বাংলাদেশ ব্যাংক
ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি-১) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং অন্যান্য অনলাইন পেশাগত সেবার মতো অদৃশ্য (নন-ফিজিক্যাল) সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত ইএক্সপি ফরম জমা দিতে হবে না। তবে এসব সেবা থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশে আনা, তা দেশে ফেরত পাঠানো (রিপ্যাট্রিয়েশন) এবং রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি ক্রেতার কাছে সেবা দেওয়ার পর অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত চালান বা শিপিং ডকুমেন্ট না থাকলেও ই-মেইল, অনলাইন চুক্তিপত্র, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ডিজিটাল ইনভয়েস, রেমিট্যান্স বার্তাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ব্যাংক গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা করতে পারবে। একই সঙ্গে যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত অংশ সংরক্ষণের সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ পর্যন্ত রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে ফর্ম-সি জমা দিতে হবে না। তবে এর বেশি অর্থ এলে নির্ধারিত নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন ফর্ম-সি (আইসিটি) জমা দিতে হবে, যদি না বিদ্যমান অন্য কোনো নির্দেশনায় ছাড় দেওয়া থাকে।
সার্কুলারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি) ব্যবহার করে ক্ষুদ্র অঙ্কের সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে কোনো ন্যাশনাল হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে না; সব অর্থ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ ছাড়া যোগ্য ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যু, বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে সমন্বয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে রপ্তানি আয় দেশে আনা এবং ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, ডেটা প্রসেসিংসহ আইসিটি খাতের সেবা রপ্তানিকারকেরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় ইআরকিউ হিসাবে রাখতে পারবেন। অন্যান্য বৈধ সেবা রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ। অবশিষ্ট অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করে স্থানীয় হিসাবে জমা দিতে হবে। ইআরকিউ হিসাবের অর্থ বিদেশ ভ্রমণ, সফটওয়্যার নিবন্ধন, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বৈধ ব্যক্তিগত ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর কর্তন ও পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব লেনদেনে কেওয়াইসি, এএমএল/সিএফটি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সেবা রপ্তানির অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনতে হবে এবং অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে বিদেশে ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বা ভার্চুয়াল সম্পদের মাধ্যমে রপ্তানি আয় রেখে দেওয়া বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই নির্দেশনা ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার ফলে বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে দেশে আনার প্রবণতা বাড়বে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও শক্তিশালী হবে।
ব্যবসায়িক মহলের মতে, এ উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সেবা রপ্তানিকে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
৪ দিন আগে
মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ডিসিসিআই’র, নীতি সুদহার বহালে গভীর উদ্বেগ
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে সদ্যঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেট ও সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই জানায়, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
সংগঠনটি বলেছে, সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই, যা রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ নীতি সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ তহবিলের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
ডিসিসিআইর মতে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই), রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, কম ডকুমেন্টেশন এবং দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ তহবিলের আওতায় আনতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া আরও জরুরি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এ প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
এছাড়া সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাকেও গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে ব্যাংক খাতের সীমিত তারল্যের বড় একটি অংশ সরকারি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিসিসিআই মনে করে, জাতীয় বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব প্রণোদনা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে সেসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
২৬ দিন আগে
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সময়ে বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলা, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয় বাড়াতে নমনীয় ও বাজারনির্ধারিত বিনিময় হার ব্যবস্থা বহাল রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম হলরুমে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা, বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুদ্রানীতির মূল প্রবন্ধ বা 'কি-নোট' উপস্থাপন করেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।
নতুন মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনও অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আগামী ছয় মাসেও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বহাল থাকবে। ফলে নীতিসুদ অপরিবর্তিত রেখে ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছিল। ধারাবাহিক কঠোর মুদ্রানীতির ফলে তা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও এই অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তবে তাদের মতে মূল্যস্ফীতি এখনও স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
নতুন মুদ্রানীতিতে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে, বিনিময় হার হবে বাজারনির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
মুদ্রানীতিতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আশঙ্কা, এসব কারণে জ্বালানি তেল, সার ও অন্যান্য কাঁচামালের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে দেশে আবারও ব্যয়ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশই সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, জ্বালানি ব্যয় এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির মতো কাঠামোগত কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিনের উচ্চ সুদহার এবং অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদন করছে। এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
এই তহবিল থেকে শিল্প, কৃষি এবং ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্প উৎপাদনে নতুন গতি আসবে।
মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ খেলাপি ঋণ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সরকারি ঋণগ্রহণ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে না গিয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে।
২৬ দিন আগে
বাংলা কিউআর চালুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু
আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হতে যাওয়া ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী একটি ব্যাপক প্রচারণামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।
বুধবার (১০ জুন) ডিজিটাল ক্যাশ বা নগদহীন লেনদেন প্রসারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোশতাকুর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাঙ্গণে এই প্রচারণামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এই ডিজিটাল পেমেন্ট বা লেনদেন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—সমন্বিত ‘বাংলা কিউআর’ নেটওয়ার্কের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনের সুবিধা এবং বহুস্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্স অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জোরালো প্রচার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো—আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও গ্রাহকবান্ধব, দ্রুতগতির, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪৬ দিন আগে
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একীভূত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই স্কিম অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথম দিন থেকেই ন্যূনতম দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন। পরবর্তী ধাপে প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২১ মাসের মধ্যে পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব নয়, এফডিআর (মেয়াদী আমানত) ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের ক্ষেত্রেও অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব এফডিআর বা ডিপিএস মেয়াদপূর্তির সময়ে পৌঁছাবে, সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ নতুন করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। প্রতিবার নবায়নের সময় আমানতকারী তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যদিও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে তিনবার নবায়নের সুযোগ থাকবে। ছয় মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে দুইবার এবং এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনর্নবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহকারী মুখপাত্র জানান, সাধারণ উত্তোলন সীমার বাইরে গুরুতর অসুস্থ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। কিডনি রোগী বা অন্যান্য জটিল রোগে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীন অর্থ তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র জমা হবে।
এছাড়া অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দিয়ে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে পারবেন। যদি এর চেয়েও বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো আমানতকারী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ তুলতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে বলে এ সময় জানান তিনি। বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের অনুমোদন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই তা অনুমোদন দেবে। একইভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ায় এখন মানবসম্পদ, শাখা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় একই স্থানে একাধিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেগুলোকে ধাপে ধাপে একীভূত করে একটি কার্যকর শাখায় রূপান্তর করা হবে, যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আলাদা আলাদা হেড অফিসের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে পাঁচ ধরনের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সফটওয়্যারকে একীভূত করে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি দক্ষ, লাভজনক এবং টেকসই ব্যাংকে পরিণত করতে। এজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১১০ দিন আগে
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকি লেনদেনের সময় কমানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য নতুন অফিস ও লেনদেন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। তবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে। আর আগের মতোই ব্যাংকে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
অন্যদিকে, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা অথবা বুথে আগের মতো ২৪ ঘণ্টাই ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১১৩ দিন আগে
আহসান এইচ মনসুরকে অব্যাহতি, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ করে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোস্তাকুর রহমানকে ড. মনসুরের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই দুজনকে যথাক্রমে অপসারণ ও নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ড. মনসুর।
তবে আজ তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আবরাউল হাছান মজুমদারের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এরপর আরেক প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, ড. মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোস্তাকুর রহমান।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মজুমদার দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছেন, মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে গ্রহণ করবেন। এ নিয়োগের অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে বি কম (সম্মান) এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯২ সালে (আইসিএমএবি) থেকে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ফেলো সদস্য হন।
তিনি বর্তমানে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্পোরেট অর্থায়ন, ব্যাংকিং সম্পর্ক, মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনা, রফতানি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
১৫১ দিন আগে
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের তারল্যচাপ কমানো এবং দেশের বাজারে চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রে বিধি শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাকিতে এলপিজি আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত এই ঋণসুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিটে আমদানির করা এলপিজি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন।
এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে দেশে সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমদানিতে বাড়তি সময়ের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও একই সুবিধার আওতায় এলেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাণিজ্যিক ঋণের পাশাপাশি আমদানিকারকেরা চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের নির্ধারিত ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির পর তা বাজারে সরবরাহ করতে সময় বেশি লাগায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়। এই চাপ কমানো এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যের আমদানিতে গতি আনতেই বাকিতে পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিতে তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও বেশি দাম দিয়েও সরবরাহ মিলছে না। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ভোগান্তি বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ। এতে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে এবং ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।
১৯৫ দিন আগে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে শুরু হবে: গভর্নর
আর্থিকভাবে দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এই সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার (Economies Future Trajectory and Political Commitment)।
গভর্নর বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে থাকা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। কারণ এগুলো ‘সঞ্চিত সমস্যা’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
এলসি খোলার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলসি খোলার বিষয়টি বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বেড়েছে; গতবারের এই সময়ের চাইতে বেশি।
তার ভাষ্যে, আমাদের এক্সটারনাল সেক্টরটা (বহির্বাণিজ্য খাত) স্থিতিশীল হয়েছে, সেখানে কোনো ভালনারবিলিটি (দুর্বলতা) নেই। ব্যাংকিং খাতে ডলারের কোনো অভাব নেই; যেকোনো পরিমাণ ডলার আপনারা কিনতে পারবেন যদি আপনি বাংলাদেশের টাকা নিয়ে আসেন।
২৩৯ দিন আগে
প্রশাসক বসবে একীভূত হতে যাওয়া সংকটাপন্ন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করার বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে।
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ও সহায়ক আইনসমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
প্রতিটি ব্যাংকে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি চারজন কর্মকর্তার সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবেন। আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। নতুন এ ব্যাংকটির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, এ একীভূতকরণ দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করবে এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
একীভূত হওয়ার পর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বিলুপ্ত হবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ার বাতিল ঘোষণা করা হবে। ব্যাংকগুলোর সব সম্পদ ও দায় নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
সরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন ব্যাংকের শেয়ার পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে বিক্রি করা হবে। বড় অঙ্কের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে তাদের আমানতের একটি অংশ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হতে পারে, তবে ছোট আমানতকারীরা বিনা বাধায় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর এক্সিম ব্যাংকের মালিক নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদার।
৩১৩ দিন আগে