ইসরায়েল
পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় ট্রাম্প প্রশাসন
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আরও নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের স্থিতিশীলতা এনে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীর সংযুক্তকরণের বিরোধিতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইইউ, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ‘পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা থাকলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করে। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসনের যে লক্ষ্য, তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করার এক দিন পর হোয়াইট হাউস থেকে এই মন্তব্য এসেছে।
ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নতুন বসতি স্থাপনের জন্য ইসরায়েলিদের ভূমি অধিগ্রহণ সহজ করা, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
গতকাল (সোমবার) ৮টি মুসলিমপ্রধান দেশ এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, ইসরায়েলের এসব অবৈধ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেআইনি ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ওই যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ইসারয়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমকে পাকাপোক্ত করা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া। এতে করে ইসরায়েলের অবৈধ দখল বাড়বে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনও এই নিন্দায় যোগ দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আল জাজিরার সাংবাদিক গাব্রিয়েল এলিসোন্দো দুজারিককে প্রশ্ন করেন, গুতেরেস কি এসব ব্যবস্থাকে পশ্চিম তীরের ‘ডি ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ’ হিসেবে দেখছেন কি না। উত্তরে দুজারিক বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো আমাদের সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছে না। তারা আমাদের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের নিজস্ব ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
মহাসচিবের মুখপাত্রকে এই সাংবাদিক আরও জিজ্ঞাসা করেন, জাতিসংঘ মহাসচিব কীভাবে ইসরায়েলকে নিরুৎসাহিত করতে পারেন। জবাবে দুজারিক বলেন, আমি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রক্ষার পক্ষে কথা বলে যাব। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য চাপ অব্যাহত রাখব। তবে আমি একা তা করতে পারব না। আমরা চাই অন্যরাও এগিয়ে আসুক।
এরপর সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলকে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের বিষয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার গতকালের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্য দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছে। ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক কাঠামো একতরফাভাবে পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে।
বিতর্কিত ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের সবচেয়ে বড় শহর হেবরনে ভবন নির্মাণের অনুমতির ক্ষমতা সেখানকার কর্তৃপক্ষ থেকে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা।
এই পদক্ষেপগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত দুটি প্রধান ধর্মীয় স্থান, বেথলেহেমের কাছে র্যাচেলের সমাধি এবং হেবরনে প্যাট্রিয়ার্কদের গুহার ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।
ইসরায়েলের মন্ত্রী স্মোত্রিচ গেল রবিবার বলেন, এসব পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েল ভূমির সমস্ত অঞ্চলে আমাদের শিকড় গভীর করা এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে সমাহিত করা।
সোমবার রাতে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং গাজায় আরও সহিংসতা শুরু করার হুমকি দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো এবং সংযুক্তিকরণের যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। তা শান্তি পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
স্পেন সরকার চতুর্থ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ইসরায়েলকে দখলদার শক্তি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলে, বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রমের অবসান ঘটাতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত আরেকটি ভুল পদক্ষেপ।
৩ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
৮ দিন আগে
সীমিত পরিসরে খুলল গাজার রাফাহ ক্রসিং
মিসরের সঙ্গে গাজার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গাজায় প্রবেশের অন্যতম এই দুয়ার সীমিত পরিসরে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এটিকে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অন্যতম অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েল ও মিসর উভয় পক্ষ থেকেই রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। মিসরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিসরীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রথম দিনে এই ক্রসিং দিয়ে গাজা থেকে ৫০ জন ফিলিস্তিনি এবং আরও ৫০ জন ফিলিস্তিনি বাইরে থেকে গাজায় প্রবেশ করতে পারবেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনায় যুক্ত কর্মকর্তারা এ কথা জানালেও নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র সংযোগপথ ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান এই পথটি খুলে দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে খান ইউনিসের বাসিন্দা ঘালিয়া আবু মোস্তফা বলেন, ‘ক্রসিং খুলে দেওয়া একটি ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু তারা যাতায়াতের জন্য মানুষের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যা একটি সমস্যা।’
গাজায় ত্রাণ পরিষেবা নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা বলেছে, ক্রসিংটি পরীক্ষামূলকভাবে খোলা হয়েছে। ফিলিস্তিনের বাসিন্দারা সোমবার থেকে ক্রসিংটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শুরুতে কেবল নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষ যাতায়াতের অনুমতি পাবেন।
রাফাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া সুহাইলা আল-আস্তাল বলেন, ‘আমরা চাই বিপুল সংখ্যক মানুষ বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাক। ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া হোক যাতে অসুস্থ রোগীরা বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে আসতে পারে।’ এ সময় নিজের অসুস্থ মেয়ের বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন জানিয়ে ক্রসিংটি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যার আগের দিনই তাদের হামলায় বেশ কয়েকটি শিশুসহ অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানি। ইসরায়লের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে এই হামলা।
১২ দিন আগে
হামাসের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
গাজায় বিস্ফোরক ডিভাইস দিয়ে চালানো হামলায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এই হামলায় আরও ২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজার শহরের উপকণ্ঠে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কমান্ডারের নাম রায়েদ সাদ বলে দাকি করেছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতি দিয়ে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহত ব্যক্তি সাদই কি না তা স্পষ্ট করেনি হামাস। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলা করেছে যা যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
হামাসের উৎপাদন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন সাদ। তার আগে তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অপারেশন বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন।
এদিকে ইসরায়েলের বিবৃতিতে তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিনি হামাসের পুনর্গঠনে যুক্ত ছিলেন, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) একজন সাংবাদিক জানান, গাজা শহরের পশ্চিমে ইসরায়েলের এই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতালে তাদের মরদেহ দেখেছেন তিনি। আল-আওদা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েল এবং হামাস বারবার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণে অন্তত ৩৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের ওপর সশস্ত্র হামলার জবাবেই সাম্প্রতিক এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গাজার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অংশের এবং বাকি অংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর সৈন্যরা গুলি চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মি রান গভিলির দেহাবশেষ ফেরত দিতে হবে। এটি শান্তি চুক্তির দ্বিতীয় ও সবচেয়ে জটিল ধাপে প্রবেশের একটি শর্ত। ওই ধাপে হামাসের শাসনের অবসান এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে একটি নিরস্ত্রীকৃত গাজা পুনর্গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে আটককৃত প্রায় সবাইকে ও নিহতদের মরদেহকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ইসরায়েলকে।
অপরদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলের দুই বছরের অভিযানে ৭০ হাজার ৬৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে এদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক ও কতজন সেনা তা আলাদা করে বলা হয়নি।
এ যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি উপত্যকার ২০ লক্ষাধিক জনসংখ্যার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, যে পরিমাণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল, তার চেয়ে কম সহায়তা প্রবেশ করছে গাজায়। এ ছাড়া, যুদ্ধে যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, তারা কৃত্রিম অঙ্গের সংকটে ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের শিকার হচ্ছেন।
৬২ দিন আগে
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল
ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই সংখ্যা বাড়ছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইতোমধ্যে ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া গাজা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ১০০।
এদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল।
ওই হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, ৮ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ সেখানে আনা হয়। স্থানীয় বেনি সুহাইলায় শরণার্থীদের একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয় ওই দুই ভাই।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে ‘সন্দেহজনক কার্যক্রম’ চালাচ্ছিল এবং সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল—এমন দুই ব্যক্তিকে তারা হত্যা করেছে। বিবৃতিতে শিশুদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া দক্ষিণে পৃথক একটি ঘটনায় তারা আরও একজনকে হত্যা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে নিহত বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের তালিকা মন্ত্রণালয় আলাদা করে উল্লেখ করে না।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গকারী যোদ্ধারাই তাদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। শনিবার আবারও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
গত ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়ার পর এই সংঘাত শুরু হয়।
তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে প্রায় সব জিম্মি বা তাদের মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত গেলেও এখনো দুই জিম্মির মরদেহ (এক ইসরায়েলি ও এক থাই নাগরিক) ফেরত আসেনি। শনিবার রাতে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে আবারও তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে ইসরায়েলিরা।
৭৬ দিন আগে
গাজায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি
গাজায় ৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে হামাস।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ আগস্ট) কাতার ও মিসর যে প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল, সেটি গ্রহণ করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হামাস।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য বাছেম নাইম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে হামাস। এর মধ্য দিয়ে গাজার মানুষ সহিংসতা থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়ছে, নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০ দিনের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে ২০ জন জীবিত জিম্মির প্রায় অর্ধেককে দুই দফায় মুক্তি দেবে হামাস, বিনিময়ে কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেবে ইসরায়েল। একইসঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনাও চলবে বলে জানিয়েছে মিসরের একটি সূত্র।
হামাসের সম্মতির বিষয়টি ইসরায়েলি সরকারও অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির দুই কর্মকর্তা। তবে তারা সিএনএনকে বলেন, সব জিম্মির মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার শর্তেই কোনো চুক্তি যাবে তেল আবিব।
এমন একটি সময়ে এই প্রস্তাবে হামাসের সম্মতি এল, যখন গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তির জন্য রোববার সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এসব বিক্ষোভ হামাসের দর কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: জেলেনস্কি চাইলে মুহূর্তেই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন: ট্রাম্প
কাতার ও মিসরের নতুন প্রস্তাবটি গতকাল সোমবার ইসরায়েলের কাছে উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে ইসরায়েল আর কোনো আংশিক চুক্তিতে আগ্রহী নয় বলে জানান নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হবে, যখন হামাস একসঙ্গে সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে, নিরস্ত্র হবে এবং গাজার সামরিকীকরণ শেষ করতে সম্মত হবে। হামাসের সম্মতির খবর প্রকাশ হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাস তীব্র চাপে রয়েছে।’
এদিকে, সম্প্রতি সম্পূর্ণ গাজা উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। গাজায় প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই অভিযান শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে দখলে রাখার পরিকল্পনা নেই জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা গাজাকে নিজেদের দখলে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় চাই।’
তবে এই পরিকল্পনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনাহারে একের পর এক মৃত্যু ঘটে চলেছে। এ পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
গত জুলাই মাসে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু করতে নতুন এই প্রস্তাব এনেছে কাতার ও মিসর।
সিএনএন বলছে, মিসর ও কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের দেওয়া দুই পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে। তার প্রস্তাবের ৯৮ শতাংশই সর্বশেষ প্রস্তাবে বজায় রাখা হয়েছে। ইসরায়েল ওই প্রস্তাবে আগেই সম্মতি দিয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে চাপ দিয়েছেন।
হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবে ১০ জন জীবিত জিম্মি এবং ১৮ জনের মরদেহ হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি এবং ১৫ বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত ৬০ জন বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। এ ছাড়া সব অপ্রাপ্তবয়স্ক ও নারী বন্দিকেও মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নয়ন বিবেচনায় উইটকফকে কায়রোয় আসার আমন্ত্রণ জানাবে মধ্যস্থতাকারীরা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই দফা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-মুক্তির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
১৭৯ দিন আগে
শাসক পরিবর্তনে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
ইসরায়েল পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে সরিয়ে গাজার শাসনভার আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চান তিনি।
তবে এমন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও গাজায় এখন পর্যন্ত আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।
গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামাসকে সরানো এবং গাজার মানুষকে মুক্ত করে সমগ্র উপত্যকাকে বেসামরিক শাসনের আওতায় আনতেই আমরা গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইচ্ছুক।’
‘আমরা গাজাকে নিজেদের দখলে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বলয় চাই।’
নেতানিয়াহু জানান, তিনি গাজার শাসনভার আরব বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চান যারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না। গাজাবাসীকে এই ব্যবস্থা ভালো জীবন দেবে বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু পুরো গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন পাওয়ার আশা করছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো। তবে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার যেকোনো প্রস্তাবে পূর্ণ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেতে হবে। তবে রবিবারের আগে তেল আবিববের পূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক হবার সম্ভাবনা কম।
আরও পড়ুন: স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র ত্যাগ করবে না হামাস
এদিকে, গত ২২ মাসের ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর নতুন এই পরিকল্পনার খবর আসার পর গাজায় বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে থাকা মাইসা আল-হেইলা নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘দখল করার মতো কিছুই আর বাকি নেই। গাজা বলে কিছু আর অবশিষ্ট নেই।’
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, গাজায় দুই ধাপের একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেখানকার প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্য গাজায় বেসামরিক অবকাঠামো স্থাপনের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এই পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২–এর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি দখল নিয়ে আশঙ্কায় থাকা সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করতে এই প্রস্তাবকে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বদলে সীমিত অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবার কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হামাসকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ সৃষ্টি করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা খোলা চোখে ভিয়েতনাম মডেলের দিকে এগোচ্ছি।’
এদিকে, ইসরায়েলের এই পরিকল্পনাকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
হামাস কর্মকর্তা ওসামা হামদান আল জাজিরাকে বলেছেন, গাজা শাসনের জন্য গঠিত যেকোনো বাহিনীকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবেই গণ্য করবে।
এই পরিকল্পনার বিষয়ে জর্ডানের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিরা যা চাইবে, আরব দেশগুলো তাতেই সম্মতি দেবে। তাছাড়া গাজার নিরাপত্তা ‘বৈধ ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানের’ দ্বারাই পরিচালিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আমরা ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছি: ক্ষুধার্ত গাজাবাসীর আর্তনাদ
নেতানিয়াহু এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, যখন গাজা যুদ্ধ থামাতে এবং সেখানে আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ছে।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা।
এমন পরিস্থিতিতে গাজা উপত্যকা নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন এই পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
১৯০ দিন আগে
ইসরায়েলে লক্ষ বছরের পুরনো সমাধি আবিষ্কার, প্রাচীন মানুষ দিচ্ছে নতুন ধারণা
সম্প্রতি ইসরায়েলে অবস্থিত একটি গুহায় একটি প্রাচীন সমাধিস্থলের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেখানে প্রায় এক লাখ বছর আগের প্রাচীন মানবজাতির দেহাবশেষ বেশ ভালোভাবে সংরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্য ইসরায়েলের টিনশেমেত গুহায় ওই সমাধিস্থানটি আবিষ্কার করা হয়ে বলে নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এই আবিষ্কার প্রাচীন মানুষদের দেহাবশেষ ও কবর নিয়ে চলমান গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান, দেহাবশেষের পাশে কিছু বস্তু পাওয়া গেছে। সেগুলো মৃতদের সম্মান জানাতে আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
প্রাচীনকালের মানুষদের আধ্যাত্মিকতা ও পরকাল সম্পর্কে কী ভাবতেন এ ধরনের বস্তু থেকে জানার চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
টিনশেমেত গুহার খনন কাজে অংশ নেওয়া জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইয়োসি জেইডনার বলেন, মানব প্রজাতির জন্য এই কবরস্থান আবিষ্কার একটি অসাধারণ ও বিপ্লবাত্মক উদ্ভাবন।
২০১৬ সাল থেকে টিনশেমেতে কাজ করা প্রত্নতাত্ত্বিকরা বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ বছর আগের পাঁচজন প্রাচীন মানবদেহের অবশেষ আবিষ্কার করেছেন।
জেইডনার বলেন, কঙ্কালগুলো গর্তে পাওয়া গেছে। সেগুলো প্রচলিত সমাধিস্থ করার রীতিতে ভ্রূণাকৃতি অবস্থায় সাজানো ছিল। অনেক কঙ্কালের সঙ্গেই ব্যাসল্ট পাথরের নুড়ি, প্রাণীর দেহাবশেষ বা গেরুয়া রঙের খনিজ পদার্থের টুকরো পাওয়া গেছে। এসব খনিজ লৌহসমৃদ্ধ শিলা থেকে তৈরি এক ধরনের লালচে রঞ্জক।
এসব বস্তু প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার উপযোগী নয়। এগুলো মৃতদের সম্মান জানাতে আচার বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
আরও পড়ুন: মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে দ্বিগুণ কার্যকরী ওষুধ আবিষ্কার
কী জানা গেল এই সমাধি থেকে
টিনশেমেত গুহাটি হলো মধ্য ইসরায়েলের পাহাড়ি ঢালের মধ্যে একটি অন্ধকার ফাটলের মতো। গুহাটিতে শোনা যায় অসংখ্য বাদুরের চেঁচামেচি। গুহার ভেতর ও চারপাশে রয়েছে একটি সাধারণ পাথরের ঢিবি। এই গুহাটিকে মানব বিবর্তন ও প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের আচরণ বোঝার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন-চারটি স্থানের একটি বলে অভিহিত করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ ইয়োসি জেইডনার।
প্রস্তরযুগ হিসেবে পরিচিত প্যালিওলিথিক যুগ শুরু হয়েছিল প্রায় ৩৩ লাখ বছর আগে এবং তা স্থায়ী ছিল আনুমানিক ১০ হাজার বছর আগ পর্যন্ত। টিনশেমেত গুহাটি মধ্য-প্যালিওলিথিক যুগের, যা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩০ হাজার বছর আগের সময়কালকে নির্দেশ করে।
ওই গুহায় আবিষ্কারের মধ্যে ছিল পাঁচজন প্রাচীন মানুষের দেহাবশেষ। এর মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ কঙ্কাল এবং তিনটি বিচ্ছিন্ন খুলি যেগুলোর সঙ্গে অন্যান্য হাড় ও দাঁতও ছিল।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বন্তুর মধ্যে ছিল— বিভিন্ন আকারের শতাধিক লাল ও কমলা রঙের গেরুর টুকরো। সেগুলো লৌহসমৃদ্ধ পাথর যা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গরম করে তৈরি রঞ্জক পদার্থ। এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষেরা অলঙ্কার বা সাজসজ্জার বস্তু তৈরির কৌশল জানত।
জেইডনারের ভাষ্যে, এখানে আমরা মানুষের এমন একটি জটিল আচরণ দেখতে পাচ্ছি যেটি শুধু খাদ্য বা বেঁচে থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কনেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের হিউম্যান অরিজিনস প্রোগ্রামের গবেষণা সহযোগী ক্রিশ্চিয়ান ট্রায়ন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেলেও ইসরায়েলের এই অঞ্চলের জলবায়ুর কারণে টিনশেমেতে হাড়, সরঞ্জাম ও অলংকারের নিখুঁত সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রায়ই জ্বলে ওঠা অগ্নিকুণ্ড থেকে ছড়ানো ছাইয়ের কারণে দেহাবশেষ ও বস্তুগুলো এতো ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।’
‘সম্ভবত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য আগুন জ্বালানো হতো। এই বিপুল পরিমাণ ছাই বৃষ্টির পানি এবং ইসরায়েলের অম্লধর্মী চুনাপাথরের সঙ্গে মিশে সংরক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।’
এক খননকারী জানান, একটি কঙ্কাল এতটাই ভালো অবস্থায় ছিল যে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, দুই হাত মাথার নিচে রাখা অবস্থায় আঙুলগুলো কীভাবে একে অপরের ভেতরে গুঁজে রাখা ছিল।
আরও পড়ুন: বানরেরাও অপহরণ করে! বিজ্ঞানীদের অদ্ভুত আবিষ্কার
আগের গবেষণার ভিত্তি মজবুত করেছে এই গবেষণা
টিনশেমেতের আবিষ্কার উত্তর ইসরায়েলের স্কুল গুহা ও কাফজে গুহার আগের আবিষ্কারগুলোকে আরও মজবুত ভিত্তি দিচ্ছে বলে জানান ট্রায়ন। স্কুল গুহা প্রায় ১০০ বছর আগে এবং কাফজে প্রায় ৫০ বছর আগে খনন করা হয়েছিল।
ট্রায়ন বলেন, ‘ওই স্থানগুলো নিয়ে বহু অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু টিনশেমেত প্রমাণ করছে যে এটি একটি নির্দিষ্ট ধারা এবং গবেষকেরা এখন তারিখ নির্ধারণেও নির্ভুল হতে পারছেন।’
টিনশেমেত প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, ওই সময় মানুষের মধ্যে কবর দেওয়ার রীতি অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তাছাড়া প্রাচীন মানুষ কীভাবে মৃতদের সম্মান জানাতো সেক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
কিছু প্রত্নতত্ত্ববিদ বিশ্বাস করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমাধি দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও আগেই শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় হোমো নালেদি নামক এক প্রাচীন মানব প্রজাতি হয়তো ২ লাখ বছর আগেও গুহায় তাদের মৃতদের ইচ্ছাকৃতভাবে দাফন করত।
তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে এবং অনেক গবেষক মনে করেন, এটি প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট উপাত্ত এখনও পাওয়া যায়নি।
দুই মহাদেশের সংযোগস্থল ছিল ইসরায়েল
প্রাচীনকালে ইসরায়েল ছিল ইউরোপ থেকে আসা নিয়ান্ডারথাল এবং আফ্রিকা থেকে আসা হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির মানবজাতির মধ্যে এক সেতুবন্ধন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই অঞ্চলে প্রাচীন মানব প্রজাতির আরও কিছু উপশাখা চিহ্নিত করেছেন। তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং এমনকি বিবাহবন্ধনেও আবদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
টিনশেমেত থেকে পাওয়া দুটি সম্পূর্ণ কঙ্কালের ওপর গবেষণা বহু বছর ধরেই চলছে। তবে তারা নিয়ান্ডারথাল নাকি হোমো সেপিয়েন্স, নাকি সংকর জনগোষ্ঠী কিংবা একেবারে অন্য কোনো প্রজাতির তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেইডনার বলেন, এই উপশাখাগুলোর মিশ্রণের ফলে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞান বিনিময় বা নিজেদের পরিচয় প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সময় থেকেই প্রত্নতত্ত্ববিদরা প্রাথমিক অলঙ্কার বা শরীর রাঙানোর প্রমাণ দেখতে শুরু করেন যা সম্ভবত একধরনের সামাজিক চিহ্ন বা গোষ্ঠীভুক্তির ইঙ্গিত, অর্থাৎ ‘আমরা’ বনাম ‘তারা’— এই সীমারেখা তৈরির চিহ্ন।
আরও পড়ুন: গবাদিপশুর ম্যাসটাইটিস ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করলেন বাকৃবির অধ্যাপক
ভূমির মালিকানা দাবি
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরবৃত্তীয় নৃতত্ত্ববিদ ও টিনশেমেত প্রকল্পের সহ-পরিচালক ইসরায়েল হার্শকোভিৎস বলেন, প্রাগৈতিহাসিক জীবনে সমাধির ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি একটি নিজস্ব এলাকাকে বোঝায়।
তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে আজও পূর্বপুরুষের সমাধি যেখানে রয়েছে, সেই ভূমি নিজেদের দাবি করার ঐতিহ্য আমরা দেখি। এটি প্রতিবেশীদের প্রতি একধরনের বার্তা, ‘এই জমি আমার বাবার, দাদার, তারও আগের প্রজন্মের। অর্থাৎ, আমাদের পূর্বপুরুষদের।’
১৯২ দিন আগে
গাজায় সেনা রাখতে অনড় ইসরায়েল, ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কায় যুদ্ধবিরতি
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতির মধ্যেই গাজা উপত্যকার দক্ষিণ করিডরে সৈন্য রাখার শর্ত দিয়েছে ইসরায়েল। এই প্রস্তাব যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌছানোর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ জুলাই) মার্কিন, ইসরায়েলি ও কাতারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় এই সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গটি উঠে আসে।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৬০ দিন যুদ্ধ স্থগিত রাখার কথা রয়েছে। এই সময়ে কিছু জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং গাজায় আরও ত্রাণ প্রবেশ করবে।
তবে এরই মধ্যে ইসরায়েল নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোচনা-সংশ্লিষ্ট এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন, ৬০ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েল তাদের সেনা মোতায়েন রাখবে। বিশেষত ইসরায়েলের কাছে ‘মোরাগ করিডর’ হিসেবে পরিচিত পূর্ব-পশ্চিম করিডরে সেনা মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মূলত, মোরাগ করিডরে উপস্থিতি বজায় রাখার মাধ্যমে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনিকে গাজার দক্ষিণে সীমান্তঘেঁষা একটি সংকীর্ণ এলাকায় ঠেলে নিয়ে যেতে চায় ইসরায়েল, যেটিকে তারা ‘মানবিক শহর’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাছাড়া অনেকে মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আসলে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার পূর্বাভাস, যেটি এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনারই অংশ।
বুধবার (৯ জুলাই) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এখনও আলোচনার প্রধান অন্তরায়। তবে তারা মোরাগ করিডরের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। অবশ্য গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার না করলে কোনো চুক্তি না করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হামাস।
আরও পড়ুন: অগ্রগতি ছাড়াই শেষ ইসরায়েল-হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের আলোচনা
এর আগেও ইসরায়েল ভিন্ন আরেকটি করিডরে সৈন্য রাখার শর্ত দেওয়ায় কয়েক মাস ধরে যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি আটকে ছিল। তবে মোরাগ করিডরের ভূমিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যান নেতানিয়াহু। সেখানে যুদ্ধবিরতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষকে গাজায় যুদ্ধ থামাতে চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার মার্কিন, ইসরায়েলি ও কাতারি শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল গাজায় সেনা রাখা।
পরে বুধবার এই আলোচনা-সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। আমরা জিম্মিদের ফিরে পেতে চাই। আর আমার মনে হচ্ছে, আমরা সেই লক্ষ্য থেকে খুব একটা দূরে নেই।’
গাজা ভাগ করা তিন করিডরের একটি মোরাগ
চলমান আগ্রাসনে গাজার বেশিরভাগ ভূমি দখলে নিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি পূর্ব-পশ্চিম করিডর, যেগুলো গাজা উপত্যকাকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মোরাগ করিডরের দখল নেয় ইসরায়েল। ২০০৫ সালে গাজা ছেড়ে যাওয়ার সময়কার বসতি ‘মোরাগের’ নামে এটির নামকরণ করা হয়েছে।
গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খান ইউনিসের মাঝখানে অবস্থিত এই করিডরটি প্রায় ১২ কিলোমিটার বা ৭ মাইল দীর্ঘ, যা ইসরায়েল সীমান্ত থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রস্থে প্রায় ১ কিলোমিটার বা অর্ধ মাইল।
নেতানিয়াহু মোরাগ করিডরকে ‘দ্বিতীয় ফিলাডেলফি’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ফিলাডেলফি গাজার সঙ্গে মিসরের সীমান্ত বরাবর আরেকটি করিডর।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত
ইসরায়েল বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে, সীমান্তপারের অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে ফিলাডেলফি করিডরে তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। কিন্তু তাদের সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র গাজায় প্রবেশ করার বিষয়টি বরাবর অস্বীকার করেছে মিসর।
গত মার্চে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েল ফের নেতজারিম করিডরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। গাজার উত্তরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকাকে বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে ওই করিডরটি। এই স্থান দিয়ে এর আগেও উত্তর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ফিরে যাওয়া ঠেকিয়েছিল ইসরায়েল।
তবে নেতজারিম ও ফিলাডেলফি করিডরে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতির বিষয়টি বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
রাফাহকে ‘মানবিক শহর’ বানানোর পরিকল্পনা
মোরাগ করিডরে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান নেওয়ার ফলে রাফাহ শহর গাজার বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের আগ্রাসনে কয়েক হাজার মানুষের শহর রাফাহ এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত। শহরটি এরই মধ্যে ইসরায়েলি উচ্ছেদ আদেশে জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাফাহকে হামাসমুক্ত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ বা ‘নিরস্ত্র এলাকা’ বানানোর দাবি তুলেছে ইসরায়েলে। সেখানে তারা লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে নিতে চায়, যার নাম দিয়েছে মানবিক শহর।
গাজার বেশিরভাগ মানুষ যুদ্ধের সময় বারবার নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ছোট ছোট এলাকায় ঠাসাঠাসি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, দক্ষিণে সরানোর এই নতুন পরিকল্পনা মূলত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিরই আরেকটি ধাপ।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা–সম্পর্কিত দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক কোবি মাইকেল জানান, মোরাগ করিডরটিকে ব্যবহার করা হবে এক ধরনের ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার এলাকা’ হিসেবে। যাদের দক্ষিণে সরানো হবে, তাদের মধ্যে হামাস যোদ্ধারা আছে কি না—তা শনাক্তের জন্য এটি ব্যবহার করা হবে। এতে ইসরায়েলি বাহিনী আরও উত্তরে অভিযানে সুবিধা পাবে এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষদের সেখানে সংঘর্ষের মুখে পড়তে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: খাবারের অভাবে হাড্ডি-চর্মসার হয়ে গেছে গাজার শিশুরা: চিকিৎসক
মাইকেল আরও বলেন, ‘এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরায়েল হামাসের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারবে এবং সম্ভব হলে উত্তর গাজায় হামাসকে পরাজিতও করতে পারবে, যেখানে গেরিলা যুদ্ধ এখনও ইসরায়েলি সেনাদের ভোগাচ্ছে।’
এর মাধ্যমে যুদ্ধ শেষের পথ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। যদিও ইসরায়েল বলছে, হামাস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না।
তবে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে সরানোর এই পরিকল্পনা আসলে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করেছেন এই প্রস্তাবের সমালোচকরা। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি দখল প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে—যেটি নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের প্রধান এজেন্ডাগুলোর একটি।
অবশ্য এই স্থানান্তর জোরপূর্বক হবে না বলে দাবি করেছেন নেতিনিয়াহু। তবে যে এলাকায় যুদ্ধের ভয়াবহতা চরমে, সেখানে এত মানুষকে জড়ো করলে অবকাঠামোহীন দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন ফিলিস্তিনিরা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাছাড়া, এতে ফিলিস্তিনিরা গাজা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিন-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল মিলস্টেইন মোরাগ করিডর ব্যবহার করে দক্ষিণে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের পরিকল্পনাকে একটি ‘উদ্ভট কল্পনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই ইসরায়েলি শর্তে বর্তমান আলোচনাও ভেঙে পড়তে পারে। কারণ এতে হামাস নিশ্চিত হবে যে, যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও ইসরায়েল সেনা সরাবে না, যা হামাস কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, ‘হামাসের জন্য এটি একেবারেই অসম্ভব শর্ত। যদি এটাই শর্ত হয়, তাহলে আমি হামাসের পক্ষ থেকে সম্মতি দেখতে পাচ্ছি না।’
২১৯ দিন আগে
অগ্রগতি ছাড়াই শেষ ইসরায়েল-হামাসের যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের আলোচনা
কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সর্বশেষ পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। স্থানীয় সময় রবিবার (৬ জুলাই) কাতারের দোহায় দুটি আলাদা ভবনে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, আলোচনা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুপক্ষের মধ্যে বার্তা ও ব্যাখ্যা বিনিময় হয়, তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আলোচনার পরবর্তী ধাপ সোমবার (৭ জুলাই) আবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপক্ষের মধ্যকার বাধাগুলো দূর করে সমঝোতার পথ খুঁজতে মধ্যস্থতাকারীরা উভয়পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করবেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দুই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বক্তব্য জানিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—হামাসের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল ‘যথেষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন’ ছিল না, কারণ তাদের কাছে ‘বাস্তবিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা’ ছিল না।
এমন এক সময় এ আলোচনা চলছে, যখন ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠকটি যুদ্ধবিরতি ও গাজায় আটক অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অর্জনের জন্য তিনি তার আলোচকদের ‘পরিষ্কার নির্দেশনা’ দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের পক্ষে গ্রহণযোগ্য।
এদিকে, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক মনোভাব’ দেখানোর দাবি করেছে হামাস। তবে এখনও দুপক্ষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা দূর না হলে চুক্তি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তারা।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য হামাসের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—যেকোনো সমঝোতার শেষে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা। এ অবস্থানে তারা এখনও অনড়।
তবে নেতানিয়াহুর সরকার এর আগেও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এখনও ইসরায়েলি অবস্থানে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এখনো তিনটি লক্ষ্যেই অটল—‘সব জিম্মি, জীবিত ও মৃতদের মুক্তি ও প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা; হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে গাজা থেকে উৎখাত করা; এবং গাজা যেন আর কখনোই ইসরায়েলের জন্য হুমকি না হয়, তা নিশ্চিত করা।’
কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের জন্য এই পরোক্ষ আলোচনা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত মার্চের আগের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে এ ধরনের নানা উদ্যোগ একই জায়গায় এসে আটকে গেছে।
সেই সময় থেকে ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে তীব্র সামরিক অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশের ওপর ১১ সপ্তাহের অবরোধও আরোপ করে, যা কয়েক সপ্তাহ আগে আংশিকভাবে শিথিল করা হয়।
ইসরায়েলি সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ হামাসকে আরও দুর্বল করা এবং তাদেরকে আলোচনায় বসতে ও জিম্মিদের মুক্তি দিতে বাধ্য করতেই নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেওয়ার দাবি হামাসের
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা হামাসের ১৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
তবে গাজায় বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুতই বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় রবিবার অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো— কাতারে চলমান এই আলোচনা কি সত্যিই দুপক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে? আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুকে রাজি করাতে পারবেন যে, এই যুদ্ধের ইতি টানতে হবে?
ইসরায়েলের অনেকেই মনে করছেন, অবশিষ্ট জিম্মিদের বাঁচাতে যুদ্ধ বন্ধের মূল্য দেওয়ার এখনই সময়।
শনিবার রাতেও তারা জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছিল। এ সময় দ্রুত চুক্তি করে জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান তারা।
২২২ দিন আগে