বোরো ধান
টানা বৃষ্টিতে আবারও বাড়ছে হাওরের পানি, বাকি ধান ঘরে তোলা নিয়ে উৎকণ্ঠায় কৃষক
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। মাঠের অবশিষ্ট বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে নদীপাড়ের গ্রামীণ জনপদে এখন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবো জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার জেলায় ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে গত তিন দিনেই জেলায় মোট ২৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ সময়ে সুরমা নদীর পানি নতুন করে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ৭২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উল্লেখ্য, বর্ষার আগে এই অঞ্চলে সুরমা নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ৬ দশমিক ৫ মিটার।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জ ও উজানে চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নদী ও হাওরের পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে কৃষকের ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা আছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আমরা করছি না।
হাওরাঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, চলতি বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই একের পর এক দুর্যোগ ও বৃষ্টির কারণে ধান ঘরে তুলতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে এক-দুই দিন রোদ মিললেও পরদিনই আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কেটে রাখা ধান কোনোভাবেই শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক নিচু এলাকায় কাটা ধান এখনও পানির ওপর ক্ষেতেই ভেসে বা পড়ে রয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন এ বছর কৃষকদের পিছুই ছাড়ছে না। এক দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে পরের দুই দিনই বৃষ্টি হচ্ছে। অন্তত এক সপ্তাহ টানা রোদ থাকলে কৃষকেরা অবশিষ্ট ধান ঘরে তুলতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি ছোট-বড় হাওরে এবার মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টন ধান। সরকারি হিসাব মতে, এ পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৮৭ দশমিক ৪০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৮ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে, যার মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই কাটা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ধান। সেই হিসাবে মাঠ ও হাওরে এখনও প্রায় ১৩ শতাংশ ধান কাটার বাকি রয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের ১০ দিন আগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার আর্থিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এরপর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব আর সরকারিভাবে হালনাগাদ করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এই সরকারি খতিয়ানের চেয়ে আরও অনেক বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মাঠপর্যায়ে এখনও চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি যদি এভাবে অব্যাহত থাকে, তবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বাড়তে পারে।
৮ ঘণ্টা আগে
কৃষকদের জন্য শস্য বীমা চালু করা হবে: প্রতিমন্ত্রী
কৃষকদের জন্য শস্য বীমা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে যশোরে অভ্যন্তরীণ বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে সরকারি খাদ্য গুদামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘হাতের কালি মুছার আগেই সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সব ধরনের কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। প্রয়োজনে কৃষকরা স্বল্প সুদে কৃষিঋণ নিতে পারবেন। সরকার তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ কৃষি ক্ষেত্রে যে অগ্রযাত্রা, তার সূচনা করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি খাল খনন কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিদেশ থেকে উন্নতমানের সার, বীজ, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এনে দেশের কৃষিতে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। ফলে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশের কৃষি খাতের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পিতার কর্মসূচিগুলো নতুনভাবে শুরু করেছেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, ডিজেল ও সার সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান ক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের মাধ্যমে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। এ সময় স্থানীয় কৃষকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষকরা। এর মাধ্যমে ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে যশোর জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৬ টন। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা।
৯ দিন আগে
নওগাঁয় ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই
দেশের ধান উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁয় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারের চিত্র ভিন্ন। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা।
বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা দিচ্ছে, মৌসুমের শুরু বলে দাম কিছুটা কম থাকলেও পুরোদমে ধান ওঠা শুরু হলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২২ হাজার ৪৮০ টন, যা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৫ টন চাল পাওয়া যাবে।
খরচ ও আয়ের হিসাব মিলছে না
মাঠে ধান কাটার উৎসব শুরু হলেও বাজারে গিয়ে হতাশ হতে হচ্ছে কৃষকদের। গত মৌসুমে এই সময়ে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে দাম মিলছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।
রানীনগর উপজেলার বিজয়কান্দি গ্রামের প্রান্তিক চাষি আবুল কালাম আজাদ ও ভাটকই গ্রামের বিপথ চন্দ্র প্রামাণিক জানান, যারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিঘাপ্রতি ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও সেচসহ উৎপাদন খরচ পড়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এবার বিঘাপ্রতি গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বর্তমান বাজারমূল্যে তা বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ফলে বিঘা প্রতি অন্তত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় তারা ধান শুকাতে পারছেন না। এছাড়া পাওনাদারের চাপে অনেকটা বাধ্য হয়ে ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
তাদের দাবি, মন প্রতি দুই-তিনশ টাকা বেশি পাওয়া গেলেও তাদের অন্তত লোকসান গুনতে হতো না।
বাজারের চিত্র ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য
নওগাঁর বৃহত্তম ধানের মোকাম আবাদপুকুর, লোহাচুড়া হাট, আহসানগঞ্জ হাট, চকগৌরি হাট, মাতাজী হাট, সতী হাট, শিষা বাজার, শিবপুর বাজার, মহাদেবপুর হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ধানের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে আসা অধিকাংশ ধানই কাঁচা বা ভেজা। সেই সঙ্গে ধানের ক্রেতাও কম। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় একদিকে যোগান বেশি, তার ওপর আবার ধানের মান তুলনামূলক নিম্ন। ফলে কৃষকরা গতবারের মতো দাম পাচ্ছেন না।
আবার অনেক ব্যবসায়ীর গুদামে গত বছরের ধান এখনও রয়ে গেছে। ফলে তারা মৌসুমের শুরুতেই ধান কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
বড় ব্যবসায়ীদের ধান অবিক্রিত থাকার কারণ হিসেবে বিগত সরকারের অতিরিক্ত আমদানিকে দায়ী করেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধান-চাল অবিক্রিত থাকায় বড় বড় ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বের করতে পারেননি। তারা নিজেরাই আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের হাত টাকা না থাকলে তারা হাটে গিয়ে ধান কিনবেন কী দিয়ে? মূল ধারার ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয় শুরু না করলে বাজারে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম।
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, তাছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামগুলো যদি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করে, তাহলেও বাজারে দাম কিছুটা বাড়বে। সরকার-নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পারলে সব শ্রেণির কৃষকই লাভবান হবেন। অন্যথায়, জেলাজুড়ে এবার ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষক তার নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমাইরা মন্ডল বলেন, জেলায় মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কৃষকরা এখন তড়িঘড়ি করে ভেজা ধান বিক্রি করছেন বলেই কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। ধান শুকিয়ে বাজারে আনলে এবং সরকারি ক্রয় অভিযান শুরু হলে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
এছাড়া, সরকারি গুদামগুলোতে ধান ক্রয় শুরু হলে অবস্থার আরও উন্নতি হবে বলে মনে করেন তিনি। এই কর্মকর্তার মতে, প্রথম দিকে ধান বিক্রি না করে চাষিদের একটু ধৈর্য ধরা উচিৎ। ভরা মৌসুমে ধান বিক্রি করলে সব কৃষকই চলতি বছরের বাম্পার ফলনের সুফল ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে নওগাঁর কৃষি-সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করে, শুধু ফলন ভালো হলেই হবে না, প্রান্তিক চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অন্যথায় বারবার লোকসানের মুখে ধান চাষে আগ্রহ হারাবে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
১১ দিন আগে
এবারের বোরো ধানের ফলন সন্তোষজনক: কৃষি উপদেষ্টা
দেশে এবার বোরো ধানের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে জানিয়ে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হবে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়াল বিলে ধান কাটা ও মাড়াই পরিদর্শন ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপদেষ্টা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘আড়িয়াল বিল প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যসম্পন্ন এলাকা। তাই এখানকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।’
আড়িয়াল বিল ও সংলগ্ন অঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ও ফসল পরিবহনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: দেশে কোনো খাদ্যসংকট হবে না: কৃষি উপদেষ্টা
আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রতিরোধে আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করলে উপদেষ্টা তাদের মামলা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ সময় অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধে টহল চৌকি স্থাপনে কৃষকরা অনুরোধ করলে উপদেষ্টা জরুরি ভিত্তিতে টহল চৌকি স্থাপনে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘আড়িয়াল বিলের পরিবেশ রক্ষায় এলাকাবাসী সহযোগিতা করবেন। মুন্সিগঞ্জের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ যেন যথাযথভাবে হয়, দেশে যেন খাদ্যের অভাব না হয় এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে।’
এ সময় কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান ও জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
৩৮৫ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র শীতে বোরোর বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা
ঠাকুরগাঁওয়ে টানা বেশ কিছুদিনের শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও কুয়াশা পড়ার কারণে বীজতলায় ঠান্ডা পানি জমছে। এই পানির কারণে চারা তুলনামূলকভাবে বড় হচ্ছে না।
বেশ কিছু এলাকায় গিয়ে ইউএনবির এই প্রতিবেদক দেখতে পান, বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। মৌসুমের শুরুতেই এমন হওয়ায় কৃষকেরা পড়েছেন দুঃশ্চিন্তায়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ বছর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু কিছু স্থানে বীজতলা প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন কৃষকেরা। এতে করে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে বলে ধারণা করছেন তারা। ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কয়েকদিন থেকে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা ৮ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। এ অবস্থায় জেলার কৃষকেরা বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। সমস্যায় পড়েছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে কৃষকদের শুকনো, ভেজা, ভাসমান- তিন ধরনের বীজতলার বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বীজতলা তৈরিতে স্থান, জমি তৈরি, শেড তৈরি, সার প্রয়োগ, বীজ বপন, বীজ জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেন কৃষকদের।’
আরও পড়ুন: তীব্র শীতে বোরো ধানের বীজতলা ও সবজির ক্ষতির আশঙ্কায় যশোরের কৃষকরা
তিনি আরও বলেন, ‘শুকনো বীজ একটানা কত ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং কোন জায়গায় রাখতে হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তাদের দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভালো চারা উৎপাদনের জন্য বীজের ভ্রুণ জাগরিত বিষয়ে দিক নির্দেশনা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।’
সদর উপজেলার রুহিয়া রামনাথ এলাকার কৃষক সুধির রায় জানান, প্রত্যেক বছর তিনি কমপক্ষে দেড় একর (১৫০ শতক) জমিতে বোরো ধান লাগান। এ বছরও তিনি বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু তীব্র শীতে বেশিরভাগ চারা গাছ মারা যাচ্ছে।
শীতের প্রকোপে চারাগুলো বড়ো হচ্ছে না বলে জানান তিনি। শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেলে চারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান গ্রামের কৃষক সামশুল হক জানান, প্রত্যেক বছর তিনি প্রায় সোয়া দুই একর (২২৫ শতক) জমিতে বোরো ধান চাষ করে থাকেন। এ বছরও বোরো ধান রোপণের কাজ শুরু করবেন। আপাতত বোরো ধানের বীজতলা করেছেন, শীতের জন্য তিনিও সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বোরো ধানের আবাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রাসেল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার ৮০ হেক্টর জমির। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৮০ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত জেলায় মোট ৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।
তিনি জানান, গত বছরে ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে কৃষকদের বিভিন্ন তথ্য প্রদানসহ সহযোগিতা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শীতের কারণে বেশ কিছু এলাকায় সামান্য কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলার ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও, সেটি বড় সমস্যা নয়।
জেলার কৃষকদের প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে দেওয়ার প্রশংসা করে জানান, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের মতো বোরো ধানেরও বাম্পার ফলন হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
আরও পড়ুন: হাওরে ৭০ ভাগ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে: কৃষি মন্ত্রণালয়
৮৪১ দিন আগে
সাড়ে ১৬ লাখ টন বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ করবে সরকার
আসন্ন বোরো মৌসুমে চার লাখ টন ধান, ১২ লাখ ৫০ হাজার টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ ৭ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
বোরো ধানের ক্রয়মূল্য কেজিতে ৩০ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৪ টাকা এবং গমের ক্রয়মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২ সালে কেজিতে ধানের দাম ছিল ২৭ টাকা, সেদ্ধ চালের দাম ছিল ৪০ টাকা এবং গমের দাম ছিল ২৮ টাকা।
আরও পড়ুন: খুলনাঞ্চলের বোরো ধানে পোকার আক্রমণ: লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা
বৃহস্পতিবার মন্ত্রীপরিষদ সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক,স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সভায় অংশ নেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কোমর পানিতে বোরো ধান কাটছে চরাঞ্চলের চাষিরা
১১৩০ দিন আগে
এক মণ ধানের দামেও মিলছে না শ্রমিক
বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কায় আগেভাগেই বোরো ধান ঘরে তোলা তোড়জোড় চলছে উপকূলীয় নদী বেষ্টিত ফেনীর সোনাগাজীর কৃষকদের মাঝে। তবে এখনও কাটার উপযোগী ৭০ শতাংশ বোরো ধান জমিতে রয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যেই বৃষ্টি সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চরম শ্রমিক সংকট।
শ্রমিক সংকটের কারণে সময় মতো ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক। শুধু তাই নয়, এক মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিকও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষককে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেনীতে গত এক সপ্তাহ ধরে এক মণ ধান ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তার বিপরীতে একজন শ্রমিক ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা চাওয়ায় কৃষকেরা চরম লোকসানের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: লাল বাঁধাকপি চাষ: বদলে দিয়েছে কৃষক বেলালের ভাগ্য
পরশুরাম উপজেলার পৌর এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়। কিন্তু শ্রমিকদের জনপ্রতি এক হাজার থেকে ১২’শ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। সঙ্গে দুই বেলা খাবার। অন্যান্য খরচ যেমন জমি চাষ, সেচ, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচতো আছেই। এতে আমার ৪০ শতক জমিতে প্রায় ২-৩ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।
সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় চর চান্দিয়া এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এক সময় মঙ্গা প্রবল রংপুর অঞ্চলের ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া গেলেও এখন আর নেই। ফলে এলাকার শ্রমিকরা কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত মুজুরি হাকাচ্ছে।
ধান কাটা শ্রমিক কবির আহাম্মদ বলেন, ‘আমি আবুল খায়েরের সঙ্গে (মালিক) ধান কাটার জন্য দৈনিক ১ হাজার টাকা করে পাঁচ দিনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। দুপুরে-রাতে ভাত খাওয়া ও সকালের নাশতাও মালিক বহন করবেন।
পরশুরাম ডাকবাংলা মোড় এলাকার ধান ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম জানান, তিনি প্রতিমণ ধান ৬৮০ টাকা করে কিনছেন। ধানের চাহিদা না থাকায় দাম হঠাৎ কমে গেছে। এ ছাড়া শ্রমিক খরচও ওই টাকা থেকে বাদ যাবে।
আরও পড়ুন: হলুদে ছেয়ে গেছে মাঠ, সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর গ্রামে দেখা গেছে, কৃষক আবুল কাশেম ছয় জন শ্রমিক নিয়ে বোরো ধান কাটছেন। তিনি বলেন, ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া খুব কষ্টের। পেলেও তাদের মজুরি উচ্চমূল্যের। তাই আগামী মৌসুমে আর বোরো চাষাবাদ করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, পরশুরাম উপজেলায় চলতি বছর ৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এবার বাম্পার ফলনও হয়েছে।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব রঞ্জন বণিক বলেন, বোরো আবাদের জন্য সবকিছুই অনুকূলে ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, সার, বীজ কোনো কিছুরই সমস্যা ছিল না। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সচল গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের পাম্প
ফেনীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তারেক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর ৩০ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। বোরো ধানের দাম কম থাকায় আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে তারা সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রি করে দামটা ভালো পান। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিনে কৃষকদের সহজভাবে ধান কাটা, মাড়াই, বস্তা প্যাকেটজাতকরণের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কায় কম্বাইন্ড হারভেস্টর মেশিনে সমতল ভূমিতে ৫০ শতাংশ ও উপকূলীয় এলাকায় ৭০ শতাংশ সরকারিভাবে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে।
১৪৬৬ দিন আগে
হাওরের ৯০% বোরো ধান কাটা শেষ
এখন পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে ৮০ শতাংশ, নেত্রকোনায় ১০০ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৮ শতাংশ, সিলেটে ৯২ শতাংশ, মৌলভীবাজারে ৮৮ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৯০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জে ৯৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ বছর দেশের হাওরভুক্ত সাতটি জেলা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান আবাদ হয়েছে চার লাখ ৫২ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমিতে, কাটা শেষ হয়েছে চার লাখ ৫০০ হেক্টর। আর হাওরের বাইরে উঁচু জমিতে (নন-হাওর) আবাদ হয়েছে চার লাখ ৯৮ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে।
মোট (হাওর ও নন-হাওর মিলে) আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩১৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৬০ ভাগ ( হাওরে ৯০ শতাংশ, নন-হাওরে ৩২ শতাংশ)।
আরও পড়ুন: বন্যার পানি হাওরে ঢুকে ফসলহানির আশঙ্কা সুনামগঞ্জের কৃষকদের
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার দেয়ায় হাওরে দ্রুততার সঙ্গে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে। শুধু সুনামগঞ্জ জেলাতেই ৫৭৭টি কম্বাইন হারভেস্টার ধান কাটায় ব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে বৈরি পরিবেশের মধ্যেও দ্রুততার সঙ্গে বোরো ধান কাটা সম্ভব হয়েছে।বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে পাকা ধান দ্রুততার সঙ্গে কাটার জন্য শুরু থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকেও নিয়ে আসা হয়েছে। প্রায় এক হাজার ৬০০ কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার ধান কাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে। যার মধ্যে ৩০০টি কম্বাইন হারভেস্টার অন্যান্য জেলা থেকে নিয়ে আসা।
আরও পড়ুন: আগাম প্রস্তুতির কারণে এবার হাওরে ক্ষতি কম হয়েছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
১৪৭৭ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওতে কালবৈশাখীর আঘাতে নিহত ১, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় শুক্রবার মধ্যরাতে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখীর আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রচন্ড ঝড়ে জেলার বেশকিছু ঘরবাড়ি ও গাছপালা ধ্বংস হয়েছে।
নিহত সঞ্জয় কুমার মন্ডল (২৮) জয়পুরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, দুই ঘণ্টাব্যাপী ঝড়ে জেলায় ১২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির বোরো ধান, পাট, ভুট্টাখেত নষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালবৈশাখী ঝড়ে সন্দ্বীপে স্পিডবোট ডুবি, শিশুর লাশ উদ্ধার
প্রবল বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি প্রায় ৪০ মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ে ভুট্টা, বোরো ধানসহ আম ও লিচু গাছের ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তারা মাঠ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুমান করার চেষ্টা করছেন।
নীলফামারী মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা জানান, ঝড়ে একটি ভবনের টিনের ছাদ উড়িয়ে কলেজের প্রধান ফটকের ওপরের অংশ ভেঙে পড়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন জানান, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ চাপায় গৃহবধূর মৃত্যু
১৪৭৭ দিন আগে
খুলনাঞ্চলের বোরো ধানে পোকার আক্রমণ: লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা
খুলনাঞ্চলের বোরো ধানের খেতে বিভিন্ন ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনও সুফল মিলছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খুলনা জেলায় ৬২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেট্টোপলিটন এলাকায় ৫৩৫ হেক্টর, লবণচরা এলাকায় ৩৬০ হেক্টর, রূপসা উপজেলায় পাঁচ হাজার ৭১৫ হেক্টর, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ছয় হাজার ৫০ হেক্টর, দিঘলিয়া উপজেলায় চার হাজার ৯০০ হেক্টর, ফুলতলা উপজেলায় চার হাজার ২৩০ হেক্টর, ডুমুরিয়া উপজেলায় ২১ হাজার ৯০০ হেক্টর, তেরখাদা উপজেলায় আট হাজার ৩৫০ হেক্টর, দাকোপ উপজেলায় ২১৫ হেক্টর, পাইকগাছা উপজেলায় পাঁচ হাজার ৬২৫ হেক্টর ও করা উপজেলায় চার হাজার ৮৫০ হেক্টর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ধানক্ষেতে মাজরা পোকা দেখা দিলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এ পোকা ধানের ফলনে কোনও ক্ষতি করে না। পোকা দমনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে হবে।’
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে ঢলের আশঙ্কায় হাওরে দ্রুত ধান কাটার অনুরোধ করে মাইকিং
তবে ধানের ছড়া থেকে শীষ বের হতে শুরু করতেই শীষগুলোতে পোকার আক্রমণ দেখা দিচ্ছে।ফলে ওই ছড়াতে আর ধান না হয়ে শুকিয়ে সাদা (চিটা) হয়ে যাচ্ছে। ওই পোকার আক্রমণ থেকে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এর পরও প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মণ করে ধান কম পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জদুর বিল এলাকার কৃষক সলেমান সরদার বলেন, ‘বোরো রোপণের পর ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত কোনও পোকা আক্রমণ করেনি। হঠাৎ করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। রক্ষা পেতে বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেছি। এরপরও প্রতিকার মিলছে না।’
কৃষক আবুল সরদার ও কামরুল ঢালী বলেন, ‘এ বছর বোরো ধানের বীজ খুবই ভালো ছিল। কিন্তু পোকা সব শেষ করে দিচ্ছে। ধানের শীষ কেটে দিয়েছে।’
কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কয়রা উপজেলার বিভিন্ন বোরো ক্ষেতে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় কৃষি বিভাগের অনুমোদনহীন বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করে থাকেন। সেই জাতগুলো নতুন ধরনের মাজরা পোকা ও রোগবালাই বহন করে এবং আক্রান্ত হয়। একই মাঠে বা পাশাপাশি জমিতে সেসব জাতের ধান চাষ করার কারণে পোকা ও রোগবালাই অনুমোদিত জাতের ধানেও ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কৃষকদের সুপরামর্শ দেয়া হলেও তারা মানেন না। তবে ইতোমধ্যে নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
অপরদিকে পাইকগাছায় চলতি মওসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাঁসি নেই কৃষকের মুখে। কোন কোন এলাকায় শেষ সময়ে নেক ব্লাস্টের আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। প্রস্তুতি না থাকায় কৃষি বিভাগের পরামর্শেও কাজ হয়নি আক্রান্ত ক্ষেতে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় কর্তন শুরু হলেও শীষে ধান না থাকায় শ্রমিকের মজুরী উসুল হচ্ছেনা। এমন পরিস্থিতিতে প্রণোদনা দাবি করেছেন তারা।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘নেক ব্লাস্ট থেকে রক্ষা পেতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণপূর্বক ও কৃষকদের করণীয় তুলে ধরেছেন।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা উফশি জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন। বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে কোন এলাকার কৃষকরা বলছেন ভিন্ন কথা, তাদের দাবি, প্রস্তুতি না থাকায় তারা ধানের পরিবর্তে চিটাসহ গাছ কর্তন করছেন। এজন্য তারা কৃষি বিভাগের আগাম সতর্কতা কিংবা পরিকল্পনাহীনতাকেই দায়ী করছেন।
কৃষি অফিস জানায়, চলতি মওসুমে নেক ব্লাস্ট উপজেলায় বোরো খেতে খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। তাদের হিসাবমতে, উপজেলায় মাত্রা ৪০ হেক্টর জমিতে এ ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকি ও কৃষকদের অতিরিক্ত সতর্কতায় নেক ব্লাস্ট খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। ব্লাস্ট ছাড়া অন্যান্য রোগ-জীবাণুর প্রকোপ কম ছিল বলেও দাবি তার। সব মিলিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে বাঁধ উপচে হাওরে ঢুকছে ঢলের পানি
১৪৯০ দিন আগে