কুমিল্লা
কুবিতে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ২ সদস্য ও সোর্সকে ক্যাম্পাসে নিয়ে মারধরের অভিযোগ
কুমিল্লা শহরে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল হানিফ ও পুলিশের সোর্স জাহিদ।
তল্লাশির শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তিন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি।
তবে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।
এএসআই শ্যামল সাহার অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে মারধর করতে করতে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। ক্যাম্পাসেও তাদের মারধর করা হয়। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে শ্যামল সাহা বলেন, তারা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
পরে শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন প্রক্টর।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। বিষয়টি পরে সমাধান করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’
১ দিন আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৫১
কুমিল্লায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৩৫১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা ও কুমিল্লা মহানগরীর যেসব স্থানে কিশোরদের উৎপাত, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জেলাজুড়ে কিশোর অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ওই দিন থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধে জড়িত থাকায় তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৮ দিন আগে
কুমিল্লায় অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচ চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতিদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা ও ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগ দিতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকেও মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাখাওয়াত হোসেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়েছে। ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার নারীদের চিকিৎসাসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি শিশুদের জন্য পৃথক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
১০ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ অক্টোবর) এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’
১৫ দিন আগে
রাশিয়ায় বেকারির কাজ ছেড়ে যুদ্ধে কুমিল্লার তরুণ, মৃত্যুর খবর দিলেন বন্ধু
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মো. সাগর (২৪) নামের এক তরুণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন বলে তার পরিবার জানতে পেরেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে সাগরের এক বন্ধু তার বোনকে মোবাইল ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর জানান।
মো. সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাগর সবচেয়ে ছোট।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে ভ্যান চালাতেন সাগর। পাশাপাশি রিকশাও চালাতেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওই দোকানের ম্যানেজারের সহযোগিতায় ছয় লাখ টাকায় রাশিয়ায় পাড়ি জমান সাগর। সেখানে ৭০ হাজার টাকা বেতনে একটি বেকারিতে কাজও নেন তিনি।
এরপর সেখানে সাগরের সঙ্গে এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এককালীন ৩০ লাখ টাকা চান। পরে চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। তার পর থেকে সাগরের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সাগরের চাচা আব্দুল আওয়াল জানান, সাগর যখন রাশিয়ায় বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির কথা জানায়, তখন তাকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু ওই দেশের দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছেন। পরে গত শনিবার তার বন্ধু সাগর মারা গেছে বলে জানান।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, ‘সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধার-দেনা করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছি। ৪-৫ মাস যাবৎ ছেলেটার সঙ্গে কথাও বলতে পারি নাই। এখন শুনি আমার ছেলে আর নাই।’
এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
১৯ দিন আগে
কুমিল্লায় যুবদলের নেতাকে কুপিয়ে ‘হত্যা’
কুমিল্লা মহানগরীর ছত্রখিল এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল নেতা কাউছার কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা কাউছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর ধারণা, পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
২২ দিন আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে আটক ৫১৯
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৫১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে গভীররাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার কিশোর গ্যাং বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানা এলাকায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ একযোগে অভিযান চালায়।
অভিযানে নগরী এবং প্রত্যেকটি থানা এলাকায় যেসব জায়গায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সে সব চিহ্নিত স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে পুলিশ ৫১৯ জনকে আটক করে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, আটকদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উঠতি বয়সী কিশোরেরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
২২ দিন আগে
কুমিল্লায় খাদে বাস, হেলপার নিহত
কুমিল্লার বরুড়ায় বলাকা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে হেলপার নিহত ও পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা।
বাসচালক মনির বলছেন, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি নিজেই গাড়িটির মালিক এবং দুর্ঘটনার সময় তিনিই বাসটি চালাচ্ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত সবুজের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আরও আর্থিক সহযোগিতা এবং আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের দেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানার হেফাজতে রাখা হবে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৫ দিন আগে
নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেল কুমিল্লায়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দাউদকান্দি মডেল মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মোহাইমিনুল অন্য একজনের মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তার বিভাগের শিক্ষার্থী শফিউজ্জামান শাহীনকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদের আশপাশে রয়েছেন বলে জানান এবং তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন।
বার্তাটি পাওয়ার পর সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে দাউদকান্দি পুলিশ অভিযান চালিয়ে মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ১০টার দিকে সাভার থানা পুলিশ দাউদকান্দি থানায় পৌঁছালে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওসি পলাশ বলেন, ‘মোহাইমিনুলকে কেউ আটকে রাখেনি। তিনি নিজেই মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
উদ্ধার হওয়ার পর মোহাইমিনুলকে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল (সোমবার) বিকেলে মোহাইমিনুলের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মোহাইমিনুলের সন্ধানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান।
গত রবিবার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। এরপর তার কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সেখানে বিভাগের অবহেলার কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোট পাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছিল না।
২৫ দিন আগে
সকালে হাঁটতে বের হয়ে গাড়িচাপায় দম্পতি নিহত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সকালে হাঁটতে বের হয়ে এক অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলা হরিপুর মসজিদের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার জিংলাতলী গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৮)। তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ঝরনা বেগম সকালে হাঁটতে বের হন। ফজর নামাজ পড়ে তারা জিংলাতলী গ্রামের বাড়ি থেকে হাঁটতে হাঁটতে মহাসড়কের গৌরীপুর ইউনিয়নের হরিপুরের কাছে এসেছিলেন।
মহাসড়কে হাঁটার সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এ সময় তারা ছিটকে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্য পথচারীরা দুইজনকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে উপজেলা গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তাদের মৃত্যু হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমলাল দাস বলেন, অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। মহাসড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
২৫ দিন আগে