কুমিল্লা
কুমিল্লায় বাসচাপায় পথচারী নিহত
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে গিয়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাধাইয়া এলাকার দোতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতিতে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের সামনে পড়ে যান ওই পথচারী।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে পথচারী বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনায় বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে পড়ে যায়।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
৫ দিন আগে
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অন্তত আরও ৪ জন।
বুধবার (১ এপ্রিল) জেলার দাউদকান্দি ও নিমসার এলাকায় এ দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, আজ (বুধবার) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির কানড়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী সড়কে অজ্ঞাতনামা গাড়ি সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত চারজন। তাদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক (৪২) এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা (৪০)। তারা পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এছাড়া একই এলাকার মো. নবীর হোসেন (৩৮), মো. কাওসার (৪০), ইসমাইল (৩৭) ও মো. সাগর মিয়া (৩৫) এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মতলব বেলতলী সোলেমান লেংটার মাজারের মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আহতদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ ভোরে মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকায় ঢাকাগামী পার্সেলবাহী গাড়িকে একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় উভয় গাড়ির চালক নিহত হন। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার শিকার যানবাহন ও নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
কুমিল্লায় জমির দ্বন্দ্বে বাড়ি ঘিরে বেড়া, আটকা পড়েছে দুটি পরিবার
কুমিল্লার চান্দিনায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে দুটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের বড়ইয়াকৃষ্ণপুর গ্রামে। কয়েক মাস ধরে এই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই দিনাতিপাত করছে পরিবার দুটি। নিজেদের টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও নিতে পারছে না খাবার পানি, আরেক পরিবারের শৌচাগারে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের ফরাজি বাড়ির রফিজ উদ্দিন ফরাজি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার সঙ্গে একই বাড়ির বাচ্চু মিয়া ফরাজি ও জসিম উদ্দিন ফরাজির দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরেই রফিজ উদ্দিন জোরপূর্বক জসিম উদ্দিনের উঠানে বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। একইভাবে বাচ্চু মিয়া ফরাজির বেশ কিছু অংশ দখলে নিয়ে বেড়া দিয়ে তাদেরও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
ভূক্তভোগী বাচ্চু মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান ফরাজি জানান, আমাদের দলিলকৃত বাড়ির অংশ জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন রফিজ উদ্দিন। তিনি আমাদের জয়গায় বেড়া দিয়ে দখল করে রাখায় এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমি নিজেদের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারছি না।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসীর কাছে একাধিকবার গিয়েছি, কিন্তু আমার কেনা জায়গা আমাকে বুঝিয়ে দিতে পারেননি তারা। অপরদিকে, রফিজ উদ্দিন তার জায়গার কাগজপত্র কোনো সালিশ দরবারেও দেখান না।
তার অভিযোগ, রফিজ উদ্দিন ফরাজি সব সময় রাজনৈতিক স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
২০ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: রেলক্রসিং কর্মী গ্রেপ্তার
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস-রেল সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যান হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব-১১-এর কোম্পানি-২ কুমিল্লার সদস্যরা।
এর আগে, গত সোমবার এ ঘটনায় গেটম্যান এবং সহকারীকে আসামি করে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা করা হয়।
গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচের রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ৫ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ নারী ও ২ শিশু ছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সে সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ধাক্কায় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে যায়। এরপর ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এতে করে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়।
এ সময় ট্রেন যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তারা তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়।
২৫ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ঝিনাইদহের পাঁচজনের পরিবারে শোকের মাতম
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে শোকাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য রয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু খাতুন (২৭) এবং তাদের দুই মেয়ে খাদিজা (৫) ও মরিয়ম (৩), ভালাইপুর গ্রামের সোনালি বেগম (৫০) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশঙ্করপুর ইউনিয়নের অনামী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জোহাদ হোসেন।
নিহতরা ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষ করে ঝিনাইদহ থেকে মামুন পরিবহনের একটি বাসে নোয়াখালীতে আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার পাঁচজনের মৃত্যুতে গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
মহেশপুরের পাতিবিলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার ভাই পিন্টু ছিলেন মামুন পরিবহনের ড্রাইভার। তার শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ওই গাড়িতেই তার ভাইয়ের পরিবার নোয়াখালী যাচ্ছিল। ঢাকায় পিন্টু বদলি ড্রাইভার হিসেবে নেমে পড়েন। গাড়িতে তার স্ত্রী লাইজু ও দুই মেয়ে ছিল। দুর্ঘটনায় তারা সবাই প্রাণ হারান।
তিনি আরও জানান, তাদের মৃত্যুর খবরে গোটা পরিবার শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই মৃত্যুর খবর শুনেছেন। মরদেহগুলো বাড়িতে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।
দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলার পাঁচজন নিহত হয়েছেন জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
২৮ দিন আগে
রেল দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানালেন রেল প্রতিমন্ত্রী
রেল দুর্ঘটনা রোধে সারা দেশের পুরনো রেল ক্রসিংগুলোতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক অটোমেটিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
গতরাতে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেল ক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রবিবার (২২ মার্চ) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী হাবিব এবং কৃষিমন্ত্রী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এই উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের ব্যাপারে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন, ঢাকা নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুরনো রেলগেটগুলোতে গেটম্যান নেই, তদারকি নেই; ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, পুরনো যে রেল ক্রসিংগুলো রয়েছে, সেখানে রেল ওভারপাস কিংবা আন্ডারপাস করে দেওয়া যায় কিনা তা যাচাই করতে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি সিদ্ধান্ত আলোচনায় রয়েছে, তা হলো রেল ক্রসিংগুলো অটোমেটিক করে দেওয়া যায় কিনা। একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে ট্রেন প্রবেশ করলে রেল ক্রসিংয়ের ব্যারিয়ারগুলো যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেমে যায়, সেই অটোমেটিক সিস্টেম নিয়েও আমাদের কাজ চলছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব সহকারে চেষ্টা করছেন।
কুমিল্লার দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল (আঞ্চলিক) তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্টেশন মাস্টারের কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২৮ দিন আগে
কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানি: তদন্তে ৩ কমিটি, ২ গেটম্যান বরখাস্ত
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একইসঙ্গে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট রেললাইনের দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে পদুয়া বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচের রেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এর মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম) আনিসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি এবং জোনাল পর্যায়ে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে আরও একটি ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান মেহেদী হাসান ও মো. হেলাল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৫ জন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি লাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে ডাউন লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে কুমিল্লা স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ট্রেন ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২৮ দিন আগে
কুমিল্লায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের ধাক্কায় নিহত ১২
কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ১২ যাত্রী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৫ যাত্রী। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ নারী ও ২ শিশু রয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ সময় খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রমকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ওই লেভেল ক্রসিং পার হচ্ছিল। সে সময় চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে বাসটির ধাক্কায় ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে যায়। এরপর ইঞ্জিনের সঙ্গে বাসটি আটকে থাকায় ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এসে দাঁড়িয়ে যায়। এতে করে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়।
এ সময় ট্রেন যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠান।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তারা তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আজ সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় চট্টগ্রাম অভিমুখী চট্টগ্রাম মেইল কুমিল্লা স্টেশন ছেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসক রেজা হাসান ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
২৮ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক, স্বস্তিতে যাত্রীরা
এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী ও চালকরা স্বস্তি অনুভব করছেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও আজও কোথাও যানজট নেই এবং যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
দেশের ‘লাইফলাইন’ খ্যাত এই মহাসড়ক দিয়ে কয়েকদিনে হাজার হাজার যানবাহনে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও রোভার স্কাউটস সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশে যানজট না থাকলেও যানবাহনের চাপের কারণে ধীরগতিতে চলছে গাড়ি।
এ সময় মহাসড়কের দাউদকান্দি, গৌরীপুর, ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, পদুয়ার বাজার, মিয়ানমার ও চৌদ্দগ্রামের স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করতে দেখা গেছে।
৩০ দিন আগে