বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর শওকত আলী (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) মধ্যরাতে উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান।
নিহত শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানের ছেলে ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৯ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। তবে তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও নিখোঁজ ছিলেন তিনি। গতরাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্ততি নিলে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ হত্যা করে শওকতের মরদেহ নদীতে ফেলে দিয়েছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বিএসএফ।
ওসি মতিউর রহমান বলেন, মরদেহটি অর্ধগলিত থাকায় মৃত্যুর কারণ এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন রায় বলেন, মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, পা ও বুকের জখম গুরুতর। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না। ঘটনাটি তদন্তে বিজিবি কাজ করছে বলে জানান তিনি।
৮ ঘণ্টা আগে
ফারাক্কা ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে: গোলাম মোস্তফা
বাংলাদেশের জন্য ফারাক্কা বাঁধ অভিশাপ। গত ৫০ বছর এই অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ফারাক্কার কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়; এখন ভারতও সেই ফারাক্কা ব্যারেজের ‘কুয়ায়’ পড়েছে। ফারাক্কা এখন বাংলাদেশের মতো ভারতের জন্যও অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভয়েস অব কনসাস সিটিজেন (ভিসিসি)-রংপুর, আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া।
গোলাম মোস্তফা বলেন, বাংলাদেশের পানির অধিকার নিয়ে বিগত পাঁচ দশকে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তবে, ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে, ভারতও এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভারতেও ফারাক্কার বিরুদ্ধে জনমতো জোরালো হচ্ছে।
তিনি জানান, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে ফারাক্কা বাঁধ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। বাঁধটি চালু হওয়ার পর থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙনের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। আশির দশকের ছোটখাটো ভাঙন নব্বইয়ের দশকে এসে মারাত্মক রূপ নিতে থাকে। ১৯৯০-২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কিছু ইউনিয়ন নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, বহুদিন ধরেই মালদহ-মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা তীরবর্তী দুর্ভোগ ও বিপর্যয়-কবলিত মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ফারাক্কা বাঁধ বড় রকমের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিহারও ফারাক্কার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিহার রাজ্য সরকারের দাবি, ফারাক্কার কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় প্রতিবছরই এই রাজ্য বন্যা ও নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবের এই বিষয়টি মওলানা ভাসানী তখনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। আর এই কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থে ফারাক্কার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের সরকারগুলো সব সময়ই পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উদাসীন।
ভারত বাংলাদেশকে কখনও পানির ন্যায্য হিস্যা দেবে না—এ কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে তার পানি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এ বিষয়ে উদাসীন থাকলে দেশ বিপদের সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অধিকার আদায় করতে হয়, সে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন চিরপ্রতিবাদী মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী।
এনডিপি মহাসচিব ও ভিসিসি নির্বাহী পরিচালক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, ৫০ বছরে ফারাক্কা সমস্যার মতো জাতীয় সংকটও যখন আমাদের জাগাতে পারেনি, নব্য কারবালার আহাজারিকেও যখন বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছি, তখন আরও বড় বিপর্যয় যে আসবে, এটাই তো স্বাভাবিক। বরাক নদীর উজানে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের ভারতীয় পরিকল্পনাটি এখন বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ মহাসংকটকালে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে মওলানা ভাসানীর পথে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান বলেন, জাতি একজন দেশপ্রেমিক, সাহসী, দূরদর্শী, নেতৃত্বের শূন্যতা প্রবলভাবে অনুভব করছে। জাতির এ ক্রান্তিকালে মওলানা ভাসানীর মতো একজন সিংহপুরুষের দরকার। আজ সময় এসেছে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশিদের এক কাতারে দাঁড়িয়ে দেশের স্বার্থে উচ্চকণ্ঠী হবার। ভারতের অন্যায়, আগ্রাসী পানি নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার।
বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব ও ভিসিসি চেয়ারম্যান এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়ার সভাপতিত্ব এবং সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক অশোক ধর, বিশিষ্ট সংগঠক মহিউদ্দিন আহমেদ, আরজেএফ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাদেশ ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব মিতা রহমান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এএফএম শরীফুল আলম, সংগঠনের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
১ দিন আগে
তিন দিন বন্ধের পর বেনাপোল দিয়ে ফের আমদানি-রপ্তানি শুরু
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এর আগে, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। এ সময়ে শুধুমাত্র অতি পচনশীল পণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সীমিত পরিসরে যাতায়াতের অনুমতি ছিল।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম তিনদিন বন্ধ ছিল। নির্ধারিত সময় শেষে আজ সকাল থেকেই যথারীতি এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, তিন দিনের বন্ধের পর আজ সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে উভয় দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ শুরু করেছে এবং রপ্তানিও স্বাভাবিক গতিতে চলছে। বন্ধের সময় যাতে পণ্যজট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ায় বন্দর এলাকায় ফের কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
১৭ দিন আগে
ভারতে নির্বাচন: বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ৩ দিন বন্ধ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে পাসপোর্টধারী যাত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া পচনশীল পণ্য আমদানি-রপ্তানি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শিল্পা গৌরীসারিয়ার সই করা এক পত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন।
শিল্পা গৌরীসারিয়ার সই করা ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৬টা পর্যন্ত মানুষ ও যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার সব আন্তর্জাতিক স্থল সীমান্ত এবং প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞাকালীন আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল সীমিত থাকলেও শুধু জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে (মেডিকেল ভিসা) বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমন এবং ভোট দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যাবর্তনকারী ভোটাররা যাতায়াত করতে পারবেন।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে টানা তিন দিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যথারীতি এ বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জানান, পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত সীমিত করা হলেও যারা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তারা ভোট দেওয়ার জন্য ভারতে ফিরে যেতে পারবেন। তবে সব ধরনের যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক হতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ভারতে বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। তবে ভারত থেকে পচনশীল কোনো পণ্য এলে তা দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।
২০ দিন আগে
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি: নবায়নের আগে প্রয়োজন ‘বড় ধরনের সংস্কার’
চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি নবায়নের আগে এর ‘সার্বিক পর্যালোচনা ও সংস্কার’ প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ সঠিকভাবে বণ্টন না হলে এর ঝুঁকি বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে।
ইউএনবির সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রচুর কাজ (হোমওয়ার্ক) করতে হবে এবং তথ্য বিনিময়ই এখানে মূল বিষয়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৯৯৬ সাল আর ২০২৬ সালের পরিস্থিতি এক নয়। বিষয়টিকে কেবল প্রকৌশল বা কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে চলবে না; পরিকল্পনায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’
ঝুঁকি কোথায়?
ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি নতুন কোনো চুক্তি না হয়, তবে বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জলবায়ুগত ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়। ফলে চলতি বছরই এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তিটি সংশোধন ও নবায়নের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার মতো আরও ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদী রয়েছে। এ সংক্রান্ত সব বিষয় আলোচনার জন্য দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ নদী কমিশন’ নামক একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যেহেতু উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী, তাই গঙ্গার পানি বণ্টনে একটি ‘ন্যায্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে এই সম্পর্কের অন্যতম প্রথম পরীক্ষা।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং ইতোপূর্বে দেশটির লোকসভায় জানিয়েছেন যে, খাবার পানি ও শিল্প কারখানার পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে, যা ভারত সরকারের অবস্থান নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে এবং ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাগুলোতে অংশ নেন, যেখানে ভারতের পক্ষ থেকে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য টানাপোড়েন থাকলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পানিবিষয়ক সকল কারিগরি সভা অব্যাহত রয়েছে।
সংস্কার ও নবায়নের আহ্বান
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সংশোধন করতে হবে। এর সহজ কারণ হলো, চুক্তিটি প্রায় তিন দশক আগে করা হয়েছিল।’
চুক্তিটি যখন স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত বহুমাত্রিক সমস্যাগুলো বর্তমানের মতো এতটা স্পষ্ট ছিল না, যা চুক্তির মূল পাঠে প্রতিফলিত হয়েছে। এই চুক্তিতে ‘জলবায়ু-সহিষ্ণু পরিবর্তনের’ পক্ষে যারা মত দিচ্ছেন, অধ্যাপক শাহাব তাদের অন্যতম।
এই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভূ-প্রকৃতি এবং অবশ্যই জলবায়ু-সংক্রান্ত ইস্যুগুলো বদলে গেছে। তাই বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভিত্তিতে চুক্তিটি পর্যালোচনা করতে হবে।
তিনি জোরালোভাবে পরামর্শ দেন যে, যৌথ নদী কমিশনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তথ্য বিনিময়ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন করা উচিত। এটি দুই দেশের মধ্যে ‘হাইড্রো-ডিপ্লোমেসি’ বা পানি-কূটনীতি এবং পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে আমাদের কেবল কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং প্রকৌশল, বিজ্ঞান এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অধ্যাপক শাহাবের মতে, বিষয়টিকে কেবল কূটনীতি বা প্রকৌশল বিদ্যার ওপর ছেড়ে দিলে কোনো সামগ্রিক সমাধান পাওয়া যাবে না।
‘এই কারণেই আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট কাজ (হোমওয়ার্ক) করা উচিত, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ— অর্থনীতিবিদ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞানীদের যুক্ত করা প্রয়োজন,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে পরিবেশবাদীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
অধ্যাপক শাহাব বলেন, ‘পানিকে কেবল পানি, অথবা কেবল কূটনৈতিক বা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ধারণাটি একটি পুরনো এবং সেকেলে পদ্ধতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি দুই দেশের মধ্যে বাস্তববোধ কাজ করে, তবে তারা অবশ্যই একটি সমগ্রিক পর্যালোচনা ও সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তির দিকে যাবে, যা এই সহস্রাব্দে জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।’
মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তি দেখতে চায় বাংলাদেশ।
সম্মেলনের ফাঁকে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এগুলো অভিন্ন নদী এবং এখানে আমাদের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থ রয়েছে। আমি যেমনটি বলেছি, একটি টেকসই এবং জন-আস্থার প্রতিফলন ঘটায় এমন সমাধান খুঁজে বের করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর ইতোমধ্যে পার হয়েছে। তাই আমি মনে করি না যে আমাদের কেবল ৫ বা ১০ বছরের কথা ভাবা উচিত; আমাদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। তাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি বা বলা ভালো, জনকল্যাণমূলক নীতিতে পারস্পরিক জলবায়ু সহিষ্ণুতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।’
২২ দিন আগে
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিল্লি সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নয়াদিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে নিজের ভ্যারিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।’
তিনি বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলী নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ‘শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে বর্ণিত এই সফরের মধ্য দিয়ে ‘পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের’ ভিত্তিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
যদিও ঢাকা এই সফরকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলেই উল্লেখ করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা এবং বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরতে নয়াদিল্লির সঙ্গে এই সফরে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। বুধবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পিযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
৩৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তি অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধে উপস্থিত ছিলেন।
৪১ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
৫০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেছেন, ‘ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
বার্তায় তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেছেন। ঈদের এই উৎসব মানুষকে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সবার শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।’
৫৯ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, কলকাতা পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলকাতার উপকমিশনার এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। যদি এ আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।’
কতদিনের মাঝে ফেরানো সম্ভব, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করতে পারবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।’
৬৯ দিন আগে