চিকিৎসা
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মানবিক বাংলাদেশে অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে ‘ওয়ার্ল্ড হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর বিশ্বের ১৭১টি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রকাশ করুন, দ্রুত নির্ণয় করুন, জীবন বাঁচান’।
মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নয়, সার্বিক উন্নয়নেও বদ্ধপরিকর। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
সমাজে বসবাসরত মূক ও বধির ব্যক্তিরাও যে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে নবনির্মিত অডিটরি ভারবাল থেরাপি (এভিটি) সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
এ সময় জানানো হয়, যেসব শিশু জন্মগতভাবে বা পরবর্তীকালে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে এবং অন্য কোনো উপায়ে যাদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ব্যয়বহুল কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন সার্জারি করা হয়। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এভিটি সেন্টারে থেরাপির মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলা শেখানো হবে। সেই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়েও এভিটি সেন্টারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি মাথা ও ঘাড়-সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অনুদানের চেক ও চিকিৎসা-সহায়ক ডিভাইস বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাজহারুল শাহীন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হেড অ্যান্ড নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সাত্তার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফর।
২ দিন আগে
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল
কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন।
কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবিলার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
৯ দিন আগে
লোকলজ্জায় চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ছাড়লেন সেই সাপুড়িয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে আহত সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) লোকলজ্জার কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ আছি। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি।’
তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, ‘সাংবাদিকরা খুব জ্বালাচ্ছিল। রাত নেই দিন নেই, এসে সেই এক প্রশ্ন—ওঝা হয়ে সাপের কামড় খেয়ে কেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছেন। তাই সবকিছু বিবেচনায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন বাড়িতে থেকেই বাকি চিকিৎসা শেষ করব।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, গতকাল (শনিবার) রাতেই ইমরান কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। আজ (রবিবার) আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডা. ইকবাল হাসান বলেন, বর্তমানে ইমরান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হয়েছে।
এ সময় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন ইমরান হোসেন।
নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপর কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে সাপুড়িয়া ইমরান বলেন, আগের দিন বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। নিহত সম্রাটের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। পেশায় রাজমিস্ত্রী সম্রাটের বয়স ২২ বছর। তার স্ত্রী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুক্রবার সম্রাটের মৃত্যুর পর বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে খবর দেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমার হাঁটুর ওপর কামড় বসায়।’
১০ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
১৯ দিন আগে
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত মাইমুনার চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা
মাইমুনা ২ বছরের শিশু। এই বয়সে সে হাসবে, বিছানায় খেলবে, আধো-আধো বোলে ঘর মাতিয়ে রাখবে; এটিই তো হওয়ার কথা ছিল। দুই বছর বয়সের একটি শিশুর স্বাভাবিক ওজন হওয়ার কথা ১২ থেকে ১৩ কেজি, কিন্তু মাথায় জমে থাকা ১২ কেজি পানি বহন করে বেড়াচ্ছে শিশুটি। তার শরীরটির মোট ওজন ১৫ কেজি। কিন্তু এই ১৫ কেজির মধ্যে ১২ কেজিই শুধু তার মাথার ওজন।
মাইমুনা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের সম্রাট হোসেনের মেয়ে।
এক বুক হাহাকার আর চোখের পানি নিয়ে প্রতিদিন এই বিশাল মাথার ভার কোলে তুলে নেন এক জন্মদাত্রী মা। মায়ের কোলে যে শিশুর শান্তিতে ঘুমানোর কথা, সেখানে মাইমুনা ছটফট করে তীব্র যন্ত্রণায়। ফুটফুটে এই শিশুটি জন্মগতভাবে ‘হাইড্রোসেফালাস’ নামের মাথায় অতিরিক্ত পানি জমার এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এ রোগে মস্তিষ্কের গভীরের গহ্বরে অতিরিক্ত তরল জমা হয়। এই অতিরিক্ত তরল মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শিশুদের মাথার আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যায়।
স্থানীয় মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, মাইমুনার বাবা সম্রাট হোসেন পেশায় একজন সাইকেল মিস্ত্রি। বাজার গোপালপুরে একটি ছোট দোকানে কাজ করে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তার আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দৈনিক উপার্জনে কোনোমতে সংসার চললেও মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আনসার উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো গেলে মাইমুনা সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ টাকা।
বাজার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান জানান, একজন সাইকেল মিস্ত্রির পক্ষে এ পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। ফলে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে অর্থাভাবে মাইমুনার চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। আর চিকিৎসা বন্ধ থাকায় দিন দিন মাথার আকার বেড়েই চলেছে, যা তার ছোট্ট শরীরটি আরও অবশ ও নিস্তেজ করে দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে গিয়ে মাইমুনার মা রেখা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চোখের সামনে নিজের কলিজার টুকরোকে তিল তিল করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখার চেয়ে বড় শাস্তি পৃথিবীতে কোনো বাবা-মায়ের জন্য হতে পারে না। ওর মাথার ভার ও নিজেই সইতে পারে না। দিন-রাত শুধু ছটফট করে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না। আল্লাহ কেন আমাদের এত বড় পরীক্ষা নিলেন?’
শিশুটির বাবা সম্রাট ও মা রেখা খাতুন সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী এবং মানবিক হৃদয়ের মানুষদের কাছে তার মেয়ের চিকিৎসায় সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন। সামান্য একটু সহানুভূতিই পারে মাইমুনাকে নতুন এক পৃথিবী দেখাতে।
সহযোগিতা পাঠানো ও যোগাযোগের ঠিকানা: সম্রাট হোসেন, গ্রাম: বাজার গোপালপুর, উপজেলা: ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ। মোবাইল নম্বর: ০১৬৪১০৪৯৫৮৫।
২২ দিন আগে
ঢামেকে চিকিৎসা শেষে ফের কারাগারে দীপু মনি
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯) সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দীপু মনিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলুল হক জানান, কারাগারে দীপু মনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে নেওয়া হয়। পরে মেডিসিন বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সকল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে, ডা. দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলখানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
৩০ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি
যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আজ সোমবার দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০২ সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর এ্যালিসন জে ক্রস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চিকিৎসকদের পরামর্শে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
গত ১২ মে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। এ সময় হৃদযন্ত্রে গুরুতর ব্লক ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে সফলভাবে একটি স্টেন্ট স্থাপন করা হয়।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালেও রাষ্ট্রপতি নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সামারি ও নথি তিনি ডিজিটালি অনুমোদন ও স্বাক্ষর করেন।
এছাড়া সফরকালে লন্ডনের হোটেল হিলটনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী ড. কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির একটি অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
৭২ দিন আগে
মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সব রিপোর্ট পর্যালোচনার পর মেডিকেল বোর্ড মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড বিএনপি নেতার সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডা. রফিকুল আরও জানান, সকালে আব্বাসের সিটি স্ক্যান করা হয় এবং রিপোর্টে তার অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ডের একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যদেরও সম্মতি নেওয়া হয়েছে।
ডা. রফিকুল ইসলামের তথ্যমতে, এ মেডিকেল বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, রাজিউল হক, সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, কাদের শেখ এবং অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন।
এর আগে, আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের কাছ থেকে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি।
ডা. রফিকুল মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে।
১৩৮ দিন আগে
চিকিৎসকদের সেবা সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, সেটার সরেজমিন তদারকি করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যে বার্তা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করব।
তিনি বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো সেবা দিচ্ছেন কিনা, তা দেখতে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে যাব, দেখব। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের কার্যক্রম দ্বারা যেন জনসাধারণ উপকৃত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেব না।
স্বাস্থ্যসচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে প্রচুর শূন্য পদ আছে, ফলে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য সচিব।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ দপ্তর বা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬০ দিন আগে
চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে গেল চাঁদপুরের শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়
অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ‘প্রাথমিক চিকিৎসার বাতিঘর’ খ্যাত চাঁদপুর পৌরসভার শতবর্ষী দাতব্য চিকিৎসালয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে এটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ১ মাস ধরে বন্ধ রাখা রয়েছে মেঘনাপাড়ে অবস্থিত গরীবের চিকিৎসাসেবার এই অন্যতম এই কেন্দ্রটি। এতে করে নদীভাঙন-কবলিত ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা মানুষেরা আরও বিপাকে পড়েছেন। ফলে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ। ১০৫ বছর পুরনো এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি ফের চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একশ বছরের বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠা করা হয় পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়টি।
ব্রিটিশ সরকার, পাকিস্তান সরকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শাসনামলে সগৌরবে এই প্রতিষ্ঠানটি নামমাত্র মূল্যে (২ টাকা) মানুষকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করে আসছিল। সবশেষ চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে মাত্র ২ টাকার টিকিটে চিকিৎসা ও ওষুধ দিয়ে ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে ব্যাপক সুনাম কুড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ফি আছে, চিকিৎসা নেই!
হাবিবুর রহমানসহ (৭৫) স্থানীয় কয়েকজন বর্ষীয়ানের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম দিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া হতো। পরবর্তীতে অর্থ সংকটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও পৌরসভার ২ জন স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এতে হতদরিদ্র মানুষের ছোটখাট অসুখের চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে দাতব্য চিকিৎসালয়টি। দৈনিক প্রায় ৮০/৯০ জন রোগী এখানে সেবা নিতে আসতেন বলে জানান তারা।
তবে হঠাৎ করেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটের কারণ দেখিয়ে গত মাসে চিকিৎসালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হতদরিদ্র মানুষজন পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
৩২৯ দিন আগে