কুমিল্লা
দেশে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়াবে বিজিবি
কুমিল্লার কোটবাড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে আয়োজিত মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। জব্দ করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।
১ দিন আগে
প্রতিবন্ধী লুৎফরের দোকানে ফের চুরি, দিশেহারা পরিবার
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় মো. লুৎফর রহমান লুতু নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির টং দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
রবিবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুরে এ ঘটনা ঘটে। মো. লুৎফর রহমান লুতু শোভারামপুর এলাকার দক্ষিণপাড়া সরদার বাড়ির মরহুম খুরশেদ মিয়ার ছেলে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফর জানান, এই ছোট্ট টং দোকানটিই ছিল তার ও তার পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এর আগেও তার দোকান থেকে ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছিল। এবার আবারও নগদ অর্থ ও বিভিন্ন মালামালসহ প্রায় ১৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। একের পর এক এমন ঘটনায় পরিবারটি চরম অসহায় হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লুৎফরের ক্ষতিপূরণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
কুমিল্লায় ছাত্রকে দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন, অভিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর অভিযোগে এক শিক্ষক ও ওই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরজন বিদ্যালয়টির ছাত্র ছাত্র মেহেদী হাসান।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোসা. পাপিয়া আক্তার বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরজ্জামান।
এর আগে, গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয় নিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া নিজে মূল্যায়ন না করে তার ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
বিষয়টি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে এলে তিনি ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর গতকাল (শনিবার) রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. বাচ্চু মিয়াকে। তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিজ্ঞান বিষয়ের ওই উত্তরপত্র তিনি নিজে মূল্যায়ন না করে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন (মার্কিং) করান।
গত ২৩ জুন এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে বাচ্চু মিয়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করাচ্ছেন। ধারণ করা ওই ভিডিওতে ওই ছাত্রের এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।’ জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, ‘এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও জীবনেও দিত না।’
এ ঘটনার পর পর স্থানীয় শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ বিষয়টি নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন।
আব্দুল্লাহপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কতগুলো ছাত্রের জীবন নিয়ে খেলেছেন বাচ্চু স্যার! তিনি এসএসসি পরীক্ষার খাতা কীভাবে একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করান? এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে আমরা কয়েকজন দেবিদ্বারের ইউএনও ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে।
১৭ দিন আগে
কুমিল্লায় খেলা নিয়ে সংঘর্ষে ব্রাজিল সমর্থক নিহত
কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে হওয়া সংঘর্ষে ব্রাজিল সমর্থক এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কোটবাড়ি বিশ্বরোড-সংলগ্ন উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাংগা এলাকার মো. মতিউর রহমানের ছেলে ছিলেন।
ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংকর কান্তি দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টিনা প্রথম গোল হজম করলে ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল ইসলাম উল্লাস করেন। এ সময় তিনি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করতে থাকেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন আর্জেন্টিনা সমর্থক শরিফুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
২১ দিন আগে
কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে চৌদ্দগ্রামে যুবক নিহত, আটক ২
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোরী প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরীকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের এক বন্ধুকেও আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ভোর পৌনে ৫টার দিকে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুন্সিবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাঈদ আব্দুল্লাহ সিয়াম ওই গ্রামের হাজী এনামুল হকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘোষগ্রামের বাসিন্দা মৃত আবদুল জলিল মৃধার মেয়ে নাঈমা জাহান (১৫) সিয়ামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ভোরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাঈমা ধারালো ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় সিয়ামকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে সিয়াম ও নাঈমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, গর্ভধারণ এবং পরবর্তী কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়গুলো এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে সিয়াম ও নাঈমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রবিবার রাতে নাঈমা সিয়ামের লক্ষ্মীপুরের বাড়িতে আসেন। সেখানে একটি কক্ষে সিয়াম, নাঈমা এবং সিয়ামের বন্ধু আরিয়ান অবস্থান করছিলেন।
ভোরে নাঈমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে সিয়ামের পেটে একাধিক আঘাত করেন নাঈমা।
সিয়ামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নাঈমা ও আরিয়ানকে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও জব্দ করা হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার পর অভিযুক্ত নাঈমা জাহানকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিয়ামের বন্ধু আরিয়ানকে থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩০ দিন আগে
সিলেট ও কুমিল্লায় নতুন ডিসি
সিলেট ও কুমিল্লায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রবিবার (২৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রোজী আক্তারকে কুমিল্লার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিলেটজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ডিসি সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে।
সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ‘ডেগ’ সিলগালা করা হয়, ‘নিরাপত্তার জন্য’ মোতায়েন করা হয় আনসার সদস্য; যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।
এর চার দিনের মাথায় সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তাকে সরানোর এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
৩১ দিন আগে
কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ৮টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। এর মধ্যে ৪টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধনই করেনি, বাকি ৪টি কলেজে নিবন্ধিত ৩৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থী শূন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার। কলেজগুলো হলো— ফেনীর নোবেল কলেজ, কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ।
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর বোর্ডের অধীনে ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি থাকলেও কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হার থাকা ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে, ফলে সেগুলোও এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হলেও ছাত্রদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ‘২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু রয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।
‘তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছিল। এ বছর ১০ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু তারা কেউই পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণাও যথাযথভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাসের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করা হলে তা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এর ফলে আর্থিক সংকট তৈরি হয়, শিক্ষার মান কমে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। পরিকল্পিতভাবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে আলাদা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।’
৪০ দিন আগে
বোনের কুলখানি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই নিহত
কুমিল্লার হোমনায় বড় বোনের দাফন-কাফন ও চারদিন পরে কুলখানি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপ মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনসহ মোট তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকা-হোমনা সড়কের সিনাইয়া এলাকায় বিএডিসি হিমাগার-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রূপ মিয়া মুরাদনগর উপজেলার রোয়াচালা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আহতরা হলেন— নিহতের ছোট বোন হনুফা বেগম (৫০), ভগ্নিপতি বাবুল মিয়া (৫৫) এবং মালবাহী অটোরিকশারচালক মো. তানভীর (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সানারপাড় এলাকায় বড় বোনের কুলখানি শেষে বাড়ি ফিরতে তারা বাসে করে দাউদকান্দির গৌরীপুরে নামেন। সেখান থেকে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হোমনা সদর হয়ে মুরাদনগরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সিনাইয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী অটোরিকশার সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রূপ মিয়া নিহত হন।
হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল্লাহ জানান, রূপ মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হনুফা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
৪১ দিন আগে
কুমিল্লায় বিআরটিসির বাস উল্টে আহত ১০
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি বিআরটিসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বাসের এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই বাসটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনা-কবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৪২ দিন আগে
কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ১৯
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও পুলিশের টহল গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জেলা পুলিশের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বুড়িচং থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে উল্টো পথে চলাচলের দায়ে একটি অটোরিকশা আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়।
তিনি জানান, একপর্যায়ে অটোরিকশা চালকের চিৎকারে ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় কনস্টেবল ইউসুফ আলী ও রাব্বি ইসলাম আহত হন। সে সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি ভাঙচুর করে তারা।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪৯ দিন আগে