তাপমাত্রা
টানা তিন দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা
টানা তিন দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। আজ শুক্রবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমেরও সর্বোচ্চ। একইসঙ্গে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার দুপুর ৩টায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগে, দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বুধবার (১ এপ্রিল) তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা তিন দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৭টার পর সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে। তপ্ত রোদে শহরের রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বাইরে বের হলেও ছাতা, টুপি বা কাপড় দিয়ে নিজেদের রক্ষা করছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষ।
১৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় গরম এবার যেন শুরুই হলো আগুনঝরা রূপে। মৌসুমের শুরুতেই জেলায় রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি আর ক্লান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট যেন আগুন ছড়াতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো দায় হয়ে যায়। বাতাসও যেন গরম চুল্লির আঁচের মতো মুখে এসে লাগছিল। কয়েকদিন আগেও যেখানে হালকা শীতের আমেজ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছন্দ হারিয়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার সামনে সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে উঠে গেছে; কোথাও কোথাও তা জমে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি।
শহরের এক পথচারী বলেন, এ জেলায় আবহাওয়া সবসময়ই চরম। কিন্তু গরম শুরু হওয়ার আগেই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে কী হবে—ভাবতেই ভয় লাগছে!
চৌরাস্তা মোড়ে বসে তরমুজ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ শাজাহান। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তার।
তিনি বলেন, রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু পরপর পানি না ঢাললে টিকেই থাকা যায় না।
১৭ দিন আগে
৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাঁপছে নওগাঁ
পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। সেইসঙ্গে কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র; যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে পথঘাট ও এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে নিরুত্তাপ সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্ত।
সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, দিনেরবেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই পরতে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২-৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।
বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারনে ভ্যান চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।
নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৮টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রী কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায়, গরিব ও দিনমজুরদের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায়, ছিন্নমুল ও দিনমজুদের মাঝে গরমকাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লাখ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এ খাতে জেলার ১১টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ এখনো চলছে।
১০২ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতজনিত দুর্ভোগ বাড়ছে
চুয়াডাঙ্গায় টানা চারদিন পর শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও শীতের তীব্রতা এখনও কাটেনি। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা জনজীবনে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। ভোরের পর সকাল হলেও ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
গতকাল (শনিবার) এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি, তার আগের দিন শুক্রবার ৯ ডিগ্রি এবং বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ গত কয়েকদিন ধরেই জেলাজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, টানা চার দিন মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও চলতি সপ্তাহে আবার নতুন করে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার অথবা বুধবার থেকে পুনরায় জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে সাড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে বলে নিজের ধারণার কথা জানান এ কর্মকর্তা।
এদিকে, ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার মাঝে কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। ঝুঁকি এড়াতে তাই হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষেরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীত উপেক্ষা করেই দিনমজুর ও শ্রমিকদের কাজে যেতে হচ্ছে।
এক কৃষিশ্রমিক বলেন, ভোরে মাঠে নামতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ঠান্ডায় হাত ঠিকমতো চলে না। বাতাস থাকায় শীত আরও বেশি লাগছে। তারপরও কাজ না করলে চলবে না।
আরেক দিনমজুর বলেন, সকালবেলা কুয়াশা এত ঘন থাকে যে কিছুই দেখা যায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সাময়িকভাবে কমলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনে শীতজনিত দুর্ভোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
১০৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির, হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন
লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত, বৃষ্টির মতো পড়ছে শিশির। শীত ও ঘন কুয়াশায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৪ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি।
এদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এতে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, লালমনিরহাটে আজ (রবিবার) সকালে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিদিনই শীতের সঙ্গে কুয়াশা বাড়ছে। এখন ঠান্ডা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে শীতের এই প্রবণতা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
১০৫ দিন আগে
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় গোপালগঞ্জের জনজীবন স্থবির
বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টায় জেলার তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও টানা শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোটালীপাড়া উপজেলায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
গোপালগঞ্জে গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে দিনমজুররা কাজে বের হতে পারছেন না। কৃষকেরা দেরিতে মাঠে যাচ্ছেন। যে কারণে নিচু জলাভূমি অধ্যুষিত কোটালীপাড়ার একফসলি জমিতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, আজ সকাল ৬টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
দুপুরের পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও অতিরিক্ত ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তীব্র শীতে কাজে না যেতে পেরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শীতে কষ্টে রয়েছে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু-পাখি। পাশাপাশি ঠান্ডাজনিত রোগে ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা।
১০৯ দিন আগে
সিলেটে তাপমাত্রা নেমেছে ১২ ডিগ্রিতে
সিলেটে শীত আরও বেড়েছে। কমেছে তাপমাত্রা। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সিলেটের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রিতে নেমে গেছে।
শীতের সঙ্গে দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশা। আজ (বুধবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে কনকনে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে নগরবাসী।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, সিলেটে আজ সকালে তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
১০৯ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ, ৮ ডিগ্রিতে নেমেছে তাপমাত্রা
মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রিরও বেশি কমে গিয়ে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গতকাল (মঙ্গলবার) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে খড়কুটা, কাঠ ও পুরনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতা ইয়ারুল আলি বলেন, ভোরে শহরে বের হই, কিন্তু তীব্র শীতে মানুষ কম বের হওয়ায় মুরগির বিক্রি কমে গেছে।
দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা জানান, ঠান্ডায় কাজ করতে কষ্ট হলেও উপার্জনের জন্য বাইরে বের হতে হচ্ছে। সকালে যাত্রী ও কাজের চাপ কম থাকায় উপার্জনও কমে গেছে।
অন্যদিকে, শীতের প্রভাব পড়েছে জেলার জনস্বাস্থ্যেও। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরও দু-একদিন থাকতে পারে। এ সময় রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১০৯ দিন আগে
শীতে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা, শীতজনিত রোগে বেড়েছে ভোগান্তি
দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা কমেই চলেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সকালবেলায় সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে। রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন বৃদ্ধ মানুষ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুও চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন।
গ্রাম থেকে জেলা শহরে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা জানান, ভোর থেকে দুপুর ২টা–৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হলেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হিমেল বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের।
স্থানীয় কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির রোগী। কৃষিকাজ করেই তার জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। সকালে মাঠে কাজ করতে পারেন না। ঠান্ডার মধ্যে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে ফিরতে হচ্ছে। তবুও পেটের দায়ে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভবনা রয়েছে। মাসের শেষের দিকে কিংবা নতুন বছরের শুরুতে চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
১১৬ দিন আগে
সাত জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমছে। তবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় থাকায় এখনই বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছে না দেশবাসী।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বুধবার (৪ জুন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
আজ সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের এই ধারা আগামীকালও (বৃহস্পতিবার) অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে বৃষ্টি ঝরার প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাদের পূর্বাভাস, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
পরের দিন (শুক্রবার) বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বৃহস্পতিবারের মতোই থাকবে জানিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি বলেছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
তবে ঈদের দিন (শনিবার) সকাল থেকে দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি হলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঈদের পরের দিনও সারা দেশের আবহাওয়া একই রকম থাকবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই দুদিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
তাপমাত্রা
গতকালের মতো আজও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তবে আজ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে দুটি জেলা—রাজশাহী ও পাবনা। এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
অবশ্য অন্যত্র দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই ধারা পরের দিনও অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে ঈদের আগের দিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, যা পরের দিন, অর্থাৎ ঈদের দিনও অব্যাহত থাকতে পারে।
ঢাকার কী অবস্থা
ভোরের দিকে বৃষ্টি হওয়ার পর সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে ঢাকার আকাশ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিও আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে।
আজ (বুধবার) দুপুর ১২টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৫ শতাংশ।
সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হলেও দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এই সময়ে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
৩১৯ দিন আগে