জেলে
বরিশালে ২ নদীতে অভিযান, জেলেদের জরিমানা
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা ও কালাবদর নদীতে অভিযান চালিয়ে চার জেলেকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার প্রতিরোধ ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় ও ১৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া জব্দ করা ১০ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসাইন ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
১৭ দিন আগে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার অপরাধে ৩০ জনকে জেলে প্রেরণ
চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩২ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড। আটকদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুজন ছেলেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব রশীদ জানান, অভিযানের পর উপজেলা সদরে ফিরে এসে গভীর রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে হাতেনাতে মোট ৩২ জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ৩০ জনকে ১৮ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার এদেরকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
তাছাড়া, অভিযানের সময় জব্দ করা প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল নদীর পাড়েই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা ২৪ কেজি মা ইলিশ আজ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে ।
ইউএনও নজরুল ইসলাম আরও বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১৯ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরে ৫ দিন ধরে ভাসতে থাকা ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পাঁচ দিন ধরে ভাসতে থাকা আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গভীর সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করেন।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আটজন জেলে একটি ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের কোকিলমনি থেকে ১১ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে।
পরবর্তীতে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে ওই ট্রলারের এক জেলে ট্রলার মালিককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। এরপর ট্রলার মালিক কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সহায়তা চান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ড কোকিলমনি স্টেশন উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সে সময় গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা ট্রলারসহ আট জেলেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
পরে উদ্ধার জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়। ট্রলারসহ জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
৪০ দিন আগে
ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে
মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে।
এদিকে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা জানিয়েছে তারা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান বলেন, গত শনিবার সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া। পরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর হানিফ মিয়া জুনায়েতের বাবাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান।
হানিফ মাঝির সঙ্গে জুনায়েতের বাবা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে জুনায়েত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার ফোন করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, চলমান বৈরি আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে হানিফ মিয়া মুঠোফোনে কল করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তিনিও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গেও জুনায়েতের কথা হয়। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝি-মাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা একই স্থানে অবস্থান করছেন।’
মেহেদী হাসান জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তার বাবা জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাদের ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও সাগর উত্তাল থাকায় তারা এগিয়ে আসেনি।
জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় বলে জানায় তার ছেলে মেহেদী।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, তাদের টহলদলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তিনি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আনুষঙ্গিক খরচ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।’
৪২ দিন আগে
ফেলে দেওয়া মাছের আঁশেই বাড়তি টাকা গুনছে নড়াইলের জেলেরা
একসময় মাছ কাটার পর আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো আঁশ। সেই আঁশই এখন নড়াইলের জেলে পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস। মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেক পরিবারের সদস্য। এতে বাড়ছে পারিবারিক আয়, পাশাপাশি মাছের আঁশ বর্জ্য হিসেবে ফেলে না দেওয়ায় কমছে পরিবেশদূষণও।
নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পংকবিলা জেলেপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠান ও চিত্রা নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে ছোটবড় বিভিন্ন মাছের আঁশ। কোথাও বাঁশের চাটাই, কোথাও পলিথিনের ওপর, আবার কোথাও পরিষ্কার মাটিতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সেগুলো। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের কেউ আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকানো আঁশ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।
পংকবিলা জেলেপাড়ায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গত পাঁচ থেকে ১৬ বছর ধরে মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। মাছের ব্যবসার পাশাপাশি আঁশ বিক্রি এখন এসব পরিবারের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর চাহিদা রয়েছে। দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত এসব মাছের আঁশ বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে। জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পংকবিলা গ্রামের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী টিকান্তু সরকার বলেন, ‘আগে মাছ কাটার পর আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন আমরা সেগুলো আলাদা করে সংগ্রহ করি। বাড়িতে এনে পরিষ্কার করে কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে রাখি। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি। এতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি বাড়তি কিছু আয় হয়।’
অপর জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী সুপল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি মাছের আঁশ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের আঁশ হলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিন-চার মাস পরপর যশোর, নওয়াপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আঁশ কিনে নিয়ে যান।
পংকবিলা এলাকার বাসিন্দা দয়াল শিল শুভ বলেন, এলাকার অনেক জেলে পরিবার মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ করে। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই এ কাজে যুক্ত থাকেন। আঁশ বিক্রির টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয়ও চালাচ্ছেন।
জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিনী জানান, আগে আঁশগুলো আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো আলাদা করে পরিষ্কার, শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগে। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি নারীরাও সরাসরি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারছেন।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, মাছের জাত ও আকার অনুযায়ী আঁশের চাহিদা ও দাম ভিন্ন হয়। বড় আকারের রুই, কাতলা, গ্রাস কার্প ও ব্ল্যাক কার্পের আঁশের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বড় মাছের আঁশ আকারে বড় হওয়ায় তা সংগ্রহ, পরিষ্কার ও শুকানোও সহজ।
নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান বলেন, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। রূপগঞ্জ মাছবাজারে পংকবিলার জেলে সম্প্রদায় মাছ রান্নার উপযোগী বা ‘রেডি টু কুক’ করার সময় আঁশ সংগ্রহ করেন। এসব আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে।
তিনি বলেন, জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা এ খাতে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং এটিকে টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন।
৬৬ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির দুই দিন পরও নিখোঁজ ৬ জেলে
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলের অদূরে বঙ্গোপসাগরে প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে ১১ জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ৬ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) গভীর রাতে সাগর-বিধৌত উপজেলা রাঙ্গাবালীর মৌডুবী এলাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— বায়েজিদ (৩০), ইমাদুল সিকদার (৪০), নাজমুল (৩০), রাকিব (২২) ও সজিব (২৫)।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন— পানপট্টি ইউনিয়নের তুলারাম গ্রামের ইমাদুল খাঁ (৪৫), খরিদা গ্রামের হারুন (৬০), গজালিয়া ইউনিয়নের আদানী গ্রামের ফরকান (৪৫), সায়েদ (২০), আল-আমিন (৪০) ও গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আক্কাস (২৫)।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের ইমাদুল সিকদারের মালিকানাধীন ট্রলারটি গত শনিবার রাতে ১১ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে রওনা হয়।
পরের দিন রবিবার গভীর রাতে সাগরে প্রবল স্রোত ও বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। এ সময় জেলেরা ট্রলারের বিভিন্ন অংশ ও একটি বয়া ধরে সাগরের বুকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন।
পরে রাত ৩টার দিকে একই এলাকার ইমাম সিকদারের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে মৌডুবী এলাকায় নিয়ে আসে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনা শুনেছি। ফিরে আসা জেলেদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। বিষয়টি গলাচিপা থানার এখতিয়ারভুক্ত বলে জানান তিনি।
১২০ দিন আগে
মেঘনায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৩ জেলের মরদেহ উদ্ধার
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিন জেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ মে) ভোরে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে নৌ পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় নিখোঁজ জেলেদের মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন—নুর ইসলাম জমাদ্দার (৫২) ও তার ছেলে ইব্রাহিম জমাদ্দার (৩১) এবং হারুন বিশ্বাস (৩৫)। গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তারা।
সোমবার (২৬ মে) বিকেলে হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ওই তিনজন নিখোঁজ হন।
হিজলা থানা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোবিন্দ চন্দ্র দাস জানান, ওই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৬১ দিন আগে
কিশোরগঞ্জে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ গেল জেলের, আহত ২
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ঘোড়াউত্রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাইদুর রহমান (৩০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় তার দুই ভাইকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
বুধবার (২৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার মুশুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইদুর রহমান উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে। আহত দুই ভাই হলেন আনিছুর রহমান (২৭) ও আতাউর রহমান (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে তারা তিন ভাই ঘোড়াউত্রা নদীতে রিংজাল (চায়না দুয়ারি) দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র বল্লম ও দা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে আনিছুর ও আতাউরকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সাইদুর রহমানকে নদীর পানিতে ফেলে বল্লম দিয়ে আঘাত করে।
একপর্যায়ে সাইদুর পানিতে ডুবে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন ভাইকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ-আল-শাফী জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাইদুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, আমরা খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলছে।
১৬১ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলি, অপহৃত ৪ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনকর্মীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহরণের শিকার হওয়া ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেকে এই ঘটনা ঘটে।
গোলাগুলির পরে ওই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অপহৃত ৪ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, একটি বন্ধুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান ও মো. হাসান এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম ও দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সিঙারটেক এলাকায় শেলারচর টহল ফাঁড়ি এবং স্মার্টটিমের যৌথ টহল চলাকালীন ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ডাকাতরা গুলি ছুড়লে বনকর্মীরা পাল্টা গুলি চালান। তাদের দিক থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ডাকাতরা পরবর্তীতে তাদের ট্রলার এবং ৪ জন জিম্মিকে রেখে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, এ সময় সেখান থেকে জেলেদের ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা, জিম্মি থাকা ৪ জেলে, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে আছেন। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বনরক্ষীদের গুলি করা দস্যুরা শরীফ বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে বলে জানান তিনি।
১৭৫ দিন আগে
চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামছেন জেলেরা
চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে নদীতে নামছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ের জেলেপাড়াগুলো এখন মাছ ধরার প্রস্তুতিতে সরগরম। ইতোমধ্যে তারা ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরানবাজার হরিসভা, পশ্চিম শ্রীরামদী, রণগোয়াল, দোকানঘর, হানারচর, বহরিয়া, ইব্রাহীমপুর, হরিণা ঘাট এবং শহরের উত্তরের আনন্দবাজার ও বিষ্ণুপুর এলাকার জেলেপাড়া ঘুরে জেলেদের ইলিশ ধরার প্রস্তুতি দেখা যায়।
জেলেদের কেউ জাল মেরামত, কেউ নৌকা সংস্কার এবং অনেকে মিলে নৌকা নদীতে নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এর আগে, চাঁদপুরে ইলিশের পোনা জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার।
আনন্দবাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল খাঁ ও মোহাম্মদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার নদীতে নামার জন্য জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেছি।
বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম এবং লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে আনোয়ার হোসেন গাজী বলেন, নৌকা ও জাল মেরামত করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন ইলিশ পাওয়া গেলে ঋণ শোধ করা যাবে।
একই এলাকার জেলে ফারুক গাজী বলেন, আমিও ইলিশ পাওয়ার আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় ৭ জন কাজ করেন। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হয় কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। কারণ সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাতে সংসার চলে না। নগদ টাকা দিলে কিছুটা উপকার হতো। অন্তত মাস প্রতি জেলেদের বিকাশে ১০ হাজার করে টাকা দিলে কিছুটা পোষাত। আমাদের সরকারের প্রতি আকুল আবেদন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকার আগামীতে এটা নিয়ে যেন ভাবেন।
এদিকে, জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা বলেন, এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় ইলিশ উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ইউএনবিকে বলেন, আজকের জাটকাই আগামী দিনের বড় ইলিশ। যদি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জাটকা সংরক্ষণ করা যায়, তাহলে আগামীতে দেশে পৌনে ৬ লাখ টন ইলিশ বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়।
জেলেদের অবৈধভাবে ইলিশ ধরার ব্যাপারে চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছি। যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরেছেন এমন প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। তবে এই অভিযানের ফলে যেমন জাটকা রক্ষা পেয়েছে, তেমনি জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার চার মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি ভিজিএফ চাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ বছরই প্রথম জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের চালের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ওমর ফারুক বলেন, পদ্মা-মেঘনার জাটকাপ্রবণ এলাকার জেলেদের জন্য এবার বিশেষ খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ এসেছে। আগে কখনও এ রকম বরাদ্দ আসেনি। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থপনা প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার জেলের জন্য চালের পাশাপাশি বিশেষ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ এসেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এসব খাদ্য সহায়তা জেলেদের হাতে পৌঁছাবে।
বিশেষ এই খাদ্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে— জনপ্রতি ৫ লিটার সয়াবিন, ১২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি, ৪ কেজি লবণ ও ৮ কেজি মসুর ডাল।
১৮৮ দিন আগে