ফরিদপুর
ফরিদপুরে কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ডে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় সড়কের দুই প্রান্ত থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে বহু যানবাহন আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুখরিয়া বাসস্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য আধিপত্য নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মৌজী মহসরদি গ্রামবাসীর সঙ্গে মানিকদি ইউনয়নের পুখরিয়া, ব্রাহ্মনকান্দাসহ ৫ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। গ্রাম্য আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কয়েক গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এ সময় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
১১ দিন আগে
ফরিদপুরে হাত-পা কাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় হাত-পা কাটা অবস্থায় পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) নামে এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়ক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পান্নু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে সালথা বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহটি উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় লোকজন সড়কে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আল ফাহাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাটখেতের ভেতরে তাকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। মরদেহের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
১৪ দিন আগে
পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ফরিদপুরের ডিবির ওসি প্রত্যাহার
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গেল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে এবং মায়ের সামনেই মারধর করে। পরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
১৬ দিন আগে
বাণিজ্যিক আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ফরিদপুর
একসময় ধান ও পাট উৎপাদনের জন্য পরিচিত ফরিদপুর এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক আম চাষের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা এবং লাভজনক বাজার ব্যবস্থার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই ফল চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬ কোটিরও বেশি টাকা। উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। বর্তমানে এসব বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের আম চাষ এবং আধুনিক পরিচর্যার ফলে উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধুখালীর জাহাপুর এলাকার আমচাষি কামাল হোসেন বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় আম চাষে উৎপাদন খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছর নতুন নতুন কৃষক ও উদ্যোক্তা আম চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
৩০ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
মৃত শিশুটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮ মাস বয়সী তানহাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল (বৃহস্পতিবার) তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬২ জন ভর্তি হয়েছে। একইসময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।
হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
৩৪ দিন আগে
ফরিদপুরে ট্রাক্টর উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে চালকের মৃত্যু
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী আমন ধানের জমিতে চাষাবাদের সময় ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে জয় বিশ্বাস (২০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা, জয় বিশ্বাস বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ট্রাক্টরের চালক ছিলেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ওই ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর তীরবর্তী একটি জমিতে তিনি ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। সে সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টরটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন জয়। রাতে তার সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় বিষয়টি তখন কেউ জানতে পারেনি।
আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে জয় বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল, পুরোটা ডুবে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়া বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৩৪ দিন আগে
ফরিদপুরে ঈদের ছুটিতে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত ৪৩৭, প্রাণ গেছে ৬ জনের
ঈদের ছুটির পর থেকে ফরিদপুরে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। এ সময়ে হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।
বুধবার (৩ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান হাম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৩৮ জন।
গতকাল (সোমবার রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডীপর্দি গ্রামের বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি (গত ২৬ মে থেকে ২ জুন) পর্যন্ত ফরিদপুরে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩৭ জন শিশু। আর এই সময় প্রাণহানি হয়েছে ৬ শিশুর, যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি।
এ ছাড়াও, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫৭ জন। যার অধিকাংশই শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ফরিদপুর ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিরঞ্জন ভৌমিক জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা গ্রামে এসেছে সে সকল অভিভাবকের শিশুদের মেডিকেল চেকআপ প্রয়োজন।
ডা. নিরঞ্জন আরও বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
৩৬ দিন আগে
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও ২ প্রাণহানি, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চণ্ডীপর্দী এলাকার বরকতের সাত মাস বয়সী ছেলে আয়ান গত ১ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তবে আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ফরিদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার রাফসানের দুই বছর বয়সী মেয়ে আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১৯০ শিশু।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক মানুষ গ্রামের বাড়িতে আসায় হামের সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা আশাবাদী, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং রোগীর সংখ্যা কমে আসবে।’
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, নিহত ৫
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার ছেলে আরিফ ইসলাম (২৪), একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮), রাকিব (১৮) এবং প্রাইভেট কারের অজ্ঞাতপরিচয় চালক (২৫)।
আহতরা হলেন: আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)। তারা সবাই প্রাইভেট কারের যাত্রী ছিলেন।
শিবচর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট কারটি ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতির প্রাইভেট কারটি ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাকিব নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। নিহত চালকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারের চালক ট্রাকের পেছনে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরে গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
৩৭ দিন আগে
ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৫
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৪ মে) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও তিন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলালউদ্দিন জানান, ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ফরিদপুরগামী একটি বিআরটিসি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
৪৬ দিন আগে