আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারে দুদেশ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, পারস্পরিক কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের বিভিন্ন স্থলবন্দর, সীমান্ত হাট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা বিষয়ে একে অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূলত হাইকমিশনার এসেছিলেন নতুন সরকারকে অভ্যর্থনা জানানোর একটি অংশ হিসেবে। তবে তার সঙ্গে আলোচনায় দুদেশের বাণিজ্য বাড়ানোর নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এ সময় বন্ধ কিছু স্থলবন্দর নিয়ে আলাপ হয়েছে। তারা সব বন্দর বন্ধ করেনি, যেমন: বেনাপোল খোলা রয়েছে। তবে অন্যান্য যেসব বন্দর বন্ধ রয়েছে, সেগুলো খোলার মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারাও বন্ধ সীমান্ত হাটগুলো চালুর বিষয়ে বলেছেন।
তিনি বলেন, আসলে দুদেশেরই পারস্পরিকভাবেই কিছু বাধা তৈরি হয়েছে। এতে বাণিজ্য সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে—এটা সত্য। কোনো কোনো ঘটনার পরিপেক্ষিতে এগুলো হয়েছে। আগামী দিনে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রসারের রাস্তা তৈরি হলে এগুলো সমাধান হবে, এ বিষয়ে দুদেশ একমত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একদম সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সমাধান হয়নি। কথা প্রসঙ্গে এসব বিষয় এসেছে, যেগুলো হাইকমিশনার তার দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন। যেসব বিষয় ভারত আমাদের জানিয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরাও মন্ত্রিপরিষদে কথা বলব।
ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর কী হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা এলডিসি পেছানোর জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছি। এখন এটি জাতিসংঘের (ইউএন) একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে।
ইরানের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জ্বালানিসহ খাদ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা দেখছেন কিনা, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। তখন পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এখনও আমরা আশঙ্কার মধ্যে যাব না। দুয়েকদিনের মধ্যে সমাধান হতে পারে। সেটা না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমাদের পণ্যের কোনো সংকট নেই।