ফরিদপুর
ফরিদপুরে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামী-শাশুড়ির যাবজ্জীবন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সুমি আক্তার হত্যা মামলায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) ও শাশুড়ি মোছা. রাহেলা বেগম (৫০)। এ মামলার অপর আসামি সুমির শ্বশুর খলিলুর রহমান তালুকদারকে (৫৫) খালাস দেওয়া হয়েছে। আতিয়ার বর্তমানে পলাতক এবং রাহেলা ও খলিলুর রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করে এ রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।
মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদারের সঙ্গে ২০১০ সালে সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী নিহতের ভাই মো. সরোয়ার মোল্যা (৪৫) এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে আতিয়ার ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। তার পর থেকেই সুমিকে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সুমিকে নির্যাতন করা থামেনি বলে অভিযোগ করেন তার ভাই।
২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা কেশরাইল গ্রামে গিয়ে আতিয়ারের বাড়ির ঘরে খাটের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।
বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি বোয়ালমারী থানায় মামলা করেন।
৪ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তামান্না আক্তার মৌ (২৩) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালে রেখে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডিদাসদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না ওই এলাকার শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার রামেশ্বর এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে তামান্নার ঘরের দরজা বন্ধ দেখেন তার স্বামী। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তামান্নাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা গ্রীন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করে। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
তামান্নার মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে তার স্বামী শাখাওয়াত নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে পুলিশের হেফাজতে থাকা বাসে আগুন
ফরিদপুর সদর উপজেলার করিমপুর হাইওয়ে থানার পাশে পুলিশের হেফাজতে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগে পুড়ে গেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর-খুলনা (এন ৭) মহাসড়কে থানার সামনের খোলা মাঠে রাখা বাসটিতে আগুন লাগে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, রাত ১০টা ২৭ মিনিটে বাসে আগুন লাগার খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নেভানো হয়। তবে ততক্ষণে বাসটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ বলেন, রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ৩৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। কয়েল, সিগারেটের আগুন, কেউ আগুন ধরিয়ে দেওয়া বা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি। মহাসড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা ময়দার বস্তাবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে বাসটির সুপারভাইজার নিহত হন। এরপর থেকে দুর্ঘটনার আলামত হিসেবে বাসটি করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে ছিল।
পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে করিমপুর হাইওয়ে থানা নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন স্থানে অবকাঠামোগত কাজ পুরোপুরি গুছিয়ে ওঠেনি। থানার সামনে মহাসড়কঘেঁষা খোলা মাঠে জব্দ করা যানবাহন রাখা হয়। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় মাঠটি উন্মুক্ত।
ওসি আবদুস সালাম বলেন, নতুন স্থানে থানা স্থানান্তরের পর সবকিছু এখনও পুরোপুরি গুছিয়ে ওঠেনি। থানার সামনের মাঠটিও উন্মুক্ত। চারদিকে সীমানাপ্রাচীর থাকলে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
দুর্ঘটনার আলামত হিসেবে পুলিশের হেফাজতে থাকা বাসে আগুন লাগার ঘটনায় আগুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
৯ দিন আগে
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৫
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রেবেকা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রেবেকা বেগমের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হওয়া সম্ভব বলে মতামত দেন তিনি।
১০ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু পার্কের কর্মচারী হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখকে (৩৫) পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার দায়ে ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় দেন।
এছাড়া একই মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তাদের মধ্যে ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। আসামিরা সবাই জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসান ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী শাহজাহান কাকা ডেকেছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে তিনি সারা রাত বাড়িতে না ফেরায় সকালে তাকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানিয়ে একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে হাসানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের গণ্ডগোল হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিসি বৈঠক বসে। সেখানে হাসানকে মারধরের ঘটনায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ক্ষোভ থেকেই সেদিন রাতে হাসানকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ নৃশংস হত্যাকাণ্ড মামলার ঘটনায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এ রায় দেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
১২ দিন আগে
মধুখালীতে তিন বস্তায় যুবকের ছয় টুকরো অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের মধুখালীতে ধানখেতের পাশ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা এক অজ্ঞাতনামা যুবকের ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া স্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ফরিদপুরগামী সড়কের ডান পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানখেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় তিনটি মুখ বাঁধা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। বস্তাগুলো পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বস্তাগুলোর মুখ খুললে সেগুলোর ভেতর থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহের ছয়টি বিচ্ছিন্ন অংশ পাওয়া যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৬ দিন আগে
প্রশাসনের উদ্যোগে খারদিয়া-ময়েনদিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের পথে
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার খারদিয়া ও বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা নিরসনে প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে শান্তি ও সম্প্রীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘাত থেকে সরিয়ে এনে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
খারদিয়া এলাকার নেতৃত্বে মুশফিক বিল্লা জিহাদ, অন্যদিকে ময়েনদিয়া এলাকার নেতৃত্বে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষের ভাঙচুর-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিরোধের জেরে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দুই পক্ষের মানুষকে শান্ত করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেন।
ছোট্ট এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ নিরসনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসানের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের এই আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আরও সুগম হয়েছে।
সালথা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দুই এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত করার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে খারদিয়া ও ময়েনদিয়ার মানুষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে এবং ভবিষ্যতে দুই এলাকার মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সনাক সদস্য হাসানউজ্জামান বলেন, অবশ্যই সাধুবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা প্রশাসনকে, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ যদি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়, ওই দুটি অঞ্চলের জন্য এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনে দফায় দফায় আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এই আধিপত্য নিয়ে আর যেন মানুষের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়।
এ প্রসঙ্গে সালথা উপজেলার ইউএনও দবিরউদ্দিন বলেন, মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান, উত্তেজনা প্রশমন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনাও প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শান্তিপ্রিয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনৈতিক কর্মীদের সদিচ্ছার দরকার বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে বোয়ালমারীর ইউএনও রকিবুল হাসান বলেন, মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমরা সবসময় চেষ্টা করে চলছি।
প্রশাসনের এই কর্মকর্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ দিনের বিরোধী দুই পক্ষকে প্রাথমিকভাবে মেলানো সহজ ছিল না। তবে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
২৫ দিন আগে
ফরিদপুরে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০
ফরিদপুরে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীতে দুইপক্ষের মধ্যে হামলা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
একপক্ষের হামলার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জানিয়েছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে হামলার পরদিন গতকাল রবিবার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারটি বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান (৫ আগস্টের পর) ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং পার্শ্ববর্তী সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের (মানবতাবিরোধী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর ছেলে) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। ওই সময় জিহাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। এরপর মান্নান মাতুব্বরসহ তার পক্ষের লোকজন এলাকা ছেড়ে গেলে জিহাদপন্থি লোকজন ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার পক্ষের লোকজন এলাকায় ফিরে এলে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গেল শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার অভিযোগ ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জিহাদের কয়েকজন সমর্থক ওই হামলা চালায়। এর পরদিন শনিবার ময়েনদিয়া বাজারে গেলে জিহাদপন্থি যুবদল নেতা সোলায়মান মাতুব্বরের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় এক ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবসায়ীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। পরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জড়ো হলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সোলায়মান আহত হন।
খবর পেয়ে জিহাদ বাজারে গিয়ে সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জিহাদের অভিযোগ, সেখানে রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক ঢুকে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। এ হামলার জন্য তিনি মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজনকে দায়ী করেন।
জিহাদপন্থি যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মান্নান মাতুব্বর বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বাজারকে তার প্রভাবমুক্ত করতে জিহাদকে উপদেষ্টা করা হয়েছিল। গেল শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন।
অন্যদিকে, ময়েনদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মজিবর রহমান মোল্যার অভিযোগ, জিহাদ লোকজন নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালান। সাধারণ দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী মাওলানা মাসুদুর রহমানও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। শনিবারও এক ব্যবসায়ীর কাছে চার হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শনিবারের হামলার জের ধরে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া সেতু এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সালথার খাড়দিয়া গ্রামের হুমায়ন খাঁ, রফিক মোল্যা ও ইলিয়াস কাজীর নেতৃত্বে একপক্ষের লোকজনের সঙ্গে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়ার আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত পরমেশ্বরদী গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে কবির মোল্যা, হাশেম মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা ও মনসুর মোল্যার ছেলে লোকমান মোল্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন গতকাল রাতে বলেন, সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দুইপক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধতে পারে। ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন আতঙ্কে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে গতকাল আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৮ দিন আগে
ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ৩ আরোহী নিহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের নওপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের একজন হলেন চয়ন (২৩)। তিনি নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের হাসানহাটি গ্রামের এনায়েতের ছেলে। তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্য দুজন হলেন: একই গ্রামের দলিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন (২০) এবং আজগার শেখের ছেলে সিয়াম ওরফে সজিব (২২)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল বাতেনসহ কয়েকজন জানান, নওপাড়া বাসস্ট্যান্ডে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে সড়কের দিকে তাকিয়ে তারা দেখতে পান, একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক সড়কে ছিটকে পড়েছেন। এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক চয়ন গুরুতর মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহত নয়ন ও সিয়ামকে গুরুতর অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে তাদের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকতার হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের আমরা ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। নিহতের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের সজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৯ দিন আগে
ফরিদপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবকের যাবজ্জীবন
ফরিদপুরে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুমন মোল্লা (১৯) ও উসমান বেপারী নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি রিয়াজ বেপারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ওই আদালত।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মোল্লা ও উসমান বেপারী ফরিদপুর সদর উপজেলার চর দুর্গাপুর হাজীডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া ঘাটে যায় ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী। সেখানে পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও তিনি না আসায় কিশোরী তার আত্মীয় রিয়াজ বেপারীকে বিষয়টি জানান। পরে রিয়াজ মোটরসাইকেলে করে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রিয়াজের মাধ্যমে কিশোরীকে ফরিদপুরের ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে সুমন ও উসমান তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে অন্যত্র রেখে পালিয়ে যান তারা।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানোর পর কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সুমন ও উসমানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে রিয়াজ বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।
এদিকে, অপর একটি ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলকেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী রতন বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অপর একটি ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি রাসেল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
৩৬ দিন আগে