বাংলাদেশ ব্যাংক
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের ধাপে ধাপে টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একীভূত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা বিক্ষোভ করেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত পেতে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি নির্দিষ্ট স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই স্কিম অনুযায়ী ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথম দিন থেকেই ন্যূনতম দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারছেন। পরবর্তী ধাপে প্রতি তিন মাস পরপর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এভাবে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২১ মাসের মধ্যে পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু সাধারণ সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব নয়, এফডিআর (মেয়াদী আমানত) ও ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানতের ক্ষেত্রেও অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব এফডিআর বা ডিপিএস মেয়াদপূর্তির সময়ে পৌঁছাবে, সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে। বাকি অর্থ নতুন করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নবায়ন করা হবে। প্রতিবার নবায়নের সময় আমানতকারী তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যদিও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে তিনবার নবায়নের সুযোগ থাকবে। ছয় মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে দুইবার এবং এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুনর্নবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সহকারী মুখপাত্র জানান, সাধারণ উত্তোলন সীমার বাইরে গুরুতর অসুস্থ বা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। কিডনি রোগী বা অন্যান্য জটিল রোগে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমাহীন অর্থ তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত যথাযথ নথিপত্র জমা হবে।
এছাড়া অন্য যেকোনো অসুস্থতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রশাসক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দিয়ে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে পারবেন। যদি এর চেয়েও বেশি অর্থ প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বিবেচনা করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো আমানতকারী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ তুলতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। আমানতকারীরা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে বলে এ সময় জানান তিনি। বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে নতুন করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের অনুমোদন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই তা অনুমোদন দেবে। একইভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে এবং সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হওয়ায় এখন মানবসম্পদ, শাখা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় একই স্থানে একাধিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেগুলোকে ধাপে ধাপে একীভূত করে একটি কার্যকর শাখায় রূপান্তর করা হবে, যাতে পরিচালন ব্যয় কমে এবং দক্ষতা বাড়ে। এছাড়া পাঁচ ব্যাংকের আলাদা আলাদা হেড অফিসের প্রয়োজন নেই। যেসব প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পাঁচটি ব্যাংকে বর্তমানে পাঁচ ধরনের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব সফটওয়্যারকে একীভূত করে একটি সমন্বিত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি দক্ষ, লাভজনক এবং টেকসই ব্যাংকে পরিণত করতে। এজন্য সব ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি প্রকাশ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় সৃষ্ট জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ব্যাংকি লেনদেনের সময় কমানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য নতুন অফিস ও লেনদেন সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগামীকাল রবিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। তবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলবে। আর আগের মতোই ব্যাংকে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে।
অন্যদিকে, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা অথবা বুথে আগের মতো ২৪ ঘণ্টাই ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার অধীনে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ায় ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১২ দিন আগে
আহসান এইচ মনসুরকে অব্যাহতি, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ করে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোস্তাকুর রহমানকে ড. মনসুরের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই দুজনকে যথাক্রমে অপসারণ ও নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ড. মনসুর।
তবে আজ তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আবরাউল হাছান মজুমদারের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগকৃত ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এরপর আরেক প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, ড. মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোস্তাকুর রহমান।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মজুমদার দ্বিতীয় প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছেন, মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
মো. মোস্তাকুর রহমান গভর্নর পদে নিয়োজিত থাকাকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত মোতাবেক বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক হতে গ্রহণ করবেন। এ নিয়োগের অন্যান্য বিষয় চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মোস্তাকুর রহমান ১৯৬৬ সালের ১২ মে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৮৭ সালে বি কম (সম্মান) এবং ১৯৮৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯২ সালে (আইসিএমএবি) থেকে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ফেলো সদস্য হন।
তিনি বর্তমানে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কর্পোরেট অর্থায়ন, ব্যাংকিং সম্পর্ক, মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনা, রফতানি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
৫০ দিন আগে
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের তারল্যচাপ কমানো এবং দেশের বাজারে চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রে বিধি শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাকিতে এলপিজি আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত এই ঋণসুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, এখন থেকে দেশীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট, বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বায়ার্স বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে এলপিজি আমদানি করা যাবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিটে আমদানির করা এলপিজি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন।
এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে দেশে সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমদানিতে বাড়তি সময়ের ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকরাও একই সুবিধার আওতায় এলেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরবরাহকারীর কাছ থেকে বাণিজ্যিক ঋণের পাশাপাশি আমদানিকারকেরা চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতা ঋণ নিতে পারবেন। একইসঙ্গে দেশের নির্ধারিত ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও ঋণ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির পর তা বাজারে সরবরাহ করতে সময় বেশি লাগায় আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়। এই চাপ কমানো এবং জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই পণ্যের আমদানিতে গতি আনতেই বাকিতে পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিতে তাৎক্ষণিক বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও বেশি দাম দিয়েও সরবরাহ মিলছে না। এতে ভোক্তা পর্যায়ে ভোগান্তি বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন বিভাগের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ। এতে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত অন্যান্য সব বিধান অপরিবর্তিত থাকবে এবং ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।
৯৪ দিন আগে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আগামী সপ্তাহে শুরু হবে: গভর্নর
আর্থিকভাবে দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের’ কার্যক্রম ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে’ যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত এই সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার (Economies Future Trajectory and Political Commitment)।
গভর্নর বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে থাকা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারকে গভীরভাবে বুঝতে হবে। কারণ এগুলো ‘সঞ্চিত সমস্যা’ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বাংলাদেশ ব্যাংককে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
এলসি খোলার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশ ব্যাংক তুলে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এলসি খোলার বিষয়টি বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ বেড়েছে; গতবারের এই সময়ের চাইতে বেশি।
তার ভাষ্যে, আমাদের এক্সটারনাল সেক্টরটা (বহির্বাণিজ্য খাত) স্থিতিশীল হয়েছে, সেখানে কোনো ভালনারবিলিটি (দুর্বলতা) নেই। ব্যাংকিং খাতে ডলারের কোনো অভাব নেই; যেকোনো পরিমাণ ডলার আপনারা কিনতে পারবেন যদি আপনি বাংলাদেশের টাকা নিয়ে আসেন।
১৩৮ দিন আগে
প্রশাসক বসবে একীভূত হতে যাওয়া সংকটাপন্ন পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইসলামী ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই প্রশাসক নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করার বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে।
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ও সহায়ক আইনসমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
প্রতিটি ব্যাংকে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যিনি চারজন কর্মকর্তার সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবেন। আমানতকারীদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার সম্ভাব্য নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’। নতুন এ ব্যাংকটির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করেন, এ একীভূতকরণ দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করবে এবং পুনর্গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
একীভূত হওয়ার পর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বিলুপ্ত হবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ার বাতিল ঘোষণা করা হবে। ব্যাংকগুলোর সব সম্পদ ও দায় নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
সরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন ব্যাংকের শেয়ার পরবর্তীতে বেসরকারি খাতে বিক্রি করা হবে। বড় অঙ্কের আমানতকারীদের ক্ষেত্রে তাদের আমানতের একটি অংশ শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া হতে পারে, তবে ছোট আমানতকারীরা বিনা বাধায় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর এক্সিম ব্যাংকের মালিক নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদার।
২১২ দিন আগে
ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রথমবারের মতো দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিকখাতে বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়ানো, সেবার পরিসর বিস্তৃত করা আর ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসই) অর্থায়নের সুযোগ সহজ করাই এর লক্ষ্য।
এতে আরও বলা হয়েছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজে ঋণ পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে বলেও মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত প্রস্তাবপত্রের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা (অফেরতযোগ্য) ফি জমা দিতে হবে। এ টাকা যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে দিতে হবে। শর্ত পূরণ না করলে আবেদন বাতিল হবে।
আরও পড়ুন: নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের কথা ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক
এ ছাড়া আবেদনপত্র সরাসরি জমা দেওয়ার পাশাপাশি ই-মেইলের মাধ্যমেও সব নথি জমা দেওয়া যাবে। বিস্তারিত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হবে। পেমেন্ট সার্ভিস পরিচালিত হবে ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশনের অধীনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের কেবল একটি প্রধান কার্যালয় থাকবে, কোনো শাখা, উপশাখা, এটিএম, সিডিএম বা সিআরএম থাকবে না। সব ধরনের সেবা অ্যাপভিত্তিক হবে যা মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ এই ব্যাংক ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) সেবা দেবে না।
এর আগে, ২০২৩ সালের ১৪ জুন ডিজিটাল ব্যাংকের নীতিমালা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি তা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
২৩৩ দিন আগে
নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের কথা ভাবছে বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন ডিজিটাল ব্যাংককে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বোর্ড সভার আলোচ্যসূচিতে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২৭ আগস্ট বোর্ড সভা হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ইউএনবিকে জানান, ২০২৩ সালে দেওয়া ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্সের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ আগস্টের শেষ বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন পরিচালক নতুন ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে তারা বলেন, বেশ কয়েকটি প্রচলিত ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের অনেকেই যুক্তি দিয়েছেন ডিজিটাল অবকাঠামো এখনও সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিগগিরই নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করতে পারে।
পড়ুন: ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য ৫২ আবেদন জমা বাংলাদেশ ব্যাংকে: মুখপাত্র
২০২৩ সালে ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য প্রথম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। সেসময় লাইসেন্স নেওয়ার জন্য ৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। প্রাথমিক পর্যালোচনার পর, নয়জন আবেদনকারীকে লাইসেন্স দিতে বাছাই করে বোর্ড।
আবেদনকারীদের মধ্যে পাঁচজন - নগদ, কোরি, স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এবং জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক - লেটারস অব ইনটেন্ট (এলওআই) পেয়েছে। বিকাশ, ডিজি টেন এবং ডিজিটাল ব্যাংকের মতো অন্যান্য আবেদনকারীদের ডিজিটাল ব্যাংকিং শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আবেদন বাতিল করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াটি যাতে সহজেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে না পারে সেজন্য নতুন অনুমোদন প্রক্রিয়াটি উল্লেখযোগ্যভাবে আরও স্বচ্ছ হবে এবং বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলের তুলনায় অনেক কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখবে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদের লাইসেন্স স্থগিত করেছে। এছাড়া কোরি ডিজিটাল ব্যাংক এখনও চূড়ান্ত লাইসেন্স পায়নি।
অর্থ পাচারের জন্য এই ব্যাংকগুলোর মালিকানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক শেল কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
নগদের মালিকানা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত পাঁচটি বিদেশি কোম্পানির মালিকানাধীন। কোম্পানিগুলো হলো- ফিনক্লুশন ভেঞ্চারস (সিঙ্গাপুর), ব্লু হেভেন ভেঞ্চারস, ওসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স, জেন ফিনটেক ও ট্রুপ টেকনোলজিস (ইউএস)।
অন্যদিকে, কোরি ডিজিটাল ব্যাংক চারটি মার্কিন-নিবন্ধিত কোম্পানির মালিকানাধীন—যাদের আসল পরিচয় এবং আর্থিক অবস্থা অস্পষ্ট।
২৩৮ দিন আগে
কৃষি ঋণে কি বেসরকারি ব্যাংক ও প্রান্তিক কৃষকের অনাগ্রহ বাড়ছে?
চলতি অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে গত বছরের চেয়ে এ বছর ঋণের পরিমাণ নতুন করে ১ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে ঋণ প্রদান করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ প্রদান কম ৬৭৪ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ২টি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৪২টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ৮টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮.২৩ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে ঋণ প্রদান করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বেশি।
অন্যান্য বছরগুলোতে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ প্রদান কমে আসার কারণ অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ক্ষুদ্র কৃষক, প্রান্তিক চাষি এবং নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৃষি ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমেছে। বিশেষত আশপাশের যারা কৃষি ঋণ নিয়েছেন, তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন বাকিরা।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বেসরকারি দেশীয় ব্যাংকের মধ্যেও ঋণ প্রদানের পরিমাণ কমেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকেও ঋণ প্রদানের পরিমাণ অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উইংয়ের সর্বশেষ মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে কৃষি ঋণ প্রদানের পরিমাণ কমেছে ১১.৩৫ শতাংশ।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে এই ঋণ প্রদানের পরিমাণ কমেছে ৯.৭৪ শতাংশ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে তা কমেছে ০.৩০ শতাংশ। এই তিন ক্যাটাগরির ব্যাংকের অধীনে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ২৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের কথা থাকলেও সবচেয়ে কম ঋণ দিয়েছে এসব ব্যাংকই।
অন্যদিকে, দুই বিশেষায়িত ব্যাংকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ঋণ প্রদানের পরিমাণ বেড়েছে ১১.৬৯ শতাংশ। যেখানে বিশেষায়িত ব্যাংকের অধীনে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
এদিকে, ঋণ প্রদান কমলেও বেড়েছে ঋণ আদায়ের পরিমাণ। মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২০২৩-২৪-এর তুলনায় ঋণ আদায় বেড়েছে ৪.৬৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঋণ আদায় বেড়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে, ৮.৭৬ শতাংশ; যাদের হাতে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ১২১ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ কম দিলেও আদায়ের ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল এবং এটিই কৃষকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ মাঠ সংশ্লিষ্টদের।
ক্ষুদ্র কৃষক এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহ
কৃষি ঋণে ধীরে ধীরে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে ক্ষুদ্র কৃষক এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের মধ্যে। বাংলাদেশের দুই জেলা ময়মনসিংহ এবং বরিশালের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই তারা ঋণ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।
ময়মনসিংহের কৃষি উদ্যোক্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘কৃষি ঋণ আমাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকে কাঠখড় পুড়িয়ে ঋণ পেলেও এ ঋণের দেনা শোধ করতে বিক্রি করতে হচ্ছে জমি। স্বল্প সুদের কথা বললেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ বাড়ছে। অন্যদিকে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষি ফসলে ক্ষতি হয়েছে, অনেকের মাছের ঘের ডুবে গেছে। তাদের জন্য ঋণ শোধ করা কষ্টসাধ্য।’
নিজের প্রসঙ্গে আবু বকর বলেন, ‘ঋণ নিয়ে ফসল ফলানোর পর ফসলের ক্ষতি হলে সেখানে কৃষককে কে বাঁচাবে তার কোনো পরিকল্পনা নেই। এতে করে আমিসহ আশপাশের অনেক কৃষক আছেন যারা পাঁচ-ছয় মাস ঋণের কিস্তি দিতে পারেননি। তাদের অনেকের নামে মামলার নোটিশ এসেছে।’
একই জেলার আরেক কৃষক সামসুদ্দিন বলেন, ‘কৃষককে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতি মাসে যদি সুদ বাড়িয়ে ব্যবসা করার চিন্তা করে ব্যাংক, তাহলে কৃষকদের উন্নতি কীভাবে হবে? একদিকে ফসল হয়নি, যা বিক্রি করেছি তা থেকেও মুনাফা ওঠেনি, অন্যদিকে প্রতিমাসে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত।’
কৃষি ঋণের খোঁজ নিতে গিয়ে বরিশালে দেখা গেল একেবারেই ভিন্ন চিত্র। দক্ষিণাঞ্চলের এ জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় যেসব কৃষক কৃষি ঋণ নিয়েছেন, তারা কৃষক হলেও ঋণের অর্থ কাজে লাগিয়েছেন অন্য খাতে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে অনেকে কৃষি ঋণ নিয়েছেন। ঋণের অর্থে কেউ দিয়েছেন দোকান, কেউবা করছেন জমির ব্যবসা।’
ঋণ নেওয়া এমন আরও কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি ঋণ নিয়ে ফসলের মাঠে অর্থলগ্নি করলে ঋণের টাকা শোধ করা কঠিন হয়ে ওঠে। বেশিরভাগ সময়ই ফসলের যে দাম অনুমান করে ঋণ নেওয়া হয় তার অর্ধেক দামও ওঠে না। তাই ফসলের চাষ করার পাশাপাশি ঋণের অর্থ দোকান বা জমি বেচা-কেনায় অর্থ লগ্নি করেন তারা।
কৃষকরা জানান, একমাত্র বিনা সুদে ঋণ দিলে কৃষকরা ঋণের সুবিধাভোগী হতে পারবে। সুদের চাপ থাকলে ঋণ নিয়ে তারা মুনাফা অর্জন করতে পারে না। যারা একবার কৃষি ঋণ নিয়ে শুধু কৃষিকাজই করেছেন তারা আর দ্বিতীয়বার ঋণ নেননি, তারপরও মেটাচ্ছেন আগের ঋণের দেনা।
বিনা সুদে ঋণ কতটা যৌক্তিক?
নির্দিষ্ট কিছু আমদানি বিকল্প ফসলে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এর বাইরে ৫-৬ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে হয় কৃষকদের, অনেক ক্ষেত্রে এ ঋণে সুদের পরিমাণ আরও বেশি।
সুদহার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কৃষি ঋণের সুদহার ব্যাংকগুলো নিজেরাই নির্ধারণ করবে, তবে সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, এ খাতে সুদহার হবে সরল এবং নমনীয়।
কৃষকদের বিনা সুদের ব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য এবং কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল বায়েস বলেন, ‘বিনা সুদে ঋণ দিলে ব্যাংক ব্যবস্থার কাঠামো বলে কিছু থাকে না। এই ঋণ অপারেশনের (পরিচালনা) ক্ষেত্রেও ব্যাংকের একটি খরচ আছে। বেসরকারি ব্যাংককে ঋণ প্রদানের আওতার মধ্যে রাখতে চাইলেও সুদের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবে এই সুদ যাতে কৃষকবান্ধব হয় সেদিকে নজরদারির দায়িত্ব সরকারের।’
তিনি বলেন, ‘বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে টাকা যাবে অন্যদের পকেটে, বঞ্চিত হবে কৃষক। এ ক্ষেত্রে কৃষক যাতে ঋণের ফাঁদে না পড়ে, সেজন্য আলাদা ভর্তুকি এবং বিশেষ ব্যবস্থায় ঋণের গ্রেস পিরিয়ড বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কোনো এলাকায় বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঘটনা ঘটলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত এসব এলাকায় ঋণ নেওয়া কৃষকদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়া।’
এক মৌসুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য মৌসুম পর্যন্ত কৃষকদের ছাড় দেয়ার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জোর দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন ঋণ পরিশোধে ১২ কিস্তি পর্যন্ত সুযোগ পায় এবং মামলার মতো হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে জোর দেন এই কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ।
ঋণ প্রদানে বেসরকারি ব্যাংকের অনাগ্রহ
বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামানত নীতি থেকে শুরু করে অনেক বেসরকারি ব্যাংকের মাঠ পর্যায়ে ঋণ প্রদানে যাচাই বাছাইয়ের সক্ষমতা নেই। এ ছাড়া উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বেসরকারি অনেক ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় তারা কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পর্যন্ত পারে না। প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকরাও শহরে এসে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, শস্য জামানত নীতিতে ফসল উৎপাদনের জন্য একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ১৫ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য ঋণ প্রদান করা যাবে। সে হিসাবে যারা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষি, তাদের প্রত্যেকের জমির পরিমাণ ০.৪৯৪ একর থেকে ২.৪৭ একর। এরা প্রত্যেকেই জামানত হিসাবে শস্য-ফসল দায়বদ্ধকরণ বা ক্রপ হাইপোথিসিসের মাধ্যমে ঋণ নিতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে কৃষক ঋণ পরিশোধে সক্ষম না হলে ব্যাংক ফসল থেকে দেনা মেটাতে পারবে।
তবে এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না বেসরকারি ব্যাংকগুলো। তাদের কর্মকর্তারা জানান, কৃষককে যে পরিমাণে ঋণ দেওয়া হয়, শুধু ফসলের জামানত দিয়ে সেই ঋণের অর্থ আদায় ব্যাংকের জন্য কঠিন।
এ প্রসঙ্গে সায় দিয়ে শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকের মূল সমস্যা ঋণ প্রদানের পর তাদের ঋণ আদায়ের সক্ষমতা নেই। এ ধরনের নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তারা ঋণ দিতে চায় না। আবার অনেক বড় বড় ব্যাংক এসব ক্ষুদ্র ঋণের জন্য লোকবল নিয়োগেও আগ্রহী নয়।’
এ ছাড়া বেশিরভাগ কৃষক জানেনই না যে কোন ব্যাংকে কত সুদে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে ব্যাংকে গিয়ে ঋণের আবেদন করবেন। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে স্থানীয় এনজিও বা সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকের দ্বারস্থ হন বলে মনে করেন রিপন।
তবে কৃষি ঋণে বেসরকারি ব্যাংক আরও সম্পৃক্ত হচ্ছে জানিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের পরিচালক আনিসউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ‘কৃষি ঋণ প্রদানে ব্যাংকের অনেক লোকবল দরকার, যারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে যাচাই বাছাই করে ঋণ দেবে। এত লোকবল নিয়োগের সক্ষমতা বেসরকারি ব্যাংকের নেই। তাই ক্রেডিট এবং ডেভেলপমেন্ট ফোরামের রেটিং দেখে (সিডিএফ) ভালো এনজিওর মাধ্যমে ঋণ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো।’
জামানত নীতি বদল নয়, বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের হার ৯৫ শতাংশ, যা সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জামানত নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে সক্ষমতা বাড়ালে একদিকে প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশের কৃষিখাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’
২৪০ দিন আগে
সুশাসন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এমডির পদত্যাগ
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তনের মধ্যে সুশাসন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এক বছরে অন্তত ১২ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদত্যাগ করেছেন।
সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন ঢাকা ব্যাংকের এমডি শেখ মোহাম্মদ মারুফ। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) পদত্যাগপত্র জমা দেন।
তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে সরকারের পরিবর্তনের পর অভ্যন্তরীণ চাপ বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছেন। ব্যাংক সূত্র জানায়, কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক বোর্ড সদস্য অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
শেখ মারুফ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঢাকা ব্যাংকে যোগদান করেন। এর আগে তিনি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার পদত্যাগ নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমাদের ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা ছিল না, তবে তিনি কিছু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে চলেননি। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, সোমবার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হবে।’
পড়ুন: সূচকের বড় উত্থান ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান নির্বাহীদের দায়িত্ববোধ এবং ব্যাংকিং নিয়ম অমান্য বা আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার উপর জোর দিচ্ছেন, যার ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের গোপন অনিয়ম প্রকাশ হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, এমডি বা সিইও-এর মূল দায়িত্ব হলো সুশাসন নিশ্চিত করা। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়লে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। বোর্ড সদস্যরা এমডিকে অনিয়মে জড়িত করার চেষ্টা করলে, এমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করবেন। প্রয়োজন হলে ব্যাংকিং বোর্ড বিলুপ্ত করার অধিকারও বাংলাদেশ ব্যাংকের আছে।
মূলত এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ বা অনিয়মে জড়িত এমডিরা ধারাবাহিক পদত্যাগ করছেন। আগস্টের শুরুতেই আরও তিন ব্যাংকের এমডি — সাউথইস্ট ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক এবং কমার্স ব্যাংক — এক সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
এমডির পদত্যাগ তাৎক্ষণিক কার্যকর হয় না এবং এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন।
২৪২ দিন আগে