ইসরায়েল
ইরানে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই এই তথ্যকে অবাস্তব বলে মনে করছেন।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ওই সময়ে তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তবে পরে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে থাকা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দি থেকে পালাতে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি তাকে তার তেহরানের বাড়ি থেকে বের করে আনতে বাড়িটির কাছের একটি নিরাপত্তা ভবনে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে পরে আহমাদিনেজাদ এই পুরো পরিকল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যান।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এ প্রতিবেদনকে বিশ্লেষকদের অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। অনেকের মতে, এটি আহমাদিনেজাদের সমর্থকদের ছড়ানো প্রচারণা। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। এ ছাড়াও তারা বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান সরকারকে দুর্বল করে দিয়ে সরকার পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভের মুখে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তিনি চলমান ইরান সংঘাত থেকে কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দেওয়া শর্ত মানতে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছন তিনি। এ কারণে প্রয়োজনে ইরানে আবার হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন। তবে পরদিন মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ফোনালাপে আবার তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসরায়েলকে হামলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল (বুধবার) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা চাই, নেতানিয়াহু তা-ই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ একজন মানুষ।’
অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতেই এ অবরোধ দেওয়া হয়েছে। কারণ, চীনই এখন ইরানের রপ্তানি করা তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস।
ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ খুলে দিতে চান, তবে এ নিয়ে তার কোনো চাপ নেই। তিনি বলেন, আমি হরমুজ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ার মধ্যে নেই। আমি চাই এই সংঘাতে প্রাণহানি না হোক।
আবার, তেহরান মনে করছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সংক্রান্ত দাবি মানতে রাজি নয় ইরান। ইরান চায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করে আগে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নিক যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানে আবার হামলা শুরু করে, তাহলে তারা এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমগুলোও সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ কখনোই গৃহবন্দি ছিলেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানি গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, আহমাদিনেজাদ তার বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন।
পরে অবশ্য জানা যায়, উত্তর-পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকায় আহমাদিনেজাদের বাড়ির বাইরে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করেছিল ইসরায়েল। পরে স্যাটেলাইট ছবিতেও সেই হামলার সত্যতা নিশ্চিত হয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
ওই বিমান হামলার পরের কয়েক দিনে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, হামলায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তার দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসলে তিনি নেতানিয়াহুর ভালো মিত্র হতে পারতেন না। কারণ, তিনি তার তীব ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন।
ইরানে হামলার শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি ইরানে ভেনেজুয়েলার মতো একটি মডেল অনুসরণ করতে চান। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করলেও সেখানে কারাকাসের সরকার পুরোপুরি অক্ষত রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে অনেকটাই সমন্বয় করে কাজ করছেন। তবে ইরানে আহমাদিনেজাদ ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে, তাই সেখানে এমন সমঝোতার সম্ভাবনা কম।
এর আগে, ২০১১ সালে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আহমাদিনেজাদ। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে ২০১২ সালে আহমাদিনেজাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আলি লারিজানি পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হন। মূলত মন্ত্রী নিয়োগ ও অর্থনৈতিক নীতি এসব বিষয় নিয়ে আহমাদিনেজাদতাদের সঙ্গে অন্য নেতাদের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
২০১৮ সালে আহমাদিনেজাদ তার উত্তরসূরি হাসান রুহানির সরকারের সমালোচনা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নেতারা জনগণের সমস্যা ও উদ্বেগ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।’
এসব কারণে পরবর্তীতে আহমাদিনেজাদকে ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনও ছিল। পরে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব হয়ে যান। এরপর ২০২৫ সালে ইরানে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি খুব সীমিত পরিসরে সমালোচনা করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরে আহমাদিনেজাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত বছর জুনে তিনি ইসরায়েলপন্থি দেশ হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর অল্প কয়েকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন তিনি। তার হাঙ্গেরি সফর ছিল এই কয়েকটি সফরের মধ্যে একটি। তবে, এই সফরটি ইরান সরকারের অনুমোদন নিয়েই হয়েছিল।
৬ দিন আগে
লেবাননের মহাসড়কে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা, নিহত ৮
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও তার দুই সন্তানও রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৩ মে) তিনটি গাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননেরর কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, মহামলার কয়েক ঘণ্টা আগে তারা দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটনে আরেকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে এই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটিতে ইসরায়েলর তিনটি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে মহাসড়কে চালানো এ হামলায় কোন গাড়িতে কতজন নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েলি তিনটি ড্রোন হামলার মধ্যে দুটি হামলা বৈরুত থেকে দক্ষিণের একটি মহাসড়কে চালানো হয়। মহাসড়কটি বৈরুতের সঙ্গে বন্দরনগরী সিডনকে সংযুক্ত করেছে। অপরদিকে, তৃতীয় হামলাটি সাদিয়াত শহরের ব্যস্ত মহাসড়কে চালানো হয়।
এ ছাড়াও, সিডনের উত্তরে বুধবার দুপুরের দিকে আরেকটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সে সময় তারা একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক আলোকচিত্রী লেবাননের উপকূলীয় শহর বারজা ও জিয়েহর কাছে এই দুটি হামলায় নিহত তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারাও ইসরায়েলের দিকে হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এরপর হিজবুল্লা উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা শুরু করে।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন স্থানীয় সময় গতকাল (মঙ্গলবার) সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩৮০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১২২ জন আহত হয়েছেন।
এ নিয়ে যুদ্ধ শুরু সময় থেকে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনে। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৮৬ জন।
১৪ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় সাতক্ষীরার ২ যুবক নিহত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়ের জেবদীন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা দুজনই সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা।
সোমবার (১১ মে) স্থানীয় সময় দুপুরে এই হামলা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম নাহিদ।
ভালুকা চাঁদপুর মডেল হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ ওই দুই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে মরদেহ দুটি নাবাতিয়ের নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী দফায় দফায় হামলা চালায়। নিহত বাংলাদেশিরা সেখানে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
১৫ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৯ জন নিহত
লেবাননে ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৯ মে) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সাকসাকিয়েহতে ইসরায়েলি হামলার খবর জানায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় ‘প্রাথমিকভাবে সাতজন শহিদ হয়েছেন, যার মধ্যে একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন, তাদের মধ্যে তিনটি শিশু।’
এদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় ‘সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনা থেকে পরিচালিত হিজবুল্লাহ সদস্যদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও জানায়, হামলার আগে ‘নির্ভুল অস্ত্র ও আকাশপথে নজরদারির’ মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানায় আইডিএফ।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকসাকিয়েহ শহরে ইসরায়েলের এক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ‘নিরীহ বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর সম্পর্কে’ অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা এক সিরীয় নাগরিক ও তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, প্রথম হামলার স্থান থেকে সরে যাওয়ার পর ড্রোনটি দ্বিতীয়বার হামলা চালায়, এতে বাবা নিহত হন। এরপর ড্রোনটি মেয়েটিকে ‘সরাসরি তৃতীয়বারের মতো’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়। মেয়েটির জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের অধিকাংশ বিমান হামলা দক্ষিণ লেবাননে হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিকদের আলাদা করে হিসাব দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সীমান্তবর্তী লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্য তারা ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তুলতে চায়।
এসব এলাকায় পুরো গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যা গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, কিছু ঘটনা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, চলমান ইসরায়েলি হামলার জবাবে শনিবার তারা উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে ‘হিজবুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠনের ছোড়া বিস্ফোরকবাহী ড্রোন’ শনাক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এরপর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নিহত করার পর ২ মার্চ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী পুনরায় দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্রাম ধ্বংসের পাশাপাশি প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখলে রাখে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ১৭ জন সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন আরও দুই বেসামরিক ব্যক্তি।
১৭ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে গাজায় ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি ইসরায়েলের
গাজায় খান ইউনিস ও দেইর আল বালাহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি ড্রোনের গর্জন এবং বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিদিনই মনে দেয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ কখনো থামবে না।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ফিলিস্তিনের পরিবারগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, নতুন করে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। কারণ, হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিষভার বৈঠক হঠাৎ কর বাতিল করেন। তার পরিবর্তে তিনি যুদ্ধের বিষয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা করেছেন।
একই সময়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য চাপ বাড়িয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৫-কে জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে নিরাপত্তা তদারকি ও চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে নতুন করে যুদ্ধ তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ভূমিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ইয়েলো লাইন ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে গাজার ৫৯ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি মধ্যেও তারা দখল আরও স্থায়ী করছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন সীমান্ত থেকে অতিরিক্ত সেনা এনে গাজা ও পশ্চিম তীরে মোতায়েন করছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের ফাঁদ
কায়রোতে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারীরা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর নতুন একটি কাঠামো মেনে নেওয়ার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছেন। এই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত বোর্ড অব পিসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এ বিষয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আবদুল জব্বার সাঈদ ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম আল্ট্রা প্যালেস্টাইনকে জানান, ম্লাদেনভ এমন একটি কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে ২৮১ দিনের মধ্যে ৫টি ধাপে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে।
এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কাঠামোতে ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা, উপত্যকার পুনর্গঠন এবং গাজার সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণকে শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষক ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজাকে (এনজিএসি) ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তাদের নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছে।
আবদুল জব্বার সাঈদ আরও জানান, হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনসহ সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী একযোগে এই নিরস্ত্রীকরণের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর বদলে তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রতিদিন ফিলিস্তিনে ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করার চুক্তি থাকলেও ইসরায়েল ট্রাক প্রবেশেও বারবার বাধা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের নিরাপত্তার প্রশ্ন
গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা আল জাজিরাকে বলেন, হামাস কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার বলে মনে করে।
তিনি জানান, প্রতিরোধ আন্দোলন করা গোষ্ঠীগুলো মনে করে, তাদের নিরস্ত্র করা হলে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান কখনোই সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রাজনৈতিক সমাধানে না এসে ফিলিস্তিনের অস্ত্রের বিষয়টিকে সামনে আনছে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো নিশ্চয়তা না দিয়ে মানবিক সহায়তাকে শর্ত দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন তারা।
কৌশলগত ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ ফের শুরুর এই আলোচনা করে ইসরায়েল তাদের কৌশলগত কিছু ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব হুমকি মূলত একটি ধোঁয়াশা তৈরির কৌশল। হুমকির মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন গাজায় যুদ্ধ থামিয়ে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। এখন গাজায় আবার যুদ্ধ আবার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া শান্তি উদ্যোগ ভেঙে পড়বে। আর ইরানকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আবার একাধিক দেশে সংঘাতে জড়িয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও চাপের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলি সাবেক সামরিক বাহিনীর প্রধান ইসরায়েল জিভের বক্তব্য উল্লেখ করে আবু আমের বলেন, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি সেনাদের গড়ে বছরে ৮০ দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ ফলে তাদের সেনাবাহিনীর ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননের সংকট ইসরায়েলের জন্য এখনও ক্ষত হয়ে আছে। এই অবস্থায় গাজায় নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য বড় কৌশলগত ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, গাজায় আটকে থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কোনো স্বস্তি বয়ে আনছে না। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) প্রকাশিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৬০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ রবিবার বিকেলে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে গাজার মানুষ এখন একদিকে দীর্ঘস্থায়ী ইসরায়েলি দখলদারত্ব, অন্যদিকে নতুন আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন।
২৩ দিন আগে
গাজা পুনর্গঠনে এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন: প্রতিবেদন
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ১০ বছরে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত গাজা র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের (আরডিএনএ) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাত গাজায় মানব উন্নয়নে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ ফেলেছে এবং সেখানে খুব শিগগিরই প্রচুর পরিমাণ অর্থ সহায়তার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনটির পৃষ্ঠপোষক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
গাজায় অক্টোবর মাসে একটি দুর্বল ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছিল। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু যুদ্ধবিরতির পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৭৭৭ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন। তিনি ৮ এপ্রিল গাজা সিটির পশ্চিমে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, ইসরায়েল ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে মোট ২ হাজার ৪০০টি অপকর্মের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধসহ নানান ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জনপদ
জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে যুদ্ধবিধস্ত গাজায় ৬১ মিলিয়ন টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেক জনপদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আরডিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮টি আবাসিক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকরসহ প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। এই সংঘাত গাজার মানব উন্নয়নকে ৭৭ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসন হস্তান্তরকে সমর্থন করে এমন দেশের প্রতি গাজা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
৩৬ দিন আগে
ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘নির্যাতনের লাইসেন্স’ দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে: অ্যালবানিজ
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকা অ্যালবানিজ বলেছেন, বিশ্ব ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালানোর এক ধরনের লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র দিয়ে দিয়েছে। এর ফলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জীবন এখন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ এ দূত বলেছেন, ইসরায়েলে নির্যাতন কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে তার সর্বশেষ প্রতিবেদন পেশ করার সময় তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রকৃতপক্ষে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন করার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কারণ আপনাদের বেশিরভাগ সরকার এবং মন্ত্রীরা এর অনুমতি দিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নির্যাতন ও গণহত্যা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে অ্যালবানিজ বলেন, যা একসময় গোপনে চলত, তা এখন প্রকাশ্যেই করা হচ্ছে। এটি একটি সংগঠিত অবমাননা, বেদনা এবং লাঞ্ছনার শাসন ব্যবস্থা, যা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে অনুমোদিত।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্যাতন শুধু কারাকক্ষ বা জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
এতে আরও বলা হয়, গণ-উচ্ছেদ, অবরোধ, ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা অস্বীকার, সামরিক বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের লাগামহীন সহিংসতা এবং ব্যাপক নজরদারি ও সন্ত্রাসের পুঞ্জীভূত প্রভাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এখন একটি ‘সামষ্টিক শাস্তির’ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে জীবনযাত্রার পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে গণহত্যা সংক্রান্ত সহিংসতাকে সামষ্টিক নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সুদূরপ্রসারী মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়ছে অধিকৃত জনগোষ্ঠীর ওপর।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড এবং গাজায় তাদের গণহত্যামূলক যুদ্ধের কট্টর সমালোচক অ্যালবানিজ ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি তাকে বিশেষ দূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭২ হাজার ২৬৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৪ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ১৮ হাজার ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে, যার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫০০ শিশু ছিল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি মিশন অ্যালবানিজের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তাকে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এজেন্ট’ বলে অভিহিত করেছে।
এক বিবৃতিতে মিশনটি জানায়, ‘অ্যালবানিজ তার জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মকে উগ্র ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর কাজে অপব্যবহার করছেন, যার মধ্যে হলোকাস্টের (ইহুদি নিধনযজ্ঞ) বিকৃতি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মতো বয়ানও অন্তর্ভুক্ত। তিনি নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সমর্থন করে বক্তব্য দেন এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে বিপজ্জনক উগ্রপন্থি বয়ান প্রচার করেন।’
অ্যালবানিজ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নির্যাতন ও গণহত্যার কাজ প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গণহত্যার অংশ হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান নির্যাতন আরও গুরুতর এবং অমার্জনীয় করে তুলেছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ফিলিস্তিনিদের ওপর এই ধরনের কাজ সহ্য করতে থাকে, তবে আইন নিজেই তার অর্থ হারাবে।’
৬৪ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
৮৬ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৮৬ দিন আগে
ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ব্যাপক প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছিল তেহরান। এবার সেই জবাব দিতে শুরু করেছে তারা।
রবিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
এর ফলে চলমান যুদ্ধ-উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তেহরানকে উত্তেজনা আরও না বাড়াতে হুঁশিয়ার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে যৌথ ইসরায়েলি-মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এই ঘটনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনির নিজ কার্যালয়ে নিহত হওয়াকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ব্যাখ্যা করেছে এভাবে, ‘এটি প্রমাণ করে যে, যাকে কর্মকর্তারা বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বলে অভিহিত করেন, তার মোকাবিলা করতে গিয়ে তিনি সবসময় জনগণের মাঝে এবং দায়িত্ব পালনে সামনের সারিতে অবস্থান করেছেন।’
ইরানের মন্ত্রিসভা ঘোষণা দিয়েছে, ‘এই মহা অপরাধের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
রবিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করেছেন, এর মূল্য দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন বিধ্বংসী আঘাত হানব যে আপনারাই করুণা প্রার্থনা করতে বাধ্য হবেন।’
ট্রাম্প পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ইরান বলেছে তারা আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবে, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোরভাবে। তারা যেন তা না করে। কারণ যদি করে, আমরা এমন শক্তি প্রয়োগ করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’
ইরানের পাল্টা হামলা
প্রাথমিক হামলার পরপরই ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ইরান বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার অনেকগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের ম্যাগেন ডেভিড আদম উদ্ধারসেবা সংস্থা জানায়, তেল আবিব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত এক নারী নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার শব্দ শোনা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ রবিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আমিরাতের রাজধানীতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে একজন নিহত হয়েছেন। আকাশ প্রতিরোধের পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষে শহরের প্রধান বন্দর ও আইকনিক বুর্জ আল আরব হোটেলের সামনের অংশে আগুন লাগে।
সৌদি আরব জানায়, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালেও তা প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন জানায়, দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া রাজধানী মানামা ও মুহাররাক শহরে ড্রোন হামলা ও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে কয়েকজন কর্মচারী আহত হন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার ধ্বংসাবশেষে তিন সেনা আহত হয়েছেন।
কাতারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডান জানায়, তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘মোকাবিলা’ করেছে।
ইরানে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ক্ষমতায় এসে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
৮৭ দিন আগে