল।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সম্প্রতি এই বিরোধের জেরে উভয় নেতার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, জাহিদ ও নুরু মাতুব্বর বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
৫৮ দিন আগে
ফরিদপুরে বিএনপির দুপক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করেন। তার সই করা লিখিত আদেশের একটি কপি ‘ইউএনও আলফাডাঙ্গা’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, জারি করা পত্র অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসন থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আজ (শনিবার) বিকেলে পৌর সদরের আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের।
অপরদিকে, বিকেল ৩টায় আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের আরিফুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে, গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আরেকটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর।
দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েই ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার স্কুল, মাঠ ও বাজার এলাকায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ-মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। হঠাৎ করে দেখলাম, ঝুনু সমর্থকরা প্রতিবাদ সমাবেশের জন্য মাইকিং করছে। দুই পক্ষের সমাবেশের জন্য প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এক্ষেত্রে সমাবেশ করব কি করব না, বিষয়টি জেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলে পরে সিদ্ধান্ত নেব।
শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু-সমর্থিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোসবুর রহমান খোকন বলেন, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে এবং গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে, সেহেতু আমরা কর্মসূচি সফল করার জন্য মাঠে থাকব।
জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু (ভিপি ঝুনু)।
গত ২১ অক্টোবর ১০ বছর পর ফরিদপুর-১ আসন (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা) এবং পৌর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। তিনটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে প্রাধান্য পান কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা। এ নিয়ে নাসির মিয়া ও ভিপি ঝুনু মিয়ার মধ্যে দলীয় কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করে।
কমিটি ঘোষণার পর থেকে বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অব্যাহত রাখেন ভিপি ঝুনু মিয়া। গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বোয়ালমারীতে আলাদা আলাদা সমাবেশ ডাকে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম গ্রুপ ও ঝুনু গ্রুপ। একপর্যায়ে সমাবেশ রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নেয়। সহিংসতায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনহাজুর রহমান লিপনসহ দুই পক্ষের ১৫–২০ জন আহত হন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের প্রধান দুই নেতাকে আসামি করে স্থানীয় থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা মানছেন না ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর জেলেরা
মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর অনেক জেলে পদ্মায় মাছ শিকার করছেন নিয়মিত। সময়মতো সরকারি সহায়তা না পাওয়া ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নদীতে নামতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পদ্মা পাড়ে গিয়ে দেখে বোঝার উপায় নেই যে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। বরং তার উল্টোটাই মনে হবে। এই সময়েও দুই জেলার পদ্মায় অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অসংখ্য জেলে ইলিশ শিকার করছেন।
জেলেদের দাবি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই জেল-জরিমানা উপেক্ষা করে নদীতে নামছেন তারা। তাদের অনেকের মৎস্য কার্ড থাকার পরও সরকারের সহায়তা পাননি।
আরও পড়ুন: যশোরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শীতকালীন সবজি চারা, পোঁছে যাচ্ছে সারা দেশে
নাম প্রকাশে একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারের দেওয়া ২৫ কেজি চাল দিয়ে পরিবার নিয়ে চলাটা কষ্টকর হয়ে যায়। নৌকা ও জাল মেরামতের জন্য বিভিন্ন আড়ৎ ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন অনেকেই। এ সময় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় জেলেরা ঋণের চাপে পড়েছেন, তাই বাধ্য হয়ে নদীতে যাচ্ছেন তারা।
১০০ দিন আগে