বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে জনস্বাস্থ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, পল্লী উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রযুক্তি অংশীদারত্ব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার পবন বাধে উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে সিলেটে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
নগরীর উপশহর এলাকায় একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষে এ পুনর্মিলনী আয়োজন করে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন।
সহকারী হাইকমিশনার দুদেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের সঙ্গে ভারতীয় সরকারের সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুল মোহিত দিদার, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি সুবর্ণা হামিদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আওয়াল ও দ্যা ডেইলি স্টারের সিলেট ব্যুরো প্রধান দ্বোহা চৌধুরী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক সিলেট মিরর সম্পাদক আহমেদ নূরসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিলেটের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মি।
৯ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মোদি
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো এক বার্তায় মোদি বলেছেন, ‘ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনাকে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’
বার্তায় তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে ভারতসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাসে রোজা পালন ও ইবাদতে সময় অতিবাহিত করেছেন। ঈদের এই উৎসব মানুষকে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও একসঙ্গে থাকার চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সবার শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করি। আমাদের দেশগুলোর মধ্যে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক।’
১৮ দিন আগে
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরাতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কর্তৃক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা জানতে পেরেছি, কলকাতা পুলিশ হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কলকাতার উপকমিশনার এরইমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। যদি এ আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করব।’
কতদিনের মাঝে ফেরানো সম্ভব, তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। তবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এই কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করতে পারবে। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তীতে তারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আমরা আশা করব যে ভারত আমাদের সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।’
২৮ দিন আগে
বেনাপোলে বন্দর দিয়ে আজ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
দোলযাত্রা উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রোপোল স্থলবন্দর দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
তিনি জানান, ভারতে দোলযাত্রায় সরকারি ছুটির থাকায় আজ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বন্দর ও শুল্ক ভবনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শামীম হোসেন।
ভারতের পেট্রোপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, দোল পূর্ণিমা বা দোলযাত্রা একটি বৈষ্ণব উৎসব। বসন্তের এ উৎসবটি ‘হোলি’ নামেও পরিচিত। অশুভ শক্তির বিনাশ হিসেবে ‘হোলি উৎসব’ হয়ে থাকে। এ উৎসবের কারণে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিঅ্যান্ডএফ মালিক, কর্মচারী, হ্যান্ডলিং শ্রমিক, ট্রাকচালকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
বেনাপোল শুল্ক ভবনের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিবুর রহমান জানান, এক দিনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।
৩৪ দিন আগে
বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে বাংলাদেশ-ভারত একমত: বাণিজ্যমন্ত্রী
আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে দুদেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, পারস্পরিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দর, সীমান্ত হাট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা বিষয়ে একে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত হাইকমিশনার এসেছিলেন নতুন সরকারকে অভ্যর্থনা জানানোর একটি অংশ হিসেবে। তবে তার সঙ্গে আলোচনায় দুদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ সময় বন্ধ কিছু স্থলবন্দর নিয়ে আলাপ হয়েছে। তারা সব বন্দর বন্ধ করেনি, যেমন: বেনাপোল খোলা রয়েছে। তবে অন্যান্য যেসব বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেগুলো খোলার মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারাও বন্ধ সীমান্ত হাটগুলো চালুর বিষয়ে বলেছেন।
তিনি বলেন, আসলে দুদেশেরই পারস্পরিকভাবেই কিছু বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বাণিজ্য সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে—এটা সত্য। কোনো কোনো ঘটনার পরিপেক্ষিতে এগুলো হয়েছে। আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রসারের রাস্তা তৈরি হলে এগুলো সমাধান হবে, এ বিষয়ে দুদেশ একমত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একদম সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সমাধান হয়নি। কথা প্রসঙ্গে এসব বিষয় এসেছে, যেগুলো হাইকমিশনার তার দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন। যেসব বিষয় ভারত আমাদের জানিয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরাও মন্ত্রিপরিষদে কথা বলব।
ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এলডিসি পেছানোর জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছি। এখন এটি জাতিসংঘের (ইউএন) একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে।
ইরানের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জ্বালানিসহ খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখছেন কিনা, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। তখন পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এখনও আমরা আশঙ্কার মধ্যে যাব না। দুয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হতে পারে। সেটা না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের পণ্যের কোনো সংকট নেই।
৩৫ দিন আগে
ভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হবে
বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদায় জিয়াকে স্মরণ করবে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা। আজ বুধবার দেশটির রাজ্যসভায় এই শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাজ্যসভার বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) কার্যসূচিতে দেখা যায়, অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে।
কার্যসূচি অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আধা ঘণ্টা পর সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করবেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক মর্যাদা এবং দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
৬৯ দিন আগে
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ
নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, তবে আগের অবস্থানেই অনড় থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই চেয়েছি আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোন বায়োবীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা আশঙ্কা কোনো থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিস থেকে তৈরি হয়নি। যেখানে আমাদের একজন খেলোয়াড় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা না পেয়ে কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই দেশেই আবার বিশ্বকাপ খেলতে বলা হচ্ছে, এটা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপদেষ্টার কথায়, যে ঘটনা থেকে আমাদের আপত্তির জন্ম, সেই বিষয়টি নিয়েই আইসিসি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তারা শুধু বলছে, ‘স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রোটোকল আছে।’ কিন্তু মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে সেই প্রোটোকল কোথায় ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক, কর্মকর্তাসহ সম্ভাব্য দর্শকরাও একই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
আসিফ নজরুলের মতে, একটি বিশ্বকাপ খেললে আর্থিক বা ক্রীড়াগত লাভ হতে পারে সে কথা ঠিক। কিন্তু মাথা নত করে নিজেদের মানুষকে সত্যিকারের নিরাপত্তার ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিলে যে ক্ষতি হতে পারে, সেটাও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টার স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের। কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। এটি অন্য কারও বিবেচনার বিষয় নয়। আইসিসি বা অন্য কোনো পক্ষ এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।
৭৪ দিন আগে
আইসিসির কোনো অযৌক্তিক শর্ত মানব না: ক্রীড়া উপদেষ্টা
ভারতের চাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) যদি বাংলাদেশের ওপর কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দেয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অযৌক্তিক কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না।’
চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে বাধ্য করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ভারতে না গেলে বিশ্বকাপে খেলবে স্কটল্যান্ড—ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এমন এক খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে—এমন কোনো কথা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে শুনিনি। কথা হচ্ছে, আইসিসি যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের চাপের কাছে মাথা নত করে, আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অযৌক্তিক কোন শর্ত চাপিয়ে দেয়, আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে এমন উদহারণ আছে। পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। খুবই যৌক্তিক কারণে আমরা ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করে ভারতে খেলাতে আমাদের বাধ্য করা যাবে না।’
৭৬ দিন আগে
আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে: মোস্তাফিজ ইস্যুতে ফখরুল
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের দেশকেই অপমান করা হয়েছে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম। ক্রিকেট কট্রোল বোর্ডের (বিসিবি) সদস্যও ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না; রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে।
‘সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি যে, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বেটার।’
এ সময় সরকার গঠন করতে পারলে ভারতের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কটা প্রস্তুত করবেন—সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায়ের চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কুটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।
ক্ষমতায় গেলে তিস্তা, পদ্মা ও অভিন্ন নদী যেগুলো আছে, সেগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে পানির হিস্যা আদায় করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় দুটি দল নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার বেলা প্রযোজ্য নয়। এই দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন! যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, প্রেসিডেনশিয়াল ফরম থেকে পার্লামেন্টারি ফরমে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করেছে।
‘এখন যে সংস্কার কমিটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সবই বিএনপির প্রস্তাবের মধ্যে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট (স্বয়ংসম্পূর্ণ) একটি রাজনৈতিক দল, যে অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সব ভালো কাজগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে তখন, তার আগে বোঝা যাবে না। প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন যখন প্রচার শুরু হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেই রকম উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদি যে নির্বাচন চলাকালীন উন্নতি করবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৮৪ দিন আগে