বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
ভারতে নির্বাচন: বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৩ দিন বন্ধ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে পাসপোর্টধারী যাত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া পচনশীল পণ্য আমদানি-রপ্তানি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিল্পা গৌরীসারিয়ার সই করা এক পত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন।
শিল্পা গৌরীসারিয়ার সই করা ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৬টা পর্যন্ত মানুষ ও যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার সব আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত এবং প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল সীমিত থাকলেও শুধু জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে (মেডিকেল ভিসা) বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন এবং ভোট দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তনকারী ভোটাররা যাতায়াত করতে পারবেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে টানা তিন দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যথারীতি এ বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত সীমিত করা হলেও যারা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তারা ভোট দেওয়ার জন্য ভারতে ফিরে যেতে পারবেন। তবে সব ধরনের যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক হতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ভারতে বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। তবে ভারত থেকে পচনশীল কোনো পণ্য এলে তা দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি: নবায়নের আগে প্রয়োজন ‘বড় ধরনের সংস্কার’
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি নবায়নের আগে এর ‘সার্বিক পর্যালোচনা ও সংস্কার’ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ সঠিকভাবে বণ্টন না হলে এর ঝুঁকি বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে।
ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রচুর কাজ (হোমওয়ার্ক) করতে হবে এবং তথ্য বিনিময়ই এখানে মূল বিষয়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৯৯৬ সাল আর ২০২৬ সালের পরিস্থিতি এক নয়। বিষয়টিকে কেবল প্রকৌশল বা কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে চলবে না; পরিকল্পনায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
ঝুঁকি কোথায়?
ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি নতুন কোনো চুক্তি না হয়, তবে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলবায়ুগত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। ফলে চলতি বছরই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তিটি সংশোধন ও নবায়নের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার মতো আরও ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদী রয়েছে। এ সংক্রান্ত সব বিষয় আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ নদী কমিশন’ নামক একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যেহেতু উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তাই গঙ্গার পানি বণ্টনে একটি ‘ন্যায্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে এই সম্পর্কের অন্যতম প্রথম পরীক্ষা।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং ইতোপূর্বে দেশটির লোকসভায় জানিয়েছেন যে, খাবার পানি ও শিল্প কারখানার পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে, যা ভারত সরকারের অবস্থান নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে এবং ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগুলোতে অংশ নেন, যেখানে ভারতের পক্ষ থেকে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য টানাপোড়েন থাকলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পানিবিষয়ক সকল কারিগরি সভা অব্যাহত রয়েছে।
সংস্কার ও নবায়নের আহ্বান
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সংশোধন করতে হবে। এর সহজ কারণ হলো, চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল।’
চুক্তিটি যখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত বহুমাত্রিক সমস্যাগুলো বর্তমানের মতো এতটা স্পষ্ট ছিল না, যা চুক্তির মূল পাঠে প্রতিফলিত হয়েছে। এই চুক্তিতে ‘জলবায়ু-সহিষ্ণু পরিবর্তনের’ পক্ষে যারা মত দিচ্ছেন, অধ্যাপক শাহাব তাদের অন্যতম।
এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভূ-প্রকৃতি এবং অবশ্যই জলবায়ু-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো বদলে গেছে। তাই বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তিতে চুক্তিটি পর্যালোচনা করতে হবে।
তিনি জোরালোভাবে পরামর্শ দেন যে, যৌথ নদী কমিশনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন করা উচিত। এটি দুই দেশের মধ্যে ‘হাইড্রো-ডিপ্লোমেসি’ বা পানি-কূটনীতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে আমাদের কেবল কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং প্রকৌশল, বিজ্ঞান এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অধ্যাপক শাহাবের মতে, বিষয়টিকে কেবল কূটনীতি বা প্রকৌশল বিদ্যার ওপর ছেড়ে দিলে কোনো সামগ্রিক সমাধান পাওয়া যাবে না।
‘এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট কাজ (হোমওয়ার্ক) করা উচিত, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— অর্থনীতিবিদ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞানীদের যুক্ত করা প্রয়োজন,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে পরিবেশবাদীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘পানিকে কেবল পানি, অথবা কেবল কূটনৈতিক বা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ধারণাটি একটি পুরনো এবং সেকেলে পদ্ধতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি দুই দেশের মধ্যে বাস্তববোধ কাজ করে, তবে তারা অবশ্যই একটি সমগ্রিক পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তির দিকে যাবে, যা এই সহস্রাব্দে জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি দেখতে চায় বাংলাদেশ।
সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এগুলো অভিন্ন নদী এবং এখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থ রয়েছে। আমি যেমনটি বলেছি, একটি টেকসই এবং জন-আস্থার প্রতিফলন ঘটায় এমন সমাধান খুঁজে বের করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর ইতোমধ্যে পার হয়েছে। তাই আমি মনে করি না যে আমাদের কেবল ৫ বা ১০ বছরের কথা ভাবা উচিত; আমাদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। তাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বা বলা ভালো, জনকল্যাণমূলক নীতিতে পারস্পরিক জলবায়ু সহিষ্ণুতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।’
১ দিন আগে
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নয়াদিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে নিজের ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।’
তিনি বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে বর্ণিত এই সফরের মধ্য দিয়ে ‘পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের’ ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
যদিও ঢাকা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলেই উল্লেখ করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা এবং বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরতে নয়াদিল্লির সঙ্গে এই সফরে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বুধবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
১৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তি অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধে উপস্থিত ছিলেন।
২১ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
৩০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেছেন, ‘ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
বার্তায় তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেছেন। ঈদের এই উৎসব মানুষকে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সবার শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।’
৩৯ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, কলকাতা পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলকাতার উপকমিশনার এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। যদি এ আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।’
কতদিনের মাঝে ফেরানো সম্ভব, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করতে পারবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।’
৪৮ দিন আগে
বেনাপোলে বন্দর দিয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দোলযাত্রা উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রোপোল স্থলবন্দর দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
তিনি জানান, ভারতে দোলযাত্রায় সরকারি ছুটির থাকায় আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বন্দর ও শুল্ক ভবনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শামীম হোসেন।
ভারতের পেট্রোপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, দোল পূর্ণিমা বা দোলযাত্রা একটি বৈষ্ণব উৎসব। বসন্তের এ উৎসবটি ‘হোলি’ নামেও পরিচিত। অশুভ শক্তির বিনাশ হিসেবে ‘হোলি উৎসব’ হয়ে থাকে। এ উৎসবের কারণে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিঅ্যান্ডএফ মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডলিং শ্রমিক, ট্রাকচালকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
বেনাপোল শুল্ক ভবনের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিবুর রহমান জানান, এক দিনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।
৫৫ দিন আগে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে বাংলাদেশ-ভারত একমত: বাণিজ্যমন্ত্রী
আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে দুদেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, পারস্পরিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দর, সীমান্ত হাট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা বিষয়ে একে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত হাইকমিশনার এসেছিলেন নতুন সরকারকে অভ্যর্থনা জানানোর একটি অংশ হিসেবে। তবে তার সঙ্গে আলোচনায় দুদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ সময় বন্ধ কিছু স্থলবন্দর নিয়ে আলাপ হয়েছে। তারা সব বন্দর বন্ধ করেনি, যেমন: বেনাপোল খোলা রয়েছে। তবে অন্যান্য যেসব বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেগুলো খোলার মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারাও বন্ধ সীমান্ত হাটগুলো চালুর বিষয়ে বলেছেন।
তিনি বলেন, আসলে দুদেশেরই পারস্পরিকভাবেই কিছু বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বাণিজ্য সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে—এটা সত্য। কোনো কোনো ঘটনার পরিপেক্ষিতে এগুলো হয়েছে। আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রসারের রাস্তা তৈরি হলে এগুলো সমাধান হবে, এ বিষয়ে দুদেশ একমত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একদম সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সমাধান হয়নি। কথা প্রসঙ্গে এসব বিষয় এসেছে, যেগুলো হাইকমিশনার তার দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন। যেসব বিষয় ভারত আমাদের জানিয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরাও মন্ত্রিপরিষদে কথা বলব।
ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এলডিসি পেছানোর জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছি। এখন এটি জাতিসংঘের (ইউএন) একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে।
ইরানের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জ্বালানিসহ খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখছেন কিনা, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। তখন পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এখনও আমরা আশঙ্কার মধ্যে যাব না। দুয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হতে পারে। সেটা না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের পণ্যের কোনো সংকট নেই।
৫৬ দিন আগে
ভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হবে
বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদায় জিয়াকে স্মরণ করবে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা। আজ বুধবার দেশটির রাজ্যসভায় এই শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাজ্যসভার বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) কার্যসূচিতে দেখা যায়, অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে।
কার্যসূচি অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আধা ঘণ্টা পর সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করবেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক মর্যাদা এবং দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
৮৯ দিন আগে