কুমিল্লা
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ৪১৫
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আরও ৪১৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় জেলা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে একযোগে অভিযান চালায়।
এর আগে দুই দফার অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনসহ তিন দফায় মোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা, কিশোর বয়সী বখাটেদের আড্ডাস্থল ও সন্দেহজনক স্থানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অভিযানে সরাসরি অংশ নেন।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের পূর্বের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাং ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।
১০ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক আরও ২৫৪
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়ে আরও ২৫৪ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান। এর আগে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, কুমিল্লা নগরীসহ কিশোরদের উৎপাত থাকা প্রতিটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
অপরাধের সঙ্গে আটকদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী এক অভিযানে পুলিশ ৬২৪ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাগার বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল, আর বাকিদের মুচলেকা দেওয়ার পর মুক্তি দেওয়া হয়।
১ দিন আগে
মেঘনায় ট্রলারডুবি: কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত কুমিল্লার তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের দেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার লোকজন জানাজা ও দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নিখোঁজের দুই দিন পর আজ (শনিবার) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ।
নিহতরা হলেন সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিন রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়র বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার-সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যান যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখেন উদ্ধারকারীরা।
২ দিন আগে
অপ্রতিমের মা-বাবাকে ফোনে হয়রানির অভিযোগে থানায় জিডি
কুমিল্লায় হত্যার শিকার স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে হয়রানি ও অশোভন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন।
এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বিভিন্ন ফেসবুক আইডি খুলে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে। এসব কারণে আতঙ্কে অপ্রতিমের মা তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
২ দিন আগে
কুমিল্লায় মা ও ৮ মাসের ভাতিজিকে ‘কুপিয়ে হত্যা’, যুবক আটক
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাকে ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ঈমন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার বড় ভাবি রাবেয়া বেগমকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ওই গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) এবং তার ৮ মাস বয়সী ভাতিজি ইশরাত।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম আহসান বলেন, সকালে চিৎকার শুনে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের মেঝেতে পেয়ারা বেগমের মরদেহ এবং খাটের ওপর শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ঈমনকে আটক করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। তবে কী কারণে সে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটালো, তার কিছুই বলতে পারছি না।
আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে যাচ্ছি। ঈমনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ঈমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
৭ দিন আগে
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা: পুলিশ সুপার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও মো. কামরুল হাসান। তাদের মধ্যে ফাহাদ অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যান।
পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।
অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছেন তিনি।
৮ দিন আগে
গ্রেপ্তাররা ‘অপরাধ স্বীকার করেছে’, দ্রুত বিচারের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগে তিনজন এবং আজকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।’
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের কম হতে পারে। এনআইডি যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, ‘তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত আলামত পাওয়া গিয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া যায় কি না—এসব নিয়ে কাজ করছে।’
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয় জব্দ করতে পেরেছে।’
পুলিশ ফরেনসিক বিশ্লেষণ করছে এবং নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিমের দাফনও আজ রবিবার সম্পন্ন হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডটির বিচার দ্রুত শেষ করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটাও আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা আমাদের সমস্ত আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে, একইভাবে এ মামলার বিচারেও বিচার বিভাগ গুরুত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৮ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকার ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, আজ (রবিবার) সকাল ১০টার দিকে কুবি ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোয়ার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ‘অপ্রতীম আপনাদের স্নেহ ও ভালোবাসায় বড় হয়েছে। সে যদি কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তবে দয়া করে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়ে অপ্রতিমের মরদেহ শেষবার দেখেন এবং তার মৃত্যুতে শোক জানান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ গতকাল (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তার মায়ের আইফোন নিয়ে গেল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। তবে সে ঘরে ফিরে না আসায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
৮ দিন আগে
শখের ময়ূরই বদলে দিয়েছে কুমিল্লার শাহ আলীর জীবন
ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী। সেই মুগ্ধতা থেকেই শখের বসে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। এরপর আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন।
সেই সাতটি ময়ূর থেকেই বংশবিস্তার করে গড়ে তোলেন ময়ূরের খামার। আর এই খামারি তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
শাহ আলীর খামারে বর্তমানে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। ময়ূর পালনের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন তিনি।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি বলতেই সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকে তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।
সরেজমিনে তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙিন ময়ূর। কেউ কেউ পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে তার বাড়িতে দেখা যায় মানুষের ভিড়।
শাহ আলী বলেন, আমি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় বাবা গরুর খামার করেছিলেন। আমি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতাম। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতাম। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে ভালো লেগে যায়।
তিনি জানান, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করেন। এরপর আরও আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন তিনি। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড ঘর নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। বর্তমানে খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ময়ূরের একেকটি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডিম একেক হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়াই। আগে আমি একাই দেখাশোনা করতাম। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছি। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ময়ূরের খামারের কারণে আমাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। আমরা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য যেমন দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
৯ দিন আগে
কুমিল্লায় ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩
কুমিল্লার লালমাইয়ে আবদুর রশিদ (৩৫) নামে এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার হরিশ্চর রেলগেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় আবদুর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবদুর রশিদ উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
আটকরা হলেন: পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩৪), উৎসবপদুয়া গ্রামের মো. রাকিব (২৫) এবং মেঘনা উপজেলার সাতানি শিবনগর গ্রামের আল আমিন (৩৬)।
এ বিষয়ে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মাথার ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
১০ দিন আগে