কুমিল্লা
উচ্চ হাসিল ও রাখার বিড়ম্বনায় খামারমুখী কুমিল্লার ক্রেতারা
গরুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল, নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ও পশু রাখার বিড়ম্বনা এড়াতে খামারমুখী হচ্ছেন কুমিল্লা নগরীর কোরবানিদাতারা। খামার মালিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরাসরি খামারে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
সরেজমিনে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কমলাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-সুয়াগাজী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ‘ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্ম’। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবে এখানে গরু পালন করা হচ্ছে। খামারটিতে বর্তমানে বিক্রির উপযোগী প্রায় ৩০টি গরু রয়েছে, যার সবগুলোই দেশি শাহীওয়াল জাতের।
এই খামারটিতে ৩ লাখ থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজাবাবু’। ১ হাজার কেজিরও বেশি ওজনের এই গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। মূলত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু পালন ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে খামারটি সহজেই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
ফরিদ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক খালেদ মনসুর ইমন বলেন, নগরীর বাসা-বাড়িতে গরু রাখা ও খাবারের ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন। এই ঝক্কি এড়াতেই ক্রেতারা খামারের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের বেশ কয়েকটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে কোনো গরু ঈদের আগের দিন, আবার কোনোটি ঈদের দিন বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে জেএইচ অ্যাগ্রো পার্কের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক লিটু বলেন, সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলায় আমাদের খামার। গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের খামার থেকে গরু বিক্রি অনেক বেড়েছে। এর প্রধান দুটি কারণ হতে পারে—প্রথমত, কোরবানির আগে পশু রাখার সমস্যা এবং দ্বিতীয়ত, খামারে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশুর শতভাগ নিশ্চয়তা।
সরাসরি খামার থেকে পশু কেনা কুমিল্লা ক্লাবের সেক্রেটারি আহমেদ শোয়েব সোহেল নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটে গিয়ে দেখেশুনে পশু কিনতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। অনেক সময় হাটে অসুস্থ পশুও গছিয়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে শহর এলাকায় গরু এনে রাখা ও রক্ষণাবেক্ষণের একটা বড় সমস্যা তো আছেই। তাই ঝামেলার অবসান ঘটাতে একটি খামার থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রেখেছি। তারা ঈদের দিন সকালে সরাসরি আমার বাসায় গরু পৌঁছে দেবে।’
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, পশুর হাটে যাতে কোনোভাবেই অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। এবার জেলার চার শতাধিক হাটে মোট ৮৫টি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
হাটের অতিরিক্ত ভিড় ও কোলাহল এড়াতে সৌখিন ক্রেতারা সরাসরি খামার থেকে পশু ক্রয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাল নোটের কারবার প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট না বসাতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, হাটে নির্ধারিত মূল্যের বেশি হাসিল আদায় করা যাবে না। কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
ট্রাক উল্টে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১০ কিলোমিটার যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জের পুটিয়া থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, ভোরে মেঘনা-গোমতী সেতুর কাছাকাছি একটি ট্রাক উল্টে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ দ্রুত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ফলে ঘন ঘন যানজটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
টানা তিন দিন ধরে ভোর থেকে দিনের বড় একটি সময় পর্যন্ত মহাসড়কে যানজট দেখা দেওয়ায় ঈদযাত্রাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
৯ দিন আগে
কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
কুমিল্লা নামেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এবং কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৬ মে) কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর মাঠে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৬-১৭ বছর দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম হয়ে যেত, মামলা হতো, ধরে নিয়ে যেত। যারা এসব করতো দেশের মানুষ ২০২৪ সালে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’
সবার প্রতি দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ আল্লাহর রহমতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। ঠিক একই সময় পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই দেশগুলো আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল এ দেশের মানুষ। সেই স্বৈরাচারের কবল থেকে এদেশের মানুষ দেশকে মুক্ত করেছে।’
এ সময় কুমিল্লা বিভাগ চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয় সভাস্থল।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ দেশের মালিক। কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়, সেটি বাস্তবায়ন হবেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষ কৃষিনির্ভর। তারা কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি তুলেছেন। আমি শিগগিরই এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসব, যাতে যত দ্রুত সম্ভব কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়। তবে সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। গত ১৭ বছরে দেশকে অনেক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধীর ধীরে সকল দাবি বাস্তবায়ন করব, কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, আমি আজকে চাঁদপুর যাচ্ছি। খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য। নির্বাচনের আগে আমরা এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম ইমামদের, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিত করব। আমরা সে কাজ শুরু করেছি। ধাপে ধাপে আপনাদের সকল দাবি বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। দেশ গঠনে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। আল্লাহ পরিশ্রমীদের পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, কুমিল্লার লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জের আরেকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক বছরের মধ্যে তিনি ৫০ লাখ মা-বোনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাজেটেও ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দের কথাও বলেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে।
১৩ দিন আগে
কুমিল্লায় পথসভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুর সফরের পথে কুমিল্লায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরইমধ্যে কুমিল্লায় পৌঁছে বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় যোগ দিয়েছেন।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পথসভার মঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
অভিবাদনের জবাবে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর যাচ্ছেন। পথে তিনি এ পথসভায় অংশ নিচ্ছেন এবং এখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।’
আজ সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ছোট ছোট মিছিল সহকারে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পথসভাটি বড় জনসমাবেশে রূপ নেয়।
১৪ দিন আগে
কুমিল্লার পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে এবং উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে পৃথক সময়ে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহতরা হলেন— চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফারুক (২৫) এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার ভরাইতলী গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (৩২)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (শুক্রবার) সকালে বাতিসা এলাকার রিফাত সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী মো. ফারুককে একটি অজ্ঞাতনামা লরি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
অপরদিকে, প্রায় একই সময়ে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের নালবাগ এলাকায় কিশোয়ান বিস্কুট কারখানার সামনে রাস্তা পারাপারের সময় কারখানা শ্রমিক মিজানুর রহমানকে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি এসে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
১৪ দিন আগে
কুমিল্লায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত ২ লাখ ৫৯ হাজার পশু
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় কোরবানির পশু নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ১৭টি উপজেলায় খামার ও পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে জেলায় এবার পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবার জেলার কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি। এছাড়া ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য প্রাণী রয়েছে ৫৮ হাজার ২৮৩টি। জেলার অধিকাংশ খামারেই দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, আদর্শ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার ৯২৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া বুড়িচং উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৯৪টি, বরুড়ায় ১৭ হাজার ৬৪৭টি, চৌদ্দগ্রামে ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১৪ হাজার ৫১৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম পশু প্রস্তুত হয়েছে মেঘনা উপজেলায়, সেখানে প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা ৮ হাজার ৭৩২টি। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যাও পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলার বিভিন্ন খামারে এখন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই আগাম খামারে গিয়ে পছন্দের পশু কিনে বুকিং দিয়ে রাখছেন। খামারিরাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে গরুগুলোর জন্য রেখেছেন বাহারি সব নাম।
কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার নূর জাহান এগ্রো ফার্মের মালিক খামারি মো. মনির হোসেন জানান, তার খামারে এবার ৭২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন আকার ও জাতের এসব গরুর মধ্যে ব্রাহমা ও সাইওয়ালসহ উন্নত জাতের গরুও রয়েছে। খামারের গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী, তুফান, ফাইটার, মামা-ভাগিনা ও এলবুনুর মতো আকর্ষণীয় নামে।
তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা নিয়মিত খামারে আসছেন এবং দরদাম করছেন। যারা আগে কিনে রাখছেন, তাদের গরু ঈদের আগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের খামারে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে।’
কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাসোয়া এলাকার খামারি জামাল হোসেন জানান, তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০৪টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে থাকা গরুর সংখ্যাই বেশি।
তিনি বলেন, ‘পশুর খাবারের দাম কিছুটা বাড়লেও গরুর বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ক্রেতারা খামারে এসে দেখে যাচ্ছেন এবং কেউ কেউ অগ্রিম বুকিংও দিচ্ছেন।’
সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা এলাকার খামারি আব্দুল মমিন মিয়া বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন ও সরকারি প্রশিক্ষণ পাওয়ায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। এবার দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর চাহিদা বেশি থাকবে বলে আশা করছি।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘কুমিল্লায় এ বছর কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না। খামারিদের উৎসাহ, সরকারি সহযোগিতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পশু উৎপাদন বেড়েছে।’
তিনি আরও জানান, পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, জেলার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় গরু পাচারের প্রবণতা না থাকলেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশি পশু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুমিল্লার খামারিরা এখন বাণিজ্যিক পশু পালনে অনেক বেশি সচেতন। ফলে জেলাটি কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।
১৬ দিন আগে
মাদকের আখড়া থেকে ‘গোলাপী শিশুপার্ক’: বদলে গেছে কুমিল্লার এক জরাজীর্ণ স্কুল
একসময় জরাজীর্ণ দশা আর মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল কুমিল্লা রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছিল না ব্যবহারের উপযোগী কোনো শৌচাগার; শৌচাগারের বর্জ্য আর মাঠের ডোবার পানি মিশে একাকার হয়ে থাকত সবসময়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেও পানি জমত। এমন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চাইত না, ফলে বাড়তে থাকে ঝরে পড়ার হার। তবে সেই প্রায় পরিত্যক্ত স্কুলটিই এখন গোলাপী রঙে রাঙানো এক দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্কে রূপান্তরিত হয়েছে।
আগে যেখানে কেবল নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা আসত, এখন পরিবেশের আমূল পরিবর্তন দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এখানে পাঠাচ্ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, স্কুলের উত্তর-পূর্ব কোণে স্থাপন করা হয়েছে দোলনা ও স্লিপার। সেখানে খুদে শিক্ষার্থীদের হুড়োহুড়ি আর উচ্ছ্বাস বাতাসে আনন্দের ঢেউ তুলছে। মাঠের লেকে ফুটেছে লাল শাপলা, আর ফুলের বাগানে পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ। বিদ্যালয়ের আঙিনায় পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে আধুনিক বেঞ্চ। পরিবেশের দিক থেকে অভিভাবকরা এখন এটিকে কুমিল্লা জেলার অন্যতম সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে দাবি করছেন।
১৭ দিন আগে
কুমিল্লায় হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার এক আসামিকে পেটানোর পর কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভুঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাইফুল মেম্বারের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় লতিফ আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে ৩ দিন আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।
এরপর গতকাল (সোমবার) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া বাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, ৯৯৯ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় লতিফকে উদ্ধার করি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করি। তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশের একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় মামলা করা হয়নি।
১৭ দিন আগে
কুমিল্লায় এপ্রিল মাসে ১০টি খুন ও ২০টি ধর্ষণের মামলা
কুমিল্লায় ক্রমাগত অপরাধে বাড়ছে উদ্বেগ। গত এপ্রিল মাসে জেলায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৫৮৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্চ মাসে এই মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৭টি।
এ মাসে জেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্য থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মার্চ মাস থেকে এপ্রিল মাসে ৬৭টি মামলা বেশি হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই মাদকদ্রব্য সম্পর্কিত আইনে মামলা।
রবিবার (১০ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ সময় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিগত সময়ে প্রতিমাসে জেলায় যে পরিমাণ মামলা হয়েছে তার মধ্যে এপ্রিল মাসে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃপক্ষ বলছেন, এর দুটো কারণ হতে পারে। প্রথমত, বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধ দমনে বেশি পরিমাণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা জেলার সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলায় চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
জেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণী থেকে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে জেলায় খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১০টি, ধর্ষণের ঘটনায় ২০টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ২৮টি, চুরির ঘটনায় ৪১টি, অপমৃত্যুর মামলা ৬০টি, মাদকদ্রব্য আইনে ২০৫টিসহ দস্যুতা, ডাকাতি ও আহত হওয়ার ঘটনায়ও মামলা দায়ের হয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কার্যপত্র বিবরণীতে তুলনামূলক গুরুতর অপরাধের ৭টি ক্ষেত্রে মামলা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, এছাড়া পাঁচটি ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
কুমিল্লা নারী ও শিশু আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে মানে অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি একটি নেতিবাচক দিক। অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক জীবনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, মামলা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে ভুক্তভোগীরা বেশি বেশি আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন । অপরাধ দমনে সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে পশু পরিবহন, জাল টাকা রোধ, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ করাসহ শপিং মল ও পশুর হাটে নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৮ দিন আগে
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
২৬ দিন আগে