ফরিদপুর
জমির দ্বন্দ্বে বড় ভাইয়ের গুলিতে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বড় ভাইয়ের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছেন ছোট ভাই। জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পেছনে রেলগেটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সকালে চতুল ফায়ার সার্ভিসের পেছনে রেলগেট এলাকায় গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে তারা দুজন বিতর্কে জড়ান। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ডা. গোলাম কবির তার ছোট ভাই মিন্টুকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
সে সময় গুরুতর অবস্থায় মিন্টুকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করেন। পরে বোয়ালমারী থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।
৫ দিন আগে
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে (২৫) হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে স্বামী আহাদ শেখকে (৩৩) যাবজ্জীবন স্বশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়ন কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। হত্যাকাণ্ডের শিকার রুবাইয়া একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রুবাইয়া ও আহাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান হয়। বিয়ের তিন বছর পর আহাদ সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বউয়ের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। চাহিদা অনুযায়ী তিন লাখের মধ্যে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বামীর দাবি অনুযায়ী আরও দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় ২০১৮ সালের ১ আগস্ট আহাদ তার স্ত্রীকে প্রথমে মারধর এবং পরে মুখে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম (৫৪) বাদী হয়ে আহাদ শেখ ও তার মা এবং তিন ভাইসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর জেলা সিআইডি কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আমিনুজ্জামান। তিনি তদন্ত করে রুবাইয়াকে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ ও তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ (৩৮) ও মাহিম শেখকে (৩৪) অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ২৩ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, আহাদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আহাদের দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে আদালত বেকুসুর খালাস দেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং সুস্থ সমাজে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি কাম্য নয়। আজকের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
১৭ দিন আগে
ফরিদপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ফরিদপুরে দড়ি টাঙানোকে কেন্দ্র করে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটের মোল্লাবাড়ী সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম জুয়েল আহমেদ। তিনি ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুত্বর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় ভাঙ্গারী মালের ব্যবসায়ী বিহারী মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আজ (শুক্রবার) সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলের বাড়ির প্রবেশপথে দড়ি টাঙানোর সময় অযাচিত শব্দ ও উশৃঙ্খল আচরণ করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা লাঠি ও রড দিয়ে জুয়েল ও তার ছোট ভাই সোহেলকে পিটিয়ে জখম করেন।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৩১ দিন আগে
ঋতু পরিবর্তনে ফরিদপুরে শিশুদের অসুখ বাড়ছে, হাসপাতালে ভিড়
শীত শেষে বসন্তের আগমনের মধ্যে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ফরিদপুরে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে সর্দিকাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসকদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফরিদপুরের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক রোগীর উপস্থিতি। প্রিয় সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিরিয়ালের জন্য।
হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মন্ডল জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতিদিন শুধু আউটডোরে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী আসছে। ইনডোরেও প্রতিদিন সিট সংকট দেখা দিচ্ছে।
৩৮ দিন আগে
ফরিদপুরে দুই উপজেলাবাসীর সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে দুই উপজেলার সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সালথা উপজেলা ও বোয়ালমারী উপজেলার সীমান্তে ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ও নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান মাতু্ব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে আজ (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগিসংযোগ করে সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে।
৪৪ দিন আগে
ফরিদপুরের চার আসনে বিএনপির ৩, জামায়াতের ১ প্রার্থী জয়ী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে তিনটিতে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল বিজয়ী হয়েছেন।
চারটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতের ইসলামী প্রার্থীর বিজয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের কোনো প্রার্থী বিজয় অর্জন করলেন বলে জানান স্থানীয়রা। বরাবরই এই আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ বলা হয়। তবে আইনানুগ কারণে দলের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
মো. কামরুল হাসান মোল্যার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে ফরিদপুর-১ আসনে।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী। এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শামা ওবায়েদ ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। । মোট ভোটের ৬৬ শতাংশ প্রয়োগ হয় এ আসনে।
ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। নায়াব ইউসুফ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি পেয়ে এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৫৮ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ।
ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট। এখানে ৮ জন প্রার্থী সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ আসনে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ।
ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ জেলায় মোট ভোটার সংখ্য্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন। চারটি আসনে মোট ২৮ প্রার্থী ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনি নিরাপত্তায় ৭১৬ জন সেনা সদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
৪৫ দিন আগে
ফরিদপুরে ভোট কক্ষের ভেতরে টাকা বিতরণ, বিএনপির পোলিং এজেন্টকে জরিমানা
ফরিদপুরে ভোট কেন্দ্রের কক্ষের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থীর এক পোলিং এজেন্টকে জরিমানা করেছেন বিচারিক আদালত। তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফরিদপুর-৩ আসনের বিসমিল্লাহ শাহ দরগাহ ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম তানজির ইসলাম। তিনি দেওরা এলাকার বাসিন্দা। বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের ‘ধানের শীষের’ পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানের অভিযোগ অনুযায়ী ওই পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ওই পোলিং এজেন্ট বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের মধ্যে টাকা দেয়ার অভিযোগ করেন জামায়াতের পোলিং এজেন্ট। পরে প্রশাসনকে জানানো হলে আমরা দ্রুত এসে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে নির্ধারিত প্রতীকে ভোট দেয়ায় ভোটারদের প্ররোচিত করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্বাচনী আইন-২০২৫ এর ১৩ (চ) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দোষ স্বীকার করায় তাকে নির্বাচনি আইন ১৯৭২ এর ৯১(বি)(২) ধারা মোতাবেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ আদেশ দেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি-২১৩ এর চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন।
৪৬ দিন আগে
ফরিদপুর-১: ভোটকেন্দ্রের পাশে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার
ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজারে ভোটকেন্দ্রের পাশে মাংসের দোকানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন বাজারে ভোট কেন্দ্রের পাশে মাংসের দোকান থেকে বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির মো. তাইজুর রহমান বলেন, এটি বোমা নয়। তবে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি উদ্ধার করে। তবে এটি মারাত্মক কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি ব্যাটারি ও তার প্যাচানো অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
৪৬ দিন আগে
ফরিদপুরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালট পেপার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ব্যালট পেপার ও গণভোটের ব্যালট হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে ফরিদপুর জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় এ কার্যক্রম। ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তা ও নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধির কাছে এ ব্যালট পেপার হস্তান্তর করা হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে ছাপানো ব্যালট পেপার প্রথমে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর আজ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ব্যালটগুলো বুঝে নেন ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের ৯ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগের দিন সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, পুরো প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে। ব্যালট পেপার হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপেই নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, ‘ব্যালট পেপার হস্তান্তর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। তাই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছি।’
ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনে এবারে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৮ জন প্রার্থী। এ জেলায় মোট ভোটার ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯২৩ জন।
৪৯ দিন আগে
ফরিদপুরে কারাবন্দিসহ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১৭৯৮৮ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরে জেলা কারাগারের বন্দিসহ মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
এর মধ্যে জেলখানার ৫২ জন বন্দি ও ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। এই প্রথম কারাগার থেকে বন্দি ও কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ৫২ জন বন্দির মধ্যে ২ জন নারী বন্দিও রয়েছেন।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে মোট ১ হাজার ২৪৪ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জন নারী বন্দি আছেন।
মোট বন্দির মধ্যে ৫২ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে ১০ জন হাজতি ও ৪২ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন। আগ্রহী দুইজন নারী বন্দিও সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর হাজতি ও কয়েদিদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগ্রহী বন্দিদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের জন্য দুইটি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বুথ স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, জেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।
৫৬ দিন আগে