কৃষিমন্ত্রী
জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু রবিবার, স্বর্ণপদক পাচ্ছে ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
‘রূপালি মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সাফল্য, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদন, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন।
এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ঘোষণা এবং পদক বিতরণ করবেন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে মৎস্যখাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ মৎস্যখাতের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও রয়েছেন। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হারও সন্তোষজনক বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, মৎস্যখাত বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকারের দূরদর্শী নীতি, গবেষণা ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ খাতকে আরও আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, দেশে মাছের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রাম, যেখানে জাতীয় পুষ্টিচাহিদা নির্ধারিত ৬০ গ্রাম। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় মাছের প্রাপ্যতা ইতোমধ্যে বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষি, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের মৎস্যখাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম, তেলাপিয়া উৎপাদনে অষ্টম, ক্রাস্টেশিয়ান আহরণে ষষ্ঠ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে। এসব অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মৎস্যখাতের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৫২ জন। এর মধ্যে ইলিশ আহরণকারী ৬ লাখ ৫০ হাজার ২৫১ জন, হাওরাঞ্চলের ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪৮ জন এবং সমুদ্রগামী জেলে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২১১ জন।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের বিকল্প খাদ্য ও আয়ের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ মৌসুমে ৪০ হাজার ইলিশ জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে ১৫ হাজার ৫০৩ দশমিক ৫০১ টন ভিজিএফ চাল, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চার মাসে ৫৮ হাজার ৭২০ দশমিক ১৬১ টন চাল, সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞাকালে ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ টন চাল এবং কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের ১ হাজার ৬১০ দশমিক ৭০১ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাছ ধরতে গিয়ে নিহত ২৬ জেলের পরিবারকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা, নিখোঁজ ১৩ জেলের পরিবারকে একই পরিমাণ অর্থ এবং অক্ষম একজন জেলেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৯৫ জন উপকারভোগীকে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে মৎস্যখাত নিয়ে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, চিংড়ির একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশের সুপারশপগুলোতে মানসম্মত চিংড়ি সরবরাহের ব্যবস্থা সহজ করার মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন কবির, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
মাছের অভয়াশ্রম বাড়াবে সরকার, ইজারা প্রথা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ
হাওর ও জলাভূমিতে মিঠাপানির দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে জলমহালের প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা ও জলাভূমিতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার, মাছের আবাসস্থল নষ্ট হওয়া এবং প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম কমে যাওয়ায় মিঠাপানির দেশীয় মাছের প্রাচুর্য কমেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাওর ও জলাভূমিতে মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে বড় গর্ত বা গভীর জলাধার তৈরি করে সেখানে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
মাছের ডিম ও পোনা রক্ষা করা গেলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির মাছের অভয়াশ্রমভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলমহালের প্রচলিত ইজারা ব্যবস্থার পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং পরবর্তী সময়ে সংসদে আইন উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সমুদ্রের পানি ও সামুদ্রিক মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।
মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী ‘চায়নাদুয়ারি জাল’ বন্ধে সরকারি উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এসব জালে ছোট পোনা থেকে বড় মাছ, এমনকি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও ধরা পড়ে। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা হলে সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হয়েছে এবং খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
আগামী প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
এর আগে, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কর্মসূচির প্রস্তুতি দেখতে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলার থানার ঘাট ঈশাখাঁ ব্রিজ সংলগ্ন পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, বাহাদিয়া পাঠানবাড়ি ঘাট এবং মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পোনা মাছ অবমুক্তির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পোনা মাছ অবমুক্তির সার্বিক প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি, ২-৫ দিনের মধ্যে দাম কমার আশা কৃষিমন্ত্রীর
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।
বাজার পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর (ট্যাক্স) কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৪ দিন আগে
বন্যাদুর্গত কৃষকদের সহায়তায় বীজ-ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: কৃষিমন্ত্রী
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। সরকারের পক্ষে একবারে সব ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব না হলেও কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বীজ, সার, গবাদিপশুর ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই দুঃসময় আসে। সেই সময়ে সরকার ও সমাজ যদি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও খামারিদের পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে যেন কোনো ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া না হয় এবং সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের মতো কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় শতভাগ গবাদিপশুকে এফএমডি (ক্ষুরা রোগ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ছয় মাস আগে যেসব পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাদেরও পুনরায় টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি গবাদিপশু মারা গেলে একজন খামারির যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা অনুধাবন করেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের সব সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এবং কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করতে হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৯ দিন আগে
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
দেশের যেসব এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা শেষে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের লুটপাটের অভ্যাস অনেকের হয়তো এখনও যায়নি। তবে সবাইকে জেনে রাখতে হবে, সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করেন। তাই, এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫ দিন আগে
সেচ খরচ কমাতে সোলার সিস্টেমে যাচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকার ডিপটিউবওয়েল ও শ্যালো মেশিনে সোলার সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, এজন্য কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া হবে, ফলে অর্ধেক খরচে সোলার সুবিধা পাবেন তারা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার এলাকায় কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে ধাপে ধাপে সোলার সিস্টেমে রূপান্তর করা হবে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও লাভজনক হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফার অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষি কার্ড প্রদান। তখন এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা হলেও সরকার গঠনের পর দ্রুতই ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
১২১ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের (কুষ্টিয়া-১) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং কৃষিখাতে সার্বিক সহায়তা প্রদানে সরকার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার একটি ‘প্রাক-পাইলটিং’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় প্রতি কৃষককে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এই অর্থ সার, বীজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন যে, বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০১ দশমিক ৬০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সুবিধা পেয়েছেন।
এছাড়া কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার। ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খনন করার একটি বিশাল প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ প্রসঙ্গে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকার সার এবং সেচ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করেছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ভর্তুকি মূল্যে ২৬ লাখ টন ইউরিয়া, শূন্য দশমিক ৯৫ লাখ টন টিএসপি, ১ দশমিক ০৫ লাখ টন এমওপি এবং ১ দশমিক ৬৮৫ লাখ টন ডিএপি সার সরবরাহ করেছে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণের জন্য দেশে ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল আলু সংরক্ষণাগার এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এসব নীতির ফলে ধান, ভুট্টা, আলু ও সবজির উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকার এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
১৩৭ দিন আগে
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শুধু কথার রাজনীতি করে না, বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজার ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন এবং খাল-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই বিএনপি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিল এবং নির্বাচন শেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করার প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখের আগেপরে তা চালু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ের মতো আবারও খাল খনন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনর্খনন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
খাল পুনর্খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমিন উর রশিদ জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো।
স্থানীয় জনগণকে খাল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালগুলো সচল থাকলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১০-এর (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনর্খনন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আওতাধীন ‘বি-স্ট্র’ প্রকল্পের অধীনে খাল খননের কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে। এ খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে লালমাই উপজেলার ৪২টি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূরীভূত হবে। ফলে এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে।
১৫২ দিন আগে
ডাকাতিয়া নদীর ওপর ডাকাতি হয়ে গেছে, নদী উদ্ধার করা হবে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, নদী ও খাল যারা দখল করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। আপনি যেই হোন, সরকারের চেয়ে, ১৮ কোটি জনগণের চেয়ে প্রভাবশালী কেউ নন।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শাসনপাড়া-দোশারীচোঁ থেকে ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, যারা দখল করেছেন, এরা জোচ্চোর, দুষ্কৃতকারী। আপনারা দখল করেছেন, ছেড়ে দেন। আপনাদের ছেড়ে দিতেই হবে।
এর আগে, দোশারীচোঁ মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে হগলে (সবাই) অনেকে অনেক কথা বলে, পরে বাস্তবায়ন করে না। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রমাণ করেছে, আমরা কথায় কাজে এক। নির্বাচনের কালির দাগ মোছার আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। পহেলা বৈশাখ বা তারও আগে কৃষি কার্ড চালু করা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছিলেন, আপনারা বিএনপিকে নির্বাচিত করলে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করব। আমরা আজ শুরু করেছি। কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এরইমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়া শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই সরকার সব কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এতেই প্রমাণিত হয়, বিএনপি কথায় ও কাজে এক।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ৭০ ভাগ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হলে অন্য ৩০ জনের অবস্থা অটোমেটিকেলি ভালো হয়ে যাবে। ডাকাতিয়া নদীর ওপর ডাকাতি হয়ে গেছে। নদী ভরাট করে বাড়িঘর করা হয়েছে। এই ডাকাতিয়া নদী উদ্ধার করা হবে।
আলোচনা সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব বিএডিসি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাশেদুল হক। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।
১৫৩ দিন আগে
আব্দুস শহীদ, কবির বিন আনোয়ারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব কবির বিন আনোয়ার ও তার স্ত্রী তৌফিকা আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সাত কোটি ৭২ লাখ ৭৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ভোগ দখলে রেখেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস শহীদ। এছাড়াও নিজ ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১৮টি হিসাবে মোট ২৬ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা সন্দেহজনকভাবে লেনদেন করেছেন। টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শামীম ওসমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এই মামলা রুজু হয়েছে।
আর তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কারণ তার বিরুদ্ধে ৩৯ লাখ ২২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়াও তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া কবির বিন আনোয়ারের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ দুই কোটি ৮৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। এর বাইরেও তার ৯টি ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
‘এভাবে অবৈধ অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) (৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।’
তৌফিকা আহমেদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করছে দুদক।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে আবদুল হামিদ-হাসিনাসহ ১২৪ জনের নামে মামলা
‘তার ৬টি ব্যাংক হিসাবে সাত কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ২২ হাজার ২৮০ মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এরমধ্য দিয়ে অবৈধ অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হয়েছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কবির বিন আনোয়ার সরকারী কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তার নিজ অবৈধ অর্থ বৈধ করতে স্ত্রী তৌফিকা আহমেদের নামে সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখতে সহায়তা করেছেন। যে কারণে তৌফিকা আহমেদ ও কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) (৩) ধারা এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়।
৫৭৪ দিন আগে