ডেমোক্র্যাট
ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ডেমোক্র্যাটদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হেগসেথ
ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয় দিনের মতো ডেমোক্র্যাটদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সিনেটররা প্রথমবারের মতো তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) প্রায় ৬ ঘণ্টার হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানির সময় হেগসেথ ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তাকে যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এ ছাড়াও বেশি বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
একইসঙ্গে তারা ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। কারণ গতকাল (বুধবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র জার্মানিকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়াৎর্সের বিরোধ চলমান।
বুধবারের অভিজ্ঞতা যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতের কৌশল নিয়ে জবাব চাইবেন। পাশাপাশি হেগসেথের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন বা তদারকি ছাড়াই শুরু হয়েছে এই যুদ্ধ। তবে কংগ্রেস নিজেই একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনপ্রণেতারা যেসব প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তার কিছু বুধবারের শুনানিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্ত্র-গোলাবারুদের পেছনে। কিন্তু যুদ্ধ আর কতদিন চলবে বা আরও কত খরচ হতে পারে, এ বিষয়ে হেগসেথ কোনো উত্তর দেননি।
হেগসেথ আরও বলেন, একটি ইরানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হতে পারে। ওই স্কুলটি একটি রেভল্যুশনারি গার্ড ঘাঁটির পাশেই ছিল।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান জানতে চান, কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত কি না। হেগসেথ সরাসরি এর উত্তর দেননি, তবে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনী আগাম পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হেগসেথ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথকে বলেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে স্মিথ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এর এক বছরেরও কম সময় পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার যুক্তি কী?
স্মিথ বলেন, ‘আপনি তো ৬০ দিন আগে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র একটি আসন্ন হুমকি। এখন আপনি বলছেন, সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?’
জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করেনি এবং তাদের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
স্মিথ বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের ঠিক সেই অবস্থাতেই রেখে গেছে, যেখানে আমরা আগেও ছিলাম।’
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। হেগসেথ এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এত অসাধারণ একজন মানুষকে বরখাস্ত করলেন, তার কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা আপনার কাছে নেই।’ তখনই হেগসেথ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
১৭ দিন আগে
৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলা: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের আহ্বান আইন প্রণেতাদের
২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার তদন্তকারী হাউস কমিটি, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ বিচারের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
দাঙ্গা ও সহিংসতায় ট্রাম্পের ভূমিকার বিষয়ে প্যানেলের বিস্তৃত তদন্তের সমাপ্তির কথা জানিয়ে কমিটি সোমবার তার শেষ পাবলিক অধিবেশন করেছে। বুধবার এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
প্যানেলের মতে, ট্রাম্প সম্পূর্ণভাবে বিদ্রোহের জন্য দায়ী ছিলেন।
প্যানেলের সাতজন ডেমোক্র্যাট এবং দুই রিপাবলিকান, ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের সুপারিশ করছে। তারা ট্রাম্পকে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেয়ার জন্য একটি বৃহৎ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
শুনানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যানেল প্রতিবেদনের ১৫৪-পৃষ্ঠার সারাংশ প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, ফলাফল না মেনে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প ভোটারদের ইচ্ছাকে ব্যর্থ করার জন্য ‘বহুমুখী ষড়যন্ত্রে’ জড়িত ছিলেন।
সোমবার একটি চূড়ান্ত বৈঠকে কমিটি দাঙ্গার সময় এবং বিদ্রোহের সময় উভয় ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের চারটি ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। কারণ এটি বিচার বিভাগে বিচারের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতির সুপারিশ করেছিল।
বিচারের জন্য তারা যে অভিযোগগুলো সুপারিশ করেছে তার মধ্যে একটি হলো বিদ্রোহকে সহায়তা করা।
কমিটি রক্ষণশীল আইনজীবী জন ইস্টম্যানকেও ট্রাম্পের মতো একই আইনের দুটিতে বিচারের জন্য রেফার করার জন্য ভোট দিয়েছে। ইস্টম্যান ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখার লক্ষ্যে সন্দেহজনক আইনি কৌশল তৈরি করেছিলেন। আইন দুটি হলো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা করার ষড়যন্ত্র এবং একটি সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেয়া।
১২৪৪ দিন আগে
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন ন্যান্সি পেলোসি
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একমাত্র নারী স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ডেমোক্র্যাট লিডার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন ৮২ বছর বয়সী এ হাউস স্পিকার।
বক্তৃতায় পেলোসি বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দেয়ার পরে এবং গত মাসে তাদের সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িতে তার স্বামী পলের ওপর নৃশংস হামলার পরে তিনি সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছেন।
মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং সম্ভবত আধুনিক সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী স্পিকার পেলোসি জানান, ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে তার ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধিত্ব চালিয়ে যাবেন তিনি।
পেলোসি বলেন, ‘আমি পরবর্তী কংগ্রেসে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের জন্য আর নির্বাচিত হতে চাই না।’
তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের গণতান্ত্রিক ককাসের নেতৃত্ব দেয়ার সময় এসেছে, যেটিকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।’
পেলোসি আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সাহসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এদিন সকালে পেলোসির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হাউসের স্পিকার হিসেবে দুর্দান্তভাবে তার দায়িত্ব পালনের জন্য পেলোসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের নেতৃত্ব থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে পেলোসি বলেন, তিনি তার উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে কাউকে সমর্থন করবেন না।
তিনি বলেন, তার স্বামীর ওপর হামলা ‘তাকে নেতৃত্বে থাকার বিষয়ে ভাবিয়েছে।’
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এরইমধ্যে রিপাবলিকান কেভিন ম্যাকার্থি নতুন কংগ্রেস স্পিকার হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন জিতেছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জানুয়ারি নাগাদ তিনি পেলোসির স্থলাভিষিক্ত হবেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে জেফ্রিস ভবিষ্যতে ইতিহাস তৈরি করতে পারেন এবং তিনি হাউসের জাতির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন।
১৯৮৭ সালের বিশেষ নির্বাচনে পেলোসি প্রথম কংগ্রেসে নির্বাচিত হন।
১২৭৭ দিন আগে
মার্কিন নির্বাচন: হোয়াইট হাউসের দ্বারপ্রান্তে বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত মিশিগান এবং উইসকনসিন অঙ্গরাজ্য থেকেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তিনি।
২০২০ দিন আগে